চানখারপুল হত্যাকাণ্ডে সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের ফাঁসি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায়কে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় মোট আটজন আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। তারা হলেন—আরশাদ হোসেন, সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণার আগে আজ সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, শাহ আলম আখতারুল ইসলাম এবং সাজাপ্রাপ্ত ইমরুল এখনো পলাতক রয়েছেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান—এ বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যেদিন ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন। নিহতরা হলেন—শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইশমামুল হক ও মানিক মিয়া। ঘটনাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে আলোচিত ও রক্তাক্ত অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মোট ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয় ১৯টি ভিডিও ফুটেজ, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও রেকর্ড, বিভিন্ন বই ও নথিপত্র এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ। এসব উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। প্রথমে ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার কথা থাকলেও প্রস্তুতির অভাবে তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম বিচারাধীন মামলা হলেও রায় ঘোষণার দিক থেকে দ্বিতীয় মামলা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পায়রার গ্রাসে দুমকি, ভিটেমাটি হারাচ্ছে শতাধিক পরিবার

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদী তীরবর্তী শতাধিক পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। ভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘ সময়েও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুমকির আঙ্গারিয়া, বাহেরচর ও পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রাম এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবুখালী থেকে আলগী গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে শতাধিক ঘরবাড়ি একের পর এক নদীতে চলে গেছে। অনেক পরিবার ঘর হারিয়ে বাধ্য হয়ে সরকারি সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙনের শঙ্কায় তারা রাত কাটাচ্ছেন। আলগী গ্রামের ইউপি সদস্য সরোয়ার শিকদার বলেন, এখন মানুষের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও নিরাপদ নেই। ভাঙনের কারণে শুধু বসতবাড়ি নয়, জীবন-জীবিকা সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে নদী ভাঙনে গ্রামের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও বাগান নদীগর্ভে চলে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ বা পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এখনো চোখে পড়ছে না। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব জানান, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পায়রা নদীর ভাঙন আরও বিস্তৃত হবে। এতে শুধু কয়েকটি গ্রাম নয়, পুরো এলাকার মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটেই চাঁদাবাজদের বিদায়: নাহিদ ইসলাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাধ্যমেই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দখলবাজদের রাজনীতির শেষ দিন ঘনিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাতারকুলসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকার সার্বিক সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ মানুষ আর ভয় পাচ্ছে না। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলবাজ রাজনীতির বিদায় ঘণ্টা বাজবে।

প্রচারণাকালে তিনি এলাকার নাগরিক সংকট, উন্নয়ন ঘাটতি ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের সুযোগ। মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে এবং সাধারণ ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিচ্ছেন।

ভোটারদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। যাকে ভোট দেবেন, ভেবেচিন্তে দেবেন। কোনো লোভ, সুবিধা কিংবা মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে ভোট দেওয়া উচিত নয়। যোগ্য ও সৎ প্রার্থী নির্বাচন করাই হবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, এবারের ভোট শুধু একটি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, এটি পুরো দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। তাই প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ।

প্রচারণার শেষাংশে তিনি ভোটারদের শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সব বিতর্ক পেরিয়ে দলে ফিরছেন সাকিব

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও নানা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় দলে ফিরছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, ফিটনেস ঠিক থাকলে আগামীর সব হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজের জন্য সাকিবকে জাতীয় দলে বিবেচনায় রাখা হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড সভায় সাকিব আল হাসানকে ঘিরে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এখন থেকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সাকিব আল হাসানকে দলে নির্বাচন করা হবে। এক্ষেত্রে তার ফিটনেসই হবে প্রধান শর্ত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলতে পারলেও সামনে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি রয়েছে। আগামী মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিরিজ দিয়েই দীর্ঘ বিরতির পর আবারও লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে নামবেন সাকিব আল হাসান।

বিসিবি সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে যেসব মামলা বা আইনি জটিলতা রয়েছে, সেগুলো বোর্ডের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে। পাশাপাশি তাকে আবারও বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাকিব আল হাসান সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাকে ঘিরে জনরোষ ও বিক্ষোভের শঙ্কা তৈরি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলার পরিকল্পনা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয় তাকে।

পরবর্তীতে দুবাই থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান জানান, তিনি দেশে ফিরতে চান এবং দেশের দর্শকদের সামনে খেলেই জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে চান। সেই বক্তব্যের পর থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তাকে ফেরানোর দাবি জোরালো হতে থাকে।

সবশেষে বিসিবির এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, বোর্ডও সাকিবের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে এখনো জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। ফিট থাকলে আবারও জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এই অলরাউন্ডারকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বাধীনতার বিরোধীদের ক্ষমতায় আনলে বাংলাদেশ টিকবে না: মির্জা ফখরুল

যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তাঁদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দিলে দেশের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনার প্রশ্নে কোনো আপস হলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে না।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, লিফলেট বিতরণ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ১১ বার কারাবরণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এসব মামলা কোনো চুরি বা অপরাধের জন্য নয়, বরং ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে রাজপথে থাকার কারণেই তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। এসব নিয়ে তাঁর কোনো আফসোস নেই বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তারা আজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, জনগণকে ফেলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চলে গেছে।

বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক ও দায়িত্বশীল সরকার গঠন করা সম্ভব। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিল। যারা তখন স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ছিল—তাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দেওয়া হলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে চলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আজ অনেকেই সুন্দর কথায় মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা একবারও স্বীকার করে না যে ১৯৭১ সালে তারা ভুল পথে ছিল। সেই সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে নির্মম হামলা হয়েছিল, তা কেউ ভুলে যায়নি। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান—সবাই মিলে এই দেশ গড়েছে এবং আগামীতেও সবাইকে নিয়েই দেশ এগিয়ে নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিএনপি ছাড়া এই মুহূর্তে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মতো কার্যকর বিকল্প নেই। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের একমাত্র পথ হচ্ছে অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। এই ভোটের অধিকারের জন্যই বিএনপি দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছে। তাই দেশকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ব্যালটে যে প্রতীকটি বেছে নিতে হবে, সেটি হচ্ছে ধানের শীষ।

প্রচারণাকালে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তিন শর্তে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে তিনটি মৌলিক শর্তের ভিত্তিতে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চায় জামায়াতে ইসলামী, যেখানে কোনো একক দল নয়, জনগণের প্রতিনিধিরাই হবে মূল চালিকাশক্তি।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকা—এই তিন শর্ত মানলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে উত্তরাঞ্চলের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, কিছু ধুরন্ধর গোষ্ঠীর কারণে এ অঞ্চলের মানুষ দারিদ্র্যের বেড়াজালে আটকে আছে। সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে উত্তরাঞ্চল কৃষিভিত্তিক শিল্পের বড় কেন্দ্র হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশ ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালিত হলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। পাশাপাশি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বেকার সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে সমস্যার সমাধান নয়, বরং বেকার যুবকদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে জামায়াতের লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রতিটি ঘরকে এক একটি উৎপাদনমুখী কেন্দ্রে পরিণত করা হবে, যাতে মানুষ নিজের ঘর থেকেই আয়ের সুযোগ পায়।

এর আগে সূচি অনুযায়ী শুক্রবার তিনি ঠাকুরগাঁও ছাড়াও পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে জনসভায় অংশ নেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনসভা করার কথা রয়েছে তার। এরপর গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) তিনি ঢাকা-৫, ৬ ও ৭ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুছাব্বির হত্যায় আরেক শুটার গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরও এক ধাপ এগোল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই মামলার অন্যতম শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মুছাব্বির হত্যা মামলার তদন্তে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে নরসিংদী জেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের ধরতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে একাধিক ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিল। গ্রেপ্তার হওয়া শুটার রহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানায় পুলিশ প্রশাসন। তবে আগামী দিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি পুলিশ। গত ১০ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জিন্নাতকে, আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজকে আটক করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং তাদের মধ্যে পেশাদার শুটারও ছিল।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে স্টার হোটেলের সামনে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাজধানীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পরদিন ৮ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে একের পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না—এমন আশ্বাস দিয়ে পুলিশ প্রশাসন বলছে, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




১২ ফেব্রুয়ারির ভোটই ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড হবে: ইউনূস

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের অবস্থান, প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি সবাইকে আশাবাদী থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা ও প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।

সাক্ষাৎকালে জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও শ্রম আইন সংস্কার, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় শ্রম আইনে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনে উদ্যোগী হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও শুল্ক হ্রাস পাবে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানায়। কৃষিপণ্য ও বাণিজ্য সম্প্রসারণকে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

সাক্ষাৎকালে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা মতবিনিময় হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারতে খেলছে না বাংলাদেশ, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াল লাল-সবুজ

শেষ পর্যন্ত বাস্তব হলো শঙ্কা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া আসরটি ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো সমাধানে না পৌঁছানোয় বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগেই সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সরকার ও বিসিবি শুরু থেকেই ভারতে খেলতে যাওয়ার বিষয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাতে সম্মতি দেয়নি। উল্টো একদিন আগে বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ সরকার কোনো অবস্থাতেই দলকে ভারতে পাঠাবে না। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপস করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ন্যায্যতা পায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন, আইসিসি শেষ মুহূর্তে হলেও শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।

ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যের পর বিসিবির অবস্থানও পরিষ্কার হয়ে যায়। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, তারা এখনও চান বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হোক এবং সেই দাবিতে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে আইসিসির অনমনীয় অবস্থান ও ভোটাভুটির ফল বিসিবির সেই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়।

আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ভোটের মাধ্যমে। সেখানে বিসিবি পরাজিত হয় ১২-২ ভোটে। বাংলাদেশের পক্ষে কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ভোট দেয়। অধিকাংশ পূর্ণ সদস্য দেশের সমর্থন না পাওয়ায় ক্রিকেট কূটনীতিতে বিসিবির সব প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ে।

ভোটাভুটির পর আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতেই আয়োজন করা হবে। টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও জানায় তারা। একই সঙ্গে আইসিসি জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশ অংশ না নিলে ‘সি’ গ্রুপে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ ৭, ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই সূচি অনুযায়ী খেলতে রাজি না হওয়ায় ২০০৭ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপে খেলে আসা বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় বড় ছেদ পড়ল। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ঘটছে।

এই সংকটের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি, যখন ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপরই বিসিবি নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত জানায় এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি তোলে।

পরবর্তী প্রায় ২০ দিন বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে একাধিক চিঠি চালাচালি, বৈঠক এবং আলোচনা হয়। আইসিসির প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বৈঠকও করে। বিসিবি বারবার দাবি করে, তাদের অবস্থান আইনসম্মত ও যুক্তিসংগত। অন্যদিকে আইসিসি জানায়, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও আয়োজক দেশের আশ্বাস অনুযায়ী ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই।

আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ে ভারতীয় প্রভাব এবং ভোটিং কাঠামো নিয়েও নানা আলোচনা উঠে আসে ক্রিকেট অঙ্গনে। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সংস্থাটি।

সব যুক্তি-পাল্টা যুক্তির পর দেশের নিরাপত্তা ও সম্মানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এর ফলে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব থাকছে না। ক্রিকেটপ্রেমী দেশটির জন্য এটি কেবল ক্রীড়াগত নয়, ভাবমূর্তির দিক থেকেও বড় এক ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অপরাধ না করা আ.লীগ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা সরকারের দায়িত্ব: ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও বরিশাল সদর-বাকেরগঞ্জ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী কোনো অপরাধে জড়িত নন, তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তারা যাকে ইচ্ছা তাকেই ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচনী প্রতীক গ্রহণের পর দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করীম অভিযোগ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আসামি না হলেও যাকে-তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বিগত সময়ে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে প্রশাসন যেন একদিকে ঝুঁকে না পড়ে। কালো টাকা ও দখলদারিত্বের ব্যবহার যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাউকে হয়রানি করা যাবে না। হয়রানি চলতে থাকলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন করে কোনো জোটে যাওয়ার সুযোগ দেখছে না। তবে যদি শরিয়াভিত্তিক কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে আইন প্রণয়নের সুযোগ তৈরি হয়, তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের এক সময়ের জোটের মূল থিম ছিল ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স। কিন্তু পরে দেখা গেল তারা ইসলামের নীতি থেকে সরে গেছে। তাই ইসলামী আন্দোলন জোট ছেড়েছে। এখন ইসলামের পক্ষে হাতপাখার একটি বাক্স রয়েছে।”

জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে ভোট না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এককভাবেই মাঠে থাকবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। নির্বাচিত হলে তিনি দুর্নীতিমুক্ত বরিশাল গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ এছহাক মোহাম্মাদ আবুল খায়েরসহ দলটির জেলা ও মহানগরের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫