বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অসহযোগ আন্দোলন শুরু

শিক্ষক পদোন্নতি জটিলতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় শিক্ষকসমাজের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ধিমান কুমার রায়। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনেক শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও ইউজিসির নির্দেশনার অজুহাতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছে।

শিক্ষকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আপগ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যেই বহু শিক্ষক প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ড ও সিন্ডিকেট সভা আয়োজন না করে বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় ফেলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, একই দাবিতে এর আগে ‘কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কেবল পরীক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হলেও পাঠদানসহ অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম এখনো স্থবির রয়েছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ইউজিসির মতামতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৫টি বিভাগের অধিকাংশেই একাধিক ব্যাচ চালু থাকলেও অনেক বিভাগে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র তিন থেকে চারজন। অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ৪০১টি শিক্ষকের পদ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অনুমোদিত রয়েছে মাত্র ২৬৬টি। এছাড়া প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে অন্তত ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহসীন উদ্দীন, সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান, আইন বিভাগের ডিন সরদার কায়সার আহমেদ, মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, পদোন্নতির বিষয়টি ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা সাড়া দেননি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এদিকে আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত সংকট সমাধানের মাধ্যমে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 বরিশালে আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান, নারীসহ আটক ৫

বরিশাল নগরীতে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লঞ্চঘাট এলাকার ‘হোটেল রয়েল প্লাস’-এ অভিযান চালায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) স্টিমারঘাট ফাঁড়ির সদস্যরা। অভিযানের সময় হোটেল থেকে দুই নারী এবং ম্যানেজারসহ আরও তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে হোটেলের একজন পুরুষ ও একজন নারী কর্মীও রয়েছেন।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ ছিল। এরই প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের হাতেনাতে আটক করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, আটককৃতদের তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের ছাদে বিদেশি আঙুরের বাগান, মিলছে সাফল্যের নতুন স্বপ্ন

বরিশালের একটি বাড়ির ছাদে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমধর্মী এক আঙুর বাগান, যেখানে চাষ হচ্ছে ২১ জাতের বিদেশি আঙুর। নানা রঙ ও আকৃতির এই আঙুরগুলো এখন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। শখের উদ্যোগ থেকে শুরু হলেও এটি এখন সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ হিসেবে নজর কাড়ছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের এক গ্রামে কাপড় ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন নিজের বাড়ির ছাদে এই বাগান গড়ে তুলেছেন। ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে জিও ব্যাগে আঙুরের চারা রোপণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় মাত্র এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল ধরেছে।

আরিফের বাগানে একেলো, বাইকুনুর, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বোসহ মোট ২১টি উন্নত জাতের আঙুর রয়েছে। এসব আঙুরের বেশিরভাগই রাশিয়া, ইউক্রেন ও তুরস্ক থেকে সংগৃহীত জাত বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে গাছে থোকায় থোকায় লাল, সবুজ ও কালো রঙের আঙুর ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। কিছু আঙুর লম্বাটে, আবার কিছু গোলাকার আকৃতির।

তিনি জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আঙুর পুরোপুরি পরিপক্ক হবে এবং বাজারজাত করা সম্ভব হবে। চলতি মৌসুমে প্রায় ২০০ কেজি আঙুর বিক্রির আশা করছেন তিনি।

আরিফ হোসেন বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি শখের বসেই এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। অনলাইনের মাধ্যমে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে নিয়ম মেনে চাষাবাদ করেছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে ক্ষতিও হয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ বলেন, দেশে এখন ছাদভিত্তিক ও পরীক্ষামূলক আঙুর চাষে আগ্রহ বাড়ছে। সঠিক পরিচর্যা ও মান বজায় রাখতে পারলে এ খাতে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে আগ্রহীদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান জানান, দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য পুরোপুরি উপযোগী না হলেও নতুন নতুন জাত নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে ফলের মিষ্টতা ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরিফের ছাদ বাগান দেখতে প্রতিদিন অনেকেই আসছেন। অনেকে তার কাছ থেকে আঙুর চাষের পদ্ধতিও শিখছেন। তরুণদের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ছাদভিত্তিক আঙুর চাষ ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে রেস্তোরাঁ বাড়ছে, নিরাপত্তায় বড় ঘাটতি

বরিশাল নগরীতে দ্রুত বাড়ছে রেস্তোরাঁর সংখ্যা, তবে নিরাপদ খাদ্য ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়েছে উদ্বেগজনক ঘাটতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নগরীতে হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ চালু থাকলেও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তালিকায় স্থান পেয়েছে মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে উঠছে নতুন নতুন খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ। এর বেশিরভাগই প্রয়োজনীয় অনুমোদন, স্বাস্থ্যবিধি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নগরীর সদর রোড এলাকার একটি বহুতল ভবনের ওপরের তলায় অবস্থিত দুটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখা যায়, বড় পরিসরে ব্যবসা পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্র অত্যন্ত দুর্বল। প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় রয়েছে মাত্র কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি। এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র অন্য নামে থাকলেও সাইনবোর্ড ভিন্ন নামে প্রদর্শন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এক রেস্তোরাঁ মালিক জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে এবং শিগগিরই সব কাগজপত্র সংগ্রহ করা হবে।

একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে নগরীর আরেকটি পরিচিত রেস্তোরাঁয়, যেখানে ছাদে ওঠার পথ অত্যন্ত সরু, যা জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, নিবন্ধিত রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৫৫৫টি হলেও বাস্তবে এই সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মান যাচাই বা গ্রেডিংয়ের আওতায় এসেছে মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠান, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির স্থানীয় এক নেতা জানান, আগে রেস্তোরাঁ চালুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মানা হতো। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই সেসব নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম রাব্বি বলেন, ধাপে ধাপে সব প্রতিষ্ঠানকে গ্রেডিংয়ের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে এবং নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানিয়েছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভঙ্গ করলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিবন্ধিত রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বরিশালে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

বরিশালে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে করে চলতি সময়ে বিভাগজুড়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে, যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

মৃত দুই শিশুর মধ্যে রয়েছে বরগুনার তালতলী উপজেলার নাইমের ছেলে আবদুল্লাহ (১৩ মাস) এবং বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সালাউদ্দিনের মেয়ে হুজাইফা (৪ মাস)। তারা উভয়েই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় একই হাসপাতালে নতুন করে আরও ৫৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে এখন পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ২ হাজার ৪১৬ জন রোগী। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে এই রোগের বিস্তার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, মার্চ মাসে হাম উপসর্গে রোগীর সংখ্যা যে হারে বেড়েছিল, বর্তমানে তা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি সংক্রামক রোগ হওয়ায় দ্রুত টিকাদান এবং সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 কুড়িয়ে পাওয়া আম খাওয়ায় শিশুকে মারধরের অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় কুড়িয়ে পাওয়া আম খাওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাউরগাতী গ্রামের পূর্ব বাউরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র বায়েজিদ খান (১০) সোমবার দুপুরে স্কুল মাঠে একটি কুড়িয়ে পাওয়া আম খাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় ব্যক্তি আসাদুজ্জামান আবুল মীরা তার গাছের আম পেড়ে খাওয়ার অভিযোগ তুলে শিশুটিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির পরিবার।

আহত বায়েজিদের বাবা জাকির খান জানান, তার ছেলে কোনো গাছ থেকে আম পাড়েনি; বরং মাঠে পড়ে থাকা একটি আম কুড়িয়ে খাচ্ছিল। এ সময় তাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়, ফলে সে আহত হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সোমবার দিবাগত রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আবুল মীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, স্কুলের কয়েকজন ছাত্র আম খাওয়ার বিষয়টি তাকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বায়েজিদকে ধরে শিক্ষকদের কাছে নিয়ে যান। এ সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে শিশুটির গায়ে সামান্য আঁচড় লাগে, তবে কোনো মারধর করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুর প্রতি এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




কানে লুকানো ইয়াবা, ৯ দিন পর অস্ত্রোপচার

পুলিশের তল্লাশি এড়াতে কানের ভেতরে ইয়াবা ট্যাবলেট লুকিয়ে এক তরুণকে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। টানা ৯ দিন কানের ভেতরে মাদকদ্রব্য রেখে তীব্র যন্ত্রণায় ভোগার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার কান থেকে দুটি ইয়াবা ট্যাবলেট বের করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীতে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক জানান, রোগীর কানের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশি বস্তু থাকার কারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল, যা দ্রুত অপসারণ না করলে স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি ছিল।

জানা গেছে, ওই তরুণ নিরব ইসলাম (১৯) কয়েকদিন আগে মাদকসহ চলাচলের সময় হঠাৎ পুলিশ তল্লাশির খবর পান। তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ার ভয়ে তিনি সঙ্গে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট দুটি কানের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলেন। পরে বাড়িতে গিয়ে বারবার চেষ্টা করেও সেগুলো বের করতে ব্যর্থ হন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমদিকে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও ধীরে ধীরে কানে তীব্র ব্যথা, পানি পড়া এবং অস্বস্তি বাড়তে থাকে। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক কানের ভেতরে দুটি ট্যাবলেট আটকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করা হয়। বর্তমানে তরুণটি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

চিকিৎসকদের মতে, কানের মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের বস্তু প্রবেশ করানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে, এমনকি গুরুতর সংক্রমণও হতে পারে।

এ ঘটনায় চিকিৎসকরা মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বাড়ির আঙিনায় গোপন গাঁজা বাগান, আটক যুবক

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় একটি বসতবাড়ির আঙিনায় গোপনে গাঁজা চাষের ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ। সাজানো টবের মধ্যে বিভিন্ন গাছের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ১৩টি গাঁজা গাছ, যা দেখতে সাধারণ উদ্ভিদের মতো হলেও ভেতরে চলছিল মাদক উৎপাদনের কার্যক্রম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের চরখাগকাটা গ্রামের একটি বাড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে পরিচালিত ওই অভিযানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রাঢ়ীর বাড়ি থেকে টবে লাগানো ১৩টি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়।

এসময় ঘরের ভেতর থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম গাঁজা এবং বিক্রির নগদ ১৩০০ টাকাও জব্দ করা হয়। অভিযানকালে শামীম রাঢ়ী (৩০) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তিনি স্থানীয় সফিজুল রাঢ়ীর ছেলে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নিজ বাড়ির আঙিনায় টবের মধ্যে গাঁজা চাষ করে তা বিক্রির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করতেন।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




২ কিমি সড়ক ভেঙে বিপর্যস্ত জনজীবন

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা থেকে চেংগুটিয়া পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামীণ সড়কটি এখন খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতায় ভরে গেছে, ফলে স্বাভাবিক যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেশিরভাগ অংশের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও পানি জমে আছে, আবার কোথাও কাদার স্তূপে ঢেকে গেছে পুরো রাস্তা। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে, তখন এই সড়ক দিয়ে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের এমন অবস্থার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান প্রায়ই গর্তে পড়ে উল্টে যাচ্ছে, এতে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন এবং চালকরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

চেংগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন তালুকদার জানান, এই সড়কটি দিয়ে অন্তত পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তখন অনেকেই কাদা মাড়িয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে বাজারে গিয়ে তবেই যানবাহনে উঠতে পারেন।

ইজিবাইক চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, সড়কের খানাখন্দ ও কাদার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ বারবার নষ্ট হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। পাশাপাশি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির অবৈধভাবে পুকুর খননের কারণে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এলাকার আরেক বাসিন্দা রুহুল আমিন আকন্দ দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়ে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়কটির অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী সময়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এটি অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত সংস্কার না হলে এই সড়কটি স্থায়ীভাবে জনদুর্ভোগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




দুই মাসের ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ শুরু বরিশালে

বরিশাল নগরীকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে দুই মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। মে ও জুন মাসকে ‘পরিচ্ছন্নতার মাস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার আওতায় নগরজুড়ে খাল পরিষ্কার, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর নথুল্লাবাদ সংলগ্ন জিয়া সড়ক এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাল পরিষ্কার কার্যক্রমের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও শুরু করা হয়, যা নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানান, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নদী, খাল ও জলাধার সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল নগরীর অভ্যন্তরে থাকা সব খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুই মাসব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে খালগুলোর ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে খনন, পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং নগরবাসী একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাবে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে বরিশালকে একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”