বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

দীর্ঘদিন পর বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। নতুন কমিটিতে দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

শনিবার (২ মে) রাতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাছির পৃথকভাবে এ কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটি ঘোষণার পরপরই বরিশাল নগরীতে আনন্দ মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা।

বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনামুল হাসান তাসনিম। সদস্য সচিব করা হয়েছে মো. নাভিদ রহমান খান (তুষার)-কে। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহমুদ হাসান তানজিল।

মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন আহাদ হোসাইন আবির, মাজহারুল ইসলাম মনিস, সজল তালুকদার, মো. খালেদ হোসেন বাবর, মো. হুমায়ুন কবির খান (ফেরদৌস), জহির রায়হান, মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. সিহাব (ববি), আল আমিন হাসান ও মো. রাকিব তালুকদার।

অন্যদিকে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে তৌফিকুল ইসলাম ইমরানকে। সদস্য সচিব হয়েছেন মো. আল আমীন মৃধা এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন আসিফ আল মামুন।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল কাদের মোল্লা, মো. ইমরান আহমেদ (ইব্রাহিম), মো. জাহিদুল ইসলাম পিন্টু, জাহিদ সাকিন (ববি), মহসিন শিকদার, আরিফ হোসেন (ববি), মো. ইমতিয়াজ চৌধুরী, মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক মৃধা) ও সৈয়দ মাহমুদ হাসান।

নবগঠিত মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদলকে আরও সংগঠিত ও সক্রিয় করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেও সংগঠনের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।

মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাভিদ রহমান খান তুষার বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হবে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আগের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০১১ সালে। পরে ২০১৮ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় পর নতুন নেতৃত্ব পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




চার দফা দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল বিএম কলেজ

সেশন ফি কমানো, অতিরিক্ত অর্থ ফেরত ও ফি কাঠামোর স্বচ্ছতার দাবিতে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (৩ মে) বেলা ১১টার দিকে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে সেশন ফি বাবদ ২ হাজার ৬২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে প্রায় ৭৮০ টাকার খরচের কোনো স্পষ্ট হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, যেসব খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে সেসব সুবিধা শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষকে সকল ফি’র স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করতে হবে এবং যেসব খাতে কোনো সেবা প্রদান করা হয়নি, সেসব খাতের অর্থ ফেরত দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীবান্ধব ফি কাঠামো প্রণয়ন ও সেশন ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর দাবিও জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১. সেশন ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি।
২. সেবাবিহীন খাতে আদায়কৃত অর্থ ফেরত।
৩. সকল ফি’র স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ।
৪. শিক্ষার্থীবান্ধব ফি কাঠামো নিশ্চিত করা।

একই দাবিতে পৃথকভাবে সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরাও। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নিয়ে সমস্যার সমাধান করা উচিত।

এ বিষয়ে বিএম কলেজের অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কলেজে বছরে একবার সেশন ফি নেওয়া হয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত খাতেই ফি আদায় করা হয়। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে, যাতে তারা পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 গৌরনদীতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদীতে র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে গৌরনদী প্রেসক্লাব। দিবসটি ঘিরে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

রোববার (৩ মে) সকালে গৌরনদী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া এবং খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির।

সভাপতির বক্তব্যে জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা শুধু সাংবাদিক সমাজের একার দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশনই একজন পেশাদার সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকদের সাহসিকতা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করে যেতে হবে।

সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া সাম্প্রতিক সময়ে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কয়েকজন সাংবাদিক সদস্যকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা হুমকি দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকরা সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ হীরা, মো. হানিফ সরদার, উত্তম দাস, সহ-সভাপতি এম আলম, সাবেক সহ-সভাপতি এইচ এম নাসির উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ জামিল মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদ, সদস্য মনীশ চন্দ্র বিশ্বাস, এইচ এম মোশাররফ, বদরুজ্জামান খান সবুজ, বিএম বেলাল, সোলায়মান তুহিন, মো. আনিচুর রহমান, আবু সাঈদ, পলাশ তালুকদার ও শামীম মীরসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাব সদস্য মো. লিটন খান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বানারীপাড়ায় জেলেকে হত্যা মামলায় স্ত্রী-ছেলে জেলহাজতে

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নলশ্রী গ্রামে জেলে হাবিবুর রহমান মোল্লা (৫০) হত্যা মামলায় তার স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২ মে) সকালে গ্রেফতারকৃত স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছেলে সাগরকে বরিশাল আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে শুক্রবার (১ মে) নিহতের বাবা আ. মন্নাত মোল্লা বাদী হয়ে বানারীপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে মারধর ও নির্যাতন করে তার ছেলে হাবিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছেলে সাগরকে আসামি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতের কোনো এক সময় হাবিবুর রহমানকে বেদম মারধর ও নির্যাতন করা হয়। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

গ্রামবাসীদের দাবি, নিহতের নাক, মুখমণ্ডল, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। শুক্রবার দুপুরে বরিশাল জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সৌমেন সরকারও থানায় গিয়ে ঘটনাটি পরিদর্শন করেন।

বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, “হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মামলার আসামি স্ত্রী ও ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।”




খোলা আকাশের নিচে বেদে শিশুদের পাঠশালা, শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দুই বোন

বরিশালের বাবুগঞ্জে শিক্ষাবঞ্চিত বেদে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন দুই তরুণী। খোলা আকাশের নিচে ছোট্ট একটি পাঠশালা চালু করে প্রায় অর্ধশত শিশুকে অক্ষরজ্ঞান দিচ্ছেন দুই বোন মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের মীরগঞ্জ ফেরিঘাটসংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে প্রায় ৭০টি বেদে পরিবার বসবাস করছে। কেউ নৌকায়, আবার কেউ বাঁশ ও পলিথিনের তৈরি ছোট ঘরে অস্থায়ীভাবে জীবনযাপন করছেন। দারিদ্র্য ও অনিশ্চিত জীবনের কারণে এসব পরিবারের অধিকাংশ শিশু বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না।

এই বাস্তবতা বদলাতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন হাওলাদারের দুই মেয়ে মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। গত ১৫ এপ্রিল থেকে তারা নিজেদের বাড়ির আঙিনায় প্রতিদিন বিকেলে এক ঘণ্টা করে শিশুদের পড়ানো শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ জন শিশু পাঠশালায় অংশ নিচ্ছে।

উদ্যোক্তা মুন্নি আক্তার বলেন, “বেদে শিশুদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়া এবং তাদের স্কুলমুখী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই তারাও সমাজের অন্য শিশুদের মতো পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হোক। তবে বই, খাতা ও শিক্ষা উপকরণের অভাবে কার্যক্রম চালাতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে পাঠশালাটি আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় প্রায় ২০০ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে এখনো দেড় শতাধিক শিশু শিক্ষার বাইরে রয়েছে। জীবিকার তাগিদে অনেক শিশুকেই ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরা ও পরিবারের বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে হয়।

বেদে সম্প্রদায়ের সদস্য হেলেনা বেগম বলেন, “আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সুযোগ খুব কম। সংসারের অভাবের কারণে ছোটদেরও কাজ করতে হয়। যদি সরকার সহযোগিতা করে, তাহলে আমাদের শিশুরাও পড়াশোনা করতে পারবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “বেদেরা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে এই ধরনের উদ্যোগ তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।”

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, “বেদে শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই তরুণীর উদ্যোগ সম্পর্কে আমরা জেনেছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

স্থানীয়দের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেদে শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং একদিন তারাও সমাজের মূলধারায় যুক্ত হতে পারবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চাকরি ছেড়ে সফল খামারি, কুরবানির হাট মাতাতে প্রস্তুত ১ টনের ‘লাল মিয়া’

চাকরি ছেড়ে গরুর খামার গড়ে সফলতার মুখ দেখেছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার যুবক মো. মামুন হোসেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘ভাই ভাই ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি খামার। আর সেই খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন প্রায় ১ টন ওজনের শাহিওয়াল জাতের ষাঁড় ‘লাল মিয়া’, যাকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিকাঠী এলাকার মামুন হোসেন একসময় ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তবে চাকরির গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে স্বাধীনভাবে কিছু করার স্বপ্ন থেকেই তিনি গরুর খামার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে নানা বাধা-বিপত্তি থাকলেও বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটনের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি।

২০১৫ সালে মাত্র তিনটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করা ছোট খামারটি বর্তমানে ২৬টি গরুর একটি সফল ডেইরি ফার্মে পরিণত হয়েছে। খামারটিতে বর্তমানে বিক্রয়যোগ্য ৮টি ষাঁড় ও ৭টি দুধেল গাভী রয়েছে। প্রতিবছর এখান থেকে ৪ থেকে ৬টি গরু বিক্রি করা হয়। খামারটি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত এবং এখানকার খাঁটি দুধ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘লাল মিয়া’ নামের বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়। শাহিওয়াল জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ১ টন ৬ কেজি বা ১০০৬ কেজি। চার বছর ধরে প্রাকৃতিক খাবার ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়েছে গরুটিকে। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড় দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন খামারে।

খামার মালিক মামুন হোসেন বলেন, “লাল মিয়াকে আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে বড় করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। ঘাস, ভুসি ও দেশীয় খাবার দিয়েই তাকে বড় করা হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চার বছর ধরে যত্ন নিয়ে প্রস্তুত করেছি।”

তিনি আরও জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘লাল মিয়া’র দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এছাড়া খামারের আরও সাতটি ষাঁড় বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যেগুলোর দাম ১ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে।

মামুন হোসেন বলেন, “চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মতো করে কিছু করতে পারলে সফল হওয়া সম্ভব। আমি চাই, আমাদের এলাকার তরুণরা উদ্যোক্তা হোক এবং নিজেরা কিছু করার সাহস দেখাক।”

বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটন বলেন, “মামুন ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী। সে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিল। পরিবার হিসেবে আমরা তার পাশে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে আজ সে সফল হয়েছে। তরুণরা এমন উদ্যোগ নিলে বেকারত্ব অনেকটাই কমে যাবে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে গরু পালন করে এমন সফলতা সত্যিই প্রশংসনীয়। মামুনের খামার দেখে অনেক তরুণ এখন অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

বাবুগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, “মামুন হোসেনের খামার নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়। তার খামারে গরুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুসরণযোগ্য উদ্যোগ।”

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন ‘লাল মিয়া’কে ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে। খামার মালিক আশা করছেন, এবারের কুরবানির হাটে ব্যাপক সাড়া ফেলবে তাদের খামারের গরুগুলো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আল্লাহর নামে ছেড়ে দেওয়া ষাঁড় জবাইয়ের ঘটনায় বেকায়দায় ফরহাদ মেম্বার, স্থগিত দলীয় পদ

বরিশাল অফিস :: আল্লাহর নামে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া একটি ষাঁড় জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বরিশাল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মেম্বারের দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। একই ঘটনায় শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন খানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম খান বাপ্পির স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি ও সদস্য সচিব কামরুল আহসান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শামসুল কবির ফরহাদের দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪ নম্বর শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন খানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ফরহাদ মেম্বারের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন চাঁদপুরা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার। অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় এলাকাবাসী সমাজকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে প্রায় আট বছর আগে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি কালো রঙের ষাঁড় বাছুর কিনে ‘আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেন। গরুটিতে চাঁদপুরা ইউনিয়নের সিলও দেওয়া হয়েছিল।

সোহেল হাওলাদার দাবি করেন, গরুটি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আট হাজার গ্রামে চলে যায় এবং দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করছিল। বর্তমানে গরুটির বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ফরহাদ মেম্বার গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করেন এবং পরে মাত্র ৫০ হাজার টাকার আরেকটি ষাঁড় কিনে ইউনিয়নের সিল দিয়ে এলাকায় ছেড়ে দেন।

অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট দিতে দেখা যায় ফরহাদ মেম্বার ও তার সমর্থকদের। সেখানে দাবি করা হয়, গরুটি জবাইয়ের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন ফরহাদ মেম্বার। পরে ২৭ এপ্রিল বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মেম্বারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল সকালে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আট হাজার গ্রামে আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেওয়া ওই ষাঁড়টি জবাই করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ৬০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। থানায় অভিযোগ দায়েরের পরপরই ফরহাদ মেম্বার দ্রুত আরেকটি ষাঁড় কিনে এলাকায় ছেড়ে দেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এ ঘটনায় পরবর্তীতে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ফাহাদ চেয়ারম্যান নামে পরিচিত শামছুল কবির ফরহাদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ষাঁড় গরু চুরি করে জবাই, মাংস বিক্রি ও ভাগ-বণ্টনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বাদী বন্দর থানার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল হাওলাদার (৪০)। তিনি বরিশালের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য কাউনিয়া থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে স্থানীয় এলাকাবাসী সমাজকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি কালো রঙের ষাঁড় বাছুর কিনে আল্লাহর নামে মাঠে ছেড়ে দেন। পরে এলাকাবাসীর পরিচর্যায় গরুটি বড় হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন এলাকায় অবাধে বিচরণ করত। স্থানীয়দের দাবি, গরুটি প্রজনন কাজেও ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে গরুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন গরুটি আর দেখা যাচ্ছে না। পরে রাজাপুর ও আট হাজার এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন জানান, ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যার আগে গরুটিকে অন্তরা লঞ্চঘাট এলাকায় শোয়ানো অবস্থায় দেখা গেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে দড়ি দিয়ে গরুটিকে বেঁধে টেনে নিয়ে মাটিতে ফেলে রাখতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ভিডিওতে স্থানীয় কসাই রফিককে শনাক্ত করার দাবি করেন বাদী। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ভাড়া করে একটি ষাঁড় গরু জবাই করার জন্য অন্তরা লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়ে যায়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অভিযুক্ত কয়েকজনের নামও প্রকাশ করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১৫ এপ্রিল রাত ৩টার মধ্যে যেকোনো সময়ে অভিযুক্তরা গরুটি চুরি করে এনে জবাই করেন। পরে মাংস নিজেদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করেও লাভবান হন।

মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে আব্দুল মালেক মোল্লার ছেলে শামছুল কবির ফরহাদ (৪৬), ধলু খানের ছেলে শাহিন খান (৩৮) ও শিমুল খান (৩০), ইদ্রিস হাওলাদারের ছেলে জাহিদ হাওলাদার (৩০), মৃত মৌজে আলীর ছেলে আলাউদ্দিন (৩৫), হাবিব হাওলাদারের ছেলে সজিব (২৮), আব্দুল হাই মোল্লার ছেলে পারভেজ (৩২), মৃত রশিদ খার ছেলে জালাল খা (৫২), জলিল খার ছেলে মাহবুব (৩৬), কাছেম খলিফার ছেলে ইউনুচ এবং রাজেক ঘরামীর ছেলেসহ সবাই আট হাজার ও রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় সাক্ষী হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে কাজী জুলফিকার আলী ভুট্টো, ফিরোজ হাওলাদার, শফিক হাওলাদার, লতিফুর রহমান মানিক, রফিক হাওলাদার, কসাই সুলতান আহমেদ তালুকদার ও সুমন হাওলাদারসহ আরও অনেকের।

বাদী আদালতে উল্লেখ করেন, ঘটনার পরপরই কাউনিয়া থানাকে বিষয়টি জানানো হলেও গুরুত্ব সহকারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে আদেশে উল্লেখ করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রকাশের পর পুরো শায়েস্তাবাদ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ফরহাদ মেম্বারকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।




বিশ্বকাপ মিসে ক্ষোভ সাকিবের, কাঠগড়ায় অন্তর্বর্তী সরকার

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে মুখ খুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।

ভারতের মুম্বাইয়ে ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম কাপ টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাকিব বলেন, “আমি মনে করি এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি। আমরা ক্রিকেটপাগল জাতি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকা সত্যিই বড় একটি মিস। আমার মতে, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের বড় ভুল ছিল।”

বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে এর আগে নানা আলোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে পেসার মুস্তাফিজুর রহমান আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দেওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানিয়েছিল বলে জানা যায়। তবে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনে রাজি হয়নি।

সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত গিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের খেলা সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে।

নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও কথা বলেন সাকিব। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের পর আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলতে চাইলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

বিদায়ী টেস্ট খেলার সম্ভাবনা নিয়ে সাকিব বলেন, “সেটা পরে দেখা যাবে। আশা করি সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। সময় সবকিছু স্বাভাবিক করে দেয়।”

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক পরিবর্তন প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সম্প্রতি আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে আছেন তামিম ইকবাল।

এ বিষয়ে সাকিব বলেন, “আশা করি নির্বাচন হবে এবং তামিম সভাপতি হলে তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকবে। এতে বাংলাদেশ ক্রিকেট উপকৃত হবে।”

জাতীয় দলের বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই অলরাউন্ডার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগে হয়তো একজন বা দুজন ভালো খেলত, এখন পুরো দল পারফর্ম করছে। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা দারুণ সম্ভাবনাময়। আমি মনে করি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ভালো।”




বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলে স্বস্তি, এলপিজিতে এখনো অস্থিরতা

দেশে দীর্ঘ দুই মাসের ভোগান্তির পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন আর তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।

তবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি ও পাইপলাইনের গ্যাস নিয়ে এখনো ভোগান্তি কাটেনি। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার।

এপ্রিল মাসে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা দাম বাড়িয়ে ১২ কেজির এলপিজির সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ভোক্তাকে আরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ২৫ এপ্রিল ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে এলপিজি কিনেছেন।

রংপুরের কলেজ শিক্ষক ঝন্টু মিয়া জানান, তিনি ২৬ এপ্রিল ২ হাজার টাকা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছেন। তার দাবি, কিছু ব্র্যান্ডের গ্যাসের দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে। একসময় ১ হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা বাড়লে গত ৬ মার্চ সরকার তেল সরবরাহে রেশনিং চালু করে। পরে ১৫ মার্চ সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়নি।

তেলের জন্য বিভিন্ন পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। কোথাও কোথাও রাত কাটানোর ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ট্যাগ অফিসার নিয়োগ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করে।

তবে চলতি সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, এখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়িচালকরা তেল সংগ্রহ করতে পারছেন।

অন্যদিকে অতিরিক্ত গরমের কারণে কয়েকদিন ধরে দেশে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। অনেক এলাকায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী একসময় প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

তবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে মাত্র ৪৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে সেচের চাহিদাও কমে আসবে। অনেক এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ায় বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে লোডশেডিং আরও কমে আসবে এবং পরিস্থিতি আগের মতো অসহনীয় থাকবে না।

**”এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”**




 ছাত্র আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের পরামর্শ নেইনি: নুর

জাতীয় সংসদে শ্রম প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্রশিবিরের কোনো নেতার সঙ্গে তার আলোচনা হয়নি এবং তাদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শও নেননি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নুরুল হক নুর বলেন, “আমি জামায়াতে ইসলামীর অতীত রাজনৈতিক অবদানকে স্বীকার করি। তবে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় জামায়াত বা শিবিরের কারও সঙ্গে আমার কোনো আলোচনা হয়নি এবং তাদের পরামর্শ নেওয়ারও সুযোগ হয়নি।”

তিনি বলেন, “আজ অনেকে জুলাই আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে। কিন্তু এই আন্দোলন ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের সংগ্রামের ধারাবাহিক ফল। কেউ শেষ মুহূর্তে এসে ভূমিকা রাখলেই পুরো আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না।”

আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৬ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জপূর্ণ। আন্দোলনের আট দফা কর্মসূচি তিনি নিজেই প্রস্তুত করেছিলেন। সে সময় বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও জানান তিনি।

নুর বলেন, “গ্রেফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপির নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছি।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারেক রহমান দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রেখেছেন। ২০২২ সালে ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনার অনেক বিষয় বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে।”

নুরুল হক নুর বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অযথা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক পরামর্শের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “সত্যকে গোপন বা বিকৃত না করে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।”

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”