একদিনে হিলিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ২০ টাকা

আমদানির অনুমতির খবরে সরবরাহ বাড়ায় দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা। সরবরাহের এমন ধারা অব্যাহত থাকলে ও ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে দাম আরও কমতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি দোকানেই আগের তুলনায় দেশীয় পেঁয়াজের ভালো সরববাহ লক্ষ্য করা গেছে। এতে পণ্যটির দাম কমতির দিকে। একদিন আগেও যেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল সেই পেঁয়াজ বর্তমানে কমে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুল লতিফ বলেন, পেঁয়াজের দাম গত কয়েকদিন ধরেই ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে তো আবার কমছে। আমরা যে পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে কিনেছিলাম সেটি হঠাৎ দাম বাড়তে বাড়তে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। সরকার যেই আমদানির অনুমতির কথা বলেছে, তখন আবারও কেজিতে ১০ টাকার মতো কমেছিল। কিন্তু দাম কমার দুই দিন পরই আবারও দাম বেড়ে ১০০ টাকায় উঠে যায়। এই যে পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করছে, এগুলো ব্যবসায়ীদের কারসাজি। বাজারে তো পেঁয়াজ আছেই, তারপরও কেন বাড়ছে। আমরা চাই পেঁয়াজের দাম যেন ৫০ টাকায় নেমে আসে।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আবুল হাসনাত বলেন, দেশীয় পেঁয়াজের মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় হঠাৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। মোকামে প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা করে বাড়ছিল। কিছু দিন আগে যে পেঁয়াজ আমরা ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছিলাম সেটি বাড়তে বাড়তে ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। সম্প্রতি সরকার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছেন। এতে কৃষকরা কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় মোকামে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমতির দিকে আসছিল। কিন্তু কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আমদানির অনুমতি না দেওয়ায় আবারও দাম বাড়তে শুরু করে। সম্প্রতি আবারও দাম বাড়লে আমদানির অনুমতি দেওয়ার হবে হবে জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা। এতে আবারও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে- এরপর দাম কিছুটা কমে।




প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন যে পদ্ধতিতে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এই লক্ষ্যে ভোটার নিবন্ধন অ্যাপ চালু করা হচ্ছে। সেখানে নিবন্ধন চূড়ান্ত করলেই ব্যালট পেপার চলে যাবে ভোটারদের কাছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ব্যালট পৌঁছানোর পর, ভোট প্রদান শেষে সেটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ পর্যন্ত পৌঁছাতে সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন বা ইসি।

এ কারণে বিদেশে যে ব্যালট পাঠানো হবে সেখানে থাকবে নিবন্ধিত সবগুলো রাজনৈতিক দল ও জাতীয় নির্বাচনের জন্য ইসির নির্ধারিত প্রতীক।

একই সাথে ‘না’ ভোট যুক্ত থাকবে ওই ব্যালটে। যদি কোনো আসনে একজন মাত্র প্রার্থী থাকেন, শুধুমাত্র সেই সব আসনের ভোটাররাই এই না ভোট দিতে পারবেন।

ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানিয়েছেন, শুধু ইসির অ্যাপে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারদের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হবে। প্রার্থীর প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার পরই অ্যাপ থেকে ভোটার তার আসনের প্রার্থী দেখে ভোট দিয়ে ব্যালট ফেরত পাঠাবেন বাংলাদেশে।

প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো থেকে শুরু ভোট প্রদান শেষে সেগুলো রিটার্নিং অফিসে পাঠানো পর্যন্ত পুরো দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের হাতে। নির্বাচন কমিশন বলছে, এক্ষেত্রে ভোটার প্রতি খরচ পড়বে মাত্র ৭০০ টাকা করে। খবর বিবিসি বাংলা।

বিদেশে বসে ভোট দিতে অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য প্রত্যেক ভোটারেরই লাগবে একটি করে আন্তর্জাতিক সিমকার্ড।

একই সাথে অ্যাপে জিও লোকেশন চালু থাকার কারণে বাংলাদেশে বসে কোনোভাবেই অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসির প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান। আগামী মঙ্গলবার এই অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

প্রবাসী ভোটার বাদেও এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী ও দেশের ৭১টি কারাগারে বন্দি ও কয়েদিরা। তাদের জন্যও আলাদা নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করবে ইসি।

প্রবাসী ভোটারদের অ্যাপে নিবন্ধন থেকে শুরু করে পুরো ভোটদান প্রক্রিয়া এবং করণীয় কী তা তুলে ধরা হচ্ছে এই প্রতিবেদনে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের সুযোগ নিয়ে এর আগে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও এবারই প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা।এক্ষেত্রে, বিদেশে বসে ভোট দেওয়ার জন্য প্রথমেই নিবন্ধন করতে হবে।

নিবন্ধনের জন্য প্রবাসীকে গুগল প্লে স্টোর অথবা আইফোনের অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে।

প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান জানান, প্রবাসী ভোটে ইসির সামনে দুটি অপশন ছিল ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ। মোবাইল অ্যাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে কারণে নির্বাচন কমিশন অ্যাপের মাধ্যমেই নিবন্ধন চালু করছে।

তিনি জানান, প্রবাসী ভোটাররা যার যার আন্তর্জাতিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আগামী ১৮ই নভেম্বর থেকে চালু হওয়া ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে ভোটার নিবন্ধন করবেন।

এই অ্যাপটির বিশেষত্ব হচ্ছে অ্যাপটির জিও লোকেশন এনাবেল বা চালু থাকবে। যে কারণে বাংলাদেশ থেকে কোনোভাবেই এই অ্যাপটি চালু করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক মোবাইল নম্বর প্রবেশ করানোর পর ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি আসবে। ওটিপি দিয়ে মোবাইল নম্বর নিশ্চিত করতে হবে।

এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। পরবর্তীতে দিতে হবে ভোটারের ছবি।

সালীম আহমাদ খান জানান, রেজিস্ট্রেশনের সময় এনআইডির সাথে ওই ভোটারের ফেসিয়াল রিকগনিশনও যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ এনআইডি সার্ভারে ওই ভোটারের যে ছবি আছে ফেস রিকগনিশনের সময় চেহারার সাথে মিনিমাম ৭০ শতাংশ মিল থাকতে হবে।

ক্যামেরার সামনে নে বায়ে মুখ ঘুরিয়ে ভেরিফিকেশনে পর চেহারার সাথে মিললে ‘আপনি এখন নিবন্ধিত’ লেখা প্রদর্শিত হবে অ্যাপে। এরপর পাসপোর্ট থাকলে সেটিরও ছবি দিতে হবে।

তিনি জানান—নিবন্ধনের জন্য পাসপোর্টের তথ্য চাওয়া হলেও, প্রবাসী বাংলাদেশি সবার কাছে পাসপোর্ট না থাকার কারণেই সেটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে না।

নির্বাচন কমিশন বলছে, যেহেতু নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হবে সে কারণে বিদেশে যে ঠিকানায় তিনি থাকেন তিনি সেই ঠিকানাও সরবারহ করতে হবে অ্যাপে।

আগামী ১৮ই নভেম্বর অ্যাপটি চালু হওয়ার পর নিবন্ধনের জন্য ভোটাররা প্রায় এক মাসের মতো সময় পাবেন বলেও ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রার্থী চূড়ান্তের আগেই যাবে ব্যালট?

প্রবাসের ঠিকানাসহ যখন একজন ভোটারের নিবন্ধন সম্পন্ন হবে, তিনি বাংলাদেশের যে আসনের ভোটার সেই আসন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ভোটারের তথ্য চলে যাবে। সে অনুযায়ী হবে পৃথক ভোটার তালিকা।

ইসির ধারণা, প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন শেষ হওয়ার চলমান থাকা অবস্থায়ই ঘোষণা হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল। তখন প্রবাসী ভোটারদের অপেক্ষা করতে হবে ব্যালট পেপারের জন্য।

সালীম আহমাদ খান বলেন, ‘নিবন্ধনের সময় প্রবাসী ভোটার যে ঠিকানা দিয়েছিলেন সেই ঠিকানায় মার্কা ও প্রতীকসহ ব্যালটসহ একটি প্যাকেট পাঠানো হবে।’

তিনি জানান, ভিন্ন ভিন্ন আসনের ভোটার থাকলেও সব ভোটারের কাছে যাবে একই ব্যালট পেপার। যেখানে সবগুলো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ১১৯টি প্রতীক থাকবে ব্যালটে।

প্রবাসী ভোটারের হাতে ব্যালট পেপার পৌঁছালেও প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না কেউ।

রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঠানো খাম পেলে ভোটার অ্যাপে প্রবেশ করবেন। এরপর নির্দেশিকা দেখে মোবাইল নম্বর নিশ্চিত করবেন। পরবর্তীতে খামের ওপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই ভোটার তার আসনের সব প্রার্থীর নাম দেখতে পাবেন।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব ও প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের পরিচালক কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহারের পর যখন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে তারপরই অ্যাপ থেকে স্ব স্ব আসনের প্রার্থী তালিকা জানতে পারবেন প্রবাসী ভোটাররা।’

ওই আসনে কোনো রাজনৈতিক দল বা তার পছন্দের প্রার্থীর প্রতীক ভোটার নিজেই দেখতে পারবেন অ্যাপে। সেখান থেকে প্রবাসী ভোটার ১১৯টি প্রতীকের মধ্যে তার পছন্দের প্রতীকের ব্যালটের পাশে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিবেন।

প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, ‘পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়ার পর ব্যালট রিটার্ন খামে ভরে তারপর কাছাকাছি পোস্ট অফিসে পাঠাবেন। আগে থেকেই ডাক মাসুল পে করা থাকবে। সে কারণে এটা চলে আসবে দেশে স্ব স্ব ঠিকানায়।’

নেওয়াজ বলছিলেন, যদি কোনো ভোটার ভোট দেওয়ার পর দেখলেন তিনি যে প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন সেই সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তখন ওই আসনের প্রবাসী ভোটও বাতিল হবে।

একই সাথে যদি ওই আসনে বাদ পড়া কোনো প্রার্থী যদি উচ্চ আদালতে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান, সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রবাসী ভোট বাতিল বলে গণ্য হবে বলে জানান নেওয়াজ।

সময়মতো না পৌঁছালে ‘ভোট বাতিল’

ব্যালট পেপার যে খামে পাঠানো হবে তার সাথে থাকবে একটি ঘোষণাপত্র। ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ওই ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করতে হবে ভোটারকে।

সালীম আহমাদ খান বলেন, ‘যে খামে ব্যালট পেপার থাকবে সে খামের বাইরে আলাদা একটি খামে থাকবে ঘোষণাপত্র। ভোটার যে নিজে ভোট দিয়েছেন সেটি উনি ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করবেন এবং সেটিতে সাক্ষর করবেন।’

যদি কোনো ভোটার শুধু ভোট দিয়ে ঘোষণাপত্রে সাক্ষর ছাড়াই ব্যালট পেপার বাংলাদেশে পাঠান সেক্ষেত্রে ওই ভোটটি বাতিল ভোট হিসেবেই গণ্য করবে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

নির্বাচন কমিশন বলছে, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের ভোট আয়োজনে ভোটার প্রতি ইসির খরচ পড়বে ৭০০ টাকা।

এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে বাংলাদেশের ডাক বিভাগের সাথে চুক্তিও করেছে নির্বাচন কমিশন।

ডাক বিভাগের সাথে বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন ধারণা করছে, ব্যালট পাঠানো থেকে শুরু করে ফেরত আসা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় লাগবে। সেই হিসাব করেই ব্যালট পাঠানো হবে ভোটারদের কাছে।

টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, ডাক বিভাগের সাথে নির্বাচন কমিশনের চুক্তি অনুযায়ী ব্যালট ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত থাকবে। কোন ব্যালট কোথায় আছে সেটি যেমন ভোটারও জানতে পারবে, তেমনি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসও সেই তথ্য জানতে পারবে।

জাতীয় নির্বাচনের দিন বিকাল চারটার মধ্যে যে সব ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাবে সেটিকে বৈধ ভোট ধরা হবে।

সালীম আহমাদ খান বলেন, নির্বাচনের তারিখ ভোটগ্রহণের সময় যদি শেষ হয় বিকাল চারটা, ওই সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে পারলেই ওটা বৈধ। এর পরে যদি সেটা এসে পৌঁছায় সেটিকে বাতিল ভোট হিসেবেই ধরা হবে।

এক্ষেত্রে সঠিক সময়ে ব্যালট এসে পৌঁছানো, কিংবা আগাম ব্যালট পাঠানোর পর নতুন কোনো প্রার্থী তালিকায় যুক্ত হওয়া কিংবা তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।




‘আ.লীগ এখন ভাড়াটে টোকাইদের ওপর নির্ভরশীল’

আওয়ামী লীগ এখন ভাড়াটে টোকাই-ধরনের ক্ষুদ্র দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তি এ কথা বলেন।

প্রেস সচিব লেখেন, তিনটি সাম্প্রতিক ঘটনা আমার বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। বরং আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

শফিকুল আলম লেখেন, বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দলটি তাদের সংসদীয় প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে—এমন একটি ব্যাপক আশঙ্কা ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, শত শত বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না। বিক্ষোভে নামবেন। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াতে পারেন। কিন্তু এক-দুটি সামান্য ঘটনা ছাড়া ঘোষণাটি আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয়, বিএনপি নেতৃত্ব যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে। মনোনয়নের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ইঙ্গিত দেয়—প্রচারণা ও নির্বাচনের সময় দলের ভেতরে সংঘর্ষের সম্ভাবনা খুবই কম।

তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের সক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে দেখছি এবং তা বেশ ছোট। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের একটি বিস্তৃত তৃণমূল নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা যেকোনো নির্বাচন ব্যাহত করার মতো শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে দিয়েছে—দলটির বাস্তব সংগঠিত শক্তি আসলে কতটা সীমিত। এখন তারা ক্রমেই ভাড়াটে টোকাই-ধরনের ক্ষুদ্র দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যারা ফাঁকা বাসে আগুন দিতে পারে, ৩০ সেকেন্ডের ‘ঝটিকা মিছিল’ করতে পারে, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই শাটডাউনের মতো প্রচারণা চালাতে পারে।

‘প্রকৃত অর্থে, যার মাঠে প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি খুব কম। আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণও তা-ই নির্দেশ করে, দলের তৃণমূল হয় ভেঙে গেছে, নয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলির দ্বারা নিমজ্জিত হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে,আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অস্থিরতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করি।’

প্রেস সচিব লেখেন, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন এখন আরও সংগঠিত। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা দেখেই বোঝা যায়—পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন (ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি) এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত। সবচেয়ে দক্ষ ও সক্ষম কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তারা জাতির প্রত্যাশিত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।




ভোরের আলো ফোটার আগেই ফ্ল্যাটে মিললো স্ত্রীর লাশ, গুরুতর আহত স্বামী

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ফ্ল্যাটে মিলেছে স্ত্রীর লাশ। এ সময় গুরুতর আহত স্বামীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার ভোরে বাইশমাইল এলাকার নওয়াব আলী মার্কেট এলাকার স্থানীয় একতা টাওয়ারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রহিমা খাতুন ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার আমতৈল গ্রামের কসাই এমরান হোসেনের স্ত্রী । তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ইমরান কসাই এর কাজ করেন। তার স্ত্রী রহিমা খাতুন ও মেয়ে শারমিনকে নিয়ে বাইমাইল এলাকায় একতা টাওয়ারের ৫ম তলার ফ্ল্যাটে ভাড়ায় বসবাস করতেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা ওই বাসায় প্রবেশ করে ইমরান ও তার স্ত্রীকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রহিমা খাতুনের মৃত্যু হয়। শনিবার ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমরানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ও স্ত্রীর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কোনাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, লাশ উদ্ধারের কিছুক্ষণ পর তল্লাশি চালালে স্বামী এমরান হোসেনের পালস পাওয়া যায়। তাই তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রী রহিমার লাশ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের মেয়ে শারমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




লৌহজঙে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

মুন্সীগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকার লৌহজং উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হলো আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি। শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ বিকাল ৩টায় লৌহজং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ আয়োজন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও স্থানীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার–ফেস্টুন হাতে মাঠে জমায়েত হতে থাকেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ থেকে কনকসার কাঠপট্টি পর্যন্ত বিশাল র‌্যালি বের হলে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং ও টংগিবাড়ী) আসনের গনমানুষের নেতা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। তিনি বক্তৃতায় বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা সর্বস্তরের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় এ দেশের মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে। বর্তমান প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস জানতে ও দেশগঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল আহমেদ, যিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জনগণের ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন লৌহজং উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আলহাজ্ব কোহিনুর শিকদার। তিনি বলেন, দীর্ঘ পাঁচ দশক পরও বিপ্লব ও সংহতি দিবস সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানমঞ্চ ছিল সরব। র‍্যালির পুরো পথজুড়ে ছিল স্লোগান, ব্যানার, জাতীয় পতাকা এবং আন্দোলনের চেতনা স্মরণে নানা শ্লোগানধ্বনি। লৌহজং উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এই আয়োজনটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে দিনব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এক দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন তামাশার শামিল: চরমোনাই পীর

এক দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন তামাশার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। চরমোনাই পীর হিসেবে খ্যাত এ নেতা বলেছেন, “একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন জাতির সঙ্গে তামাশার শামিল।

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এমন ঘোষণা দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল না।” বৃহস্পতিবার বিকালে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মতলব পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দলের তৃণমূল সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রেজাউল করীম বলেন, “স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৪ বছরেও জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।

দীর্ঘ এত বছর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল তারা সবাই ছিল ক্ষমতাপ্রেমী। তাদের মধ্যে ন্যূনতমও দেশপ্রেম নেই। সময় এসেছে দেশপ্রেমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। দেশপ্রেমিকরা ঐক্যবদ্ধ হলে ক্ষমতাপ্রেমীরা পালানোর সুযোগও পাবে না।”

তিনি বলেন, “ইসলাম ছাড়া মানবতার মুক্তি নাই। আমরা ভারসাম্যপূর্ণ একটা দেশ গঠন করতে চাই। মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাই।”

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা নাসির আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমাদ, যুবনেতা শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সভাপতি মাওলানা আনসার আহমাদ।




বরিশালে আ.লীগ নেতা আরাফাত গ্রেপ্তার

রিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আরাফাত রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আরাফাত রহমান ইউনিয়নের চরআবদানী এলাকার মৃত কাদের সিকদারের ছেলে।

তিনি সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ফজলুল হক অ্যাভিনিউ থেকে আরাফাত রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

বিএনপির অফিস পোড়ানোসহ একাধিক রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।




আমতলীতে পার্কিং করা বাসে দুর্বৃত্তের আগুন, আটক ৫

বরগুনার আমতলী পৌর শহরের ফেরিঘাট সড়কে পার্কিং করে রাখা ‘স্বর্ণা পরিবহন’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। এ সময় বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি বাসমালিকের। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ রাতেই উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে পৌর শহরের ফেরিঘাট সড়কের গাজী বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। আমতলী উপজেলার গাজীপুর বন্দরের বাসিন্দা শহীদ দেওয়ান গাড়িটির মালিক। তাঁর মেয়ের নামে রাখা ‘স্বর্ণা পরিবহন’ নামের বাসটি বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কে চলাচল করত। প্রতিদিনের মতো গতকাল রাতেও বাসটি ফেরিঘাট সড়কে অন্য আরও সাতটি বাসের সঙ্গে পার্কিং করে রাখা হয়। মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সাব্বির হাওলাদার বলেন, ‘গাড়ির হেলপারের ডাকাডাকি শুনে বাইরে আসি। এরপর গাড়িতে আগুন দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই। কিন্তু ততক্ষণে গাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।’ বাসমালিক শহীদ দেওয়ান বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে আমার বাসে আগুন দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দ্রুত এলে গাড়ির এত ক্ষতি হতো না।’ শহীদ দেওয়ানের ছোট ভাই, আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাতেন দেওয়ানের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতামূলক ঘটনা।

তিনি বলেন, ‘পার্কিং করা আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসে আগুন না দিয়ে আমার ভাইয়ের বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমি বিএনপি করি বিধায় এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’ আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ওই রাতেই উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতাউর রহমান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ খান, পৌর যুবলীগ সদস্য তন্ময় গাজী, কাওসার রনি এবং সগির মল্লিক নামের পাঁচজনকে আটক করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এর সঙ্গে জড়িত আরও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরগুনা বাস মালিক সমিতির লাইন সম্পাদক অহিদুল ইসলাম সজল মৃধা বলেন, মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বাসটির ক্ষতিপূরণে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. হানিফ বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নইলে আরও বড় ক্ষতি হতে পারত।’




পটুয়াখালীতে ঠান্ডাজনিত রোগে তিন সপ্তাহে হাসপাতালে ৫৬৩ শিশু

পটুয়াখালীতে ঘন কুয়াশার সঙ্গে শীতে জেঁকে বসেছে দক্ষিণের জনপদে। দক্ষিণের হিমেল হাওয়ায় স্থবিরতা নেমে এসেছে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে। ফলে পটুয়াখালীতে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। তিন সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৫৬৩ জন শিশু রোগী।

পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বর্তমানে দ্বিগুন রোগী ভর্তি রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বেশি ঠান্ডা পড়ার ফলে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়েরিয়াসহ নানা রোগ-ব্যাধি।

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যার হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৪০টি বেড’র বিপরীতে ভর্তি রোগী সংখ্যা ১১৬ জন। আসছে নতুন রোগীও। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে মানুষ চলাচলের পথে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে মায়েরা অবস্থান করছেন। এতে বেডে সেবা নিতে হচ্ছে দুইজন শিশু সহ চার জনকে। এতে করে সুস্থ হওয়ার চেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা থেকে আসা আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমাদের একটি বেডে তিনজন শিশুরোগী নিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। এতে মা থাকে কোথায় আর শিশুরাও বা থাকে কোথায়। অনেক সময় শিশুরা নিচে পড়ে আহত ঘটনা ঘটেছে।’

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আখী রানি বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে দিন দিন ঠান্ডাজনিত শিশু রোগের সংখ্যা বেড়েই চলছে। ৪০টি বেডের বিপরীতে রোগী বেশি থাকায় আমাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত দুই মাসে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।




গলাচিপায় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত

জীবনব্যাপী ডায়াবেটিস’ প্রতিপাদ্যের আলোকে পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস-২০২৫ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির আয়োজনে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হল রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. আল আমিন (কনসালটেন্ট মেডিসিন), ডা. সালাউদ্দিন মাহমুদ তুহিন, ডা. নোমান পারভেজ, ডা. মো. নূর উদ্দিন, ডা. নাঈমুল ইসলাম, ডা. আতাউর রহমান, ডা. তুষার আহমেদ, ডেন্টাল সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম, ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচি গলাচিপা শাখার এরিয়া ম্যানেজার পাপড়ি মল্লিক, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার পিজুষ বালা, মহুয়া রহমান প্রমুখ।

এছাড়াও স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে হবে, ডায়াবেটিস ইনসুলিনের দাম কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে, ডায়াবেটিস রোগীদেরকে পুষ্টি খাবার খেতে হবে। ডায়াবেটিসের রোগীরা নিয়মিত নিয়ম মেনে যদি একটু সতর্ক থাকেন তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অল্প ওষুধেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

ডায়াবেটিসের কারণে হার্ট ও প্রেসারসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। সকল পর্যায়ের সকলকেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে। আলোচনা সভা শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে আশপাশের সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।