শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কোনো বিচারের আগে যদি শর্ত থাকে, তাহলে সেই বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। নির্দিষ্ট সময় বা শর্ত বেঁধে দিয়ে কখনো বিচারকে আটকে ফেলার চেষ্টা ভালো পরিণতি নিয়ে আসে না।

শেখ হাসিনার রায়ে দেশের জনণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। এই রায়টির ঘিরে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে নানা মন্তব্য দেখতে পাচ্ছি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নানা পর্যবেক্ষণ দেখছি। ডেভিড বার্গম্যান যিনি খুবই সোচ্ছার ছিলেন হাসিনার শাসনামলে।

তিনিও হাসিনার রায় ঘিরে তার লেখা আর্টিকেলে বলেছেন, প্রসিকিউশনের হাতে শক্ত প্রমাণ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে বিচারের দৃশ্যমানতাই একমাত্র শর্ত নয়। আমরা দেখলাম বিচারের দৃশ্যমানতার পাশাপাশি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, গণভোট আগে হওয়া। এ রকম নানান রকম শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ নয় জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নিষিদ্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের শর্ত এসেছে। এসব দাবি মধ্যে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা না হলে জামায়াতসহ যারা এই দাবিটা তুলেছে তারা নির্বাচনে আসবে কি না এটা একটা বড় প্রশ্ন।’ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হলে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




বিজয় দিবস নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ঘিরে দেশে কোনো অস্থিরতা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

তিনি বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষ্যেও কোনো শঙ্কা নেই।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এমন কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরেও কোনো রকম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়নি। বিজয় দিবসে কোনো অস্থিরতার সম্ভাবনা নেই।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন নেই। আগে যেভাবে সব কর্মসূচি হয়েছে, এবারও সেভাবে হবে। বরং আরও বেশি হবে। তবে গতবারের ন্যায় এবারও প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে না।

গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া মঙ্গলবার রাতে ডিবি পরিচয়ে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে পরে ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়টা আমি প্রথম শুনলাম। অনুসন্ধান করার পর হয়তো আমি বিষয়টা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবো। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




আইটি ব্যবসার আড়ালে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে সিসার কারবার

আইটি ব্যবসার আড়ালে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছিল নিষিদ্ধ মাদক সিসা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ক্রেতা সেজে চক্রের হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন- আব্দুল আলিম ওয়াসিফ ও আশিকুর রহমান সামি। রোববার রাজধানীর বাড্ডা ও হাতিরঝিল এলাকায় অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় ১৮ কেজি সিসা, যা সাম্প্রতিক কালের সর্বোচ্চ।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসি মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, গোয়েন্দা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মাদক পাচারের বিষয়ে নজরদারি করে আসছে। এই তৎপরতায় বিভিন্ন সময় বেশকিছু চালান জব্দ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, ডিএনসির কাছে গোপন তথ্য ছিল যে একটি চক্র ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে দেশব্যাপী সিসা সরবরাহ করছে। এর ভিত্তিতে রোববার ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল উপপরিচালক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ক্রেতা সেজে অভিযান চালায়। প্রথমে চক্রের ডেলিভারিম্যান আশিকুর রহমান সামির সঙ্গে যোগাযোগ করে হাতিরঝিল এলাকায় পণ্য ডেলিভারির সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়। রোববার রাত ১১টায় হাতিরঝিল মহানগর প্রকল্প এলাকায় সামি সিসার জারভর্তি ব্যাগ নিয়ে উপস্থিত হলে ডিএনসি দল তাকে আটক করে। তার স্কুলব্যাগ তল্লাশিতে ২ কেজি সিসা পাওয়া যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে সামি জানায়, সে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন অর্ডার অনুযায়ী সিসা সরবরাহ করে। এ চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক আব্দুল আলিম ওয়াসিফ। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে ডিএনসি দল দ্রুত উত্তর বাড্ডার বিটিআই প্রিমিয়াম প্লাজায় অবস্থিত ‌‘ইনোভেট’ দোকানটিকে চিহ্নিত করে। সেদিন রাতেই দোকানে প্রবেশ করে সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিশ্চিত হলে দোকানের মালিক ওয়াসিফকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে স্টোর রুম তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় আরও ১৬ কেজি সিসা (১৬ জার), ৩টি হুক্কা সেট, ২টি পাইপ, চারকোল ১০ প্যাকেট,    আইফোন–১৩, ৫টি ওয়াইফাই সিসিটিভি ক্যামেরা।

ওয়াসিফ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে, তিনি অনলাইনে অর্ডার নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিসা সরবরাহ করতেন এবং সামি তার হয়ে ডেলিভারি দিতেন।

ডিএনসি মহাপরিচালক বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে; শিগগিরই আরও অভিযান চালানো হবে।




বরিশালে অপসো স্যালাইনের শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান, সড়ক অবরোধ

বরিশালে অপসো স্যালাইন (ওএসএল) ফার্মা লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীরা দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিকদের একটি পক্ষ চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সামনে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। অপর একটি পক্ষ কাজে যোগ দিতে অবস্থান নিয়েছে।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বগুড়া রোডে সড়ক অবরোধ করে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির আইভি ফ্লুইড বিভাগের শ্রমিকরা। পরে সেখানে মালিক পক্ষ থেকে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার অনিন্দ কুমার সরকার সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মালিকপক্ষ জানায়, শ্রম আইন মেনে অপসো স্যালাইনের স্টোরিপ্যাক বিভাগের ৪৪৪ জন শ্রমিককে অবসান দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫০ ভাগ শ্রমিক তাদের পাওনা বুঝে নিয়েছেন। কিন্তু কিছু শ্রমিক ও বহিরাগতরা অন্য বিভাগের শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধা প্রদান করছেন। তারা জানান, এতে করে কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ থাকলে সামনে সংকট দেখা দিতে পারে। কাজে যোগ দিতে আসা আইভি ফ্লুইড বিভাগের শ্রমিকরা জানান, সকালে তারা কোম্পানিতে ঢুকতে গেলে তাদের ওপর বাধা দেওয়া হয়। যাদের চাকরি রয়েছে তারা যেন কাজ করার সুযোগ পান সেই দাবি জানান তারা। অন্যদিকে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা বলেন, চাকরি পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এদিকে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বগুড়া রোড ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।




দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি

দেশে এখন মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন আর নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন। হিজড়া পরিচয়ে ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩৪ জন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। এই ভোটার তালিকাতেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আখতার আহমেদ জানান, গত ২ মার্চ মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজর ২৭৪।

২ মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে নারী ভোটার বৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ আর পুরুষ ভোটার বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ২৯ শতাংশ। আখতার আহমেদ জানান, নির্ধারিত সময়ে কোনো দাবি আপত্তি না আসায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এ দুটি দলকে নিবন্ধন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কিছু আপত্তি আসায় বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টিকে এখনো নিবন্ধন দেওয়া হয়নি।

দলটির বিষয়ে আসা আপত্তিগুলো পর্যালোচনা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনের জন্য সরকারের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পায়নি নির্বাচন কমিশন।




পাকিস্তানের নির্দেশে হাসিনার মৃত্যুদণ্ড : শুভেন্দু

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের কাছে তিনি দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় পাকিস্তানের নির্দেশে দেওয়া হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এটা পাকিস্তানের নির্দেশেই করা হয়েছে। এটা কার্যকর হবে না। শেখ হাসিনা অন্য দেশের হলেও তিনি বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি একজন প্রগতিশীল মুসলমান। শেখ হাসিনা কখনো চরমপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।’

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এই রায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছে। তারা সব সময় বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, গণতন্ত্র, অংশগ্রহণ ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় লক্ষ করেছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত সব সময় বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, গণতন্ত্র, অংশগ্রহণ ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করব।’




জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে গুরুতর দণ্ড ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়—মামলার অভিযোগগুলোতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথি ও প্রমাণাদি বিবেচনায় এনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালত জানায়—শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে; যার মধ্যে দুটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলার একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালত অঙ্গন ছিল জনাকীর্ণ। নিহতদের পরিবার, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ উপস্থিত ছিলেন জুলাই–অগাস্টের সহিংস ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বহু মানুষ। আদালত বলেন—গণঅভ্যুত্থানের সময় যে হত্যাকাণ্ড, হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তা প্রমাণ করতে প্রসিকিউশনের ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের মধ্যে ছিলেন চিকিৎসক, প্রত্যক্ষদর্শী, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ। পাশাপাশি নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের সহযোদ্ধা, শহীদ আনাসের বাবা পলাস এবং আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্যও মামলার ভিত্তি মজবুত করে।

গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগসমূহ

প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচটি অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করেছিল। সেগুলো হলো—
১) ১৪ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্য;
২) আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশ;
৩) রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা;
৪) চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা;
৫) আশুলিয়ায় আগুন দিয়ে ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।

অভিযোগ গঠনের পর সাবেক আইজিপি মামুন রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী হয়ে দাঁড়ানোর আবেদন করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করে। পরে প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে কোনো সাজা দাবি না করে, শুধুমাত্র শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানায়। দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে ১২–২৩ অক্টোবর শুনানি শেষ হয় এবং আজ রায় ঘোষণা করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের পুনর্গঠন ও মামলার প্রক্রিয়া

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম মামলার শুনানি হিসেবে গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয় এবং সেদিনই আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে মামলায় সাবেক আইজিপি মামুন ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে আসামি করা হয়। এ বছরের ১ জুন তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল হয়।

পক্ষ–বিপক্ষের সব যুক্তি, সাক্ষ্য এবং নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত জানায়—উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। আদালতের রায়ে বলা হয়, “মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তিই ন্যায়বিচারের স্বার্থ নিশ্চিত করে।”


মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাসিনাকে হাজারবার ফাঁসি দিলেও কম হবে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা প্রথম মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। এই রায়ে সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

তবে তাকে হাজারবার ফাঁসি দিলেও কম হয়ে যাবে, এমনটাই মনে করছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত মীর মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্নিগ্ধ বলেন, ‘শেখ হাসিনার অন্যায়-অপরাধের বিচার ৫ আগস্টেই হয়ে গেছে। এখন শুধু আদালতের আনুষ্ঠানিক রায়ের প্রকাশের অপেক্ষা। তবে যে অপরাধ করেছে, তার জন্য যদি তাকে হাজার বারও ফাঁসি দেওয়া হয়, সেটাও তার জন্য কম হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবার এবং গত ১৭ বছর ধরে নির্যাতিত মানুষের একটাই প্রত্যাশা — ‘শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’

এক প্রশ্নের জবাবে স্নিগ্ধ বলেন, ‘ফাঁসির প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ ৫ আগস্টই জনগণ তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণার কথা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় দেবেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।




মাদারীপুরে ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক রাস্তা গাছ কেটে অবরোধ করে দুর্বৃত্তরা

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর থেকে মেলকাই অংশে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে শনিবার ভোরে দুর্বৃত্তরা বড় বড় গাছ কেটে ফেলে সড়কে ফেলে রাখে। হঠাৎ সড়ক অবরোধ হয়ে পড়লে ওই মহাসড়কের দুইদিকে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাটা গাছ অপসারণে কাজ শুরু করে কালকিনি ফায়ার সার্ভিস, কালকিনি ও ডাসার থানার পুলিশ, পাশাপাশি এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীরাও উদ্ধারকাজে যুক্ত হন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়ক পরিষ্কারের কাজ চলছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে গাছ কেটে মহাসড়ক অবরোধ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে কারা এই নাশকতা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক দ্রুত স্বাভাবিক করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।




‘পাঁচ নয় আট, তুমি বলবার কে’

দেশে নারীদের আবারও অন্ধকারে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। একটি দল ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ব্যবসা করছে। তারা চায়, নারীরা যেন অন্দরমহলে বন্দি থাকে। সে জন্য তারা বলছে, কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিতে হবে। নারী কর্মস্থলে কাজ করবে না ঘরে থাকবে– এটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘নারীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অসম্মান: প্রতিরোধে প্রস্তুত সচেতন নারী সমাজ’ লেখা ব্যানার নিয়ে মৌন মিছিল ও সমাবেশ হয়। এ সময় নারীরা স্লোগান দেন– ‘পাঁচ নয় আট, তুমি বলবার কে?’

সমাবেশে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, গত ১৭ বছর নারীরা যেভাবে খুন-ধর্ষণের শিকার হতেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। নারীরা মর্যাদা ফিরে পাবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দেশে আজ আবার নারীরা অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছেন। নারীদের ঘরে ফিরিয়ে দিতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কাজেই অধিকার আদায়ে নারীদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মর্যাদা ফিরে পেতে নারীদের সমস্বরে আওয়াজ দিতে হবে।’

সমাবেশে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্যসচিব নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘আজ আমরা এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংকেত দিয়ে গেলাম যে নারীর অধিকার নিয়ে কোনো সংকট তৈরি করা হলে দেশের নারী সমাজ জেগে উঠবে।’ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, নারী অধিকার হলো মানুষের অধিকার। নারীর কোনো দান, দয়া বা দাক্ষিণ্যের প্রয়োজন হয় না। নারীরা ঘর সামলাবেন না বাইরে থাকবেন, সেটা একান্তই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। নারীদের সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে দিন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান বলেন, ‘পুরুষ আমাদের সহযোদ্ধা, শত্রু নয়। তাই নারীর পাশাপাশি যে পুরুষকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়, আমি তার পক্ষে দাঁড়াই।’

মায়ের ডাকের সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন দেখেছি গণঅভ্যুত্থানে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে এসে আমাদের এমন এমন সব সামাজিক অবস্থায় পড়তে হচ্ছে, যেখানে শুনতে হয়, আমাদের কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টায় নিয়ে আসা হবে।’
সমাবেশে ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক, পারিবারিক বা যে কোনো ক্ষেত্রে হোক, কথা বলতে গেলে, বিভিন্নভাবে নারীদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নারীকে কথা বলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক এমপি বিলকিস ইসলাম, নিলুফা চৌধুরী, শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম, সহসভাপতি রেহানা আক্তার প্রমুখ।