পিরোজপুরে যুবদল নেতার উদ্যোগে বেহাল সেতু মেরামত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় যুবদল নেতার উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে ১১৪ ফুট দীর্ঘ একটি বেহাল সেতু মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া ও বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের জানখালী গ্রামের সীমান্তবর্তী সাংরাইল খালের ওপর জরাজীর্ণ সেতুটি নিজস্ব অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করেন যুবদল নেতা এ আর মামুন খান।

মামুন খান কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক। রোববার (২৩ নভেম্বর) সেতুটি মেরামত শেষে উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব তাহসিন জামান রুমেল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হানিফ হাওলাদার প্রমুখ। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় সিডরে গাছ পড়ে লোহার স্লিপারে করা সেতুটির পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ১৮ বছর পার হলেও কোনো জনপ্রতিনিধি জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি সংস্কারে এগিয়ে আসেনি। সিডরের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পাটাতনের রড ও সিমেন্টে তৈরি স্লাবগুলো ভেঙে যেতে থাকে।

১৪ বছর আগে সেতুটির সব স্লাব ভেঙে যাওয়ায় সুপারিগাছ বিমের ওপর ফেলে স্থানীয় গ্রামবাসী চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে থাকে। বিষয়টি নজরে আসার পর আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের যুবদলকর্মীরা মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুটি মেরামত করেন। স্থানীয় কৃষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সেতু না থাকায় আমাদের চরম কষ্ট পোহাতে হতো। আগে গ্রামের মানুষ নিজেরা চাঁদা তুলে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো বানাত।

এবার যুবদলের নেতারা নিজেদের টাকায় মজবুত করে চলাচলের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন। এতে গ্রামবাসীর অনেক সুবিধা হয়েছে। এখন রিকশা-সাইকেলও চলাচল করতে পারবে। যুবদল নেতাকর্মীরা নিজেরাই এ কাজটা করেছেন। রাজনৈতিক নেতাকর্মী হিসেবে এমন কল্যাণমূলক কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, অবহেলিত এলাকায় সেতুটি সংস্কার হওয়ায় কয়েক হাজার মানুষের উপকার হয়েছে। মঠবাড়িয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব তাহসিন জামান রোমেল বলেন, আমার নিজ এলাকার মানুষের কষ্টের কথা জেনে যুবদল নেতা মামুন খানের সহযোগিতায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাঠের তক্তা দিয়ে সেতুটি মেরামত করেছি।

এক সপ্তাহ ধরে মিস্ত্রির সঙ্গে নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে কাজ করেছেন। মামুন খান বলেন, যুবদল সবসময় জনগণের পাশে থাকে, থাকবে। উন্নয়ন মানে শুধু সরকারের কাজ নয়, মানুষের সেবায় স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে আসাও দেশপ্রেমের অংশ।




গলাচিপায় চক্ষু সেবা ক্যাম্প, বিনামূল্যে চিকিৎসা-ওষুধ পেলো দুই শতাধিক রোগী

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মুহম্মদ ইউসুফ মিয়া জাহানারা স্মৃতি কমপ্লেক্সের উদ্যোগে গরীব, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে পটুয়াখালীর বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। এসময় চক্ষু বিশেষজ্ঞ, অপটোমেট্রিস্ট ও টেকনিশিয়ানের সহায়তায় প্রায় দুই শতাধিক রোগীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ঔষধ ও চশমা সরবরাহ করা হয়েছে।

এদের মধ্যে যাদের চোখের ছানির অপারেশন প্রয়োজন তাদের বাছাই করে পটুয়াখালীতে বিনামূল্যে অপারেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। মুহম্মদ ইউসুফ মিয়া জাহানারা স্মৃতি কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠিতা মুর্তাজা সাইফুল আলম জাকিরে তত্ত্বাবধানে আয়োজিত চক্ষু সেবা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংসু সরকার কুট্টি, বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ পিনু, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার হাওলাদার ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মঈন প্রমূখ।

এসময় ক্যাম্পে পরিচালনার সহায়তায় ছিলেন ইউসুফ -জাহানারা স্মৃতি কমপ্লেক্সের ইনচার্জ আতিকুর রহমান শাহিন। মুর্তজা সাইফুল আলম জাকির বলেন, আমার বাবা মো. ইউসুফ মিয়া এই অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী ছিলেন। তিনি গলাচিপা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হিসেবে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্রিটিশ আমলের পর থেকেই তিনি এই অঞ্চলের মানুষের সেবা করে গেছেন। সবাই তাকে ‘ইউসুফ স্যার’ নামেই চিনেন। আমরা তার সন্তান হিসেবে তার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য বাবা–মায়ের নামে একটি স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছি। এই কমপ্লেক্সে মসজিদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মেয়েদের স্কুল রয়েছে। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পোশাক, বই-খাতা, দুপুরের খাবার এবং যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করা আছে।

তিনি আরও বলেন, আজ একটি চক্ষু সেবা ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এ অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই গরিব, দুঃস্থ ও অসহায়—যারা টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারেন না। তাদের কথা ভেবে আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা, চক্ষু পরীক্ষা, ওষুধ এবং চশমা প্রদান করছি। আমি আশা করি, এই এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের উপকারে আমার প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। হাসান মামুন আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে জানান, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপি ইতোমধ্যেই বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ক্যাম্প পরিচালনা করেছি। তাঁদের এ কার্যক্রমে আরো উদ্ভূত হয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা ক্যাম্প আয়োজন করা হবে। এবিএম মোশাররফ আয়োজকের প্রশংসা করে জানান, রাজনীতি মানে মানুষের কল্যাণে কাজ করা।

রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করলে সাধারণত মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। বিনামূল্যে চিকিৎসা, ছানি অপারেশনে সুযোগ ও ওষুধ পেয়ে এলাকার গরীব ও অসহায় মানুষরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া অতিথিরাও ক্যাম্প পরিদর্শন করে এই উদ্যােগকে স্বাগত জানিয়েছেন।




দপদপিয়ায় পুলিশের তৎপরতায় চো’রাই মালসহ বাবু-রায়হান আটক

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় থানা পুলিশের তৎপরতায় অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামালসহ দুই সহোদরকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ নভেম্বর) দিবগত রাতে উপজেলার দপদপিয়ায় ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃত বাবু ও রায়হান ৯নং দপদপিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো: সোলেমানের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নলছিটি থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে এস আই মিজান এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়। নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, চোরাই মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে।

তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের ছোটখাটো চুরির ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অভিযানের ফলে চক্রটি চিহ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




ঐতিহ্য ও জীবিকার মেলবন্ধন দেশের সর্ববৃহৎ নেছারাবাদ ভাসমান কাঠের বাজার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ(স্বরূপকাঠি) উপজেলার কয়েকটি চরে সুন্দরী কাঠ ও গোলপাতার সর্ববৃহৎ ভাসমান বাজার হিসেবে এক সময়ে পরিচিত ছিল। বিক্রির জন্য গোলপাতা ও সুন্দরী কাঠ সন্ধ্যা নদীতীরবর্তী উপকূলে জেগে ওঠা চরে চলতোকিন্তু রমরমা ব্যাবসা। কালের বিবর্তনে সুন্দরী কাঠের দুষ্প্রাপ্যতা এবং গোলপাতা ব্যবহারের স্বল্পতার কারণে থমকে পড়ে বিশাল আকৃতির ভাসমান বাজারের রূপরেখা। শুরু হয় দেশীয় কাঠের ভাসমান বাজার।

ঐতিহ্যবাহী এই ভাসমান কাঠবাজারের ইতিহাস ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের। একসময় এই ব্যাবসা ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকার অন্যতম বড় অবলম্বন। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে কাঠ ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্টরা ভালো নেই। পরিবহন সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব ও পাইকারি ক্রেতার অভাবসহ নানা সংকটে আজ হুমকির মুখে দক্ষিণাঞ্চল তথা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাঠের বাজার।

নেছারাবাদ থানাসংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর শাখা, সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের খালের চর, ইন্দেরহাট খালের মোহনা, মিয়ারহাট বাজারের খাল ও বয়াসহ নানা স্থানে গড়ে ওঠা ভাসমান বাজারটি এখন নেছারাবাদের সব থেকে বড় কাঠ ব্যাবসাকেন্দ্র। এ ব্যাবসার মাধ্যমে এখানে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজারের বেশি ব্যবসায়ী ও শ্রমিক এই বাজারকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

এটি দক্ষিণ অঞ্চলের তথা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাঠের বাজার। সর্ববৃহৎ কাঠের বাজার হওয়া সত্ত্বেও এখানে রয়েছে নানা প্রতিকূলতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, কাঠের চরের হাটে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যবসায়ীরা সহজ ও স্বল্প লভ্যাংশ ব্যাংকিং সুবিধা না পাওয়া, ব্যবসায়ী নামে দালালচক্রের উৎপাত, নদীপথে জলদস্যুদের আক্রমণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৃক্ষ বিনাশসহ নানা কারণে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ব্যাবসা ঐতিহ্য ক্রমে বিলীনের পথে।

জানা যায়, আনুমানিক ১৯১৭ সালের প্রথম দিকে পিরোজপুর এলাকার তৎকালীন বাকেরগঞ্জের আওতাধীন বর্তমান নেছারাবাদ উপজেলায় সুন্দরবনের সুন্দরী গাছকে কেন্দ্র করে কাঠ ব্যাবসার যাত্রা শুরু হয়। ১৯১৮ সালের শেষদিকে নেছারাবাদের সন্ধ্যা নদীর তীরঘেঁষে একাধিক শাখা খালে গাছ বেচাকেনার জন্য ভাসমান কাঠের হাট গড়ে ওঠে। সুন্দরী কাঠ ব্যবসায় সরকারের বাধা নিষেধের পর থেকেই নেছারাবাদে গড়ে ওঠে মেহগনি, চম্পল ও রেইনট্রিসহ নানা দেশীয় কাঠের বৃহত্তর কাঠ বাজার।

প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা উপজেলার কাঠ মোকামগুলোর কাছ থেকে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার কাঠ কিনেন। আর এসব মালামাল ট্রাক, লঞ্চ ও কার্গোসহ বিভিন্ন পরিবহনে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান স্ব স্ব ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পরিবহন সংকট ও পাইকারি ক্রেতার অভাবে সরবরাহ করা কাঠ নিয়ে প্রায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন নেছারাবাদের কাঠ ব্যবসায়ীরা। সময়মতো পরিবহন সংকটে গাছ বিক্রি বন্ধ থাকায় ঋণের বোঝা দিন দিন ভারী হয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

নানাবিদ প্রতিকূলতার মধ্যেও বরিশাল, খুলনা, চাঁদপুর, বাগেরহাট, মুলাদী, মুন্সীগঞ্জ, যশোর, ঝিনাইদহ, নোয়াখালী, ফরিদপুর, বাগেরহাট ও হবিগঞ্জসহ দেশের ৬৪টি জেলার প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ এখনো স্বরূপকাঠির এই ভাসমান কাঠের হাটে ব্যবসায় জড়িত থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঠের মোকাম গড়ে তুলছেন। নদীপথে দূর থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ীরা জলদস্যুদের ভয়ে ২৫-৩০টি নৌকার বহরে একই সঙ্গে স্বরূপকাঠির মোকামে আসে।

কাঠ বেচাকেনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা একই সঙ্গে চলাফেরা, খাওয়াদাওয়া আবার গল্প-গুজব করেন। যে যার মতো বেচাকেনা শেষে, আবার সারিবদ্ধ নৌকাগুলো নদীপথে চলে যায়। নেছারাবাদের কাঠ ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মৃধা বলেন, একটি গাছ চূড়ান্তভাবে ব্যবহারের আগে ৫-৬ বার বেচাকেনা হয়। দাঁড়ানো গাছ কাটা থেকে ব্যবহারের পর্যায় পর্যন্ত ৮ ধরনের শ্রমিক রয়েছে।

কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির কাছে এই কাঠ ব্যাবসার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, দেশের বড় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ব্যাবসা-বাণিজ্য করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যাবসা ছেড়ে জীবিকার অন্বেষণে অন্য কোনো কাজকর্মে চলে যেতে হবে। বর্তমানে কাঠের দাম অনুযায়ী ব্যবসা করা যাচ্ছে না। এদিকে উপজেলার কাঠ ব্যাবসার প্রচার ও প্রসার দেশজুড়ে পরিচিত লাভ করায় এ ব্যবসায় আকৃষ্ট হয়ে কাঠ ব্যবসার সঙ্গে জড়াচ্ছে শিক্ষিত বেকার যুবকরাও।

তারা বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এ ব্যবসায় শুরু করে পরিবার নিয়ে অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছিল। নানান প্রতিকূলতার কারণে কাঠ বাজারে ক্রেতা না থাকায় মহাশঙ্কায় পড়েছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যুবক ব্যবসায়ী জানান, ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেছি। ঋণের চাপে রাতে বাসায় থাকতে পারছি না।

ক্রমান্বয়ে ভারী হয়ে উঠেছে আমাদের ঋণের বোঝা। সরকার যদি স্বল্প সুদে আমাদের ঋণের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে ঋণের বোঝা কাটিয়ে ব্যাবসার পরিধি বাড়াতে পারতাম। দেড়শ বছরের পুরানো পিরোজপুরের নেছারাবাদ কাঠ বাজার। অবকাঠামো কিংবা আসবাবপত্র নির্মাণের জন্য এখানে বিক্রি হয় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাঠ। নদী পথে ট্রলারে সরবরাহ হয় দূর দূরান্তে।

এই বাজারে কর্মব্যস্ত সময় পার করেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। অন্য দিনের চেয়ে হাটবারে হয় বেশি বেচাকেনা, পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। কাঠ বাজারের আড়তদার মো. মাসুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সব অঞ্চলের ব্যবসায়ীরাই কাঠ কিনতে এখানে আসেন। এটি শত বছরের পুরোনো ব্যাবসা। কাঠের সহজলভ্যতাকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে গড়ে উঠেছে ক্রিকেট ব্যাট ও ফার্নিচারের জমজমাট ব্যবসা। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান।




ঝাঁঝে-ঘ্রানে অনন্য আটঘর-কুড়িয়ানার বোম্বাই মরিচ, রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা, ঝালকাঠি সদর ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বেশ কিছু অঞ্চলে বছরের পর বছর বোম্বাই মরিচের চাষ হয়ে আসছে। জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাওয়ায় বছরে শতকোটি টাকা আয় করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় চাষীরা জানান, একসময় এই মরিচ ঘরোয়া চাহিদা পূরণের জন্য বাড়ির বাগান কিংবা আঙিনায় লাগানো হতো। তখন কেউই ভাবতো না এর বৃহত্তর চাষের কথা।

কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে বরিশালের বানারীপাড়া, ঝালকাঠি সদর ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে বড় পরিসরে বোম্বাই মরিচের চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দিনে দিনে বোম্বাই মরিচের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাষির পাশাপাশি আবাদের পরিমাণও বাড়ছে। কৃষকরাও ভালো দর পাচ্ছেন বোম্বাই মরিচ বিক্রি করে।

বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব বোম্বাই মরিচ বিক্রির জন্য হাটে উঠানো হয়েছে। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ও চাষি মানিক মিস্ত্রী জানান, গত ৫ বছর ধরে তিনি বোম্বাই মরিচের আবাদ করছেন। বর্তমানে ১৫ কাঠার জমিতে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি ৯শ’র মতো বোম্বাই মরিচ গাছ রয়েছে। গেলো শীতের শেষ দিকে কুয়াশা ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে ফলন একটু কম হলেও খারাপ ছিলো না উৎপাদন। নেছারাবাদ উপজেলার চাষি রণজিৎ হালদার জানান, মূলত বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য মাস বোম্বাই মরিচের মৌসুম। তবে ভাদ্র মাস পর্যন্ত বাজারে এ মরিচের দেখা মেলে।

তিনি তার চাষের জমিতে পেঁপে, কাঁচাকলা, লেবু গাছ লাগিয়েছেন। যার মধ্যে মরিচের চাষও করছেন। বহুমুখি শস্যের চাষ করে বেশ ভালো অর্থ উপার্জন করছেন। বর্তমানে আটঘর-কুড়িয়ানার জিন্দাকাঠি কালীমন্দির মাঠে সোমবার ও শুক্রবারের হাটে আকার ভেদে ৩০ থেকে ৭০ টাকায় প্রতিশ’ বোম্বাই মরিচ বিক্রি হচ্ছে। যার মধ্যে ভালোমানের কামরাঙা নামের বোম্বাই মরিচ শ’ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঘৃতকুমারী (ঘেউতা) ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং গুড়া আকারের বোম্বাই মরিচ ভর্তি প্রতি বস্তা ২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে চেলা নামের একটি বোম্বাই মরিচ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় প্রতিশ’ বিক্রি হচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব বোম্বাই মরিচ বিক্রির জন্য হাটে উঠানো হয়েছে। হাট ইজারাদাররা জানান, ফাল্গুন থেকে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যন্ত বোম্বাই মরিচের আমদানি বেশি হয়। এসময় প্রতি হাটে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে কয়েক লাখ টাকার মরিচ বেচাকেনা হয়। আর জিন্দাকাঠি বাজারের পাশে খাল ও সড়কপথ দু’টিই রয়েছে। তাই এ হাটে চাষিরা নৌকায় যেমন আসেন তেমনি সড়কপথেও সহজে পণ্য নিয়ে আসেন। ঝালকাঠি সদরের ভীমরুলি এলাকার চাষী অনিল জানান, গত বছর কয়েক লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। এ বছরও ২/৩ লাখ টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন।

তবে বাজারে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে দর অনেক কমেছে। যদিও প্রতিবছরই আমদানি বাড়লে দাম কমে যায়। তিনি বলেন, প্রতি বছর বোম্বাই মরিচের চাষির সংখ্যা বাড়ছে। হালকা যত্ন নিলেও ভালো উৎপাদনের আশা করা যায় বলে এতে আগ্রহ বাড়ছে অন্য ফসল চাষিদের। বেশি ঝালসহ গুণগতমানের দিক থেকে ভালো হওয়ায় বিগত কয়েক বছর ধরে বরিশাল বিভাগের এ অঞ্চলের মরিচ জাপান পাঠানো হচ্ছে। যদিও সরাসরি নেছারাবাদ থেকে মরিচ জাপান যায় না।

তিনি বলেন, এখান থেকে বাছাইকৃত মরিচ নরসিংদীতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে জাপানে পাঠানো হয় মরিচ। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৩ বছর ধরে নেছারাবাদের স্থানীয় বেপারি আ. হক, মনির হোসেনসহ বেশ কয়েকজন মিলে এ অঞ্চলে উৎপাদিত বোম্বাই মরিচ জাপানে রপ্তানির জন্য পাঠান। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, পিরোজপুর জেলা থেকে সরাসরি রপ্তানি হয় না মরিচ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অন্যত্র থেকে এটি করতে পারেন।

তবে এ অঞ্চলে দিনে দিনে বোম্বাই মরিচের আবাদ বাড়ছে। চাষিরা কোন বছরই লোকসানের মুখে পরেছেন এমন তথ্য নেই। প্রতিবছরই এ অঞ্চলের মরিচের চাহিদা বাড়ছে।




পিরোজপুরে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা, গণপিটুনিতে নিহত ১

ডাকাতির সময় পিরোজপুরে গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। এ সময় আহত অবস্থায় আরেক ডাকাতকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। শনিবার (২২ নভেম্বর) রাতে সদর উপজেলার পশ্চিম দূর্গাপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য অনুকূল চন্দ্র রায় ওরফে দুলালের বাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় নিহতের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে আটককৃত সবুজ হাওলাদার (৫৫) এর বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে স্থানীয়দের ধাওয়ায় অন্য ডাকাত সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘর থেকে স্বর্ণের চেন, কানের বালা ও শাঁখাসহ অন্যান্য স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দুলালের ভাই অমলেশ চন্দ্র রায়।

পিরোজপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোল্লা রমিজ জাহান জুম্মা জানান, রাত আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাধা রমনের নেতৃত্বে থাকা পুলিশের একটি টহল টিম পশ্চিম দূর্গাপুর গ্রাম থেকে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করে।




বরিশালে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু, পালিয়ে গেলেন চিকিৎসক-নার্স

বরিশালের গৌরনদীতে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সাথি আক্তার পরী নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়েছেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাটাজোড় এলাকার মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘটনাটি ঘটেছে। পরী উজিরপুর উপজেলার ভরসাকাঠি গ্রামের ইমন আকনের স্ত্রী।

পরীর শ্বশুর নজরুল আকন জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে পুত্রবধূর প্রসববেদনা শুরু হলে মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। প্রথমে ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার নরমাল ডেলিভারির কথা বলে ৫ হাজার টাকার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। পরে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি (নজরুল) অন্যত্র সিজার করার কথা বললে বরিশাল থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এনে অপারেশন করানোর আশ্বাস দেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

নজরুল আকন বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিজারের মাধ্যমে ছেলে বাচ্চার জন্ম দেয় পরী। সিজারের পরপরই সিজারকারী চিকিৎসক ক্লিনিক ত্যাগ করে চলে যান। পরে আধা ঘণ্টা পর পরীকে বেডে দেওয়া হলে তার শরীর সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শাসকষ্টের বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা জানায়- ক্লিনিকে কোনো অক্সিজেন নেই, বাইরে থেকে আনতে হবে। পরে একজন স্টাফ অক্সিজেন আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। তিনি আরও বলেন, পরীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে আমরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করি।

এ সময় ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার এসে পরীক্ষা করে আমাদের কোনো কিছু না জানিয়ে ক্লিনিক থেকে থেকে বের হয়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ক্লিনিকের সব স্টাফরা পালিয়ে যায়। পরে পাশের একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসক এনে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারি পরী মারা গেছে। কোন চিকিৎসক সিজার করেছে জানতে চাইলে তিনি সিজারকারী চিকিৎসকের নাম জানাতে পারেননি।

তবে ক্লিনিকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রান্ত হালদার জানিয়েছেন, ডা. সমিরন হালদার নামের এক চিকিৎসক পরীর সিজার অপারেশন করেছে। এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি সিজারকারী ডা. সমিরন হালদারের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়েও তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহীন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরপরও ওই ক্লিনিকের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফলতি পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ভূমিকম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে জাতীয় গ্রিডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ভূ-কম্পনের তীব্রতা কিছু স্থানে এতটাই ছিল যে, তা সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলোর কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। ফলে হঠাৎ করেই গ্রিড ট্রিপ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর থেকেই পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য জরুরি মেরামত ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে দ্রুত অবস্থার মূল্যায়ন করছেন এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে দিন-রাত কাজ করছেন।

পিডিবির তথ্যমতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ঘোড়াশাল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের অভিঘাতে হঠাৎ গ্রিড ট্রিপ করায় পুরো কেন্দ্রের উৎপাদনে ধাক্কা লাগে। শুধু তাই নয়, বাঁশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট আগেই বন্ধ ছিল—এরপর ভূমিকম্পে গ্রিড অচল হয়ে যাওয়ায় অন্য ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও চাপের মুখে পড়ে।

এদিকে সিলেটের বিবিয়ানা এলাকায় ইউনাইটেডের একটি ইউনিটও ভূমিকম্প-উৎপন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ইউনিট স্বাভাবিকভাবে চালু করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উৎপাদন উৎসগুলো থেকে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, ভূমিকম্পের প্রভাব সাময়িক হলেও পুরো গ্রিড সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সমন্বিত প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বিশেষজ্ঞরা সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুতই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং যেসব এলাকায় লোডশেডিং দেখা গেছে সেগুলোও জরুরি ভিত্তিতে পুনঃসংযোগের আওতায় আনা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বললেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জনসভা শেষে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না—এ নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহলের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তেজনা এবং অস্থির পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভীতি কাজ করছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিনির্ভর অবস্থান এবং নতুন প্রস্তাবগুলো অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাঁর কথায়, কেউ নিম্নকক্ষের পিআর না হলে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলছে, কেউ গণভোটের দাবি তুলছে—আবার কেউ ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার কথাও বলছে। এসবই জনমানসে সন্দেহ তৈরি করছে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও কিছু ব্যক্তি সরকারে না থেকেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এসব সুবিধা হারানোর ভয় থেকেই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন বা নতুন শর্ত তোলার মতো ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—রাষ্ট্র কি সত্যিই আগামী নির্বাচন আয়োজনের দিকে যাচ্ছে, নাকি আরও জটিল পরিস্থিতি সামনে অপেক্ষা করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগী মানুষের পাশে কাজ করেছেন। দলে তাঁর অবস্থান ও রাজনীতি পুরোপুরি নেতাকর্মীদের মতামতের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “তাদের সিদ্ধান্তই হবে আমার সিদ্ধান্ত। নেতাকর্মীরা যেভাবে আমাকে দেখতে চান, আমার রাজনৈতিক পথচলা সেভাবেই নির্ধারিত হবে।”

তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে এ জনসভা আয়োজন করে পানিশ্বর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো। ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো. সামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুস্তাফা মেম্বার, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির মুন্সিসহ স্থানীয় নেতারা।

জনসভায় পানিশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা মিছিল করে অংশ নেন। উপস্থিত নেতারা দাবি করেন—জনগণ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের জন্য দলীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাসার সানশেড ভেঙে পড়ে বাবা-ছেলের মৃত্যু

ছুটির দিন সকালে তিন সন্তানের সঙ্গে বাসাতেই ছিলেন দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বল (৩৮)। হঠাৎ ভূমিকম্পে সব কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে সন্তানদের হাত ধরে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তার আগেই বাসার সানশেড ভেঙে তাদের মাথায় পড়ে। এতে প্রাণ হারান উজ্জ্বল ও তার ছোট ছেলে ওমর আলী (১০)। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি দুই মেয়ে।

শুক্রবার নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। উজ্জ্বলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া গ্রামে। তিনি নরসিংদীতে জুট করপোরেশনে চাকরি করেন। সেই সুবাদে গাবতলি এলাকায় ভাড়া বাসার নিচতলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। উজ্জ্বলের ছেলে ওমর স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়ত। মেয়ে উষা (১৭) ও তবুফা (১৪) নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উষা এবার এসএসসি পাস করেছে। তবুফা নবম শ্রেণিতে পড়ে। ঘটনার সময় উজ্জ্বলের স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। স্বামী ও ছেলেকে হারিয়ে তিনি পাগলপ্রায়।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় সন্তানদের নিয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন উজ্জ্বল। ঠিক এই সময় পাশের নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল থেকে ইট ধসে তাদের বসতবাড়ির ছাদের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বাসার সানশেড ভেঙে উজ্জ্বল, তার ছেলে ও দুই মেয়ে আহত হয়। স্থানীয়রা প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুপুরে সেখানে নেওয়ার পর ওমরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। উজ্জ্বলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান।

উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই জাকির হোসেন ও প্রতিবেশী তারিকুল ইসলাম শাহীন বলেন, উজ্জ্বল প্রায় ১০ বছর ধরে নরসিংদীতে চাকরি করছিলেন। স্ত্রী-সন্তান থাকত গ্রামের বাড়িতে। বছর চারেক আগে তাদের নরসিংদীতে নিয়ে আসেন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভালোই ছিলেন উজ্জ্বল। শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন। এ সময় বাসার সানশেড ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। বাবা-ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। উজ্জ্বলের দুই মেয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তারা আরও বলেন, দুই মেয়েকে বাবা ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তাদের মা কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছেন। তাকে সারাজীবন এই ভয়াবহ শোকের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, বাবা-ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। উজ্জ্বলের দুই মেয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি।

এদিকে ভূমিকম্পের কারণে নরসিংদীতে আরও তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে মারা গেছেন পলাশ উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫)। ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন শিবপুর উপজেলার আজকীতলা পূর্বপাড়া গ্রামের শরাফত আলীর ছেলে ফোরকান মিয়া (৪৫)। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৫ বছরের নাসির উদ্দিন। তিনি কাজীরচর নয়াপাড়া গ্রামের প্রয়াত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।