ক্ষমতায় গেলে দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের

দেশের নাগরিকসেবা উন্নয়নে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জনগণকে আর কোথাও দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না— সরকার নিজ দায়িত্বে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ‘প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন সরকার নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। কিন্তু জামায়াত শুধু আশ্বাস নয়— বাস্তব কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে চায়। একই ভাষা, একই জাতি হিসেবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো, কিন্তু কিছু রাজনীতিবিদের স্বার্থান্ধ আচরণ ও ভুল সিদ্ধান্তে রাষ্ট্র অগ্রসর হতে পারছে না। তাই মূল সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা আর দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থাকলে দেশের সম্ভাবনা আরও অনেক বড়।

শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মানসম্মত নয়, যা ভবিষ্যত প্রজন্মকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সন্তান কোন বিষয়ে পড়বে, শিক্ষক তার দিকনির্দেশনা দেবেন— এমন শিক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য তাদের। তিনি বলেন, “আমাদের টার্গেট— প্রত্যেক শিশুকে সক্ষম নাগরিকে পরিণত করা। আগামী প্রজন্ম বোঝা নয়, দেশের সম্পদ হবে।”

আইন ও বিচার ব্যবস্থার বেহাল চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন ন্যায়বিচার পেতে সাধারণ মানুষকে অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় গেলে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার করা হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারে যাওয়া না গেলেও জনগণের সেবায় কিছু কাজ আগে থেকেই করছে জামায়াত। তাদের পক্ষ থেকে দেশের ১০০টি ক্লিনিকে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রান্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খুলনায় আদালত ফটকে দুজনকে গুলি করে হত্যা

খুলনা আদালত এলাকায় দিনের আলোতেই সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ দু’টি হত্যাকাণ্ড। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আদালতের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।

পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত দুইজনই সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন। তাঁদের পরিচয় পাওয়া গেছে— ফজলে রাব্বি রাজন এবং হাসিব। তারা সেদিন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলি করার পর হামলাকারীরা দ্রুত তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যজনকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের সামনেও শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খুলনা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি যে নিছক হামলা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা পরিষ্কার। হামলাকারীদের ধরতে এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে। আদালত চত্বরে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পরপরই আদালত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পুরো এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, পুরোনো দ্বন্দ্ব কিংবা মামলাজনিত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। আদালত ফটকের মতো নিরাপদ মেনে নেওয়া স্থানেই এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকেই দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও সংকট কাটেনি

পাঁচ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যেও শনিবার সকালে সামান্য স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। ধারাবাহিক ডায়ালাইসিসের চাপে শরীর কিছুটা সাড়া দিতে শুরু করায় চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। এরপরও তাঁর সামগ্রিক অবস্থা এখনো ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়ে গেছে এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শয্যার পাশে থাকা পুত্রবধূ শামিলা রহমানের সঙ্গে শনিবার সকালে তিনি কয়েকটি কথা বলেন। আগের তিন দিন তিনি প্রায় কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না। চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ কারণে তাঁর ফুসফুসও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার থেকে টানা ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়, যা প্রতিদিনই চলছে।

অতিরিক্ত পানি বের না হওয়ায় গত কয়েক দিনে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দেশে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতাল এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত আছে।

মেডিকেল বোর্ড নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে— খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে লন্ডন ক্লিনিক অথবা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের অভিমত, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো বিমানযাত্রার চাপ নেওয়ার মতো স্থিতিশীল নয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি— ভিসা, নথিপত্র, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স— সবই আগেই সম্পন্ন রাখা হয়েছে। কিন্তু শারীরিক ঝুঁকি বিবেচনায় এখনই তাঁকে দেশে নাড়ানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবের পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, “গণতন্ত্র উত্তরণের এই পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিকে, প্রতিদিনই হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন বিএনপি নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা। কেউ কেউ গণমোনাজাত করছেন, কেউবা সার্বক্ষণিক অবস্থান নিয়েছেন। এতে হাসপাতালের আশপাশে যানচলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব অনুরোধ করে বলেন,
“দয়া করে হাসপাতালের সামনে ভিড় তৈরি করবেন না। এতে চিকিৎসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

শনিবার সকালেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেন। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারাও তাঁর সুস্থতা কামনা করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে জমজমাট উৎসবের আমেজ

পটুয়াখালীর বাউফলে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই শহিদ স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই বাউফল ঐতিহাসিক পাবলিক মাঠে স্থানীয় মানুষ, ক্রীড়াপ্রেমী ও আগত অতিথিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় রূপ নেয়। মাঠের চারপাশে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস, করতালি আর প্রাণচাঞ্চল্যে দিনভর বিরাজ করেছে আনন্দঘন পরিবেশ।

এ আয়োজনটি করেছে বাউফল উন্নয়ন ফোরামজামায়াতে ইসলামী, যারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার চেতনা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি এবং বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সুস্থ সমাজ গঠনে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। তরুণরা খেলাধুলার মাধ্যমে যেমন শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়, তেমনি তাদের মানসিক দৃঢ়তাও বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন দেশের দুই তারকা ক্রীড়াবিদ—বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলট, এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক কাউসার হামিদ। আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ, যিনি তরুণদের মাঝে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বজায় রাখতে স্থানীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাউফল পৌরসভা ফুটবল দলবাউফল ইউনিয়ন ফুটবল দল। মাত্র ৩০ মিনিটের নির্ধারিত সময়ে দুই দলের খেলোয়াড়রা গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও কেউই জালের দেখা পায়নি। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলে সিদ্ধান্ত যায় উত্তেজনাপূর্ণ টাইব্রেকারে। রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের সেই পেনাল্টি শুটআউটে শেষ পর্যন্ত বাউফল ইউনিয়ন ফুটবল দল জয় ছিনিয়ে নেয়। মাঠজুড়ে তখন ঢেউ তোলে দর্শকদের উল্লাস—যা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

খেলা শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি ও স্মারক মেডেল তুলে দেন। খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে অতিথিদের সঙ্গে একাধিকবার দর্শকরাও করতালি দিয়ে উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সন্ধ্যায় শুরু হয় জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় প্রতিভাবান শিল্পীদের গান, নাচ ও মনোজ্ঞ পরিবেশনায় পুরো মাঠ মুখর হয়ে ওঠে। শিল্পীদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাউফলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় শিল্পী সমাজের বিকাশমান প্রতিভা। দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল প্রমাণ—বাউফলবাসী এমন আয়োজনকে কতটা উপভোগ করে থাকে।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, বহুদিন পর বাউফলে এমন বড় পরিসরের আয়োজন দেখে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তাদের আশা—এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হলে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হবে এবং বাউফলের ক্রীড়া অঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন: তারেক রহমানের আবেগঘন বার্তা

১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দল জানিয়েছে। তবে চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার ফলে পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।

বেগম জিয়ার এ নাজুক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি মায়ের সংকটজনক স্বাস্থ্য অবস্থার কথা উল্লেখ করে জানান, পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরা গভীর উদ্বিগ্ন অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্ত পার করছেন। তিনি বলেন—দেশনেত্রীর চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে আন্তরিকতা ও মানবিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা পুরো পরিবারকে আশ্বস্ত করেছে।

তারেক রহমান আরও লিখেন, ড. ইউনূস যে সৌজন্যবোধ, সহমর্মিতা এবং রাজনৈতিক ঊর্ধ্বে মানবিক মূল্যবোধ প্রদর্শন করছেন—তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংকটের এই সময়ে তাঁর মানবিক অবস্থান সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

এর আগে শুক্রবার এক বিবৃতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশবাসীর প্রতি তাঁর আশু সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে সরকার অত্যন্ত মনোযোগী। নিয়মিত স্বাস্থ্য আপডেট তিনি নিজেই যাচাই করছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা, ত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাঁর অবদান স্মরণ করে ড. ইউনূস আরও মন্তব্য করেন—জাতির জন্য তিনি অনুপ্রেরণা, আর তাঁর সুস্থতা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে দোয়া ও শুভকামনার ঢল।

এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। তাঁর জটিল রোগসমূহের সমন্বিত চিকিৎসা চলছে এবং বিশেষজ্ঞ দল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। দলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি এক ধরনের অশনি সংকেত তৈরি করেছে। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে রেখে দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতার এ ধরনের সংকট রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। তবে তাঁর সুস্থতা কামনায় দল, পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে গভীর প্রত্যাশা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কুয়াকাটায় অবৈধ হাঙর শিকারের অদৃশ্য অর্থনীতি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লেম্বুর চরে অবৈধ হাঙর শিকার ও শুঁটকি তৈরির চিত্র নজরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, ভোরের আলো ফোটার আগেই ছোট ট্রলারে ধরা হাঙরগুলো লেম্বুরচরের বাঁশের মাচায় শুকানো হয়। নিষিদ্ধ হাঙরগুলোকে ‘গোছা’ নামে পরিচিত করে চট্টগ্রামে পাইকারদের কাছে পাঠানো হয়।

জেলেরা শিকারকৃত হাঙর ধরার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেন না। একজন জেলে বলেন, “সাগর যা দেয়, তাই তো আনতে হয়। না আনলে পরিবার চলবে কেমনে।” ধরা হাঙরের পাখনা, পেট ইত্যাদি ছুরি দিয়ে আলাদা করে মাচায় রাখা হয়, শুঁটকি প্রস্তুতির জন্য।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, লেম্বুরচরের বিভিন্ন মাচায় দিনে হাজারের বেশি হাঙর শুকানো হয়। চারজন শ্রমিক পলিথিনে ভরে পাইকারদের কাছে পাঠান। এছাড়া ‘কালো হাঙর’ নামের হাঙরও রাখা হয় চট্টগ্রামে বিক্রির জন্য।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী হাঙর ধরা নিষিদ্ধ। ২০১২ সালে ১৮ প্রজাতি, পরে ২০২১ সালে আরও ১০ প্রজাতি এই তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে উচ্চ চাহিদার কারণে অবৈধ বাণিজ্য চলমান। বড় বাজার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল, পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, কিছু হাঙর প্রজাতি বছরে ৭-১৫টি বাচ্চা দেয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হতে ৩-৪ বছর লাগে। অতিরিক্ত শিকারে প্রজাতি টিকে থাকা কঠিন। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন অনুযায়ী, বাংলাদেশের উপকূলে হাঙরের সংখ্যা দ্রুত কমছে।

বরিশাল বিভাগীয় বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা মিহির কুমার দো জানান, জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক চাহিদা থাকায় শিকার ঠেকানো কঠিন। বনবিভাগ, কোস্টগার্ড, কাস্টমস ও মৎস্য বিভাগ মিলিয়ে ‘ইন্টিগ্রেটেড মেরিন ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম টাস্কফোর্স’ গঠন এবং বিকল্প জীবিকা—যেমন কাঁকড়া চাষ ও ইকো ট্যুরিজম—প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানিয়েছেন, তিনি নিজে লেম্বুরচরে গিয়ে হাঙর শিকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পিরোজপুরের শতবর্ষী বৈঠাকাটা ভাসমান হাট

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটার ভাসমান হাট শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। ভোরের আলো ফুটার আগেই বেলুয়া নদীর মোহনায় শত শত নৌকা জমে ওঠে, যেখানে সবজি, চারা, নাস্তা ও নিত্যপণ্য বেচাকেনা হয়। এই ভাসমান হাট শুধু কৃষিপণ্যের পাইকারি কেন্দ্র নয়, বরং নদীবর্তী মানুষের জীবিকা ও পর্যটনের মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি নৌকায় তুলে হাটে নিয়ে আসে। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নৌকায় বেচাকেনা চলে। দূর থেকে হাটের দৃশ্য মনে করায় থাইল্যান্ডের ভাসমান বাজারের। নাজিরপুরের আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা ও ট্রলারে কৃষিপণ্য এখানে আসে।

ভাসমান হাটকে কেন্দ্র করে এখানকার অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। গোপালগঞ্জ, বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠি ও ইন্দেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা হাটে আসেন। ভাসমান হাটে সকালের নাস্তা, চা-বিস্কিট এবং ভাসমান ভাতের হোটেলের সুবিধাও আছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে বিদেশি পর্যটকও আসে। তবে পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধার অভাবে তাদের নানা সমস্যা হয়। প্রশাসন পর্যটক বিষয়ক ব্যবস্থা গড়ে তুললে হাটটি আরও পরিচিতি পেতে পারে।

সবজি বিক্রেতা রুস্তম আলী বলেন, “এই বাজার ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো। শশা, জিঙ্গা, পটল, মিষ্টি কুমড়া সহ সব ধরনের সবজি এখানে পাইকারি বিক্রি হয়। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে।”

কাঁচামাল ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বলেন, “মৌসুমের পণ্যগুলো নৌকায় বিক্রি হয়। ছোটকাল থেকেই আমরা এখানে ব্যবসা করি। সড়ক পথে যাতায়াত কম, তাই সবই নৌকাতে।”
নারিকেল ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান জানান, “এখান থেকে নারিকেল কিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। আশেপাশের গ্রামের ব্যবসায়ীরাও নৌকায় পণ্য নিয়ে আসে।”
সবজি ব্যবসায়ী কায়সার আহমেদ বলেন, “৩০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। যদি সড়ক পথ ভালো থাকতো, আরও বেশি লাভ হতো।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, “ভাসমান হাটে জেলার বাইরে থেকে পাইকাররাও কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে নিয়ে যায়। পর্যটকরা ঘুরতে আসে, তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত নয়। নৌকা ও ট্রলারে ক্রয়-বিক্রয় চলে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশাল-৬ আসন: বিএনপি মরিয়া, ইসলামি দল ও জাতীয় পার্টি আশাবাদী

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজত্ব থাকলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

বিএনপি এ আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া। দলীয় নেতৃত্বের প্রাথমিক অনুমোদন অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, “বর্তমান সময়ে আমাদের দল মাঠে সক্রিয়, তাই শুধুমাত্র বরিশাল-৬ নয়, দেশের সব আসন থেকেই জয়লাভ হবে। আমি মানুষের সেবা করার সুযোগ আবারও পাবো ইনশাআল্লাহ।”

অপরদিকে, ইসলামি দলগুলোও থেমে নেই। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, “এবার ফ্রি ও ফেয়ার নির্বাচন হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন হবে, জয় আমাদের হবে ইনশাআল্লাহ।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ মিজানুর রহমানও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় পার্টি থেকে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও নাসরিন জাহান রত্না আমিন দম্পতির কেউ প্রার্থী হতে পারেন, যদি কোনো বাধা না থাকে।

এ আসনের তরুণ ভোটাররা নির্বাচনে উৎসাহিত। হাবিবুর রহমান বলেন, “ভোটারদের মন জয় করতে হবে। যিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, তাকেই বেছে নেবে জনগণ।” প্রিন্স হাওলাদার বলেন, “গত ১৫ বছরে অনেক ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এবার ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ হবে।”

বাকেরগঞ্জ আসনের নির্বাচনী ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১২টি নির্বাচনে বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি চারবার এবং আওয়ামী লীগ তিনবার বিজয়ী হয়েছে। বর্তমানে এই আসনের ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৯৫ হাজার ৫০৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৯ হাজার ৬০০, নারী ভোটার এক লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার তিনজন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঝালকাঠি সুগন্ধা নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ৬৮০ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি

ঝালকাঠিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুগন্ধা নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একনেকের অনুমোদিত ৬৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি ১৩ দশমিক ২১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্পে ব্যবহৃত বালুর মান কম, ব্লক তৈরিতে কম সিমেন্ট এবং কম ওজনের জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের কারণে ইতিমধ্যে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা একজন এসওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমভিবি ও এমটি আই (জয়েন্ট ভেঞ্চার) নির্ধারিত মানের ১ দশমিক ৫০ এফএম বালুর বদলে ১ দশমিক ৩৭ এওএম বালু ব্যবহার করেছে, যা টাক্সফোর্স বাতিল করেছে।

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় মোট ৩৪টি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র ১৭টির কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালু না থাকায় নদীর গভীর অংশে কার্যকর প্রতিরক্ষা গড়ে ওঠে না। চর ভাটারাকান্দার বাসিন্দা জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, “জিও ব্যাগে বালুর পরিমাণ কম থাকায় পূর্বেও ৪০০ বস্তা বালু বাতিল করা হয়েছে।”

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, “লোকবল সংকটের কারণে সব এলাকায় সময়মতো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

প্রকল্পের পিডি (প্রোজেক্ট ডিরেক্টর) পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, “এই বিষয়ে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেব। বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।”

প্রকল্পে ব্যবহৃত কম মানের সামগ্রী ও ধীরগতির বাস্তবায়নের কারণে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে পানচাষে চাষীদের উদ্বেগ, দরপতনে ক্ষতির শঙ্কা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পানচাষে চাষীরা দরপতনের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন। উপজেলার বাকাল, বাশাইল, গৈলা ও রাজিহার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য পান বরজ চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বর্তমানে বাজারে হঠাৎ দরপতনের ফলে চাষীরা দিশেহারা।

গৈলা ইউনিয়নের পানচাষী আকবর মৃধা বলেন, “বরজ তৈরির বাঁশ, দড়ি, শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশকসহ সব খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। অথচ প্রতি পোন পানের দাম এখন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কয়েক মাস আগে একই পরিমাণ পানের দাম ছিল ১২০-১৫০ টাকা। এতে আমরা শুধু ক্ষতির মধ্যে পড়ছি।”

অন্য চাষীরা জানান, বরজে সারা বছর বিনিয়োগ করতে হয়। এই দর থাকলে ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, জীবনধারণও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বরিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায় বলেন, “চাষীদের প্রাপ্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত নজরে রাখা হচ্ছে।”

বরিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, “চাষীদের সহায়তা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।”

চাষীরা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল করা হলে তারা ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পারবেন এবং বরিশালের পানচাষ পুনরায় লাভজনক হয়ে উঠবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫