খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রায় নতুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি ঘিরে নতুন করে 움직ে উঠেছে বিমানবন্দর ও কূটনৈতিক মহল। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকা খালেদা জিয়ার অবস্থার অবনতি এবং মেডিকেল বোর্ডের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর তাঁর বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক এবং দলের নেতারা উচ্চমাত্রার সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কাতার সরকারের ব্যবস্থাপনায় জার্মানি থেকে একটি নতুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু অনুকূলে থাকলে ওই দিন সন্ধ্যা বা রাতে লন্ডনের উদ্দেশে উড়াল দেবে বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সটি।

ঢাকায় কাতার দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আসাদ নিশ্চিত করেছেন যে, কাতারের ব্যবস্থাপনায় একটি অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্স জার্মানি থেকে ঢাকায় আসছে। এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্সে শয্যাসহ নিবিড় পরিচর্যার সুবিধা, বিশেষ ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় লাইফ সাপোর্ট সরঞ্জাম থাকে, যা গুরুতর অসুস্থ যাত্রীদের দূরপাল্লার যাত্রা নিরাপদ করতে সাহায্য করে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, জার্মানির প্রাইভেট এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কোম্পানি এফএআই রেন্ট-এ-জেট জিএমবিএইচ-এর চ্যালেঞ্জার ৬০০ সিরিজের সিএল৬০ জেট দিয়ে খালেদা জিয়াকে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। বিমানটি ঢাকায় নামার পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করে দ্রুত লন্ডনের পথে যাত্রা শুরু করার প্রস্তুতিও চলবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ফ্লাইটটি ঢাকায় থেকে জর্জিয়ার তিবলিসি হয়ে সরাসরি লন্ডনে যাবে।

এর আগে কাতার রাজপরিবারের ব্যবহৃত আরেকটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে তা বাতিল হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আমিরের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাতার সরকার দ্রুত বিকল্প এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। তাঁর দাবি, যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি এখন আসছে, এটি কাতারের ব্যবস্থাপনায় হলেও এর নির্মাতা জার্মান কোম্পানি। মূল বিষয় হলো—দ্রুত সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

দলের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় যাত্রার বিষয়টি মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ম্যাডামের শরীর ভ্রমণের উপযুক্ত হলে এবং বিশেষজ্ঞরা অনুমোদন দিলে সম্ভবত ৭ ডিসেম্বর (রোববার) তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে। যাত্রার প্রতিটি ধাপেই চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর ফুসফুসে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড় পরিচর্যার অধীনে রাখা হয়। গত রোববার সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতি ও ঝুঁকি বিবেচনায় মেডিকেল বোর্ড কয়েক দফা বৈঠক করে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুপারিশ করে। পরিবারের সদস্যরা ও দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।

দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, বারবার সংক্রমণ এবং গুরুতর জটিলতার কারণে নিয়মিত হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। গত কয়েক বছর ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ায় বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আগমন, চিকিৎসকের অনুমোদন, আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ব্যবস্থা—সবকিছু মিলিয়ে খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রাকে ঘিরে এখন নানা প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। সমস্ত প্রক্রিয়া সফল হলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই বহুল আলোচিত যাত্রা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচন তারিখ নিয়ে গুজব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘিরে দেশজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও এসব তথ্যকে ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট দিন বা ভোটের সময়সূচি সম্পর্কে বিভিন্ন মহলে প্রকাশিত তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলেই গণ্য করতে হবে।

তিনি বলেন, কেউ যদি নিজের মতো করে তারিখ ছড়িয়ে দেয়, তা নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত নয়। এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত ধারণা, অনুমান বা দায়বদ্ধতা থেকে বলা হতে পারে; তাই সেগুলোকে সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে মনে করার সুযোগ নেই। সচিব আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংবাদ মাধ্যমকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং যাচাইবাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। আবার কোনো কোনো বিশ্লেষক ফেব্রুয়ারিতে ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে মত দিয়েছেন। এসব নিয়ে আলোচনা তীব্র হলেও নির্বাচন কমিশন জানায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো তথ্যকে গ্রহণযোগ্য ধরা যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করেন, গুজব ও ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা নির্বাচনি পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। এজন্য কমিশনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং সরকারি ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো তথ্য বিশ্বাস না করতে অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

নাগরিকদের কাছে নির্বাচন কমিশনের বার্তা—তফসিল বা ভোটের তারিখ সম্পর্কে যে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই জানা যাবে। এর বাইরে ছড়ানো যেকোনো তথ্যকে গুজব বা অনুমান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জয়–পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

চব্বিশের জুলাই–আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান চলাকালীন ইন্টারনেট বন্ধ রাখাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক অগ্রগতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সকালে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযোগ আমলে নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর গাজী এম. এইচ. তামিম। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করা, বৈশ্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সংকটে ফেলে দেওয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য–প্রমাণ উপস্থাপন করে তিনি ফরমাল চার্জ গ্রহণের আবেদন জানান।

প্রসিকিউশন জানায়, চব্বিশের জুলাই–আগস্টে তীব্র আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউন শুধু তথ্যপ্রবাহ থামিয়েই দেয়নি, বরং সেই সময় সংঘটিত সহিংসতা, নিখোঁজ, আহত এবং হতাহতের ঘটনা বিশ্ববাসীর কাছে গোপন রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধকে উসকে দিয়েছে। তাদের দাবি—এই সিদ্ধান্তে নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সরাসরি দায়ী, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

আদালত প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত নথি, সাক্ষ্য এবং প্রাথমিক প্রমাণাদি মূল্যায়ন শেষে অভিযোগ আমলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। এ সময় বিচারপতির বেঞ্চ উল্লেখ করেন, প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণের জন্য শুনানি অপরিহার্য।

অন্যদিকে, আইনি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, এ মামলা দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি নজিরবহুল প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে পরিণত হয়—এ মামলার মাধ্যমে তারও স্পষ্টতা তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিদেশে অবস্থানের কারণে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি ইন্টারন্যাশনাল লিগ্যাল সাপোর্ট সিস্টেমে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

মামলার পরবর্তী শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের বিস্তারিত যুক্তি শুনবেন। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এ মামলা দেশি–বিদেশি পর্যবেক্ষকদের চোখে অন্যতম আলোচিত আইনি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লন্ডনযাত্রায় খালেদা জিয়ার সূচি পিছিয়ে গেল

এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রার প্রস্তুতিতে নতুন করে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাতারের আমিরের পক্ষ থেকে পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া কারিগরি জটিলতার কারণে উড়োজাহাজটির যাত্রা বিলম্বিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ অবস্থায় লন্ডনে নেওয়ার পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

বিএনপি সূত্র জানায়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি দোহা ছাড়ার আগে শেষ পর্যায়ের প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাইয়ের সময় ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে উড্ডয়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানায় সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিম। উড়োজাহাজের বিলম্বের বিষয়টি রাতে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, কাতার থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এর আগে এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ফ্লাইট পরিকল্পনা ও মুভমেন্ট ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করা হয়েছিল।

এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী এবং পেশায় চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান বৃহস্পতিবার লন্ডন সময় সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ বিমানের নির্ধারিত ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার পর উড়াল দেওয়া এ ফ্লাইটটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ঢাকায় পৌঁছানোর পর ডা. জুবাইদা রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য নেবেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনায় অংশ নেবেন। এরপর কাতারের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ হলে তিনি সরাসরি উড়োজাহাজে উঠবেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া মিলিয়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হতে শুক্রবার সকাল ১০টার পর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, জুবাইদা রহমান ঢাকায় পৌঁছানোর পরই খালেদা জিয়াকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তোলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হবে। এর মধ্যে মেডিকেল বোর্ডের সর্বশেষ রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রেডিনেস, রোগী পরিবহনের বিশেষায়িত যন্ত্রপাতির স্থাপন ও সমন্বয়সহ বিভিন্ন ধাপ পার করতে হবে। প্রতিটি ধাপে সময় বাড়ায় রওনা দেওয়ার সম্ভাব্য সময়ও পিছিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে দুপুরে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে দ্রুত লন্ডনে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়সূচি অনুযায়ী আজ মধ্যরাতের পর কিংবা আগামীকাল সকালে তাকে লন্ডনে নেওয়া হবে। বিদেশি বিশেষজ্ঞসহ দেশের কয়েকজন চিকিৎসকও তার সঙ্গে যাবেন বলে জানান তিনি।

বিএনপি নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, চিকিৎসকদের পরামর্শ ও উড্ডয়ন সক্ষমতা নিশ্চিত হওয়ার পরই চূড়ান্ত সময় ঘোষণা করা হবে। তবে প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এবং নির্ভুল সমন্বয় প্রয়োজন হওয়ায় সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। বর্তমানে খালেদা জিয়া সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তেই তার শারীরিক অবস্থার উন্নয়ন বা পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেয়ারবাজারে ফের দরপতন, লেনদেনে সীমিত উত্থান

এক কার্যদিবসের স্বল্প উর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর দেশের শেয়ারবাজারে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ফের দরপতন দেখা দিয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যাওয়ায় সবকটি সূচকই পতনের মুখে। তবে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও সূচক কিছুটা বেড়েছে। লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

দিনের লেনদেনের চিত্র

সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে ডিএসইতে বড় ধরনের দরপতন হয়েছিল। তবে তৃতীয় কার্যদিবসে সূচক কিছুটা বেড়ে গেলে দিনের শুরুতে লেনদেন কিছুটা ইতিবাচক মনে হচ্ছিল। দিনের শেষ পর্যন্ত ভালো ও মন্দ সব খাতের শেয়ারের দরপতনের কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম কমে যায়।

দিনশেষে ডিএসইতে ৯৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে ২৩৬টির দাম কমেছে, আর ৬৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

লভ্যাংশভিত্তিক শেয়ারের চিত্র

  • উচ্চ লভ্যাংশ (১০% বা তার বেশি): ৪১টির দাম বেড়েছে, ১৪০টির দাম কমেছে, ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত।
  • মাঝারি লভ্যাংশ (১০% এর কম): ২৩টির দাম বেড়েছে, ৫১টির দাম কমেছে, ৬টির দাম অপরিবর্তিত।
  • জেড গ্রুপ (লভ্যাংশ নেই): ৩১টির দাম বেড়েছে, ৪৫টির দাম কমেছে, ২০টির দাম অপরিবর্তিত।
  • মিউচুয়াল ফান্ড (৩৫টি): ৮টির দাম বেড়েছে, ১০টির কমেছে, ১৭টির অপরিবর্তিত।

সূচকের চূড়ান্ত অবস্থা

  • ডিএসইএক্স সূচক: ২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৯২৭।
  • ডিএসই শরিয়াহ সূচক: ৪ পয়েন্ট কমে ১,০৩৪।
  • ডিএসই–৩০ সূচক: ৭ পয়েন্ট কমে ১,৮৯৮।

লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি

ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪০৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা, আগের দিনের ৩৭৯ কোটি ৭ লাখ টাকার তুলনায় ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বৃদ্ধি হয়েছে।

শীর্ষ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান

  • সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ: ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা
  • খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ: ১৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা
  • লাভেলো আইসক্রিম: ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা

শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ওরিয়ন ইনফিউশন, মুন্নু ফেব্রিক্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, একমি পেস্টিসাইজ ও সায়হাম কটন।

সিএসই চিত্র

সিএসইতে লেনদেন করা ১৮১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৩টির দাম বেড়েছে, ৭৯টির দাম কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক CASPI ১০ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেনের পরিমাণ হয়েছে ১৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমানের ট্রাভেল পাস নিয়ে নতুন আলোচনায় তোলপাড়

লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে নতুন করে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখনও ট্রাভেল পাসের জন্য কোনো আবেদন করেননি। অথচ প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিলেই সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাভেল পাস ইস্যু করা সম্ভব। হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন—আবেদন এলে শুধু স্বাক্ষর ও সিলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেই পাস প্রদান করা যাবে।

হাইকমিশন সূত্রের দাবি, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ দুজন বিএনপি নেতা ইতোমধ্যে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছেন—ট্রাভেল পাস পেতে কত সময় লাগবে। তাদের জানানো হয়েছে, নির্ধারিত ফরমে আবেদন, একটি ছবি, পুরাতন পাসপোর্টের কপি অথবা জাতীয়তার প্রমাণপত্র পাঠালেই প্রসেস সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে তাকে ব্যক্তিগতভাবে হাইকমিশনে যেতে হবে না। ই-মেইল বা ডাকযোগে আবেদন পাঠালেই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাভেল পাস ইস্যু করা সাধারণ কোনো বিষয় নয়; বরং এটি নিশ্চিত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে দ্রুত দেওয়া যায়। তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ না থাকায় তার ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, “এটা শুধু স্বাক্ষর আর সিলের কাজ—চাইলেই একদিনে দেওয়া যায়।”

এদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিস্থিতিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তার চিকিৎসায় সহায়তা করতে লন্ডন থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাংলাদেশে আসছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির একটি সূত্র। দুপুরে হাসপাতালের সামনে ব্রিফিংয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান—আজই যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞরা খালেদা জিয়াকে দেখতে আসবেন। তাকে বিদেশে নেওয়া হবে কিনা, তা মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে। রোগী ‘ট্রান্সফারেবল’ হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চিকিৎসা সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারত ইতোমধ্যে সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. জাহিদ। যদিও এখনই তাকে বিদেশে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। খালেদা জিয়া বর্তমানে ‘স্পেশাল কেয়ার’-এ নিবিড় চিকিৎসা পাচ্ছেন।

২০০৮ সালে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি সেখানে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন—সরকার চাইলে ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্ট ইস্যু করতে কোনো জটিলতা নেই, সবই সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন—তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে এক দিনের মধ্যেই ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, সংকটকালে মায়ের কাছে যেতে চাইলেও তার সিদ্ধান্ত এককভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা আরও জোরালো হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে ফেরা—এই দুটি বিষয় এখন দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্থগিত কর্মবিরতি—আজ থেকেই স্বাভাবিক পরীক্ষায় ফিরছে স্কুলগুলো

দেশের সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাখাতে চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) চলমান কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আজ থেকে সারাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত সূচি অনুযায়ী বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতের প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা, একাডেমিক ধারাবাহিকতা পুনরুদ্ধার এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে অবকাশ সৃষ্টি করাই তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই বুধবার থেকেই সারা দেশের সব বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মরত শিক্ষক, প্রশাসন ও দায়িত্বশীল সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।

সমিতির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, যেসব দাবি–দাওয়ার ভিত্তিতে কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই চার দফা দাবি যথাযথভাবে এবং দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। তারা আশা প্রকাশ করে জানায়—সরকার যথোপযুক্ত উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষাকর্মসূচি ব্যাহত হবে না। সংগঠনের পরবর্তী নির্দেশনা আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই জানানো হবে।

উল্লেখ্য, ১ ডিসেম্বর থেকে এন্ট্রি পদের বেতন ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা সহ চার দফা দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যান সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা বার্ষিক পরীক্ষা, এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা এবং খাতা মূল্যায়ন থেকেও বিরত ছিলেন। তাদের এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। কর্মবিরতি স্থগিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এভারকেয়ারে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিলেন জামায়াত আমির

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে মঙ্গলবার দুপুরে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তবে সরাসরি সাক্ষাৎ করা নিয়ে দ্বিধায় থাকলেও—অবশেষে মনকে আর আটকে রাখতে না পেরে হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান জানান, খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তিনি বলেন, এর আগে নানা সময়ে তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেক জটিল। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তিনি জানান, একজন মানুষ মৃত্যুর দুয়ার পর্যন্ত গিয়েও ফিরে আসতে পারে—আবার সুস্থ থাকলেও আল্লাহ চাইলে নিয়ে যেতে পারেন। তাই সংকটময় অবস্থার মধ্যেও তিনি বেগম জিয়ার সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জামায়াত আমির বলেন, বেগম জিয়ার পরিবার কঠিন সময় পার করছেন। তাদের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। দেশে রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও মানবিক কারণে তিনি এভারকেয়ারে ছুটে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দিনের শুরুতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, মেডিকেল বোর্ডের সর্বশেষ পরামর্শ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া এখনই সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, তিনি তা নিতে সক্ষম হলেও বিদেশ যাত্রার মতো শারীরিক অবস্থায় আছেন কি না—এ বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার শারীরিক মূল্যায়ন করবেন। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে মেডিকেল বোর্ডের পর্যবেক্ষণ ও অনুমতির ওপর নির্ভর করবে। তিনি জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য নির্ধারিত মুখপাত্রদের বক্তব্য অনুসরণ করার আহ্বান জানান।

এদিকে, হাসপাতালের নিরাপত্তাও আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হয়েছে। প্রধান ফটকের সামনে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় সীমিত করা হয়েছে যাতে রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত না হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়ার আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বহাল রয়েছে। দিনভর হাসপাতালে নেতাকর্মী, সহানুভূতিশীল ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সমাবেশ লক্ষ করা যায়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে খালেদা জিয়া—কোন সুবিধা মিলছে এখন

গুরুতর শারীরিক জটিলতায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সোমবার রাতেই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

কেন এই ঘোষণা দেওয়া হলো

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১’-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যে কাউকে ভিভিআইপি মর্যাদা দিতে পারে। সেই আইনের অধিকারেই খালেদা জিয়াকে বিশেষ গুরুত্বের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ মর্যাদা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসএফের হাতে ন্যস্ত হয়।

ভিভিআইপি হলে যেসব সুবিধা পাওয়া যায়

এই আইনে এসএসএফের দায়িত্ব হলো—

  • ভিভিআইপি ব্যক্তির নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালনা করা।
  • সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি বা ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • প্রয়োজনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই আটক করার ক্ষমতা।
  • জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাণনাশী আক্রমণ প্রতিহত করতে অস্ত্র ব্যবহারেরও আইনি অনুমোদন রয়েছে।
    এসএসএফ আইন দেশের যে কোনো স্থানে সমানভাবে কার্যকর।

কে কে সাধারণত ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হন

দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা সমমর্যাদার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ মর্যাদা পান। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন দিয়ে অন্য কাউকেও এই তালিকায় যুক্ত করতে পারে—যেমনটি করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্ষেত্রে।

চিকিৎসাজনিত বর্তমান অবস্থা

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহুদিন ধরেই হৃৎপিণ্ড, লিভার ও কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
২১ নভেম্বর বাসায় ফেরার পর তার শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে গেলে দুই দিন পর জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তিনি নিউমোনিয়াসহ কয়েকটি জটিল অবস্থার সম্মুখীন।

সোমবার দুপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান জানান,
“খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আইসিইউ–ভেন্টিলেশন—যাই বলা হোক, পরিস্থিতি খুবই নাজুক। তার জন্য জাতির কাছে দোয়া চাই।”

পূর্ব অভিজ্ঞতা

২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার স্বল্প সময়ের জন্য খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকেও ভিভিআইপি নিরাপত্তার আওতায় এনেছিল।


মো: আল-আমিন



মধ্যরাতে আবারও ভূমিকম্প

দেশে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আবারও অনুভূত হলো ভূমিকম্পের হালকা কম্পন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে অনুভূত এই ভূমিকম্প সাময়িক আতঙ্ক তৈরি করলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে প্রকাশিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের মিনজিন এলাকায়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিণ–পূর্ব দিকে প্রায় ৪৩১ কিলোমিটার দূরে। কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৯। গভীর রাতে হওয়ায় অনেকে ঘুম ভেঙে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল ১০৬.৮ কিলোমিটার গভীরে। গভীর উৎসের কারণে কম্পন তুলনামূলক হালকা হওয়ায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও মিয়ানমারের কিছু এলাকাতেও এটি অনুভূত হলেও ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে কোনো আফটারশক বা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্কতা জারি করা হয়নি।

গত কয়েক সপ্তাহে দেশে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় অনেকের মধ্যেই বাড়ছে উদ্বেগ। এর আগে ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নরসিংদীর মাধবদী কেন্দ্র করে তীব্র কম্পন আঘাত হানে, যেখানে বিভিন্ন ভবনে ফাটল ধরে এবং ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এরপর ২২, ২৩ ও ২৬ নভেম্বরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়, যা ভূমিকম্প–সংক্রান্ত সচেতনতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ভূ-কম্পন সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থান করায় ছোট–বড় ভূমিকম্প প্রায়ই অনুভূত হবে। তাই ভবন–নির্মাণে নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম