খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রায় নতুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি ঘিরে নতুন করে 움직ে উঠেছে বিমানবন্দর ও কূটনৈতিক মহল। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকা খালেদা জিয়ার অবস্থার অবনতি এবং মেডিকেল বোর্ডের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর তাঁর বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক এবং দলের নেতারা উচ্চমাত্রার সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কাতার সরকারের ব্যবস্থাপনায় জার্মানি থেকে একটি নতুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু অনুকূলে থাকলে ওই দিন সন্ধ্যা বা রাতে লন্ডনের উদ্দেশে উড়াল দেবে বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সটি।
ঢাকায় কাতার দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আসাদ নিশ্চিত করেছেন যে, কাতারের ব্যবস্থাপনায় একটি অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্স জার্মানি থেকে ঢাকায় আসছে। এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্সে শয্যাসহ নিবিড় পরিচর্যার সুবিধা, বিশেষ ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় লাইফ সাপোর্ট সরঞ্জাম থাকে, যা গুরুতর অসুস্থ যাত্রীদের দূরপাল্লার যাত্রা নিরাপদ করতে সাহায্য করে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, জার্মানির প্রাইভেট এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কোম্পানি এফএআই রেন্ট-এ-জেট জিএমবিএইচ-এর চ্যালেঞ্জার ৬০০ সিরিজের সিএল৬০ জেট দিয়ে খালেদা জিয়াকে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। বিমানটি ঢাকায় নামার পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করে দ্রুত লন্ডনের পথে যাত্রা শুরু করার প্রস্তুতিও চলবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ফ্লাইটটি ঢাকায় থেকে জর্জিয়ার তিবলিসি হয়ে সরাসরি লন্ডনে যাবে।
এর আগে কাতার রাজপরিবারের ব্যবহৃত আরেকটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে তা বাতিল হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আমিরের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাতার সরকার দ্রুত বিকল্প এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। তাঁর দাবি, যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি এখন আসছে, এটি কাতারের ব্যবস্থাপনায় হলেও এর নির্মাতা জার্মান কোম্পানি। মূল বিষয় হলো—দ্রুত সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
দলের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় যাত্রার বিষয়টি মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ম্যাডামের শরীর ভ্রমণের উপযুক্ত হলে এবং বিশেষজ্ঞরা অনুমোদন দিলে সম্ভবত ৭ ডিসেম্বর (রোববার) তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে। যাত্রার প্রতিটি ধাপেই চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর ফুসফুসে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড় পরিচর্যার অধীনে রাখা হয়। গত রোববার সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতি ও ঝুঁকি বিবেচনায় মেডিকেল বোর্ড কয়েক দফা বৈঠক করে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুপারিশ করে। পরিবারের সদস্যরা ও দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।
দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, বারবার সংক্রমণ এবং গুরুতর জটিলতার কারণে নিয়মিত হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। গত কয়েক বছর ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ায় বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আগমন, চিকিৎসকের অনুমোদন, আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ব্যবস্থা—সবকিছু মিলিয়ে খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রাকে ঘিরে এখন নানা প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। সমস্ত প্রক্রিয়া সফল হলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই বহুল আলোচিত যাত্রা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








