শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে স্পষ্ট অবস্থান জানাল অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভারত যদি সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তাহলে বাংলাদেশ একতরফাভাবে কিছুই করতে পারবে না।

তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ভারতের সম্মতির ওপর। তার ভাষায়—ভারতকে রাজি হতে হবে, নতুবা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তৃতীয় দেশে পাঠানো নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেশটি এখন আগের তুলনায় আরও সচেতন। র‌্যাবের কার্যক্রমে গত কয়েক মাসে দৃশ্যমান উন্নতি এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখছে। মানবাধিকারের প্রশ্নে নতুন করে কোনো বিদেশি নিষেধাজ্ঞা আসার আশঙ্কা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সম্প্রতি এক বক্তব্যে জানান, শেখ হাসিনা কোথায় থাকবেন—বাংলাদেশে নাকি ভারতে—তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক পরিবর্তন, আইনি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমন্বয়ে বিষয়টি এখন দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের কূটনীতিকরা বলছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কাজ হলো কূটনৈতিকভাবে ভারতের সঙ্গে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখা। একই সঙ্গে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিবেচনায় যুক্তিসঙ্গত সমাধানের পথ খোঁজা। পরিস্থিতির জটিলতা সত্ত্বেও সরকার ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে উত্তরণের আশা দেখছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এনসিপির নির্বাচনী চমক: ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যানের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে লড়তে প্রস্তুত ১২৫ জন প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এতে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল, পূর্ব-পশ্চিমসহ প্রতিটি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আসনে এনসিপির মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

দলটির নেতারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি আগামী নির্বাচনে নতুন উদ্যম, সততা, কর্মদক্ষতা এবং জনসেবার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে কাজ করতে চায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের পরিসর বাড়াতে দলটি এবারের নির্বাচনে দ্বিমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে—একদিকে জনমুখী প্রার্থীদের মনোনয়ন, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার ধারা অব্যাহত রাখা। ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, আইন পেশা, ব্যবসা ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট অনেক পরিচিত মুখ।

উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়-১ আসনে মো. সারজিস আলম, ঠাকুরগাঁও জেলার দুই আসনে মো. রবিউল ইসলাম এবং গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুরে আ হ ম শামসুল মুকতাদির ও ডা. আব্দুল আহাদসহ একাধিক অভিজ্ঞ মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নীলফামারীর গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে ডা. কামরুল ইসলাম দর্পন ও আবু সায়েদ লিয়নকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রংপুর বিভাগের অন্যান্য আসনেও তালিকায় স্থান পেয়েছেন আল মামুন, আখতার হোসেন, মাহফুজুল ইসলামসহ কয়েকজন তরুণ নেতা।

রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন পরিমল চন্দ্র (উরাও), মনিরা শারমিন, অধ্যাপক এস. এম. জার্জিস কাদিরের মতো শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও জয়পুরহাটের আসনগুলোতে নতুনদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকেও নির্বাচন করেছে দলটি।

দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের তালিকায় রয়েছে মো. ওয়াহিদ উজ জামান, ফরিদুল হক, আবু সাঈদ মুসা, নুরুল হুদা চৌধুরীর মতো পরিচিত মুখ। উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালী-১ আসনে এডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা এবং পটুয়াখালী-২ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ভোলা, ঝালোকাঠি, পিরোজপুরসহ বরিশাল বিভাগের অন্যান্য constituencies–এও দলটির তরুণ ও অভিজ্ঞ প্রার্থীরা স্থান পেয়েছেন।

ঢাকা মহানগর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে এবার ব্যাপকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। রাজধানীর ঢাকা-১ থেকে ঢাকা-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, নারী নেত্রী এবং উদ্যোক্তাদের মনোনয়ন দিয়েছে পার্টি। এর মধ্যে ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভা, মেজর (অব) আলমগীর ফেরদৌস, ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদসহ একাধিক নতুন মুখ রয়েছে, যাদের নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ঢাকার বাইরের শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আহমেদুর রহমান তনু দলটির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। নরসিংদী-১, ২, ৪ ও ৫ নম্বর আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে জনসংযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগেও রয়েছে ব্যাপক উপস্থিতি। চট্টগ্রাম-৬, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬—প্রায় প্রতিটি আসনেই মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি, যাদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষিত তরুণ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কর্মী। কক্সবাজারের ১, ২ ও ৪ নম্বর আসনেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে নতুন প্রার্থীকে। পার্বত্য অঞ্চলের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে যথাক্রমে অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা, প্রিয় চাকমা ও মংসা প্রু চৌধুরীকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, ব্যাপকভিত্তিক এই প্রার্থী তালিকা দলটিকে আগামীর রাজনীতিতে দৃশ্যমান অবস্থানে নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে ভোটারদের আস্থা অর্জনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, গণসংযোগ ও মাঠপর্যায়ের তৃণমূল নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখারও ঘোষণা দিয়েছে দলটি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ক্ষমতায় গেলে তিন শর্তে জাতীয় সরকার গড়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

জামায়াতে ইসলামী আগামীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তিনটি নির্দিষ্ট শর্তে সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা-১৫ আসনের দক্ষিণ কাফরুলে স্থানীয় জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় জামায়াত আমির বলেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত ধারণা ভুল। বরং তারা ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সরকার পরিচালনায় আগ্রহী। তবে এ সহযোগিতা নির্ভর করবে তিনটি মূল শর্তের ওপর
১) দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ,
২) বিচারব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করা,
৩) অভ্যুত্থানের চেতনা বা অবৈধ ক্ষমতা দখলের ধারণা বর্জন।

তার দাবি, এই তিন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যে কোনো রাজনৈতিক দল জাতীয় সরকারে অংশ নিতে পারবে।

সমাবেশে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন। তার ভাষ্যমতে, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বৈষম্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই বৈষম্য দূর করা না হলে সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শ্রমজীবী মানুষ ও সম্পদশালী গোষ্ঠীর মধ্যে যে ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে, তা কমাতে জামায়াত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও দাবি করেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দেশের মানুষের স্বস্তি নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধ কমানোও সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, সব ধরনের অপরাধের সূচনা হয় “অপ-নির্বাচন” থেকে। তাই আগামীর জাতীয় নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু করতে হবে, যাতে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ পায়। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সেই নেতাদের দিকেও ইঙ্গিত করেন, যারা নির্বাচনের আগে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন প্রণয়ন না করার অঙ্গীকার করেন। এদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এমন প্রতিশ্রুতি দেন, তারা যেন ক্ষমতায় গেলে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠারও অঙ্গীকার করতে প্রস্তুত থাকেন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা বহন করছে। জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জোটগত সম্ভাবনার ইঙ্গিতও রয়েছে তার কথায়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এই সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন তফসিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী একান্ত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।

সিইসি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। রেওয়াজ অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ। বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।

সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে সিইসিকে স্বাগত জানান রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। পরে প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্য আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গত ৭ ডিসেম্বর জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তফসিল আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় সিইসির আজকের মন্তব্য নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি এনে দিয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রশাসন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি, ব্যালট ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সাপোর্ট—সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে। কমিশন আশা করছে, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থক ও প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে প্রস্তুতি জোরদার করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই তাদের প্রধান প্রতিশ্রুতি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




উত্তর জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে সুনামি সতর্কতা

জাপানের উত্তর উপকূল আবারও তীব্র ভূকম্পনের মুখোমুখি হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালেই হোক্কাইডো উপকূলের আওমোরি এলাকার কাছাকাছি আঘাত হানে ৭ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা নিশ্চিত করেছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে, যা ভূমিকম্পটির তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

হঠাৎ তীব্র দোলনের পর উপকূলজুড়ে জারি করা হয় অন্তত ১০ ফুট উঁচু সুনামির সতর্কতা, যা স্থানীয় জনমানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য করে। উপকূলীয় এলাকায় সাময়িকভাবে নৌযান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে এবং সব ধরনের সমুদ্রগামী কার্যক্রম নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখা হয়েছে।

দেশটির দুর্যোগ প্রতিরোধ দপ্তর জানায়, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো বড় তথ্য পাওয়া না গেলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, উত্তরাঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জরুরি নিরাপত্তা পরীক্ষা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সুনামি আঘাত হানলে ওই কেন্দ্রগুলোর শীতলীকরণ ব্যবস্থা ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

হোক্কাইডো ও আওমোরি অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় সময়মতো সতর্কতা জারি করাকে স্থানীয় প্রশাসন “জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত” হিসেবে উল্লেখ করেছে। জাপানে উন্নত ভূমিকম্প আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা থাকায় মানুষ দ্রুত উচ্চভূমিতে সরে যেতে পেরেছে, ফলে বড় ধরনের হতাহতের শঙ্কা এখনো কম বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

জনগণকে উপকূল থেকে দূরে থাকতে এবং আবহাওয়া দপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নারী অগ্রযাত্রায় অনন্য অবদান—চার গুণী নারীর হাতে বেগম রোকেয়া পদক

নারীশিক্ষা, মানবাধিকার, নারী অধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদান রাখা চার বিশিষ্ট নারীকে এ বছরের বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁদের হাতে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তুলে দেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখা যাঁরা এবার পুরস্কৃত হয়েছেন তারা হলেন—

  • রুভানা রাকিব — নারীশিক্ষা (গবেষণা)
  • কল্পনা আক্তার — নারী অধিকার (শ্রম অধিকার)
  • নাবিলা ইদ্রিস — মানবাধিকার
  • ঋতুপর্ণা চাকমা — নারী জাগরণ (ক্রীড়া)

বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই পদক প্রদান অনুষ্ঠান শুধু স্বীকৃতিই নয়, নতুন প্রজন্মকে নারী অধিকার ও অগ্রযাত্রার পথে অনুপ্রাণিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। নারী শিক্ষার পথিকৃত, সমাজ সংস্কারক ও লেখিকা বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী একই দিন—৯ ডিসেম্বর। তাই বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে এই দিনটিকে উদযাপন করা হয়।

১৮৮০ সালে রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম নেওয়া বেগম রোকেয়া সমাজে নারীর শিক্ষা বিস্তার, কুসংস্কার দূরীকরণ ও নারী মুক্তির সংগ্রামে যে ভূমিকা রেখে গেছেন, তা আজও দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত। তাঁর ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ও ‘অবরোধবাসিনী’ গ্রন্থ নারী জাগরণে অমর দলিল হয়ে আছে।

এ বছর পদক পাওয়া চার নারীই রোকেয়ার আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন—এমনটাই মত উপস্থিত অতিথি ও আয়োজকদের।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালের কোনো আসন ছাড়ছে না বিএনপি

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি আসনই নিজেদের দখলে রাখতে চায় বিএনপি। শরিক কিংবা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বরিশালের একটিও আসন ছাড়বে না—দ্বিতীয় দফা প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রথম দফায় জেলার ১৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিএনপি। তখন ধারণা করা হয়েছিল, বাকি পাঁচটি আসন শরিক ও সমমনাদের কাছে যেতে পারে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ঘোষিত দ্বিতীয় তালিকায় ওই পাঁচটির তিনটিতেই বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে। বাকি দুটিতেও নিজেদের প্রার্থী দেওয়ারই পক্ষেই ঝুঁকছে দলটি।

বরিশাল-৩: ফুয়াদের বদলে জয়নাল

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনটি এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা ছিল কয়েক সপ্তাহ। স্থানীয় নেতারা বলছিলেন, নতুন প্রতীক নিয়ে ভোটে গেলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। অবশেষে বিএনপি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিনকে মনোনয়ন দিয়ে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে।

ঝালকাঠি-১: শরিককে বাদ দিয়ে রফিকুল ইসলাম জামাল

ঝালকাঠি-১ এ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এলাকায় প্রচার চালালেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি নিজেদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালকে গুরুত্ব দিয়েছে। সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে স্থানীয় বিএনপি, তবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডা. ইরান।

পটুয়াখালী-২: জামায়াত–এনসিপির বাইরে, ধানের শীষেই শহিদুল আলম

বাউফল আসনে জামায়াত বা এনসিপিকে ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি। এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া ও ভোটের সমীকরণ বিবেচনায় এখানে সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারকে প্রার্থী করেছে দলটি।

শেষ দুই আসনও হাতে রাখছে বিএনপি

পিরোজপুর-১ আসনটি জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার পেতে পারেন—এমন গুঞ্জন থাকলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা বলছেন, দলটি শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রার্থীই দেবে।

পটুয়াখালী-৩ এ এখনও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। সেখানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন ইতোমধ্যে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এই আসন চাইতে পারেন—এমন আলোচনা থাকলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস, এ আসনটিও ছাড়বে না দলটি।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা—জেতার সম্ভাবনাই সর্বোচ্চ বিবেচ্য

এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, “যে আসনে শরিক দলগুলোর নিজস্ব ভোটব্যাংক নেই বা জেতার সম্ভাবনা কম—সেসব আসন দিতে রাজি নয় বিএনপি। লক্ষ্য একটাই—প্রতিটি আসনে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকা এবং সম্ভব হলে জয় নিশ্চিত করা।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দক্ষিণাঞ্চলের নদনদীতে নাব্য সংকট চরমে, বাড়ছে ঝুঁকি ও ভোগান্তি

শীতের শুরুতেই দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নদনদীগুলোতে নাব্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি কমে যাওয়ায় একের পর এক জেগে উঠছে ডুবোচর, ব্যাহত হচ্ছে ঢাকা-বরিশালসহ অভ্যন্তরীণ নৌরুটের স্বাভাবিক চলাচল। এর ফলে বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট নৌযান পর্যন্ত পড়ছে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে, বাড়ছে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ মাস্টাররা জানান, স্বাভাবিকভাবে একটি বড় লঞ্চ চলাচলের জন্য নদীতে অন্তত ৩ মিটার গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, কালীগঞ্জ থেকে শুরু করে চাঁদপুর-পটুয়াখালী রুটের বহু স্থানে ভাটার সময় পানি নেমে আসছে মাত্র দেড় মিটার বা তারও কমে। এতে প্রায় প্রতিদিনই লঞ্চসহ যাত্রীবাহী নৌযান নদীর তলদেশে আটকে যাচ্ছে।

এমভি শুভরাজের মাস্টার বেলাল জানান, “গত রাতেও বামনীর চর এলাকায় লঞ্চ ডুবোচরে আটকে গিয়েছিল। যাত্রী নিয়ে চলাচল করাটাই এখন চরম ঝুঁকির।”

বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌরুটেও নাব্য সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। বাহেরচর ও ভাসানচর রুট এ বছরই বন্ধ হয়েছে। এর আগে নাব্য সংকট ও নৌপথের অবনতি কারণে গলাচিপা, বরগুনা, পাথরঘাটা, লালমোহন, চরদুয়ানী, বোরহানউদ্দিনসহ অন্তত ১২টির বেশি রুট থেকে এমএল সাইজের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি রুটেই ছোট লঞ্চ চলাচল অব্যাহত আছে, তবে তাও ঝুঁকিপূর্ণ।

অভিজ্ঞ যাত্রী আবদুল জব্বার জানান, “আগে বরিশাল থেকে দুই শতাধিক লঞ্চ চলত। এখন মাত্র ৩০-৩৫টা দেখা যায়। নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, আর নৌভ্রমণও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।”

রাতের লঞ্চযাত্রায় ধাক্কা, থেমে যাওয়া এবং অনিশ্চয়তার ভোগান্তি এখন নিয়মিত অভিযোগ। ঢাকাগামী যাত্রী সুমন হাওলাদার বলেন, “ঘুমের মধ্যে ধাক্কা লেগে জেগে উঠলাম। দেখি লঞ্চ চরে আটকে আছে। আধা ঘণ্টা আটকে থেকে আবার চলতে পারি। প্রতিদিনই এমন হয়।”

পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, “নদীর তলদেশে অনিয়ন্ত্রিত বালি জমা, অস্বাভাবিক ড্রেজিং এবং সঠিক নৌপথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত ও পরিকল্পিত ড্রেজিং না করলে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ অচল হয়ে যাবে।”

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ জানান, “ঢাকা-বরিশালসহ পটুয়াখালী রুটের বেশকিছু পয়েন্টে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এসব স্থানে জরুরি ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ড্রেজিং করা হবে।”

স্থানীয়রা আশা করছেন, পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা না হলে প্রতি বছরই এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।




বরিশালে সেতুর নামকরণ নিয়ে উত্তেজনা, ভাঙচুরে পণ্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

বরিশালের গৌরনদী-মুলাদী উপজেলার সংযোগস্থলে আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুর নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় পণ্ড হয়ে গেছে নির্ধারিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। নামসংক্রান্ত বিরোধ ও স্থানীয়দের ক্ষোভের জেরে অনুষ্ঠানস্থলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কাচিরচর এলাকায় স্থাপিত উদ্বোধনী প্যান্ডেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত ঘোষণায় সেতুটি অনলাইনে উদ্বোধন করার কথা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা যুক্ত হওয়ার আগেই উত্তেজিত জনতা প্যান্ডেলে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির অধীনে নির্মিত ৬১৯ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নাম আগে ‘সৌহার্দ্য সেতু’ হিসেবে প্রচারিত ছিল। তবে স্থানীয়দের না জানিয়ে তা পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ নামকরণ করা হয়।

নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এ ছাড়া সেতুর নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এমদাদুল হক মজনুকে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে অন্তর্ভুক্ত না করাও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

মুলাদী থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তেজিত জনতার হামলার কারণে আয়োজকদের অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নাম পরিবর্তন করা হলেও স্থানীয়দের আপত্তির কথা আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। এর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে যাওয়ায় উদ্বোধন আর সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, সেতুর নামকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনিকভাবে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি উঠেছে।




‘শান্তির দূত’ বলা হল ট্রাম্পকে: ফিফা শান্তি পুরস্কার

বিশ্বের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA–র নতুন শান্তি পুরস্কার প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর দেওয়া হয়েছে। এই পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald J. Trump। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ছিল ২০২৬ সালের 2026 FIFA World Cup–এর গ্রুপ ড্র-এর সময়, যা করা হয় ওয়াশিংটন ডিসির John F. Kennedy Center for the Performing Arts–এ।

পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ট্রাম্পের উপর “বিশ্বব্যাপী শান্তি ও ঐক্য বাড়ানোর” অবদানের স্বীকৃতিতে। পুরস্কার হিসেবে তিনি পান একটি সোনালি ট্রফি, একটি পদক এবং একটি সার্টিফিকেট। পুরস্কার গ্রহণের সময় ট্রাম্প বলেন, এটি তার জীবনের “একটি মহান সম্মান”।

FIFA–র প্রেসিডেন্ট Gianni Infantino বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা এমন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে নতুন এই পুরস্কার চালু করা হয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে ভূ­মিকা, উদ্যোগ ও দৃষ্টিভঙ্গার জন্য সম্মান জানিয়েছেন।

কিন্তু প্রতি বিভাজন ছিলই। পুরস্কার ঘোষণার পর থেকেই নানা মহলে প্রশ্ন ওঠেছে—যে ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তার দাবি করা “সংঘাত নিরসন” কতটা বাস্তব। বিশেষ করে গাজা, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক সংঘাত, এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতির প্রেক্ষিতে অনেকের মতে, এই পুরস্কার বিতর্কিত।

বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত কেবল ফুটবল বা খেলাধুলার বেশিবার্দ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে, কূটনীতিতে এবং বিশ্ব শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন বিতর্ক–নব আলোড়নও তৈরি করেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম