জরুরি বৈঠকে কঠোর বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বৈঠক, যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা হুমকি এবং সদ্য সংঘটিত হামলার প্রেক্ষাপটে বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ প্রধান উপদেষ্টার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সাম্প্রতিক সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই হামলা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। যে শক্তিই নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করুক না কেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার তা প্রতিহত করবে। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদীর অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। পরিবারের অনুরোধে তাকে ইতোমধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি দেশবাসীর কাছে হাদীর সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে না পারে। জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য টার্গেটদের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন সংকট মোকাবেলায় দ্রুত একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে, যাতে যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান এবং সন্দেহজনক স্থানে বিশেষ তল্লাশি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং রাজনৈতিক সহমত গড়ে তুলতে তিনি শিগগিরই দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকা-৮ আসনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি

ঢাকা-৮ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রার্থী ও সংগঠনের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীকে দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগরে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, যেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঢামেক জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোশকাত আহমেদ জানান, হাদীর মাথায় গুলি লেগেছে এবং তিনি বর্তমানে গভীর কোমায় রয়েছেন। চিকিৎসকের ভাষায়, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “হাদীর ওপর হামলা শুধু অন্যায় নয়, রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও হুমকি। আমাদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তবুও আমরা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব।”

উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি ৩০টির বেশি নম্বর থেকে হুমকি পাওয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন শরিফ ওসমান হাদী। সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগ বাড়ছিল, আর অবশেষে ঘটলো এই সশস্ত্র হামলা।

ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। হামলার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং জড়িতদের পরিচয় অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু সাজিদের মৃত্যু

রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু মো. সাজিদকে টানা ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। উদ্ধার শেষে হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশুটির ইসিজি করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে চিকিৎসকরা। শিশুটির বাবার নাম রাকিব

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ সময়ের রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করেন।

এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে পরিবারের বাড়ির পাশেই বহুদিনের অকেজো ও খোলা থাকা গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় শিশুটি। নলকূপটির মালিক একই এলাকার বাসিন্দা তাহের

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে উদ্ধারে মূল গর্তের পাশ দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে নিচে নামার চেষ্টা করা হয়। বিকেলে উদ্ধারকারী দল ৪৫ ফুট গভীরেও শিশুটিকে খুঁজে না পেলেও অভিযান চলতে থাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরামহীন উদ্ধার কাজের পর শিশুটিকে উপরে তোলা সম্ভব হয়, কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর আর তার জীবন রক্ষা করা যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা গভীর নলকূপের মুখই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবহেলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৩২ ঘণ্টা পর তানোরে গভীর নলকূপের গর্ত থেকে শিশু স্বাধীন উদ্ধার

রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু স্বাধীনকে দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। উদ্ধার শেষে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত রেসকিউ টিম কয়েক দফা জটিল অভিযান শেষে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মঞ্জুর হক

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে। পরিবারের বাড়ির পাশের বহুদিনের অকেজো গভীর নলকূপটির মুখ খোলা ছিল। খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সেখানে পড়ে যায় শিশু স্বাধীন। তার বাবার নাম রাকিব। নলকূপটির মালিক একই এলাকার বাসিন্দা তাহের

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মূল গর্তের পাশ দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে উদ্ধারকারী দল ৪৫ ফুট পর্যন্ত খনন করেও তাকে খুঁজে না পেলেও অভিযান থামানো হয়নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরামহীনভাবে উদ্ধার কাজ চালানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মানবিক এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে, তবে খোলা থাকা গভীর নলকূপের কারণে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে এক ভাষণের মাধ্যমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তারিখ জানিয়ে দেন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫-এর ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা এই নির্বাচনের গুরুত্ব ও পরিধিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর। বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল করার শেষ দিন ১১ জানুয়ারি, আর এসব আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা রাখা হয়েছে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি, আর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত, এরপর নীরবতা পর্ব কার্যকর হবে।

এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎ শেষে বিকেলে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হয়, যা আজ প্রচারিত হয়। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আসন বিন্যাস, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা সেল গঠনসহ অন্তত ২০টি পরিপত্র জারি করার প্রস্তুতি নিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রজ্ঞাপনসহ সমস্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার গঠন করেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাংবিধানিক পরিবর্তনসহ নানা কারণে বেশ কয়েকটি সংসদ তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদই কেবল পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ইতোমধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। মনোনয়ন, প্রচারণা, জোট রাজনীতি, মাঠপর্যায়ে সমর্থন—সব মিলিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মধ্যরাতে সিলেট অঞ্চলে টানা দুই ভূমিকম্প

সিলেটের বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা এলাকায় গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে টানা দুই দফায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা ৫৫ মিনিট—মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই বার এই ভূমিকম্পে এলাকার মানুষের মাঝে দুশ্চিন্তা তৈরি হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র নিশ্চিত করেছে, এটি হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলে নিয়মিত ঘটে থাকা স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্পের অংশ, যা বড় কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করে না।

রাত ২টা ৫০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫ এবং উৎস ছিল অঞ্চলটির স্থানীয় ভূ-পৃষ্ঠের নিচে সঞ্চিত চাপ। এরপর মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে রাত ২টা ৫৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয় দফায় কম্পন অনুভূত হয় মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩, যা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও বিস্তৃত এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র জানিয়েছে, অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং টেকটোনিক প্লেটের গতিশীলতার কারণে সিলেট, আসাম, ত্রিপুরা ও মায়ানমার সীমান্তবর্তী এই এলাকাগুলোতে এমন হালকা ভূমিকম্প প্রায় সময়ই ঘটে থাকে। এসব কম্পন সাধারণত ভূ-চাপ নিরসনে ভূমিকা রাখে এবং বড় কোনো ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, মৃদু ভূমিকম্পের ফলে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি স্বাভাবিক ভূ-কম্পন কার্যক্রমেরই অংশ। তবুও ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের ঘরবাড়ি নির্মাণে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মধ্যরাতে হওয়া এই দুই দফার কম্পনে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রবাসী ভোটারে রেকর্ড নিবন্ধন—‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে ৩ লাখ ছাড়াল সংখ্যা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো ডাকযোগে ভোট গ্রহণের সুযোগ তৈরির পর থেকেই ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনের হার আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ইসি’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়—এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৩৪৯ জন পুরুষ এবং ২৩ হাজার ২২৮ জন নারী। প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের সরাসরি নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করা হওয়ায় এটি বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রবাসীদের মধ্যে সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ৮৪ হাজার ৬০০ জন, এরপর ক্রমানুসারে কাতার ২৫ হাজার ২৫৭, যুক্তরাষ্ট্র ২০ হাজার ৭৫৫, সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯ হাজার ৮৫২, মালয়েশিয়া ১৮ হাজার ১৫৬, সিঙ্গাপুর ১৫ হাজার ২৯৪, যুক্তরাজ্য ১৩ হাজার ৬৬৩, ওমান ১২ হাজার ৬২৫, ইতালি ৯ হাজার ৯৬৫, কানাডা ৯ হাজার ৮৫২, দক্ষিণ কোরিয়া ৯ হাজার ৬০২, অস্ট্রেলিয়া ৮ হাজার ২২১, কুয়েত ৮ হাজার ২০৪ এবং জাপান ৭ হাজার ৬৮ জন নিবন্ধন করেছেন।

এদিকে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ নির্বাচনী কাজে যুক্তদের অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, বিশেষ দায়িত্বে থাকা পুলিশ, সেনা কিংবা আনসার সদস্যদের নিবন্ধন পরবর্তী সময়ে আলাদাভাবে সম্পন্ন করা হবে।

ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান—বিদেশে অবস্থানকারীদের সুবিধার্থে ‘আউট অব কান্ট্রি’ ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশিরা তাদের ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন।

এর পাশাপাশি সৌদি আরবসহ সাতটি দেশে প্রবাসীরা ঠিকানা সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত সময় পেয়েছেন। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান, কুয়েত এবং বাহরাইন—এই সাত দেশের ভোটাররা ১৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত ঠিকানা আপডেট করতে পারবেন।

ইসি প্রবাসীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে—অ্যাপে নিবন্ধনের সময় অবশ্যই সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা প্রদান করতে হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ ঠিকানা দিলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানো সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে কর্মস্থল বা পরিচিত ব্যক্তির ঠিকানাও ব্যবহার করা যাবে।

১৯ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধনের পর থেকে ১৪৮টি দেশে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করে বিদেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হচ্ছে প্রবাসীদের।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নিবন্ধনে ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসি মনে করছে—এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ হতে পারে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তানোরে নলকূপের গর্তে আটকে শিশু, ২২ ঘণ্টা পরও উদ্ধার হয়নি

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু স্বাধীনকে উদ্ধারে দমকল বাহিনীর চেষ্টা টানা ২২ ঘণ্টা পার হলেও এখনও সফলতা আসেনি। বুধবার দুপুরে ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট এলাকাটিতে অবস্থান নিয়ে নিরলসভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিব উদ্দীনের দুই বছরের ছেলে স্বাধীন বাড়ির পাশেই খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত গভীর নলকূপের জন্য খোঁড়া একটি সরু এবং দীর্ঘ গর্তে পড়ে যায়। গর্তটির গভীরতা প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট, যা শিশুটিকে উদ্ধারের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরুর পাশাপাশি এলাকায় তিনটি এস্কেভেটর এনে দ্রুত খনন শুরু করে। এস্কেভেটরের সাহায্যে শিশুটি যেখানে পড়ে গেছে তার কাছাকাছি প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত আলাদা একটি গর্ত খনন করা সম্ভব হয়। ওই খননকৃত স্থান থেকেই উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গ তৈরি করে শিশুটি যে গর্তে আটকে আছে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে পানি, কাদা এবং ভেতরের ঘন মাটি পুরো উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, শিশুটি নলকূপের যেকোনো স্তরে আটকে থাকতে পারে। এজন্য প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “গর্তের ভেতর যে কোনো জায়গায় শিশুটি আটকে থাকতে পারে, তাই সুড়ঙ্গ তৈরির সময় পুরো স্থাপনাটি নিরাপদ রাখা হচ্ছে।”

ঘটনার পর বুধবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত নলকূপের ভেতরে ৩০ ফুট গভীরতায় ক্যামেরা নামানো হয়, কিন্তু গর্তে ধসে পড়া মাটি, খড় এবং পানি জমে থাকার কারণে শিশুটিকে দৃশ্যমান পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার প্রথম দিকে শিশুটির কান্নার শব্দ শোনা গিয়েছিল, যা শিশুটি তখনও জীবিত থাকার আশা জাগিয়েছিল।

অন্যদিকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় পরিবার, প্রতিবেশী এবং স্থানীয়রা চরম উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ ঘটনাস্থলে ভিড় করে অপারেশন পরিস্থিতির আপডেট জানার চেষ্টা করছেন। উদ্ধার অভিযানে থাকা সদস্যরা শিশু স্বাধীনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এ প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে এবং প্রতিটি মিনিটই শিশুটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় ঝাড়ু মিছিল

বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় এলাকাবাসীর ব্যানারে এই প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বাবুগঞ্জবাসীদের ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করেন। পরে ৮ ডিসেম্বর বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি পুনরায় স্থানীয়দের ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেন। এসব মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী ঝাড়ু মিছিলের মাধ্যমে কঠোর প্রতিবাদ জানায়।

স্থানীয় বাসিন্দা কালাম হোসেন বলেন, ‘ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেছেন বাবুগঞ্জের মানুষ নাকি বোমা তৈরি করে এবং তাদের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকে—এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আমরা কখনো মেনে নেব না।’

মীরগঞ্জ ঘাটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ‘বাবুগঞ্জের সম্মান ও অধিকার রক্ষায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। সাধারণ মানুষকে অপমান করার দায়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, জনসাধারণকে অপমান করার বিষয়টি তারা সহজভাবে নেবে না এবং পুরো এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নতুন বাংলাদেশের নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভূমিকা চান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে “নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ” হিসেবে দেখছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি বলেন—এ নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি জাতিগত দায়িত্ব, যা আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউএনওদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতিহাস আমাদের আরেকটি সুযোগ দিয়েছে দেশকে সঠিক পথে দাঁড় করানোর। অতীতের ব্যর্থ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে যেসব নির্বাচন হয়েছে, তা নির্বাচন নামে পরিচিত হলেও প্রকৃতপক্ষে ছিল প্রতারণা। এবার সেই ইতিহাস বদলানোর দায়িত্ব প্রশাসনের কাঁধেই। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন—এই নির্বাচন সুন্দরভাবে আয়োজন করতে পারলে দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে; আর ব্যর্থ হলে জাতি আবারো মুখ থুবড়ে পড়বে।

সভায় যুক্ত ছিলেন দেশের সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সবার উপস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইউএনওরাই মাঠ প্রশাসনের প্রাণ। তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সরকারও তার দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

এ সময় তিনি গণভোটকেও “জাতির জন্য শত বছরের সিদ্ধান্ত” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, গণভোট এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব। “নতুন বাংলাদেশ” ধারণার ভিতও এই গণভোট থেকেই তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন ও গণভোট দুটোর ক্ষেত্রেই ভোটারদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি জোর দেন। তিনি বলেন—ভোটারদের বোঝাতে হবে, তারা যেন মনস্থির করে ভোটকেন্দ্রে যান—হ্যাঁ দেবেন নাকি না দেবেন, সেটি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আসতে হবে।

সদ্য যোগদান করা ইউএনওদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো একটি শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন করা। এজন্য প্রতিটি পোলিং স্টেশন পরিদর্শন, স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং সম্ভাব্য জটিলতা মোকাবেলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন—নারীরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভোটের পরিবেশ নষ্টে অপতথ্য ও গুজবকে “সবচেয়ে বড় হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন—ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়; তেমনি প্রশাসন দায়িত্বশীল হলে নির্বাচনও ভালো হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি বাস্তবায়নে সমন্বিত ভূমিকা পালনে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন তফসিল শিগগিরই ঘোষণা হবে বলে জানান এবং ইউএনওদের এখন থেকেই দিন–তারিখ ও দায়িত্ব অনুযায়ী বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দেন। তার মতে, পরিকল্পনা যত সুসংগঠিত হবে, ততই দেশের মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ধারাকে শক্তিশালী করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম