বানারীপাড়ায় জেলেকে হত্যা মামলায় স্ত্রী-ছেলে জেলহাজতে

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নলশ্রী গ্রামে জেলে হাবিবুর রহমান মোল্লা (৫০) হত্যা মামলায় তার স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২ মে) সকালে গ্রেফতারকৃত স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছেলে সাগরকে বরিশাল আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে শুক্রবার (১ মে) নিহতের বাবা আ. মন্নাত মোল্লা বাদী হয়ে বানারীপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে মারধর ও নির্যাতন করে তার ছেলে হাবিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছেলে সাগরকে আসামি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতের কোনো এক সময় হাবিবুর রহমানকে বেদম মারধর ও নির্যাতন করা হয়। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

গ্রামবাসীদের দাবি, নিহতের নাক, মুখমণ্ডল, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। শুক্রবার দুপুরে বরিশাল জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সৌমেন সরকারও থানায় গিয়ে ঘটনাটি পরিদর্শন করেন।

বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, “হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মামলার আসামি স্ত্রী ও ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।”




খোলা আকাশের নিচে বেদে শিশুদের পাঠশালা, শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দুই বোন

বরিশালের বাবুগঞ্জে শিক্ষাবঞ্চিত বেদে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন দুই তরুণী। খোলা আকাশের নিচে ছোট্ট একটি পাঠশালা চালু করে প্রায় অর্ধশত শিশুকে অক্ষরজ্ঞান দিচ্ছেন দুই বোন মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের মীরগঞ্জ ফেরিঘাটসংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে প্রায় ৭০টি বেদে পরিবার বসবাস করছে। কেউ নৌকায়, আবার কেউ বাঁশ ও পলিথিনের তৈরি ছোট ঘরে অস্থায়ীভাবে জীবনযাপন করছেন। দারিদ্র্য ও অনিশ্চিত জীবনের কারণে এসব পরিবারের অধিকাংশ শিশু বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না।

এই বাস্তবতা বদলাতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন হাওলাদারের দুই মেয়ে মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। গত ১৫ এপ্রিল থেকে তারা নিজেদের বাড়ির আঙিনায় প্রতিদিন বিকেলে এক ঘণ্টা করে শিশুদের পড়ানো শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ জন শিশু পাঠশালায় অংশ নিচ্ছে।

উদ্যোক্তা মুন্নি আক্তার বলেন, “বেদে শিশুদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়া এবং তাদের স্কুলমুখী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই তারাও সমাজের অন্য শিশুদের মতো পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হোক। তবে বই, খাতা ও শিক্ষা উপকরণের অভাবে কার্যক্রম চালাতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে পাঠশালাটি আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় প্রায় ২০০ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে এখনো দেড় শতাধিক শিশু শিক্ষার বাইরে রয়েছে। জীবিকার তাগিদে অনেক শিশুকেই ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরা ও পরিবারের বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে হয়।

বেদে সম্প্রদায়ের সদস্য হেলেনা বেগম বলেন, “আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সুযোগ খুব কম। সংসারের অভাবের কারণে ছোটদেরও কাজ করতে হয়। যদি সরকার সহযোগিতা করে, তাহলে আমাদের শিশুরাও পড়াশোনা করতে পারবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “বেদেরা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে এই ধরনের উদ্যোগ তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।”

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, “বেদে শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই তরুণীর উদ্যোগ সম্পর্কে আমরা জেনেছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

স্থানীয়দের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেদে শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং একদিন তারাও সমাজের মূলধারায় যুক্ত হতে পারবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চাকরি ছেড়ে সফল খামারি, কুরবানির হাট মাতাতে প্রস্তুত ১ টনের ‘লাল মিয়া’

চাকরি ছেড়ে গরুর খামার গড়ে সফলতার মুখ দেখেছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার যুবক মো. মামুন হোসেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘ভাই ভাই ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি খামার। আর সেই খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন প্রায় ১ টন ওজনের শাহিওয়াল জাতের ষাঁড় ‘লাল মিয়া’, যাকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিকাঠী এলাকার মামুন হোসেন একসময় ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তবে চাকরির গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে স্বাধীনভাবে কিছু করার স্বপ্ন থেকেই তিনি গরুর খামার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে নানা বাধা-বিপত্তি থাকলেও বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটনের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি।

২০১৫ সালে মাত্র তিনটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করা ছোট খামারটি বর্তমানে ২৬টি গরুর একটি সফল ডেইরি ফার্মে পরিণত হয়েছে। খামারটিতে বর্তমানে বিক্রয়যোগ্য ৮টি ষাঁড় ও ৭টি দুধেল গাভী রয়েছে। প্রতিবছর এখান থেকে ৪ থেকে ৬টি গরু বিক্রি করা হয়। খামারটি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত এবং এখানকার খাঁটি দুধ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘লাল মিয়া’ নামের বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়। শাহিওয়াল জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ১ টন ৬ কেজি বা ১০০৬ কেজি। চার বছর ধরে প্রাকৃতিক খাবার ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়েছে গরুটিকে। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড় দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন খামারে।

খামার মালিক মামুন হোসেন বলেন, “লাল মিয়াকে আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে বড় করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। ঘাস, ভুসি ও দেশীয় খাবার দিয়েই তাকে বড় করা হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চার বছর ধরে যত্ন নিয়ে প্রস্তুত করেছি।”

তিনি আরও জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘লাল মিয়া’র দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এছাড়া খামারের আরও সাতটি ষাঁড় বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যেগুলোর দাম ১ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে।

মামুন হোসেন বলেন, “চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মতো করে কিছু করতে পারলে সফল হওয়া সম্ভব। আমি চাই, আমাদের এলাকার তরুণরা উদ্যোক্তা হোক এবং নিজেরা কিছু করার সাহস দেখাক।”

বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটন বলেন, “মামুন ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী। সে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিল। পরিবার হিসেবে আমরা তার পাশে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে আজ সে সফল হয়েছে। তরুণরা এমন উদ্যোগ নিলে বেকারত্ব অনেকটাই কমে যাবে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে গরু পালন করে এমন সফলতা সত্যিই প্রশংসনীয়। মামুনের খামার দেখে অনেক তরুণ এখন অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

বাবুগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, “মামুন হোসেনের খামার নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়। তার খামারে গরুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুসরণযোগ্য উদ্যোগ।”

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন ‘লাল মিয়া’কে ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে। খামার মালিক আশা করছেন, এবারের কুরবানির হাটে ব্যাপক সাড়া ফেলবে তাদের খামারের গরুগুলো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আল্লাহর নামে ছেড়ে দেওয়া ষাঁড় জবাইয়ের ঘটনায় বেকায়দায় ফরহাদ মেম্বার, স্থগিত দলীয় পদ

বরিশাল অফিস :: আল্লাহর নামে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া একটি ষাঁড় জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বরিশাল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মেম্বারের দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। একই ঘটনায় শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন খানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম খান বাপ্পির স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি ও সদস্য সচিব কামরুল আহসান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শামসুল কবির ফরহাদের দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪ নম্বর শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন খানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ফরহাদ মেম্বারের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন চাঁদপুরা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার। অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় এলাকাবাসী সমাজকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে প্রায় আট বছর আগে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি কালো রঙের ষাঁড় বাছুর কিনে ‘আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেন। গরুটিতে চাঁদপুরা ইউনিয়নের সিলও দেওয়া হয়েছিল।

সোহেল হাওলাদার দাবি করেন, গরুটি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আট হাজার গ্রামে চলে যায় এবং দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করছিল। বর্তমানে গরুটির বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ফরহাদ মেম্বার গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করেন এবং পরে মাত্র ৫০ হাজার টাকার আরেকটি ষাঁড় কিনে ইউনিয়নের সিল দিয়ে এলাকায় ছেড়ে দেন।

অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট দিতে দেখা যায় ফরহাদ মেম্বার ও তার সমর্থকদের। সেখানে দাবি করা হয়, গরুটি জবাইয়ের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন ফরহাদ মেম্বার। পরে ২৭ এপ্রিল বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার দলীয় পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মেম্বারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল সকালে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আট হাজার গ্রামে আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেওয়া ওই ষাঁড়টি জবাই করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ৬০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। থানায় অভিযোগ দায়েরের পরপরই ফরহাদ মেম্বার দ্রুত আরেকটি ষাঁড় কিনে এলাকায় ছেড়ে দেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এ ঘটনায় পরবর্তীতে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ফাহাদ চেয়ারম্যান নামে পরিচিত শামছুল কবির ফরহাদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ষাঁড় গরু চুরি করে জবাই, মাংস বিক্রি ও ভাগ-বণ্টনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বাদী বন্দর থানার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল হাওলাদার (৪০)। তিনি বরিশালের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য কাউনিয়া থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে স্থানীয় এলাকাবাসী সমাজকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি কালো রঙের ষাঁড় বাছুর কিনে আল্লাহর নামে মাঠে ছেড়ে দেন। পরে এলাকাবাসীর পরিচর্যায় গরুটি বড় হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন এলাকায় অবাধে বিচরণ করত। স্থানীয়দের দাবি, গরুটি প্রজনন কাজেও ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে গরুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন গরুটি আর দেখা যাচ্ছে না। পরে রাজাপুর ও আট হাজার এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন জানান, ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যার আগে গরুটিকে অন্তরা লঞ্চঘাট এলাকায় শোয়ানো অবস্থায় দেখা গেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে দড়ি দিয়ে গরুটিকে বেঁধে টেনে নিয়ে মাটিতে ফেলে রাখতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ভিডিওতে স্থানীয় কসাই রফিককে শনাক্ত করার দাবি করেন বাদী। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ভাড়া করে একটি ষাঁড় গরু জবাই করার জন্য অন্তরা লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়ে যায়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অভিযুক্ত কয়েকজনের নামও প্রকাশ করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১৫ এপ্রিল রাত ৩টার মধ্যে যেকোনো সময়ে অভিযুক্তরা গরুটি চুরি করে এনে জবাই করেন। পরে মাংস নিজেদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করেও লাভবান হন।

মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে আব্দুল মালেক মোল্লার ছেলে শামছুল কবির ফরহাদ (৪৬), ধলু খানের ছেলে শাহিন খান (৩৮) ও শিমুল খান (৩০), ইদ্রিস হাওলাদারের ছেলে জাহিদ হাওলাদার (৩০), মৃত মৌজে আলীর ছেলে আলাউদ্দিন (৩৫), হাবিব হাওলাদারের ছেলে সজিব (২৮), আব্দুল হাই মোল্লার ছেলে পারভেজ (৩২), মৃত রশিদ খার ছেলে জালাল খা (৫২), জলিল খার ছেলে মাহবুব (৩৬), কাছেম খলিফার ছেলে ইউনুচ এবং রাজেক ঘরামীর ছেলেসহ সবাই আট হাজার ও রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় সাক্ষী হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে কাজী জুলফিকার আলী ভুট্টো, ফিরোজ হাওলাদার, শফিক হাওলাদার, লতিফুর রহমান মানিক, রফিক হাওলাদার, কসাই সুলতান আহমেদ তালুকদার ও সুমন হাওলাদারসহ আরও অনেকের।

বাদী আদালতে উল্লেখ করেন, ঘটনার পরপরই কাউনিয়া থানাকে বিষয়টি জানানো হলেও গুরুত্ব সহকারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে আদেশে উল্লেখ করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রকাশের পর পুরো শায়েস্তাবাদ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ফরহাদ মেম্বারকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।




বিশ্বকাপ মিসে ক্ষোভ সাকিবের, কাঠগড়ায় অন্তর্বর্তী সরকার

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে মুখ খুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।

ভারতের মুম্বাইয়ে ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম কাপ টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাকিব বলেন, “আমি মনে করি এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি। আমরা ক্রিকেটপাগল জাতি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকা সত্যিই বড় একটি মিস। আমার মতে, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের বড় ভুল ছিল।”

বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে এর আগে নানা আলোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে পেসার মুস্তাফিজুর রহমান আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দেওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানিয়েছিল বলে জানা যায়। তবে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনে রাজি হয়নি।

সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত গিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের খেলা সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে।

নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও কথা বলেন সাকিব। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের পর আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলতে চাইলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

বিদায়ী টেস্ট খেলার সম্ভাবনা নিয়ে সাকিব বলেন, “সেটা পরে দেখা যাবে। আশা করি সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। সময় সবকিছু স্বাভাবিক করে দেয়।”

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক পরিবর্তন প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সম্প্রতি আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে আছেন তামিম ইকবাল।

এ বিষয়ে সাকিব বলেন, “আশা করি নির্বাচন হবে এবং তামিম সভাপতি হলে তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকবে। এতে বাংলাদেশ ক্রিকেট উপকৃত হবে।”

জাতীয় দলের বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই অলরাউন্ডার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগে হয়তো একজন বা দুজন ভালো খেলত, এখন পুরো দল পারফর্ম করছে। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা দারুণ সম্ভাবনাময়। আমি মনে করি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ভালো।”




বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলে স্বস্তি, এলপিজিতে এখনো অস্থিরতা

দেশে দীর্ঘ দুই মাসের ভোগান্তির পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন আর তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।

তবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি ও পাইপলাইনের গ্যাস নিয়ে এখনো ভোগান্তি কাটেনি। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার।

এপ্রিল মাসে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা দাম বাড়িয়ে ১২ কেজির এলপিজির সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ভোক্তাকে আরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ২৫ এপ্রিল ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে এলপিজি কিনেছেন।

রংপুরের কলেজ শিক্ষক ঝন্টু মিয়া জানান, তিনি ২৬ এপ্রিল ২ হাজার টাকা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছেন। তার দাবি, কিছু ব্র্যান্ডের গ্যাসের দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে। একসময় ১ হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা বাড়লে গত ৬ মার্চ সরকার তেল সরবরাহে রেশনিং চালু করে। পরে ১৫ মার্চ সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়নি।

তেলের জন্য বিভিন্ন পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। কোথাও কোথাও রাত কাটানোর ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ট্যাগ অফিসার নিয়োগ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করে।

তবে চলতি সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, এখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়িচালকরা তেল সংগ্রহ করতে পারছেন।

অন্যদিকে অতিরিক্ত গরমের কারণে কয়েকদিন ধরে দেশে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। অনেক এলাকায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী একসময় প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

তবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে মাত্র ৪৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে সেচের চাহিদাও কমে আসবে। অনেক এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ায় বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে লোডশেডিং আরও কমে আসবে এবং পরিস্থিতি আগের মতো অসহনীয় থাকবে না।

**”এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”**




 ছাত্র আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের পরামর্শ নেইনি: নুর

জাতীয় সংসদে শ্রম প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্রশিবিরের কোনো নেতার সঙ্গে তার আলোচনা হয়নি এবং তাদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শও নেননি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নুরুল হক নুর বলেন, “আমি জামায়াতে ইসলামীর অতীত রাজনৈতিক অবদানকে স্বীকার করি। তবে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় জামায়াত বা শিবিরের কারও সঙ্গে আমার কোনো আলোচনা হয়নি এবং তাদের পরামর্শ নেওয়ারও সুযোগ হয়নি।”

তিনি বলেন, “আজ অনেকে জুলাই আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে। কিন্তু এই আন্দোলন ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের সংগ্রামের ধারাবাহিক ফল। কেউ শেষ মুহূর্তে এসে ভূমিকা রাখলেই পুরো আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না।”

আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৬ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জপূর্ণ। আন্দোলনের আট দফা কর্মসূচি তিনি নিজেই প্রস্তুত করেছিলেন। সে সময় বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও জানান তিনি।

নুর বলেন, “গ্রেফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপির নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছি।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারেক রহমান দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রেখেছেন। ২০২২ সালে ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনার অনেক বিষয় বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে।”

নুরুল হক নুর বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অযথা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক পরামর্শের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “সত্যকে গোপন বা বিকৃত না করে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।”

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বজ্রপাতের বিকট শব্দে বরিশালে ১৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ক্লাস চলাকালে আকস্মিক বজ্রপাতের বিকট শব্দে ১৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ২ জন বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে ৫ জন শিক্ষার্থী মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পৃথকভাবে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।

দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, ক্লাস চলাকালে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয় ভবনের ওপর বজ্রপাত হলে বিকট শব্দে শ্রেণিকক্ষে থাকা কয়েকজন ছাত্রী আতঙ্কিত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে অষ্টম শ্রেণির ফাতেমা বেগম দোলা, আমেনা আক্তার, সুমাইয়া ও মীম আক্তার, সপ্তম শ্রেণির জান্নাত এবং নবম শ্রেণির আফরোজা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার।

পরে শিক্ষকদের সহায়তায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে দুইজন শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে গেলেও বাকি পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

অন্যদিকে একই সময়ে পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বজ্রপাত হলে আরও ৮ জন শিক্ষার্থী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজামুল হক জানান, তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সুস্থ হলে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরানুর রহমান বলেন, বজ্রপাতের বিকট শব্দে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 শেবাচিম হাসপাতালে দুই তরুণীকে আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগে দুই তরুণীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে তাদের আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানায় নেওয়া হয়।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সী এক তরুণী হাসপাতালে রোগী হিসেবে ভর্তি ছিলেন। তার সঙ্গে ২০ বছর বয়সী অপর এক তরুণী সেবিকা হিসেবে অবস্থান করছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের আচরণ সন্দেহজনক ও অশোভন মনে হলে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানান।

পরে চিকিৎসাধীন তরুণীর মায়ের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে থানায় নিয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। চিকিৎসাধীন তরুণী বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। প্রাথমিকভাবে তারা নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত ফৌজদারি অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবে।

ঘটনাটি হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




রুপাতলী পানি শোধনাগার চালু, বাড়ছে বরিশালের পানি সরবরাহ

বরিশাল নগরীর দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে পুনরায় চালু করা হয়েছে রুপাতলী ১৬ এমএলডি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। আধুনিকায়ন ও মেরামত কাজ শেষে বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রুপাতলী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি বরিশাল নগরীর অন্যতম প্রধান পানি সরবরাহ অবকাঠামো। প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে প্ল্যান্টটির। নদী ও খাল থেকে সংগৃহীত কাঁচা পানি আধুনিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধনের মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ সুপেয় পানিতে রূপান্তর করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্ল্যান্টে কয়েকটি ধাপে পানি শোধনের কাজ সম্পন্ন হয়। প্রথমে কাঁচা পানি সংগ্রহ করা হয়। এরপর কোয়াগুলেশন ও ফ্লকুলেশন প্রক্রিয়ায় ময়লা পৃথক করা হয়। পরে স্থিতিকরণ, ফিল্টারিং ও জীবাণুনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে পানি সরবরাহের উপযোগী করা হয়। সাম্প্রতিক আধুনিকায়নের ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও উন্নত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটি, পুরনো অবকাঠামো এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্ল্যান্টটির কার্যক্রম আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এতে নগরবাসীকে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগতে হয় এবং অনেক এলাকায় বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়।

সম্প্রতি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্ল্যান্টটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, পাইপলাইন সংস্কার, ফিল্টার ইউনিট উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রুপাতলী ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পুনরায় চালুর মাধ্যমে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বড় অগ্রগতি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্ল্যান্টটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে। পাশাপাশি নতুন পানি শোধনাগার স্থাপন, পাইপলাইন সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

নগরবাসী মনে করছেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময় রুপাতলী পানি শোধনাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে এটি বরিশালের পানি সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর অবকাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির, পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”