রেমিট্যান্সে চাঙ্গা রিজার্ভ, ছাড়াল ৩৩ বিলিয়ন ডলার

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ডলার কেনা এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল অঙ্কের রেমিট্যান্সে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক গতি ফিরেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার কেনার ফলে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হয়েছে। এসব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই রিজার্ভে স্পষ্ট উল্লম্ফন দেখা গেছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কম ধরা হয়, যা বর্তমানে ২৮ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় হিসাবেই রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আইএমএফের নিয়ম অনুযায়ী নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে। মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে পরিমাণ থাকে, সেটিকেই প্রকৃত রিজার্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সূচকে রিজার্ভের অবস্থান উন্নতির দিকে থাকায় বৈদেশিক লেনদেন ও আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয়ে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এবং রপ্তানি আয়ের গতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী মাসগুলোতে রিজার্ভ আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে আস্থা বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিশ্বে দৃষ্টান্ত হবে নির্বাচন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার কোনো ধরনের শিথিলতা দেখাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এবারের নির্বাচন এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে, যা শুধু দেশের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।

রোববার দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ফ্যাসিবাদের দোসর, সন্ত্রাসী, দুষ্কৃতকারী এবং সমাজবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যেন কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য ভোটের আগে অন্তত চার দিন নিবিড় টহল কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

তিনি জানান, চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত টহল আরও বাড়ানো হবে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। নির্বাচনের পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচনের দিন এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড এবং বিচারিক ও ভ্রাম্যমাণ আদালত—সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে ‘সমন্বিত কার্যক্রমে’ কাজ করতে হবে। এই সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গ্যাপ, অবহেলা, ত্রুটি বা দ্বন্দ্ব বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আত্মসম্মান বজায় রেখে সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইজিপি বাহারুল, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। এ সময় বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, অতীতে দুর্গাপূজায় এই অ্যাপ ব্যবহারে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, তাই এবারও কেউ অপতৎপরতার চেষ্টা করলে ছাড় পাবে না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী-১ এ ধানের শীষে ঐক্য, ফাহিমের সমর্থন ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার ঘোষণা এসেছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কস্থ সুরাইয়া ভিলায় আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরী নিজে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পটুয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দেন গণ অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলনে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদ রাজপথে একসঙ্গে লড়াই করেছে। এই রাজনৈতিক সহযাত্রার ধারাবাহিকতায় এবং পটুয়াখালীর মানুষের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশায় পটুয়াখালী-১ আসনে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্য গড়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতার ফলে পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এখন থেকে একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত টিম হিসেবে মাঠে কাজ করবেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি যেমন আন্তরিকভাবে গণ অধিকার পরিষদকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, ঠিক তেমনি পটুয়াখালী-১ আসনেও আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিত করতে গণ অধিকার পরিষদ তাদের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না, সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম, প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান, জেলা গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব শাহ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম মৃধা ও উর্মি আক্তার। এছাড়াও জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মহসিন ইসলাম, সেক্রেটারি রুবেল মাহমুদসহ দুমকি, সদর ও মির্জাগঞ্জ উপজেলার গণ অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার ও ছাত্র অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজন কাভার করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐক্য পটুয়াখালী-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন গতি আনবে এবং ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুর-১: নিরাপদ, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নমুখী পিরোজপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদ সাঈদী জনগণের জন্য মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি এলাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প কলকারখানা স্থাপন করে বেকার সমস্যা দূর করবেন।

মাসুদ সাঈদী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর-১ আসন অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত। তাই নির্বাচিত হলে তিনি পিরোজপুরকে একটি অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা করবেন, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তি স্বাবলম্বী হলে একটি পরিবার স্বাবলম্বী হবে, পরিবার স্বাবলম্বী হলে সমাজ স্বাবলম্বী হবে এবং সমাজ স্বাবলম্বী হলে রাষ্ট্র স্বাবলম্বী হবে।”

পিরোজপুর পৌরসভা হলেও চলাচলের জন্য রাস্তাঘাটের সমস্যা চরম। বিগত সময়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন না হওয়ায় তিনি রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন আনা হবে, যাতে চিকিৎসার জন্য মানুষকে বড় শহরে যেতে না হয়। নদীবেষ্টিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ এবং বাসযোগ্য পিরোজপুর উপহার দেবেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। নেতাকর্মীদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, তার দল জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাসী এবং নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ও তার দল জুলাই সনদকে সমর্থন করে বলছেন, এটি আগামীতে নতুন ফ্যাসিবাদের সৃষ্টি প্রতিরোধ করবে।

মাসুদ সাঈদী পিরোজপুর-১ আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র। রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন ২০১৪ সালে ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে। তিনি বর্তমানে সাঈদী ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান।

পিরোজপুর-১ আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাশীল আসন। এখানে পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা অন্তর্ভুক্ত, মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৭৭ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৬৬, যেখানে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার নেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে মাদকাসক্ত ছেলে হত্যা করল মা

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বৈদারাপুর মোল্লা বাড়ি এলাকায় এক নারীকে তার নিজ সন্তান হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম শেফালী বেগম (৬২)। তিনি ওই গ্রামের আহম্মদ খানের স্ত্রী। হত্যাকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত ছেলে সাগর খান (৩২) পরিবারের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। স্থানীয়দের জানান, সাগর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায়ই তিনি তার মাকে মারধর করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে মা ও ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাগর দাও দিয়ে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় শেফালী বেগমকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠায়।

ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই সাগরকে আটক করা হয়েছে। তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংখ্যা বেড়ে ৩৩০

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ (ন্যাশনাল চার্টার) নিয়ে গণভোট পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন মোট ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক। এটি ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

পূর্ববর্তী নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ জন, ১১তম নির্বাচনে ১২৫ জন, এবং ১০ম নির্বাচনে মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন।

ওআইসি’র দুই সদস্যের পর্যবেক্ষক দল নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ৭ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স-এর মতো সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবেও নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানিয়েছেন, “আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে। কয়েকটি দেশ এখনও তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।”

বর্তমানে যারা এখনও প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেনি, তাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া এবং রোমানিয়া। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম ফেমবোসা শিগগিরই তাদের পর্যবেক্ষকদের নাম ঘোষণা করতে পারে।

এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা কমলো

দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা হ্রাস করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন দাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

নতুন দামের বিবরণ অনুযায়ী:

  • ডিজেল: ১০২ টাকা থেকে কমিয়ে ১০০ টাকা
  • কেরোসিন: ১১৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১১২ টাকা
  • পেট্রোল: ১১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ১১৬ টাকা
  • অকটেন: ১২২ টাকা থেকে কমিয়ে ১২০ টাকা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভর্তুকি প্রদান থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়েছে “জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা”। এর মাধ্যমে মার্চ থেকে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেশি হলেও দেশের ব্যক্তিগত যানবাহনে বেশি ব্যবহৃত পেট্রোল ও অকটেনকে বিলাসী দ্রব্য হিসেবে ধরে রাখা হয়। এজন্য অকটেনের দাম নির্ধারণে ডিজেলের সঙ্গে লিটার প্রতি ন্যূনতম ১০ টাকা পার্থক্য বজায় রাখার জন্য ‘α’ ফ্যাক্টর প্রযোজ্য হয়।

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইতিহাস উল্লেখযোগ্য। ২০২২ সালের ৫ আগস্ট বিপিসি লিটার প্রতি ডিজেল ও কেরোসিন ৩৪ টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেন ৪৬ টাকা বৃদ্ধি করেছিল। তখন ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১১৪ টাকা, পেট্রোল ও অকটেন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেই সময় গণপরিবহনের ভাড়া সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর আগের নটিশ অনুযায়ী ২০২১ সালের নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ৬৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল, তখনও গণপরিবহনের ভাড়া প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও ভর্তুকি নীতি পরিবর্তনের কারণে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশীয় ভোক্তাদের জন্য জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নুরের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ, ব্যাখ্যা চেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি

নির্বাচন-পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি দশমিনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অবস্থিত কমিটির অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন কমিটির সদস্য ও সিভিল জজ সাব্বির মো. খালিদ।

নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবী এনামুল হকের করা লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে এই শোকজ জারি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনকে নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ), (ছ) ধারার লঙ্ঘন হয়েছে। এতে নির্বাচনী আচরণবিধির গুরুতর ব্যত্যয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাতের দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজার সেন্টারে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিসে নুরুল হক নুরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকেরা ভাঙচুর চালায়। এ সময় ওই প্রার্থীর কয়েকজন সমর্থক আহত হন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনাকে আচরণবিধিমালার ৬(ক) ধারার পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে অথবা আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা না দিলে অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নুরুল হক নুর বলেন, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ হাতে পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আইনের প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং নোটিশ হাতে পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুরের তিন আসনে ভোটের অঙ্ক

বরিশাল বিভাগের নদীবেষ্টিত জেলা পিরোজপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। ঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এই জেলার মানুষ এখন ভোটের হিসাব কষছেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে পিরোজপুরের তিনটি আসনেই এবার মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে।

জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাট-বাজার, চায়ের দোকান, গ্রাম-গঞ্জ—সবখানেই ভোটের আলোচনা। প্রার্থীদের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকরাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।


পিরোজপুর–১ : বিএনপি–জামায়াতের হেভিওয়েট লড়াই

সদর উপজেলা, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–১ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৯২ হাজারের বেশি। এই আসনে এবার সরাসরি মুখোমুখি লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল আলমগীর হোসেন। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাসুদ সাঈদী

নাজিরপুর উপজেলায় বিপুলসংখ্যক ভোটার ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট এখানে জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপজেলার ভোট যেদিকে যাবে, ফলাফলও সেদিকেই ঝুঁকবে। সদর ও পৌর এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর শক্ত ভোটব্যাংক থাকলেও, ইন্দুরকানীতে জামায়াত প্রার্থীর পারিবারিক ও সাংগঠনিক প্রভাবও কম নয়। ফলে আসনটি নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


পিরোজপুর–২ : ত্রিমুখী লড়াইয়ে মূল দ্বন্দ্ব বিএনপি ও জামায়াত

কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–২ আসনের ভোটার সংখ্যা চার লাখের বেশি। এখানে প্রার্থী রয়েছেন সাতজন।

জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচারে আছেন শামীম সাঈদী। অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকায় এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। দিন যত গড়াচ্ছে, প্রচারণার উত্তাপও তত বাড়ছে।


পিরোজপুর–৩ : বিএনপি এগিয়ে, ইসলামী আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ

মঠবাড়িয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–৩ আসনের ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার। এখানে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা হিসেবে এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। তার বিপরীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী রুস্তম আলী ফরাজী শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারেন।


সব মিলিয়ে পিরোজপুরের তিনটি আসনেই ভোটের লড়াই জমে উঠেছে। একটিতে বিএনপি তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, বাকি দুই আসনে জামায়াতের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পরিবর্তন চাইলে আমাকে একবার সুযোগ দিন

বরিশাল-৫ আসন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ, ভুল–বোঝাবুঝি ও ক্ষমতার পালাবদলের নানা স্মৃতি এই আসনের রাজনীতিকে এখনো প্রভাবিত করছে। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিজের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম

তিনি জানান, একসঙ্গে বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত আত্মবিশ্বাসের চেয়ে দায়িত্ববোধ থেকেই নেওয়া। দলের মূল্যায়নে এই দুই আসনের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে বলেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল-৫ আসনকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৃতীয় হন। পরবর্তী ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও অংশ নেন। ২০১৮ সালে ভোট বর্জনের পরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তির প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বারবার নির্বাচিত প্রতিনিধির কাজের মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। যদি পরিবর্তন চান, তাহলে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

২০০১ সালের সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভুল ঘটনা, যা তখনই স্বীকার করা হয়েছিল। ভুলের দায় স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাকে তিনি রাজনীতিতে বিরল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবুও সেই ঘটনার জের ধরে তাঁদের কারাবরণ করতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি মাহফিলে পুরোনো সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলাকে কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয় বলে দাবি করেন ফয়জুল করীম। তাঁর ভাষায়, ভুল হলে তা লুকানোর নয়, বরং স্বীকার করার শিক্ষা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় দিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে তাঁরা নির্যাতনের শিকার হলেও কোনো দলের নেতাকর্মীর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা বা হয়রানি করেননি।

ভোটের রাজনীতিতে দলীয় পরিচয়ের বাইরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা দল নয়, যোগ্যতা ও চরিত্র দেখে ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের ভোট টানার উদ্দেশ্যে নয়, বরং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই তাঁদের অবস্থান।

রাজনৈতিক বোঝাপড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সমীকরণ নতুন কিছু নয়। সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক বদলায়, জোট ভাঙে ও গড়ে। তবে এসব সমীকরণের বাইরে সাধারণ ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন—কে তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি হবেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫