নদীঘেরা চরে তরমুজের সবুজ স্বপ্ন, বদলাচ্ছে চরফ্যাশনের কৃষিজীবন

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই নদীঘেরা চরজুড়ে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটানা পরিশ্রমে ব্যস্ত থাকেন শত শত কৃষক ও শ্রমিক। কেউ পাওয়ার টিলারে জমি চাষ করছেন, কেউ তরমুজ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত, আবার কেউ শ্রমিকদের খাবারের আয়োজন করছেন। এমন দৃশ্য এখন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর মুজিবনগরে নিত্যদিনের বাস্তবতা।

তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত প্রায় ৬ হাজার ৪৩৭ একর আয়তনের এই চরের এক-চতুর্থাংশ জমি আবাদযোগ্য। নৌপথই এখানকার একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা। সরেজমিনে দেখা গেছে, তরমুজ চাষকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন প্রায় হাজারখানেক অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করছেন এই চরে।

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি—এই চার মাসই তরমুজ চাষের মৌসুম। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকরা এসে কাজ করেন। ফসল তোলার পর তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান। ক্ষেতের পাশেই ছনের দোচালা ঘরে অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছেন শ্রমিকরা। এমন শতাধিক অস্থায়ী ঘর দেখা গেছে, সঙ্গে রয়েছে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী শৌচাগারও।

শ্রমিক মো. হোসেন জানান, টানা তিন বছর ভালো ফলন হওয়ায় তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘মাসিক চুক্তিতে কাজ করি। তিন মাসের জন্য প্রতি মাসে ২২ হাজার টাকা পাই। থাকা-খাওয়া চাষির। দিনে কাজ, রাতে ক্ষেতের পাশের টং ঘরে ঘুমাই।’

মুজিবনগর ইউনিয়নের কৃষক মো. ইসমাইল ১৩ একর জমিতে থাই সুপার, থাই কিং ও আরলি ওয়ান জাতের তরমুজের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর ১৫ গণ্ডা জমির তরমুজ ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। এ বছর আগাম চাষ করেছি। আশা করছি ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা বিক্রি হবে। খরচ পড়বে প্রায় ২০ লাখ টাকা।’ তার জমিতে তরমুজের গড় ওজন ৬ থেকে ১০ কেজি।

একই এলাকার কৃষক রাকিব হোসেন ৩ কানি (৪৮০ শতাংশ) জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এতে তার ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা। সম্ভাব্য বিক্রি ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা। পাশের জমিতে কৃষক আবুল হাসেম ৬ কানি জমিতে তরমুজ চাষে ব্যাংক ঋণ নিয়ে প্রায় ১১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

চরের জমির মালিকরা জানান, এবার প্রতি কানি জমিতে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা, যা গত বছর ছিল ২২ থেকে ২৬ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে চরফ্যাশনে ১০ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘চরফ্যাশনের চরাঞ্চল তরমুজ চাষের অন্যতম আতুড়ঘর। এখানকার মাটি উর্বর এবং তেঁতুলিয়া নদীর মিঠা পানির প্রভাবে ফলন ভালো হয়। উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার তরমুজ চাষি রয়েছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ এই উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।’

নদীঘেরা এই চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ এখন শুধু ফসল উৎপাদন নয়, কৃষকের জীবনে স্বপ্ন ও স্বচ্ছলতার নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নতুন নতুন মাফিয়ার গন্ধ পাচ্ছি : নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন খাতে জড়িত অনেক মাফিয়াকে সরানো হলেও নতুন করে আবারও মাফিয়া চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নৌ উপদেষ্টা বলেন, তিনি যে মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব নিয়েছেন, সেখানেই দুর্নীতির ব্যাপক চিত্র দেখতে পেয়েছেন। এসব অনিয়ম রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক মাফিয়াকে তাড়ানো গেলেও এখন নতুন করে আবার তাদের তৎপরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া শতাধিক প্রস্তাবের একটিও এখন পর্যন্ত সরকার বাস্তবায়ন করেনি। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তিনি জানান, কমিশন আইনটির একটি খসড়া প্রস্তুত করে দিলেও কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সেটি বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া তিনি বলেন, স্থায়ী ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি। এর পরিবর্তে সরকারনির্ভর ও কার্যকারিতা হারানো প্রেস কাউন্সিল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সহায়ক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মিডিয়া সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কার্যকর ও আন্তরিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে বক্তারা অনুষ্ঠানে মত প্রকাশ করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে বরিশালে বিএনপির দুই পক্ষের উত্তেজনা ও সংঘর্ষ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে বরিশালে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ফুলের চাক ভাঙচুর ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিপরীতে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের বেদিতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার মহানগর বিএনপির ব্যানারে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস আক্তার জাহান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা স্থান ত্যাগ করছিলেন।

ঠিক একই সময়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে একই ব্যানারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও উত্তেজনায় রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আফরোজা খানম নাসরিনকে লক্ষ্য করে প্রতিপক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী চড়াও হন। তাঁকে হেনস্তা করা হয় এবং সঙ্গে আনা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। এছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনা ফুলের চাক ভেঙে ফেলার ঘটনাও ঘটে। পরে ভাঙা ফুলের চাক দিয়েই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, একই সময়ে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে দলের সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটবেন।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) বিলকিস আক্তার জাহান মুঠোফোনে বলেন, কর্মীদের মধ্যে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দল গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আজ ১৪ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনের আরেক শোকাবহ দিন।  বিজয়ের চূড়ান্তক্ষণে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশ তার বিশিষ্ট ও শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারায়। সেসব ব্যক্তিত্বের প্রতি জাতির সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তাদের স্মরণে প্রতি বছরই যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়।

উদয়ের পথে শুনি কার বাণী

ভয় নাই, ওরে ভয় নাই।

নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান

ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।

কবিতার মতো করেই শহীদ বুদ্ধিজীবীরা বেঁচে আছেন, থাকবেন  আমাদের জাতীয় জীবনে। রক্তের আখরে, কষ্টের প্রস্রবণে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিবাহী দিনটি বছর ঘুরে আবার এলো।

এ উপলক্ষে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি   পালিত হবে ।

 




পিরোজপুরে নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাজার, সড়ক ও মসজিদ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের সন্ধ্যা, গাবখান ও কচা নদীর মোহনায় নদী ভাঙনের কারণে স্বরূপকাঠি ও কাউখালী সংযোগস্থল আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট এলাকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এতে দুই পাড়ের প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া বাজার, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা এখনও হুমকির মুখে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের পশ্চিম দিকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদী ভাঙনের কারণে অনেক দোকান বারবার সরানো হয়েছে। বাজারের মসজিদের একাংশও নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া কাউখালী-শেখেরহাট সড়কের এক কিলোমিটারের বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ী ভিক্তিতে ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ নির্মাণ করছেন, তবে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নদীভাঙন রোধে এখনও কোনো টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিবছর নদী ভাঙনের কারণে আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট বাজার ও সংলগ্ন সড়ক বিপন্ন হয়। ব্যবসায়ী মো. শাহিন জানান, তার দোকান গত এক বছরে তিনবার সরিয়ে নিতে হয়েছে।

মসজিদের ইমাম গাজী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মসজিদের একাংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় নামাজ পড়ার স্থান কমে গেছে। তিনি কর্তৃপক্ষকে টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য অনুরোধ করেন।

পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান জানান, ফেরিঘাটের দুই প্রান্তে প্রায় ১৫০০ মিটার স্থায়ী বাঁধের জন্য স্টাডি চলছে। বর্তমানে অস্থায়ী ভিক্তিতে ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনার পুরাকাটা ফেরিঘাটে কথা-কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে খেয়ামাঝি নিহত

বরগুনার পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকায় কথা-কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে মো. আনসার হাওলাদার (৩৫) নামে এক খেয়ামাঝি নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুরাকাটা–আমতলী খেয়াঘাটে যাত্রী ওঠানামা নিয়ে খেয়ামাঝি আনসার হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার মো. শাহীন নামের এক ব্যক্তির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহীন ক্ষিপ্ত হয়ে আনসারের বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহত আনসারকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকায় তিনি মারা যান।

নিহত আনসার হাওলাদার বরগুনা সদর উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা ও মো. আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে (৭) ও এক মেয়ে (১০) রেখে গেছেন। অভিযুক্ত শাহীনও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পুরাকাটা খেয়াঘাটের স্থানীয়রা জানান, খেয়াঘাটে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আনসার শাহীনকে পাশে সরে দাঁড়াতে বললে তিনি অশালীন ভাষায় কথা বলেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত আলামত জব্দ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবন, গরিবের খোঁজ নেই

নদীভাঙনে সব হারিয়ে আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার এক অসহায় পরিবারপ্রধান। ৫৫ বছর বয়সী মো. সিরাজ একসময় স্বচ্ছল জীবনযাপন করলেও রাক্ষুসে মেঘনা নদীর ভাঙনে তার ঘরবাড়ি ও জমিজমা বিলীন হয়ে যায়। সব হারিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে তিনি আশ্রয় নেন শ্বশুরবাড়ির জমিতে।

বর্তমানে লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকায় শাশুড়ির জমিতে টিনের একটি ঘরে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন সিরাজ। তবে সেই ঘরটিও জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, তাই বাধ্য হয়ে টিনের ছাউনির ওপর ত্রিপল টানিয়ে রেখেছেন তিনি। নিজের নামে কোনো জমি বা ঘর না থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।

জীবিকার তাগিদে সিরাজ একটি অটোরিকশা ভাড়ায় চালান। দৈনিক আয় হয় আনুমানিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এর মধ্যে প্রতিদিন ৩০০ টাকা অটোরিকশার ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। অবশিষ্ট অর্থ দিয়েই পরিবারের খাওয়া-পরা ও চিকিৎসার খরচ চালাতে হয়। ফলে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে।

সিরাজ জানান, তার চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তবে তাদের স্বামীরা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় বিয়ের পরও মেয়েরা বাবার বাড়িতেই থাকছেন। এতে পরিবারের সদস্যসংখ্যা আরও বেড়েছে। এর পাশাপাশি তিনি নিজেও নানা রোগে ভুগছেন, তার বৃদ্ধা মা-ও অসুস্থ।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার নিজের কোনো সম্পদ নেই। অথচ অনেক মানুষ সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছে। এত অসহায় হয়েও আমি এখনো একটি সরকারি ঘর পাইনি। সরকারি চালসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা থেকেও আমি বঞ্চিত। সত্যিই গরিবের খোঁজ কেউ রাখে না।”

সরকারের প্রতি আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, “জমিসহ একটি আশ্রয়ণের ঘর ও সরকারি চাল বরাদ্দ পেলে পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম। পাশাপাশি আমার বৃদ্ধা মায়ের জন্য একটি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা খুব প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, “ভুক্তভোগী ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিধি অনুযায়ী তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অগ্নিনিরাপত্তাহীন ভবনের ঝুঁকিতে বরিশাল নগর

বরিশাল সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০০২ সালে। বর্তমানে ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে শহরে ভবনের সংখ্যা প্রায় ৬৩ হাজার হলেও এর বেশির ভাগ ভবনেই নেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। অগ্নিনিরাপত্তার এই ঘাটতি নগরবাসীর জন্য ক্রমেই বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। গত বছর হাসপাতালটির ডায়ালাইসিস ইউনিটের ভাণ্ডার কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে মুহূর্তেই রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতালে মায়ের চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন ধরে অবস্থান করা সায়েম নামের এক স্বজন জানান, তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরেও কোথাও দৃশ্যমান অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখতে পাননি।

তবে হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, শিগগিরই অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বল চিত্র দেখা গেছে শিল্প এলাকাতেও। গত ৫ ডিসেম্বর বরিশাল বিসিক শিল্প নগরীর খান সন্স টেক্সটাইল মিলের একটি সুতা উৎপাদন কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কারখানার শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটি অচল ছিল। ফলে আগুন নেভাতে শুরুতেই বেগ পেতে হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নগরের আদালতপাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকা, ভেনাস শপিং মল, মোহসীন মার্কেট ও সিটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। কোনো কোনো স্থানে থাকলেও তা কেবল নামমাত্র এবং ব্যবহার অনুপযোগী।

এ বিষয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন সিকদার বলেন, “প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস এই শহরে। কিন্তু অধিকাংশ ভবনেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকি না করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কিস্তির টাকার বদলে নেওয়া হাঁস ফেরত, এনজিওকর্মী বরখাস্ত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ের নামে এক গৃহবধূর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া চীনা হাঁসটি চার দিন পর ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এনজিও কর্তৃপক্ষ হাঁসটি গৃহবধূর হাতে তুলে দেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত এনজিওকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে টিএমএসএস এনজিওর গৌরনদী শাখার ম্যানেজার মো. রাজেক ইসলাম, ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আরাফাত ও মো. সুজন মিয়া আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাফিজা খানমের হাতে হাঁসটি তুলে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঋণের কিস্তির টাকা না পেয়ে হাঁস ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে টিএমএসএস এনজিওর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়। শনিবার সকালে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মফিউর রহমান, মাদারীপুর জোনাল কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং বরিশাল জোনাল কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে। তারা ভুক্তভোগী হাফিজা খানম, তার স্বামী মুরাদ হোসেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত মাঠকর্মী ফিরোজ খানকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এনজিও সূত্র জানায়, তাকে গত ১১ ডিসেম্বর থেকেই সাময়িক বরখাস্ত দেখানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. মুরাদ হোসেনের স্ত্রী হাফিজা খানম টিএমএসএস এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। গত ৯ ডিসেম্বর ওই ঋণের শেষ কিস্তির ১ হাজার ৩২০ টাকা আদায়ের জন্য তার বাড়িতে যান মাঠকর্মী ফিরোজ খান। কিস্তির টাকা দিতে অক্ষমতা জানিয়ে হাফিজা খানম পাশের বাড়িতে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠান থেকে তার একটি চীনা হাঁস ধরে নিয়ে যান ওই মাঠকর্মী।

পরে ১১ ডিসেম্বর হাঁসটি ফেরত পাওয়ার দাবিতে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

চার দিন পর হাঁসটি ফেরত পেয়ে হাফিজা খানম বলেন, “আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের শখের হাঁসটি ফিরে পেয়ে আমরা সবাই খুব খুশি। সংবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো হাঁসটি আর ফেরত পেতাম না।”

এ বিষয়ে টিএমএসএস এনজিওর গৌরনদী শাখার ম্যানেজার মো. রাজেক ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্ত মাঠকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ আমরা নিজ উদ্যোগে গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে হাঁসটি ফেরত দিয়েছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

বিএনপির দীর্ঘদিনের নির্বাসিত নেতা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরছেন—এ ঘোষণা আসতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ১৮ বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তারেক রহমান দীর্ঘ এক যুগ ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং সমগ্র জাতি তার এই প্রত্যাবর্তনের খবরে উচ্ছ্বসিত।

তিনি আরও জানান, ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে পা রাখার মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হবে বলে দলটি বিশ্বাস করে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলের নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দলকে সংগঠিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম