মুক্তিযুদ্ধ-ইসলামের নামে দেশকে বিভাজন করা যাবে না: নাহিদ ইসলাম

মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ইসলামের নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর শাহবাগে আগ্রাসনবিরোধী যাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে জাতি আজও সুস্পষ্ট অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধ যেমন বিভাজনের হাতিয়ার হতে পারে না, তেমনি ধর্মের নামেও দেশকে ভাগ করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই—দুটিই জনগণের।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে মুজিববাদকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রকে বিভক্ত করে রেখেছিল। অথচ মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ। প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র বারবার বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর পুরোনো রাজনৈতিক বয়ান ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা থেকে নতুন এক জাতীয় বয়ান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ওপর আঘাত। জনগণের নিরাপত্তা জনগণকেই নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসন যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তবে এখনো সরকার ও আইনের শাসনের ওপর আস্থা রাখার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশজুড়ে গ্রাম, মহল্লা ও পাড়ায় পাড়ায় আধিপত্যবাদ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা বাহিনী ছিল না, তবুও জনগণ নিজেরাই নিরাপত্তার বলয় তৈরি করেছিল। সেই ঐক্যের মাধ্যমেই সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু, শিশু-তরুণ—সবাইকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের মোকাবিলা করতে হবে ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে। একই সঙ্গে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। এনসিপির লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা: মূল অভিযুক্ত ফয়সালের বাবা আটক

রাজধানীর পল্টন থানার বিজয়নগর এলাকায় ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের বাবাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে হাদিকে গুলিতে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ একাধিক অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে র‍্যাব-২-এর একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে। অভিযানের অংশ হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদের বাবার পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। র‍্যাব সদরদপ্তর জানায়, ফয়সালের শ্যালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

র‍্যাব-২-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শামসুল ইসলাম জানান, হাদির ওপর গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায় ফয়সালের বড় বোন জিয়াসমিনের বাসার আশপাশে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ওই বাসা থেকে সরাসরি অস্ত্র না মিললেও বাসা সংলগ্ন দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ১১ রাউন্ড গুলি, দুইটি ভরা ম্যাগাজিন এবং একটি চাকু। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর ওই এলাকা থেকে বের হয়ে যান। একই দিন বিকেলের দিকে ফয়সাল, তার সহযোগী, তার মা ও ভাগিনাকে দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থানে কিছু বের করতে দেখা যায়। পরে তারা একটি সিএনজিযোগে এলাকা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ওই স্থান থেকেই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

একই অভিযানে ফয়সালের বোনের বাসা থেকে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস জব্দ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে একটি ট্যাব, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি বাটন ফোন, দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন কোম্পানির পাঁচটি চেক, বিভিন্ন ব্যাংকের ১৫টি চেক বই, ছয়টি পাসপোর্ট এবং ৩৮টি ব্যাংক চেকের পাতা।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাদির ওপর গুলির ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যাচেষ্টা মামলায় উদ্ধার করা আলামত ও তথ্য-উপাত্ত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে স্মৃতিবেদিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হাতাহাতির ঘটনায় বরিশালে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্রে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম জানান, মহানগর বিএনপির একজন নেত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অভিযোগকারী আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দেওয়ার সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী

তিনি আরও বলেন, হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে আইনগত প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দলের অভ্যন্তরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জিজ্ঞাসাবাদে সদুত্তর দিতে পারেননি আনিস আলমগীর

সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেওয়ার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের একাধিক বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সে কারণেই রাতটি তাকে ডিবি কার্যালয়েই কাটাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি আনিস আলমগীর। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আপাতত তাকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, আনিস আলমগীরকে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেগুলোর কিছুতে তিনি স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারেননি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেহেতু আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, তাই তাকে রাতের জন্য ডিবি কার্যালয়েই অবস্থান করতে হচ্ছে।

এর আগে রাতে আনিস আলমগীরকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। তখন ডিবি প্রধান জানিয়েছিলেন, কিছু নির্দিষ্ট তথ্য ও বিষয় পরিষ্কার করার জন্যই তাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমে জানানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম থেকে আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নেওয়া হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৭ বিমা কোম্পানির নিরীক্ষকের মতামতে বিএসইসির উদ্বেগ

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তালিকাভুক্ত ২৭টি বিমা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও সুশাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষকরা। কোথাও প্রতিকূল মতামত, কোথাও শর্তযুক্ত মতামত, আবার কোথাও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ টিকে থাকা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নিরীক্ষকদের এ ধরনের মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদনে যদি ‘গোয়িং কনসার্ন’ বা ভবিষ্যতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ থাকে, তবে সেটি পুঁজিবাজারের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত। এসব কারণেই বিমা খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।

এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আইডিআরএর চেয়ারম্যান বরাবর বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে আসা পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরে প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যেসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড, জনতা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোথাও আর্থিক তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে, কোথাও আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে নিরীক্ষকরা বিশেষ কোনো বিষয়ে আলাদা করে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছেন। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ব্যবসা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয় একত্রে বিমা খাতের সামগ্রিক আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের ওপর প্রশ্ন তৈরি করছে।

বিএসইসির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ ধরনের প্রতিকূল বা শর্তযুক্ত মতামত বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ। পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে হলে আর্থিক প্রতিবেদনগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইডিআরএ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বিমা খাতে আর্থিক সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে কমিশন।

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকদের মতামতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আইডিআরএকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তাদের এখতিয়ারভুক্ত।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল-আমিন মনে করেন, আর্থিক খাত সংস্কারের আলোচনায় বিমা খাত অনেকটাই উপেক্ষিত। দাবি পরিশোধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতার কারণে এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে। তার মতে, ফরেনসিক নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো গেলে বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি সম্ভব। একই সঙ্গে দ্রুত অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করে বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনাও জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাদী হামলা, মাসুদের হিসাব জব্দ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। একই সঙ্গে তার মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’-এর ব্যাংক হিসাবও জব্দের আওতায় আনা হয়েছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্দেহভাজনের আর্থিক লেনদেন, আয়-ব্যয়ের উৎস এবং সম্ভাব্য অপরাধ সংশ্লিষ্ট অর্থের গতিপথ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না।

ফয়সাল করিম মাসুদ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তার মালিকানাধীন ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও সফটওয়্যার সল্যুশন নিয়ে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সদস্য হিসেবেও তালিকাভুক্ত। এছাড়া ২০১৬ সালে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতা এবং বেসিসের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কম্পিউটার গেম ‘ব্যাটল অব ৭১’ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াইসিইউ টেকনোলজি লিমিটেডের মালিকও ছিলেন তিনি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হাদীর ওপর হামলার ঘটনার পরপরই ফয়সাল করিমের নাম সামনে আসে। বিভিন্ন স্থানে ওসমান হাদীর সঙ্গে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির সঙ্গে হামলাকারীর চেহারার সাদৃশ্য পাওয়ায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, ঘটনার আগে কিছুদিন ধরে হাদীর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। ফয়সাল করিম মাসুদ একসময় কার্যক্রমনিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে গঠিত আসনভিত্তিক সমন্বয়ক কমিটিতেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি এখনো চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

এই ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী হামলাকারীকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার কথা জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি প্রধান আসামি ছিলেন। ওই মামলায় র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। জামিনে থাকা অবস্থাতেই এবার ওসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনায় তার নাম উঠে এলো।

এনবিআর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আর্থিক হিসাব জব্দের মাধ্যমে হামলার পেছনের অর্থনৈতিক যোগসূত্র, পরিকল্পনা ও সহযোগীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বন্ধ কারখানা, লাফানো শেয়ারদর

প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ, চার বছর ধরে আর্থিক প্রতিবেদন অনুপস্থিত—এমন অনিশ্চিত বাস্তবতার মধ্যেও শেয়ারবাজারে চমক দেখিয়েছে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ নভেম্বর রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারদর ছিল মাত্র ১ টাকা ৪০ পয়সা। এরপর ধীরে ধীরে দর বাড়তে শুরু করে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ এক মাসের কম সময়ে শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ২১ গুণ।

অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ডিএসইর কর্মকর্তারা ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে রিজেন্ট টেক্সটাইলের কারখানায় কোনো উৎপাদন কার্যক্রম খুঁজে পাননি। স্টক এক্সচেঞ্জের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানিটির কারখানা ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকেই বন্ধ রয়েছে। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী কোনো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে তা বিনিয়োগকারীদের অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে রিজেন্ট টেক্সটাইল এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি।

দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করাও কোম্পানিটিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল রিজেন্ট টেক্সটাইল। এরপর চার বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো আর্থিক তথ্য বিনিয়োগকারীদের সামনে আসেনি। ফলে কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা, দায়-দেনা কিংবা ব্যবসায়িক সক্ষমতা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা অন্ধকারেই রয়েছেন।

সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২০-২১ অর্থবছরের আর্থিক তথ্যে দেখা যায়, ওই বছরে কোম্পানিটির মোট আয় ছিল ১১০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরে আয় ছিল ৮৬ কোটি টাকা। তবে আয় বাড়লেও লোকসানের বোঝা আরও ভারী হয়। ওই অর্থবছরে কর পরবর্তী নিট লোকসান দাঁড়ায় ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি, যেখানে আগের অর্থবছরে লোকসান ছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা।

একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়ায় ১ টাকা ৬২ পয়সায়, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩১ পয়সা। ২০২১ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) হিসাব করা হয়েছিল ২৬ টাকা ৫২ পয়সা। তবে ওই অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি রিজেন্ট টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ। আগের অর্থবছরে মাত্র ১ শতাংশ নগদ ও ১ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ, আর্থিক প্রতিবেদন অনুপস্থিত এবং ধারাবাহিক লোকসানের পরও এমন দর বৃদ্ধি স্বাভাবিক নয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে এবং বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেনের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইইউতে কমলো, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়লো পোশাক রপ্তানি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই থেকে নভেম্বর) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নতুন বা অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কিছুটা কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের পোশাক খাত।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আলোচ্য পাঁচ মাসে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১৩ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৬১১ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরে ব্যবধানে সামগ্রিকভাবে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হলেও সেখানে রপ্তানিতে সামান্য ভাটা পড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৮৩ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে এই রপ্তানি ছিল ৭৯১ কোটি ডলার। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবণতা। আলোচ্য পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৮৪ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ডলার। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

এদিকে অপ্রচলিত বা নতুন বাজারগুলোতে পোশাক রপ্তানি কমেছে। এই বাজারের আওতায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এসব নতুন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৬৭ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে এই রপ্তানি ছিল ২৭৫ কোটি ডলার। ফলে নতুন বাজারে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

ইপিবির সার্বিক পরিসংখ্যানে আরও জানানো হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩ কোটি মার্কিন ডলারে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ৯৯১ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ভোক্তা চাহিদার পরিবর্তন এবং বাজারভেদে নীতিগত পার্থক্যের কারণে রপ্তানিতে এই বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধি পোশাক খাতের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি, বাবুগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে শোকের মাতম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের প্রতাবপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুবেদার সুলতান আহমেদের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরিফ ওসমান হাদি ২০২০ সালে সুলতান আহমেদের কন্যা রাবেয়া শম্পাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। হঠাৎ এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

ওসমান হাদির শ্বশুর সুলতান আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার জামাই ছিলেন সৎ ও প্রতিবাদী মানুষ। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করতেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবেই সন্ত্রাসীরা তার জামাইয়ের ওপর গুলি চালিয়েছে। তার দাবি, ওসমান হাদি যদি ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতেন, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওসমান হাদির শাশুড়ি শাহানাজ বেগম ও শালা কাইয়ুম হোসেন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এদিকে প্রতিবেশী ও স্বজনরা শ্বশুরবাড়িতে ছুটে এসে পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন।

সুলতান আহমেদ দেশবাসীর কাছে তার জামাইয়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি বর্তমানে ঢাকার রামপুরা এলাকায় বসবাস করেন। তার বৃদ্ধ মা সেখানেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বানারীপাড়ার দুই শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মরণ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী বানারীপাড়ার দুই সন্তান—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমদ্দার—আজও এলাকার মানুষের মনে অমর। তারা দেশের স্বাধীনতার জন্য বীরত্বপূর্ণ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং বুদ্ধিজীবী সমাজে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার পরিবার ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর রাতে স্বাভাবিকভাবে দিনের কাজ শেষ করে ঘরে ছিলেন। হঠাৎ রাস্তায় জনতার ভিড় ও লাইট বোমার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পাক সেনারা তাদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ড. গুহঠাকুরতাকে হত্যা করে। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও সঠিক চিকিৎসা সম্ভব হয়নি এবং ৩০ মার্চ ১৯৭১ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ড. গুহঠাকুরতার জন্ম ময়মনসিংহে হলেও পৈত্রিক নিবাস বরিশালের বানারীপাড়ায়। শিক্ষাজীবন শুরু হয় ময়মনসিংহের জিলা স্কুল থেকে, এরপর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও আনন্দমোহন কলেজে পড়াশোনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি শিক্ষকতা, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। বানারীপাড়া পৌর শহরে তার নামানুসারে স্কুল প্রতিষ্ঠা ও রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সুখরঞ্জন সমদ্দার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে পরিচিত ছিলেন। ১৪ এপ্রিল ১৯৭১ পাক সেনারা তাকে তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং বিনোদপুরে হত্যা করে ফেলে। তার পরিবার তখন ভারতেই ছিলেন। স্বাধীনতার পর দেহাবশেষ উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে পুনঃসমাহিত করা হয়।

সুখরঞ্জন সমদ্দারের জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে বানারীপাড়ার ইলুহার গ্রামে। তিনি বরিশালের স্থানীয় স্কুল ও কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন, পরে কলকাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিষয়ে শিক্ষা অর্জন করেন।

বানারীপাড়ার মানুষরা দুই শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মৃতি রক্ষার্থে তাদের ভাস্কর্য নির্মাণসহ প্রজন্মকে জানাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২5