নজরুলের পাশে চিরনিদ্রায় হাদি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে। শনিবার দুপুরে রাজধানীতে লাখো মানুষের শোক ও আবেগঘন পরিবেশে তার শেষ যাত্রা সম্পন্ন হয়। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হওয়া মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যান বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছালে জনতার ঢল নেমে আসে। স্বজন, সহযোদ্ধা, রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সাধারণ মানুষ রাস্তাজুড়ে দাঁড়িয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় চোখেমুখে ছিল শোক আর ক্ষোভের মিশ্র ছাপ।
দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজা শেষে মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও টিএসসি এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফ্রিজার ভ্যান থেকে মরদেহ নামানোর সময় তার সমর্থকদের মধ্যে কান্না ও শোকের ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তার কবরটি নজরুলের খুব কাছে—যা তার অনুসারীদের কাছে এক প্রতীকী মর্যাদা ও সম্মানের স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাদির মৃত্যু দেশব্যাপী শোকের স্রোত বয়ে আনে। ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে রিকশায় থাকা অবস্থায় তিনি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। পরদিন সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটে মরদেহ দেশে আনা হয়। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এ তরুণ নেতা সম্প্রতি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের লক্ষ্যে গড়ে তুলেছিলেন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ও ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’—যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন রাজনৈতিক চিন্তার বীজ বপন করেছিলেন তিনি।
তার সহযোদ্ধা, শ্রেণি-সংগঠন নেতৃবৃন্দ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাদির মৃত্যু কেবল একটি পরিবার বা সংগঠনের ক্ষতি নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের এক উদীয়মান নেতৃত্বের নির্মম পরিসমাপ্তি। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন একটি বিকল্প চিন্তার প্রতীক। তাই নজরুলের পাশে তার চিরনিদ্রা গ্রহণ অনেকের কাছে স্বাধীনতা, ন্যায় এবং পরিবর্তনের সংগ্রামের ধারাবাহিকতার象 একটি চিরস্থায়ী প্রতীক হয়ে রইল। কবরস্থানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের ভাষায়—হাদি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ, ন্যায়বিচারের দাবিতে দৃঢ়চেতা এক তরুণ, যার শূন্যতা পূরণ হবে না সহজে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




ভাইয়ের ইমামতিতে শহীদ হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা শরিফ ওসমান হাদির জানাজা শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ও জনসাধারণের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শুরু হয়, যেখানে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত এ জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি প্রাঙ্গণজুড়ে ভক্ত-অনুসারীদের আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই তরুণ নেতার মৃত্যু সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক, যিনি জানাজার ইমামতি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভাইয়ের জন্য দোয়া চাইতে সবাইকে আহ্বান করেন। জানাজা ঘিরে পুরো এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং কোনো প্রকার নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। রাজনৈতিক নেতারা হাদির অবদান, সাহসিকতা ও তরুণ প্রজন্মের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার কথা স্মরণ করেন। অনেকেই জানান, এই মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে নতুনভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা জানাজায় উপস্থিত থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাদের মতে, গণআন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব এবং জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলার সাহস দেখানোর মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে আন্দোলনপন্থী শক্তি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে শূন্যতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। জানাজা উপলক্ষে দক্ষিণ প্লাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল—হাঁটা, গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন জেলা থেকেও সমর্থকরা উপস্থিত হন।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, অংশগ্রহণকারীদের ব্যাগ ও ভারী বস্তু না আনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল যেন কোনো প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় এবং অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়। জানাজা শেষে জনসাধারণ শহীদ হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। কর্মী ও রাজনৈতিক সমর্থকদের অনেকেই জানান, তার আদর্শ ও চিন্তাধারা ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করবে। তরুণদের জন্য একজন পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে হাদির নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে—এমনটাই মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন তারেক রহমান

লন্ডনে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থানকালীন আইনগত কাগজপত্র সম্পূর্ণ করতে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনে ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষও তার দেশে ফেরা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করছেন, ফলে বিষয়টি এখন জাতীয় পরিমণ্ডলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নতুন উদ্দীপনা। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, জাতীয় রাজনীতি ও আগামী দিনের আন্দোলন—সবকিছুর সঙ্গে তার ফেরা সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র বলছে, ট্রাভেল পাসের ফরম পূরণ ও দাখিলের বিষয়টি তারেক রহমান নিজে সম্পন্ন করলেও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দলীয় এক প্রতিনিধির মাধ্যমে তা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়টি কূটনৈতিক মহলেও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। কারণ, ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন মানেই দেশে ফেরার একটি আনুষ্ঠানিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি সরাসরি ঘোষণা দেন যে ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন। দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও একই তারিখ নিশ্চিত করেছেন। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দেশে ফেরার দিন-ক্ষণ ঘিরে শুরু হয়েছে তৎপরতা—রাজনৈতিক উত্তাপ, আইনগত প্রস্তুতি ও গণমাধ্যমের জোরালো আলোচনা।

বিএনপি নেতারা নিশ্চিত করেছেন, জাতীয় বিমান সংস্থার একটি নির্ধারিত ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরবেন, এবং ঢাকায় অবতরণ করার সম্ভাব্য সময় দুপুরের কাছাকাছি। এ ছাড়া তার ব্যক্তিগত সফরসূচিতে রয়েছে লন্ডন থেকে সিলেট, তারপর ঢাকায় পৌঁছানো। মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত—এটিও আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিশেষত আগামী দিনের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, দল পুনর্গঠন, নেতৃত্ব শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার মতো বিষয়গুলোতে এ প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য—তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার প্রত্যাবর্তন নয়; এটি তৎকালীন রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত আন্দোলন-সংগঠন ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে দলটি মনে করছে। একই সাথে বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হবে নতুন সমীকরণ, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মিশ্র অবস্থা। সব মিলিয়ে, তারেকের ট্রাভেল পাস আবেদন ও ফেরা—জাতীয় রাজনীতির গতি-প্রকৃতি পাল্টে দিতে পারে—এমনটাই বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর মৃত্যু

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ও জনআন্দোলন সংগঠক ওসমান হাদি আর নেই। সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পরিবার, সংগঠন এবং অনুসারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন; তবে শেষ পর্যন্ত গুরুতর শারীরিক জটিলতা থেকে আর ফিরে আসা হলো না।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে তাকে ‘বিপ্লবী’ হিসেবে উল্লেখ করে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্র ও জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলা এবং প্রতিবাদ-সংগ্রামের রাজনীতিতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অবস্থান ও বক্তব্য বহু তরুণকে আন্দোলনের প্রতি অনুপ্রাণিত করেছিল।

যদিও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানা গেছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার মৃত্যুতে ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়াও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক সচেতন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই মনে করেন, তার মতো তরুণ নেতার অকাল প্রয়াণ আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে একটি শূন্যতা তৈরি করবে।

ইনকিলাব মঞ্চ তাদের শোকবার্তায় উল্লেখ করে, জাতীয় স্বার্থ, প্রতিবাদ এবং জনগণের অধিকার—এসব ইস্যুতে হাদি ছিলেন আপসহীন কণ্ঠ। তার সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতিনিধি। তার মৃত্যুর ঘটনায় সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি শোকসপ্তাহ ঘোষণার মাধ্যমে স্থগিত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

ওসমান হাদীর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী এবং রাজনৈতিক মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে শোকসভা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকেও শোক ও সমবেদনা জানানো হচ্ছে। তার রাজনৈতিক জীবনের লক্ষ্য ও আদর্শ আগামী দিনে তার অনুসারীদের অনুপ্রাণিত করবে—এমন প্রত্যাশা অনেকের কণ্ঠে শোনা গেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারতের পরামর্শ প্রত্যাশা নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিবেশী ভারতের সদ্য প্রদত্ত মন্তব্য নিয়ে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন কীভাবে হবে—তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা শুধুমাত্র বাংলাদেশের জনগণ এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের। অন্য কোনো রাষ্ট্রের নির্দেশনা বা পরামর্শ গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই এবং এই ধরনের মন্তব্য বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয়।

বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা মর্যাদার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিগত পনেরো বছরে যে নির্বাচনব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তার সময় ভারতের নীরবতা ছিল স্পষ্ট। অথচ এখন নির্বাচন সংস্কারের পথে হাঁটতেই পরামর্শ প্রদানকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন পরিচালনা ও গণতান্ত্রিক চর্চা সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সম্পর্কে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই সচেতন। নির্বাচনের ফল জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে—এটাই সরকারের অঙ্গীকার। পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক তলব ও পাল্টা তলবকে তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। সার্বভৌমত্ব বিষয়ক মতপার্থক্য থাকলে কূটনৈতিকভাবে প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক বলেও তিনি ব্যাখ্যা করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করে সম্প্রতি সামাজিক ও প্রচলিত গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। এগুলোকে উসকানিমূলক বলে দাবি করেন তিনি এবং সেসব বক্তব্য বন্ধে বাংলাদেশ যে অনুরোধ জানাতে পারে, সেটি আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির বিরোধী নয়।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখতে হলে উভয়কেই দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সহযোগিতাপূর্ণ পর্যায়ে ধরে রাখার দিকে ঢাকা অঙ্গীকারবদ্ধ।

এদিকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা বিষয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, আজকের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এবং ভিয়েনা কনভেনশনের শর্ত পূরণে সক্ষম—এটিও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে আগরতলা ও কলকাতায় বাংলাদেশের মিশনের বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে এবং আগরতলায় হামলাও হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রভাগের সাহসী নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় তাকে দেখতে উপস্থিত হন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান। বুধবার স্থানীয় সময় হাসপাতালে পৌঁছে তিনি হাদির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

রাতের দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি ফোনযোগে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে হাদির ওপর চলমান চিকিৎসা সম্পর্কে অবহিত করেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ফোনালাপে তিনি জানান—হাদির অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থার উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

হাদির ওপর হামলার ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষত তিনি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায়, তাঁর উপর হামলার প্রতিক্রিয়া দেশ-বিদেশে গভীর আলোচনা তৈরি করেছে। চিকিৎসাধীন হাদিকে দেখতে সিঙ্গাপুর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতার উপস্থিতি বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এনে দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাদির সুস্থতা কামনায় দোয়া ও প্রার্থনায় অংশ নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে—হাদির ওপর হামলার ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে হাদিকে একজন সাহসী ও আপোষহীন চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতে তিনি যেভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন—তা তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসার প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নানা সংকটে বরগুনার শুঁটকিশিল্প, হুমকিতে উপকূলের ঐতিহ্য

প্রায় আট মাসের নীরবতা কাটিয়ে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে। তালতলী উপজেলার আশারচর, নিদ্রারচর, সোনাকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে শুঁটকিপল্লী। মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে পুরোদমে কাজে নেমেছেন জেলেরা। রোদে মাছ শুকাতে ব্যস্ত নারী-পুরুষ ও শিশু শ্রমিকরা। তবে প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালেই জমে উঠেছে নানা সংকট, যা ধীরে ধীরে হুমকির মুখে ফেলছে এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাকৃতিক ও বিষমুক্ত উপায়ে উৎপাদিত বরগুনার শুঁটকির চাহিদা দেশজুড়ে রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ পেলে এ শিল্প আরও বিকশিত হতে পারত। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোর অভাব, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সংকটসহ একাধিক সমস্যায় ঐতিহ্যবাহী শুঁটকিশিল্প আজ ধুঁকছে।

প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে শুঁটকির মূল মৌসুম। তবে প্রস্তুতি শুরু হয় অক্টোবর থেকেই। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলে ও শ্রমিকরা তালতলীর আশারচর, নিদ্রারচরসহ উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে এসে কাজ শুরু করেন। পুরো মৌসুমজুড়ে দিন-রাত শুঁটকি উৎপাদনেই কাটে তাদের সময়।

এ বছর রাসায়নিক ও অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি উৎপাদনের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে শুঁটকির মান ভালো হচ্ছে বলে জানান তারা। মিঠা পানির দেশি মাছের শুঁটকির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত আশারচর ও নিদ্রারচর। এ মৌসুমে এসব পল্লীতে সহস্রাধিক জেলে ও শ্রমিক কাজ করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, আশারচর ও নিদ্রারচর থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১০০ মণ শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম, খুলনা, জামালপুর, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন বাজারে এসব শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। কিছু শুঁটকি বিদেশেও রপ্তানি হয়। তবে সরকারিভাবে রপ্তানির সুযোগ পেলে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব বলে দাবি তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুঁটকিপল্লীতে প্রায় ৫০টির মতো অস্থায়ী ঘরে জেলে ও শ্রমিকরা বসবাস করছেন। কেউ মাছ পরিষ্কার করছেন, কেউ মাচায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকনো মাছ সংগ্রহ করে গুদামজাত করছেন। নদী থেকে আনা মাছ নারী ও শিশু শ্রমিকরা পরিষ্কার করে ধুয়ে রোদে শুকান। তিন থেকে চার দিনের রোদে মাছ শক্ত হয়ে শুঁটকিতে পরিণত হয়।

এখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির সামুদ্রিক ও মিঠা পানির মাছের শুঁটকি তৈরি হয়। এর মধ্যে রূপচাঁদা, ছুরি, লইট্টা, তপসে, কোরাল, চিংড়ি, ভোল, মেদসহ নানা জাতের মাছ রয়েছে। বর্তমানে ছুরি মাছের শুঁটকি কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, রূপচাঁদা এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা এবং লইট্টা ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে লাভের আশার মধ্যেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রধান সড়ক থেকে শুঁটকিপল্লী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা অত্যন্ত বেহাল। ট্রাক ঢুকতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে লাভ কমে যাচ্ছে।

শুঁটকিপল্লীতে দীর্ঘদিন কাজ করা নারী শ্রমিক কুলসুম বেগম বলেন, “আমরা নারী-পুরুষ সবাই সমানভাবে কাজ করি, কিন্তু এখানে নারীদের জন্য কোনো টয়লেট ব্যবস্থা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থায়ী টয়লেট ও টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা হলে অনেক উপকার হতো।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শুঁটকিশিল্পের সংকটের কথা তুলে ধরছেন। সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরাজি মো. ইউনুছ বলেন, এক সময় এখানকার শুঁটকিশিল্পের সঙ্গে প্রায় তিন থেকে চার লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমানে অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা ও চিকিৎসা সংকটের কারণে শিল্পটি পিছিয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপরিশোধিত বর্জ্যে সাগরের পানি দূষিত হচ্ছে, এতে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে—যা শুঁটকিশিল্পের জন্য বড় হুমকি।

বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, শুঁটকিশিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত। এখানে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে তালতলীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেবক মণ্ডল জানান, শুঁটকিশিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লী এখন সম্ভাবনা ও সংকট—দুটোরই মুখোমুখি। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে ভোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৫

ভোলার সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নে বিজয় দিবসের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে ভোলা সদরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের জামায়াত নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে শোভাযাত্রাটি ভেলুমিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে জামায়াত কর্মী আবুল বাশারকে ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি কর্মী রিয়াজ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে রিয়াজ চোখে আঘাত পান এবং উত্তেজনার মধ্যে বিএনপির কয়েকজন কর্মী আবুল বাশারকে মারধর করেন। পরে আহত দুজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এশার নামাজের আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভেলুমিয়া বাজারে বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি চরন্দ্রপ্রসাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল হান্নানসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের কেউ স্থানীয়ভাবে, কেউ ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সংঘর্ষের সময় বাজারের পাঁচ থেকে ছয়টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর রাত ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমির কামাল হোসেন দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে দুই দফা হামলা চালিয়ে জামায়াতের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজয় দিবসে জামায়াতের মিছিল মেনে নিতে না পেরে এই সহিংসতা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, দুপুরের ঘটনাটি নিয়ে রাতে আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে বিএনপির বিজয় মিছিল চলাকালে কিছু জামায়াত-শিবির কর্মী উসকানিমূলক আচরণ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তার দাবি, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে বিএনপিরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভালো থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াত সংঘাতমুখী অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচন বানচাল করতেই তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। উভয় পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

শয্যা সংকটে এক বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে তিন শিশু

বরিশালে হঠাৎ করে ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশুরা। রোগীর চাপ সামলাতে না পেরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বেডে তিনজন শিশুকে একসঙ্গে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়া, জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিনগুণ বেশি শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বেডেই অতিরিক্ত রোগী। মেঝেতেও অনেক শিশুকে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। মেহেন্দীগঞ্জ থেকে আসা আরজু বেগম বলেন, “আমার ছেলেটা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অনেক কষ্টে একটা বেড পেলেও সেখানে আরও দুইজন রোগী আছে। ঠিকমতো বসা বা শোয়ার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।”

একাধিক রোগীর স্বজন জানান, একই বেডে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হওয়ায় শিশু ও অভিভাবক—উভয়েই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও স্বাচ্ছন্দ্য না থাকায় রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. নুরুল আলম বলেন, “শীতকালে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের গরম কাপড় পরানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, গরম পানি পান করানো ও প্রয়োজনে গরম পানি দিয়ে গোসল করানো জরুরি। এতে অনেক ক্ষেত্রে বাসাতেই প্রাথমিক চিকিৎসা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। কিছুটা চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হলেও চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক একেএম নাজমুল আহসান বলেন, “রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও সবাইকে চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে। যেসব শিশু বেশি সংকটাপন্ন, তাদের বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।”

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে মাত্র ৪১টি। অথচ প্রতিদিন শতাধিক শিশু সেখানে ভর্তি থাকছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু, যাদের অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের এই সময়টায় শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন ও সতর্কতা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের ছয় আসন: চারটিতে কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএনপি

 দীর্ঘ ১৭ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ না থাকায় বরিশালের ছয়টি আসনেই জয় নিয়ে আশাবাদী বিএনপি। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, সহজ পথ পাচ্ছে না দলটি। মাঠে আগে থেকেই সক্রিয় জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে অন্তত চারটি আসনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বিএনপি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের সমীকরণে এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিত ভোটব্যাংক, সংখ্যালঘু ভোট এবং জোট রাজনীতি।


বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া): জটিল সমীকরণ

এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁর বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের রাসেল সরদার (মেহেদী) এবং জামায়াতে ইসলামীর কামরুল ইসলাম খান মাঠে রয়েছেন। তবে আসনের সমীকরণ জটিল করে তুলেছেন বিএনপির নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান।

মনোনয়ন না পেলেও মাঠে সক্রিয় থাকা সোবাহানকে ঘিরে গুঞ্জন চলছে, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। সংখ্যালঘু ভোট এবং আওয়ামী লীগপন্থি ভোটারদের সমর্থন এখানে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট যেদিকে যাবে, জয়ও সেদিকেই ঝুঁকবে।


বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া): অভির প্রত্যাবর্তন ফ্যাক্টর

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম সরফুদ্দিন সান্টু। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল মান্নান এবং ইসলামী আন্দোলনের নেছার উদ্দিন।

তবে সব হিসাব পাল্টে যেতে পারে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি দেশে ফিরতে পারলে। তাঁর ফেরাকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনা চলছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী): বহু প্রার্থীর লড়াই

এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতের জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ইসলামী আন্দোলনের সিরাজুল ইসলাম এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

এ ছাড়া বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে। ফলে এই আসনে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন স্থানীয়রা।


বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ): বিএনপির ভেতরে ক্ষোভ

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী রাজিব আহসান। তবে মনোনয়ন ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের অনুসারীদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক যে পক্ষ দখল করতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।


বরিশাল-৫ (নগর ও সদর): সরোয়ারের দুর্গে হানা

বরিশাল-৫ আসনটি বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পাঁচবারের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার এবারও প্রার্থী। তবে তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং জামায়াতের মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

চরমোনাই পীরের বাড়ি হওয়ায় হাতপাখার ভোটব্যাংক এখানে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জোট সমঝোতা হলে এই আসনে ভোটের চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে।


বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): সমঝোতার অপেক্ষা

এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁর বিপরীতে জামায়াতের মাওলানা মাহামুদুন নবী তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সমঝোতা হলে ফলাফলের ওপর তার বড় প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বরিশালের ছয়টি আসনে বিএনপি আশাবাদী হলেও বাস্তবে চারটি আসনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারে দলটি। জোট রাজনীতি, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিত ভোটব্যাংক—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করে দেবে বরিশালের নির্বাচনী ভাগ্য।