নজরুলের পাশে চিরনিদ্রায় হাদি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে। শনিবার দুপুরে রাজধানীতে লাখো মানুষের শোক ও আবেগঘন পরিবেশে তার শেষ যাত্রা সম্পন্ন হয়। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হওয়া মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যান বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছালে জনতার ঢল নেমে আসে। স্বজন, সহযোদ্ধা, রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সাধারণ মানুষ রাস্তাজুড়ে দাঁড়িয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় চোখেমুখে ছিল শোক আর ক্ষোভের মিশ্র ছাপ।
দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজা শেষে মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও টিএসসি এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফ্রিজার ভ্যান থেকে মরদেহ নামানোর সময় তার সমর্থকদের মধ্যে কান্না ও শোকের ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তার কবরটি নজরুলের খুব কাছে—যা তার অনুসারীদের কাছে এক প্রতীকী মর্যাদা ও সম্মানের স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাদির মৃত্যু দেশব্যাপী শোকের স্রোত বয়ে আনে। ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে রিকশায় থাকা অবস্থায় তিনি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। পরদিন সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটে মরদেহ দেশে আনা হয়। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এ তরুণ নেতা সম্প্রতি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের লক্ষ্যে গড়ে তুলেছিলেন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ও ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’—যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন রাজনৈতিক চিন্তার বীজ বপন করেছিলেন তিনি।
তার সহযোদ্ধা, শ্রেণি-সংগঠন নেতৃবৃন্দ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাদির মৃত্যু কেবল একটি পরিবার বা সংগঠনের ক্ষতি নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের এক উদীয়মান নেতৃত্বের নির্মম পরিসমাপ্তি। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন একটি বিকল্প চিন্তার প্রতীক। তাই নজরুলের পাশে তার চিরনিদ্রা গ্রহণ অনেকের কাছে স্বাধীনতা, ন্যায় এবং পরিবর্তনের সংগ্রামের ধারাবাহিকতার象 একটি চিরস্থায়ী প্রতীক হয়ে রইল। কবরস্থানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের ভাষায়—হাদি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ, ন্যায়বিচারের দাবিতে দৃঢ়চেতা এক তরুণ, যার শূন্যতা পূরণ হবে না সহজে।
“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “








