এআই রোবটিক চিকিৎসায় নতুন যুগ, বিএমইউতে চালু আধুনিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার

দেশের চিকিৎসা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত এবং হাড় ও জোড়ার জটিল সমস্যায় ভোগা রোগীদের উন্নত পুনর্বাসন চিকিৎসা দিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার।

চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থাপিত এই অত্যাধুনিক সেন্টারটিতে ইতোমধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আহত রোগীরা এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক রোবটিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।

বিএমইউ’র ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. এম

 

৫৭টি রোবটের মধ্যে ২২টি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর। এসব এআই রোবট নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে, যা প্রচলিত ফিজিওথেরাপির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও নির্ভুল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্ট্রোক ও স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক হাঁটার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সেন্টারে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘জিপু এআই-১ ও ৯’ (ZEPU AI1 & AI9) নামের গেইট ট্রেনিং রোবট। একই সঙ্গে হাত ও পায়ের সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘জিপু এআই-২’ (ZEPU AI2) ও ‘জিপু এআই-৩’ (ZEPU AI3)। এছাড়া মাল্টি জয়েন্ট কনস্ট্যান্ট স্পিড ট্রেনিং সিস্টেম ‘জিপু এআই-৪’ (ZEPU AI4)-সহ আরও উন্নত প্রযুক্তির রোবট রোগীদের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিখুঁত ভঙ্গিতে চলাফেরা অনুশীলনে সহায়তা করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পে চীন সরকার প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, সেন্টারটি চালুর প্রস্তুতি হিসেবে চীনের সাত সদস্যের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষ

 

জ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ২৯ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ

এ শাকুর জানান, এই সেন্টারে মোট ৬২টি অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৭টি রোবটিক ডিভাইস এবং পাঁচটি বিশেষ ফিজিক্যাল থেরাপি ট্রেনিং বেড।

প্রাপ্ত জনবল পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের পর সেন্টারটি পুরোদমে চালু করা হবে।

এই সেন্টার থেকে স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, স্নায়বিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের দুর্বলতায় ভোগা রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, এই কেন্দ্রটি কেবল চিকিৎসাসে

বা প্রদানের স্থান নয়, বরং দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভোগা বহু মানুষের নতুন করে স্বপ্ন দেখার জায়গা। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

এছাড়া চীন সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য চীনে চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশিরা দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের সুযোগ পাবেন।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সাধারণ রোগীরাও নামমাত্র খরচে এই আধুনিক সেবা নিতে পারবেন। ফলে স্নায়ু, হাড় ও জোড়া রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে আর বিদেশমুখী হতে হবে না বলে তারা আশাবাদী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন জয়নুল আবেদীনের সমর্থকরা

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এই আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরমটি সংগ্রহ করেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের পক্ষে ফরম গ্রহণ করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান এবং সদস্য সচিব অহিদুল ইসলাম প্রিন্স।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। এ সময় উপজেলা বিএনপি ছাড়াও যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই একযোগে মাঠে কাজ করবে। তারা আরও জানান, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিএনপি এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ হিসেবে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের প্রতি এলাকাবাসীর আস্থা রয়েছে বলেও নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সক্রিয় সমর্থনে বরিশাল-৩ আসনে বিএনপি একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাদী হত্যা: মূল অভিযুক্ত মাসুদের অস্বাভাবিক লেনদেনে নজরদারি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে—মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবগুলোতে ১২৭ কোটির বেশি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২১৮ কোটি টাকার অস্বাভাবিক রেকর্ড ও লেনদেনের চেষ্টার তথ্যও পাওয়া গেছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী সিআইডি পৃথকভাবে অর্থপাচারের অনুসন্ধান শুরু করেছে, যা ঘটনাটিকে শুধু হত্যাকাণ্ড নয় বরং বড় ধরনের অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদী। ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তদন্তকারী টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিসিটিভি ফুটেজ, গুলির খোসা, ফরেনসিক নমুনা, নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে চলেছে। হত্যার পেছনে পরিকল্পিত নেটওয়ার্ক, অর্থায়ন ও অস্ত্রব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে।

তদন্তে অগ্রগতির অংশ হিসেবে গ্রেফতার অভিযানের সময় একাধিক ব্যাংকের চেকবই উদ্ধার করা হয়, যেখানে কোটি কোটি টাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও কিছু লেনদেন সম্পন্ন হয়নি, তথাপি রেকর্ড অনুযায়ী এগুলোর পরিমাণ প্রায় ২১৮ কোটি টাকা। একই সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সিআইডি জানিয়েছে।

মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এখনো পলাতক থাকলেও তার পরিবারের সদস্যসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে—আলামত ধ্বংস ও পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে। গোয়েন্দারা মনে করছে, এ ঘটনায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়নসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তদন্তাধীন।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। একজন সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং তার সাথে বিপুল আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা—রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, নির্বাচনী পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। অনুসন্ধানে সিআইডি জানিয়েছে—ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট চক্রের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য ও অর্থের উৎস উদ্ঘাটনে বহুমুখী টিম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা হত্যার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অপরাধী যত প্রভাবশালী হোক—গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মানিলন্ডারিং এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বরিশালের ৬ টি আসনেই তীব্র লড়াইয়ের আভাস

গণতন্ত্রের ধারায় উত্তরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়নের পর থেকেই বরিশালের ৬টি আসনে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে। মনোনয়ন পেয়েই বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রাথীরা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে শক্ত দল বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করতে কৌশলে এগুচ্ছেন অন্যান্য দল। মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী, জামায়াত ও চরমোনাই পীরের সহোদর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

চরমোনাই দরবার শরীফ বরিশাল সদর উপজেলাধীন হওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর বেশ কর্মী-সমর্থক রয়েছে। এছাড়াও বিগত ইউপি, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এ দলটি। বিশেষ করে মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনটিতে জয় পেতে সব দলের শীর্ষ নেতারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) এ আসনে নানান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৫ম বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়পারপারনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। টানা ৩০ বছর বরিশাল বিএনপির রাজত্বে ছিলো মজিবর রহমান সরোয়ার। দীর্ঘ এ সময়ে সরোয়ার বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি, মহানগর সভাপতি, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব ছাড়াও উপ-নির্বাচনসহ ৪ বার সংসদ সদস্য হয়ে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, হুইপ এবং সিটি মেয়র পদেও নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিগত কয়েক বছর রাজনীতির মাঠে তিনি কিছুটা কোনঠাসা থাকলেও মনোনয়ন পাওয়ার পর সকলেই একাট্টা হয়ে প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির তিন গ্রুপ, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ পদ বঞ্চিতরাও সরোয়ারকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণায় সরব রয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ধানের শীষ প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বাসসকে বলেন, এ আসনে মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করেছি। জনগণ তাই ধানের শীষে ভোট দিতে উন্মুখ। ধানের শীষের সদর উপজেলা ও নগরীতে ভোট বেশি। সদর উপজেলায় চরমোনাই পীরের বাড়ি হলেও সব সময় ধানের শীষ বেশি ভোট পেয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বাসসকে বলেন, দেশবাসী পরিবর্তন চায়। ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তার প্রমাণ দেবে। এছাড়াও বাসদ নেত্রী বরিশালের সকল পর্যায়ের শ্রমজীবি মানুষের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দেয়া ডা. মনিষা চক্রবর্তী প্রার্থী হয়েছেন সদর আসনে। মনিষা চক্রবর্তীও ইতিপূর্বে সিটি, জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে বরিশালে ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন।

বরিশাল সদর ও সিটি কপোরেশনের এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৩ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭ জন।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) এ আসনে চতুর্থবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়পারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় উচ্ছাসিত বিএনপির নেতাকর্মীরা।

জহির উদ্দিন স্বপন বাসসকে বলেন, গৌরনদী ও আগৈলঝড়া উপজেলায় দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার হয়ে কাজ করছেন। এজন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তারা আমাকে দলের প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু মান-অভিমানের ব্যাপার থাকলেও আমি যেহেতু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী, ফলে আমার সব সহকর্মী মিলেই কথাবার্তা বলে সমাধান করে ফেলেছি।

এ আসনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর প্রার্থী ঘোষণা করেছেন মো. রাসেল সরদার মেহেদীকে। এ আসনের রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ব্যানার, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোক মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে এমপি প্রার্থী হিসেবে তাদের সমর্থকরা জনগণের দৃষ্টি আর্কষনে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

গৌরনদী-আগৈলঝাড়া আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৩ হাজার ৮১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৯ জন।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে তৃতীয়বার মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)। এ আসনে সান্টু ইতিপূর্বে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন মাস্টার আবদুল মান্নান। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন। বাসদ নেতা এ্যাড. তরিকুল ইসলাম তারেক এ ৪ জনই এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

উজিরপুর-বানারীপাড়া আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৩ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আসনটিতে প্রথমবারে দলীয় প্রার্থী ঘোষাণা করলেও দ্বিতীয়বার তাকেই মনোনয়ন দেয় দল। ইতমধ্যে উচ্ছাসিত নেতাকর্মীরা তার পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে এ্যাডভোটেক জয়নুল আবেদীন বাসসকে বলেন, নির্বাচনী এ আসনটি বিএনপি অধ্যুষিত। সকল ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে জনগণের সাথে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা কাজ করবে।

তিনি বলেন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা এরই মধ্যে গণসংযোগ জোরদার করেছেন। পাশাপাশি মাঠে রয়েছে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ফুয়াদের নিজ বাড়ি বাবুগঞ্জ উপজেলাধীন হওয়ায় তিনি বাবুগঞ্জ-মুলাদীতে ইতিপূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকান্ডে সরব রয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই দলটির বরিশাল মহানগরের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরকে প্রার্থী ঘোষণা করে। জহির উদ্দিন দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল জেলার সভাপতির পদে রয়েছেন।

বাবুগঞ্জ-মুলাদীর এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুয় ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৩ জন ও নারী ভোটার ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫৩২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। রাজীব মনোনয়ন পাওয়ায় বরিশাল জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলসহ ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জে হওয়ায় তাদের নেতৃত্বে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির একাংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব চরমোনাই পীরের ছোট ভাই মুফতি সৈয়দ এছহাক আবুল খায়ের নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন অনেক আগে থেকেই।

হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) এ আসনে তৃতীয় বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ এর মাওলানা মাহমুদুন্নবী প্রার্থী হয়েছেন।

এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার জন।

আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন।

বরিশালের ৬টি আসনে এনসিপির মনোনয়ন চান ১১ জন: জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনের দুটিতে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও শাপলা কলি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এনসিপির মনোনয়ন কিনেছেন ১১ জন।

বরিশাল-১ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছেন মাজহারুল ইসলাম নিপু। তবে বরিশাল-২ আসনে এখনো চূরান্ত না হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও এনসিপির ঢাকা পল্টন শাখার সদস্য অ্যাড. আলী আকবর তালুকদার ও একই আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সংগঠনের বরিশাল মহানগর শাখার সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

এছাড়া বরিশাল-৩ আসনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোক্তার হোসেন, শিক্ষক তানজিল আলম দলটির মনোনয়ন চূরান্ত করেছেন। আর বরিশাল-৪ আসনে এনসিপির বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ মুসা চূরান্ত মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল-৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নরুল হুদা চৌধুরী দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন। বরিশাল-৬ আসনে একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলাম প্রিন্স মনোনয়ন পেয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




নদীর জলে ভেসে চলে বেচাকেনা: নাজিরপুরের ভাসমান হাট

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বেলুয়া নদীর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট প্রতি সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার বসে। সূর্যের আলো ফুটতেই বাজার শুরু হয় এবং তাপ বাড়ার আগেই শেষ হয়ে যায়। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নৌকায় পণ্য নিয়ে আসেন এবং ক্রেতারা নৌকায় ভরে কিনে নিয়ে যান। বিক্রির পর খালি নৌকা নিয়ে বিক্রেতারা বাড়ি ফেরেন।

স্থানীয়রা জানান, বেলুয়া নদী পিরোজপুর জেলার দুটি এবং গোপালগঞ্জ জেলার একটি উপজেলার মধ্যে বিভাজক হিসেবে কাজ করছে। নদীর পশ্চিম পাড়ে কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন, পূর্ব পাড়ে নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়ন এবং উত্তরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা। নদীর উত্তর-পূর্বে নাজিরপুরের কাশ্মীর এলাকায় ভাসমান হাট শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে।

সকালে সকাল ৭টার মধ্যেই বাজার সরগরম হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ীরা ট্রলার ও বড় নৌকা নিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে শাক-সবজি, বেগুন, মরিচ, আলু, লাউ, করলা, কচু সহ নানাজাতের সবজি ও চারা কিনেন। এছাড়াও মুড়ি, নারকেল ও অন্যান্য পণ্যও বিক্রি হয়। এখানকার পণ্য স্থানীয় চাহিদা মেটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।

কবির হোসেন নামে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, “বাজার ভোরে শুরু হয়ে ১২টার মধ্যে শেষ হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন। নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা।” পাইকারি ব্যবসায়ী রাসেল হাওলাদার বলেন, “বাজারে ভেসে ভেসে কেনাবেচা হয়। বিভিন্ন এলাকায় ট্রলার ও নৌকা নিয়ে ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে যান।”

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হলে ব্যবসা আরও প্রসারিত হতে পারে এবং চাষিরাও উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, “কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বৈঠাকাঠা ভাসমান হাট অন্যতম বড় বাজার। সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ঢাকার শিল্পে গ্যাস সংকট মেটাতে ভোলার গ্যাস এলএনজিতে আনা হবে

ঢাকা ও আশপাশের শিল্প-কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও পেট্রোবাংলা। প্রাথমিকভাবে দেশী-বিদেশী নয়টি কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও চারটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে কোম্পানিগুলো ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে সরবরাহ শুরু করবে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে সরবরাহের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

  • রাশিয়ার গ্যাজপ্রম ইপি ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড,
  • চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)সিএনপিসি চাংগিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি,
  • সিঙ্গাপুরভিত্তিক জিসিজি এলএনজি কোম্পানি

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, “ঢাকা ও আশপাশের শিল্প এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে ভোলার এলএনজি সরবরাহে শিল্প মালিকদের আগ্রহ রয়েছে। প্রক্রিয়াটি জটিল হলেও আমরা দ্রুত অগ্রগতি করার চেষ্টা করছি।”

এর আগে ক্ষমতাচ্যুত সরকার ইন্ট্রাকো সিএনজিকে ভোলা থেকে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (CNG) আনার দায়িত্ব দিয়েছিল। তবে দৈনিক সরবরাহ মাত্র ৫ মিলিয়ন ঘনফুট, যা চাহিদার তুলনায় সীমিত। নতুন উদ্যোগে এলএনজি আনার মাধ্যমে চাহিদা পূরণ এবং শিল্প-কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ঘনমিটারের জন্য মূল্য নির্ধারণ প্রস্তাব ৪৭.৫০ টাকা হিসেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাব ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় চূড়ান্ত করা হবে; না হলে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, দৈনিক ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি নদীপথে ভোলা থেকে আনা হবে। ঢাকায় পৌঁছালে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে ৩২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হবে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট চাহিদা প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট।

ভোলায় এখন পর্যন্ত তিনটি গ্যাস ক্ষেত্রের নয়টি কূপ থেকে দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন হচ্ছে। পেট্রোবাংলা আরও ১৫টি কূপ খননের কাজ করছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে নতুন শিল্প-কারখানা নির্মাণ হলে ভোলার গ্যাসের চাহিদা বাড়বে, যেখানে এলএনজি আনার মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




তালতলীর ‘ভাইরাস আক্রমণে কোটি টাকার ক্ষতি: কৃষকরা দেনার মধ্যে বিপর্যস্ত

বরগুনার তালতলী উপজেলার সওদাগরপাড়া এলাকার ‘সবজি গ্রামে’ শিম চাষিরা এবছর ভাইরাস আক্রমণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গাছের পাতা, ফুল ও শিম হলুদ হয়ে যাওয়ায় একেক কৃষক প্রায় লাখ টাকা দেনায় পড়েছেন। এ বছর স্থানীয় বাজার ও পাইকারি বাজারে শিম বিক্রি সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষক আব্দুল মান্নান ফকির বলেন, “আমরা প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করেছি, কিন্তু শিম গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন মরণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।” তাঁর মতো আরও দুই শতাধিক কৃষক একই অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের শিম চাষ থেকে প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ এলাকার কৃষকরা দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সমবায় পদ্ধতিতে শিম ও অন্যান্য সবজি চাষ করে আসছেন। প্রতিবছর জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৬-৭ কোটি টাকার শিম বিক্রি হয়। তবে এবছর ভাইরাসের কারণে ২২ একরের মধ্যে ২০ একর জমিতে শিম গাছ নষ্ট হয়েছে।

কৃষক মো. আরিফ বলেন, “চেয়ারম্যান, মেম্বার বা কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো সহযোগিতা নেই। লাখ টাকা খরচ করে চাষ করেছি, কিন্তু লাভের কোনো আশা নেই।” সেলিম ফকিরও জানিয়েছেন, “সরকারিভাবে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও কোনো সহায়তা পাইনি।”

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে মাঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পটুয়াখালী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “প্রতি বছর এক ধরনের সবজি চাষ না করা এবং বিভিন্ন সবজি চাষ করলে ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব।”

তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে প্রণোদনা থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষককে সম্পূর্ণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রদর্শনী ও প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু কৃষককে সহায়তা করা হচ্ছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বিএনপির মনোনয়নে চমক আসছে যেসব আসনে, সুখবরের অপেক্ষায় একাধিক নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের প্রার্থী তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটির তিন দিনের কেন্দ্রীয় কর্মশালায় যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে যাদের ডাকা হয়নি, সেই সব আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকা বিএনপির হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। ফলে কয়েকটি আসনে নতুন মুখ বা পরিবর্তিত প্রার্থীর আগমনের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে।

বিশেষ করে ঝালকাঠি-২, চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৬ ও যশোর-৬ আসনে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ঝালকাঠি-২ আসনের ঘোষিত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টু এবং চট্টগ্রাম-৬ আসনের গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ কয়েকজনকে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আবার চট্টগ্রাম-৪ আসনে পূর্বঘোষিত প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে আসলাম চৌধুরীকে কর্মশালায় ডাকা হয়, যা রদবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে এখনো ফাঁকা থাকা ২৮টি আসনের মধ্যেও সুখবর পাচ্ছেন কয়েকজন নেতা। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন নিজানকে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে এই দুই আসনে ধানের শীষে নির্বাচন করবেন তারা—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। বাকি ফাঁকা আসনের কিছু মিত্রদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে শিগগিরই।

বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনেও বিএনপি তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করেছে। বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে—এই চারজনই গুলশানে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। এতে তাদের মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, যাদের ডাকা হয়নি, তা ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত। এতে বোঝা যায়—যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তারাই বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। পাশাপাশি শরিক দলগুলোর জন্য ছাড় দেওয়া আসন নিয়েও দ্রুত সমাধান আসবে।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর বিএনপি প্রথম দফায় ২৩৬টি আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। মোট ২৭২টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্মশালাগুলোতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রার্থীদের নির্বাচনী কৌশল, ভোটার ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রভিত্তিক এজেন্ট নিয়োগ, ডিজিটাল প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

দলীয় নেতারা বলছেন, এসব কর্মশালার মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনের জন্য মাঠপর্যায়ে সুসংগঠিত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটারদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলা এবং কেন্দ্রভিত্তিক শক্ত অবস্থান তৈরিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাদি হত্যার বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝালকাঠিতে তৃতীয় দিনের মতো অবরোধ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তার নিজ জেলা ঝালকাঠিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বরিশাল-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র-জনতা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ২টার দিকে ঝালকাঠি শহরের কলেজ মোড় এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে তারা বরিশাল-খুলনা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঝালকাঠি গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সাগর বলেন, “ভারতীয় আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার কারণেই শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা আমাদের ভাইয়ের হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না।”

তিনি আরও বলেন, “হাদি শহিদ হয়েছেন। প্রয়োজন হলে আমরাও শহিদ হতে প্রস্তুত। কিন্তু এই হত্যার বিচার আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝালকাঠি জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন ফেরদৌস ইফতি বলেন, “হাদি হত্যার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। এটি প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা।”

সংগঠনটির জেলা সদস্য সচিব রাইয়ান বিন কামাল অভিযোগ করে বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসে আমাদের দাবির কথা শোনেননি। আজ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে না আসা পর্যন্ত আমরা সড়ক ছাড়বো না।”

এদিকে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাতিয়ায় নির্বাচনী হুমকি: প্রধান অভিযুক্ত অমি আটক

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি হত্যার হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, আর এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে ইসরাত রায়হান অমিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের নন্দ রোড এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক অমি সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের ছেলে, এবং এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ সক্রিয় ছিলেন।
এর আগে ১৮ ডিসেম্বর রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির হাতিয়া উপজেলা সমন্বয়কারী শামছল তিব্রিজ কর্তৃক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘Israt Raihan Ome’ ও ‘Rupak Nandi’ নামের আইডি থেকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তাগুলোতে অমি নির্বাচনী মাঠে বাধা সৃষ্টি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর ইঙ্গিত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এ অভিযোগ ওঠার পর থেকেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয় প্রশাসন। জিডিতে অমির পাশাপাশি আরও ছয়জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের হুমকির সমর্থন ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আটক অমি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিলেও ঘটনা অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তবে মেসেঞ্জার স্ক্রিনশট, জিডি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মামলার তদন্তকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান হাতিয়া থানার কর্মকর্তা-ইন-চার্জ মো. সাইফুল আলম।
এদিকে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন হুমকি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সাধারণ ভোটাররা বলছেন—নির্বাচনী মাঠে ভয়-ভীতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে কেউ যদি গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে প্রশাসনের উচিত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে—এ ধরনের অপতৎপরতা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া বন্ধ করা যাবে না।
এ ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয়রা চান—ভোটের মাঠ সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকুক এবং কোনো প্রকার সন্ত্রাস বা হুমকি ছাড়া শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম