চরমোনাই পীর-মামুনুলের দল জামায়াত জোট থেকে আলাদা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বেশি আসনের চাহিদার কারণে তারা জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না করে আলাদা প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

সূত্র জানায়, চরমোনাই পীরের দল শতাধিক আসন ও খেলাফত মজলিসের দল ২৫-৩০ আসনের দাবি করেছে। এই চাহিদা পূরণ করলে জামায়াতের আসন সংখ্যা অনেক কমে যাবে, যা জোটের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে জামায়াত অন্তত দুইশ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। “জামায়াতের কাছে কোনো আসন নেই, আসন সবার। আট দলের সবাই ছাড় দিবে এবং মিলেই নির্বাচনে যাবে। এনসিপির সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। আরও কিছু দল আসন চাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছে,” তিনি বলেন।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, “যেহেতু কোনো জোট চূড়ান্ত হয়নি, এখানে পাওয়া-না-পাওয়ার বিষয় নেই। আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে কার কোথায় আসন দেওয়া হবে। সব কিছু সমঝোতার ভিত্তিতেই হচ্ছে।”

খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতা জানান, তারা সম্মানজনক আসন না পেলে বিকল্প প্ল্যাটফর্মে ভোটে অংশ নেবে। তবে সব দলই চায় আসন সমঝোতা ও ঐক্য অটুট রাখার। বর্তমানে দলের কাঙ্খিত আসনের প্রায় ৬০ শতাংশ সমাধান হয়েছে এবং অন্তত ৮০ শতাংশ পূর্ণ হলে তা সম্মানজনক হবে।

জানা গেছে, আগামী ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও কিছু জটিলতা আছে, তবুও দলগুলো ঐক্য বজায় রাখতে আগ্রহী এবং বৃহত্তর সহযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সদরঘাটে ফিরতি নেতাকর্মীদের ঢল

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বৃহস্পতিবার বেড়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরমুখী স্রোত। ১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সরাসরি বরণ করার আনন্দে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা নেতাকর্মীরা এখন নিজ নিজ এলাকায় ফেরার পথে উত্তেজনা ও আবেগের মিলন ঘটাচ্ছেন।

বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা থেকে আগত লঞ্চগুলোতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উপচে পড়ার মতো। দিনের কর্মসূচি শেষে ক্লান্ত শরীরে তারা সদরঘাটে পৌঁছে শান্ত মনে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের প্রবেশপথ ও পন্টুন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্লান্ত নেতাকর্মীদের পানি, শুকনো খাবার এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবকরা লঞ্চ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেন জানান, দক্ষিণবঙ্গের তৃণমূল নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর নেতার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। আজ সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার দিন শেষ হয়েছে। ভোরের তুলনায় সন্ধ্যায় লঞ্চঘাটে ভিড় কিছুটা কমলেও নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে ঘরে ফেরার পথে রয়েছেন।

একজন নেতাকর্মী আব্দুল মালেক জানান, “কষ্ট যা হওয়ার হইছে, কিন্তু নেতাকে দেখতে পারলাম। এই ১৭ বছরের অপেক্ষার জন্যই আজকের দিনটা স্মরণীয়।” অন্য একজন বরিশালের ব্যবসায়ী রিয়াজ জানান, “আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। নেতাকে দেখার আনন্দে মনে শান্তি পেয়েছি।”

দেশের প্রধান নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত ৮টার পর থেকে লঞ্চগুলো ধাপে ধাপে ছাড়তে শুরু করবে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




তারেক রহমান এভারকেয়ারে পৌঁছে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছে তাঁর মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও খোঁজখবর নেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি হাসপাতালে প্রবেশ করেন।

এর আগে বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর পূর্বাচলের গণসংবর্ধনা মঞ্চ থেকে ১৫ মিনিটের বক্তব্য শেষে তিনি হাসপাতালের দিকে যাত্রা করেন। সরেজমিনে থাকা প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে তিনি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে রাস্তায় ছিলেন।

সংবর্ধনা মঞ্চে বক্তৃতা চলাকালীন তারেক রহমান বলেন, “সবার সঙ্গে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ব, যা একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যেখানে একজন মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারে এবং ঘরে ফিরে আসতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সকলের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো নারী, পুরুষ বা শিশু যেন নিরাপদে বাইরে বের হতে পারে এবং ঘরে ফিরে আসতে পারে।”

বক্তৃতার শেষে তারেক রহমান জানান, “সবাই মিলে কাজ করব, গড়ব আমাদের বাংলাদেশ। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘মহানবী (সা.)-এর দেখানো পথে দেশ পরিচালনা করব’: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন, “আল্লাহর দয়া ও মানুষের সমর্থন থাকলে আমরা প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। আগামী দিনে মহানবী (সা.)-এর দেখানো পথে দেশ পরিচালনা করব।”

তিনি আরও বলেন, “আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। পাহাড়-সমতল, হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ নারী-পুরুষ ও কৃষকের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে ঐক্য অপরিহার্য।”

তারেক রহমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা ও ১৯৯০ সালের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মন হাসপাতালে মায়ের কাছে পড়ে আছে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন, “এখন মঞ্চে আমি দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু মন পড়ে আছে হাসপাতালে মায়ের কাছে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “সন্তান হিসেবে আমি চাই, আল্লাহ মা খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা দান করুন। আমাদের সকলকে নিশ্চিত করতে হবে—ধর্ম, শ্রেণি বা রাজনৈতিক মত নির্বিশেষে—দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। প্রতিটি মানুষ, শিশু, নারী কিংবা পুরুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে।”

বক্তব্যের শেষে তিনি যোগ করেন, “সবাই মিলে কাজ করব, গড়ব আমাদের বাংলাদেশ।”

 

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি’—তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো মাতৃভূমিতে সরাসরি জনসভায় অংশ নিয়ে বললেন, “আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, মাতৃভূমিতে আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পেরেছি।”

ঢাকার পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত গণসংবর্ধনা মঞ্চ থেকে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়। সকলে মিলে দেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে এবং যেকোনো উসকানির মুখে দেশকে রক্ষা করতে হবে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “ওসমান হাদি চেয়েছিলেন মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার ফিরুক। ৭১ সালের ও ২৪-এর শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সময় এসেছে সবাই মিলে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার।”

মঞ্চে তার সঙ্গে বিএনপির অন্যান্য নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙের বিশেষ গাড়িবহরে করে গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান এবং জনসাধারণের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’: তারেক রহমান

প্রত্যাশিত, শান্তিপূর্ণ ও জনগণের কল্যাণভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে নতুন ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনার মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন,
“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি বলতে চাই— আই হ্যাভ অ্যা প্লান, ফর দ্য পিপল অব দিস কান্ট্রি।”

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। তার ভাষায়, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হবে যেখানে মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন,
“আসুন, আমরা সবাই আল্লাহর দরবারে দোয়া করি—দেশের যে সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ আছেন, তারা যেন একসঙ্গে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারেন।”

বক্তব্যে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হতে হবে।
“যেকোনো উসকানির মুখেও আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হবে। আমরা দেশের শান্তি চাই, দেশের শান্তি চাই, দেশের শান্তি চাই,”—তিনবার উচ্চারণ করে তিনি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমানের এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই মনে করছেন, এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা ও রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত, যা সামনে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও দিকনির্দেশনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

গণসংবর্ধনার পুরো পরিবেশ ছিল আবেগঘন ও উৎসবমুখর। লাখো নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে তারেক রহমানের বক্তব্য নতুন প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




‘আবারও সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার’ : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বলেছেন, “আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। আবারও সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার।”

বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে গণসংবর্ধনা মঞ্চে উঠে বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। শুরুতেই তিনি বলেন,
“প্রিয় বাংলাদেশ। এই দেশ সবার, সকল ধর্মের। আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়া। এ দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে তেমনি সমতলের মানুষ আছে। সকলে মিলে আমরা একটা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে তেমনই সর্বস্তরের মানুষ একজোট হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। আজ বাংলাদেশের মানুষ তাদের কথা বলার অধিকার এবং গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আছে। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যেই হোক না কেন, ঘর থেকে বের হলে নিরাপদে যেতে ও ফিরতে পারবে।”

মঞ্চে তার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

এর আগে তিনি রাজধানীর পূর্বাচলের গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান লাল-সবুজ রঙে সাজানো গাড়িবহরে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের বিপুল উপস্থিতিতে উচ্ছ্বাসের পরিবেশ বিরাজ করেছিল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




গণসংবর্ধনা মঞ্চে দীপ্ত পায়ে উঠলেন তারেক রহমান

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে লাল-সবুজের বাস থেকে নেমে দীপ্ত পায়ে হেঁটে গণসংবর্ধনা মঞ্চে উঠেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঞ্চে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অপেক্ষমান লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে নিজের আগমনী বার্তা দেন। উপস্থিত জনতা তারেক রহমানকে দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন এবং ‘তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’, ‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেন।

এ সময় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ও দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতা ও কর্মীরা মঞ্চের পাশে উপস্থিত ছিলেন। গণসংবর্ধনা মঞ্চের রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন এবং সাজানো রাস্তা রাজনৈতিক ঐক্য ও জনশক্তির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

তারেক রহমানের গণসংবর্ধনা মঞ্চে আগমন দেশবাসীর কাছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




২২০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত জাপার, শুক্রবার প্রকাশ পাচ্ছে তালিকা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২২০টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। বাকি ৮০টি আসনের প্রার্থী নির্ধারণ প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে একাধিক দফা সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২২০টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবারও (২৫ ডিসেম্বর) কয়েকটি আসনের বিষয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু চূড়ান্ত করে শুক্রবার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ (সদর) আসন থেকে এবং মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। দলটি ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গত ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এবার মনোনয়ন ফরম বিক্রির সংখ্যা নিয়ে দলীয়ভাবে কেউ নির্দিষ্ট তথ্য দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সঠিক পরিসংখ্যান এখনই বলা সম্ভব নয়, হিসাব করে দেখতে হবে। দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে বড় ধরনের ভাটা পড়েছে।

দলীয় নেতারা বলছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে জাতীয় পার্টি নানাভাবে চাপে রয়েছে। স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি কাউন্সিল বা সভা করার জন্য অডিটোরিয়াম ভাড়া পেতেও সমস্যায় পড়ছে দলটি। ইফতার মাহফিলসহ একাধিক কর্মসূচি বাতিল বা পণ্ড হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় উদ্বেগ ও শঙ্কার মধ্যে দিয়ে চলছে মনোনয়ন প্রক্রিয়া। অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—নির্বাচন আদৌ হবে কি না, হলে জাতীয় পার্টিকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে কি না, কিংবা বিএনপির সঙ্গে জোট হলে দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে। এসব অনিশ্চয়তার কারণে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা দেখা দিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রায় ১ হাজার ৭৫২টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছিল। সে হিসাব অনুযায়ী এবার প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম ফরম বিক্রি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে নির্বাচন-সংক্রান্ত শঙ্কা এবং দলীয় ভাঙনকে দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

২০২৪ সালের নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টি একাধিক দফায় ভাঙনের মুখে পড়ে। প্রথমে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে একটি পৃথক অংশ আত্মপ্রকাশ করে। পরে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বে আরেকটি অংশ আলাদা হয়ে যায়। এতে দলের প্রথম সারির অনেক নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মূলধারা থেকে সরে যান। যদিও তৃণমূল পর্যায়ে জিএম কাদেরের প্রতি সমর্থন থাকলেও নেতৃত্বে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে সম্প্রতি সাবেক মন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, একাধিকবারের সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা পুনরায় জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে ফিরে এসেছেন, যা দলীয়ভাবে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি সভায় তৃণমূল নেতারা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি বড় অংশের ভোট জাতীয় পার্টির ঝুলিতে আসতে পারে। তবে জিএম কাদের সভায় জানান, জোটগত নির্বাচনের প্রশ্নে প্রয়োজনে আবার বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয় পার্টি মনোনয়ন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ উল্লেখ করে বলেন, এর আগে কোনো জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। একতরফা বা মিডিয়া-নির্ভর নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কাও ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএনপির সঙ্গে জোটের গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো দলের আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না। তবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—এ মন্তব্য করে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

সব মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হলেও জাতীয় পার্টির নির্বাচনী কৌশল ও জোট রাজনীতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা এখনো তুঙ্গে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫