১৫ বছরে প্রকৃত ভোট হয়নি, এবার চাই সত্যিকারের নির্বাচন : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, গত দেড় দশকে দেশে প্রকৃত অর্থে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালে। ফলে ৩০ বছরের আশপাশের একটি বড় জনগোষ্ঠী কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এবার সেই শূন্যতা পূরণ করতেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভোলা শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ভোটের গাড়ি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে সব রাজনৈতিক দল প্রস্তুতি শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের একমাত্র লক্ষ্য— মানুষ যেন নিজের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দেখতে পায়। এই সরকার কোনো দলের পক্ষে নয়, আমরা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, মনোনয়ন সংগ্রহের শেষ দিন অচিরেই শেষ হবে। এরপর জনগণ পরিষ্কারভাবে জানতে পারবে, কারা কারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে নতুন করে শক্তিশালী করবে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তৌহিদ হোসেন বলেন, সেই পরিবর্তনের পেছনে তরুণদের আত্মত্যাগ রয়েছে। তাদের দাবির ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই তালিকা শতভাগ বাস্তবায়িত না হলেও জনগণের সামনে উন্মুক্তভাবে উপস্থাপন করা হবে, যাতে মানুষ নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে— তারা কী ধরনের পরিবর্তন চায়।

তিনি জানান, এসব সংস্কার বিষয়ে আলাদাভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ যদি তালিকার ৮০-৯০ শতাংশ বিষয়ের সঙ্গে একমত হয়, তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে পারবে। আর একমত না হলে ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “দেশকে আবার স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে। এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, জনগণেরও। কারণ, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আবার ভোটের জন্য জনগণের কাছেই ফিরে আসবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বিএনপিতে যোগ দিলেন রাশেদ খাঁন, ঝিনাইদহ-৪ এ ধানের শীষে নির্বাচন

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন রাশেদ খাঁন। এ সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি বিএনপিতে তার নতুন রাজনৈতিক পথচলার ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদরের চারটি ইউনিয়ন) ধানের শীষ প্রতীকে রাশেদ খাঁনকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাশেদ খাঁনের পক্ষে কাজ করতে হবে এবং তাকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

বিএনপিতে যোগদানের আগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের কাছে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন রাশেদ খাঁন। পদত্যাগপত্রে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন। একই সঙ্গে কোনো আচরণ বা বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা ও বিজয়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেই রাশেদ খাঁন বিএনপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্ত ঝিনাইদহের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




শুঁটকির স্বর্ণখনি চিথলিয়া, বছরে উৎপাদন শতাধিক টন

পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে শুঁটকি উৎপাদনের এক ব্যস্ত কর্মভূমি। কচা নদীর তীর ঘেঁষে বাঁশের মাচায় সারি সারি শুকানো মাছ, বাতাসে শুঁটকির পরিচিত গন্ধ আর শ্রমিকদের ব্যস্ত পদচারণায় শীত মৌসুম এলেই প্রাণ ফিরে পায় এই শুঁটকি পল্লী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী ও বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় সদর উপজেলার পাড়েরহাট এলাকায় গড়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বন্দর। সেই বন্দরের আশপাশেই চিথলিয়া গ্রামে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এই শুঁটকি পল্লী। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে শুঁটকি উৎপাদন ও বাণিজ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের দক্ষিণ পাশে কচা নদীর তীরে পাঁচটি বাসাকে কেন্দ্র করে এই পল্লী গড়ে উঠেছে। এখানে ৫ থেকে ৭ জন শুঁটকি ব্যবসায়ী এবং ১৫০ থেকে ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন। কেউ মাছ সংগ্রহ ও পরিষ্কার করছেন, কেউ বড় মাছ কাটছেন, আবার কেউ লবণ পানিতে ভিজিয়ে বাঁশের মাচায় মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুকানো শুঁটকি বস্তাবন্দি করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানোর জন্য।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে একটি বাসা থেকে এই শুঁটকি কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে তা বিস্তৃত হলেও বর্তমানে স্থায়ীভাবে পাঁচটি বাসায় শুঁটকি উৎপাদন হচ্ছে। এখানে কোরাল, লইট্টা, ছুরি, চিতল, হাইতা, মর্মা, ঢেলা, চাপিলা, মধু ফ্যাপসাসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির মাছ শুঁটকি করা হয়। শীতকালে এসব মাছ সাগরে বেশি ধরা পড়ে এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় শুঁটকির মানও ভালো থাকে।

শুঁটকির মানভেদে প্রতি কেজি শুঁটকি ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোনো ধরনের রাসায়নিক বা কীটনাশক ব্যবহার না করায় এখানকার শুঁটকি নিরাপদ খাদ্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শুঁটকি তৈরি করা হয়। ভালো মানের কারণে মোকামে আমাদের শুঁটকির চাহিদা বেশি।

অপর ব্যবসায়ী আলী সরদার জানান, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে জেলেরা সরাসরি মাছ নিয়ে আসেন। সেখান থেকেই শুঁটকির জন্য মাছ সংগ্রহ করা হয়। নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় এখানকার শুঁটকি ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে।

চার বছর ধরে এখানে কাজ করা শ্রমিক মো. ইব্রাহিম মুন্সি বলেন, রোদে শুকিয়ে পরিষ্কারভাবে শুঁটকি তৈরি করা হয় বলেই এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী শাজাহান হাওলাদার বলেন, মৌলিক কিছু অবকাঠামো সুবিধা যেমন—টিউবওয়েল, ছোট সেতু ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা গেলে এই শিল্প আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এই শুঁটকি পল্লী থেকে প্রতিবছর ১০০ টনেরও বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই খাতের উন্নয়নে সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত জানান, শীত মৌসুমে প্রায় চার মাস শুঁটকি কার্যক্রম চলে। মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং শুঁটকি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনাও রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তদারকি বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এখানকার শুঁটকি দেশের বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শহীদ ওসমান হাদির কবরে শ্রদ্ধা জানালেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে তিনি ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে অবস্থিত সমাধিস্থলে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, বেলা ১১টা ১৬ মিনিটে তারেক রহমান সমাধিস্থলে পৌঁছান। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত করেন তিনি। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগ করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি নিজ বাসা থেকে রওনা হন।

কবর জিয়ারতকালে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।

বিএনপি জানিয়েছে, কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনে যাবেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেই তার এই সফর। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তারেক রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় দলের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। এরপর অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, নির্বাচন কমিশনের কাজ শেষে তারেক রহমান ধানমন্ডির শ্বশুরবাড়িতে যাবেন। সেখান থেকে পুনরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাম্পার ফলনেও লোকসানে বরিশালের সবজি চাষিরা

বরিশাল জেলায় চলতি শীত মৌসুমে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকেরা। মাঠ পর্যায়ে উৎপাদিত সবজি অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হলেও শহরের বাজারে সেই সবজিই বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি দামে।

জেলার বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, আগৈলঝাড়া ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাইকারদের কাছে ফুলকপি বিক্রি করছেন মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা, বাঁধাকপি ৬ থেকে ৮ টাকা এবং শিম ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। এত কম দামে বিক্রি করে অনেক কৃষকই উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না।

বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুল খালেক জানান, চলতি মৌসুমে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী সবজির দাম না বাড়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেকেই ঋণের টাকা শোধ করতে পারবে কিনা, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন।

অন্যদিকে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ পর্যায়ে কম দামে কেনা সেই সবজিই খুচরা বাজারে দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝেও ক্ষোভ বাড়ছে।

একজন ক্রেতা বলেন, কৃষকেরা যদি এত কম দামে সবজি বিক্রি করেন, তাহলে আমাদের কেন বেশি দামে কিনতে হবে—এটা বোঝা যাচ্ছে না। মাঝখানে কারা লাভ করছে, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।

কৃষি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য, পরিবহন সংকট এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবের কারণেই কৃষক ও ভোক্তার দামের মধ্যে এত বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মামুনুর রহমান বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষক বাজার চালু, পাইকারি বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি এবং কৃষক সমবায় গড়ে তোলা গেলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাম্পার ফলনের প্রকৃত সুফল যদি কৃষকের ঘরে না পৌঁছায়, তাহলে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে ১টি আসনও ছাড়বেন না ইসলামী আন্দোলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বরিশালের ছয়টি আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা ও প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। সমমনা ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আট-দলীয় জোট গঠনের আলোচনা থাকলেও বরিশালের সব আসন নিজেদের পক্ষে রাখতে অঙ্গীকার করেছে ইসলামী আন্দোলন।

বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর ও বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম জানান, “বরিশাল আমাদের জন্মভূমি এবং ইসলামী আন্দোলনের ঘাঁটি। দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি ভালো। আমরা এখানে কোনো আসন ছাড়তে চাই না। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি দুটি আসনে নির্বাচন করব। তবে জোট হলে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতার সম্ভাবনা আছে। যেখানে জামায়াত বা অন্য দল শক্তিশালী, সেখানে আমরা ছাড় দিতে পারি।”

সৈয়দ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ আসনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৃতীয় হন এবং প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ২৭ হাজারের বেশি ভোট পান। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৩৩ হাজার ৮২৮ ভোট পান।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসেন হেলাল জানিয়েছেন, আট-দলীয় ইসলামী জোটে এখনও আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসলে পরবর্তী নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশালের ছয়টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের ভোটভিত্তি জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বেশি। ২০০১ সালে বরিশালে ইসলামী আন্দোলন ১১.৩০ শতাংশ ভোট পায়। ২০০৮ সালে ১১.৬০ শতাংশ ভোট পান। ২০১৮ সালে বরিশাল সদর আসনে ২৭ হাজার ৬২ ভোট প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে প্রার্থীর ভোটভিত্তি প্রায় ৯.২০ শতাংশ। মোটমাটিভাবে বরিশাল বিভাগে ইসলামী আন্দোলনের গড় ভোটের হার ৮–১২ শতাংশের মধ্যে, যা জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বেশি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




তারুণ্যের শক্তিতেই আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব : অ্যাডভোকেট হেলাল

আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ ও যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানার উদ্যোগে আয়োজিত “তারুণ্যের ভাবনা ও সামষ্টিক ভোজ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে বরিশাল নগরীর টাউন স্কুল অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কাউনিয়া থানা জামায়াতের আমির মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট হেলাল বলেন, তরুণ ও যুবকরাই একটি জাতির মূল শক্তি। তাদের মেধা, শ্রম ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়েই একটি উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে দেশের লক্ষ লক্ষ বেকার তরুণ-যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের নৈতিকতা, সততা ও আদর্শিক চেতনায় গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি দুর্নীতিমুক্ত ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কাউনিয়া থানা জামায়াতের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




হাদির কবর জিয়ারতে তারেক রহমান, আজিজ মার্কেটের সামনে অবস্থান ইনকিলাব মঞ্চের

শহিদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে তিনি কবর জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা হন।

তারেক রহমানের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটি জানিয়েছে, হাদির কবর জিয়ারত উপলক্ষে তারা শাহবাগ মোড় ছেড়ে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছে।

শনিবার সকালে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শহিদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত উপলক্ষে ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগ মোড় থেকে ডানদিকে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। দুপুর ১২টায় পুনরায় শাহবাগ মোড়ে শহিদ হাদি চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’

পোস্টে আরও বলা হয়, হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে শাহবাগের শহিদ হাদি চত্বরে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর থেকেই ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। কনকনে শীত উপেক্ষা করেও রাতভর তারা সেখানে অবস্থান চালিয়ে যায়।

এদিকে তারেক রহমানের কবর জিয়ারত ও শাহবাগ এলাকায় চলমান অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চরমোনাই পীরের আসনে ভাগ বসাতে চায় জামায়াত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থি ভোট এক করার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ আট দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী জোটে বরিশাল বিভাগে আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জোটের নেতারা বলছেন, প্রার্থী বাছাই ও আসন ভাগাভাগি অনেকটাই চূড়ান্ত হলেও বরিশাল বিভাগের একুশটি আসনে সমঝোতা এখনও হয়নি। বিশেষ করে বরিশাল সদর আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বরিশাল সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। তবে এই আসনে ছাড় দিতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেখানে যে দলের জনপ্রিয়তা বেশি, সেই দলকে ওই আসন দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে বরিশাল সদর নিয়ে দুই দলের টানাপোড়েন কাটেনি।

ইসলামী আন্দোলনের নেতারা দাবি করছেন, বরিশাল বিভাগ তাদের শক্ত ভোটব্যাংক। পিরোজপুর জেলার দুটি আসন ছাড়া বাকি আসনগুলোতে তারা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে বিভাগের অধিকাংশ আসন নিজেদের দখলে রাখতে চায় দলটি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশালের কয়েকটি আসনে শক্ত অবস্থান দেখিয়ে আসন ছাড়তে অনাগ্রহী।

আটদলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের পাশাপাশি খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রয়েছে। বরিশাল অঞ্চলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের এক নেতা বলেন, বরিশাল সদর ইসলামী আন্দোলনের আমিরের আসন। এই আসন অন্য কেউ দাবি করলে জোটের নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বলছে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাজ ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই তারা আসন দাবি করছে, চাওয়ার ওপর নয়, সিদ্ধান্ত হবে মাঠের বাস্তবতায়।

বরিশাল সদরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন নিয়ে এই টানাপোড়েনের কারণে আটদলীয় জোটের ভেতরে সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির হিসাবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেশি, তবুও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতির আশ্বাস

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এ তথ্য প্রকাশের পর নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বরিশাল বিভাগ একটি বিশেষ বাস্তবতার মুখোমুখি। নদ-নদী ও খালবেষ্টিত এই অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য দুর্গম এলাকা। উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ও ছোট মিলিয়ে বহু নদী থাকায় নির্বাচনের সময় জরুরি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের মোট ২ হাজার ৮৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৮টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রার্থীদের চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বরিশাল সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা উদ্বেগজনক। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সুষ্ঠু ভোট আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বরিশাল জেলার হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মূল ভূখণ্ড থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। একইভাবে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার একাধিক উপজেলাও নদী ও জলপথের কারণে দুর্গম। এসব এলাকায় নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছানো, জনবল পাঠানো এবং ভোটগ্রহণ শেষে সেগুলো নিরাপদে ফিরিয়ে আনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা।

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্র সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম বলেন, ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হবে না।

ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সন্ত্রাস দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বরিশালের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন জানান, প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও এমনভাবে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে যাতে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।

বর্তমানে বরিশাল জেলায় মোট ভোটার প্রায় ২২ লাখ এবং পুরো বিভাগে ভোটারের সংখ্যা ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৫ জন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই তালিকার ভিত্তিতে কী ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫