ভোর থেকেই কেন্দ্রে ভোটারদের ঢল, উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু ভোটগ্রহণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ফজরের নামাজের পরপরই অনেকে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান।

ভোট শুরুর আগে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় বাইরে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কেন্দ্র ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। পরিবার বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে আগেভাগেই কেন্দ্রে এসে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককে।

পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে ছিল কড়া যাচাই-বাছাই। দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেন। কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের পক্ষে অস্থায়ী বুথ বসানো হয়েছে। সেখান থেকে ভোটারদের সিরিয়াল নম্বর ও কক্ষসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এতে ভোটাররা সহজে নিজেদের বুথ খুঁজে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।

মগবাজার বিটিসিএল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। তাদের ভাষ্য, শান্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা সকালেই কেন্দ্রে এসেছেন।

ভোটার মোহাম্মদ ফারুক বলেন, অনেকদিন পর স্বস্তিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলছে। তাই সকালেই চলে এসেছি। আরেক ভোটার তোফাজ্জল হোসেন জানান, ঝামেলা এড়াতে শুরুতেই ভোট দেওয়াই ভালো মনে করেছেন। তার সঙ্গে একই এলাকার আরও কয়েকজন ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারাদেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর কেন্দ্রেই গণনা শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বাচনী কার্যক্রমে গতি এসেছে। এখন সবার নজর ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজই সিদ্ধান্তের দিন, ভোটে দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার–সংক্রান্ত গণভোট আজ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রশ্নেও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা এবারের নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ ও গণনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আগেই কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব নিয়েছেন। গণভোট যুক্ত হওয়ায় ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবার ইতিহাসের সর্বোচ্চসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন এক লাখের বেশি। প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা সদস্যদের হাতে দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ক্যামেরা। যেকোনো বিশৃঙ্খলা দ্রুত জানাতে চালু রয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ও হটলাইন নম্বর ৩৩৩।

এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারা দেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হচ্ছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি প্রবাসী ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট গ্রহণ করা হয়েছে। এসব ভোট মূল গণনার সঙ্গে যুক্ত হবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে নির্বাচনে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন ৩৯৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। দেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন ৫৫ হাজারের বেশি। কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সবাই দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই শুরু হবে গণনা। ফলাফল কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে টানানো হবে এবং ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের আশা, ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হবে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এটিই দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার পর অনুষ্ঠিত এই ভোট ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে কৌতূহল ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন চোখ ভোটারদের দিকে—নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তারা কেমন রায় দেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রয়োদশে রেকর্ড লড়াই, দল-প্রতীকের বন্যা

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের দুয়ার খুলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল, প্রতীক ও প্রার্থী নিয়ে ভোটযুদ্ধ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে অংশ নিচ্ছে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২৮ জনে।

ইসি জানিয়েছে, ভোটাররা এবার ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি, লাঙল, হাতপাখা, ট্রাকসহ মোট ১১৯টি প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে, যা এবারের নির্বাচনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬০টি। তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া আরও আটটি নিবন্ধিত দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে ৫০টি দল। অংশগ্রহণের এই পরিসংখ্যান আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় ২৮টি দল এবং ভোট হয়েছিল ৬৯টি প্রতীকে। সেই তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারী দল ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

প্রার্থী বিন্যাসেও দেখা গেছে বড় দলগুলোর শক্ত অবস্থান। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ২৮৮ জন প্রার্থী লড়ছেন। জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখায় ২৫৩ জন এবং জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে ১৯২ জন প্রার্থী রয়েছেন। গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে ৯০ জন, সিপিবির কাস্তে প্রতীকে ৬৫ জন, বাসদের মই প্রতীকে ৩৯ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে ৩৪ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলিতে ৩২ জন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ঈগলে ৩০ জন, গণফোরামের উদীয়মান সূর্যে ১৯ জন, গণসংহতি আন্দোলনের মাথালে ১৭ জন, এলডিপির ছাতায় ১২ জন এবং নাগরিক ঐক্যের কেটলিতে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কয়েকজন প্রার্থীর নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। জাসদের পক্ষ থেকে নির্বাচন বর্জনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে সামরিক শাসন, গণআন্দোলন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কোনো নির্বাচন ছিল ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক, আবার কোনোটি বর্জন ও বিতর্কে ঘেরা। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন মাত্র ১২ দিন স্থায়ী হয়েছিল। ২০০৮ সালের নবম নির্বাচন ছিল নিবন্ধন পদ্ধতির অধীনে প্রথম ভোট। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন ও অংশগ্রহণ সংকটের কারণে ব্যাপক আলোচনায় আসে। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ছয় মাসের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সংসদ বিলুপ্ত হয়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান পদত্যাগ করলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। সেই পরিবর্তিত বাস্তবতায় আয়োজিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

বিশ্লেষকদের মতে, অংশগ্রহণকারী দল ও প্রতীকের সংখ্যায় রেকর্ড সৃষ্টি হলেও নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সেটিই হবে মূল প্রশ্ন। ভোটার উপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা—সবকিছু মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ধারার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচন কখনোই শতভাগ নিখুঁত হয় না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচন কখনো পুরোপুরি পারফেক্ট হওয়া খুবই বিরল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবনে যেমন কোনো কিছুই সম্পূর্ণ নিখুঁত হয় না, তেমনি নির্বাচনেও কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা থাকেই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই নির্বাচন জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছে কি না।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নানা আলোচনা ও সংশয় থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার মতো বড় কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকার আশা করছে খুব শিগগিরই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। তার ভাষায়, এক সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো কিছু মানুষ নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান রয়েছেন, তবে বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেই তিনি মনে করেন।

জনমত প্রসঙ্গে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, জনমত যাচাইয়ের জন্য কেবল সংখ্যার দিকে তাকিয়ে থাকলেই হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি ও মানুষের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি বোঝা যায়। তিনি অতীতের নির্বাচনগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, এর আগে যেসব নির্বাচন হয়েছে, যেগুলোকে আমরা নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করি, সেগুলোর প্রতিটিতেই কোনো না কোনোভাবে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছিল।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি ভারতের উদাহরণ তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ভারতে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারত নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে এবং এ নিয়ে তারা গর্বও করে। কিন্তু সেখানেও নির্বাচন পুরোপুরি নিখুঁত হয় না। নানা ধরনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা সেখানেও দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে পারফেক্ট নির্বাচন বাস্তবে খুবই বিরল।

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তবে সবাই নয় এবং কেউই এ বিষয়ে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করেননি।

তিনি আরও বলেন, কোনো বিদেশি প্রতিনিধি তাকে বলেননি যে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ করা উচিত বা উচিত নয়, কিংবা এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও দেননি। কেউ কেউ কেবল জানতে চেয়েছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে কি না। জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল থাকলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। সরকার চায়, নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য ও প্রতিনিধিত্বশীল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হোক, যেখানে জনগণের মতামতই হবে মূল বিবেচ্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মিরপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরে দুই শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, দুই শিশু সন্তানকে হত্যার পর স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার বিহারীদের ওয়াপদা ৩ নম্বর ভবন থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মাসুম, তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি এবং তাদের দুই শিশু সন্তান সাড়ে তিন বছর বয়সী মিনহাজ ও দেড় বছর বয়সী আসাদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের পল্লবী থানাধীন বি-ব্লকের ওয়াপদা ভবনের একটি টিনশেড বাসায় পরিবারটি ভাড়া থাকত। বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর চারজনের নিথর দেহ দেখতে পায়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোহাম্মদ মাসুম পেশায় রিকশাচালক ছিলেন এবং তার স্ত্রী বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সীমিত আয়ের কারণে পরিবারটি একাধিক সমিতি ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে ঋণ নিয়েছিল। নিয়মিত ঋণের কিস্তি আদায়ের জন্য লোকজন বাসায় আসত, যা পরিবারটির ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে।

স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ থেকে মুক্তি না পেয়ে স্বামী-স্ত্রী চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। তারা প্রথমে শিশু সন্তানদের হত্যা করে পরে নিজেরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফারজিনা নাসরিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক আলামত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি, যেখানে ঋণ ও দারিদ্র্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার এএসআই শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মরদেহগুলো ময়নাতদন্তে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, অভাব ও ঋণের চাপ অনেক পরিবারকে নীরবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনে শিল্পাঞ্চলে ছুটি, একদিন কাজ করে পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ

নির্বাচনকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগামী ১০ তারিখ থেকে এই ছুটি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। যেসব শিল্প-কারখানা এ ছুটি মেনে নেবে, তারা পরবর্তীতে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত একদিন কাজ করিয়ে এই ছুটি সমন্বয় করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সময়ে শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর একটি আবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, একদিকে নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি প্রয়োজন হলেও, দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার এই সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিল্প-কারখানাগুলো চাইলে নির্ধারিত ছুটির সুবিধা দেবে এবং পরবর্তীতে মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একদিন অতিরিক্ত কাজের মাধ্যমে তা সমন্বয় করা যাবে। এতে করে শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা থাকবে না, আবার শিল্পাঞ্চলের কার্যক্রমও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শিল্পখাত ও শ্রমিক উভয় পক্ষের জন্যই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান। নির্বাচনকালীন সময়ের চাপ সামলে শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বেইমানদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন: জামায়াত আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বেইমান ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখানোর সুযোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই নির্বাচন জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা শক্তিগুলোর রাজনীতির সমাপ্তি টানার নির্বাচন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা রাজনীতিকে ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের হাতিয়ারে পরিণত করেছে, এই নির্বাচন তাদের বিদায়ের সময়। রাজনীতি কখনোই দুর্নীতি, লুন্ঠন কিংবা মানুষের সম্মানহানির মাধ্যম হতে পারে না। যারা রাজনীতির নামে এসব করেছে, তাদের আর রাজনীতিতে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতিবাজরা দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের ভালোবাসার শক্তি নিয়ে সেই পাচার করা অর্থ দেশের মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তরুণদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত একটি তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায়। তরুণদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান নয়, বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে চায় দলটি। ইঞ্জিনিয়ার, স্থপতি, দক্ষ কারিগর ও পাইলট তৈরি করে তরুণদের হাতেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

তিস্তা নদী প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আজ তা দুঃখের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এবং উত্তরাঞ্চলকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। দেশের স্বার্থে কোনো ধরনের চাপ বা লাল চোখ সহ্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় উন্নয়ন দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর আধুনিকায়ন, মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উত্তরাঞ্চল কি অবহেলার জন্য সৃষ্টি হয়েছে? উন্নয়নের সূচনা এই অঞ্চল দিয়েই হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ অনেক দলকে সুযোগ দিয়েছে, এবার জামায়াতকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, জামায়াত সংকটে-সম্ভাবে সবসময় দেশের মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ খুলবে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াত। বিচারব্যবস্থায় কেউ বিশেষ সুবিধা পাবে না, আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির পথ তৈরি হয়। আগে সম্মান ও ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করতে হবে, তারপর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জামায়াতের অঙ্গীকার। কর্মস্থলে নারীদের নিরাপদ পরিবেশ ও সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চান তিনি।

লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সাতটি সংসদীয় আসনের ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে গুপ্তদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

গুপ্ত শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, যারা জালেমি করে ক্ষমতায় যেতে চায় তারা কখনো সৎ শাসন দিতে পারে না। ভোটের আগেই ব্যালট পেপার ছাপানোর মতো কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে দেয়, তাদের উদ্দেশ্য কী এবং তারা কেমন শাসন কায়েম করতে চায়।

বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের বান্দ রোড এলাকার বেলস পার্কে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোটের আগেই যারা ব্যালট পেপার নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছে, তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিতে চায় না। এ ধরনের অপকর্মের মাধ্যমেই তারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চায়।

সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, গুপ্তদের একজন নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, আর নির্বাচনের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। এমন বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয় তারা জনগণকে কতটা অবজ্ঞা করে এবং তাদের মানসিকতা কতটা ভয়ংকর। যারা মানুষকে তুচ্ছ করে কথা বলে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের জীবন কতটা দুর্বিষহ হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

তিনি বলেন, দেশের মানুষকে সম্মান না করা, ভোটের পর জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর মানসিকতা পোষণকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। ইতিহাসের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ৭১ কিংবা ৮৬ সালে যারা সংকটের সময় পালিয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে এই গুপ্তদের চরিত্রের মিল রয়েছে। এমন লোকদের কাছ থেকে দেশের জন্য ভালো কিছু আশা করা যায় না।

তারেক রহমান অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুপ্তদের নেতারা প্রকাশ্যে নারীদের উদ্দেশে অশালীন ও কলঙ্কিত ভাষা ব্যবহার করছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যারা মা-বোনদের সম্মান করতে জানে না, তাদের কাছে দেশের মানুষের আত্মমর্যাদা ও সম্মান রক্ষার আশা করা যায় না। মানুষের মর্যাদা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। আগামী ১২ তারিখ জনগণই নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, অতীতের স্বৈরাচারী ভাষা ও আচরণ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নতুন পরিচয়ে একটি গুপ্ত দল আবারও সেই জালেমি মানসিকতা নিয়ে সামনে এসেছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষকে ছোট করে দেখার এই রাজনীতি আর চলতে দেওয়া যাবে না। জনগণই শেষ কথা বলবে, আর ভোটের মাধ্যমেই গুপ্তদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। গণতন্ত্র, সম্মান ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপা–দশমিনায় বিএনপির রাজনীতিতে বড় রদবদল

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপির আসন সমঝোতার প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং বিএনপির বহিষ্কৃত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরেই এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গত ১৮ দিনের ব্যবধানে একের পর এক কমিটি বিলুপ্ত, দলীয় নেতাদের বহিষ্কার এবং নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দশমিনা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী খান এবং গলাচিপা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম ও সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গলাচিপা উপজেলা ও পৌর যুবদল এবং দশমিনা উপজেলা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি বহিষ্কৃত নেতা এনামুল হক জোট প্রার্থী নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পক্ষ থেকে নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেননি বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতা, তারা প্রকাশ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। গত সোমবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১৭ জানুয়ারি গলাচিপা–দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। নতুন কমিটিতে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের একটি অংশ জেলা যুবদলের সাবেক নেতা মো. শিপলু খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শিপলু খান শুরু থেকেই নুরুল হক নুরের পক্ষে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নবগঠিত কমিটির আওতায় গলাচিপা উপজেলা বিএনপির ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোলাম মোস্তফাকে। দশমিনা উপজেলা বিএনপির ১৬ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন সিদ্দিক আহমেদ মোল্লা। একই সঙ্গে গলাচিপা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাকিবুল ইসলাম খান। এসব কমিটির নেতাকর্মীরা বর্তমানে নুরুল হক নুরের ‘ট্রাক’ প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, এই রদবদলের পেছনে বিদ্রোহী প্রার্থীকে ঘিরে বিভক্ত অবস্থানই মূল কারণ। গত ১৫ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমসহ কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে হাসান মামুনের পক্ষে শপথ নেন। পরে ১৭ জানুয়ারি কমিটি বিলুপ্ত হলে তিনি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর ২৫ জানুয়ারি দশমিনার আলিপুরা বাজারে নুরুল হক নুরের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তার প্রতি সমর্থন জানান। সবশেষ ২ ফেব্রুয়ারি নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে শাহ আলমকে সদস্যসচিব করা হয়।

এদিকে ছাত্রদলেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাসান মামুনের পক্ষে প্রচারণার অভিযোগে দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী তানজির আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ২৯ জানুয়ারি আবুল বশারকে নতুন আহ্বায়ক করা হয়। বর্তমানে তিনিও নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নুরুল হকের সমর্থক জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শিপলু খান দাবি করেন, বিলুপ্ত কমিটির অন্তত অর্ধেক নেতাকর্মী এখন নুরুল হক নুরের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। অনেকেই প্রকাশ্যে এবং কেউ কেউ নীরবে সমর্থন দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেন, আগের বেশিরভাগ কমিটিই হাসান মামুনকেন্দ্রিক ছিল। সে কারণে তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে এখন অনেক নেতাকর্মী তাদের ভুল বুঝতে পেরে তার পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তার দাবি, বর্তমানে বিএনপির অন্তত ৫০ শতাংশ নেতাকর্মী তাকে সমর্থন করছেন এবং ভোটের আগে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

অন্যদিকে হাসান মামুনের মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম বলেন, নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে গলাচিপা–দশমিনায় বিএনপির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে তার দাবি, অনেকেই কেবল বহিষ্কার এড়ানোর জন্য নুরুল হক নুরের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির বড় অংশ এখনো হাসান মামুনের সঙ্গেই রয়েছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে বিএনপি পটুয়াখালী-৩ আসনটি গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জন্য ছেড়ে দেয়। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন একই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৩০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগের দিন, ২৮ ডিসেম্বর তিনি স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবেই, প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী: সেনাপ্রধান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাই প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর জেলা পরিদর্শন শেষে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সেনাপ্রধান জানান, নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশসহ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কোনো কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কিছু অপরাধী চক্র আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে। তবে সবাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নির্বাচনী সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, ভোটের দিন যারা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেবে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী সরাসরি অ্যাকশনে যাবে।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, দিন ও রাতে নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অপরাধীরা যেন সবসময় আতঙ্কে থাকে, সে পরিবেশ বজায় রাখাই লক্ষ্য। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটাই—নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত রাখতে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা জরুরি। এজন্য মাঠে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যদের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সামরিক, বেসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিন বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন থাকা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম