ঝুঁকিতে বরিশাল নগর ভবন, আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পুরোনো নগর ভবন এখন যেন নিজেই বড় ধরনের ঝুঁকির প্রতীক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়া এবং কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এলাকায় ১৯৮০-এর দশকে নির্মাণ শুরু হওয়া এ ভবনটি ১৯৯০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। পরে ২০০২ সালে বরিশাল পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে এখান থেকেই নগরবাসীর প্রশাসনিক সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন তলায় ভয়াবহ জরাজীর্ণ অবস্থা দৃশ্যমান। মেঝেতে কংক্রিটের বড় বড় অংশ খসে পড়েছে, ভেঙে গেছে দরজার গ্লাস, দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। বিশেষ করে বিম ও কলামগুলোতেও দুর্বলতার চিহ্ন দেখা যাওয়ায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে অফিস করতে হয়। হঠাৎ করেই ছাদ থেকে পলেস্তারা পড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও নগরবাসীর সেবা কার্যক্রম বন্ধ না রেখে ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ বিভিন্ন সেবার জন্য এই নগর ভবনে আসেন। ফলে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন, সাধারণ সেবাগ্রহীতারাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, বর্তমান ভবনের অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন স্থানে কার্যালয় স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি জানান, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত নিরাপদ স্থানে অফিস স্থানান্তর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। নতুন নগর ভবনের পরিকল্পনা ও নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।

জানা গেছে, নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় নতুন নগর ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নকশা অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের প্রায় আট লাখ মানুষের নাগরিক সেবা প্রদান করছে সিটি করপোরেশন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ স্থানে কার্যক্রম স্থানান্তর না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না নগরবাসীও।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাদির হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল ববি ক্যাম্পাস

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

কর্মসূচির শুরুতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পুরো কর্মসূচিতে বিচার দাবির বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।

মানববন্ধন পরিচালনা করেন মো. ফরহাদ হোসাইন। এতে বক্তব্য দেন নিহত হাদির বোন মাসুমা হাদি, মো. বেলাল, আল ইমরান এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেও তারা দাবি করেন। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েম বলেন, প্রকাশ্যে গুলি করে ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এত সময় পার হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ঝুলে থাকায় জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন একাধিকবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এসময় নিহতের বোন মাসুমা হাদি আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমরা কান্না করতে আসিনি, আমরা বিচার চাইতে এসেছি। প্রকাশ্যে হত্যার পরও খুনিরা কীভাবে পালিয়ে গেল, তার জবাব রাষ্ট্রকে দিতে হবে।”

তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিচার প্রক্রিয়ায় গতি এনে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বেলপার্কে ফিরছে প্রাণ, তবু চিন্তার কারণ অবৈধ ফেরিওয়ালা

বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী বেলপার্ক আবারও ফিরে পাচ্ছে তার হারানো সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘদিন পর অবৈধ দখল ও দোকানপাট উচ্ছেদের উদ্যোগে নগরবাসীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রটি এখন নতুন রূপে সেজে উঠছে। নগর ভবনের ধারাবাহিক তৎপরতায় পার্কজুড়ে ফিরছে পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশ, যা সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি করেছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বেলপার্ক থেকে শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এরপর থেকেই প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষ পার্কটিতে হাঁটতে ও সময় কাটাতে আসছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও কর্মজীবী মানুষের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পার্কের ওয়াকওয়ে এখন হাঁটাচলার জন্য অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে। রাত ১১টা পর্যন্তও অনেকে স্বাস্থ্যচর্চা ও অবসরের সময় কাটাতে সেখানে ভিড় করছেন। এতে করে নগরবাসীর কাছে বেলপার্ক আবারও প্রাণের জায়গায় পরিণত হচ্ছে।

নগর প্রশাসন পার্কটির সৌন্দর্য আরও বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের শোভাবর্ধনকারী গাছের পরিচর্যা শুরু করেছে। গাছের ডালপালা ছাঁটাই, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং সবুজ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নগর ভবনের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। পুরো পার্ক এলাকাকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে আলোকসজ্জা ও পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

তবে সৌন্দর্য বৃদ্ধির এই উদ্যোগের মাঝেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সন্ধ্যার পর পার্কের ভেতরে ফেরিওয়ালাদের উপস্থিতি। প্রতিদিন রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা। এতে করে পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ধীরে ধীরে বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠছে।

অনেকের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে আবারও পার্কে অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হতে পারে। যদিও পার্কের শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন, তারপরও ফেরিওয়ালাদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, পার্কে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থা বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহনকারী বেলপার্ক ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক বেলের উদ্যোগে প্রায় পৌনে ৯ একর সরকারি জমির ওপর গড়ে ওঠে। তার নাম অনুসারেই পার্কটির নামকরণ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এটি বরিশালের অন্যতম প্রধান উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

এ পার্কে অতীতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজের মাধ্যমে পার্কটি নগরবাসীর কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে নতুন উদ্যোগে সেই ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য আবারও ফিরে আসছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




নলছিটির দপদপিয়ায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৯নং দপদপিয়া ইউনিয়নে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিজান ও সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান শিমুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন কমিটিতে মো. ইউনুছ হাওলাদারকে সভাপতি এবং মো. হাছান হাওলাদারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

নতুন এ কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন নলছিটি উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে দলীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে নতুন কমিটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সদ্য ঘোষিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলকে আরও সুসংগঠিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন তারা। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।




৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল, সংকটে বরিশালের চিকিৎসা সেবা

বরিশালে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শেষ হলেও দীর্ঘ সাত বছরেও তা চালু না হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে শিশু চিকিৎসা সেবা। শয্যা সংকট, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং সীমিত সুবিধার কারণে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ।

বর্তমানে এসব হাসপাতালে এক বিছানায় একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জায়গা না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছে অসুস্থ শিশুরা। এতে চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, বরিশাল মহানগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ২০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও সেটি এখনো চালু হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১০ তলা ভিত্তির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটির কাজ ২০১৯ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে সাত বছর পার হলেও হাসপাতালটি এখনো চালু হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম জানান, হাসপাতাল ভবনের অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনও স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে বরিশালের সিভিল সার্জন এস এম মঞ্জুর-ই-এলাহী বলেন, হাসপাতালটি চালু করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তার মতে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টসহ প্রায় ৩০০ জন জনবল প্রয়োজন। পাশাপাশি ইনকিউবেটর, লাইফ সাপোর্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির চাহিদা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এসব ব্যবস্থা না হলে সেবা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়।

এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনবল ও সরঞ্জামের অজুহাতে দুই বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে বিভাগের লাখো শিশুর স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে গত ৩০ এপ্রিল হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান। তিনি দ্রুত হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনেও হাসপাতাল চালু না হওয়া দুঃখজনক। সকল জটিলতা দূর করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৩ হাজার ৬৫০ জন শিশু, যার মধ্যে মারা গেছে ২৪ জন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি চালু না থাকায় এই বিপুল সংখ্যক শিশুর যথাযথ চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




১০ সেকেন্ডে ১০ মাস্ক, গিনেসে মঠবাড়িয়ার সিফাত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার এক তরুণ চোখ বাঁধা অবস্থায় দ্রুততম সময়ে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন। এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের সিফাত আকন (১৮)।

জানা গেছে, চোখ বাঁধা অবস্থায় ১০টি মাস্ক পরতে তার সময় লেগেছে মাত্র ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ড, যা তাকে বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি এ রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন এবং গত ২৮ এপ্রিল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ তার সাফল্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

সিফাত আকন জানান, প্রায় চার বছর আগে একটি পত্রিকায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেখে তার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। করোনাকালীন সময়ে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি মাস্ক-সম্পর্কিত একটি রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা করেন।

তিনি বলেন, “প্রথমে একজন ভারতীয় ১১ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডে এই রেকর্ড করেছিলেন। তখনই আমি সেটি ভাঙার কথা ভাবি। তবে শুরুতে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন পাওয়া কঠিন ছিল। অনেক চেষ্টা করেও সঠিক দিকনির্দেশনা পাইনি।”

সিফাত আরও জানান, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম-কানুন জানতে তিনি ফেসবুক ও ইউটিউবে খোঁজাখুঁজি করেন এবং আগের রেকর্ডধারীদের ই-মেইলেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর দীর্ঘ ছুটিতে তিনি নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন। শুরুতে ২৫ থেকে ২৬ সেকেন্ড সময় লাগলেও ধীরে ধীরে অনুশীলনের মাধ্যমে সময় কমিয়ে আনতে সক্ষম হন। চোখ বাঁধা অবস্থায় মাস্ক খুঁজে নেওয়া এবং সঠিকভাবে পরা—এই দুটি বিষয়ই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি জানান, তার মা, ছোট ভাই এবং বন্ধু ইমন অনুশীলনের সময় তাকে নিয়মিত উৎসাহ দিয়েছেন। গত ১৮ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন করার পর প্রায় তিন মাস অপেক্ষার পর ২৮ এপ্রিল রাতে ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি স্বীকৃতির খবর পান।

সিফাতের বাবা আবদুল জলিল বনরক্ষী হিসেবে কর্মরত এবং মা বেগম সুরমা একজন গৃহিণী। ছেলের এই অর্জনে তারা গর্বিত ও আনন্দিত।

মা বেগম সুরমা বলেন, “সিফাত সামনে আরও নতুন রেকর্ড গড়তে চায়। এক মিনিটে সবচেয়ে বেশি মানুষকে আলিঙ্গন করা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক হ্যান্ডশেক করার মতো রেকর্ড নিয়েও সে ভাবছে।”

বাবা আবদুল জলিল বলেন, “আমার ছেলে খুব পরিশ্রম করেছে। অল্প সময়ে ১০টি মাস্ক পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো কিছু করবে বলে আশা করি।”

সিফাতের বন্ধুরা জানান, প্রায় নয় মাস ধরে সে নিরলস পরিশ্রম করেছে। অনেকেই শুরুতে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করলেও এখন তারাই প্রশংসা করছেন। শুরু থেকেই তারা সিফাতকে সাহস ও সহযোগিতা করেছেন।

২৪ নম্বর ফুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন হোসেন বলেন, “সিফাত আমাদের এলাকার গর্ব। কঠোর অনুশীলন ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে সে আরও বড় কিছু করবে বলে আমরা আশাবাদী।”

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 ববি ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক, ‘ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তি’ অভিযোগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘিরে সংগঠনটির অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্যাগী ও দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি দ্রুতই সংগঠনের ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন এই কমিটিতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অন্য সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তি তাদের জন্য হতাশাজনক। অনেকেই এ ঘটনাকে ‘ছাত্রলীগের পুনর্বাসন’ হিসেবে দেখছেন বলেও মন্তব্য করেন তারা।

অভিযোগে উল্লেখিতদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন, মো. জিহাদুল ইসলাম, আরমান হোসেন, মো. ইমরান, আব্দুল্লাহ নুর কাফি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ তাকভীর সিয়াম, প্রিতম দাস, বর্ণ বরন সরকার এবং গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রবিন আহমেদ তানভীর।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত বলেন, কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনে অবদান রাখা এবং বিতর্কমুক্ত এমন ব্যক্তিদেরই কমিটিতে রাখা হয়েছে, তারা আগে অন্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পরামর্শ করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

এদিকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, সিনিয়র-জুনিয়র ভারসাম্য রক্ষা না করা এবং কমিটি প্রণয়নে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সব মিলিয়ে ববি ছাত্রদলের এই নতুন কমিটি সংগঠনটির ভেতরে বিভাজন, আস্থার সংকট এবং সাংগঠনিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

দীর্ঘদিন পর বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। নতুন কমিটিতে দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

শনিবার (২ মে) রাতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাছির পৃথকভাবে এ কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটি ঘোষণার পরপরই বরিশাল নগরীতে আনন্দ মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা।

বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনামুল হাসান তাসনিম। সদস্য সচিব করা হয়েছে মো. নাভিদ রহমান খান (তুষার)-কে। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহমুদ হাসান তানজিল।

মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন আহাদ হোসাইন আবির, মাজহারুল ইসলাম মনিস, সজল তালুকদার, মো. খালেদ হোসেন বাবর, মো. হুমায়ুন কবির খান (ফেরদৌস), জহির রায়হান, মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. সিহাব (ববি), আল আমিন হাসান ও মো. রাকিব তালুকদার।

অন্যদিকে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে তৌফিকুল ইসলাম ইমরানকে। সদস্য সচিব হয়েছেন মো. আল আমীন মৃধা এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন আসিফ আল মামুন।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল কাদের মোল্লা, মো. ইমরান আহমেদ (ইব্রাহিম), মো. জাহিদুল ইসলাম পিন্টু, জাহিদ সাকিন (ববি), মহসিন শিকদার, আরিফ হোসেন (ববি), মো. ইমতিয়াজ চৌধুরী, মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক মৃধা) ও সৈয়দ মাহমুদ হাসান।

নবগঠিত মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদলকে আরও সংগঠিত ও সক্রিয় করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেও সংগঠনের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।

মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাভিদ রহমান খান তুষার বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হবে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আগের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০১১ সালে। পরে ২০১৮ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় পর নতুন নেতৃত্ব পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




চার দফা দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল বিএম কলেজ

সেশন ফি কমানো, অতিরিক্ত অর্থ ফেরত ও ফি কাঠামোর স্বচ্ছতার দাবিতে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (৩ মে) বেলা ১১টার দিকে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে সেশন ফি বাবদ ২ হাজার ৬২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে প্রায় ৭৮০ টাকার খরচের কোনো স্পষ্ট হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, যেসব খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে সেসব সুবিধা শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষকে সকল ফি’র স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করতে হবে এবং যেসব খাতে কোনো সেবা প্রদান করা হয়নি, সেসব খাতের অর্থ ফেরত দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীবান্ধব ফি কাঠামো প্রণয়ন ও সেশন ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর দাবিও জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১. সেশন ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি।
২. সেবাবিহীন খাতে আদায়কৃত অর্থ ফেরত।
৩. সকল ফি’র স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ।
৪. শিক্ষার্থীবান্ধব ফি কাঠামো নিশ্চিত করা।

একই দাবিতে পৃথকভাবে সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরাও। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নিয়ে সমস্যার সমাধান করা উচিত।

এ বিষয়ে বিএম কলেজের অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কলেজে বছরে একবার সেশন ফি নেওয়া হয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত খাতেই ফি আদায় করা হয়। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে, যাতে তারা পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 গৌরনদীতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদীতে র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে গৌরনদী প্রেসক্লাব। দিবসটি ঘিরে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

রোববার (৩ মে) সকালে গৌরনদী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া এবং খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির।

সভাপতির বক্তব্যে জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা শুধু সাংবাদিক সমাজের একার দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশনই একজন পেশাদার সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকদের সাহসিকতা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করে যেতে হবে।

সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া সাম্প্রতিক সময়ে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কয়েকজন সাংবাদিক সদস্যকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা হুমকি দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকরা সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ হীরা, মো. হানিফ সরদার, উত্তম দাস, সহ-সভাপতি এম আলম, সাবেক সহ-সভাপতি এইচ এম নাসির উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ জামিল মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদ, সদস্য মনীশ চন্দ্র বিশ্বাস, এইচ এম মোশাররফ, বদরুজ্জামান খান সবুজ, বিএম বেলাল, সোলায়মান তুহিন, মো. আনিচুর রহমান, আবু সাঈদ, পলাশ তালুকদার ও শামীম মীরসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাব সদস্য মো. লিটন খান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫