আইপিএল থেকে বাদ মুস্তাফিজ

আলোচনা, সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের টানা উত্তাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চাইলে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

গোহাটিতে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কেকেআর কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা চাইলে মুস্তাফিজের পরিবর্তে অন্য খেলোয়াড় দলে নিতে পারবে এবং সে ক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে আলোচনার পর থেকেই কলকাতা নাইট রাইডার্স ও মুস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এর প্রভাব পড়ে আসন্ন ২০২৬ আইপিএলে তার অংশগ্রহণ নিয়েও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাপ তৈরি হয়।

এর আগে ভারতের ধর্মীয় আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুর প্রকাশ্যে মন্তব্য করে কেকেআর ব্যবস্থাপনাকে ওই ক্রিকেটারকে দল থেকে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সময় বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ খানকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন এবং মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় নিরুপমও শাহরুখ খানের কাছে আবেদন জানান, যাতে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এই বিতর্কের পেছনে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও আলোচনায় আসে। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে এক পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনের একাংশকে নাড়া দেয়। এসব ঘটনার জেরে ভারতের বিভিন্ন মহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল, সর্বশেষ আইপিএল নিলামে বাংলাদেশ থেকে সাতজন ক্রিকেটারের নাম উঠলেও দল পান কেবল মুস্তাফিজুর রহমান। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স, যা আইপিএলের ইতিহাসে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ মূল্য। ফলে তাকে ঘিরে আলোচনাও ছিল তুলনামূলক বেশি।

এর আগে বিসিসিআইয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মুস্তাফিজের বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করছেন। এমনকি কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব ক্রিকেটে পড়বে না বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, মুস্তাফিজকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলে অভিষেক হয় মুস্তাফিজুর রহমানের। এরপর তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে খেলেছেন। আইপিএলে এখন পর্যন্ত ৬০ ম্যাচে তার শিকার ৬৫ উইকেট। চলতি মৌসুমে তাকে নতুন করে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কেকেআরের হয়ে মাঠে নামা হলো না তার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জনস্রোতে শেষ বিদায়

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে এই জানাজা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক শোকাবহ ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম আরও বাড়তে থাকে এবং পুরো এলাকা পরিণত হয় শোকের জনসমুদ্রে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়াও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বরা জানাজায় অংশ নেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকায় ছুটে আসেন। শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মী নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও এই জানাজায় অংশ নিয়ে প্রিয় নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, মুখে ছিল গভীর শোক আর ভালোবাসার প্রকাশ।

জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। এ সময় পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপিও দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব আজ স্মরণ করছেন সর্বস্তরের মানুষ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মানিক মিয়ায় জনস্রোত

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকার আশপাশে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে, পুরো এলাকা পরিণত হয় শোকাবহ জনসমুদ্রে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা জেলা থেকে মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে ছুটে আসেন। দুপুর ২টায় এখানে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শেষ বিদায়ে অংশ নিতে মানুষের আগমন থামছেই না।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, জানাজা চলাকালে যানজট এড়াতে কোনো যানবাহনকে মিরপুর সড়ক ব্যবহার করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় প্রবেশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আড়ং সংলগ্ন প্রধান প্রবেশপথটি সাধারণ মানুষের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে একাধিক রাস্তা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে করে শোকাহত মানুষ নির্বিঘ্নে জানাজাস্থলে পৌঁছাতে পারেন। খামারবাড়ি ও বিজয় সরণি এলাকার সড়কগুলো দিয়ে মানুষকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের দলে দলে জানাজাস্থলে উপস্থিত হতে দেখা যায়। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা, আবার কেউ কেউ কালো পতাকা হাতে শোক প্রকাশ করেন। চারপাশে শোনা যায় শোকের স্লোগান ও দোয়ার ধ্বনি।

চট্টগ্রাম থেকে আসা আবুল কালাম জানান, প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ে অংশ নিতে তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসেছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন ছিল সংগ্রাম আর আপসহীনতার প্রতীক। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি নীতি থেকে সরে যাননি। এমন নেত্রীর কর্মী হতে পেরে আমরা গর্বিত।

যশোর থেকে আসা কবির খান বলেন, আজ লাখো মানুষ এখানে জড়ো হয়েছে, যা প্রমাণ করে বেগম জিয়া কতটা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে খালেদা জিয়া চিরকাল মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন।

খালেদা জিয়ার জানাজাকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। মানুষের চোখে-মুখে ছিল প্রিয় নেত্রীকে হারানোর বেদনা, আবার তার রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই জনসমাগমে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে প্রধান উপদেষ্টা

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নিতে জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উপস্থিত হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শোকাবহ পরিবেশে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নেওয়া হয়। এর আগে সকাল থেকেই সেখানে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষবারের মতো তাকে বিদায় জানাতে জড়ো হন।

খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আব্দুল মালেক। জানাজা শুরুর আগে পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসভবন থেকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে। তারও আগে সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ওই বাসভবনে পৌঁছায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও নিকটজনরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।

জানাজা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর চিরবিদায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও আবেগ লক্ষ্য করা গেছে।

খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ ঢাকায় উপস্থিত হন ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা। বিদেশি প্রতিনিধিদের এই উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তার রাজনৈতিক গুরুত্বের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার জানাজা ও দাফনকে ঘিরে পুরো রাজধানীতে শোকের আবহ বিরাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংসদ ভবনে নেওয়া হবে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে জাতীয় সংসদ ভবনে নেওয়া হবে। এ উপলক্ষে যাত্রাপথজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহ সংসদ ভবনে নেওয়ার পর জানাজা ও দাফনসহ সব আনুষ্ঠানিকতা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করা হবে।

প্রেস সচিব আরও জানান, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রায় ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, জানাজা অনুষ্ঠান বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে। তবে দাফন কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের দায়িত্ব থাকবে কেবল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ওপর।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের রাজনীতির এক মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব, যিনি গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। এই দুঃখজনক সময়ে তিনি মরহুমার পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য কর্মী-সমর্থকের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অনন্য ও শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতীক ছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান বারবার জাতিকে গণতন্ত্রের পথে ফেরার প্রেরণা জুগিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণমুখী নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল অবস্থান ছিল অনন্য। এমন একজন দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই শোকাবহ সময়ে সবাই যেন মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দেন। একই সঙ্গে শোকের সুযোগে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

শোকবার্তায় আরও জানানো হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। পাশাপাশি তাঁর জানাজার নামাজের দিনে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জানাজাসহ সব শোকানুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

শেষে প্রধান উপদেষ্টা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তিনি জাতিকে এই গভীর শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি, ধৈর্য ও ঐক্য দান করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের: আইন উপদেষ্টা

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ড. আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে দেওয়া রায়ের কারণে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রহসনমূলক মামলার মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে অমানবিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, যে মামলাগুলোতে খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো। এসব মামলার পেছনে ন্যায়বিচারের কোনো প্রতিফলন ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুল তার বক্তব্যে বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পূর্ণ দায় রয়েছে।” তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ইতিহাসের সামনে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক প্রতীকী নেতৃত্ব, যাকে দমন করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এক নজরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও নানা রাজনৈতিক সংকট—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন ছিল ঘটনাবহুল।


ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন

বেগম খালেদা জিয়ার পুরো নাম খালেদা খানম পুতুল, যিনি ইতিহাসে পরিচিত খালেদা জিয়া নামে। তাঁর জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে (কিছু সূত্রে ১৯৪৬ সাল উল্লেখ করা হয়)। জন্মস্থান ভারতের জলপাইগুড়ি জেলা হলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায়

তিনি জন্মগ্রহণ করেন ইস্কান্দার মজুমদারতৈয়বা মজুমদার দম্পতির ঘরে। শিক্ষাজীবনে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, দিনাজপুরে অধ্যয়ন করেন।

১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।


ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ফার্স্ট লেডি। এই সময়েই তিনি ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন।


রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও নেতৃত্ব

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দলটির নেতৃত্ব দিয়ে আসেন।

স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত সাত-দলীয় জোট প্রায় নয় বছর ধরে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে টানা আন্দোলন চালায়, যা শেষ পর্যন্ত এরশাদ সরকারের পতনে ভূমিকা রাখে।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন দফা দায়িত্ব

বেগম খালেদা জিয়া তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—

  • প্রথম মেয়াদ (১৯৯১–১৯৯৬):
    এই মেয়াদে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
  • দ্বিতীয় মেয়াদ (১৯৯৬):
    এই মেয়াদ ছিল স্বল্পকালীন।
  • তৃতীয় মেয়াদ (২০০১–২০০৬):
    এ সময় তিনি পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনা করেন।

মামলা, কারাবাস ও মুক্তি

পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি মামলা হয় এবং তিনি বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন।
২০১৮ সালে তিনি কারাবন্দি হন।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে তাঁর সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—

  • বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ
  • দেশের বাইরে না যাওয়া
  • রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না হওয়া

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাঁর দণ্ড মওকুফ করা হয় এবং তিনি পূর্ণ মুক্তি লাভ করেন।


সর্বশেষ অবস্থা

২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন
বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ফজরের নামাজের পরপরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ব্যাগভর্তি পাখি শিকার করলেন বরগুনার দুই কারারক্ষী

বরগুনায় প্রকাশ্যে এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকারের অভিযোগ উঠেছে জেলা কারাগারে কর্মরত দুই কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে বাধা দিলে শিকার করা পাখিভর্তি ব্যাগ ও এয়ারগান নিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন অভিযুক্তরা।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল কাদের সড়কে। অভিযুক্তরা হলেন বরগুনা জেলা কারাগারের কারারক্ষী মো. হাফিজুর রহমান এবং সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. রফিকুল ইসলাম

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনায় কর্মরত একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের স্টাফ রিপোর্টার ও চিত্র সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ওই সড়কে দুই কারারক্ষীকে পাখি শিকার করতে দেখেন। তারা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শিকার বন্ধের অনুরোধ জানালে অভিযুক্তরা সঙ্গে থাকা ব্যাগভর্তি শিকার করা পাখি ও এয়ারগান নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে এক কারারক্ষীর হাতে একটি ডাহুক পাখি এবং অপরজনের হাতে একটি এয়ারগান দেখা যায়। মোটরসাইকেলে ঝুলানো ব্যাগে অন্তত ২৫টি শিকার করা পাখি ছিল বলে দাবি করা হয়।

জানা গেছে, অভিযুক্ত সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও পাখি শিকারের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় সাংবাদিকদের সামনে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে কারারক্ষী মো. হাফিজুর রহমান দাবি করেন, তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং নিজের মোটরসাইকেলে বের হলে সহকর্মী মো. রফিকুল ইসলাম তার সঙ্গে ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারার পর রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে এবং এয়ারগান জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার কাছ থেকেও লিখিত ব্যাখ্যা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বরগুনার পরিবেশকর্মী মুশফিক আরিফ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে বন বিভাগের বরগুনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বলেন, তিনি বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। খোঁজ নিয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আপসহীনতার বাইরেও খালেদা জিয়া ছিলেন ‘অপরাজেয়’ এক রাজনৈতিক প্রতীক

বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রায় চার দশক ধরে একটি ব্যতিক্রমী ও প্রভাবশালী নাম বেগম খালেদা জিয়া। আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও, তার রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি অনন্য দিক হলো— নির্বাচনী মাঠে তিনি কখনও পরাজিত হননি। এই ধারাবাহিক সাফল্যই তাকে রাজনীতিতে ‘অপরাজেয়’ নেত্রী হিসেবে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া একাধিক আসনে প্রার্থী হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি প্রতিবারই পাঁচটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসনে প্রার্থী হয়ে তিনটিতেই জয় লাভ করেন।

নির্বাচনী সাফল্যের ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন—১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর গঠিত ষষ্ঠ সংসদে তার দ্বিতীয় দফার সরকার ছিল স্বল্পস্থায়ী, প্রায় এক মাসের। তবে ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার নেতৃত্বেই সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঘটে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়িত হয়। ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলে খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠনের মাধ্যমে—জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোটকে সঙ্গে নিয়ে—২০০১ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি আবার বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি অংশ নিতে পারেননি২০২৪ সালের নির্বাচনও বিএনপি বর্জন করায়, ২০১৪ সালের পর থেকে তিনি নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে ছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একাধিক আসন থেকে অংশ নিতে পারেন—এমন সম্ভাবনার কথা। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই এই আপসহীন নেত্রীর জীবনাবসান ঘটে, যা দেশের রাজনীতিতে এক শূন্যতার সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচনী ইতিহাসে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ও রেকর্ড আজও অনন্য ও আলোচিত

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫