বরিশালে গাছবোঝাই ঠেলাগাড়িসহ আয়রন ব্রিজ ভেঙে খালে, দুই গ্রামের যোগাযোগ বন্ধ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গাছবোঝাই একটি ঠেলাগাড়িসহ পুরোনো আয়রন ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন যুবক আহত হয়েছেন এবং দুই গ্রামের মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের কটকস্থল গ্রামে, চুন্নু সরদারের বাড়ির সামনের আয়রন ব্রিজে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন ব্রিজ দিয়ে বড় গাছ বোঝাই একটি ঠেলাগাড়ি পার হওয়ার সময় হঠাৎ ব্রিজের একাংশ ভেঙে পড়ে যায়। এতে গাছসহ ঠেলাগাড়িটি নিচের খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় ব্রিজ পার হচ্ছিলেন আরিফ নামের এক যুবক, তিনি আহত হন।

এই দুর্ঘটনার পর থেকে কটকস্থলসহ আশপাশের দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লি এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. চুন্নু সরদার বলেন, ‘ব্রিজটি অনেক পুরোনো ও দুর্বল ছিল। আগেই গাছ ক্রেতা মাসুদ সরদারকে এই ব্রিজ দিয়ে ভারী গাছ পরিবহন না করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধ অমান্য করেই গাছ পরিবহনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।’

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা দ্রুত একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, নচেৎ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাগরে নিখোঁজ ১৭ জেলে, দুই বছর পর ফেরার আশায় পরিবার

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনো বাড়ি ফেরেননি বরগুনার ১৭ জেলে। দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারগুলো। তবে সম্প্রতি নিখোঁজ জেলেদের ভারতের একটি কারাগারে আটক থাকার তথ্য পাওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্বজনেরা।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে সাগরে যাওয়া ‘এফবি এলাহী ভরসা’ নামের একটি মাছধরা ট্রলার নিখোঁজ হয়। ওই ট্রলারে থাকা ১৭ জন জেলের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ দুই বছর পর সম্প্রতি জানা গেছে, তারা ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।

বরগুনা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা (ডিআইও-১) কামরুজ্জামান জানান, নিখোঁজ জেলেদের পরিবার থেকে ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাজধানীর এসবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলেরা ঘূর্ণিঝড়ের সময় দিকভ্রান্ত হয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখোঁজ ১৭ জেলের মধ্যে ১৬ জন বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। নলটোনা ইউনিয়নের গাজী মাহমুদ গ্রামের সাতজন এবং ঢলুয়া ইউনিয়নের নয়জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। অপর একজন পাথরঘাটা উপজেলার ছোট টেংরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের জীবন কাটছে চরম দুর্ভোগে। ঢলুয়া ইউনিয়নের মরখালী এলাকার বাসিন্দা ইউনুস সরদারের মা তারাবানু (৭০) ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করেন। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, দুই বছর ধরে ছেলের ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ছেলেকে ভারতের কারাগারে থাকার খবর পেয়ে আবার নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি পেয়েছেন। তিনি শুধু চান, জীবিত অবস্থায় ছেলেকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে।

একই গ্রামের আরেক নিখোঁজ জেলে আল আমিনের স্ত্রী সালমা আক্তার জানান, দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় ছিল। সম্প্রতি স্বামী জীবিত আছেন—এই খবর পাওয়ায় তারা সরকারের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছেন।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে আটক থাকার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের আবেদন পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কিছুটা সময় লাগলেও জেলেদের দেশে ফেরানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুই বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর একটাই চাওয়া—রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগে প্রিয়জনদের দ্রুত নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তীব্র শীতে নিউমোনিয়ায় প্রাণ গেল ঠিকাদারের

বরিশালে তীব্র শীতের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এক ঠিকাদারের মৃত্যু হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাশেদুল শেখ (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে চারটার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত রাশেদুল শেখ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক এলাকার বারোকানি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আব্দুস সালাম শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে তিনি বাসায় অবস্থানকালে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে চলমান তীব্র শীত ও উত্তর দিকের হিমেল বাতাসে বরিশালের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর ও হকাররা। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে অনেককেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে।

শীত থেকে বাঁচতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। যদিও কুয়াশার প্রভাব কিছুটা কমেছে, তবে উত্তরের হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। দিনের বড় অংশে সূর্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডার অনুভূতি বেড়েই চলেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার জেলায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের একই দিনে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি, অর্থাৎ চলতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি কম।

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে এক বেডে একাধিক রোগী কিংবা মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, শীতের এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। উষ্ণ পোশাক ব্যবহার, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান এবং অপ্রয়োজনে ভোর বা গভীর রাতে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে শীতের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মামলাটি দায়ের করেন বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সাদিক আবদুল্লাহকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ায় একই আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ১৬ অক্টোবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২৬ অক্টোবর দুদকের এক কনস্টেবল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় তার ঠিকানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ৪ নভেম্বর বরিশাল শহরের ঠিকানায় গিয়েও তাকে না পাওয়ায় একই দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল এলাকার ঠিকানায় বাড়ির দরজায় সম্পদ বিবরণীর ফরমের মূল কপি টাঙিয়ে নোটিস জারি করা হয়। নোটিস জারির পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

সাদিক আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো বরিশালেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বরিশাল মহানগরীর কালীবাড়ী সড়কে সাদিক আবদুল্লাহর পৈতৃক বাড়িতেও হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলার কিছুক্ষণ আগে তিনি বাড়িটি ছেড়ে যেতে সক্ষম হলেও তার তালাবদ্ধ শয়নকক্ষে আটকা পড়ে সিটি করপোরেশনের এক সাবেক প্যানেল মেয়রসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান মঙ্গলবার বলেছেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা এক যোগে কারসাজি করে এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছেন। এ মন্তব্য তিনি সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির বলেন, “যারা আশা করেছিল এলপিজির দাম বাড়বে, তারা এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিইআরসি যেভাবে দাম বাড়িয়েছে, তা ব্যবহার করে অনেকে অস্বাভাবিক লাভের চেষ্টা করছে। আমরা ইতোমধ্যেই কেবিনেট সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিয়েছি, প্রতিটি জেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম তদারকি করতে।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। এ অস্বাভাবিক দামের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই, এটি সম্পূর্ণরূপে কারসাজির ফল। সরকার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

উপদেষ্টা আরও নিশ্চিত করেন, কারা এই কারসাজিতে জড়িত তা খুঁজে বের করা হচ্ছে। “খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিলিতভাবে এই কাজে লিপ্ত হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,” জানান তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রতীক ছাড়া প্রচারণা নয় : ইসি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনের মধ্যে রাখতে প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত সব ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরই কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করে প্রচারণায় নামতে পারবেন। এর আগে কোনো পোস্টার, ব্যানার, মিছিল, সভা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা কিংবা সরাসরি ভোট চাইতে দেখা গেলে তা বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটগ্রহণের তারিখের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। সে অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার দুই দিন আগে রাত ১২টার মধ্যেই প্রচারণা শেষ করতে হবে। এই সময়ের পর কোনো ধরনের প্রচারণা চালালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন মনে করছে, প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারণা বন্ধ থাকলে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাবে এবং নির্বাচনী মাঠে কোনো পক্ষ বাড়তি সুবিধা নিতে পারবে না। এজন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আচরণ বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাড় কাঁপানো শীতে স্তব্ধ দেশ

বাংলা পৌষ মাসের মাঝামাঝিতে এসে শীত যেন তার চরম রূপ দেখাতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না অনেক জায়গায়। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড হলে অঞ্চলটির ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একদিনের ব্যবধানে সেখানে তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ, আর ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে আসে মাত্র ৬০০ মিটারে।

এর আগে সোমবার রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। একই সময়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মাসের শুরুতে রাজশাহী, নওগাঁর বদলগাছী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা আরও কমে কোথাও কোথাও ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার আশঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামীণ এলাকায় সকাল-বিকাল ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

শহর ও গ্রামাঞ্চলে মানুষ যে যেভাবে পারছে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। কোথাও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।

তীব্র শীতের প্রভাবে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপও। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ শিশু ও বয়স্ক মানুষ। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সময়ে নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ঠান্ডার সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। গরম কাপড় ব্যবহার, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। একই সময়ে রংপুরের সৈয়দপুরেও তাপমাত্রা নেমেছিল ২ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে, যা ছিল একটি বিরল নজির।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতে কক্সবাজারে যাচ্ছেন তারেক রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করতে আগামী ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজার সফরে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফরকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী থাকলে ১৮ জানুয়ারি তারেক রহমান কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আকতার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাদের পাশে থাকার অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের কক্সবাজার সফরকে জেলা বিএনপি নেতারা ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতা কক্সবাজারে আসছেন, এটি আমাদের জন্য গর্ব ও আবেগের বিষয়। নেতাকর্মীরা এই সফরকে ঘিরে উজ্জীবিত।

একই সঙ্গে কক্সবাজার সফরে তারেক রহমান যেন ২০২৩ সালের নভেম্বরে উখিয়ায় গুলিতে নিহত বিএনপি কর্মী জাগির হোসেনের পরিবারের খোঁজ নেন, এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আহমদ শাকিল বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে নিহত জাগির হোসেন ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তার দুই এতিম সন্তানসহ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নেতার কাছ থেকে আমরা আশা করি। উখিয়ায় গিয়ে তার কবর জিয়ারত করলে নেতাকর্মীরা অনুপ্রাণিত হবেন।

এর আগে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া সফরে যাচ্ছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে তারেক রহমান। পরদিন ১২ জানুয়ারি তিনি রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন বলেও জানা গেছে। ধারাবাহিকভাবে শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি জানানোই এসব সফরের মূল লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সে সময় রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় তাকে অভ্যর্থনা জানাতে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হন। তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে শহীদ হন ওয়াসিম আকরাম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার শহীদ হওয়া আন্দোলনের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটের উৎসবে মুখর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে একযোগে ৩৯টি ভোটকেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোর থেকেই ক্যাম্পাসে ভোটের আমেজ দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই শিক্ষার্থীরা দলে দলে ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেন। সাড়ে ৮টার দিকে ভোটাররা লাইনে দাঁড়ান। ৯টার আগেই প্রায় সব কেন্দ্রে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। কোথাও বিশৃঙ্খলা বা উত্তেজনার চিত্র দেখা যায়নি। বরং ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ চোখে পড়ে।

অনেক শিক্ষার্থী একে অপরের সঙ্গে দেখা করে আনন্দ প্রকাশ করেন, কেউ কেউ স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখতে দলবদ্ধভাবে ছবি তোলেন। মেয়েদের একটি অংশ শাড়ি পরে ভোট দিতে আসায় ক্যাম্পাসে বাড়তি রঙ যোগ হয়। দীর্ঘদিন পর ভোটের সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস ছিল স্পষ্ট।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৭ জন প্রার্থী। হল সংসদের ১৩টি পদের জন্য লড়ছেন ৩৩ জন। সব মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১৮৭ জন।

এ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে চারটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এগুলো হলো শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’। হল সংসদে লড়ছে তিনটি প্যানেল—‘অদম্য জবিয়ান’, ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ ও ‘রোকেয়া পর্ষদ’।

নির্বাচন কমিশন জানায়, কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১০০ জন ভোটারের জন্য একটি করে বুথ রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতিও রয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভোটার, শিক্ষক ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারছেন না। সবাইকে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটার শিক্ষার্থীরা ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে ভোট শেষে ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের হচ্ছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে ২ নম্বর গেট।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলি বলেন, আজকের মধ্যেই ভোটগ্রহণ ও ফল প্রকাশ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর আজই নির্ধারিত হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জকসুর নেতৃত্ব।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট শুরুর আগমুহূর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরের পর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়। দুই দফা পেছানোর পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত জকসু নির্বাচন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে বিএনপি

দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের চলমান সংকট নিরসনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করেই সামনে এগোতে হবে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন জানান, তারা মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানাতে গিয়েছিলেন। তবে তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের বর্তমান সংকটের বিষয়গুলো শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন।

মীর নাসির হোসেন বলেন, বৈঠকে জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে নোট নিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাইলে ব্যবসায়ীদের সফল হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে ব্যবসা-বান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে, কর্মসংস্থান কমছে এবং পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় ব্যবসায়ীরা তারেক রহমানের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, চাঁদাবাজি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ও দুর্নীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যখন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন, তখন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠান কমে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে ব্যবসায়ীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রেখে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজারকে সক্রিয় করা, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা মব কালচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এই বৈঠকে এফবিসিসিআই, বিসিআই, বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, বিটিএমএ, বিএসএমএ, বিএবি, আইসিসি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন এবং অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম