স্বর্ণে নতুন রেকর্ড, এক ভরি ছাড়াল ২ লাখ ২৭ হাজার

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। এতে করে দেশের বাজারে এক ভরি স্বর্ণের মূল্য পৌঁছেছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ দর।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বাজুসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়। নতুন নির্ধারিত দাম আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশের বাজারে কার্যকর হবে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলার বিনিময় হার এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতিও দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সে সময় ভরিপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা চাপে পড়ছেন। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম সামনে থাকায় অনেকেই কেনাকাটা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন। তবে বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সামনে স্বর্ণের দামে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্র দখলের ছক: বরিশাল-৩ আসনে শঙ্কা প্রকাশ ব্যারিস্টার ফুয়াদের

ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকায় জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যাশিত তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, প্রশাসনের একটি অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে অস্ত্রের মহড়ার প্রস্তুতির তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব বিষয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

নির্বাচনের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালের পর দেশে প্রকৃত অর্থে একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন হবে ঈদের আনন্দের মতো। কিন্তু ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এবং আগেভাগেই কেন্দ্র দখলের ছক কষে রাখলে সেই নির্বাচন কখনোই ভালো হতে পারে না।

একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ক্ষমতা আইন বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি আটক নিশ্চিত করা গেলে সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের প্রবণতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, জোটের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে নেতাকর্মীদের নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। কোন ধরনের প্রচারণা আইনসম্মত এবং কোনটি নয়—সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের নামে ও বেনামে ব্যানার-পোস্টার ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এসব অনিয়মের বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

সবশেষে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে—এমন আস্থা তৈরি হয় না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচন আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. সৌরভ সরদার, এবি পার্টির জেলা সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বি, যুগ্ম-আহ্বায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার, যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তানভীর আহমেদসহ জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোট মানেই কি শুধু ব্যালটে সিল? গণভোট নিয়ে বিভ্রান্ত বরিশালের মানুষ

ভোট বলতে আমরা সাধারণত ব্যালট পেপারে সিল মারাকেই বুঝি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি বিষয়—‘গণভোট’। এই শব্দটি শুনে অনেক সাধারণ ভোটারই এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না, আসলে গণভোট কী এবং কেন তা দিতে হবে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাবুগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকার ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা দুলাল গাজী একটি চায়ের দোকানে বসে বলেন,“ভোট বলতে তো কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালটে সিল মারাকে বুঝি। কিন্তু গণভোট কী, সেটা তো জানি না।”

একই এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাষ্য,“আমরা তো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট পেপারে ভোট দিতেই অভ্যস্ত। গণভোটের বিষয়ে কিছুই জানি না। এলাকায় এ নিয়ে কোনো প্রচার-প্রচারণাও চোখে পড়েনি। মানুষকে এটা বোঝানো দরকার।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একসঙ্গে গণভোটও হবে। সরকারিভাবে গণভোট নিয়ে প্রচারণা চালানোর কথা থাকলেও বরিশাল শহরের কিছু স্থানে সীমিত প্রচার দেখা গেলেও উপজেলার গ্রামাঞ্চলে তা তেমন চোখে পড়ছে না।

হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ আসনের নতুন ভোটার রিমন খান বলেন,“শুনেছি এবার দুইটা ভোট দিতে হবে—একটা সংসদ নির্বাচনের, আরেকটা গণভোট। কিন্তু গণভোটটা কী জন্য, কেন দেব—সেটাই বুঝি না। ক্যাম্পেইন করে না বোঝালে সাধারণ মানুষ বিষয়টা বুঝবে না।”

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর এলাকার আবুল কালাম বলেন,“এ বিষয়ে আমার কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। শুধু শুনেছি সেখানে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিতে হবে। এর বেশি কিছু জানি না।”

শিক্ষকরাও বলছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট নিয়ে স্পষ্ট ধারণার ঘাটতি রয়েছে। বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোস্তফা কামাল বলেন,“গণভোটে যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর মতামত নেওয়া হবে, সেগুলো সম্পর্কে সাধারণ ভোটারদের স্বচ্ছ ধারণা নেই। বিষয়গুলো সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে। এজন্য আরও জোরালো প্রচার-প্রচারণা দরকার।”

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন বলেন,
“গণভোট সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে জেলার সব উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণামূলক ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপনের বিষয়েও উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে।”

বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৮ জন। এর মধ্যে—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৩,২৩,৮১৭ জন
  • বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): ৩,৮০,৪৯৬ জন
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৩,২৭,৮৯৫ জন
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ): ৪,১৭,০৫৪ জন
  • বরিশাল-৫ (সিটি-সদর): ৪,৯৩,৯৫০ জন
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): ৩,১০,৪৯৭ জন

গণভোটে ভোটারদের চারটি বিষয়ের ওপর ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে হবে। বিষয়গুলো হলো—

  1. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
  2. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা
  3. ৩০টি ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব
  4. অন্যান্য সাংবিধানিক সংশোধনী

গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এখন প্রশ্ন একটাই: ব্যালটে সিল দেওয়ার বাইরে এই নতুন ভোট আসলে কী? সাধারণ মানুষের ভাষায় গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রভাব বোঝাতে না পারলে ভোটের দিন অনেক ভোটারই বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কাই করছেন স্থানীয়রা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে ১৮৬ মামলা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মোট ১৮৬টি মামলা। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

গড় হিসাবে দেখা যায়, মামলা থাকা প্রার্থীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রায় নয়টি করে মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও আইনজীবীদের বড় অংশের দাবি, এসব মামলার অধিকাংশই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হয়রানির অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ২৫ মামলার আসামি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, “আমরা আইনের পথ মেনেই নির্বাচনে এসেছি। অতীতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার যেন জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে—সেই লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছি। মামলা থাকা মানেই কেউ ভোটের অধিকার হারাবে, এমন নয়।”

বরিশাল সদর আসনের বাসদ প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলে থাকলেই মামলা দেওয়ার একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। কার নামে কয়টি মামলা আছে, তা দেখে চরিত্র নির্ধারণ করা যায় না। দেখতে হবে মামলার ধরন ও সত্যতা।”

হলফনামার তথ্যে দেখা যায়—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ১১টি মামলা
  • বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর): ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের নামে ১৮টি মামলা
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ৪১টি মামলা
  • বরিশাল-৪: ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে সর্বোচ্চ ৮৬টি মামলা
  • বরিশাল-৫ (সদর): ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ১৮টি মামলা
  • বরিশাল-৬: ৫ প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের নামে ১২টি মামলা

সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে—মোট ৮২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মামলা রয়েছে বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নামে—২৫টি।

আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মূলত রাজনৈতিক চরিত্র। এসব মামলার বড় অংশই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। প্রায় ৯৮ শতাংশ মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যার অনেকগুলো আদালতে টেকে না।”

আরেক আইনজীবী শাহে আলম বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের সময় মামলা ছিল দমন-পীড়নের বড় হাতিয়ার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এগুলো রাজনৈতিক, ভবিষ্যতে অনেক মামলা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।”

বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৮ জন। ৮২৭টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৪১টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিগত সরকারের সময় যাদের নামে মামলা হয়েছে, তার অধিকাংশই বানানো বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া। এগুলো পর্যালোচনায় রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মামলা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে ভোট নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এমপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা নেই—যা আছে, তা রাজনৈতিক।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকবে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের ছয় আসনে ১২ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থী, দিশেহারা ভোটাররা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হলেও বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে এখনো একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি ইসলামী সমমনা ১২ দলীয় জোট। ফলে একই আসনে জোটভুক্ত একাধিক দলের প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা।

জোট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে গঠিত এই ১২ দলীয় জোটে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ মোট ১২টি রাজনৈতিক দল। কিন্তু বরিশালের আসনগুলোতে আসন ভাগাভাগি ও সমঝোতা না হওয়ায় একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এতে পুরো জেলায় বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জন।

আসনভিত্তিক প্রার্থীদের চিত্র

বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া):
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদারের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া):
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের আবদুল মান্নান মাস্টার, খেলাফত মজলিসের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন।

বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ):
এখানে ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও এবি পার্টির মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভুইয়া নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তবে জোটের স্বার্থে জামায়াতের প্রার্থী জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ–হিজলা):
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার এবং ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এহছাক মো. আবুল খায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন):
জোটের সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ আসন এটি। এখানে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং এবি পার্টির মো. তারিকুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন। চরমোনাই পীরের দরবার এই আসনে অবস্থিত হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন ছাড় দিতে রাজি নয়, অন্যদিকে শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থানের কারণে জামায়াতও অনড় অবস্থানে রয়েছে।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ):
এ আসনেও ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ও জামায়াতের মো. মাহমুদুন্নবী বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন।

ভোটারদের উদ্বেগ ও বিশ্লেষকদের মতামত

বরিশাল সদরসহ বিভিন্ন আসনের ভোটাররা জানিয়েছেন, একই আদর্শ ও একই জোটের একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে জোটের মূল লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। অনেক ভোটারের প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত জোটের প্রকৃত ও চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত আসন সমঝোতায় না পৌঁছাতে পারলে এই বিভক্তি নির্বাচনে জোটের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই ভোটব্যাংকে একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।

তবে জোটভুক্ত প্রার্থীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, শেষ পর্যন্ত তারা সেটিই মেনে নেবেন এবং জোটের স্বার্থেই কাজ করবেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে নষ্ট হচ্ছে বোরো বীজতলা, চরম দুশ্চিন্তায় ভোলার কৃষকরা

ভোলায় কয়েকদিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ধানের চারা লাল, হলুদ ও সাদা রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে বোরো আবাদ নিয়ে গভীর উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে পড়ায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই চারা রোপণের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বীজতলা নষ্ট হয়ে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা

দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়নগর গ্রামের কৃষক সাইদুল রহমানমো. ইসমাইল জানান, তারা প্রত্যেকে ১৬ শতাংশ জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহে তাদের বীজতলার অধিকাংশ চারাই নষ্ট হয়ে গেছে। চারাগুলো বিবর্ণ হয়ে ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে দুই দফা বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। পাঁচ-ছয় দিন আগে তৃতীয়বারের মতো বীজতলা তৈরি করেছেন তিনি। “এবারও যদি নষ্ট হয়, তাহলে ঋণের টাকা শোধ করাই অসম্ভব হয়ে যাবে,”—বলেছেন তিনি।

চারা সংকটে আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কৃষক আনিছ ফরাজীমো. সবুজ জানান, এভাবে যদি বীজতলা নষ্ট হতে থাকে, তাহলে সামনে ধানের চারার মারাত্মক সংকট দেখা দেবে। এতে অনেক জমিতে বোরো আবাদ করা সম্ভব হবে না এবং কৃষকরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ

এ বিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ভোলাসহ সারাদেশেই বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে বোরো বীজতলা না করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেসব জমিতে ইতোমধ্যে বীজতলা রয়েছে, সেগুলো রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভোলার সাত উপজেলায় ৩ হাজার ৯০৫ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ঘোষণায় বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষাপটে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারেই তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানানো হয়।

ঘোষণার আগে একই দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান। ওই বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তারেক রহমানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। এতে আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

জনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে রাজধানী ঢাকার কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন এলাকা, বিচারপতি ভবন, জাজেস কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেট, মাজার গেট, জামে মসজিদ গেট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এর প্রবেশপথ এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের সামনের এলাকা। এসব স্থানে কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা প্রতিবাদ কর্মসূচির নামে ইচ্ছামতো সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়টি মাথায় রেখেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কাজ না করেই ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুর্ভোগে পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ

বিগত সরকারের প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে কাজ না করেই প্রায় ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে বৈঠাকাটা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার প্রকল্পে এই ভয়াবহ অনিয়মের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির অধিকাংশ অংশে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ। নাজিরপুর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি। পাশাপাশি জেলার সবচেয়ে বড় ভাসমান সবজির বাজার বৈঠাকাটায় যাওয়ার একমাত্র পথ হওয়ায় ব্যবসায়ী ও কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা। খানাখন্দে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা উল্টে আহত হচ্ছেন যাত্রী, ভাঙছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ। রোগী পরিবহনেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘বরিশাল প্রশস্তকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় মেসার্স ইফতি ইটিসিএল প্রা. লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারটি প্যাকেজে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে এই সড়ক সংস্কারের কাজ পায়। ২০২৪ সালের জুনে কাজ শুরুর কথা থাকলেও ২০২৫ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় পার হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ভাই এবং ভান্ডারিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনি কোনো কাজ না করেই পুরো অর্থ উত্তোলন করে নেন।

বৈঠাকাটা এলাকার বাসিন্দা তৌফিক শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছয়-সাত বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। পাকা রাস্তা এখন গ্রামের মেঠোপথের মতো। কাজ না করেই টাকা তুলে নেওয়ায় পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ আজ অসহায়।”

অটোরিকশা চালক তরিকুল শেখ বলেন, “এই ১৭ কিলোমিটার পথ আগে আধা ঘণ্টায় পার হওয়া যেত। এখন এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, রোগী পরিবহনে কেউ আসতে চায় না।”

এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দিলেও, কাজ না করেই কীভাবে পুরো অর্থ উত্তোলন করা হলো—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ সম্পন্নের চেষ্টা চলছে।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, “স্থানীয় সরকার বিভাগের যেসব কাজে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং যেগুলো তদন্তাধীন, সেগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে দ্রুত কাজ শেষ করতে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বানারীপাড়ায় অস্ত্রসহ আ.লীগের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন তারিকুল ইসলাম। তিনি সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পুলিশ ঘর তল্লাশি করতে চাইলে তারিকুল ইসলাম নিজেই আলমারি থেকে একটি অবৈধ পাইপগান, ৮ রাউন্ড কার্তুজ, দুটি দেশীয় ধারালো ছেনা ও একটি রামদা বের করে দেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আত্মরক্ষার জন্য এসব অস্ত্র নিজের কাছে রাখতেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন ও সংরক্ষণের অভিযোগে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম