তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের বৈঠক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে পারে: মির্জা ফখরুল

আগামী ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠককে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকটি লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠককে আমরা স্বাগত জানাই। এটি আমাদের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

ফখরুল আরও বলেন, “আমরা মনে করি এটি একটি বড় রাজনৈতিক ইভেন্ট। অনেক সমস্যার সমাধানের পথ খুলে যেতে পারে। নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে। এটা নির্ভর করবে আমাদের নেতাদের ওপর যে, তারা এই ইভেন্টকে কীভাবে কাজে লাগান।”

তিনি জানান, ড. ইউনূস যে হোটেলে অবস্থান করবেন, সেখানেই এই দুই ঘণ্টার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকেও এ বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

এ সময় তিনি বলেন, “বিএনপি বিপ্লবী দল নয়, বরং আমরা নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় যেতে চাই। যে কোনো সময় ভোট হলে আমরা প্রস্তুত।”

এর আগের দিন সোমবার, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গুলশানে। ভার্চুয়ালি এতে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।

আল-আমিন



১২ ঘণ্টারও কম সময়ে ঢাকার বর্জ্য সরানো হলো!

রাজধানী ঢাকায় কোরবানির ঈদের পশু জবাইয়ের পর সৃষ্ট সব বর্জ্য মাত্র ১২ ঘণ্টারও কম সময়ে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শনিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি শুধু প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় নয়, বরং জনকল্যাণে নিবেদিত স্থানীয় সরকারের প্রতিশ্রুতিশীল পদক্ষেপের বাস্তব উদাহরণ। নগরবাসীর সহযোগিতা এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রাজধানী দ্রুত পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, যারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন তারা আমাদের নীরব নায়ক। প্রচারের আড়ালে থাকা এই পরিশ্রমীরা প্রকৃতপক্ষে নগরীর সৌন্দর্য রক্ষাকারী। কোরবানির ঈদের প্রকৃত বীর তারাই, যাদের ত্যাগে শহর পেয়েছে পরিচ্ছন্ন চেহারা।

তিনি জানান, শুধু ঢাকা নয়, দেশের সব সিটি করপোরেশনেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। এ বছর ৩৫ হাজার ২৭২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঈদের আনন্দ উপেক্ষা করে সবার ঈদ উদযাপনকে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

 

 

 




“জাতীয় নির্বাচন পেছানোর ঘোষণায় জনগণ ব্যথিত: বিএনপি মহাসচিব”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছরের এপ্রিল মাসে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এই সময়সীমা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।”

শুক্রবার দিবাগত রাতে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি বহুবার বলেছে, আমরা দ্রুত নির্বাচন চাই। আমাদের প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করবেন। কিন্তু তার ঘোষণায় পুরো জাতিই হতাশ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্ত শুধু বিএনপি নয়, দেশের সব জনগণকেই হতাশ করেছে। এমন বিলম্বিত সময়সীমা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।”

এ বিষয়ে বিএনপি শিগগিরই দলের অবস্থান স্পষ্ট করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বলেও জানান তিনি।




ঈদ উপলক্ষে ‘ফিরোজা’য় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মিলনমেলা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। শনিবার (৭ জুন) রাতে রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’-তে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন হয়।

সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এটি আমাদের জন্য এক আনন্দঘন মুহূর্ত। আমাদের নেত্রীকে কেন্দ্র করে আমরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি বহু সফলতা অর্জন করেছে। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বললে আমরা নতুন করে অনুপ্রাণিত হই।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের প্রতি বেগম জিয়ার অবিচল আস্থা আমাদের প্রতিটি কথোপকথনে প্রতিফলিত হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বাইরে কোনো ব্যবস্থাই দেশের উপকারে আসতে পারে না।”

মির্জা ফখরুল জানান, বেগম জিয়া আগের তুলনায় ভালো আছেন এবং দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশ ও জনগণের কল্যাণ কামনায় দোয়া চেয়েছেন।

রাত সাড়ে ৮টায় ‘ফিরোজা’য় প্রবেশ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও এজেডএম জাহিদ হোসেন।

পরবর্তীতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হালিম, আফরোজা খানম রিতা প্রমুখ নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নেন।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই উপস্থিতি বিএনপির ঐক্য ও খালেদা জিয়ার প্রতি অবিচল আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।




ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শিবিরের ব্যতিক্রমী আয়োজন ঢাকা কলেজে

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা কলেজে আবাসিক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মানে প্রীতিভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা কলেজ শাখা। শনিবার (৭ জুন) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের একত্রিত করে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, “ঈদ শুধু উৎসব নয়, এটি আত্মত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুশীলন। ছাত্রদের মাঝে এই মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে শিবিরের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।

আয়োজকরা জানান, ঈদের সময় অনেক আবাসিক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে না পারায় তাদের পাশে দাঁড়াতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। তারা বলেন, এ আয়োজন কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও মানবিক ছাত্রসমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ।

আয়োজনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের বলেন, “ঈদের সময় পরিবার থেকে দূরে থাকাটা কষ্টদায়ক। আজকের আয়োজন আমাদের সেই অভাব অনেকটাই পূরণ করেছে।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিদ ইসলাম বলেন, “এখানে শুধু খাবার নয়, ছিল আন্তরিকতা ও সামাজিক বন্ধনের পরশ। ঈদের প্রকৃত রূপই তো এমন—সবাই এক হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করা।”

আবাসিক হলের কর্মচারী কাশেম মিয়া বলেন, “সাধারণত এমন আয়োজনে আমরা থাকি না। আজ আমরাও আমন্ত্রিত ছিলাম, এটি আমাদের জন্য গর্বের। ছাত্ররা এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে—এটা আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।”

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমছে না কেন, প্রশ্ন রিজভীর

ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের আন্তরিকতার প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “সরকার যদি সত্যিই আন্তরিক হতো, তাহলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের কষ্ট এতটা হতো না।”

শুক্রবার (৬ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “জনগণ চায় আইনের শাসন এবং তিন বেলা খাবারের নিশ্চয়তা। মানুষ ভেবেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শান্তিতে থাকবে, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে গত তিন দিনে সড়কে যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া ও চাঁদাবাজিতে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “কোনো কোনো মহাসড়কে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট। সরকার যদি আগেই প্রস্তুতি নিত, তাহলে এমন চিত্র হত না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আন্তরিকতা নেই বলেই দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিজভী। তার ভাষায়, “দিন দিন চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো সক্রিয় নয়। ঢাকা মহানগর এখন ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায় ছিনতাই যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




ঈদ ফিরোজায় কাটাবেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবার ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’য়। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদের সকল আনুষ্ঠানিকতা এবার ফিরোজায়ই সম্পন্ন হবে।

চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার পরিবার ঈদের কোরবানিও ফিরোজায়ই দেবেন। তাঁর বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও ফিরোজায় পশু কোরবানি দেওয়া হবে।

ঢাকার বাইরে বগুড়ার গাবতলীতেও বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের নামে কোরবানি দেওয়া হবে। দলীয় নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন জেলায় খালেদা জিয়ার জন্য কোরবানি দিবেন বলে জানা গেছে।

ঈদের দিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত খালেদা জিয়া তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে একান্ত সময় কাটাবেন। তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, মেঝো বোন সেলিনা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা ফিরোজায় উপস্থিত থাকবেন এবং একসঙ্গে ঈদের খাবার গ্রহণ করবেন।

ঈদের রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

এদিকে ঈদের দিন সকালে লন্ডন থেকে টেলিফোনে মাকে ঈদ মোবারক জানান তারেক রহমান। লন্ডনে ঈদ উদযাপন করছেন তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান এবং কোকোর দুই কন্যা জাহিয়া ও জাফিয়া রহমান।

ডা. জাহিদ জানান, জুবাইদা রহমান বৃহস্পতিবার রাতেই লন্ডনে পৌঁছান। এর আগে কোকোর স্ত্রী দেড় সপ্তাহ আগে লন্ডনে যান। গত মে মাসে চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন।

চিকিৎসক জাহিদ আরও বলেন, আলহামদুলিল্লাহ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা নিয়মিত তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

খালেদা জিয়া দেশবাসী ও প্রবাসে অবস্থানরত সকল নেতা-কর্মীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর জন্য দোয়া চেয়েছেন। সাধারণ মানুষের ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকভাবে চিন্তা করেন বলেও জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জোবাইদা রহমান লন্ডন ফিরলেন, পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করবেন ঈদুল আজহা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান লন্ডনে ফিরে গেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বেলা ১১টায় কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন তিনি।

এক মাসেরও বেশি সময় ঢাকায় কাটিয়ে পরিবারে যোগ দিতে তিনি লন্ডন ফিরে গেছেন। সেখানেই স্বামী তারেক রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমানের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে সকালে গুলশানের বাসা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন জোবাইদা রহমান।

প্রায় ১৭ বছর পর গত ৬ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। কাতার রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পৌঁছান তারা। লন্ডন থেকে তারেক রহমান নিজেই গাড়ি চালিয়ে মাকে হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের সঙ্গে দেশ ছাড়েন জোবাইদা রহমান। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আদালত তাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়। তবে গত বছরের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে সেই সাজা স্থগিত করা হয়।

জোবাইদা রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে মেডিসিনে এমএসসি করেন, যেখানে তিনি রেকর্ড নম্বর এবং স্বর্ণপদক লাভ করেন।

১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরের বছর তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় প্রথম হয়ে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। এই দম্পতির একমাত্র কন্যা জায়মা রহমান যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করে লন্ডনেই বসবাস করছেন।




ভারতবিরোধী আন্দোলনের সূচনা বিএনপির হাতেই: যুবদল সভাপতি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশে ভারতবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেছে দাবি করে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, “আমরাই প্রথম ভারতবিরোধী আন্দোলন শুরু করি, এখন যারা বড় বড় কথা বলছে, তারা কোনো সময়ই প্রতিবাদ করতে সাহস করেনি।”

বুধবার (৪ জুন) রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনায় যুবদল সভাপতি বলেন, “ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের উপদূতাবাসে হামলার পর কেউ লং মার্চ করেনি, আমরা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল মিলে আখাউড়া সীমান্তের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত লং মার্চ করেছি। তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে বিএনপি বিশাল কর্মসূচি পালন করেছে এবং এতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি ছিল। সেখানে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমানই প্রথম ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে লং মার্চ আয়োজন করেন। কাজেই ভারতবিরোধী অবস্থানে আমরাই প্রথম থেকেই রয়েছি। আমাদের লক্ষ্য প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা, তবে কার কী বক্তব্য তা দিয়ে নয়, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে কাজ করছি।”

সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মোনায়েম মুন্না বলেন, “তিনি বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে যারা নির্বাচন চাইছে তারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করছে। আমি তাকে বলেছি, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। আমরা নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকার চাইছি, সেটি তো কোনো অপরাধ নয়। বরং বেহুঁশ তারাই যারা ক্ষমতার লোভে অযৌক্তিক মন্তব্য করছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “৩১ মে একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপির গোপন বৈঠক হয়েছে, যেখানে তাসনিম জারা ও আসিফ মাহমুদের উপস্থিতি ছিল। অথচ তারা দাবি করছে বিএনপির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে কারা আসলে দ্বৈত নীতি অবলম্বন করছে, সেটা জনগণই বিচার করবে।”

আলোচনার শেষাংশে যুবদল সভাপতি বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান সবসময় সম্মানজনকভাবে সব দল ও নেতাদের কথা বলেন। আমরা রাজনৈতিক আচরণ বজায় রেখেই আন্দোলন করছি।”




দেশবাসীকে ঈদের  শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। বুধবার (৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “হযরত ইব্রাহিম (আ.), হযরত হাজেরা এবং তাদের পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) এর স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগ ও কুরবানির অনন্য দৃষ্টান্ত। এই উৎসব আমাদের আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে। একইসঙ্গে এটি সমাজ থেকে বৈষম্য দূরীকরণ ও ইনসাফভিত্তিক একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রেরণা জোগায়।”

তিনি বলেন, “ত্যাগ ও কুরবানির মানসিকতা নিয়ে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে হবে।”

বিবৃতিতে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, “যদিও দেশে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, তবু তা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা ফ্যাসিবাদী শক্তি এখনও দেশে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। এ পরিস্থিতির অবসানে সরকারকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, “মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।”

বিবৃতির শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ঈদুল আজহার মহান শিক্ষা অনুসরণ করে যদি আমরা আল্লাহর জমিনে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় জান-মাল কুরবানি করতে পারি, তাহলে তবেই আমাদের ত্যাগ সার্থক হবে। আমি দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করি এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।”