ড. ইউনূস-তারেক বৈঠকের পর নির্বাচন নিয়ে যা বললো এনসিপি

জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নে জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং বিচারের রোডম্যাপ ঘোষণা করার পরই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন দলের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে দলটি। এর অংশ হিসেবেই সম্প্রতি লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠককে নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের আস্থা অর্জনের পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপি।

তবে এনসিপি মনে করে, ওই আলোচনায় নির্বাচনের তারিখ নিয়ে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার তুলনায় বিচার ও কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। এ অবস্থাকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করে দলটি। এনসিপির অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে সরকার শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের দাবি ও অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বারবার প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রণয়ন, ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর এবং বিচারের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করলে তা গণঅভ্যুত্থানকে কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত করবে। এতে রাষ্ট্র বিনির্মাণের জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হবে বলে উল্লেখ করে এনসিপি।

এনসিপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কারের বিষয়গুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, জুলাই সনদ রচনা ও কার্যকর করার মাধ্যমে আসন্ন জুলাইকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।




ভিপি নুর বললেন, ‘বিএনপির আশীর্বাদের চিঠিই এখন অভিশাপ’

বিএনপির সহযোগিতা চিঠি এখন গণঅধিকার পরিষদের জন্য ‘অভিশাপ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। স্থানীয় পর্যায়ে একের পর এক সহিংসতা ও হামলার ঘটনার জন্য তিনি বিএনপির ওই চিঠিকে দায়ী করেছেন।

শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা রেস্ট হাউজের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমাদের ওপর যেসব হামলা হচ্ছে, তা আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গলাচিপা ও দশমিনার বিভিন্ন এলাকায় আমাদের অফিসে হামলা, ভাঙচুর, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এখন নিয়মিত চিত্র।”

ভিপি নুর জানান, কালারাজা, চরকাজল, চরবিশ্বাস ও পাতাবুনিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গতকাল পর্যন্ত ১২০ জন আহত, ১৭টি অফিস ভাঙচুর এবং দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমি ৫ আগস্টের পর প্রথম যখন পটুয়াখালীতে প্রবেশ করি, তখন থেকেই আমখালা ইউনিয়নে আমাদের কর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু হয়। সেই পরিস্থিতি এখনো বিদ্যমান। বিএনপির অভ্যন্তরীণ একটি চিঠিই এই উত্তেজনার সূচনা করেছে। সে কারণেই বলছি—আশীর্বাদের সেই চিঠি এখন অভিশাপে রূপ নিয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক নুর আরও বলেন, “আমরা নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি, প্রত্যেকটি ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে মামলা করতে। প্রশাসনের সাহায্য চেয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। ইতোমধ্যে আমরা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের ভূমিকার ওপর ভিত্তি করেই আমরা আমাদের পরবর্তী অবস্থান ঠিক করব।”

ভিপি নুর বিএনপির উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বড় রাজনৈতিক দল। আপনাদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের অনেক প্রত্যাশা থাকে। নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। আমাদের অবস্থাই যদি এমন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব শাহ আলম সিকদার, উপজেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব জাকির হোসেন মুন্সী এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ অক্টোবর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ভিপি নুরকে তার নিজ সংসদীয় এলাকা পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই চিঠির পর থেকেই মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা ও সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন নুরুল হক নুর।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



একটি দলকে খুশি করতেই নির্বাচন এগিয়ে আনা হচ্ছে: এনসিপি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর দাবি, একটি নির্দিষ্ট দলকে খুশি করার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা ইতিহাসের শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সরকারের নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সংস্কার ও বিচার না করে, যেভাবে সরকার নির্বাচন আয়োজনের দিকে যাচ্ছে, তাতে দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে না। এভাবে নির্বাচন এগিয়ে আনলে দেশে আরেকটি ফ্যাসিবাদী পরিস্থিতির জন্ম হবে। জনগণকে আবারও গণঅভ্যুত্থানের পথে ঠেলে দেওয়া হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “বিদেশের মাটিতে বসে একটি বিশেষ দলের সঙ্গে নির্বাচনের বিষয়ে সরকার বৈঠকে বসছে, অথচ সেখানে দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটছে না। জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতি যেন ভুলে যেতে বসেছে সরকার। মৌলিক সংস্কারের কোনো বার্তা নেই, বরং কেবল একদলীয় স্বার্থের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।”

এনসিপির শীর্ষ এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গণতান্ত্রিক সংস্কার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে এনসিপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি বলেন, “যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা উচিত ছিল। একদলীয় আলোচনার মাধ্যমে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জাতির জন্য অশনি সংকেত।”

এছাড়া, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “আমরা এখনো জানি না সংস্কার কীভাবে ও কোন পদ্ধতিতে হবে। এই অনিশ্চয়তার মাঝেই প্রধান উপদেষ্টার গণভোটের প্রস্তাব খারিজ করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ ইঙ্গিত নয়।”

এনসিপির নেতারা দাবি করেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি যদি ন্যায়ের ভিত্তিতে গঠিত না হয়, তবে এটি গণতন্ত্র নয়, বরং একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিকে এগোবে। সরকারকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ড. ইউনূসকে কলম ও বই উপহার দিলেন তারেক রহমান

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লন্ডনে বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠক চলাকালে প্রধান উপদেষ্টাকে তিনটি উপহার দেন তিনি। উপহারগুলোর মধ্যে ছিল একটি কলম ও দুটি বই।

শুক্রবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার কিছু পর শেষ হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে উপহারের বিষয়টি জানান।

শফিকুল আলমের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমানের দেওয়া উপহারগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি ফাউন্টেন পেন, গ্রেটা থুনবার্গের লেখা ‘No One Is Too Small to Make a Difference’ এবং ‘Nature Matters’ (সম্পাদনা করেছেন মোনা আর্শি ও ক্যারেন ম্যাকার্থি উলফ) বই দুটি।

এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে বাসা থেকে রওনা হয়ে বৈঠকের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান তারেক রহমান। হোটেলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বিএনপির পক্ষ থেকেও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।




তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা ড. ইউনূসের

আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সংস্কার ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।




রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে মুখোমুখি হচ্ছেন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান

যুক্তরাজ্য সফররত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে আজ লন্ডনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা) শহরের পার্ক লেনের হোটেল ডোরচেস্টারে এ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম লন্ডনে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এই বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ফরমেট নির্ধারণ করা হয়নি। তিনি বলেন, “যেহেতু তারেক রহমান বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলের নেতা, তাই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকটি হতে যাচ্ছে।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে যে হোটেলে অবস্থান করছেন, সেখানেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলতে পারে।

সূত্র জানায়, আলোচনায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী নির্বাচন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং ‘জুলাই চার্টার’সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কৌশল নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হবে।

এর আগে লন্ডনে বৈঠকের জন্য ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকের উদ্দেশ্য হিসেবে উভয়পক্ষই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গকে গুরুত্ব দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।




টিউলিপের সঙ্গে দেখা করছেন না প্রধান উপদেষ্টা ; হতাশা প্রকাশ টিউলিপের

যুক্তরাজ্যে চার দিনের সফরে থাকা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন টিউলিপ।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস জানান, টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এখন আইনি প্রক্রিয়াধীন। তাই সাক্ষাৎ করলে সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের শামিল হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি আদালতের বিষয়। আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে মামলা চলার মতো যথেষ্ট উপাদান আছে কিনা। প্রসিকিউটরদের আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত কিনা, সে প্রশ্নের উত্তরে ইউনূস জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং কমিশন সঠিক কাজটিই করছে।”

এদিকে যদি টিউলিপ বাংলাদেশে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে প্রত্যর্পণ চাওয়া হবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, “যদি তা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়, তবে অবশ্যই।”

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বলেন, “মিডিয়ার কাছে কোনো প্রমাণ ছাড়াই, কাল্পনিক অভিযোগের ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছড়ানো হচ্ছে। ইউনূস সে প্রতিহিংসার কেন্দ্রে রয়েছেন। যদি এটা প্রকৃত আইনি প্রক্রিয়া হতো, তবে তারা আমার আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত, ঢাকায় এমন এক ঠিকানায় ভুয়া চিঠিপত্র পাঠাত না, যেখানে আমি কখনও থাকিনি।”

টিউলিপ আরও বলেন, “আমি আশা করি তিনি এখন সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়ার অভ্যাস বন্ধ করবেন এবং আদালতকে প্রমাণ করার সুযোগ দেবেন যে তদন্তের সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং যুক্তরাজ্যের সংসদের একজন গর্বিত সদস্য।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নৈতিক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত করেন। প্রতিবেদনে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি; তবে আত্মীয়তার কারণে সম্ভাব্য সুনামের ক্ষতির বিষয়ে সতর্কতা জানানো হয়।

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে, যার একটি বড় অংশ যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে। এ অভিযোগের তদন্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ব্রিটিশ আইনজীবী নিয়োগ করেছে।

ড. ইউনূস জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য সরকার এই তদন্তে অত্যন্ত সহযোগিতামূলক। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি সমন্বয় কেন্দ্র (আইএসিসিসি) বাংলাদেশের অনুসন্ধানে সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করছে।

তবে সফরকালে ড. ইউনূসের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের বৈঠক হয়নি। এ বিষয়ে ইউনূস বলেন, “আমি জানি না আমি হতাশ নাকি তিনি হতাশ। এটা এক প্রকার সুযোগ হারানো। বাংলাদেশে এলেই হয়তো পরিস্থিতি বোঝা যেত।”

স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ার পেছনে ডাউনিং স্ট্রিট কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমন কোনো ব্যাখ্যা আমরা পেয়েছি বলে মনে হয় না। সম্ভবত তিনি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যস্ত ছিলেন।”




আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল বলা যায় কি না: ড. ইউনূসের প্রশ্ন

আওয়ামী লীগকে আদৌ রাজনৈতিক দল বলা যায় কি না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, গত বছরের জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ মাস পার হয়ে গেলেও দলটির কেউ এখনো দুঃখ প্রকাশ করেনি। বরং ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বুধবার (১১ জুন) যুক্তরাজ্যের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের রয়্যাল ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে ড. ইউনূস এসব মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি জানান, আগামী জুলাইয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে এবং এ ঘোষণার ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সংলাপে উপস্থিত একজন অংশগ্রহণকারী ড. ইউনূসকে প্রশ্ন করেন, “এপ্রিলের শুরুতে আপনারা নির্বাচন ঘোষণা করেছেন। সেনাবাহিনী ও কিছু রাজনীতিক এ বছরের মধ্যেই নির্বাচন চায়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে অনেকেই বলছেন নির্বাচনটি সুষ্ঠু হবে না।”

উত্তরে ড. ইউনূস বলেন, “আমার মতে, এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন। সময়টি সঠিক এবং জনগণ প্রস্তুত। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাররা প্রকৃত অর্থে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। নতুন ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে যারা ভোটার হয়েছেন তারা প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং নতুন বাংলাদেশের জন্য ভোট হবে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “আমরা এই অঙ্গীকার করেছি যে, যেসব তরুণরা জীবন দিয়েছে, তাদের স্বপ্নকে সম্মান জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ব। এজন্য আমরা সংস্কার, অপরাধীদের বিচার এবং নির্বাচন — এই তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করা হয়েছে। এসব কমিশনের সুপারিশগুলো দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। সংসদ, সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা ও সিভিল সার্ভিসসহ সবকিছুতেই পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংলাপে উপস্থিত এক প্রশ্নকারী জানতে চান, কেন সংস্কারের জন্য সরাসরি ভোটারদের ওপর আস্থা রাখা হচ্ছে না এবং কেন কমিশন বা রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, “ভোটের মাধ্যমে এসব পরিবর্তন আনাটা অবশ্যই উত্তম হতো, কিন্তু বাস্তবতা অনেক জটিল। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সব দলের সম্মতিতে সুপারিশগুলো গ্রহণ করা এবং পরে জুলাই ঘোষণাপত্রে সেগুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করা। সেই ঘোষণার ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলগুলোর মধ্যে একমত হওয়া কঠিন কাজ হলেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যেন সর্বসম্মত ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়ন করা যায়।




তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার সময় হয়ে আসছে :ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফেরার পথে আছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১০ জুন) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক সাহেব নিশ্চয়ই দেশে ফিরবেন, অবশ্যই দেশে ফিরবেন।” তবে তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ তিনি জানাননি।

এর আগে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের দিনক্ষণ জানানো হয়েছে। বৈঠকটি দলীয় সংকট নিরসনে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন মহাসচিব।

অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় উন্নত বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, উনি আগের চেয়ে শারীরিকভাবে অনেক ভালো আছেন। ডাক্তাররাও তাই বলছেন। তিনি অনেক ভালো আছেন।”

বিএনপি মহাসচিবের এই ঘোষণা দলের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।




লন্ডনে  বৈঠকে বসছেন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান

আগামী ১৩ জুন লন্ডনে বৈঠকে বসছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকটি লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলবে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান। তিনি জানান, লন্ডনে ড. ইউনূস যে হোটেলে অবস্থান করবেন, সেখানেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং কৌশলগত নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির অবস্থান ইতোমধ্যেই পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা জানালেও, সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় এগিয়ে এনে ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে বিএনপি বরাবরই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দাবি করে আসছে। ফলে আসন্ন বৈঠকটি দুই পক্ষের মতপার্থক্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় অংশ নিতে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।