উপদেষ্টাদের গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ, শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা

সিলেটের জাফলংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভের ঘটনায় যুবদল নেতা জাহিদ খানকে প্রধান আসামি করে মোট ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

রোববার রাতে গোয়াইনঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েল আহমেদ জানান, মামলায় বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে অবরোধ সৃষ্টি, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা প্রদানসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতা জাহিদ খানকে। দ্বিতীয় আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আজির উদ্দিনকে। এছাড়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ আহমেদ, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল জলিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম ও ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রমজান মোল্লা।

এর আগে শনিবার (১৫ জুন) সকালে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে জাফলংয়ের প্রধান সড়কে তাদের গাড়িবহরের গতিরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বিক্ষোভে পাথর কোয়ারি চালুর দাবিতে স্লোগান দেন তারা।

বিক্ষোভ চলাকালে গাড়িবহরের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।




জাফলংয়ে দুই উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ: ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

সিলেটের জাফলংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘটনায় পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আজির উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত চিঠিতে আজির উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন আজির উদ্দিন। কেন তার বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তি নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই নির্দেশনা জারি করেন।

এর আগে একই ঘটনায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ খানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

শনিবার (১৪ জুন) সকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জাফলং এলাকা পরিদর্শনে যান। ফেরার পথে গোয়াইনঘাটের বল্লাঘাট এলাকায় তাদের গাড়িবহর আটকে দেন বালু-পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। তারা বন্ধ থাকা জাফলংসহ সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারি চালুর দাবিতে স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আজির উদ্দিন ছাড়াও অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সুমন শিকদার, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল জলিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রমজান মোল্লা এবং বহিষ্কৃত যুবদল নেতা জাহিদ খান।




টিউলিপ সিদ্দিককে ফের দুদকে তলব, ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ঘুষের অভিযোগ

ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ও যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে গতকাল (১৫ জুন) পাঠানো নোটিশে আগামী ২২ জুন সকাল ১০টায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য টিউলিপ সিদ্দিককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নোটিশটি তার ঢাকার মোহাম্মদপুরের জনতা হাউজিং সোসাইটি, ধানমন্ডি ও গুলশানের একাধিক ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি গুলশান ও ধানমন্ডি থানার মাধ্যমেও নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ মে একই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। সে সময় রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ খসরুজ্জামান ও সর্দার মোশাররফ হোসেনকেও তলব করা হয়। তবে ওই সময় টিউলিপসহ কেউই দুদকের ডাকে সাড়া দেননি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঢাকার গুলশানে এক বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের একটি প্লট ১৯৬৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি ইজারা চুক্তি অনুযায়ী, ৯৯ বছরের মধ্যে এ জমি হস্তান্তর বা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

তবে ১৯৭৩ সালে বিচারপতি ইমাম হোসেন আমমোক্তারনামার মাধ্যমে মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার কাছে প্লটটি হস্তান্তর করেন। এরপর ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড এ প্লটের ওপর ভবন নির্মাণ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় এবং মামলাও শুরু হয়। মামলার চলমান অবস্থায় রাজউকের আইন উপদেষ্টারা ইস্টার্ন হাউজিংকে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন দেয়। অথচ কোম্পানিটি লিজ হোল্ডার বা বৈধ প্রতিনিধি ছিল না।

এভাবে রাজউকের আইন উপদেষ্টাদের সহায়তায় ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে ইস্টার্ন হাউজিংকে আমমোক্তার দিয়ে ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ঘুষ হিসেবে টিউলিপ সিদ্দিক একটি ফ্ল্যাট গ্রহণ করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০বি, ৪০৯, ১৬১, ১৬২, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(ক), ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দুদকের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি দল শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এর আগে পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। ওই মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি চার্জশিট দেওয়া হয়।

এই ছয় মামলার মধ্যে একমাত্র টিউলিপ সিদ্দিক পূর্বাচলের কোনো প্লট বরাদ্দ না নিয়েও আসামি হয়েছেন।




ড. ইউনূস-তারেক বৈঠকের পর এখন পরিস্থিতি স্বস্তিকর: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তির বাতাস বইছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা পরিষদের বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

রোববার (১৫ জুন) ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক লন্ডন বৈঠক প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমার কাছে পরিস্থিতিটা বেশ স্বস্তিকর মনে হচ্ছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো যার যার অবস্থান থেকে কথা বলবে। তারা যদি কোনো কথা বলেন, সেটা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গেই বলবেন।”

নির্বাচন ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে বিএনপির টানাপোড়েন নিরসনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আসলে তেমন কিছু ছিল বলে তো মনে করি না। রাজনীতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র কিংবা সংস্কার—সবক্ষেত্রেই সংলাপের মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে। তাই সংলাপ হচ্ছে বলেই এটাকে আমি ইতিবাচক মনে করি।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম হয়।




ইশরাকের নেতৃত্বে ডিএসসিসিতে ফের আন্দোলন, শপথ দাবি অব্যাহত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও জোরালো করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। ঈদের বিরতির পর রবিবার (১৫ জুন) সকাল থেকে আন্দোলনে ফের সক্রিয় হয়েছেন ডিএসসিসির কর্মচারীরা ও ইশরাকের অনুসারীরা। নগর ভবনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইশরাক।

বেলা ১১টার দিকে নগর ভবনে উপস্থিত হয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, “সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান করুন। সমস্যা মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। আমরা নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাস করি। প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানাবো, তিনি যেন এ বিষয়টি সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন। আদালতের রায় জনগণের রায়কে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাই।”

আন্দোলনকারীরা এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে নগর ভবন প্রাঙ্গণ সরব করে তোলেন। তাদের স্লোগান ছিল— ‘শপথ শপথ শপথ চাই, ইশরাক ভাইয়ের শপথ চাই’, ‘মেয়র নিয়ে টালবাহানা, সহ্য করা হবে না’, ‘চলছে লড়াই চলবে, ইশরাক ভাই লড়বে’ ইত্যাদি।

ইশরাক জানান, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে ডিএসসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম আন্দোলনের মধ্যেও চালু রাখা হবে। তবে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ডিএসসিসির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে নির্বাচন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ফল বাতিলের দাবি জানিয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ আদালতে যান ইশরাক হোসেন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করলেও হাইকোর্টে রিটের কারণে তার শপথ অনুষ্ঠান আটকে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ১৫ মে থেকে ইশরাকের সমর্থকরা নগর ভবনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ফলে ডিএসসিসির কার্যক্রম অনেকাংশেই স্থবির হয়ে পড়ে।




“উত্তরের জনপদ আর বৈষম্য মেনে নেবে না: হুঁশিয়ারি সারজিস আলমের”

ঈদযাত্রায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, বছরের পর বছর ধরে চলা এই বৈষম্য উত্তরবঙ্গের মানুষ আর মেনে নেবে না।

শনিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম লিখেছেন, “শুধু সংকীর্ণ টোল প্লাজার কারণে যমুনা সেতুর পূর্ব পাশে ২০ কিলোমিটারের বেশি সড়কে যানজট তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ সেই জ্যামে আটকে থাকে। এরপরও সংশ্লিষ্টদের কোনো পদক্ষেপ নেই।”

তিনি উল্লেখ করেন, “ঢাকা-রংপুর চার লেন মহাসড়কের কাজ চলছে এক দশক ধরে, এখনও তা সম্পূর্ণ হয়নি। গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়িতে রাস্তার অর্ধেক কাজ শেষ না হওয়ায় সেখানেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কও এখনও চার লেনে উন্নীত হয়নি।”

রেলের অব্যবস্থাপনার দিকেও ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে যেতে এখনো ট্রেনে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় লাগে। যদিও স্বাভাবিকভাবে ঢাকা-বগুড়া-রংপুর হয়ে এই রুটে যাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে রাজশাহী-নওগাঁ-নাটোর হয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরে যেতে হয়। যদি বগুড়া হয়ে রংপুর পর্যন্ত ট্রেনলাইন থাকত তবে এত বড় পথ ঘুরতে হতো না।”

নিজের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা জানিয়ে সারজিস বলেন, “এই ঈদে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে যেতে আমার ১৭ ঘণ্টা লেগেছে, আর ফিরতে লেগেছে ১৫ ঘণ্টা। অনেকের ক্ষেত্রে ২০ ঘণ্টাও লেগেছে। ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে এই অবস্থাকে উন্নয়নের গল্প বলা যায় না। যমুনা সেতুর খরচ টোলের মাধ্যমে ৬-৭ বছর আগেই উঠে গেছে। তারপরও টোল প্লাজার কারণে এই ভোগান্তি দূর হয়নি। হয় টোল আদায় বন্ধ করতে হবে, না হলে টোল বুথের সংখ্যা তিনগুণ বাড়াতে হবে।”

সারজিস আলম অভিযোগ করেন, “উত্তরের জনপদ থেকে আওয়ামী লীগ শুধু শোষণ করেছে, দেওয়ার বেলায় পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে।”

ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে সব বিভাগীয় শহরের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ে অথবা চার লেন মহাসড়ক নির্মাণ করতে হবে। আন্তঃবিভাগীয় রেললাইনগুলো সর্বনিম্ন সময়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের পুরনো বগি বদলে মানসম্মত ও আরামদায়ক বগি সংযোজন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সব অঞ্চলের অবকাঠামোগত ভারসাম্য প্রয়োজন। উত্তরবঙ্গের মানুষ সেই ভারসাম্য রক্ষায় সজাগ থাকবে।”

উত্তরাঞ্চলের জনগণকে উদ্দেশ করে সারজিস আহ্বান জানান, “আপনারা আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরুন। এই সমস্যাগুলোর সমাধানই হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে। যারা লুটপাট, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না — তাদেরকেই ভোট দেবেন। যারা করবে না, তারা যে দলেরই হোক না কেন তাদের বর্জন করবেন।”




ড. ইউনূস-তারেক বৈঠক নিয়ে সমালোচকদের প্রশ্ন তুললেন রিজভী

লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক নিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, “এই বৈঠক অনেকের মনে জ্বালা ধরিয়েছে। কেন এই জ্বালা? আপনাদের উদ্দেশ্য কী?”

শনিবার (১৪ জুন) গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরে মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে রিজভী বলেন, রমজান ও ঈদের কারণে এপ্রিল মাসে নির্বাচন কঠিন হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের সময়টি উত্তম বলে মত দেন তিনি।

জামায়াতের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “আপনারা পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১ সালের বিরোধিতা, ৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সাথে নির্বাচন, আবার ৯৫ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। এখন আবার আওয়ামী লীগকে মাফ করার কথা বলেন। এটাই কি নিরপেক্ষতা?”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনায় তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে আন্দোলনকারীদের হত্যা, দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া মাথা নত করেননি বলেই আজও জেলে থাকতে হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।




লন্ডনে বৈঠক নিয়ে জামায়াতের উদ্বেগ: প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

লন্ডনে বিএনপির শীর্ষ নেতার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক এবং যৌথ বিবৃতিকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যত্যয় বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৪ জুন) সকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির অবস্থান তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৩ জুন লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক এবং পরে যৌথ প্রেস ব্রিফিং করার ঘটনা স্বাভাবিক রাজনৈতিক আলোচনার চেয়ে ভিন্ন বার্তা দেয়। এর মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা একটি দলের প্রতি বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ করেছেন বলে মনে করে জামায়াত। যা তার নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে এবং দেশের জনগণের মধ্যে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান উপদেষ্টা এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পৃথক ও যৌথ বৈঠক করেছেন। কিন্তু দেশের বাইরে গিয়ে কোনো একটি দলের সঙ্গে আলোচনার পর যৌথ বিবৃতি দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। দলের মতে, দেশে ফিরে এসে সকল দলের সঙ্গে আলোচনা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত হতো।

জামায়াতের বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা গত ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন। এরপর লন্ডনে গিয়ে নির্দিষ্ট একটি দলের সঙ্গে বৈঠক ও যৌথ প্রেস ব্রিফিং করায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দলটি আরও মনে করে, সরকারপ্রধান হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে বহু রাজনৈতিক দল সক্রিয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে শুধু একটি দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সঠিক পন্থা হতে পারে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াত আশা করছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবে এবং বিচার ও সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ ছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে উদ্ভূত সংশয় নিরসনে তার পক্ষ থেকে জাতির সামনে সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ।




ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও তারেক রহমানের বৈঠক দেশের রাজনীতির এক টার্নিং পয়েন্ট : মির্জা ফখরুল

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডন বৈঠককে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সঙ্গে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য ‘সুসংবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আজ বহুল প্রতীক্ষিত একটি সুসংবাদের প্রত্যাশায় ছিলাম। ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক নিয়ে গোটা জাতি উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিল। আমি আগেই বলেছিলাম—এই বৈঠকটি একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। বাস্তবেও সেটিই ঘটেছে।”

তিনি জানান, বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, আলোচনা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় নির্বাচন ইস্যুই ছিল প্রধান। তারেক রহমান নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি গৃহীত হয়েছে। ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দু’পক্ষ সম্মত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তারেক রহমান আবারও প্রমাণ করেছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলী তার রয়েছে। এই বৈঠকে তিনি অত্যন্ত সফল হয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে আমি তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই।”

ড. ইউনূসকেও ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “সবকিছু যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে গিয়েছিল, তখন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “চতুর্দিকে যখন অনিশ্চয়তা ছিল, তখন দুই নেতা প্রমাণ করেছেন—বাংলাদেশের মানুষ প্রয়োজনের সময় একত্রিত হতে পারে এবং সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।”




ড.মুহাম্মদ ইউনুসের যুক্তরাজ্য সফরের মধ্যে দিয়ে যে পাঁচটি অর্জন হলো বাংলাদেশের

চার দিনের সরকারি সফর শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত ৯ জুন ঢাকা থেকে লন্ডনে পৌঁছানোর পর এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি অর্জনের কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে সফরের অর্জনগুলো তুলে ধরেন প্রেস সচিব। সেখানে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠককে ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য ‘গেম ওভার’ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন।

প্রেস সচিবের উল্লেখিত পাঁচটি অর্জন নিম্নরূপ:

১. ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে বৈঠক ও পুরস্কার অর্জন:
রাজা চার্লসের কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ একটি পুরস্কার গ্রহণ করেন ড. ইউনূস। একইসঙ্গে ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে তার একান্ত ৩০ মিনিটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস সচিবের মতে, এই অর্জন জুলাই অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের চলমান যুগান্তকারী পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতীক।

২. ইতিহাসের অংশ ঐতিহাসিক বৈঠক:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) নেতার মধ্যে এই ঐতিহাসিক বৈঠককে ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য ‘গেম ওভার’ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দেন শফিকুল আলম।

৩. বৈদেশিক সম্পদ জব্দ:
যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ) প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ঘনিষ্ঠ এক সহকারীর ৩২০টি সম্পত্তি জব্দ করেছে, যার মূল্য প্রায় ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ড। এনসিএর মতে, এটি তাদের ইতিহাসে এককভাবে সর্ববৃহৎ সম্পদ জব্দের ঘটনা। প্রেস সচিবের ভাষায়, এটি দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের জন্য কঠিন বার্তা এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ইউনূস সরকারের কার্যক্রমের অংশ।

৪. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রসারিত:
ব্রিটিশ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধানসহ বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক বৈঠক হয়েছে। প্রেস সচিব আশা প্রকাশ করেন, এসব বৈঠকের ফলে বৈশ্বিক সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে আরও নিবিড় সহযোগিতার পথ সুগম হবে।

৫. রোহিঙ্গা সংকটে অগ্রগতি:
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রশ্নেও কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে বলে জানান শফিকুল আলম।

প্রধান উপদেষ্টার এই সফরকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।