দ্বিতীয় দিনের ঐকমত্য সভায় জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের (জিওকম) দ্বিতীয় ধাপের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (১৮ জুন) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে শুরু হওয়া আলোচনায় দলটির পক্ষ থেকে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অংশ নেন।

সভায় আজকের আলোচ্য বিষয় ছিল—জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি), রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি এবং জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠন।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হতে থাকেন।

উল্লেখ্য, প্রথম দিনের আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামী উপস্থিত না থাকলেও আজকের বৈঠকে তাদের অংশগ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সভা শেষে গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত নেতারা জানান, গঠনমূলক জাতীয় সংলাপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।




শেয়ারবাজারে কারসাজি: সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে দুদকের বড় পদক্ষেপ

শেয়ারবাজারে প্রতারণার মাধ্যমে ২৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

তিনি জানান, সাকিব আল হাসান তিনটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন এবং সেখানে বাজার কারসাজিতে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজারে চলমান অনিয়মে তিনি সরাসরি লাভবান হয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে, গতকাল সাকিবসহ মামলার অন্য ১৪ আসামির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। বাকি আসামিরা হলেন: সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের ও তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির ও তানভির নিজাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্যারামাউন্ট ইস্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেড—এই তিনটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাকিব শেয়ারবাজারে কারসাজিতে জড়িত ছিলেন। তিনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওই শেয়ারে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকারও বেশি লাভ নিজের নামে উত্তোলন করেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সাকিবের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়।

 




নির্বাচনের তারিখ নিয়ে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান আমীর খসরুর

নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে, তাই এই মুহূর্তে সহনশীলতা এবং আস্থা ধরে রাখাই সবচেয়ে জরুরি।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো ডায়াস ফেরেসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আমীর খসরু বলেন, “নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে সবার মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে। কোথাও দ্বিমত আছে বলে আমরা মনে করি না। এটা একান্তই নির্বাচন কমিশনের বিষয়। সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দল এটা নির্ধারণ করতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। একদম অস্থির হয়ে গেলে চলবে না। নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই সময়মতো দিনক্ষণ ঘোষণা করবে। আমরা সবাই অপেক্ষা করছি।”

লন্ডনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ইতিবাচক উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, “বৈঠকের পর জাতির মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। সঠিক পথে এগোলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে—এ বিশ্বাস আমাদের সবার মধ্যে থাকতে হবে।”

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যকার যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কমিশনের যোগাযোগ থাকা স্বাভাবিক। এটা রুটিন কার্যক্রমের অংশ। তাই আমাদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে।”

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ বিষয়ে আমীর খসরু বলেন, “কোর্টের রায় হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দিক থেকেও বিষয়টি এসেছে। এখন আমরা দেখছি সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়। সবার উচিত অপেক্ষা করা এবং আইনের শাসনের প্রতি আস্থা রাখা।”

বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ও ঐকমত্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।”




এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত, পাঁচ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়েছে দল

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) এক লিখিত বিবৃতিতে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানতে চেয়েছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

তাকে জানানো হয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা আগামী পাঁচ (০৫) দিনের মধ্যে রাজনৈতিক পর্ষদ ও গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে জমা দিতে হবে।

এছাড়া, চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার তুষারকে দলের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।




মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনা-আসাদুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের হাজিরার নির্দেশ

জুলাই-আগস্ট গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হলে, নিয়ম অনুযায়ী অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চলবে। এ বিষয়ে আগেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

গতকাল সোমবার (১৬ জুন) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই নির্দেশ দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৪ জুন।

এই মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পাশাপাশি পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও অভিযুক্ত। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।




ইশরাকের নগর ভবন দখল দায়িত্বহীন: উপদেষ্টা আসিফ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ইস্যুতে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বিষয়টি বিচারাধীন অবস্থায় গেজেটের মেয়াদ এবং পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় শপথ নেওয়ার আর কোনো আইনি সুযোগ নেই।

সোমবার (১৬ জুন) বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের নগর ভবনে সভা করার পর এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা।

আসিফ মাহমুদ তার বিবৃতিতে বলেন, ‘এভাবে ক্ষমতা প্রদর্শন করে নগর ভবন দখলের চেষ্টা দক্ষিণ ঢাকার দৈনন্দিন নাগরিক সেবায় বিঘ্ন ঘটানো দায়িত্বহীনতা এবং আইনের শাসনের প্রতি অবমাননাকর। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একজন নেতার কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। আমরা আরও দায়িত্বশীল ও পরিপক্ব আচরণ আশা করি।’

নগর ভবনে অবরোধের কারণে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘গত মাসে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ নাগরিক সেবা কমেছে। আমাদের কর্মকর্তারা ওয়াসা অফিসে বসে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে নাগরিক সেবা পুরোপুরি বন্ধ না হয়।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে অংশ নেওয়া নেতাদের কাছ থেকে আমরা আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি।’




নগর ভবনে প্রথম সভা করলেন ইশরাক, ব্যানারে ‘মাননীয় মেয়র’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৬ জুন) ডিএসসিসির নগর ভবনের মিলনায়তনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তার কর্মী-সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন।

নগর ভবনে এটিই ইশরাকের প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা। সভার ব্যানারে তার নামের আগে লেখা ছিল ‘মাননীয় মেয়র’। সভার শুরুতে কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করেন।

ডিএসসিসির সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। পরিচ্ছন্ন ঢাকা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

এর আগে ইশরাক হোসেন ঘোষণা দিয়েছিলেন, সরকার তাকে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর উদ্যোগ না নিলে তিনি নিজেই কর্মী, সমর্থক এবং দক্ষিণ সিটির বাসিন্দাদের নিয়ে শপথ গ্রহণের আয়োজন করবেন।

উল্লেখ্য, ইশরাকের শপথগ্রহণ দাবিতে তার কর্মী-সমর্থকরা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করে আসছেন। গতকাল রোববার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইশরাক বলেন, ‘জনগণের দৈনন্দিন সেবা আমাদের তত্ত্বাবধানে চালু থাকবে। তবে প্রধান ফটকে তালা দেওয়া থাকবে।’




সংস্কার, বিচার ও পিআর পদ্ধতির নির্বাচন এখন গণদাবি: পীর চরমোনাই

রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, পতিত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবি এখন দেশের গণমানুষের প্রধান দাবি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে রাজধানীতে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জরুরি সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘মৌলিক সংস্কার, বিচার এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে আগামী ২৮ জুন ঢাকায় গণজোয়ার সৃষ্টি করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সেদিন ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যমত পোষণকারী রাজনৈতিক দলগুলো একমঞ্চে যৌথ ঘোষণা দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করবে। এ লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে ভারতের কব্জা থেকে বের করে আনতে এবং আগামীতেও ভারতের আধিপত্য প্রতিরোধে এখনই দেশের সব বাংলাদেশপন্থি দল, মত ও পথের জনগণকে এক কাতারে আসতে হবে। তারই একটি বড় প্রতিফলন হবে ২৮ জুনের মহাসমাবেশ।’

দেশের সকল শ্রেণি-পেশা ও মতাদর্শের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘২৮ জুন সবাই ঢাকায় আসুন। সংস্কার, বিচার ও পিআর পদ্ধতির নির্বাচন নিশ্চিত করে দেশকে ভবিষ্যতের স্বৈরতন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে আরেকটি গণজোয়ার সৃষ্টি করি।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ, প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা ইমতেয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাকী প্রমুখ।




প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: সারজিস

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রবাসীদের ভোটের কথা উঠলেই সংশ্লিষ্টরা নীরবতা পালন করেন কেন।

সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

সারজিস তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘অভ্যুত্থানের সময় প্রবাসীরা রেমিটেন্স শাটডাউনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার— ভোটাধিকারের প্রশ্ন উঠলেই নীরবতা দেখা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোন পদ্ধতিতে সবচেয়ে সহজে ও স্বচ্ছভাবে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা যায়, সে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিক। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রবাসী ভাই-বোনদের ভোটাধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সারজিস আলম প্রবাসীদের অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সোচ্চার বক্তব্য দিয়েছেন।




ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; আতঙ্কে এলাকাবাসী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার মেহারি ইউনিয়নের শিমরাইল সাতপাড়া এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেহারি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. আবদুল আউয়াল এবং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা কামালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। সোমবার দুপুরে এই দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়।

এ ঘটনায় গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন কামাল মিয়া (২৪), জসিম উদ্দিন (৪০), কিবরিয়া (৫০) এবং টেঁটে বিদ্ধ সুমন মিয়া (৪৫)। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কসবা থানা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকেও মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কসবা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন , ‘এটি মূলত রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ। পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’