ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে ফ্যাসিবাদে রূপ নেয়: এনসিপি নেতার সতর্কবার্তা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, অতীতের রাষ্ট্রকাঠামোয় ত্রুটি থাকার কারণেই দেশে গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি কাঠামোটি সঠিকভাবে গঠিত হতো, তবে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। যারা এখনও আলোচনায় অনড়, তারা বাস্তবতা উপলব্ধি করছেন না।”

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “জনগণবিচ্ছিন্ন ক্ষমতাকাঠামো কখনো টিকে থাকতে পারে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ভোটে হওয়া উচিত।”

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “একই ব্যক্তি বারবার প্রধানমন্ত্রী হলে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে এবং তা ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদী রূপ নেয়। এতে দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক কাঠামোও ভেঙে পড়ে। তাই আমরা ঐকমত্য কমিশনের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছি।”

সংসদের উচ্চকক্ষ প্রসঙ্গে এনসিপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “নিম্নকক্ষে মোট ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে আসন বরাদ্দ দেওয়ার পক্ষে আমাদের দল মত দিয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল এখনো অতীতের ত্রুটিপূর্ণ ক্ষমতাকাঠামোতে ফিরে গিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। সেইসঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে ‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী উপাদান’ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা। তিনি এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দায়ও উল্লেখ করেন।




তারেক রহমান মানুষের স্বপ্নপূরণের আশা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন: শামসুজ্জামান দুদু

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন মানুষের স্বপ্নপূরণের প্রতীক হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সাদা দলের আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও পথ অনুসরণ করেই একজন শুদ্ধ, দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদে পরিণত হয়েছেন। তিনি এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শহীদ জিয়াউর রহমানের শাসনকাল ছিল গৌরবের সময়, যা অন্য কারও শাসনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাবাহিকতাই রক্ষা করেছেন। রাজনীতিতে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি আজ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃত।”

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ছিলেন ভবিষ্যতমুখী, বাস্তববাদী এবং জাতির সংকটে সাহসী পথপ্রদর্শক। তিনি উৎপাদনমুখী রাজনীতির প্রবর্তক এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রূপকার।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান কোনো সুস্পষ্ট শিক্ষাদর্শন রচনা না করলেও তার শাসনামলে নেওয়া শিক্ষানীতিমালা, কর্মসূচি এবং বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তার শিক্ষাভাবনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।”

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান বলেন, “গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আমরা আশা করি, আগামীর বাংলাদেশ হবে শিক্ষানির্ভর। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখায় এ বিষয়টির সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।”

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক এম এ কাউসার।

শেষে সেমিনারে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান আয়োজকরা।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তনে একমত রাজনৈতিক দলগুলো: আলী রীয়াজ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার(১৯ জুন) বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন অধ্যাপক রীয়াজ।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলই মনে করে, বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদের সংস্কার নিয়ে সকলেই একমত। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত আসবে ভবিষ্যতের আলোচনায়।”

অধ্যাপক রীয়াজ জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় দ্বিকক্ষ পার্লামেন্টের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতির সঙ্গে উচ্চকক্ষের সম্পর্ক রয়েছে। অনেক দলই দ্বিকক্ষ আইনসভার পক্ষে মত দিয়েছে। এমনকি উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা ১০০ নির্ধারণের প্রস্তাবও এসেছে। তবে এসব প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত নয়।”

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নিয়েও সংলাপে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, “একই ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না— এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি দল বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।”

অন্য বিষয়ে ঐকমত্য নিয়ে প্রশ্নে আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা সব বিষয়ে একমত হতে পারব না, তা আগেই জানতাম। তবে আশা করছি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে। যেসব বিষয়ে ঐক্য হবে না, সেগুলোও আমরা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরব।”

তিনি আরও জানান, আগামী রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় আবারও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে এই সপ্তাহে যেসব বিষয় অনিষ্পন্ন রয়েছে, সেগুলো আলোচনায় আনা হবে।




জাতীয় নির্বাচনে উঠছে পোস্টার, প্রচারে বাড়ছে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার চিত্রে আসছে বড় পরিবর্তন। ঐতিহ্যবাহী ‘পোস্টার’-এর ব্যবহার এবার নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। এর পরিবর্তে প্রার্থীরা বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। তবে বিদেশি অর্থায়নে অনলাইনে প্রচারণা চালানো যাবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসি সচিব মো. আখতার আহমেদএনআইডি মহাপরিচালক এসএম হুমায়ুন কবীর

নির্বাচন কমিশনার বলেন, “রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য ‘আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে তা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) সংশোধনের উপর নির্ভরশীল।” তিনি আরও জানান, “সংসদ নির্বাচনের প্রচারে পোস্টার বাদ যাচ্ছে। তবে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিল ব্যবহারের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থীরা।”

আচরণবিধির খসড়ায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযুক্ত হয়েছে:

  • অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের আচরণবিধির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বা সদস্য প্রার্থী হলে পদত্যাগ করতে হবে।
  • রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতিটি আসনের প্রার্থীদের একটি কমন প্ল্যাটফর্ম দেবেন, যেখানে প্রার্থীরা নিজেদের ইশতেহার জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারবেন।
  • প্রার্থিতা বাতিলের বিষয় ‘আরপিও’র ৯১/ঙ ধারায় নতুনভাবে সন্নিবেশ করা হয়েছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করতে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মাধ্যমের বিকল্প নেই।”

এদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন—এই পরিবর্তনের ফলে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নির্বাচনী প্রচারণা গড়ে উঠবে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারে যে প্রার্থীরা পিছিয়ে, তারা কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন।

✍️ মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



“বয়কট-ওয়াকআউটকে ইতিবাচক বলছেন প্রধান উপদেষ্টার মুখপাত্র”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীকী বয়কট ও ওয়াকআউট নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তার মতে, এটি রাজনীতিতে অনৈক্যের নয়, বরং একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।

বুধবার (১৮ জুন) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আজাদ মজুমদার লিখেছেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভা একদিন একটি দল প্রতীকীভাবে বয়কট করেছিল। পরদিনই তারা আবার আলোচনায় ফিরে আসে। এরপর সভায় ওই দলকে বেশি কথা বলতে দেওয়ার অভিযোগে অন্য দুটি দল প্রতীকী ওয়াকআউট করে। অনেকে হয়তো এটিকে রাজনীতিতে অনৈক্যের ছায়া মনে করছেন, কিন্তু আমি এটিকে দেখছি খুবই ইতিবাচকভাবে।”

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো সংসদ নেই। যদিও গত দেড় যুগ ধরে সংসদ ছিল, সেখানে আইন প্রণয়নের চেয়ে নেতাদের প্রশংসা বা প্রতিপক্ষকে আক্রমণেই সময় বেশি ব্যয় হয়েছে। সংসদীয় চর্চার এই ঘাটতি পুষিয়ে দিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মত একটি ফোরামে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

আজাদ মজুমদার আরও বলেন, “গতকাল কিছুক্ষণ ঐকমত্য কমিশনের সভায় ছিলাম। সেখানে প্রাণবন্ত বিতর্কে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ দেখে মনে হয়েছে এটাই এখন আমাদের বিকল্প সংসদ। রাজনীতিবিদরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন, সেগুলোই হয়তো ভবিষ্যতে আইনে পরিণত হবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, “এই রাজনীতিবিদদেরই অনেকে ভবিষ্যতে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাবেন। এখন যেমন তারা রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে মত প্রকাশ করছেন, তখনও তেমনি প্রাণবন্ত বিতর্ক হবে। কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে প্রতীকী প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট করবেন। এ সংস্কৃতিটা আমাদের রাজনীতি থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে তা আবার ফিরে এসেছে।”

উপ-প্রেস সচিব আশা করেন, ভবিষ্যতের নির্বাচিত সংসদও একইভাবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মুক্ত আলোচনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।




সংবিধান সংশোধন করে বিচার বিভাগের ক্ষমতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব সালাহউদ্দিন আহমদের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টসহ পুরো বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে তাদের দল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই বিচার বিভাগ সংসদ ও নির্বাহী বিভাগের ওপর নজরদারি রাখবে এবং জাতীয় অভিভাবক হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দিনব্যাপী আলোচনার পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা চাই, সুপ্রিম কোর্ট পুরোপুরি স্বাধীন হোক, যেন এটি একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। বিচার বিভাগ হতে হবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেটির ওপর দেশের প্রতিটি নাগরিক আস্থা রাখতে পারে। অতীতে সেই আস্থা আমরা পাইনি।”

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির এককভাবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। কী কী যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি প্রধান বিচারপতি মনোনয়ন দেবেন, তা সংজ্ঞায়িত করতে হবে। দুটি দল ছাড়া প্রায় সবাই এই বিষয়ে একমত।”

বিচারক নিয়োগ পদ্ধতি সংস্কারে ঐকমত্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি ও বিচারকদের নিয়োগ শুরু হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে পদ্ধতি কলুষিত হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।”

নারী সংরক্ষিত আসন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি এবং আরও কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০টিতে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই আসনগুলো বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী দলীয়ভাবে মনোনীত হলেও বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে সরাসরি নির্বাচনের ধারণাও আলোচনায় এসেছে।

এছাড়া দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের বিষয়েও বিএনপি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “একশ আসনের একটি দ্বিতীয় কক্ষ গঠনের ধারণার সঙ্গে আমরা একমত। বেশিরভাগ দলও এই চিন্তার প্রতি ইতিবাচক। তবে কিছু বিষয়ে আপত্তি থাকায় আরও আলোচনা প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “কাজের ধরন ও কাঠামো নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি কার্যকর ঐকমত্য গড়তে আরও সময় লাগতে পারে, তবে আলোচনা এগোচ্ছে।”




এনসিসি বিরোধীরা ফ্যাসিবাদী কাঠামোই চায়: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের বিরোধিতা করছেন, তারা মূলত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় থাকতে চান।

বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ বলেন, “আমরা জানতে চাই— অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি আগের ফ্যাসিবাদী কাঠামোই ধরে রাখতে চায়? কারণ, কয়েকটি রাজনৈতিক দল এনসিসির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এনসিসি বিরোধীরা আসলে ফ্যাসিবাদী কাঠামোতেই থাকতে আগ্রহী।”

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে বিদ্যমান মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ১৬ বছরে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। বরং এসব প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট একটি দল ও ব্যক্তির আজ্ঞাবহ হয়ে উঠেছে, বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, “নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। এনসিসি গঠনের মাধ্যমে সেই ভারসাম্য নিশ্চিত করা সম্ভব।”

তিনি আরও জানান, এনসিসির কাঠামোতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগের বিষয়টি রাখা উচিত নয়। একইভাবে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতিকেও এই কাউন্সিলের আওতার বাইরে রাখতে হবে। এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সেই গণআন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাহসিকতার সঙ্গে সংস্কারমুখী অবস্থান নিতে হবে এবং এনসিসি গঠনে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে হবে।”




যৌথ সংবাদ সম্মেলন নিয়ে আপত্তি, তবে আলোচনায় ফিরেছে জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, বিএনপি ও সরকারের যৌথ সংবাদ সম্মেলন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ‘বিরল’ ঘটনা এবং এতে অন্য সব রাজনৈতিক দল বিব্রত হয়েছে। তার দাবি, এই কারণেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় বৈঠকে জামায়াত অংশ নেয়নি।

বুধবার (১৮ জুন) ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তাহের বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের যৌথ সংবাদ সম্মেলন ইতিহাসে বিরল। এটি দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও বিব্রকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই জামায়াতে ইসলামীর আপত্তি ছিল।”

তিনি আরও জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতের আমিরের সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতের অবস্থান বুঝতে চেয়েছেন বলে তারা মনে করেন। এ উপলব্ধির ভিত্তিতেই জামায়াত বুধবারের আলোচনায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের পক্ষে মত দেয় বলে জানান তাহের। তার মতে, এ কাঠামোর মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে। তবে এনসিসির কাঠামো ও কার্যপরিধি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতিকে এনসিসির আওতায় রাখার বিপক্ষে। একইভাবে, তিন বাহিনী প্রধানের নিয়োগও এই কমিটির আওতায় না রাখার পক্ষে জামায়াতে ইসলামী। তবে এ বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।”

তাহের বলেন, “আমরা কখনোই সরকারকে ব্যর্থ করতে চাই না। বরং আমরা চাচ্ছি, সরকারকে সহযোগিতা করতে—যাতে একটি কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তোলা যায়।”




যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, আলোচনায় গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ইস্যু

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখাপ্রধান ম্যাথিউ বে-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিকেলে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং মানবাধিকার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অংশ নেন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা হারমানাস্কি ও জ্যামি স্টেলিও।

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দলটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

এছাড়া আলোচনায় উঠে আসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান ও সহিংসতার বিচার, রাজনৈতিক সংস্কার এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজনের প্রস্তাবনা।

বৈঠকে জামায়াত তাদের পক্ষ থেকে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি এবং সন্ত্রাস-চরমপন্থার বিরুদ্ধে দলের অবস্থানের কথাও তুলে ধরে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের সঙ্গে জামায়াতের এই সংলাপ আগামী নির্বাচন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।




জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে মাঠে নামছে জাতীয় নাগরিক পার্টি

জুলাই ঘোষণাপত্র, জুলাই সনদ এবং জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন রিফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এনসিপির নবগঠিত জেলা ও উপজেলা সমন্বয় কমিটিগুলোকে নিজ নিজ কার্যালয়ে প্রথম কার্যনির্বাহী সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভা শেষে প্রতিটি কমিটিকে নিজ এলাকায় কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের বাস্তবায়ন এবং ঐ মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে সভা, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো পদক্ষেপ নেবে।

দলটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন যৌথভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় নেতাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই গণআন্দোলনের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি, যা রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।