মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান হেফাজতের

চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা দাবি করেছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য “মহাযুদ্ধের” প্রস্তুতি নিতে হবে।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, “ইসরায়েল আজ শুধু একটি রাষ্ট্র নয়, বরং মানবতা ধ্বংসকারী এক দানব রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এই অবৈধ রাষ্ট্রের আগ্রাসন ও গণহত্যা বৈশ্বিক শান্তির জন্য ভয়ানক হুমকি।”
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, মুসলিম বিশ্বকে আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। অস্ত্রের পাশাপাশি জ্ঞান, কৌশল ও ঐক্যের লড়াইয়ের মাধ্যমে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মুসলিম বিশ্বের উৎকর্ষ অর্জন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থনে যুদ্ধাপরাধ চালিয়ে আসছে। বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
হেফাজতের নেতারা বলেন, “যখন ফিলিস্তিনে গণহত্যা চলে, তখন বিশ্ব মানবতা রক্ষার দাবিদার পশ্চিমা দেশগুলো নীরব থাকে। কিন্তু ইসরায়েল প্রতিরোধের মুখে পড়লেই তারা সক্রিয় হয়। এতে প্রমাণ হয়, তারা কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক নয়; বরং বিশ্বব্যাপী সংঘাতের জন্ম দিয়েছে বারবার।”
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইরানকে যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে। হেফাজতের মতে, “আধুনিক রূপে আবারও একটি ক্রুসেড শুরু হয়েছে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে। তবে ইনশাআল্লাহ, ইসরায়েলের পতনের সঙ্গেই আমেরিকা ও ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের পতনও অনিবার্য হয়ে উঠবে।”








