জুলাই বিপ্লবের সমর্থকদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গড়বে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি ‘উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সোমবার (২৩ জুন) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুঈনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী সম্মুখ সারির সমন্বয়ক, বিপ্লবের প্রতি সহানুভূতিশীল শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ব্যক্তিরা। উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম আরও সুসংহত ও দিকনির্দেশনামূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্ব তাদের কার্যদিবসের প্রথম দিনেই এই তদন্ত কমিটি গঠন করবে। উক্ত কমিটিকে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র (হোয়াইট পেপার) উপস্থাপন করতে হবে।

সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের তারিখ একদিন পিছিয়ে আগামী বুধবার (২৫ জুন) নির্ধারণ করা হয়েছে।




লন্ডনের বৈঠকে কেটেছে অনিশ্চয়তা, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হতে পারে: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই দেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত। সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণফোরামের সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া এ বৈঠকে বিএনপি ও গণফোরামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এনডিএমের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে অংশ নেয় বিএনপি। এতে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে আমীর খসরু বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এই ধারা অব্যাহত থাকবে আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত। নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটি জাতীয় সরকারের মাধ্যমে এসব বাস্তবায়ন হবে।”

লন্ডনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যকার বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ এই বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কেটে গেছে। জাতি এখন নির্বাচনের সুড়ঙ্গপথে প্রবেশ করেছে।”

নির্বাচনের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, “নির্বাচনের শিডিউল, মনোনয়ন জমা, বাছাইসহ সব প্রক্রিয়ার তারিখ নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে। অতীতেও তা শেষ সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মনে করি, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হবে।”

বৈঠকে উপস্থিত গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে একটি স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। গত বছরের ৫ আগস্ট সেই সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এরপর দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও লন্ডনের স্মরণীয় বৈঠকের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিএনপিসহ সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো মতামত দিচ্ছে। আমরা কমিশনকে জানিয়েছি—যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো যেন জাতীয় সংসদে অবিলম্বে পাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।”




জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা: কানাডার হাইকমিশনার

ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত শিং সোমবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, দুপুর ২টায়।

🤝 আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা

বৈঠকে কানাডার পক্ষ থেকে হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র পলিটিক্যাল অফিসার সিওভান কের এবং পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক অ্যাডভাইজার নিসার আহমেদ। জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এবং কেন্দ্রীয় নেতারা।

🗳️ সংলাপ, নির্বাচন ও সংস্কার

বৈঠকে বাংলাদেশ-কানাডা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়, রাজনৈতিক সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

ডা. তাহের জানান, হাইকমিশনার “ঐকমত্য কমিশন” সংক্রান্ত সংলাপ নিয়ে জানতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা জানিয়েছি, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, একই ব্যক্তির একাধিকবার প্রধানমন্ত্রিত্বে নিষেধাজ্ঞা, নতুন ভোটার তালিকা, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনসহ বেশ কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে মতৈক্য হয়েছে। তবে কিছু মৌলিক বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি।”

তিনি আরও জানান, “এই বিষয়ে আমরা গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছি এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আহ্বান জানিয়েছি যাতে কেউ ফ্যাসিস্ট আচরণ করতে না পারে।”

💰 কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার অনুরোধ

বৈঠকে নির্বাচনী কাজে সিসিটিভি সহায়তা এবং বাজেট সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। জামায়াত প্রতিনিধি দল কানাডাসহ উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে আর্থিক অনুদানের আহ্বান জানায়। হাইকমিশনার জানান, তিনি বিষয়টি জাতিসংঘের মাধ্যমে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেবেন।

🇨🇦 কানাডার প্রতিশ্রুতি

কানাডা বাংলাদেশে স্বাধীন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে।


📌 সংক্ষিপ্তভাবে মূল আলোচনা বিষয়সমূহ:

  • রাজনৈতিক সংস্কার ও নির্বাচন পদ্ধতির আধুনিকায়ন
  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা ও সংলাপ
  • গণভোটের প্রস্তাব
  • লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ
  • নির্বাচনী বাজেট ও আন্তর্জাতিক অনুদান
  • কানাডার কারিগরি সহায়তা ও ভবিষ্যত সহযোগিতা



চীন সফরের আমন্ত্রণ পেলেন তারেক রহমান: সিপিসির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)।

সোমবার (২৩ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, সম্প্রতি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের পিপলস গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সিপিসির পলিটব্যুরো সদস্য ও ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ডেপুটি চেয়ারম্যান লি হংঝং এই আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

শায়রুল কবির খান জানান, বৈঠকে বিএনপি ও সিপিসির মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া, পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সিপিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বৈঠকের মাধ্যমে দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আঞ্চলিক রাজনীতিতে চীনের নেতৃত্বকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগকে আরও বহুপাক্ষিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

উপস্থিত নেতারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন কৌশলগত সংলাপ আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সহায়ক হবে।




নূরুল হুদা মবকাণ্ডে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি বিএনপির

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাকে ঘিরে ‘মবকাণ্ডে’ বিএনপির কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “বিএনপি ‘মব কালচার’-এ বিশ্বাস করে না। আমরা বরাবরই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে, এবং বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি অনুসরণের দাবিতে আন্দোলন করছি।”

তিনি বলেন, “সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার গ্রেফতার এবং বিচার প্রক্রিয়া যেন আইনসঙ্গতভাবে হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। তবে তার সঙ্গে যে অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে, তা আমরা সমর্থন করি না। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যদি আমাদের দলের কেউ এতে জড়িত থাকে, তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়া হবে।”

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, “আমরা চাই, কোনো ব্যক্তি যত বড় অপরাধীই হোন না কেন, তার সাংবিধানিক এবং আইনগত অধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়।”

রবিবার (২২ জুন) রাতে রাজধানীর উত্তরায় সাবেক সিইসি কে এম নূরুল হুদার বাসার সামনে তাকে ঘেরাও করে জনতার একটি অংশ। এসময় তার গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে কে এম নূরুল হুদা অন্যতম দায়ী। তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন দীর্ঘায়িত করার অন্যতম হাতিয়ার। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে তিনি সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নষ্ট করেছেন।”




লন্ডন থেকে ফিরে স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করলেন জুবাইদা রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, চলমান বাড়িবাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে তার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে স্মার্টকার্ড সরবরাহ করা হয়। হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে ভোটার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইসি সচিব মো. আখতার হামিদ বলেন, “সাম্প্রতিক হালনাগাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

ইসি সূত্রে আরও জানা গেছে, তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসার ঠিকানায় ভোটার হয়েছেন। যদিও তার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ধানমন্ডির একটি আবাসিক এলাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে, তবে ভোটার হিসেবে গুলশান-২ নম্বরের ঠিকানাই ব্যবহৃত হয়েছে।

২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হলেও সে সময় তিনি লন্ডনে ছিলেন তারেক রহমানের সঙ্গে। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি দেশে ফেরেননি। গত ৬ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঢাকায় আসেন তিনি, তবে ৫ জুন পুনরায় লন্ডনে ফিরে যান। এর মধ্যেই ইসি কর্মকর্তারা তার ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।




মব সহিংসতার জন্য সরকারের দুর্বলতাই দায়ী: রাশেদ খান

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন, দেশের চলমান মব সহিংসতার পেছনে সরকারের দুর্বলতাই মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জনগণের হাতে লাঞ্ছনার পর গ্রেপ্তার করা হলেও, এর দায় এড়াতে পারে না সরকার— এমনটাই মনে করেন তিনি।

সোমবার (২৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, “একতরফা নির্বাচন, বিচারহীনতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের রক্ষার সংস্কৃতি থেকেই দেশে মবোক্রেসির জন্ম হচ্ছে। সরকার দুর্নীতিবাজ নির্বাচন কমিশন, ডামি এমপি ও মাফিয়াদের বিচার না করে বরং তাদের পুনর্বাসন করছে, যার ফলে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে এবং মানুষ মবের মধ্যে ন্যায়বিচার খুঁজছে।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “মব তৈরি হওয়ার জন্য কি সরকারই রসদ জোগাচ্ছে না? বিতর্কিত একতরফা তিনটি নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত কমিশন, সচিব, ডিসি, এসপি, ডামি ও স্বতন্ত্র নামধারী এমপি ও মন্ত্রীদের কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?”

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, “সরকারের উপদেষ্টারা সাবের-মান্নানসহ অনেক বিতর্কিত এমপির জামিন করিয়েছেন ও পুনর্বাসন করছেন। যাদের অর্থ ও ক্ষমতাশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। যেসব মাফিয়া ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী শেখ হাসিনার ‘অবৈধ সাম্রাজ্য’ গঠনে সহায়তা করেছে, তারাও রক্ষা পাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে যে বিপ্লবী পদক্ষেপ জনগণ আশা করেছিল, তা এখনও দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৩০০০ ‘মাথাওয়ালা’ নেতাকর্মী কিংবা শেখ পরিবারের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদেরও ধরা হয়নি। তাহলে কীভাবে এই সরকার গণহত্যার বিচার করবে?”

রাশেদ খান মনে করেন, যতদিন না সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে, ততদিন সমাজে মবোক্রেসি থামবে না। তার মতে, “মব তৈরি ও বিস্তারের দায় সরকারের ওপরই বর্তায়।”




আজও ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান ফটক বন্ধ, ইশরাকপন্থিদের কর্মসূচি অব্যাহত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান ফটক আজও তালাবদ্ধ। মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে দেখতে চাওয়া তার অনুসারীরা রোববার (২২ জুন) আবারও নগরভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে স্লোগান ও মিছিল নিয়ে সকাল থেকেই নগরভবনে জড়ো হন ইশরাকপন্থি শত শত কর্মী-সমর্থক। তারা নগরভবনের মূল সিঁড়িতে বসে কর্মসূচি চালিয়ে যান। আন্দোলনকারীরা এ সময় ‘ইশরাক ভাইয়ের শপথ চাই’, ‘মেয়র নিয়ে তালবাহানা চলবে না’, ‘নগর পিতা ইশরাক ভাই’—এমন নানা স্লোগানে নগরভবন প্রাঙ্গণ মুখরিত করেন।

জানা গেছে, ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-বড় মিছিল এসে একত্রিত হচ্ছে নগরভবনে। এতে নগর ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

গত ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ইশরাকপন্থি কর্মচারীরা নগরভবনের প্রধান ফটক আটকে ও বিভাগগুলোতে তালা ঝুলিয়ে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর ঈদের বিরতির পর গত ১৫ জুন থেকে আবারও শুরু হয় অবস্থান কর্মসূচি।

ইশরাক হোসেন এর আগে এক বিবৃতিতে জানান, “নাগরিকদের জরুরি সেবা যেমন জন্ম নিবন্ধন সনদ চালু থাকবে। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা অফিস করতে পারবেন না। প্রধান ফটক খোলা হবে না, এটি আমাদের আন্দোলনের প্রতীক।”

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে ইশরাক হোসেন ৭০টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক, ওয়ার্ড সচিব, স্বাস্থ্য বিভাগ ও ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা নগরভবনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




বিএনপি কার্যালয়ে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ট্রেসি জ্যাকবসন

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে জানান, এই সৌজন্য সাক্ষাতে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যায়ে বিএনপির এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেওয়ার কথা থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য জানানো হয়নি।




মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান হেফাজতের

চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা দাবি করেছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য “মহাযুদ্ধের” প্রস্তুতি নিতে হবে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, “ইসরায়েল আজ শুধু একটি রাষ্ট্র নয়, বরং মানবতা ধ্বংসকারী এক দানব রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এই অবৈধ রাষ্ট্রের আগ্রাসন ও গণহত্যা বৈশ্বিক শান্তির জন্য ভয়ানক হুমকি।”

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, মুসলিম বিশ্বকে আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। অস্ত্রের পাশাপাশি জ্ঞান, কৌশল ও ঐক্যের লড়াইয়ের মাধ্যমে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মুসলিম বিশ্বের উৎকর্ষ অর্জন জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থনে যুদ্ধাপরাধ চালিয়ে আসছে। বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

হেফাজতের নেতারা বলেন, “যখন ফিলিস্তিনে গণহত্যা চলে, তখন বিশ্ব মানবতা রক্ষার দাবিদার পশ্চিমা দেশগুলো নীরব থাকে। কিন্তু ইসরায়েল প্রতিরোধের মুখে পড়লেই তারা সক্রিয় হয়। এতে প্রমাণ হয়, তারা কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক নয়; বরং বিশ্বব্যাপী সংঘাতের জন্ম দিয়েছে বারবার।”

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইরানকে যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে। হেফাজতের মতে, “আধুনিক রূপে আবারও একটি ক্রুসেড শুরু হয়েছে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে। তবে ইনশাআল্লাহ, ইসরায়েলের পতনের সঙ্গেই আমেরিকা ও ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের পতনও অনিবার্য হয়ে উঠবে।”