নগর ভবনে হামলাকারীরা বিএনপির কেউ নয়, উপদেষ্টা আসিফের ঘনিষ্ঠ কেউ: ইশরাক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, হামলাকারীরা বিএনপি বা শ্রমিক দলের কেউ নয়। দলকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে বিএনপির স্লোগান ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে নগর ভবনে হামলায় আহতদের দেখতে এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক জানান, গত দুই দিন ধরে নগর ভবন ও এর আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে নাগরিক সেবা পুরোদমে চালু হয়েছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্থবিরতা কাটিয়ে জনতার সহযোগিতায় এ সেবা কার্যক্রম পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ অগ্রগতি ব্যাহত করতেই বহিরাগত অস্ত্রধারী ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্মম হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এ হামলায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং আরও ১০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলাকারীদের কাছে স্ক্রু ড্রাইভার, হাতুড়ি, দেশীয় অস্ত্র এবং একজনের কাছে পিস্তলও ছিল। একজন নেতাকর্মীর ফুসফুসে ছুরি মেরে গুরুতর আহত করা হয়েছে।

ইশরাক বলেন, “এই হামলা ছিল দুইটি উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত—প্রথমত, আমার নাম ব্যবহার করে আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব হিসেবে তুলে ধরা; দ্বিতীয়ত, জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করা।”

তিনি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া রুবেল ও কর্মচারী আরিফুজ্জামান প্রিন্সকে হামলার নেতৃত্বে থাকার জন্য দায়ী করেন। এরা দুজনই অতীতে মেয়র সাঈদ খোকন ও মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নানা সুবিধা আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইশরাক বলেন, কিবরিয়া রুবেল উপদেষ্টা আসিফের গাড়ি ব্যবহার করতেন এবং দুর্নীতি, টেন্ডার ভাগাভাগি ও লুটপাটের মাধ্যমে বিপুলভাবে লাভবান হয়েছেন। সেই সুবিধা ধরে রাখতেই ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন’ নামে হামলা সংগঠিত করেছেন তারা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। নগর ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ না হামলাকারীদের বিচার সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। একই সঙ্গে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এই ভবন আপনাদের। নির্ভয়ে আসুন, আপনাদের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”




জনগণ এখন সচেতন, তারা প্রতীক নয় দলীয় কর্মকাণ্ড দেখে ভোট দেবে: জামায়াত নেতা বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, জনগণ এখন আর শুধু নির্বাচনী প্রতীক দেখে ভোট দেয় না, বরং দলীয় কর্মকাণ্ড ও আদর্শ বিবেচনা করেই ভোট প্রদান করে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীর গেন্ডারিয়া সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীলদের সমাবেশ ও ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুলবুল বলেন, “কারা হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাট করেছে, তা এখন জাতির সামনে দিবালোকের মতো পরিষ্কার। তরুণ প্রজন্ম বলছে—বয়কট সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ ও আহতদের পরিবারের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না, বরং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটবে। শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বুলবুল জানান, জামায়াত প্রকৃত শহীদ পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে সহায়তা দিয়েছে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণে ১৫০০ পৃষ্ঠার দশ খণ্ডের বই প্রকাশ করেছে।

দেশে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল শুধু নির্বাচনের কথা বলছে, কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ও গণহত্যার বিচার চায় না। তারা বরং ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটছে।”

জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে বলেও আশ্বাস দেন বুলবুল।

তিনি আহ্বান জানান, দলমত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বকে সামনে এগিয়ে আনতে।




জামায়াত আমির ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠকটি ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে।

বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়াও পারস্পরিক আগ্রহের নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাক্ষাতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

বৈঠকটি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে এ ধরনের বৈঠককে রাজনৈতিক সংলাপ ও সম্পর্ক রক্ষার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




নিবন্ধন ফিরে পেয়ে সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কৃতজ্ঞতা জামায়াত সেক্রেটারির

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’সহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পুনরায় নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত রায়ের ভিত্তিতে এবং নির্বাচন কমিশনের ২৪ জুনের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে। এর আগে, ১ জুন আপিল বিভাগ জামায়াতের নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেয় এবং ৪ জুন নির্বাচন কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, “এই জয় ন্যায়বিচারের, এই জয় গণতন্ত্রের। দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই করেছি। আজকের এই অর্জনে আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।”

তিনি গণমাধ্যম, আইনজীবী এবং দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা জাতির বিবেক। সংবাদ মাধ্যমে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকতার মহত্ত্ব অটুট রেখেছেন।”

গোলাম পরওয়ার আরও জানান, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামী বৈধভাবে নিবন্ধিত হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর এক আদালতের আদেশে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াত দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “২০০৯ সালের একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে যে আদেশে আমাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল, তা ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। আজকের রায় এবং প্রজ্ঞাপন আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের স্বীকৃতি।”

সংক্ষিপ্ত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের বিষয়টি দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে গঠনমূলক রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।




গুম প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন করবে সরকার: আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

গুম প্রতিরোধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এতে গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘কমনওয়েলথ চার্টার যুব কর্মশালা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “কমনওয়েলথ চার্টারে বর্ণিত গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক আইনি সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিচারিক ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে আদালতসমূহ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হচ্ছে।”

তিনি জানান, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নতুন নিয়ম চালু করা হবে। সেই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) যুগোপযোগী করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে এবং আইনটির খসড়া প্রস্তুত রয়েছে।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া গণজাগরণ সম্পর্কে আইন উপদেষ্টা বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং গুম, হত্যা, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের আত্মপ্রকাশ। এটি একটি সামাজিক আন্দোলন যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়।”

 




ভোলায় ছাত্রদল কর্মীর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত দাবি, বিক্ষোভ সমাবেশ

ভোলা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী ও ছাত্রদল কর্মীর মৃত্যু নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিহত ওই ছাত্রীর মৃত্যু রহস্যজনক। চার দিন নিখোঁজ থাকার পর নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যদিও তাকে ঢাকা যাওয়ার পথে লঞ্চ থেকে ‘ঝাঁপ দিয়েছেন’ বলে দাবি করা হয়, কিন্তু এই ঘটনাকে ঘিরে বহু প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

নেতারা অভিযোগ করেন, একটি মহল ঘটনাটি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা এই মৃত্যুর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর হোসেন, আরাফাত ইসলাম ইফতি ও সদস্যসচিব ফজলুল করিম ছোটন।

উল্লেখ্য, ভোলা সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ছাত্রদল কর্মীকে চার দিন নিখোঁজ থাকার পর নদীতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজপাড়ায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।




তিন বিধবার জমি দখলে বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরিশালের বানারীপাড়ায় তিন বিধবা নারীর জমি দখলে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের যৌথভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দলীয় অফিস নির্মাণের নামে জমি দখল ও স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিন বিধবা—নাদিরা আলম খান, শামীমা বেগম ও রানু বেগম। তারা জানান, বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর এলাকায় ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ৬৯ শতক জমিতে তারা বসবাস ও ভোগদখল করে আসছিলেন।

নাদিরা আলম খান জানান, চলতি বছরের ১১ জুন যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান লিটন তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় হামলার শিকার হন তারা। অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে না গিয়ে পরে উল্টো তার দুই ভাইয়ের ছেলেকে আটক করে নিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীদের অনুপস্থিতিতে যুবদল, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা মিলিতভাবে কাঠের দোকান নির্মাণ করে জমি দখল করেন। আদালতে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পরও তা মানা হয়নি।

অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে:

  • যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান লিটন
  • আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও খান রেজাউল করিম
  • বিএনপি নেতা বশির কাজী, মাসুম আহমেদ, আব্দুস সালাম

অভিযুক্তদের বক্তব্য:

যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান লিটন দাবি করেন, জমির ৬২ শতক তার মায়ের মালিকানাধীন এবং আদালতের নির্দেশে সেই জমি তার দখলে রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা আ. জলিল বলেন, দোকান তোলার কাজে তিনি নিজের জমির সীমানা দেখিয়েছেন, কারও জমি দখলে সহায়তা করেননি।

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মোস্তফা বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ কাজ করেছে এবং জমির বিষয়ে রায় মাহফুজুর রহমান লিটনের পক্ষে রয়েছে।




দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেলো জামায়াতে ইসলামী

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ পুনর্বহাল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জামায়াতকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল (নিবন্ধন নম্বর: ০১৪)। কিন্তু হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই নিবন্ধন বাতিল করা হয়

পরবর্তীতে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায় বাতিল করে দেন। ফলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়। কোরবানির ঈদের আগে ৪ জুন অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এখন জামায়াতের প্রতিনিধিদল নিবন্ধন ও প্রতীক গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের তালিকায় জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত নেই, তবে বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে প্রতীকটি পুনরায় যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব।

ইসি সূত্রে আরও জানা গেছে:

  • বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৫০টি
  • সংসদ নির্বাচনের জন্য সংরক্ষিত ৬৯টি প্রতীক রয়েছে।
  • আরও ১১৫টি প্রতীকের প্রস্তাবনা কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে।
  • এসব প্রতীক নিয়ে কমিশন খুব শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দলটি ফের বৈধতা পায়। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।




আইজিপির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের প্রতিনিধি ম্যাথিউ ক্র্যাফট।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে পুলিশ সদর দফতরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশ ও অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের মধ্যে **মানবপাচার, অর্থপাচার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন** সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, **বাংলাদেশ পুলিশ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় কাজ করতে আগ্রহী এবং ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।**

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি মো. গোলাম রসুল, অতিরিক্ত আইজি (অপরাধ ও অভিযান) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, সিআইডির অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এই সাক্ষাৎ দুই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন উভয় পক্ষ।




ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে এনসিপির তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল

রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলটি।

সোমবার দিনগত রাত ১২টার দিকে এ বিক্ষোভ মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল চলাকালে তাদের ‘এনসিপি জিন্দাবাদ’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘হামলা করে সংস্কার বন্ধ করা যাবে না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এর আগে, দলটির কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আহত হন শ্রমিক উইংয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠক শফিকুল ইসলাম, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুর রব, ঢাকা মহানগর নেতা আসিফ উদ্দিন সম্রাট এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাজারীবাগ থানার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সুমন হোসেন।

এ ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।