ইনসাফভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

ইনসাফ, সাম্য ও বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “মানুষের রচিত বিধানের পরিবর্তে আল্লাহর বিধানই শান্তি ও কল্যাণের একমাত্র পথ।”

বুধবার (২৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর কাফরুলে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কাফরুল থানা জামায়াত আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন থানা আমির অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই বিপ্লব একটি ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, যেখানে ছাত্র-জনতার ঐক্য দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এই বিপ্লবে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, বহু মানুষ আজ পঙ্গু। তাদের আত্মত্যাগ জাতির কাছে গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থা হবে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শভিত্তিক। থাকবে না কোনো শ্রেণি বৈষম্য, থাকবে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত রাষ্ট্রই পারে সত্যিকারের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে। দ্বীন কায়েমের সংগ্রাম কোনো ঐচ্ছিক কাজ নয়, বরং এটি প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ দায়িত্ব।”

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, মো. শহীদুল্লাহ, আলাউদ্দিন ও তুহিন রেজা তুহিন প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“গণতন্ত্র ছাড়া মানবাধিকার নিশ্চিত নয়” — তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রকে গতিশীল ও ধারাবাহিক রাখতে না পারলে দেশে একমাত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তনের ঝুঁকি বাড়ে। মানবতা, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও অবাধ নির্বাচনভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য গড়ে তুলতে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য।

জাতিসংঘ ঘোষিত নির্যাতিতদের প্রতি সমর্থনের আন্তর্জাতিক দিবস (২৬ জুন) উপলক্ষে বুধবার (২৫ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “এই দিবসের তাৎপর্য অপরিসীম। প্রতি বছর ২৬ জুন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি জানানোর জন্য এ দিবসটি পালন করা হয়। অথচ বিশ্বজুড়ে এখনো বহু রাষ্ট্রে মানুষ চরম দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন।”

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা আসলেও সহিংসতা থামেনি। নানা দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিরোধীদের দমন করতে গুম, খুন, ও মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “গত প্রায় ১৬ বছর ধরে দেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে। এই সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে, সংবাদমাধ্যম শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল। গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে কারাবন্দি রাখা হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় বিচারহীনতার সংস্কৃতি জেঁকে বসে, যার ফলে সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে নারী ও শিশুরা—নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হলেও এখনও গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয়নি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ‘মব জাস্টিস’-এর হিংস্র উত্থানে। গণতন্ত্রকে গতিশীল রাখতে হলে এধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

বিবৃতির শেষে তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের সকল নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণতন্ত্রকামী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।




“বাংলাদেশ ছিল আমার কূটনৈতিক জীবনের ব্যতিক্রম অভিজ্ঞতা” — ট্রেস্টার

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত অ্যাকিম ট্রেস্টার চার বছরের কূটনৈতিক দায়িত্ব শেষে আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রদূত ট্রেস্টারকে তার সফল কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক উন্নয়নে রাষ্ট্রদূতের অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “উন্নয়নের যাত্রায় জার্মানি সবসময় আমাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। ইউরোপে জার্মানি আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, এবং উন্নয়ন সহযোগিতায় তাদের ভূমিকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

রোহিঙ্গা সংকটে জার্মানির মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জার্মানির অব্যাহত সহায়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সহায়তা বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে মানবতার একটি অনন্য উদাহরণ।”

বিদায়ী রাষ্ট্রদূত অ্যাকিম ট্রেস্টার বলেন, “বাংলাদেশ আমার কূটনৈতিক জীবনের অন্যতম সেরা পোস্টিং। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ছি।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামোর সংস্কার প্রক্রিয়ায় সফলতা কামনা করি। ইনভেস্টমেন্ট সামিটের মতো উদ্যোগগুলো ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আশা করি, সামনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “রাষ্ট্রদূত ট্রেস্টার আমাদের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবেন। আপনি বাংলাদেশ ছাড়লেও আমরা ভবিষ্যতেও আপনার মতামত শুনতে আগ্রহী থাকব—তা সমালোচনামূলক হলেও।”

সাক্ষাতে এসডিজি সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।




প্রধানমন্ত্রীর ১০ বছর মেয়াদে রাজি বিএনপি, তবে রয়েছে কিছু শর্ত

প্রধানমন্ত্রীর পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদ নির্ধারণে শর্তসাপেক্ষে একমত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে ‘জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদ (এনসিসি)’ বা এ ধরনের কোনো নিয়ন্ত্রক বডি যদি নির্বাহী ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করে, তাহলে বিএনপি এমন কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে দলটি।

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘ঐকমত্য কমিশনের’ বৈঠক শেষে এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “আমরা শর্তসাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে একমত হয়েছি। তবে এনসিসির মতো যদি কোনো কাঠামো নির্বাহী ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করে, তাহলে আমরা সে প্রস্তাব মেনে নেব না। সেই অবস্থায় আমাদের আগের অবস্থানই বহাল থাকবে।”

বৈঠকে আলোচনার প্রধান তিনটি বিষয় ছিল—সংবিধানের মূলনীতি, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ।

সালাহ উদ্দিন জানান, সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে “সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি” সংযুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি। তিনি আরও জানান, পঞ্চম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত কিছু অনুচ্ছেদকেও পুনরায় যুক্ত করার কথা বলেছে বিএনপি।

এদিকে এনসিসির পরিবর্তে ‘নিয়োগ কমিটি’ গঠনের একটি প্রস্তাবও বৈঠকে ওঠে। এতে সদস্য থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের দুই স্পিকার (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ), বিরোধীদলীয় নেতা, অন্যান্য বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির একজন প্রতিনিধি এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি। তবে সেনাবাহিনী প্রধান ও অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ এ কমিটির আওতার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়।

সালাহ উদ্দিন আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব আইনি কাঠামো রয়েছে, সেগুলো সংস্কার করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি বিধান সংযোজনেরও তাগিদ দেন তিনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, “যদি কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দুদকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়—তাহলে সেগুলোই গণতন্ত্র রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

তিনি বলেন, শুধুমাত্র নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আরোপ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলো, চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের কার্যকর কাঠামো গঠন।

সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার নিয়ে চলমান ‘ঐকমত্য কমিশন’-এর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি এখনও পেন্ডিং রয়েছে বলে জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।




মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে জনসচেতনতা বাড়িয়ে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২৫ জুন) ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিকভাবে মাদকবিরোধী দিবস পালিত হচ্ছে—এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তবে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আমাদের এই দিবসকে কার্যকর করতে হবে সার্বিক প্রয়াসের মাধ্যমে।”

তিনি বলেন, “মাদক পাচার ও এর অপব্যবহার একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সমস্যা। এর কবলে পড়ে দেশের বহু তরুণ-তরুণী মেধা ও সৃজনশীলতা হারাচ্ছে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য, পরিবার, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা, এমনকি জাতীয় নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।”

মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “মাদক নির্মূলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে হবে ঘরে ঘরে, সমাজে সমাজে। এজন্য বেসরকারি সংগঠন, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, চিকিৎসক, সমাজকর্মী, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, “সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা গড়তে পারি একটি নিরাপদ, সুন্দর, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“আসিফ মাহমুদের লাগাম টানুন, না হলে আন্দোলন তীব্র হবে” — ইশরাক

বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যদি কোনো প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে আন্দোলন নগর ভবন ছাড়িয়ে রাজপথে গড়াবে। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বক্তব্যের লাগাম না টানার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, তার মন্তব্যে ঢাকার নাগরিকদের অপমান করা হয়েছে, এজন্য তাকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।

বুধবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাবেক ডিএনসিসি মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন।

তিনি জানান, আন্দোলনের কারণে নাগরিকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা বিঘ্নিত হচ্ছিল। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে তার অনুরোধে আন্দোলনকারীরা গত সোমবার থেকে নগর ভবনের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি সরকারের কোনো চাপ কিংবা আন্দোলনের দাবির সুরাহার কারণে হয়নি।

ইশরাক বলেন, “নগর ভবনের কর্মকর্তারা কোরবানির ঈদের পর দৈনন্দিন সেবা চালুর উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন জন্ম, মৃত্যু, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদ না দিতে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সেবা থেকে বঞ্চিত করে আন্দোলনকারীদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চালানো হয়। আমরা এই চক্রান্ত ভেস্তে দিয়েছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নেপথ্যে ছিল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। যাদের মধ্যে গোলাম কিবরিয়া রুবেলের নাম উঠে এসেছে। তিনি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আসিফ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রুবেল তার ‘লুটপাটের হাতিয়ার’ হয়ে ওঠে।”

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, “আসিফ মাহমুদ দাবি করেছেন, বিএনপির এক নেতার ইন্ধনে আমি আন্দোলন করছি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ঢাকার লাখো ভোটারকে অপমান করা হয়েছে। এভাবে আন্দোলনকারীদের পশুর মর্যাদায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এজন্য তাকে অবশ্যই নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আসিফ বলেছেন, আমাকে ‘মিসগাইড’ করা হয়েছে। এই ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আমাকে অপমান করেছেন এবং নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ঢাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকেও তাচ্ছিল্য করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষে ইশরাক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে আন্দোলন নগর ভবনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা রাজপথে ছড়িয়ে পড়বে।”




জামায়াতের জাতীয় সমাবেশের ডাক ; বার্তা দিচ্ছে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতসহ একাধিক দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (২৫ জুন) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘জাতীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি’র এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সমাবেশকে ঘিরে বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তুতি ও দায়িত্বপালনের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সমাবেশ সফলভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জামায়াতের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সমাবেশের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা,
  • নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠন,
  • সকল গণহত্যার বিচার,
  • মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার,
  • ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন,
  • জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পুনর্বাসন,
  • প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু এবং
  • প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল ও উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, মহানগর সেক্রেটারির দায়িত্বে থাকা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ড. রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, কামাল হোসাইনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সমাবেশকে সে ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে উৎসবের আমেজ

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই জেলার নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। সম্মেলন ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলে চলছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে প্রচার-প্রচারণার উচ্ছ্বাস।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা বিএনপি এখন দুটি প্রধান বলয়ে বিভক্ত। একটি বলয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, অন্যদিকে রয়েছেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি। এই দুই বলয়ের অনুসারীরা সম্মেলন সামনে রেখে ডিজিটাল পোস্টার, ব্যানার, ভিডিও কার্ডসহ নানা কৌশলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি এবং সিনিয়র নেতা মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ পান্না। পান্নাকে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন, দেলোয়ার হোসেন নান্নু, মনিরুল ইসলাম লিটন, বশির মৃধা এবং তৌফিক আলী খান কবির।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে জেলার ৮ উপজেলা, ৫ পৌর ও আহ্বায়ক ইউনিটসহ মোট ১৪টি ইউনিটের প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর গোপন ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এবিএম মোশারফ হোসেন, মো. হাসান মামুনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি জানান, “২৪ জুন সম্মেলনের জন্য কেন্দ্রীয় অফিস থেকে অনুমোদন পেয়েছি। আমরা সম্মেলনকে সফল করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো, সেটি নির্ভর করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তের ওপর।”

তিনি গ্রুপিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক পরিবার। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, তবে সেটি কোনো বিভাজন নয়।”

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৪ মে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে সভাপতি ছিলেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম.এ. রব মিয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মজিবুর রহমান টোটন। সেই কমিটি দায়িত্ব পালন করে ২০২০ সালের ২ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর গঠিত হয় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি, যা বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আসন্ন সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে নেতাকর্মীরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ছাত্রদল নেত্রীর মৃত্যুতে উত্তাল ভোলা, তদন্ত দাবিতে ছাত্রদের লাগাতার বিক্ষোভ

ভোলায় লঞ্চ থেকে নদীতে পড়ে মৃত্যু হওয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও ছাত্রদল কর্মী সুকন্যা আক্তার ইপ্সিতার (২২) মৃত্যুর ঘটনায় ধোঁয়াশা ও রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবিতে সহপাঠী ও ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে উত্তাল হয়ে উঠেছে।

গত ১৭ জুন এমভি কর্ণফুলি-৪ লঞ্চের তৃতীয় তলা থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন ইপ্সিতা। নিখোঁজের চার দিন পর, ২১ জুন লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরিচয় শনাক্তে দেরি হওয়ায় ২২ জুন আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহ দাফন করা হয়। ছবি ও পোশাক দেখে ইপ্সিতার বাবা মাসুদ রানা মরদেহটি শনাক্ত করেন।

মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবিতে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২৪ জুন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোলা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতীকী শোক ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সকাল ১০টায় কলেজ ছাত্রদল, বিকেল ৫টায় পৌর ছাত্রদল এবং সন্ধ্যা ৭টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

তাদের প্রশ্ন, ইপ্সিতা কী স্বেচ্ছায় নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, নাকি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা হয়েছে? যদি আত্মহত্যা করে থাকেন, তাহলে কি কেউ তাকে প্ররোচিত করেছে? ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি না, কিংবা প্রেমঘটিত বা রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে কি না—এই সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ভিকটিমের বাবা মাসুদ রানা অজ্ঞাতনামা আসামি করে লক্ষ্মীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করছে লক্ষ্মীপুর থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং ভোলা থানা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

লঞ্চ কেবিন ইনচার্জ রাসেল হৃদয়ের ভাষ্যমতে, ইপ্সিতা তৃতীয় তলার একটি কেবিন ভাড়া নিতে চেয়েছিলেন। ভাড়া বেশি হওয়ায় তিনি জানান তার কাছে মাত্র ৩০০ টাকা রয়েছে, বাকি দেবে ‘জসিম’ নামে কেউ। কিন্তু লঞ্চের অন্য কর্মকর্তা ‘জসিম’ নামে কাউকে চিনতে পারেননি। ইপ্সিতার পরিবারের দাবি, তাদের পরিচিত কারও নাম জসিম নয়—এতে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, ভোলা জেলা ও কলেজ ছাত্রদল পৃথক বিবৃতি দিয়ে ইপ্সিতার মৃত্যুতে শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

এদিন ছাত্রদলের প্রতিনিধি দল ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু শাহাদাত মোহাম্মদ হাসনাইন পারভেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করে।

ওসি হাসনাইন পারভেজ জানান, লঞ্চটি চাঁদপুর অতিক্রম করার সময় মেয়েটি নদীতে পড়ে যান বলে জানা গেছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে লক্ষ্মীপুর থানা ও নৌ পুলিশ। ভোলা থানাসহ ডিবি পুলিশও তাদের সহায়তা করছে।

ভোলা জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “ছাত্রী ইপ্সিতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করেছি। শিগগিরই তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে চীন: মির্জা ফখরুল

চীন সফরের দ্বিতীয় দিনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী সান ওয়েইডংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে বাংলাদেশ সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বৈঠকটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা ভবিষ্যতের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও জানান, কৃষি, শিল্প, গার্মেন্টস, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে চীন তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

এর আগে সোমবার (২৩ জুন) চীনের পিপলস গ্রেট হলে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরো সদস্য এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংঝংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন ফখরুল। সেখানে তিনি আঞ্চলিক রাজনীতিতে চীনের নেতৃত্বের ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে সেটিকে বহুপাক্ষিক পর্যায়ে বিস্তারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ সফর থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।