চীন সফর সফল, বিএনপি-কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্ক আরও দৃঢ় : মির্জা ফখরুল

চীন সফরকে “সফল ও ফলপ্রসূ” আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, সফরের মাধ্যমে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে বেইজিং সফর শেষে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন,
“এই সফর ছিল রাজনৈতিক, আমরা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম। পলিটব্যুরোর নেতাদের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত সফল এবং গঠনমূলক বৈঠক হয়েছে। দুই দলের মধ্যে পার্টি-টু-পার্টি সম্পর্ক আরও নিবিড় ও শক্তিশালী হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপিও চীনের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যা তারা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

দুই দলের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি রাজনৈতিক সংলাপ আয়োজনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

চীনের অগ্রগতি নিয়ে ফখরুল বলেন,
“আমরা অভিভূত যে, প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের নেতৃত্বে চীন অল্প সময়েই উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।”

গত ২২ জুন রাতে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনে যায়। সফরের অংশ হিসেবে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন তারা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—চীনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী সান ওয়েইডং, সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও, এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংঝং।

বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন—দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহ উল্লাহ, সুকোমল বড়ুয়া, জহির উদ্দিন স্বপন, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার।

এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব।




ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশের প্রথম অধিবেশন শুরু, হাজারো নেতাকর্মীদের আগমন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় মহাসমাবেশের প্রথম অধিবেশন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে। শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই অধিবেশনের সূচনা হয়।

জাতীয় নির্বাচন সংস্কার, বিচার ও প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবিতে আয়োজিত এই মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। সকালের দিকে মৎস্যভবন, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। অনেকে পায়ে হেঁটেই সমাবেশে যোগ দেন।

সমাবেশের প্রথম অধিবেশনে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখছেন। উপস্থিত রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ।

এর আগে শুক্রবার (২৭ জুন) সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি জানান, দেশব্যাপী কয়েক হাজার গাড়ি রিজার্ভ করা হয়েছে এবং লঞ্চ ও ট্রেনযোগে লাখো মানুষের ঢাকায় আগমনের প্রত্যাশা রয়েছে।

দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, এই মহাসমাবেশ থেকে আগামী রাজনীতির জন্য একটি নতুন বার্তা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিআর পদ্ধতিনির্ভর নির্বাচন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে ঐকমত্য পোষণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে মূল অধিবেশন শুরু হবে, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।




দেশের সকল ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অনিবার্য : গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের সব ইসলামী শক্তির মধ্যে শিগগিরই সমঝোতা হতে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমসমাজ বুঝতে পেরেছেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য।

শুক্রবার (২৭ জুন) মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আমিরদের নিয়ে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর দুই দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের দ্বিতীয় দিনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, অচিরেই দেশের সব ইসলামী শক্তির মধ্যে একটি নির্বাচনী সমঝোতা হবে। ইসলামী মূল্যবোধ, শহীদদের স্বপ্ন ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমাদের এই ঐক্য জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতারা শহীদের মৃত্যু বরণ করেছেন, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব সেই ত্যাগের প্রতিদান দেওয়া— আসন্ন নির্বাচনে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে। আমাদের তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করে আদর্শিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।”

শিক্ষাশিবিরে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতারা— এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন, ড. খলিলুর রহমান মাদানী এবং অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “জামায়াতে ইসলামী জনমতকে ইসলামের পক্ষে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য— দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্ব তৈরি করা। আমরা বিশ্বাস করি, এই পথেই দ্বীনের বিজয় সম্ভব হবে, মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন।”

তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন এক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সেই লক্ষ্য পূরণে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত। এ সময় তিনি দলীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়েছে— “আসুন আমরা সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ি।”

সাবেক সংসদ সদস্য পরওয়ার বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং পূর্বের অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই নির্বাচন কোনো দলীয় লড়াই নয়, বরং দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। যারা এদেশে ইসলামী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়, এই নির্বাচন তাদের বিরুদ্ধেও স্পষ্ট জবাব হবে।”




ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানা

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, “ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতেই আমাদের সংগ্রাম।” তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এবং নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারেনি।

শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রুমিন বলেন, “বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেকে স্বজন হারানোর পরও জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। অথচ এসব নিপীড়নের মধ্যেও আমরা মাথা নত করিনি।”

তিনি দাবি করেন, “বিএনপির দুঃসময়ে, যখন কেউ কথা বলতে সাহস করতো না, আমি সেই সময় শেখ হাসিনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেশের স্বার্থে কথা বলেছি— দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে।”

স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, “যারা আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, অনেকেই সেই কঠিন সময়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু যারা দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, তাদের ভুলে গেলে চলবে না।”

তিনি বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে— আপনি শিক্ষিত, জনবান্ধব প্রার্থী চান, নাকি আবার টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলদারদের হাতে দেশ তুলে দিতে চান?”

ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রুমিন বলেন, “জনগণের রায়ে নির্বাচিত হতে পারলে দুর্গাপুরসহ আশেপাশের এলাকায় গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা হবে এবং তরুণদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান গড়ে তোলা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণদের জন্য রাজনীতিকে আদর্শভিত্তিক করতে হবে, যাতে তারা স্বপ্ন দেখতে পারে, নেতৃত্ব দিতে পারে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুর ইউনিয়ন তরুণদলের সভাপতি আজিম রানা। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম খোকন, সহ-সভাপতি এবিএম মুমিনুল হক, গোলাম সারোয়ার খোকন, সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মাস্টার, জেলা তরুণদলের সভাপতি আজিজুর রহমান হেলালসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।




এনসিপির মিডিয়া সেল গঠন, সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন




বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আন্দোলন করছে এক সুবিধাভোগী চক্র  : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বিএনপির নাম ব্যবহার করে একটি সুবিধাভোগী চক্র ব্যক্তিস্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

শুক্রবার (২৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আয়োজিত রথযাত্রা উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘দলের অনুমতি ছাড়া কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে যদি কোনো সরকারি দপ্তরে আন্দোলন করে, তাহলে তার দায় বিএনপি নেবে না। যারা ইনকাম ট্যাক্স অফিসে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে, তারা কেউ বিএনপির সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয়।’

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রক্ত ও সংগ্রামের ভেতর দিয়ে যে রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়তে সহায়ক হবে।’

আলোচনায় রিজভী আরও দাবি করেন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়ালের বক্তব্য থেকেই প্রমাণিত হয় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচন ছিল অনিয়ম ও অবৈধতায় পরিপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার করে যৌক্তিক সময়েই একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।’

সভায় দলের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।




আগামীকাল ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশ; থাকছে যেসব দাবি

আগামী জাতীয় নির্বাচন সংস্কার ও প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি।

শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংস্কার, ন্যায়বিচার এবং পিআর পদ্ধতিভিত্তিক নির্বাচনের দাবিতে মাঠে রয়েছে। এই দাবিতে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী গণসংযোগ, প্রচারণা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চালানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবারের মহাসমাবেশ হবে আমাদের দাবির পক্ষে একটি শক্তিশালী উপস্থাপনা।”

লাখো মানুষের অংশগ্রহণের আশা

সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শুক্রবার সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, “সারাদেশ থেকে কয়েক হাজার গাড়ি রিজার্ভ করা হয়েছে। লঞ্চ ও ট্রেনেও মানুষ ঢাকায় আসবেন। আমাদের আশা, লাখো মানুষ এই মহাসমাবেশে অংশ নেবেন।”

তিনি আরও জানান, সকাল ১০টায় মহাসমাবেশ শুরু হলেও মূলপর্ব শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমন্ত্রণ

দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “এ মহাসমাবেশ থেকে আগামী রাজনীতির একটি নতুন বার্তা পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। পিআর পদ্ধতির নির্বাচন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে যারা একমত, তাদের সবাইকে আমরা এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশে অংশ নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরবেন।




শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ব্রেকিং নিউজে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন সাংবাদিক শফিকুল আলম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ব্রেকিং নিউজ প্রকাশের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ও প্রবীণ সাংবাদিক শফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। সেখানে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশ বিপ্লব এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে আমার ব্রেকিং নিউজের জন্য দ্য সোসাইটি অব পাবলিশারস ইন এশিয়া (এসওপিএ) ২০২৫ অ্যাওয়ার্ডে সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছি। এটি আমার জন্য একটি বড় খবর।”

শফিকুল আলম তার পোস্টের সঙ্গে পুরস্কারের ছবিও যুক্ত করেছেন। ছবিতে দেখা যায়, তিনি ‘অনারেবল মেনশন’ ক্যাটাগরিতে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় শফিকুল আলম আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির (Agence France-Presse) ঢাকা ব্যুরো প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তার নেতৃত্বে প্রকাশিত ব্রেকিং নিউজটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়।

এসওপিএ অ্যাওয়ার্ডটি এশিয়ার সংবাদপত্র, অনলাইন ও ম্যাগাজিন সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রদান করা হয়।




‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ ঘোষণায় এনসিপি নেতাদের তীব্র আপত্তি

৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ ঘোষণার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) পৃথক ফেসবুক পোস্টে এ আপত্তি জানান।

আখতার হোসেন তার পোস্টে লেখেন, “নতুন বাংলাদেশ দিবস সেদিন হবে, যেদিন ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আসবে এবং মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হবে।”

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “নতুন বাংলাদেশের জন্ম ৫ আগস্ট। ওই দিন সাধারণ ছাত্র-জনতা সরকার পতনের ইতিহাস গড়েছে। ৮ আগস্ট নয়। ৫ আগস্টের এ অর্জনকে সরকারের দখলে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।”

সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, “৮ আগস্ট দ্বিতীয় স্বাধীনতার সূচনা হয়নি। বরং এই দিনে দ্বিতীয় স্বাধীনতার চেতনা দুর্বল করার, ছাড় দেওয়ার ও বিপ্লবকে বেহাত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৫ আগস্টই প্রকৃত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস’।”

উল্লেখ্য, ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করে। তিন দিন পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক পরিপত্রে ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিভাজন দেখা দিয়েছে। এনসিপি নেতারা ৫ আগস্টকেই নতুন বাংলাদেশের সূচনাদিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।




ইরানি জনগণের প্রতিরোধ জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক: বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

ইরানি জনগণের প্রতিরোধকে দেশের জাতীয় ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রতিরোধ ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় জনগণের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রকাশ, যা আধিপত্যবাদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট ও শক্ত বার্তা বহন করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুধু একটি বৈধ অধিকার নয়, বরং একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। এ ধরনের প্রতিরোধ বিশ্বে ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।

ইরান আরও জানিয়েছে, সহিংসতা, আগ্রাসন এবং সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিসমূহের মধ্যে সংহতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে ইরান বাংলাদেশের জনগণের মূল্যবান সমর্থন ও সংহতি প্রদর্শনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এবং এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫