৩১ দফা সংস্কারই ভবিষ্যতের পথনির্দেশক: সালাহউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, এটাই ভবিষ্যতের পথনির্দেশক।  তিনি আরো বলেছেন, ‘হে সংস্কার, তোমাকে পাওয়ার জন্য আর কতকাল আলাপ-আলোচনা করব, খানাপিনা করব?’ – এই বাক্য দিয়েই তিনি বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার প্রতি ইঙ্গিত করেন।

শনিবার (২৮ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস নেটওয়ার্ক (ব্রেইন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে স্মরণ করে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও স্মারক গ্রন্থ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

সালাহউদ্দিন বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব যদি সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটা কিসের ঐকমত্য? আলোচনা করে জাতির মঙ্গল হয় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “সংবিধান কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়, বাইবেল নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদার ভিত্তিতে পরিবর্তন সম্ভব হওয়া উচিত। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া—এটা স্থায়ী কিছু নয়।”

সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সংবিধানের এমন কিছু ধারা সংশোধন করেছে, যেন তা কখনো আর পরিবর্তনযোগ্য না থাকে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন সংস্কার চাই, যা সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তিত হতে পারে। বিএনপিই সংস্কারের পথিকৃৎ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিষ্ঠার দেড় বছর আগেই আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, যা রাজনৈতিক মহলে মহাকাব্যে পরিণত হয়েছে।”

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জিয়াউর রহমানের সৎ ও কর্মময় জীবন অনুসরণ করাই হবে তাদের জন্য শ্রেষ্ঠ পথ।”

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, লেখক মুসা আল হাফিজ, কবি তুহিন খান, ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ প্ল্যাটফর্মের সহ আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্রেইনের সাঈদ আবদুল্লাহ। ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন ব্রেইনের প্রতিষ্ঠাতা রুমি আহমেদ।




একদলীয় নির্বাচনের দোসর তারাও ফ্যাসিবাদের অংশ: রহমাতুল্লাহ

আওয়ামী লীগের একদলীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো ফ্যাসিবাদের দোসর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

শনিবার (২৮ জুন) বরিশাল নগরীর চাঁদমারী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। একই সময় তিনি বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি চালান।

রহমাতুল্লাহ বলেন, “বিনা ভোটে সরকার গঠন শুধু আওয়ামী লীগের একার দায় নয়, নির্বাচনে অংশ নিয়ে সেই প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিয়েছে আরও কিছু নিবন্ধিত দল। এদের কেউ কেউ এখন নিজেদের বিপ্লবী সাজিয়ে জনতার সামনে আসতে চাইছে, অথচ একসময় তারা শাসকগোষ্ঠীর অংশ ছিল।”

তিনি বলেন, “যারা আওয়ামী লীগের একদলীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণের সহযোগী হয়েছে, তারা সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে ফ্যাসিবাদের অংশীদার। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এইসব শক্তির ভূমিকাও তদন্ত করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা রূপরেখার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই প্রস্তাবে নাগরিক অধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। বিএনপিই একমাত্র দল, যারা গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পথনকশা দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে এই ৩১ দফার গুরুত্ব বোঝাচ্ছি। এটা বাস্তবায়ন করতে পারলেই বাংলাদেশ হবে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় নেতা মো. নুর ইসলাম হাওলাদার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (২৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণকে সম্পৃক্ত করে দোয়া, সমাবেশ, আলোচনা সভা, সেমিনার ও গণমিছিলসহ নানা আয়োজনে পালিত হবে এই কর্মসূচি।

কর্মসূচির বিস্তারিত:

  • ১ জুলাই: গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের স্মরণে দেশব্যাপী শাখা পর্যায়ে দোয়া অনুষ্ঠান।
  • ২–৪ জুলাই: দরিদ্র, অসহায়, দুস্থ ও এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ।
  • ৮–১৫ জুলাই: শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়।
  • ১৬ জুলাই: অকুতোভয় প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া (রংপুরে)।
  • ১৯ জুলাই: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ এবং শহীদ পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে জামায়াত আমিরের অংশগ্রহণ।
  • ২০–২৪ জুলাই: গণ-আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা নিয়ে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম।
  • ২৫–২৮ জুলাই: গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
  • ২৯–৩০ জুলাই: নারী ও ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা।
  • ১ আগস্ট: জাতীয় সেমিনার, যেখানে শহীদদের স্মরণে প্রকাশিত ১০ খণ্ডের স্মারকের ইংরেজি ও আরবি অনুবাদ মোড়ক উন্মোচন করা হবে।
  • ১–৩ আগস্ট: ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
  • ৫ আগস্ট: “গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন” উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশব্যাপী গণমিছিল।
  • ৬–৮ আগস্ট: সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী ও আলেম-ওলামাদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৫ আগস্ট দিনটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, যেদিন পতিত স্বৈরাচার দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। সেই বিজয়কে স্মরণ করতেই দলটি ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে।

তিনি দেশের গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণের প্রতি এসব কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এসময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “গণমাধ্যম অতীতে যেমন নিরপেক্ষ ভূমিকা রেখেছে, ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থে তেমন অবদান রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”




কার্যকর ঐক্য গড়লে রাষ্ট্রক্ষমতা ইসলামপন্থীদের হাতেই আসবে: চরমোনাই পীর

দেশের ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে কার্যকর ঐক্য গড়ে উঠলে রাষ্ট্রক্ষমতা তাদের হাতেই আসবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

শনিবার (২৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “আমরা বহুবার রক্ত দিয়েছি, ত্যাগ স্বীকার করেছি, কিন্তু সফল হইনি। কারণ, আমরা বারবার ভুল নেতৃত্ব ও নীতির পেছনে ছুটেছি। এবার জনগণের মধ্যে ইসলামপন্থীদের ঐক্য নিয়ে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। যদি এই ঐক্য গঠন করা যায়, তাহলে ইনশাআল্লাহ, ইসলামপন্থীরাই হবে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বও আমাদের হাতেই আসবে।”

চরমোনাই পীর আরও বলেন, “আমি বহু আগেই বলেছিলাম ইসলামি সব দলের ভোট এক বাক্সে আনতে হবে। শুধু ইসলামপন্থী নয়, বরং দেশপ্রেমিক অন্যান্য দলও আমাদের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যে আসতে পারে। সুষ্ঠু ও প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচনের জন্য পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। এই দাবি শুধু আমাদের না, বরং বহু রাজনৈতিক দলের।”

তিনি বিএনপিকেও পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর পর গঠিত সংস্কার কমিশনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দ্বিতীয় দফা আলোচনায় দেখা যাচ্ছে কেউ কেউ মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে আপত্তি জানাচ্ছে। এটা দ্বিমুখী আচরণ। যদি সংস্কার না হয়, তবে গণভোট আয়োজন করতে হবে।”

চরমোনাইর পীর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “তারা দেশকে একটি জুলুমের রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। গুম, খুন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব—সবই তাদের অপরাধের অংশ। এসব অপরাধের বিচার অবশ্যই করতে হবে। কোনো ক্ষমা নেই।”

তিনি বলেন, “ইসলামী দল ক্ষমতায় গেলে কেউ গুম হবে না, খুন হবে না, চাঁদা দিতে হবে না। বাংলাদেশে থাকবে শান্তি, থাকবে ধর্মীয় সহনশীলতা। মসজিদও থাকবে, মন্দিরও থাকবে।”

শেষে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, “যারা দাড়ি-টুপি নিয়ে কটাক্ষ করে, মোল্লাদের অবমাননা করে, তাদের আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে দেব না। বাংলাদেশের মানুষ কারো গোলামি করার জন্য জীবন দেয়নি। আমরা মাথা নত করব না। যদি এই মঞ্চে থাকা দলগুলো এক থাকেন, এক নীতিতে থাকেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে ইসলামপন্থীরাই দেশের নেতৃত্ব দেবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে সারজিসের হুংকার: “খুনি হাসিনা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে সরব হুংকার দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শনিবার (২৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশ ও জনগণের জন্য প্রয়োজন হলে আবারও আমরা রাস্তায় নামব।”

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম এই সংগঠক আরও বলেন, “সংস্কার ও খুনিদের বিচারের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমরা যতদিন এক থাকব, ততদিন খুনি হাসিনা আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। যত নেতা উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুক, কেউ পারবে না।”

সারজিস দাবি করেন, “আওয়ামী লীগের লোকজন বিদেশে বসে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের এসব অপপ্রচারে আমাদের কিছু আসে যায় না। বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত পথে এগিয়ে যাবে।”

আগামী নির্বাচন যেন সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে হয়—এ দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই প্রশ্নে সবাইকে জাগতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আর কাউকে যেন টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হতে না হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা রাজনৈতিক সমাবেশ করব, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন না হয়, সেটা মনে রাখতে হবে। আগেও এই মাঠে অনেক সমাবেশ হয়েছে, কিন্তু সেসবের শেষে মাঠ পরিষ্কার করা হয়েছে। এই দৃষ্টান্তই আমাদের পথ দেখায়—এই বাংলাদেশই আমরা চেয়েছিলাম।”

এ সময় সারজিস জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে যারা সামনে ছিল, তাদের নেতৃত্বেই পথ গড়তে হবে। কোনো ব্যক্তি বা দলের মুখ দেখে নয়, বরং জনগণের সামনে আমাদের বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।”

তার এই বক্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত হাজারো কর্মী ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে ১৬ দফা দাবি ঘোষণা

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার আয়োজিত মহাসমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দলটির মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। মহাসমাবেশকে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ধিত অংশ” এবং “আগামী বাংলাদেশের বিনির্মাণে একটি গৌরবময় মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরতন্ত্র রোধে এই সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।”

ঘোষিত ১৬ দফা দাবিসমূহ:
১. সংবিধানে “আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন।
২. সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চালু করা।
৩. ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার মাধ্যমে শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা।
৪. ভবিষ্যৎ স্বৈরাচার প্রতিরোধে মৌলিক রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন।
৫. নির্বাচনে প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৬. পতিত ফ্যাসিবাদের বিচার এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক উদ্যোগ।
৭. পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ।
৮. সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন-খারাবি দমনে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।
৯. ভারতের সঙ্গে করা সব চুক্তি প্রকাশ এবং দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল।
১০. জাতীয় নির্বাচনের আগে সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান প্রণয়ন।
১১. দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি ও সন্ত্রাসীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা।
১২. তফসিল ঘোষণার আগেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা।
১৩. রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা ও ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
১৪. ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা।
১৫. জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের প্রতিহত করা।
১৬. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামবিরোধী চক্রান্ত প্রতিহত করতে এই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, শনিবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও সকাল থেকেই দেশব্যাপী থেকে আগত হাজারো নেতা-কর্মীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের জন্মদিন আজ

আজ শনিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন। ১৯৪০ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

তার পিতা ছিলেন দুলা মিঞা সওদাগর এবং মাতা সুফিয়া খাতুন। স্ত্রী অধ্যাপক দিনা আফরোজ এবং তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক।

ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী হিসেবে পরিচিত ড. ইউনূস চট্টগ্রাম কলিজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালে ফুলব্রাইট স্কলারশিপে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ১৯৭১ সালে ভান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থেকে বাংলাদেশের জন্য জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং ‘বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার’ পরিচালনা করেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তার মাথায় আসে মাইক্রোক্রেডিট ধারণা। ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে শুরু হয় পরীক্ষামূলক ‘গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প’। এটি ১৯৮৩ সালে পূর্ণাঙ্গ গ্রামীণ ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, যা বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে এক নতুন পথ দেখায়।

২০০৬ সালে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম, কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল, বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারসহ অগণিত আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হন।

সাম্প্রতিক সময়ের একটি বড় মাইলফলক হলো—২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পান তিনি। ৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ড. ইউনূসের জন্মদিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাবিদ, তরুণ সমাজসহ নানা মহল থেকে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ‘মব’ বলা যায় না, এটা ফ্যাসিস্টদেরই ষড়যন্ত্র : হেফাজতে ইসলাম

চলমান ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ‘মব’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতা বলে চিহ্নিত করাকে ‘ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, এই আন্দোলন গণপ্রতিরোধের অংশ এবং একে ‘মব’ হিসেবে অভিহিত করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।

শুক্রবার (২৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,
“জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদবিরোধী যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা নিছক কোনো দলীয় চুক্তির ফসল নয়, বরং ফ্যাসিস্ট আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একটি গণজাগরণের ফসল।”

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, গণহত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত পূর্বতন সরকারের দোসরদের অনেকেই এখনো গ্রেপ্তার হয়নি, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব হলেও সেই দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে। তবে তিনি বলেন,
“যেখানে সরকার ব্যর্থ, সেখানে ‘জুলাই বিপ্লবের প্রহরী’ ছাত্র-জনতাই এগিয়ে আসছে।”

হেফাজতের এই নেতা আরও বলেন,
“আজকের ছাত্র-জনতার ফ্যাসিবাদবিরোধী ভূমিকা নিয়ে যেসব মহল ‘মব’ মন্তব্য করছে, তারা মূলত ভবিষ্যতের ফ্যাসিস্ট প্রকল্পের ছক একে নিচ্ছে। তবে ছাত্র-জনতা তা সফল হতে দেবে না।”

ইতিহাস প্রসঙ্গ টেনে ইসলামাবাদী বলেন,
“২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতা যে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে জীবন দিয়ে দাঁড়িয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে এক মহাকাব্যিক গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে।”

তিনি আরও বলেন,
“গণঅভ্যুত্থান সফল হলেও এখনো ‘জুলাই বিপ্লব’ পূর্ণতা পায়নি। তাই ফ্যাসিবাদ মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র-জনতার গণপ্রতিরোধ চলবে ইনশাআল্লাহ।”

হেফাজতের বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের ভূমিকা প্রশংসিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে আংশিক হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, ছাত্র-জনতার যে কোন বিপ্লববিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সংগঠনটি সক্রিয় থাকবে।




অনিয়ম-অনৈতিকতার অভিযোগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ থেকে সরে দাঁড়ালেন উমামা ফাতেমা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্যতম আলোচিত নেতৃত্বধারী ছাত্রনেতা উমামা ফাতেমা সংগঠনটির সব কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (২৮ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

পোস্টে উমামা আন্দোলনের অভ্যন্তরে চলমান অনিয়ম, অনৈতিকতা ও নেতৃত্বের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি এখন সুবিধাবাদীদের দখলে, যেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো পরিবেশ নেই।

তিনি লেখেন,
“বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক এখানেই শেষ। আমি জুলাই অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার দায়বদ্ধতা থেকে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হই। কিন্তু দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও স্বার্থরক্ষার রাজনীতির কারণে বারবার বাধাগ্রস্ত হই।”

উমামা অভিযোগ করেন, দলের ভেতরের একাংশ পরিকল্পিতভাবে তাকে অপদস্থ ও দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।
“যে মানুষদের সঙ্গে আমি মিছিল করেছি, মিটিং করেছি, তারাই পরে জুনিয়রদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ‘smear campaign’ চালায়।”

তিনি আরও দাবি করেন, সংগঠনের ভেতরে নেতৃত্বের জায়গায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ভাই-ব্রাদার গ্রুপিং-এর সংস্কৃতি শক্তভাবে জমে গেছে।
“প্ল্যাটফর্মে যারা প্রকৃত পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন, তারাও সুবিধাবাদীদের দাপটে কাজ করতে পারেননি।”

উমামা ফাতেমা জানান, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল এবং বিভিন্ন শাখা কমিটি গঠনে তিনি অসংখ্যবার অনিয়ম ও আপত্তির কথা জানালেও তার বক্তব্যকে উপেক্ষা করা হয়।
তিনি বলেন,
“কমিটিগুলোর অনুমোদন যারা দিয়েছেন, সাংবাদিকরা কেন তাদের মুখোমুখি হন না? পেইজের অ্যাডমিন এক্সেস থেকেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনকি আমার বিরুদ্ধে সংগঠনের নিজস্ব পেজ থেকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে এবং সংগঠন থেকে দূরে রাখতে এক ধরনের ‘সাইলেন্ট টর্চার’ চালানো হয়েছে।

উমামা আরও বলেন,
“মার্চ-এপ্রিলে এসব পরিস্থিতি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। যারা সামনে কাজ করার কথা বলতেন, রাতের অন্ধকারে হেয়ার রোডে গিয়ে পদ-পদবির জন্য দরকষাকষি করতেন।”

কাউন্সিল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“ভোটে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বাইরে একজন হঠাৎ করে মেম্বার হয়ে যান। এতে আমি লজ্জিত। এখান থেকে ভালো কিছু আসবে না, সেটা বুঝে আমি সব ধরনের সমর্থন ও কাউন্সিলে প্রদত্ত ভোটও প্রত্যাহার করছি।”

তিনি জানান, তার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল দেশের কল্যাণ, কিন্তু বাস্তবে সেটি সম্ভব হয়নি।
“জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু এই প্ল্যাটফর্ম সেই স্বপ্নকে পণ্য করে তুলেছে। আমি যারা স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই আন্দোলনকে ব্যবহার করেছে, তাদের কখনো ক্ষমা করব না।”

সততার সঙ্গে রাজনীতিতে থাকা সম্ভব নয়— এমন উপলব্ধির কথা জানিয়ে উমামা বলেন,
“অনেক কিছু নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আমি পারিনি। আমি এসব পলিটিক্যালি ক্যাশ করতে পারি নাই। আমি এগিয়ে যেতে চাই, পেছনের ৮-৯ মাসকে ঝেড়ে ফেলতে চাই।”

অন্তিম বার্তায় তিনি দেশের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন,
“আমি ভেঙে পড়ছি না, সবকিছু গুছিয়ে আনছি। ফি আমানিল্লাহ।”

উমামা ফাতেমার এই ঘোষণায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।




চীন সফর সফল, বিএনপি-কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্ক আরও দৃঢ় : মির্জা ফখরুল

চীন সফরকে “সফল ও ফলপ্রসূ” আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, সফরের মাধ্যমে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে বেইজিং সফর শেষে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন,
“এই সফর ছিল রাজনৈতিক, আমরা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম। পলিটব্যুরোর নেতাদের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত সফল এবং গঠনমূলক বৈঠক হয়েছে। দুই দলের মধ্যে পার্টি-টু-পার্টি সম্পর্ক আরও নিবিড় ও শক্তিশালী হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপিও চীনের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যা তারা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

দুই দলের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি রাজনৈতিক সংলাপ আয়োজনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

চীনের অগ্রগতি নিয়ে ফখরুল বলেন,
“আমরা অভিভূত যে, প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের নেতৃত্বে চীন অল্প সময়েই উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।”

গত ২২ জুন রাতে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনে যায়। সফরের অংশ হিসেবে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন তারা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—চীনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী সান ওয়েইডং, সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও, এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংঝং।

বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন—দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহ উল্লাহ, সুকোমল বড়ুয়া, জহির উদ্দিন স্বপন, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার।

এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব।