শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ, আসামি পক্ষের শুনানি ৭ জুলাই

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিদের পক্ষে শুনানির জন্য আগামী ৭ জুলাই দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ শুনানিতে অংশ নেন।
এর আগে, চলতি বছরের ১ জুন এই তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল এবং শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ১৬ জুন তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে হাজির হতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত। ১৭ জুন তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা আদালতে হাজির না হলে বিচার কার্যক্রম অনুপস্থিতিতেই চলবে বলে আদালত জানায়।
মামলার অপর আসামি সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিও সম্পন্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১২ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে তাকে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি এই তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
এরও আগে, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চলমান দুটি মামলায় তদন্ত দ্রুত শেষ করতে দুই মাস সময় বেঁধে দেয় ট্রাইব্যুনাল।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, পরিকল্পিত হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক শীর্ষ নেতারা সরাসরি জড়িত ছিলেন।
আগামী ৭ জুলাই আসামিদের পক্ষে অভিযোগ গঠনের বিরোধিতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








