রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তন করে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা চলছে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের অষ্টম দিনে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও জীবনের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। কেউ যেন গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা বিচারিক হত্যার শিকার না হন—এটাই আমাদের চাওয়া।”

তিনি আরও বলেন, “এই পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও বড় অবদান রয়েছে। এটি একটি সম্মিলিত সাফল্য, যেটি শুধু অর্জন করলেই হবে না, বরং তা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।”

সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে আলী রীয়াজ জানান, বিভিন্ন দল, জোট ও ব্যক্তি পর্যায়ে কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনাগুলো আশাব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, “আমরা হয়তো সবসময় কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারি না, কখনও হতাশাও আসে। তবে সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমে আমরা জুলাই মাসের মাঝামাঝি নাগাদ একটি সম্মিলিত সনদে পৌঁছাতে পারব বলে আশাবাদী।”

উল্লেখ্য, চলমান এই সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।




আদালত অবমাননায় শেখ হাসিনাকে কারাদণ্ড

আদালত অবমাননার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মোহিতুল হক চৌধুরী ও বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

রায়ে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি, মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তরা আদালতে আত্মসমর্পণের পর অথবা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে দণ্ড কার্যকর হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় সাজা ঘোষণা করল কোনো আদালত। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম সাজার রায়।

মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর জোহা।

এর আগে ১৯ জুন আদালত মামলার স্বচ্ছ বিচারের স্বার্থে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেয়। ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও শাকিল বুলবুলকে ৩ জুন আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা কেউই আদালতে হাজির হননি বা কোনো ব্যাখ্যাও দেননি।

ফলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাদের ৩ জুন ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়। এরও কোনো সাড়া না মেলায় আদালত আজ তাদের অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।

মামলার মূল অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্যে ‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছি’—এমন মন্তব্য উঠে আসে, যা আদালতের প্রতি অবমাননাকর এবং বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন।




জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সপ্তম দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের সপ্তম দিনের বৈঠক রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শুরু হয়েছে। বুধবার (২ জুলাই) সকাল সোয়া ১১টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়।

বৈঠকে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এছাড়া উপস্থিত রয়েছেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং ড. আইয়ুব মিয়া।

আজকের আলোচনায় মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো হলো: নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের বিধান।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপে মোট ২০টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত ৯টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে, আর কয়েকটি প্রস্তাবে আংশিক ঐকমত্য পাওয়া গেছে। তবে কোনো প্রস্তাব এখনো আলোচনার তালিকা থেকে বাদ পড়েনি।

আলোচনায় আসা উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার, সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি, ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোট, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ এবং সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি পুনর্নির্ধারণ।

এছাড়া যেসব প্রস্তাব এখনো আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া, জরুরি অবস্থা ঘোষণার নিয়ম, স্থানীয় সরকারে নারীর প্রতিনিধিত্ব, উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি এবং জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সব প্রস্তাব নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা শেষে একটি সম্মিলিত সুপারিশ পত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।




‘জুলাই অভ্যুত্থান নয়, এটি ছিল একটি বিপ্লব’ — সরকারকে প্রত্যাখ্যান করল বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ

সরকার ঘোষিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ কর্মসূচিকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন ‘গণঅভ্যুত্থান’ নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বিপ্লব’। এই বিপ্লবকে সংকুচিত করার অপচেষ্টা হিসেবে সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগকে আখ্যায়িত করেছে তারা।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ এসব মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে ১৪ জুলাই ‘বিপ্লব দিবস’ ও ৫ আগস্ট ‘বিজয় দিবস’সহ সাতদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদের প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ অর্জন। ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে এ ছিল এক রক্তাক্ত বিজয়। এই বিপ্লব আমাদের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের অধিকার ও ম্যান্ডেট দিয়েছে। অথচ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে ‘গণঅভ্যুত্থান’ নামে ক্ষুদ্র করে উপস্থাপন করছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও ক্ষমতাসীন দলগুলো সাংবিধানিক সংস্কারের নামে পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোয় ফিরে যেতে চাইছে। “তারা জুলাই বিপ্লবের বিপ্লবী চেতনা হরণ করে সংবিধান সংশোধন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং মেয়াদ নির্ধারণের মতো কিছু সীমিত সংস্কারের ভেতর দিয়ে ফ্যাসিস্ট কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়,” বলেন তিনি।

সংগঠনের বক্তব্যে দাবি করা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থান’ শব্দটি দিয়ে আন্দোলনের গৌরবকে খর্ব করা হচ্ছে এবং তরুণ প্রজন্মকে রাষ্ট্র পরিচালনার এখতিয়ার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, “এই বিপ্লব আমাদের মাঝেই থাকবে—যদিও আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, তবে বিপ্লবের আত্মা আমাদের পথ দেখাবে।”

সরকার ঘোষিত কর্মসূচির বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে যে সাতটি দিবস পালন করা হবে তা হলো:

  • ১৪ জুলাই: বিপ্লব দিবস
  • ১৫ জুলাই: নারী প্রতিরোধ দিবস
  • ১৬ জুলাই: শহীদ দিবস
  • ১৮ জুলাই: গণপ্রতিরোধ দিবস
  • ১৯ জুলাই: প্রবাসী সংহতি দিবস
  • ৩ আগস্ট: জুলাই বিপ্লব ইশতেহার দিবস
  • ৫ আগস্ট: বিজয় দিবস

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান। সঞ্চালনা করেন ফজলুর রহমান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব মুহিব মুশফিক খান, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম নূর শাফায়েতুল্লা, মাদরাসা-ই-আলিয়া শাখার আহ্বায়ক রাকিব মণ্ডল, সদস্য সচিব জিনাত হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।




জুলাই স্মরণে বিএমইউ’র আলোচনা সভা: উন্নত চিকিৎসা ও মানবিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ যেন অমূল্য না হয়, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা ও প্রশাসনিক অঙ্গনের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিএমইউ আয়োজিত র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আধুনিক, মানবিক ও দক্ষ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারলেই শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই ছিল আমাদের ইতিহাসের এক মোড় ঘোরানো সময়। সেই দুঃসময়ে ছাত্র-জনতার ঐক্য, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগে যে সম্ভাবনার সূচনা হয়েছিল, তা আজ বাস্তবে রূপ দিতে হবে। বিএমইউ শুধু একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি গণতন্ত্র, মানবতা ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে উঠতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতের দক্ষ চিকিৎসক ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা এখন আমাদের কর্তব্য। তাহলেই আমরা শহীদদের ঋণ শোধ করতে পারব।”

বিএমইউ-এর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বিগত সরকার মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। সেই সময় ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। এখন এই ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ আসবে।”

গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, “ছাত্রজনতা জীবন দিয়ে যে পথ খুলেছে, আজ আমাদের দায়িত্ব সেই পথ রক্ষা করা। আধুনিক, মানবিক ও জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই হবে শহীদদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।”

বিএমইউ-এর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, “এই আন্দোলনের কারণেই আমরা আজ নেতৃত্বের জায়গায় আছি। আমাদের কর্তব্য—আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করা।”

জুলাই মাসজুড়ে বিএমইউ হাতে নিয়েছে একগুচ্ছ কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রামাণ্যচিত্র ও স্থিরচিত্র প্রদর্শনী, রক্তদান ও স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং ক্যাম্প, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বহির্বিভাগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান, উন্নতমানের রোগী আহার বিতরণ, কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং স্মরণসভা।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমীন, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, ডা. ইকবাল মাহমুদ রনি, ডা. সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।




জুলাই সনদ দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের লাল মার্চ, যাত্রা ফরেন সার্ভিস একাডেমির দিকে

জুলাই সনদ ঘোষণার দাবিতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি অভিমুখে ‘লাল মার্চ’ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়।

‘লাল জুলাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আবু সাঈদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘ক্ষমতা না জনতা : জনতা জনতা’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয় শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন, কাকরাইল হয়ে ফরেন সার্ভিস একাডেমি পর্যন্ত পুরো মিছিল পথ।

মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ। এতে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে সংগঠনটির সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “আন্দোলনের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল। তারা জুলাই সনদ ঘোষণার জন্য ৩০ দিনের সময় নিয়েছিল, যা গত ২৫ জুন শেষ হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত তারা কোনো সনদ ঘোষণা করেনি। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের চাপে সরকার তা না করে, তাহলে সেই দলের নাম প্রকাশ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা কোনো একক সংগঠনের স্বার্থরক্ষাকারী ঘোষণাপত্র মানব না। এই সনদ ১৮ কোটি মানুষের দাবি—এটি দেরি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ উসমান বিন হাদি বলেন, “এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে। ১ জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো পর্যন্ত ঘোষণা আসেনি কেন—তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সরকার। যদি তারা ব্যর্থ হয়, তাহলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মত নিয়ে ঘোষণা দিতে হবে। কারণ এই সনদ কোনো দলের দলিল নয়—এটি জনগণের দলিল।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদ সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন হবে। তাই এ মাসের মধ্যেই সরকারের উচিত জনগণের কাছে জবাব দেওয়া।”

সমাবেশ শেষে মিছিলটি ফরেন সার্ভিস একাডেমির সামনে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। সংগঠনটি জানায়, জুলাই সনদের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।




“স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে যেমন আপস করিনি, গণতন্ত্রেও করব না” — ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপি কখনো আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা কোনো দিন আপস করিনি। ঐক্যের প্রশ্নেও কোনো ছাড় দেব না।”

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে জনগণের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই সময়ে আমাদের বহু পরিবার ধ্বংস হয়েছে। অনেক সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামীকে, মা হারিয়েছে সন্তানকে। আন্দোলনে ছোট শিশু থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতাকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার।”

তিনি বলেন, “এই শাসনামলে রাষ্ট্রকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে। সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি, নৈতিকতা, ভবিষ্যৎ — সবকিছু ধ্বংস হয়েছে। এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর কাঁধে এমন এক ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা মোকাবিলা করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নতুন সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠীর পতনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। এজন্যই আমরা ২০২২ সালে ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। তার আগেই ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০ উপস্থাপন করেছিলেন।”

সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “আমরাই আগে রিফর্মের কথা বলেছি। কিন্তু এখন একটা ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে— বলা হচ্ছে, বিএনপি নাকি সংস্কার মানছে না। এর ফলে বিলম্ব হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যমূলক প্রচার।”

বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বর্তমানে তারেক রহমান আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত আট-নয় বছরে বিএনপি আরও সুসংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সহযোগী সংগঠনের নেতারা এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।




“শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না” — খালেদা জিয়ার দৃঢ় আহ্বান

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেই সাথে বলেন শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান: শোক ও বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী’ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় খালেদা জিয়া বলেন, “আমাদের সামনে একটি বিরল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নতুনভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার। সেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, “শহীদদের রক্তস্রোত ও মায়েদের অশ্রু যেন বৃথা না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। আসুন, সবাই মিলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করি এবং কোটি মানুষের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেই।”

বক্তব্যের শুরুতেই খালেদা জিয়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ করে বলেন, “এক বছর পেরিয়ে আবার ফিরে এসেছে রক্তস্নাত সেই মাস। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার। নির্যাতন, হত্যা ও গুমের মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। কিন্তু ছাত্র ও জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই ফ্যাসিবাদ পতিত হয়েছে।”

আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “যারা গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের তালিকা তৈরি করতে হবে। তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রতিটি পরিবারকে সম্মান জানাতে হবে এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।”

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ‘গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০২৪ সালের আন্দোলনের ঘটনাবলি নিয়ে নির্মিত ‘জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।




সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন কতটা উপযোগী, প্রশ্ন তুললেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থায় জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদ সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে বিদেশী প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের ঐক্য। কিন্তু সংখ্যানুপাতিক ভোট পদ্ধতি ঐক্যের পরিবর্তে দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি তৈরি করতে পারে।”

মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি ফ্যাসিস্টদের বিচার শুরু করেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে কাঠামোগত সংস্কারের কাজ চলছে।”

তিনি জানান, সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের মতামত দিচ্ছে এবং অধিকাংশ দলই দেশের কল্যাণে গঠনমূলক প্রস্তাব রাখছে। তবে সব প্রস্তাব বাংলাদেশের বাস্তবতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে কতটা উপযোগী, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।

সংখ্যানুপাতিক ভোটব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এই ব্যবস্থায় সবাই অংশ নিতে পারে ঠিকই, কিন্তু তা বিভক্তির পথ খুলে দিতে পারে। ঐক্য নয়, বরং প্রতিযোগী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংলাপ এবং বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর প্রেক্ষিতেই তারেক রহমান এ মন্তব্য করেন।




পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি: শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

রাজধানীর পূর্বাচলে রাজউকের সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।

আদালত বিজি প্রেসের মাধ্যমে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির ঘটনায় দায়ের করা মোট ছয়টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় গত ১৭ জুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেটি এখনও প্রকাশিত হয়নি। বাকি পাঁচটি মামলায় ২৩ আসামির পলাতক থাকার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকায় দুদক গেজেট প্রকাশের আবেদন করে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, যাদের নামে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে তারা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আরেক মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা এবং আরও কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান রাজউক কর্মকর্তাসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনীতিক।

এছাড়া মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সালাউদ্দিনকেও।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলে রাজউকের মূল্যবান প্লট আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির প্রতিচ্ছবি।

মামলাগুলোর প্রতিটিতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আসামিদের পলাতক থাকায় ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই এসব মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।