কিশোরগঞ্জে ‘জুলাই দিবস’ বিক্ষোভের আগে কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জ, ২ জুলাই—কিশোরগঞ্জে ‘জুলাই দিবস প্রতিরোধের’ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুলিশ পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবদুল আউয়ালকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা শহরের নগুয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, আওয়ামী লীগপন্থি কয়েক নেতা–কর্মী “গোপন বৈঠকে” বসেছেন—এমন সংবাদের পর এলাকাবাসী ও ছাত্র‑জনতা ওই বাসাটি ঘিরে ফেলেন। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে আবদুল আউয়ালকে আটক করেন এবং ‘জুলাই দিবস প্রতিরোধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল’ লেখা একটি ব্যানার জব্দ করেন। থানা সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে; নতুন করে সরকারি কর্মপরিচালনা বাধাগ্রস্ত ও জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আটককৃত নেতার গ্রেপ্তারের খবরে নগুয়া ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত থাকে। আটক আবদুল আউয়াল পাকুন্দিয়া উপজেলার ইসাগুম গ্রামের ইসামউদ্দিন মাস্টারের ছেলে। দলীয় সূত্র বলেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষক লীগে সক্রিয় এবং সাম্প্রতিক দুর্ভিক্ষ‑বিরোধী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ‘জুলাই দিবস’ ঘিরে মিছিল‑সমাবেশের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। আইন‑শৃঙ্খলা বিঘ্ন বা সহিংসতার ঝুঁকি থাকায় আমরা মামলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।”

জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা গ্রেপ্তারের ঘটনাকে “রাজনৈতিক হয়রানি” বলে দাবি করেছেন; অন্যদিকে স্থানীয় কিছু শিক্ষার্থী ও বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ওই নেতার অনুসারীরা জড়িত ছিল।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, জননিরাপত্তা বজায় রাখতে কাউকে উসকানিমূলক কর্মসূচি দিতে দেওয়া হবে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




রিজভীর প্রশ্ন: আমরা কি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ফাইয়াজদের ভুলে যাব?

রংপুর, ৩ জুলাই—“আমরা কি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফাইয়াজদের ভুলে যাব? যাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই বাংলাদেশ”—এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার দেশের বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানান।

রংপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) রংপুর শাখা আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান ও ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচির উদ্বোধনীতে এসব কথা বলেন তিনি। এটি বিএনপির জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ।

রিজভী বলেন, “জুলাই-আগস্টে ইতিহাস গড়া এক রক্তাক্ত আন্দোলনে অন্তত ১৪০০ জন জীবন দিয়েছেন। আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফাইয়াজরা বুক চিতিয়ে রক্ত দিয়েছে। তারা ছিল গণতন্ত্রের জন্য জীবন দানকারী সাহসী তরুণ। আমরা কি তাদের আত্মত্যাগ ভুলে যেতে পারি?”

তিনি বলেন, “গত ১৬ বছর ছিল দুঃসহ এক ফ্যাসিবাদের সময়কাল। কোনো তরুণ রাতের ঘুমে নিশ্চিন্ত ছিল না, পরিবারের কেউ জানত না কখন কাকে গুম করা হবে, কার লাশ পাওয়া যাবে নদীর পাড়ে। শেখ হাসিনার দুঃশাসনে কেউ নিরাপদ ছিল না। বুড়িগঙ্গা, তিস্তা, পদ্মা—সব নদীর পাড়ে পড়ে ছিল নির্যাতিত মানুষের লাশ।”

রিজভীর ভাষায়, “রংপুরের গর্ব আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিল ঘাতকের সামনে। গণতন্ত্রের জন্য শিশু-কিশোররাও জীবন দিয়েছে। আর আমরা যদি তাদের ভুলে যাই, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। না হলে আবার ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, সেই ‘পতিত হাসিনা’ আবার ফিরে আসবে।”

রিজভী এ সময় সাম্প্রতিক গুম কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ওই রিপোর্ট পড়লে গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে। মানুষকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হাত-পায়ের নখ তুলে ফেলা হয়েছে। নারীদের তুলে নেওয়া হয়েছে মায়ের সামনে থেকে। এ রক্তপিপাসুদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।”

প্রস্তাবিত পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিতে দল এমপি নির্বাচন করবে—এর মানে হলো আরও বেশি স্বৈরশাসক তৈরি হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন, স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, যুবদলের রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক নুরুন্নবী চৌধুরী মিলন, রংপুর জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, রংপুর মেডিকেল কলেজ ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. শরীফুল ইসলাম মন্ডলসহ নেতৃবৃন্দ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




রাজধানীতে ধারালো অস্ত্রের শোডাউন দেওয়া ‘টুন্ডা বাবু’ গ্রেপ্তার

৩ জুলাই—রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ধারালো অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে শোডাউন দিয়ে আলোচনায় আসা কিশোর গ্যাং নেতা মো. বাবু খান ওরফে ‘টুন্ডা বাবু’ (৩১)‑কে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে বৃহস্পতিবার র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

র‍্যাব-২ এর পরিচালক মোহাম্মদ খালিদুল হক হাওলাদার জানান, টুন্ডা বাবু কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘কবজিকাটা গ্রুপ’-এর প্রধান আনোয়ারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল, ডাকাতি ও খুনের মতো অপরাধ সংঘটিত হতো। বিশেষ করে দিনে তারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পথচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই চালাত এবং রাতে ফ্ল্যাট বা বাসায় ঢুকে ডাকাতি করত।

র‍্যাব জানায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শ্যামলী হাউজিংয়ে দুই হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে টুন্ডা বাবুর শোডাউনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। কিন্তু ৫ মে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে টুন্ডা বাবু স্বীকার করেছে যে, শুটার আনোয়ার ওরফে কবজিকাটা আনোয়ারের নির্দেশে সে মোহাম্মদপুরে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।

র‍্যাব আরও জানায়, সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে ধারাবাহিক অভিযানে মাদক কারবারি ভূঁইয়া সোহেল, চুয়া সেলিম, এবং কবজিকাটা আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর কিশোর গ্যাং ও মাদক–সন্ত্রাসচক্র নির্মূলে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ, তীব্র যানজট

ভাঙ্গা পৌর বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বাতিলের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ফলে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

বুধবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ চলাকালে সড়কের দুপাশে আটকা পড়ে শত শত দূরপাল্লার যানবাহন।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভাঙ্গা থানা ও হাইওয়ে থানার পুলিশ। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে নিতে সক্ষম হন।

কেন এই বিক্ষোভ?

বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ভাঙ্গা পৌর বিএনপির সদ্যঘোষিত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। তারা এই কমিটি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান।

নেতাকর্মীরা আরও ঘোষণা দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি বাতিল না হলে আবারও সড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে নামা হবে।

পুলিশের বক্তব্য

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ রোকিবুজ্জামান বলেন,

“কমিটি বাতিলের দাবিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়কে বিক্ষোভ করেন। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলোচনা করে তাদের শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরিয়ে আনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




কুড়িগ্রামে এনসিপির পথসভা ; কঠোর হুশিয়ারি হাসনাত আবদুল্লার

“নতুন বাংলাদেশে আর কোনো চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা দখলবাজির জায়গা নেই” — কুড়িগ্রামে এক পথসভায় এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়ার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ফলকের সামনে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে বক্তব্যে হাসনাত বলেন, “আওয়ামী লীগ পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে রূপ দিতে চেয়েছিল, আর তার পরিণতি দেশবাসী দেখেছে। আমরা চাই পুলিশ গণতান্ত্রিক হোক, জনগণের পুলিশ হোক। এনসিপি কোনো রাজনৈতিক পুলিশ চায় না, আমাদের বিশ্বাস জনতাই আসল ক্ষমতা।”

তিনি আরও বলেন, “পটিয়ার ঘটনা যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে ৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তিও অনিবার্য। আমাদের স্বাধীনতা ছিল না, কিন্তু নতুন বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। দুর্নীতিবাজদেরও কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, আলেমদের দাড়ি ধরে টেনে বের করে দেওয়া হয়েছে মসজিদের মিম্বর থেকে। আলেমদের কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে—এমন বাংলাদেশ আর হতে দেওয়া যাবে না।”

পথসভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, “আমরা ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতি করতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য সারাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সংগঠন গড়ে তোলা। জনগণের সহযোগিতায় আমরা এই রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েছি।”

সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা বলেন, “জেলার মানুষের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটতে হবে না—এমন ব্যবস্থা গড়তে হবে। রাজারহাটে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা নিজ জেলাতেই উচ্চশিক্ষা নিতে পারে।”

এ সময় দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “যারা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, ক্ষমতার অপব্যবহার, মামলা বাণিজ্য ও লুটপাটে জড়িত, তারা যেন আপনাদের নেতা না হয়। কুড়িগ্রামের সংগ্রামী মানুষের শক্তিই হবে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।”

পথসভা শেষে এনসিপির নেতারা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দেন, যেখানে কর্মসূচির পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ নিয়ে ফারুকের অভিযোগ

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে এবং তার স্পষ্ট প্রমাণ হলো সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখার সমাবেশ’। তিনি বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে এই ষড়যন্ত্রের চিহ্ন স্পষ্ট।”

বুধবার (২ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে তৃণমূল নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভার শিরোনাম ছিল— ‘পিআর পদ্ধতির নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নাগরিকদের করণীয়’

“লন্ডনে বৈঠকের সময়েই মাঠে নামানো হলো ষড়যন্ত্র”

ফারুক অভিযোগ করেন, “যখন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠক চলছে ও একটি রাজনৈতিক সমঝোতার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তখনই দেশে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক নেতা প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি এবং সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হবে না— এমন বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা

আলোচনা সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের দিকেও সমালোচনার তীর ছোড়েন ফারুক। তিনি বলেন, “আপনারা দশ-এগারো মাস সময় পেয়েছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোনো সংস্কার হয়নি। আপনারা যদি দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে থাকেন, তাহলে নির্বাচনের মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিন। ফেব্রুয়ারিতে অবশ্যই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন।”

অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য

সভায় সভাপতিত্ব করেন তৃণমূল নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মফিজুর রহমান লিটন। বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য রহিমা শিকদারসহ আরও অনেকে।

তারা সকলেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।




রাজশাহীতে যুবলীগ নেতাকে ধরতে ভবন ঘেরাও, ফোনে জানালেন—‘আমি অনেক দূরে’

রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ ওরফে রনিকে ধরতে আজ দুপুরে নগরের পদ্মা পারিজাত এলাকার একটি বহুতল ভবন ঘেরাও করেন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

তবে অভিযানের একপর্যায়ে যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার ওরফে ডিকোকে ফোন করে তৌরিদ আল মাসুদ বলেন, “ডিকো ভাই, আমি আপনাদের অনেক দূরে। আমাকে খুঁজে লাভ হবে না। সময়মতো নিজেই আত্মসমর্পণ করব।” এরপর অভিযান বন্ধ করে নেতা–কর্মীরা ফিরে যান।

জানা গেছে, সরকার পতনের পর তৌরিদ আল মাসুদ আত্মগোপনে চলে যান এবং কয়েক মাস আগে দেশ ছেড়েছেন।
ফোনালাপে তিনি বলেন, “যখন নেত্রী শেখ হাসিনা ও নেতা এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন নির্দেশ দেবেন, তখনই দেশে ফিরব। কোনো অন্যায় করে থাকলে সুশাসন ফিরলে বিচার হবেই।”

ঘটনার বিষয়ে যুবদল নেতা ফয়সাল সরকার বলেন, “সে নিজেই ফোন করেছে। বোঝা যাচ্ছে অভিযান তাকে মানসিকভাবে স্পর্শ করেছে।”

তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রাজশাহীর রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিএনপি জাতীয় ঐকমত্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপি জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, অর্থবিল ও আস্থাভোট ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২ জুলাই) ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের অষ্টম দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সালাহউদ্দিন।

তিনি বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। জাতীয় ঐকমত্যের জন্য বিএনপি আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”

সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রস্তাব

এদিনের আলোচনার মূল বিষয় ছিল সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় সম্ভাব্য সংশোধনী। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সীমানা নির্ধারণে ‘আর্টিকেল ১১৯’ এর আলোকে বিশেষায়িত একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে দলগুলো প্রায় একমত হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনতন্ত্র নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে এটি বিচারিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে শুরু হয়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা প্রস্তাব করেছি, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হোক যেখানে বিচার বিভাগকে বাদ দিয়ে অন্য গ্রহণযোগ্য উপায়ে প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগ সম্ভব হয়।”

তিনি আরও জানান, বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ তিন মাস, আর যদি কোনো অনিবার্য কারণে বিলম্ব ঘটে, তাহলে আরও এক মাসের সুযোগ রাখা যেতে পারে।

“স্বৈরতন্ত্র রোধে প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ নির্ধারণে একমত”

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি প্রস্তাব করেছে প্রধানমন্ত্রী যেন জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারেন। এ নিয়ে বেশিরভাগ দলের মধ্যে ইতোমধ্যে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেজন্যই এ সীমা নির্ধারণ জরুরি।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও জাতীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারেই থাকবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা।

শেষে তিনি বলেন, “কারও একক ইচ্ছায় নয়, বরং সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।”




পটুয়াখালীতে বিএনপির সম্মেলনে নেতাকর্মীদের ঢল, স্লোগানে মুখর শহর

২৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। বুধবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে পটুয়াখালী শহরের দিকে আসতে শুরু করেন। এতে শহরের প্রধান সড়ক ও মোড়গুলো স্লোগান ও হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

সম্মেলনস্থল ব্যায়ামাগার মাঠ এখন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। নেতাকর্মীরা পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনায় মুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন। ব্যানার-ফেস্টুন, দলীয় পতাকা ও নানা রঙের পোশাকে সজ্জিত নেতাকর্মীরা কেউ এসেছেন বাসে, কেউ মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেল বহরে, আবার কেউ হেঁটেই পৌঁছেছেন সম্মেলনে অংশ নিতে।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করবেন। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে সম্মেলনস্থল ও আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবেশপথে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, পাশাপাশি মাঠ ও চারপাশে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ছোট বিঘাই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা কাওসার আহমেদ বলেন, “পটুয়াখালীর রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক মাইলফলক রচিত হচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিচ্ছেন।”

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তৌফিক আলী খান কবির জানান, “আমি দলের দুঃসময়ের কর্মী। আশা করি, তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে মূল্যায়ন করবেন।”

জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর নাগাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 




আলেমদের হতে হবে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “আলেমদের শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আন্তরিকতা ও ঐক্যের পথ বেছে নিতে হবে।”

বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম (রহ.) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘আরবি ভাষা ও ইসলামি সংস্কৃতি’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “নিজেদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করলে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন পিছিয়ে যাবে। কক্সবাজারে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষার পাশাপাশি ৭১টি মন্দিরে শিশু শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা ধর্মীয় সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “আলেমদের কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি যুগের ভাষা ও প্রযুক্তি আয়ত্তে নিতে হবে। শুধু আরবি নয়, বাংলা ও ইংরেজিতেও দক্ষ হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত মানবসেবা পুঁজি নয়, দরকার মন-মানসিকতা। সমাজ পরিবর্তনের জন্য শুধু বাণী নয়, দরকার কাজের মাধ্যমেই উম্মাহর উপকার সাধন।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামি স্কলার ও মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. যায়েদ বিন মুহাম্মদ, সৌদি প্রশিক্ষক ড. বরিক বিন মুহাম্মদ, ড. সাউদ বিন আবদুল আজিজ এবং ড. মনছুর বিন আবদুল আজিজ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জামিয়া প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সালাহুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস আবদুল গফুর নদিম। সমাপনী বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জামিয়াতুন নূর আল আলামিয়ার পরিচালক আল্লামা ওবাইদুল্লাহ হামযা।

সপ্তাহব্যাপী এই কর্মশালাটি সৌদি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। গত রবিবার সৌদি প্রতিনিধি দল জামিয়ার ক্যাম্পাসে পৌঁছালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়।

এর আগে সকালে ধর্ম উপদেষ্টা কক্সবাজার সার্কিট হাউজে সরকারি যাকাত ফান্ড থেকে অর্থ বিতরণ করেন এবং বেলা ১২টার দিকে কৃষ্ণানন্দধাম মন্দিরে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম