কিশোরগঞ্জে ‘জুলাই দিবস’ বিক্ষোভের আগে কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জ, ২ জুলাই—কিশোরগঞ্জে ‘জুলাই দিবস প্রতিরোধের’ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুলিশ পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবদুল আউয়ালকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা শহরের নগুয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, আওয়ামী লীগপন্থি কয়েক নেতা–কর্মী “গোপন বৈঠকে” বসেছেন—এমন সংবাদের পর এলাকাবাসী ও ছাত্র‑জনতা ওই বাসাটি ঘিরে ফেলেন। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে আবদুল আউয়ালকে আটক করেন এবং ‘জুলাই দিবস প্রতিরোধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল’ লেখা একটি ব্যানার জব্দ করেন। থানা সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে; নতুন করে সরকারি কর্মপরিচালনা বাধাগ্রস্ত ও জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আটককৃত নেতার গ্রেপ্তারের খবরে নগুয়া ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত থাকে। আটক আবদুল আউয়াল পাকুন্দিয়া উপজেলার ইসাগুম গ্রামের ইসামউদ্দিন মাস্টারের ছেলে। দলীয় সূত্র বলেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষক লীগে সক্রিয় এবং সাম্প্রতিক দুর্ভিক্ষ‑বিরোধী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ‘জুলাই দিবস’ ঘিরে মিছিল‑সমাবেশের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। আইন‑শৃঙ্খলা বিঘ্ন বা সহিংসতার ঝুঁকি থাকায় আমরা মামলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।”
জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা গ্রেপ্তারের ঘটনাকে “রাজনৈতিক হয়রানি” বলে দাবি করেছেন; অন্যদিকে স্থানীয় কিছু শিক্ষার্থী ও বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ওই নেতার অনুসারীরা জড়িত ছিল।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, জননিরাপত্তা বজায় রাখতে কাউকে উসকানিমূলক কর্মসূচি দিতে দেওয়া হবে না।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম








