সন্তানের মুখ দেখা হলো না কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা হারিছুর রহমান হারিছের

 

প্রথম সন্তানের মুখও দেখতে পারলেন না বরিশালের গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র হারিছুর রহমান হারিছ (৫৪)। ঢাকার একটি ক্লিনিকে জন্মের পরদিনই মারা গেছে তার নবজাতক পুত্র সন্তান। শুক্রবার (৪ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশুটির। কারাগারে থাকা অবস্থায় এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর পেলেও হারিছের পরিবারের পক্ষ থেকে জনরোষের ভয়ে তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়নি।

হারিছুর রহমানের শ্বশুর মো. হেদায়েত উল্লাহ জানান, হারিছের স্ত্রী ডা. তাইয়েবা রহমান বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি জন্মের পর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টার পরও শুক্রবার দুপুরে শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার।

হারিছুর রহমান দীর্ঘদিন গৌরনদী পৌরসভার মেয়র ছিলেন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য, চাঁদাবাজি, হামলা ও বিস্ফোরক আইনের চারটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ২৯ অক্টোবর ঢাকার বনশ্রী এলাকা থেকে হারিছকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

সন্তানের অকালমৃত্যু ও বাবার কারাবন্দিত্ব—দুই বিপর্যয়ে একসাথে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পরিবারের এমন সিদ্ধান্ত ও নীরবতা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে চলছে নানা আলোচনা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




আশুরার বাণীতে তারেক রহমান: আওয়ামী দমনপীড়ন এজিদের বর্বরতার মতোই পৈশাচিক

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ছিল এজিদ বাহিনীর পৈশাচিকতার মতোই নির্মম।

শনিবার (৫ জুলাই) পাঠানো এক বাণীতে তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ১০ মহররম স্মরণীয় ও ঘটনাবহুল একটি দিন। এ দিনে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম তিনি করেছিলেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তারেক রহমান বলেন, “কারবালার ঘটনাপ্রবাহ সব যুগেই মজলুম জনগণের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে শক্তি ইনসাফ ও মানবতাকে পদদলিত করেছিল, তার বিরুদ্ধে ইমাম হোসেন (রা.)-এর আদর্শিক সংগ্রাম ছিল চূড়ান্ত আত্মত্যাগের নিদর্শন।”

তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, “গত ১৬ বছরে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সন্ত্রাস, হানাহানি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে শোষণের এক অবর্ণনীয় রাজত্ব কায়েম করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বন্দী রেখে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেতারা যে পৈশাচিক দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তা এজিদ বাহিনীর বর্বরতার মতোই। এদেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ আমাদের সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “আর কখনো যেন কোনো অন্যায়কারী শক্তির উত্থান না ঘটে, সে জন্য কারবালার শিক্ষা ও চেতনা আমাদের অবিরাম প্রতিরোধ সংগ্রামে প্রেরণা জোগাবে।”




ক্ষমতায় গেলে মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি জামায়াতে ইসলামীর

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের রমনায় দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে প্রচারণা শেষে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই প্রচারণা ১৯ জুলাই ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনায় ইসলাম বিদ্বেষীরা নারীদের গৃহবন্দি করার গুজব ছড়াচ্ছে। অথচ একমাত্র ইসলামই নারীদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কারও অধিকার বা স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের মতবাদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণকে শোষণ করেছে। ফলে ছাত্র ও জনতা ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। মানুষের তৈরি আইনে সত্যিকার অর্থে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, হবেও না।”

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, “আগামী নির্বাচনে জনগণ ইনসাফের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’-কে সমর্থন দিলে জামায়াতে ইসলামী একটি বৈষম্যহীন, সন্ত্রাসমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিক তার অধিকার ফিরে পাবে।”

পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক ও ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুস সাত্তার সুমন, মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য আতিকুর রহমান, থানা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট সুলতান উদ্দিন এবং থানা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল ফারুক।




বরিশালে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

 

বরিশালে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন—নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদ মাহামুদ এবং রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিজবুল্লাহ সম্রাট।

শনিবার (৫ জুলাই) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় গণঅভ্যুত্থান কর্মসূচির দিন বরিশাল নগরীর সদর রোডে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই মামলারই আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর শনিবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক দুইজনকেই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ভোলায় নারী নেত্রীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় বিএনপির এক নারী নেত্রীকে জনসমক্ষে বিবস্ত্র করে হাত-পা বেঁধে বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম হাওলাদারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইব্রাহীমকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন সকালে চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বিএনপির এক নারী নেত্রী ও সাবেক ইউপি সদস্যকে জনসমক্ষে রশি দিয়ে বেঁধে বিবস্ত্র করে মারধর করা হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

নির্যাতনের শিকার নেত্রীকে প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং বর্তমানে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগীর স্বামী থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

তজুমদ্দিন উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “একজন নেত্রীকে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে রশি দিয়ে বেঁধে মারধরের ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।”

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর জানায়, “দলের আদর্শ ও নীতির সঙ্গে এ ধরনের নৃশংসতার কোনো সম্পর্ক নেই। অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলেই ইব্রাহীম হাওলাদারকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

ঘটনার পর তজুমদ্দিনসহ ভোলাজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




অনুদানের বাছুর বিক্রি করে ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি অনুদানের একটি বকনা বাছুর বিক্রিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগী নিজেই বাছুরটি বিক্রি করলেও, এলাকায় ছাত্রদল নেতাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয় যে, তিনি জোরপূর্বক বাছুরটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ নিয়ে প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসার পর শুরু হয় তদন্ত এবং আলোচনা।

সরকারি মৎস্য প্রকল্প থেকে পাওয়া বকনা বাছুরটি বিক্রি করার পর স্থানীয়দের চাপের মুখে পড়েন সুবিধাভোগী জালাল হাওলাদার। অবশেষে তিনি শুক্রবার (৪ জুলাই) বিক্রি করা বাছুরটি ফেরত এনে নিজ বাড়িতে রাখেন। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জালালের বাড়িতেই বাছুরটি রাখা আছে। তবে এ বিষয়ে জালালকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার গরু আমার কাছেই আছে। কেউ নেয়নি। গ্রামের একটি চক্র মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তবে বিক্রির বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই তিনি ফোন কেটে দেন এবং বন্ধ করে রাখেন।

এদিকে বানিয়াশুরী গ্রামের মো. হোসেন শরীফ জানিয়েছেন, “অর্থকষ্টে জালাল আমার কাছে বাছুরটি বিক্রি করেছিলেন। পরে তিনি নিজেই এসে টাকা ফেরত দিয়ে বাছুরটি নিয়ে যান।”

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, “বকনা বাছুরটি ছাত্রদল নেতা হীরা রহমান সাদ্দাম জোরপূর্বক বিক্রি করেছেন বলে মৌখিক অভিযোগ এসেছিল। তবে তদন্তে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।”

ঘটনার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা হীরা রহমান সাদ্দাম বলেন, “আমার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে এলাকার কিছু লোকের পুরনো বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধ থেকেই রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য অপপ্রচার চালানো হয়েছে। জালাল হাওলাদার নিজেই বাছুরটি বিক্রি করে আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়েছিলেন। পরে লোকলজ্জায় তিনি বাছুরটি ফেরত এনেছেন।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




‘সংস্কার আদায় করেই ছাড়ব’ — রংপুরে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর বিভাগীয় জনসভায় দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মৌলিক কিছু সংস্কার আবশ্যক। আমরা সেই সংস্কারগুলো আদায় করেই ছাড়ব এবং ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করব।”

শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াত এ জনসভার আয়োজন করে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কেউ যদি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বপ্ন দেখে থাকেন, আমরা মহান আল্লাহর সাহায্যে সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত করব। প্রশাসনিক ক্যু, মাস্তানতন্ত্র বা কালো টাকার খেলা মেনে নেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। নানা ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আলামত বুঝতে পারছি। শেখ হাসিনার হাতে সব বাহিনী থাকলেও জনগণের জাগরণের মুখে তিনি টিকতে পারেননি। সেই জাগ্রত জনগণ আরেকবার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে না।”

জামায়াতের আমির বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী এই লড়াই চলবে যতদিন না এ দেশে ফ্যাসিবাদের সামান্য চিহ্নও নির্মূল হয়।”

স্বাধীনতার পর জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত ৫৪ বছরে দলটি জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে জামায়াতই প্রথম কেয়ারটেকার সরকারের প্রস্তাব দেয়। যার ভিত্তিতে একাধিক নির্বাচন হয়েছে। অথচ এখন সেই ব্যবস্থাকেই বাতিল করা হয়েছে।”

দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সাড়ে পনেরো বছরে আমাদের ১১ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আজ এটিএম আজহারুল ইসলামকে আমরা জীবিত শহীদ হিসেবে দেখছি। যদি সেই শহীদ নেতারা বেঁচে থাকতেন, তাহলে আজ হতাশাগ্রস্ত জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাতে পারতেন।”

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আবু সাঈদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মুক্ত হয়েছি। তাহলে আমরা কেন ধৈর্য হারাচ্ছি? আজও দেশের নানা প্রান্তে আমরা বিভৎসতা, নারী নিপীড়ন ও সম্পদ লুটপাট দেখছি।”

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “সারা দেশকে পাটগ্রাম বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচনের কল্পনাও করা যায় না।”

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও উত্তরাঞ্চলের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

বিকেল ৩টায় জনসভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জুমার নামাজের পর থেকেই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়, অতিরিক্ত লোকজন রাস্তায় অবস্থান নেয়। এ সভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়।




‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক জামায়াতের, রংপুরে বিশাল জনসমুদ্র

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে বিভাগীয় জনসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (৪ জুলাই) রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ নানা যানবাহনে করে সভাস্থলে পৌঁছান।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের খুনিদের বিচার, প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং নির্বাচনের পূর্বশর্তসহ চার দফা দাবি জানিয়ে আয়োজিত এ জনসভা ঘিরে রংপুর জুড়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমাগমে এই জনসভায় প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ঘটে।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন সদ্য কারামুক্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জনসভা উপলক্ষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে নির্মাণ করা হয় বিশাল মঞ্চ। নারী দর্শনার্থীদের জন্য পর্দাসহ পৃথক জায়গায় বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করা হয়। সভাস্থলে প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয় অতিরিক্ত দুটি গেট। সভাকে কেন্দ্র করে পুরো রংপুর নগরে তোরণ, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ব্যানারে সাজানো হয়। মাইকিং, গণসংযোগ ও বিশাল মোটরসাইকেল র‌্যালির মাধ্যমে জনসভা সফল করতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। মাঠ পর্যায়ে কাজ করে ১৩টি উপ-কমিটি, প্রস্তুত রাখা হয় মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “এই জনসভাকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগের জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ স্পিরিটকে কাজে লাগিয়ে আমরা আগামী নির্বাচনে ফলাফল ঘরে তুলতে চাই। এই জনসভা হবে নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট।”

সভায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেখা যায় বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার—যেখানে “১৮ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার”—এমন দাবিও উঠে আসে। জনসভা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘নতুন বার্তা’ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।

জামায়াত নেতারা জানান, জনগণের মধ্যে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন। তাদের দাবি, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় দেশ গঠনের পথে এই জনসভা একটি বড় সূচনা।” জনসভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের ঘোষণাও দেওয়া হয়।




রংপুরে জনসভায় এটিএম আজহার: “আমার মুক্তি আবু সাঈদদের রক্তের বিনিময়ে”

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, তার মুক্তির সূচনা হয়েছে শহীদ আবু সাঈদের রক্তদানের মাধ্যমে। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আজহার বলেন, “রংপুরের জনগণ বলতে পারবে না আমি কোনো অপরাধ করেছি। অথচ জোর করে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন—তাদের জোর করে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আজ লক্ষ জনতার মঞ্চে এসেছি। যে গলায় রশি পড়ার কথা ছিল, সে গলায় আজ ফুলের মালা পড়েছে। আমাকে যাদের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, আজ তারাই সাক্ষ্য দিয়েছেন আমার নির্দোষিতার পক্ষে।”

নিজের মুক্তিকে ‘আল্লাহর মেহেরবানি’ উল্লেখ করে আজহার বলেন, “আমার মুক্তির প্রথম সোপান আবু সাঈদ, যার বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, যার চূড়ান্ত রূপ নেয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে। ওই বিপ্লব না ঘটলে আপনারা আমার জানাজা পড়তেন।”

সাবেক ও বর্তমান সরকারের আমলে জামায়াত নেতাদের ফাঁসির বিষয়ে তিনি বলেন, “মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা, মীর কাশেমসহ অনেককে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়েছে। অধ্যাপক গোলাম আযমসহ আরও কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে বিনা চিকিৎসায়। এসব হত্যার বিচার চাই।”

বর্তমান ও অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজহার বলেন, “যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত, তারা কি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারে? এই আজব বাংলাদেশে তাই হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল, সেই আইনই এখন বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং আজ আমার রায়ের মাধ্যমে শুধু আমি নয়, জামায়াত ইসলামীও মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “৫ আগস্ট আমাদের কারাগারে রেখে যে পরিবর্তন এসেছে, তা সরাসরি আল্লাহর কুদরত। আমরা কল্পনাও করিনি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবে।”

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে জামায়াতের এ জনসভা বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জুমার নামাজের পর থেকেই শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াত আয়োজিত এ জনসভায় দলের হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে জিলা স্কুল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অতিরিক্ত জনসমাগম মাঠ ছাড়িয়ে সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।

এ জনসভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।




 নুর-রাশেদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা নেওয়ার নির্দেশ

বরিশালে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে।

মামলার নির্দেশ বৃহস্পতিবার বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ওসিকে দেন আদালত। মামলার আবেদনকারীর আইনজীবী ও জাতীয় পার্টির বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল জানান, ৩১ মে রাতে গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মী নগরীর ফকিরবাড়ি রোডের জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা মামলা করতে থানায় গেলেও পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। পরবর্তীতে আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত মামলাটি এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

মামলায় শুধু নুর ও রাশেদ নন, বরিশাল জেলা ও মহানগরের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মোট ২৫ জনের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আদালতের কোনো নথি এখনো অফিসিয়ালি হাতে পৌঁছায়নি। তবে ডিউটি অফিসার যদি গ্রহণ করে থাকে, তাহলে তা যথাসময়ে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।

অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদ বরিশাল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জানান, মামলা বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানেন না। তবে অভিযোগ হয়ে থাকলে দলীয়ভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম