ক্ষমতায় এলে জুলাই শহীদদের জাতীয় মর্যাদা দেবে জামায়াত: রেজাউল করিম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, “জামায়াত যদি জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় আসে, তবে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের জাতীয় মর্যাদা দেওয়া হবে।”

রোববার লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের পুরাতন ডায়াবেটিক হাসপাতাল সংলগ্ন একটি মসজিদে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানটি জুলাই শহীদ ও আহতদের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়।

ড. রেজাউল করিম বলেন, “ছাত্রসমাজের স্লোগান ছিল ‘We Want Justice’। এই ন্যায়ের দাবি বাস্তবায়ন কেবল আল্লাহর বিধানের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন করলেই সম্ভব। জামায়াত সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। রাষ্ট্র তখনই জুলাই শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা দেবে।”

দোয়া পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নাছির উদ্দিন মাহমুদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যা, সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোরশেদ আল হিরু, পৌর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান এবং সেক্রেটারি নুর মোহাম্মদ রাসেলসহ প্রায় শতাধিক মুসল্লি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




মবে জড়িতদের কোনো ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলবদ্ধ সহিংসতা বা ‘মব লিঞ্চিং’ এর মতো ঘটনায় জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “অপরাধী যত বড় বা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। সরকার এসব বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছে।”

তিনি জানান, “আগে অনেক ঘটনা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যেত। কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ফলে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারছে। সামগ্রিকভাবে মবের ঘটনা কমলেও কিছু কিছু এলাকায় এর প্রবণতা আবার দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ দমন করা সরকারের অগ্রাধিকার।”

রংপুরে সম্প্রতি সংঘটিত একটি মব সহিংসতার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আর এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না। তাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে। প্রশাসনের কোনো ঘাটতি নেই, আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি মানে কেবল অভিযোগ নয়, জনগণের পাশে থেকে তাদের আস্থা অর্জন করাও দায়িত্ব। সরকার ও প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




দুর্নীতির সমস্যা চিরতরে দূর করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

“শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন ও দুর্নীতি—এই চারটি বড় সমস্যা বাংলাদেশ থেকে চিরতরে দূর করতে হবে। এসব নিয়ে আর কোনো রাজনৈতিক দলের ছলচাতুরি মেনে নেওয়া হবে না।” এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

রোববার সকালে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কুজাইল বাজারে পদযাত্রার সময় ব্যবসায়ী, দোকানদার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের এক পর্যায়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, “আমরা শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মানুষের সঙ্গে কথা বলছি, পথে পথে হাঁটছি।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে দেশ নানা সংকটে জর্জরিত হয়েছে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনে। সেই শাসনের অবসান ঘটলেও আমরা চাই না, নতুন কেউ এসে পুরোনো অন্যায়-দুর্নীতি চালিয়ে যাক। এই দেশ নতুনভাবে গড়তে হবে—নতুন ন্যায়বোধ, স্বচ্ছতা আর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।”

তিনি জানান, “জুলাই আন্দোলনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলার মানুষের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণে কাজ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালে সারাদেশে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমেছিল, তাদের ওপর গুলি চালিয়ে শেখ হাসিনার সরকার গণহত্যা চালিয়েছিল। আমাদের ভাই-বোনদের হত্যা করা হয়েছে, আহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। এরপরেই সারা দেশে শুরু হয় সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন।”

পদযাত্রায় অংশ নেওয়া এনসিপি নেতারা জানান, “৫ আগস্ট ঘোষিত লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে লাখো মানুষ ঢাকামুখী হলে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই নতুন স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হবে। ১৯৭১-এর মতো এখন আমাদের সামনে ২০২৪ সালের নতুন ইতিহাস লিখে যাওয়ার সুযোগ এসেছে।”

পদযাত্রায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায়, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদা দোলা, নওগাঁ জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মুনিরা শারমিন, এবং রাণীনগর উপজেলার রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীউল আলম খান তুষার উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশাল-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন নৌ উপদেষ্টার ভাই

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন সাবেক ছাত্রদল নেতা হেমায়েত হোসেন সোহরাব। তিনি বর্তমান সরকারের বস্ত্র ও পাট এবং নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের ভাই।

শনিবার (৫ জুলাই) হিজলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ডা. খাদেম হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই মনোভাব প্রকাশ করেন।

যদিও হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে তার সরাসরি অংশগ্রহণ অতীতে দেখা যায়নি, তবে তিনি দাবি করেছেন যে, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাহিত্য সম্পাদক এবং সর্বশেষ ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পল্লবী থানা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

সোহরাব দাবি করেছেন, তার সুপারিশে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে ‘শহীদ রিয়াজ লঞ্চ টার্মিনাল’, মৌলভীরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদী খনন প্রকল্প এবং মেহেন্দিগঞ্জের সুলতানি খালে ভাঙন রোধে নয় কোটি টাকার প্রকল্প।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলবেন। দুই উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং খুব শিগগিরই উপজেলা বিএনপির সদস্যপদ নেবেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে এলাকায় রাজনীতিতে অংশ নেবার ঘোষণা দেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




শহীদদের আত্মত্যাগ ভুলে নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: আমিনুল হক

বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত অভ্যুত্থান পরিস্থিতিতে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ ভুলে গেলে চলবে না।

শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি স্পোর্টিং ক্লাব মাঠে “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে” ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত এক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, “যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে, তাদের ভুলে যাওয়া আমাদের উচিত নয়। তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য জীবন দিয়েছেন। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ পরিবারের পাশে আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন—আমরাও তাদের পাশে থাকব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক পরিবেশ থাকবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। আমরা আর চাই না, আর কোনো ভাই শহীদ হোক।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। উদ্বোধকের বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোরশেদ হাসান খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীন এবং বিএনপি পরিবারের নেতা আতিকুর ইসলাম রুমন প্রমুখ।




“পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি হেফাজতের”

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের ইসলামি মূল্যবোধ, পারিবারিক কাঠামো এবং জাতীয় সংস্কৃতির ওপর হস্তক্ষেপের সামিল।

শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকার বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর আয়োজিত এক দোয়া ও আলোচনা মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ মাহফিলটি শাপলা ও চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ও আহতদের সুস্থতা কামনায় আয়োজিত হয়।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, “বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যার ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো ইসলামী মূল্যবোধে গঠিত। অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবাধিকারের নামে ইসলামী শরিয়া, পারিবারিক আইন ও ধর্মীয় রীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে খুলতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “সমকামিতা ও বিকৃত পশ্চিমা ধারণা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়। ইসলাম এ ধরনের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয় না এবং এ বিষয়গুলোকে উৎসাহিত করা ঈমানদার জনগণের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

মাহফিলে বক্তব্য রাখেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মামুনুল হকসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, “মানবাধিকার মানে ধর্মীয় পরিচয় ও সমাজের প্রকৃতি অনুযায়ী মানুষকে সম্মান দেওয়া। ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধে হস্তক্ষেপ করে কোনো বিদেশি সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে ঈমানদার জনতা তা প্রতিহত করবে।”

সভায় মাওলানা মামুনুল হক সরকারের প্রতি চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঈমানদার জনতা ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রস্তুত। প্রয়োজনে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, স্বাধীন ও আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠন। যারা এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবেন, তারা ইতিহাস ও জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হবেন।”

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেন, “দেশের অভ্যন্তর ও বাইরের ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীগুলো নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ষড়যন্ত্র রুখতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে।”

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের স্বাধীনতা ও ইসলামী আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার।




বরিশালে বিভাগীয় সড়ক শ্রমিক পরিষদের নব-নির্বাচিত কমিটির অভিষেক

 

বরিশাল বিভাগীয় সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নব-গঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ জুলাই) রুপাতলীর সংগঠন কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হোসেন, সহ-সভাপতি বশির আহমেদ মৃধা, ফারুক সিকদার, খলিলুর রহমান বাচ্চু, ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির।

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, আসাদুজ্জামান, ইকবাল হোসেন, মান্নান চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন সান্টু, কোষাধ্যক্ষ সমির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ গাজী এবং প্রচার সম্পাদক হাসান মাকসুদুর রহমানসহ নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

নবনির্বাচিত নেতারা সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও অধিকার রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগের পরিবহন খাতের উন্নয়ন ও শ্রমিকদের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ঠাকুরগাঁওয়ে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা

ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির নেতাকর্মীদের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা ছিল।

শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলায় কর্মসূচি শেষে পীরগঞ্জে যাওয়ার পথে ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন ব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলা মডেল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে একটি মাইক্রোবাসে করে এনসিপি নেতাকর্মীরা রওনা দেন পীরগঞ্জের উদ্দেশে। টাঙ্গন ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একটি আন্তঃজেলা যাত্রীবাহী বাস তাদের বহরকে চাপা দেয়। এতে একটি গাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। এরপর বহর থামিয়ে ঘটনার কৈফিয়ত চাইলে ৫-৬ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে গাড়িচালকসহ একজন এনসিপি কর্মী আহত হন।

এনসিপির ঠাকুরগাঁও জেলার মুখপাত্র অপু দাবি করেন, “এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্টভাবে হত্যা। বিশেষ করে নাহিদ বা সারজিসদের টার্গেট করা হয়েছিল বলে আমরা মনে করছি।”

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সারোয়ারে আলম খান বলেন, “বাসচাপার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এনসিপি হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




গুরুতর অসুস্থ শাশুড়ির জন্য দোয়া চাইলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার গুরুতর অসুস্থ শাশুড়ির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জামায়াত আমির নিজেই।

শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দোয়া প্রার্থনা করেন।

এছাড়া জামায়াতের প্রবীণ নেতা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা রাফি উদ্দিন আহমদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার জন্যও সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, “আমার শ্রদ্ধেয়া শাশুড়ি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে সকলের কাছে একান্ত দোয়া প্রার্থী। সুস্থতা-অসুস্থতা এবং হায়াত-মউতের মালিক আল্লাহ তায়ালা যেন তার এই বান্দির প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।”

তিনি আরও লেখেন, “একইভাবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ দায়িত্বশীল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা রাফি উদ্দিন আহমদ সাহেবও বর্তমানে আইসিইউতে আছেন। তার জন্যও আমি সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




আহবায়ক কমিটির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করলো সাংস্কৃতিক সংগঠন “আরোহন”

‘নতুন দিনের প্রত্যাশায়’ স্লোগানে বরিশালে আত্মপ্রকাশ করলো অরাজনৈতিক ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আরোহন’। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ সংগঠনটি যাত্রা শুরু করেছে।

শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির মহড়া কক্ষে সদস্যদের কণ্ঠভোটে ২৮ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহ্বায়ক নির্বাচিত হন শফিকুল ইসলাম সাগর এবং সদস্য সচিব হন লাবণ্য রহমান। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান সাব্বির হোসেন সোহাগ, মোহন হোসেন, মাহমুদ-উন নবী ও সুমি হক। যুগ্ম সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন রাকিবুল ইসলাম নোমান, চন্দ্রিমা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাব্বির হোসেন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন: মেহেদী হাসান জাহিদ, জান্নাতুল প্রতিভা, আবদুর রহমান, সানভীর মাহমুদ, সফিকুর রহমান সুমন, হাসিবুল ইসলাম ইরান, জাহিদ আকন, সাইফুল ইসলাম অলী, নাহিদ ইসলাম, রোহান মোহাম্মদ অয়ন, কিশোর কুমার বালা, তানজিল আহমেদ, মাহফুজ নুসরাত মোনা, সজল হালদার, ইমাম হোসেন, ওবায়দুর রহমান বায়েজিদ, রোকনুজ্জামান রোকন, সানজিনা হোসাইন মিম ও আল আয়মান প্রমুখ।

আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সাগর বলেন, “জুলাই বিপ্লবের এক বছর পেরিয়ে গেলেও বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা একটি নতুন, পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়েছি।”

সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, “আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দেশপ্রেমিকদের সংগঠিত হওয়া জরুরি।”

সদস্য সচিব লাবণ্য রহমান বলেন, “বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গন কিছু ভণ্ড ও দালালের দখলে। আমরা তাদের ভাঙন ঠেলে নতুন দিনের সূচনা করতে চাই।”

সদস্যদের আলোচনায় উঠে আসে—সংগীত, নৃত্য কিংবা আবৃত্তির বাইরে গিয়ে আরোহন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখবে। বরিশাল থেকেই ছড়িয়ে পড়বে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ঢেউ—এমন প্রত্যাশায় পথচলা শুরু করলো ‘আরোহন’।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম