শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত: ফখরুল

 

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং দলের প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “গণহত্যা, ফ্যাসিবাদ এবং দমননীতির পক্ষে কাজ করার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়েছে। তার সঙ্গে যারা এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। এমনকি দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত।”

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশ্নটি ছিল—বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমাতে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির অবস্থান কী?

মির্জা ফখরুল বলেন, “ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা কাজ করে, তারা শাস্তির উপযুক্ত। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, বিরোধী দলগুলোর ওপর হত্যা, গুম, দমন চালিয়েছে। আমিই ১১২টি মামলার আসামি এবং ১৩ বার কারাবরণ করেছি।”

এর আগে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কদ্দুস এবং অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিনকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে দেখতে যান। পরে তিনি আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বরেণ্য লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভিনকে দেখতে যান এবং বিএনপির পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, “ফরিদা পারভিন উপমহাদেশের একজন গুণী শিল্পী, বিশেষ করে লালনসংগীতে তিনি অদ্বিতীয়। তার চিকিৎসায় সরকারকে আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।”

নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে ফখরুল বলেন, “নির্বাচন প্রয়োজন জনগণের জন্য। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত সরকার ছাড়া রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। আমরা আগে থেকেই সংস্কারের দাবি করে আসছি। নির্বাচন ও সংস্কার পাশাপাশি চলতে পারে।”

তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে দেশকে সঠিক পথে নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




আইনজীবীর বাড়ি দখলের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

ঝালকাঠিতে এক সিনিয়র আইনজীবীর বাসভবন দখলের অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর দাবি, দখলের সময় হামলা চালিয়ে পরিবারের দুই সদস্যকে মারধর করা হয়েছে এবং এখনো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে হাইকোর্ট বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী ও ঝালকাঠি শহরের কালিবাড়ী সড়কের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট এসএম ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ২৮৯ নম্বর খতিয়ানের ১৬৯৬ দাগের আট শতক জমিতে নির্মিত তার বাসভবনে পরিবারসহ দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছেন। তবে একই এলাকার আনছার উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে ও ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহম্মেদ তার ভাই জসিম হাওলাদার ও নাসির উদ্দিন হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন ভাড়াটে লোক নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়।

অ্যাডভোকেট ফজলুল হকের অভিযোগ, হামলাকারীরা তার ঘরের তালা ভেঙে প্রবেশ করে, পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এতে বাধা দিতে গিয়ে তার ছেলে এসএম মনিরুজ্জামান ও শ্যালক কাজী হাফিজুর রহমান আহত হন। বর্তমানে পরিবারটি সালাউদ্দিন আহম্মেদের হুমকির মুখে চরম আতঙ্কে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। বিচার চেয়ে তিনি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে সালাউদ্দিন আহম্মেদ দাবি করেন, “এটি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি, যা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছিল। আমার ভাইয়েরা নিজেদের জায়গা থেকে দখলদারদের সরিয়ে দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।”

তবে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সরদার দিপু আইনজীবীর অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থার জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ভোলায় যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার

ভোলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড ও পুলিশ। আটকরা হলেন—ঢাকার শের-ই-বাংলা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মো. উজ্জ্বল হোসেন (৪২), চরসামাইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ মাতাব্বর (৫৫) এবং একই ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নিজাম মুন্সি (৫২)।

কোস্ট গার্ডের সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোস্ট গার্ড ভোলা দক্ষিণ জোন ও পুলিশ যৌথভাবে ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের বড় চরসামাইয়া ও চরকালীসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে সন্দেহভাজন অবস্থায় তাদের আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও পাঁচটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ জানান, আটক তিন নেতাকে আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য ভোলা সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা টহল জারি রেখেছে। ফলে এসব অঞ্চলে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে।” তিনি জানান, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




যমুনা ও সচিবালয় এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ডিএমপির ফের গণবিজ্ঞপ্তি

সচিবালয় ও যমুনা এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার (বিপিএম-সেবা) স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল বুধবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অরডিন্যান্স-১৯৭৬ এর ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে—বাংলাদেশ সচিবালয় সংলগ্ন এলাকা, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, যার মধ্যে রয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং ও মিন্টু রোড ক্রসিং।

এই সব এলাকায় কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি কিংবা ধর্মঘটের আয়োজন করা যাবে না।

ডিএমপি জানিয়েছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ গত ৭ জুন একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সংস্থাটি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বিএনপির শীর্ষ নেতার বিতর্কিত মন্তব্যে দলীয় নেত্রীর তীব্র প্রতিবাদ

একসময়ের তুখোড় আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা এ্যাড. ফজলুর রহমানের ‘হাসিনা খারাপ, আওয়ামী লীগ খারাপ না’ মন্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছে। তার এই বক্তব্যে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার মনোভাব স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নুসরাত জাহান সোমবার (৭ জুলাই) তার ফেসবুক পোস্টে ফজলুর রহমানের এই মন্তব্যকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি বিএনপির লক্ষ লক্ষ ত্যাগী নেতা-কর্মীর অনুভূতির অবজ্ঞা। নুসরাত জাহান উল্লেখ করেন, বিএনপি ব্যক্তি নয়, আদর্শ ও নীতিমালা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত একটি দল। তাই ব্যক্তিগত মতামত নয়, দলীয় মূল্যবোধই সবসময় সম্মানিত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি যে, যে আওয়ামী লীগ ১/১১ থেকে শুরু করে বারবার গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের পেছনে রয়েছে, যারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে, তাদের অপকর্ম কেবল একজন ব্যক্তির দোষারোপ দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।’

নুসরাত জাহান ফজলুর রহমানের বক্তব্যের বিরুদ্ধে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে অনুরোধ করেন যাতে দলের ঐক্য ও আদর্শ অক্ষুন্ন থাকে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




নির্বাচন যত দেরি হবে, দেশ তত পিছিয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের যতো বেশি দেরি হবে, দেশ ততো বেশি পিছিয়ে যাবে। বিনিয়োগ কমে যাবে, নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে, বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠবে। এজন্য প্রয়োজন একটি নির্বাচিত সরকার, যাদের পেছনে থাকবে জনগণের সমর্থন।

সোমবার (৭ জুলাই) সিলেটের পাঠানটুলাস্থ সানরাইজ কমিউনিটি সেন্টারে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিকের আমন্ত্রণে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ মুক্তি বহু সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে সম্ভব হয়েছে। তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছে, যেখানে মানুষ বাকস্বাধীনতা পাবে, মহিলারা নিরাপত্তা পাবে, তরুণদের কর্মসংস্থান হবে এবং সকলকে চিকিৎসার সুযোগ থাকবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। এছাড়া দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হলেও দলের পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভোট, গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা জনঅধিকার লঙ্ঘন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করেছিলেন। বিএনপি দেশের উন্নয়নের জন্য ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।

ড. মুহম্মদ ইউনুসকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করেছেন।

মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কেউ যেন দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে না পারে। জয় তাদের সুনিশ্চিত বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানকার মহান sufi শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) এর কীর্তি এবং তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়ি এখানে অবস্থিত।

 




বরিশালের ২ আ’লীগ নেতাসহ পুলিশের এসপি ভারতে গ্রেপ্তার, অত:পর…

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভাটপাড়া পৌরসভার বাসুদেবপুর মোড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে বরিশালের দুই আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশের এক সাবেক এসপিকে আটক করে জগদ্দল থানার পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৈধ নথি থাকায় ভারতীয় পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম জুয়েল, আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুর রহমান এবং বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার হাসান আরাফাত আবিদ। তিনজনই বর্তমানে স্থান পরিবর্তন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত পাঁচ মাস ধরে তারা বাসুদেবপুর এলাকার তিতাস মন্ডলের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অভিযানের দিন ওই বাড়ি থেকেই তাদের আটক করা হয় এবং থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে পরবর্তীতে তাদের পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসা যাচাই করে ভারতীয় পুলিশ ছেড়ে দেয়।

তাদের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ বিশ্বাস জানান, তিনজনই তিতাস মন্ডলের পরিচিত। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা ভারতে এসেছেন। এখানে এসে চিকিৎসাও নিয়েছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগেও তিতাস মন্ডলের বাড়িতে বাংলাদেশি নাগরিকদের আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

ভারতে অবস্থানকালীন সময়ে তারা কোনো বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি বরিশাল ও ঢাকায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




যারা জুলাইয়ের কথা সংবিধানে রাখতে চায় না তারা মুজিববাদের নতুন পাহারাদার : নাহিদ

‘জুলাই সনদ’ নি‘জুলাই সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না হলে রাজপথে আন্দোলন’ — হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামেরয়ে টালবাহানাকারীরা মুজিববাদের নতুন পাহারাদার মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা শহীদদের আত্মত্যাগ সংবিধানে রাখতে চায় না, তারা আরেকটি স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের জন্য মাঠ প্রস্তুত করছে। শনিবার (৫ জুলাই) বগুড়া শহরের সাতমাথায় মুক্তমঞ্চে ‘জুলাই পদযাত্রা’র পঞ্চম দিনের কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আমাদের আবেগ নয়, এ দেশের নতুন পথচলার রাজনৈতিক ঘোষণাপত্র। আগামী ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে ‘জুলাই সনদ’ সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির দাবি আদায় করা হবে। তা না হলে ফের রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শহীদদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে, মুজিববাদের দোসরদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে দলবাজ প্রশাসনকে। জনগণের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া আত্মত্যাগ কোনো দলীয় চক্রান্তে মুছে ফেলা যাবে না।

এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা ‘বিচার-সংস্কার-তারপর নির্বাচন’— এই তিন দফা দাবিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে নেতারা পদযাত্রায় অংশ নেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী, নাহিদা সারওয়ার নিভা, সাকিব মাহদীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সংগঠকরা। শহীদ পরিবারগুলো এ সময় দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ইসলাম প্রচারে বাধা দিলে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে: মাসুদ সাঈদী

ইসলাম প্রচারে কেউ বাধা দিলে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী মাসুদ সাঈদী। তিনি বলেছেন, ইমামদের জিম্মি করে রাজনীতি করার যুগ শেষ। ইমামদের সম্মানজনক বেতন, আবাসন ও জাতীয়করণের দাবিও তোলেন তিনি।

রোববার (৬ জুলাই) পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় ইমাম সমিতি পিরোজপুর জেলা শাখার আয়োজিত ষান্মাসিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাসুদ সাঈদী।

তিনি বলেন, ইমামতি কেবল পেশা নয়, এটি একটি ইমানি দায়িত্ব। কিন্তু ইমামদের ঐক্যের অভাবে সমাজের বিচারিক প্রশ্নে মানুষ রাজনীতিবিদদের দ্বারস্থ হয়, ফলে সমাজে অস্থিরতা বাড়ে। ইমামদের সৎ, তাকওয়াধারী ও যোগ্য আলেম হয়ে সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দিতে হবে।

ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আলাদা হয়ে নয়—ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আজকের দিনটি ওলামায়ে কেরামের জন্য এক বড় সুযোগ। এই সুযোগ কাজে না লাগাতে পারলে জাতি ক্ষমা করবে না।

এসময় তিনি প্রতি আসনে একটি ইসলামপন্থী প্রার্থী, একটি প্রতীক দেখতে চান বলে জনগণের দাবির কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পিরোজপুর সদর ইউএনও মামুনুর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধা তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, মাওলানা আব্দুল হাই নিজামী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, অধ্যাপক হেমায়েত উদ্দিনসহ জেলা ও বিভাগীয় ইমাম সমিতির নেতারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




অবশেষে জনসম্মুখে আসলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ শুরুর পর দীর্ঘ ১২ দিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়েছেন। শনিবার (৫ জুলাই) পবিত্র আশুরার আগের দিন তেহরানের ইমাম খোমেইনি মসজিদে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়। এই উপস্থিতি ইরানি জনগণের মধ্যে ব্যাপক আবেগঘন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, খামেনি প্রবীণ শিয়া ধর্মীয় নেতা মাহমুদ কারিমিকে অনুরোধ করছেন দেশাত্মবোধক গান “ও ইরান” পরিবেশনের জন্য, যা সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই গান এবং খামেনির উপস্থিতি, উভয়ই ইরানিদের মনে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

১৩ জুন শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষে ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে, ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়। এরপর ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয় এবং ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় আঘাত হানে। অভিযানে অংশ নেয় ১২৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ।

যুদ্ধ চলাকালীন খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় বিভিন্ন মহলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি গোপন বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন। যদিও তিনি এ সময়ের মধ্যে তিনটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, তবুও সরাসরি তার দেখা না পাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দেয়। অবশেষে আশুরার আগের দিন তার সরাসরি উপস্থিতি সেই সকল গুজব ও শঙ্কার অবসান ঘটিয়েছে।

প্রতিবছর আশুরার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে খামেনির উপস্থিতি নিয়মিত ঘটনা হলেও এবার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা তৈরি করেছিল। তবে এবারও তিনি উপস্থিত থেকে তার নেতৃত্ব ও মনোবলের বার্তা দিয়েছেন। আশুরা মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন, যেদিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেইন (রা.) কারবালার প্রান্তরে শহীদ হন। শোকাবহ এই দিনে খামেনির উপস্থিতি ইরানি সমাজে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিকভাবে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম