কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশেই নির্মিত নতুন বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার এখন পরিণত হয়েছে একঝাঁক ভিআইপি বন্দির আবাসে। সাবেক মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা, আমলা ও রাজনীতিকদের এই কারাগারে রাখা হচ্ছে ‘বিশেষ বন্দি’ মর্যাদায়। এদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যাঁরা বর্তমানে মামলার কারণে কারাবন্দি।
জানা গেছে, কারাগারের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এসব ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে কেউ কেউ সন্তুষ্ট হলেও, অনেকে আলাদা সুবিধার আবেদন করছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। কারা সূত্র জানায়, তিনি ধর্মীয় বই পড়েই দিনের বড় সময় কাটান। নিয়মিত আদালতে যাওয়া লাগে তার। একান্ত জীবনধারা বজায় রাখতে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক ওয়াশরুম, ওজুখানা এবং গোসলখানা চেয়েছেন। এমনকি নিজের রুমের জানালার জন্য নতুন পর্দাও চান তিনি। তবে কারাবিধির সীমাবদ্ধতার কারণে এসব দাবি মঞ্জুর হয়নি।
এই কারাগারে বন্দি আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- আমির হোসেন আমু, আনিসুল হক, শাজাহান খান, কামরুল ইসলাম, শাহজাহান ওমর, জুনাইদ আহমেদ পলক, আতিকুল ইসলাম, ডা. এনামুর রহমান, ফরহাদ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক প্রমুখ।
কারা সূত্রে জানা গেছে, ভিআইপি বন্দিরা প্রত্যেকে একটি করে চেয়ারে বসেন, টেবিলে পড়েন, বিছানায় শুয়ে থাকেন এবং পত্রিকা পড়েন। তবে বিশেষ এই কারাগারে টেলিভিশন নেই, যা অন্য কারাগারে সাধারণত থাকে। ফলে তারা টিভি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
প্রতিটি ওয়ার্ডে চারজন করে ভিআইপি বন্দি থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা বাইরে বের হতে পারেন না। হাঁটাচলার সুযোগ সীমিত। শাজাহান খান পুরো কম্পাউন্ডে হাঁটার আবেদন করলেও অনুমতি পাননি। তবে যে ভবনে তিনি থাকেন, সেখানকার ওয়াকওয়েতে তাকে হাঁটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আতিকুল ইসলাম ও জ্যাকব একই রুমে থাকেন। তারা ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটান। পলক উপন্যাসপ্রিয়, তাই কিছু প্রিয় বই চেয়ে রেখেছেন। শরীরিক সমস্যায় ভুগছেন অনেকে—কামরুল ইসলাম দুর্বল, ডা. এনামুর বিশ্রামে, ফরহাদ হোসেন পছন্দ করেন বিদেশি বইয়ের অনুবাদ।
আইন বিষয়ে আগ্রহী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও বিচারপতি মানিক; দু’জনেই বেশি সময় বই পড়ে কাটান। মানিক অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসাও চলছে। আমু একেবারেই চুপচাপ সময় কাটান। কারো সঙ্গেও তিনি বিশেষ যোগাযোগ করেন না।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ৯৫ জন বন্দি এই বিশেষ কারাগারে আছেন। ধারণক্ষমতা ৩০০ হলেও ভিআইপি বন্দিদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজন বিবেচনায় সংখ্যাটি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। কারা সূত্র আরও জানায়, ভিআইপি বন্দিদের সেবায় সাধারণ বন্দিরাও নিয়োজিত আছেন।
কারা বিভাগের অতিরিক্ত আইজি (প্রিজন্স) জাহাঙ্গীর কবির জানান, “কারাবিধি অনুযায়ী যা যা সুবিধা পাওয়ার কথা, তা তাদের দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত কিছু দাবি আপাতত মানা সম্ভব নয়।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম