খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের রাজনীতির এক মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব, যিনি গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। এই দুঃখজনক সময়ে তিনি মরহুমার পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য কর্মী-সমর্থকের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অনন্য ও শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতীক ছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান বারবার জাতিকে গণতন্ত্রের পথে ফেরার প্রেরণা জুগিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণমুখী নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল অবস্থান ছিল অনন্য। এমন একজন দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই শোকাবহ সময়ে সবাই যেন মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দেন। একই সঙ্গে শোকের সুযোগে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

শোকবার্তায় আরও জানানো হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। পাশাপাশি তাঁর জানাজার নামাজের দিনে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জানাজাসহ সব শোকানুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

শেষে প্রধান উপদেষ্টা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তিনি জাতিকে এই গভীর শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি, ধৈর্য ও ঐক্য দান করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের: আইন উপদেষ্টা

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ড. আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে দেওয়া রায়ের কারণে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রহসনমূলক মামলার মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে অমানবিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, যে মামলাগুলোতে খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো। এসব মামলার পেছনে ন্যায়বিচারের কোনো প্রতিফলন ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুল তার বক্তব্যে বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পূর্ণ দায় রয়েছে।” তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ইতিহাসের সামনে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক প্রতীকী নেতৃত্ব, যাকে দমন করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এক নজরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও নানা রাজনৈতিক সংকট—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন ছিল ঘটনাবহুল।


ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন

বেগম খালেদা জিয়ার পুরো নাম খালেদা খানম পুতুল, যিনি ইতিহাসে পরিচিত খালেদা জিয়া নামে। তাঁর জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে (কিছু সূত্রে ১৯৪৬ সাল উল্লেখ করা হয়)। জন্মস্থান ভারতের জলপাইগুড়ি জেলা হলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায়

তিনি জন্মগ্রহণ করেন ইস্কান্দার মজুমদারতৈয়বা মজুমদার দম্পতির ঘরে। শিক্ষাজীবনে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, দিনাজপুরে অধ্যয়ন করেন।

১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।


ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ফার্স্ট লেডি। এই সময়েই তিনি ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন।


রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও নেতৃত্ব

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দলটির নেতৃত্ব দিয়ে আসেন।

স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত সাত-দলীয় জোট প্রায় নয় বছর ধরে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে টানা আন্দোলন চালায়, যা শেষ পর্যন্ত এরশাদ সরকারের পতনে ভূমিকা রাখে।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন দফা দায়িত্ব

বেগম খালেদা জিয়া তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—

  • প্রথম মেয়াদ (১৯৯১–১৯৯৬):
    এই মেয়াদে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
  • দ্বিতীয় মেয়াদ (১৯৯৬):
    এই মেয়াদ ছিল স্বল্পকালীন।
  • তৃতীয় মেয়াদ (২০০১–২০০৬):
    এ সময় তিনি পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনা করেন।

মামলা, কারাবাস ও মুক্তি

পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি মামলা হয় এবং তিনি বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন।
২০১৮ সালে তিনি কারাবন্দি হন।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে তাঁর সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—

  • বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ
  • দেশের বাইরে না যাওয়া
  • রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না হওয়া

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাঁর দণ্ড মওকুফ করা হয় এবং তিনি পূর্ণ মুক্তি লাভ করেন।


সর্বশেষ অবস্থা

২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন
বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ফজরের নামাজের পরপরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আপসহীনতার বাইরেও খালেদা জিয়া ছিলেন ‘অপরাজেয়’ এক রাজনৈতিক প্রতীক

বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রায় চার দশক ধরে একটি ব্যতিক্রমী ও প্রভাবশালী নাম বেগম খালেদা জিয়া। আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও, তার রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি অনন্য দিক হলো— নির্বাচনী মাঠে তিনি কখনও পরাজিত হননি। এই ধারাবাহিক সাফল্যই তাকে রাজনীতিতে ‘অপরাজেয়’ নেত্রী হিসেবে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া একাধিক আসনে প্রার্থী হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি প্রতিবারই পাঁচটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসনে প্রার্থী হয়ে তিনটিতেই জয় লাভ করেন।

নির্বাচনী সাফল্যের ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন—১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর গঠিত ষষ্ঠ সংসদে তার দ্বিতীয় দফার সরকার ছিল স্বল্পস্থায়ী, প্রায় এক মাসের। তবে ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার নেতৃত্বেই সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঘটে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়িত হয়। ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলে খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠনের মাধ্যমে—জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোটকে সঙ্গে নিয়ে—২০০১ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি আবার বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি অংশ নিতে পারেননি২০২৪ সালের নির্বাচনও বিএনপি বর্জন করায়, ২০১৪ সালের পর থেকে তিনি নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে ছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একাধিক আসন থেকে অংশ নিতে পারেন—এমন সম্ভাবনার কথা। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই এই আপসহীন নেত্রীর জীবনাবসান ঘটে, যা দেশের রাজনীতিতে এক শূন্যতার সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচনী ইতিহাসে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ও রেকর্ড আজও অনন্য ও আলোচিত

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই

বঙ্গবন্ধু-কন্যা ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শায়েস্তা ভুলি নয়—এবার সত্য: বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়; তিনি ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং দুই দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৮০ বছর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এই মৃত্যুর বিষয়টি দলের অফিসিয়াল পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে এবং “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” উল্লেখ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। �

জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া গত বেশ কিছু সময় ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন এবং নভেম্বরে তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট সহ উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অগ্রণী ভূমিকা স্মরণ করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তারেকের আম জনতার দলে যোগ দিলেন হিরো আলম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম মো. তারেক রহমানের রাজনৈতিক দল, আমজনতার দলে যোগ দিয়েছেন।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) হিরো আলম নিজেই এ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, দলে যোগ দেওয়ার পর তিনি বড় কোনো পদও পেতে পারেন।

হিরো আলম বলেন, “আমি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নয়, রাজনৈতিক দলের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া আমার পরিকল্পনা ছিল। কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা হলেও আদর্শগত মিল না থাকায় যোগ দেইনি। তবে তারেক রহমান ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত আমজনতার দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।”

তিনি আরও জানান, আজ সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি আমজনতার দলে যোগ দিয়েছেন এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এই দল থেকে প্রার্থী হবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 

 




বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াতের সাথে জোট এনসিপির: নাহিদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াত ইসলামী ও তাদের আট দলীয় জোটের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ কথা জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে বৃহত্তর স্বার্থে আমরা এই জোটে অংশ নিচ্ছি। শুরুতে আমরা এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রেখেছিলাম, কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। আমরা একত্রে আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি, সংস্কার ও বিচারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করব।”

তিনি আরও জানান, সোমবার প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে এবং পরদিনই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, জোট কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়া সফলভাবে পার হওয়ার জন্য গঠন করা হয়েছে, তবে দল তাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রভাবিত পুলিশ বাহিনী সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করে বলেন, “আওয়ামী লীগের সময় দক্ষতার সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি করতো সেই পুলিশ বাহিনী এবার চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে ধরতে পারছে না।”

এসময় দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কারণে জামায়াতের মহাসমাবেশ স্থগিত

কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা এ মহাসমাবেশটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলমের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও ভর্তি পরীক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় জামায়াতের ঘোষিত কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের পক্ষে এ বিবৃতি প্রদান করা হয়।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) জামায়াতের মহাসমাবেশের তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান জানায়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে দলটির প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। এসব প্রেক্ষাপটেই শেষ পর্যন্ত মহাসমাবেশ স্থগিতের ঘোষণা আসে।

উল্লেখ্য, ৩ জানুয়ারি দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কৃষি গুচ্ছের আওতায় রয়েছে—
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 

 




কমিটি বাতিলের দাবিতে জামালপুরে ছাত্রদলের কালো পতাকা মিছিল

জামালপুর শহর ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে কালো পতাকা মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে জামালপুর শহরের মেডিকেল রোড এলাকা থেকে কালো পতাকা মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তামালতলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিপুলসংখ্যক ছাত্রদল নেতা-কর্মী অংশ নেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর জামালপুর শহর ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তারা অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। এর আগেও মশাল মিছিল, সড়ক অবরোধ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিসহ একাধিক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আপেল মাহমুদ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈকত হোসেন, হাদিউল ইসলাম রাব্বি, সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক পাবেল মাহমুদ এবং শরীফপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান

বক্তারা অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের দিয়ে গঠিত পূর্বের কমিটির সদস্যরা গত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে হামলা, মামলা ও কারাবরণসহ নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অথচ কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সেই কমিটি বাতিল করে বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে যখন সারাদেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামালপুর পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়, যা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জামালপুর সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন ত্যাগী ও নির্যাতিত ছাত্রনেতাদের বাদ দিয়ে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করেছেন। নতুন কমিটিতে অছাত্র ও ব্যবসায়িক পেশায় জড়িত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন আরও কঠোর ও বিস্তৃত করা হবে

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান শফিক বলেন, বিগত সময়ে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তাদের অনেককে বাদ দিয়ে সম্প্রতি দলে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




নির্বাচন ইস্যুতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে অবস্থিত দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন এক বার্তায় জানান, সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হবে।

এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটে আরও দুটি দলের যুক্ত হওয়া। নতুনভাবে জোটে যোগ দেওয়া দল দুটি হলো— কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আট দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জোটে নতুন যুক্ত হওয়া দলগুলোর নাম ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কোনো শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির জানান, এনসিপির সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেই বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তারা জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এনসিপি নিজস্ব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকার সিদ্ধান্তের সঙ্গে জোট রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫