ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি: জামায়াত সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আমরা ইতিহাসের একটি বিশেষ সময় অতিবাহিত করছি। ইসলামী আন্দোলনকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে জাতীয় সমাবেশ হবে আমাদের জন্য একটি ট্রেনিং পয়েন্ট।”

শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমার জীবন, চিন্তা-চেতনা ও অনুভূতি সবই আল্লাহর জন্য। আল্লাহর নির্দেশই সর্বোচ্চ, তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

ঢাকা মহানগরী উত্তরের সব জনশক্তিকে জাতীয় সমাবেশে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে এ সমাবেশ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। শহীদের রক্তস্নাত বাংলায় ইসলামী পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।”

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সঞ্চালনায় ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর সেক্রেটারি ডা. রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আ. রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিমুদ্দিন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত। দারসুল কোরআন পেশ করেন ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার।

আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, রুকন সম্মেলনে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার সদস্য অংশগ্রহণ করেন।




তারেক রহমানকে সারজিস আলমের হুঁশিয়ারি: ‘এই প্রজন্ম ছাড় দেবে না’

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেছেন, “আগের দিন আর নেই, জনাব। এই প্রজন্ম ছাড় দিতে পারে, তবে ছাড় দেবে না।”

শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে মিটফোর্ড এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, “সবাই খারাপ কিন্তু আপনি ভালো—বাংলাদেশে এই নাটক আর চলবে না। আপনার দলের কিছু নেতা-কর্মী এখন নরপিশাচে পরিণত হয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করুন, জনাব তারেক রহমান। যেমন আওয়ামী লীগের সময়ে কোনো হত্যাকাণ্ডের দায় শেখ হাসিনার ওপর বর্তায়, ঠিক তেমনি বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের হাতে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের দায় থেকেও আপনি মুক্ত নন।”

তিনি বলেন, “মিটফোর্ড হাসপাতালের পাশে চাঁদা না দেওয়ায় একজন ব্যবসায়ীকে উলঙ্গ করে পাথর মেরে হত্যা করা হয়। তার মৃতদেহ ঘিরে যুবদলের কর্মীদের উল্লাস—এই দৃশ্য মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে মনে করিয়ে দেয়। এ জন্যই কি বাংলাদেশের মানুষ ‘জুলাই বিপ্লব’ করেছিল?”

সারজিস আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “আগের দিন আর নাই, জনাব। এই প্রজন্ম হয়তো কখনো ছাড় দিতে পারে, তবে অন্যায়ের প্রশ্নে কাউকে ছেড়ে দেবে না।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই পোস্ট ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।




চীনের উদ্দেশ্যে জামায়াত প্রতিনিধিদলের ঢাকা ত্যাগ, নেতৃত্বে আমির ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে চীন সরকারের আমন্ত্রণে দলটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়াও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

জানা গেছে, ১৫ জুলাই পর্যন্ত চলমান এ সফরে জামায়াত প্রতিনিধিদল চীন সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সফরটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ও ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




“এ কোন যুগ, কোন সমাজ!”: মিটফোর্ডের নির্মমতায় বাকরুদ্ধ জামায়াত আমির

ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তায় তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, “বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় মিটফোর্ডের এ নির্মম ঘটনা জেনে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এ কোন যুগ! কোন সমাজ! প্রকাশ্যে দিবালোকে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে কেবল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অপরাধে শত শত মানুষের সামনে হত্যা করা হলো!”

তিনি নিহত সোহাগের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “হে ক্ষতিগ্রস্ত মজলুম পরিবার, আমরা তোমাদের কাছে লজ্জিত। হে ব্যবসায়ী ভাই সোহাগ, তোমার এই পরিণতি হওয়ার আগে আমরা কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারিনি— এজন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, “হে সমাজ, জেগে উঠো! মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার প্রমাণ দাও। আজ যদি তুমি চুপ থাকো, কাল যখন তোমার ওপর এই অন্যায় নেমে আসবে, তখন কেউ পাশে থাকবে না। ভয় ও সংকোচ উপেক্ষা করে আমাদের সমাজ থেকে অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই হবে।”

চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ইতোমধ্যে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।




মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড: ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বিএনপিকে দায়ী করায় ‘নোংরা রাজনীতি’ বলছে দলটি

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে জনসমক্ষে এক ব্যবসায়ী যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

এ পরিস্থিতিতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, বিচ্ছিন্ন এ ঘটনার দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা ‘নোংরা রাজনীতিরই’ অংশ। তিনি বলেন, “বিএনপি ইতোমধ্যে সিরিয়াস ব্যবস্থা নিয়েছে। এরপরও বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপানো রাজনৈতিক অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।”

তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্তদের আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সালাহউদ্দিন আরও বলেন, “বিএনপি কোনো অপরাধীকে কখনো আশ্রয় দেয়নি, দেবে না। আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।”

এদিকে যুবদলের পক্ষ থেকেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে করা মামলার আসামি যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকিকে দল থেকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং অপরাধ নির্মূলে দল সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করছে।




“নিজ দলের দুর্নীতিবাজরাও রেহাই পাবে না” — যশোরে হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার যশোরে এক পথসভায় বলেন, “যারা দুর্নীতি করবে, এনসিপি তাদের ছাড় দেবে না। এমনকি দলের কেউ দুর্নীতিতে জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

যশোর জজকোর্ট মোড়ে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় তিনি বলেন, এনসিপি কারও ‘কোটি কোটি লোক’ থাকার ভয় পায় না। “এনসিপি এমন নেতৃত্ব চায় যারা জনগণের সঙ্গে ইনসাফ করবে,” বলেন তিনি।

জুলাই মাসব্যাপী পদযাত্রার ১১তম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্যসচিব আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, “সংস্কারের আলাপ যদি টেবিলে না থাকে, তবে রাজপথেই আন্দোলন হবে। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়, কিন্তু তাদের আধিপত্য মেনে নেবে না।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা বিচার, সংস্কার ও অবাধ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। বিচার ও সংস্কার ছাড়া জনগণ কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না। যারা এই বিষয়গুলো ছাড়া নির্বাচন চায়, তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়।”

তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “৫৪ বছরেও দেশে স্বাধীন, নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। আমরা চাই পুলিশ, প্রশাসন ও আমলাতন্ত্র কোনো দলের অনুসারী না হয়ে জনস্বার্থে কাজ করুক। সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বলতে চাই, গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করুন, গুমের রাজনীতি থেকে দূরে থাকুন।”

যশোরের স্থানীয় সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, “যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা কেয়ার ইউনিট এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি, আইসিইউও চালু হয়নি। এখানকার মানুষকে চিকিৎসার জন্য খুলনায় যেতে হয়। আমরা চাই যশোরের মানুষ যশোরেই চিকিৎসা এবং শিক্ষা পাক।”

তিনি ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা, বেনাপোলের দুর্নীতি ও মাদক সমস্যার কথাও তুলে ধরেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে ছাত্র ও তরুণ সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

পথসভাটি পরিচালনা করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে, সকাল ১২টায় শহরের রেলরোড এলাকায় চার খাম্বার মোড়ের একটি হোটেলে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপি নেতারা। জুমার নামাজ আদায়ের পর তারা পদযাত্রায় অংশ নেন, যা মুজিব সড়ক হয়ে পথসভাস্থলে এসে শেষ হয়। পরে তারা খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

পদযাত্রায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং পুরো সময়জুড়ে কর্মসূচিতে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়।




জাতীয় প্রতীকের অংশ শাপলা, প্রতীক হতে আইনগত বাধা নেই: এনসিপি নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, শাপলা যদি রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি না পায়, তবে ধানের শীষ, পাটপাতা ও তারকার মতো জাতীয় প্রতীকের অংশগুলোও প্রতীক হতে পারে না। তিনি শাপলাকে জাতীয় প্রতীক নয়, বরং জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম বলেন, “শাপলার মতো ধানের শীষ, পাট পাতা, তারকা—সবই জাতীয় প্রতীকের অংশ। তাই যদি শাপলা প্রতীক হতে না পারে, তাহলে ধানের শীষকেও প্রতীক হিসেবে রাখা ঠিক নয়।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় ফুল হিসেবে শাপলা প্রতীক হতে কোনো আইনগত বাধা নেই। যেমন কাঁঠাল—যা জাতীয় ফল—সেটি ইতোমধ্যে একটি দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাহলে শাপলা প্রতীক নিয়ে আপত্তির কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

প্রতীক বাতিলের আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যদি মার্কা দেখেই ভয় পান, তাহলে সেটা আগে থেকেই বলে দেন।”

জাতীয় প্রতীকের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে এনসিপি নেতা সারজিস আলম নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের বিরুদ্ধেও পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তুলেছেন।




জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক ঘটনা এটিকে ছোট করে দেখছে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, এটিকে খাটো করে দেখতে চায় না বিএনপি।” তিনি জানান, এই ঘটনার যথাযথ মূল্যায়ন করেই দলটি জুলাই সনদ বিষয়ে নিজেদের মতামত সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে। আমরা সংস্কারকে স্বাগত জানাই। কিন্তু কেউ যদি বলে বিএনপি সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সেটা ভুল ব্যাখ্যা। গত ১৭ বছরে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকারের জন্য জীবন দিয়েছে। আমরা আশা করি, ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকারের নির্দেশনায় একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা হবে, যেখানে জনগণ সত্যিকার অর্থেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।”

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “সীমান্তে প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা এবং পুশইনের ঘটনা ঘটছে। সরকারকে এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কঠোরভাবে দরকষাকষি করতে হবে। এটা হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন ডিইউজে সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।




নতুন সংবিধানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি চায় এনসিপি

সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও কার্যকারিতা চেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক সংলাপের দ্বিতীয় ধাপের ১১তম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি তুলে ধরেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

আখতার হোসেন বলেন, “আমরা মনে করি বাংলাদেশে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। সেই সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ যুক্ত করে তা কার্যকর করতে হবে।”

জরুরি অবস্থার বিধানে সংশোধনের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই বিধান ব্যবহার হয়েছে। এনসিপি চায়, মন্ত্রিসভার পরিবর্তে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি বা সরাসরি সংসদের অনুমোদনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি যেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। সেই সঙ্গে মৌলিক মানবাধিকার যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, সেই নিশ্চয়তা বিধানেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আখতার হোসেন আরও জানান, জরুরি অবস্থায় নাগরিকরা যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও আইনগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকা উচিত।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি নিয়েও সুস্পষ্ট মত দেয় এনসিপি। আখতার বলেন, “বাংলাদেশে অতীতে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন। এনসিপি মনে করে, এই পদে নিয়োগে সুনির্দিষ্ট আইন থাকা দরকার।” তিনি জানান, এনসিপি জ্যেষ্ঠ বিচারকের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের সুপারিশ করেছে, যাতে দলীয় প্রভাব এড়ানো যায়।

এনসিপির এ প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংলাপে উপস্থিত অন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছিল বলে জানানো হয়েছে।




“রাজনীতিকে আমরা কঠিন করে তুলব এবং জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসবো” — হুঁশিয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “আমরা রাজনীতির নিয়মই শুধু পাল্টাবো না, রাজনীতির খেলাও পাল্টে দেব। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দেব, এবং সবাইকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করব।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে নড়াইল শহরের পুরাতন বাস টার্মিনালে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, “যারা গলফ খেলিয়ে, হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চান, তারা ফাউল করছেন। তারা শিগগিরই ‘রেডকার্ড’ দেখে মাঠ ছাড়বেন।” তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে হুদা ও রকিব কমিশন রাতের আঁধারে ভোট ‘কেটে নিয়েছে’, এমনকি মৃত ব্যক্তিকেও ভোট দিতে দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন।

শাপলা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “আমাদের নির্বাচন কমিশন এখন মিটিংয়ের আগেই ফলাফল জানিয়ে দেয়। গতকালই তারা বলে দিয়েছে আমাদের শাপলা মার্কা দেওয়া হবে না, অথচ মিটিং হয়েছে আজ। এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কী হতে পারে?”

হাসনাত আরও বলেন, “আমাদের কাছে খবর আছে—কোন নির্বাচন কমিশনার কোথায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, ক্যান্টনমেন্টে কারা গিয়েছেন, কে গলফ খেলেছেন। রিমোট কন্ট্রোল কোথায় আছে, তাও আমরা জানি।”

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এরশাদ ও জিএম কাদেরের মতো অনেক রাজনীতিক নির্বাচনের আগে ক্যান্টনমেন্ট বা বিদেশে গিয়ে ‘পরামর্শ নিয়ে’ সিদ্ধান্ত নিতেন—সরকারে থাকবেন না বিরোধী দলে।

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা। বক্তারা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের অধিকার আদায়ে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।