“পুরোনো বন্দোবস্ত আর চলবে না, তরুণরা পরিবর্তন চায়: নাহিদ ইসলাম”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে কথা বলি না, বলি মাফিয়া আর চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। যারা পুরোনো বন্দোবস্ত ও দুর্নীতিকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদের আর মেনে নেবে না দেশের জনগণ।”

শনিবার (১২ জুলাই) রাতে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে ১২তম দিনে বাগেরহাট শহরের রেল রোড এলাকায় আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই তরুণ প্রজন্ম আর কোনো নির্বাচন ব্যবস্থার ভাগ-বাটোয়ারা চায় না। রাষ্ট্র সংস্কার ও দেশ পুনর্গঠনের যে আন্দোলন আমরা শুরু করেছি, তার দরজা সবার জন্য খোলা। কিন্তু কেউ যদি এখনও সেই সংস্কারের পথে না আসে, দুর্নীতিগ্রস্ত পুরোনো সিস্টেম ধরে রাখতে চায়, তাহলে জনগণ তাদের আর বরদাশত করবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। সেই সিস্টেমকে এখনো উৎখাত করা যায়নি। তাই আবারও রাজপথে নেমেছি। শহীদদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থেকেই বলছি, এই সিস্টেমের পরিবর্তন করবই। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করতেই হবে, আর তা জুলাই-আগস্টের মধ্যেই।”

পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আপনাদের জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। যদি দলবাজ প্রশাসনের মতো আচরণ করেন, তাহলে ইতিহাসের বিচার এড়াতে পারবেন না। ফ্যাসিবাদের সময় যারা দলবাজ ছিল, তাদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিন।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সচিব ডা. তাসনিম জারা, সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আবিদ এবং এনসিপি বাগেরহাটের প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার প্রমুখ।




নির্বাচন ভীতদের উদ্দেশে  যা বললেন আমির খসরু

নির্বাচন ভীতদের উদ্দেশে  যা বললেন আমির খসরু

📍 ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২৫ (ঢাকাপোস্ট প্রতিবেদক)

নির্বাচন থেকে দূরে সরে যাওয়া ও নানা অজুহাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অপচেষ্টাকারীদের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “নির্বাচনকে যারা ভয় পায়, তারা প্রেশার গ্রুপ হিসেবেই থাকুক।”

শনিবার (১২ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত ‘অপূর্ণ জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়া ধ্বংস নয়, অংশগ্রহণে আহ্বান

আমির খসরু বলেন, “যারা মনে করেন, নির্বাচন পিছিয়ে দিলে শক্তি সঞ্চয় করে পরে ভোটে নামা যাবে — তারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। বরং তারা প্রেশার গ্রুপ হিসেবে থাকলে গণতন্ত্রের জন্য তা ইতিবাচক হবে।”

তিনি বলেন, “সিভিল সোসাইটি দরকার, প্রেশার গ্রুপ দরকার। কিন্তু নির্বাচনকে ধ্বংস করা নয়, প্রক্রিয়ার অংশ হয়েই কাজ করতে হবে।”

মানুষই দেশের মালিক, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে

খসরু বলেন, “সমস্যার সমাধান কোনো কমিশন বা ঢাকায় বসা ‘বিজ্ঞ ব্যক্তি’ দিতে পারবে না। দেশের মালিক হলো জনগণ, তারাই নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “কমিশনে গিয়ে মতামত দেওয়া জরুরি, তবে সব বিষয়ে ১০০% ঐকমত্য সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এর মধ্য দিয়েই চলতে হবে।”

গণতন্ত্রের সঙ্গে অর্থনীতিরও রূপান্তরের দাবি

বিএনপির এই নেতা বলেন, “শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও গণতন্ত্রায়ন প্রয়োজন। রাজনীতি গণতান্ত্রিক হলেও অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা যদি অনুগত ও বৈষম্যমূলক হয়, তবে তা টেকসই গণতন্ত্র হতে পারে না।”

সভায় অন্যান্য বক্তাদের উদ্বেগ ও মন্তব্য

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চরম দক্ষিণপন্থীদের উত্থান হয়েছে। গত ১৫ বছরে বাম প্রগতিশীলদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি ছিল।”

তিনি বলেন, “নির্বাচন যদি অনিশ্চিত থাকে বা স্থগিত রাখা হয়, তাহলে দেশ নৈরাজ্যের দিকে যেতে পারে।”

গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তারা প্রতিনিয়ত হতাশ করছে। সরকার যেন কানামাছি খেলছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “এখন আবার ‘কিংস পার্টি’ তৈরি করে জাতির সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, আমরা এটা চাই না।”

বাংলাদেশ মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না

সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, “লন্ডনের বৈঠকের পর কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল, কিন্তু নতুন রাজনৈতিক দলগুলো এখন নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলাদেশকে মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।”

সভায় অংশ নেওয়া নেতারা

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, বাসদের রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।




মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে প্রশ্ন তুললেন তারেক রহমান: “খুনিকে কেন ধরা হচ্ছে না?”

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সংঘটিত ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি খুন করেছে, তাকে এখনো কেন গ্রেফতার করা হয়নি?”

শনিবার (১২ জুলাই) ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে গুলশানের হোটেল লেকশোরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নিহতের সঙ্গে হয়তো যুবদলের যোগসূত্র ছিল, তবে হত্যাকারীকে অন্য জায়গা থেকে আনা হয়েছিল বলে তথ্য পেয়েছেন তারা। কিন্তু তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি এবং এখনও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে কখনোই বলা হয়নি অমুককে ধরা যাবে না। বরং আমরা সব সময় বলে এসেছি, অন্যায় করলে যে-ই করুক, আইনের আওতায় তার বিচার হতেই হবে। কিন্তু প্রশাসন কেন খুনিকে ধরছে না? তাদের কী ভয় আছে?”

“আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তো বিএনপি চালায় না”—সরকারের সমালোচনা

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তো বিএনপি নিয়ন্ত্রণ করে না। সরকারের অধীনেই তারা কাজ করে। তাহলে কেন সরকার খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না? তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ব্যর্থতায় প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জুলাই সনদ জমা দেওয়ার দাবি

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বিএনপি তিন মাস আগেই ‘জুলাই সনদ’ সংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাব পেশ করেছে। তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নেই, কিন্তু আমাদের মতামত চাওয়া হয়েছিল, আমরা স্পষ্টভাবে তা লিখিতভাবে জমা দিয়েছি।”

ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত, স্বৈরাচারের ভূতের উপস্থিতি

তিনি বলেন, “আজও ষড়যন্ত্র চলছে এবং নতুন করে শুরু হচ্ছে।” প্রশাসনের ভেতর এখনো ‘স্বৈরাচারের ভূত’ লুকিয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “যদি আমরা সচেতন না হই, এই দেশ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”

বিচারের প্রতিশ্রুতি ও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের আহ্বান

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। এটি বিএনপির নৈতিক প্রতিশ্রুতি।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ কারো একার দেশ নয়। এটি ২০ কোটি মানুষের। তাই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে চিন্তা করতে হবে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে।”

স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিভিন্ন দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, তখন অনেক রাজনৈতিক দল বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিল।”

তিনি অভিযোগ করেন, “আজও দেখা যায় কিছু দল বাংলাদেশে বসে অন্য দেশের গান গায়। কিন্তু বিএনপি সর্বদা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করে।”

ক্ষমতায় গেলে ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ১৪২ জনের পরিবার সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং তাদের কষ্ট, স্মৃতি ও বিচার চাওয়ার কথা তুলে ধরেন।




তারেক রহমান: ‘হত্যা-নৈরাজ্যে সরকার মদদ দিচ্ছে, মব সৃষ্টি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চায়’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশের সাম্প্রতিক সময়ের হত্যা ও নৈরাজ্যকারীদের সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা ‘মব’ তৈরি করছে, তাদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না?

শনিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের লেক শোর গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত ছাত্রদলের এক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি। ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে’ ছাত্রদলের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন।

পুরান ঢাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “ফুটেজে যাকে হত্যাকারী হিসেবে দেখা গেছে, তাকে কেন এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি? আমরা কী ধরে নেব, সরকার বিভিন্নভাবে মব সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায়?”

তিনি বলেন, “ধীরে ধীরে দেশে অদৃশ্য এক শক্তির উপস্থিতি দৃশ্যমান হচ্ছে। যারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, বিএনপি তাদের কোনো প্রশ্রয় দেবে না। এই অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

সব ধরনের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আমাদের পক্ষ থেকে কখনোই বলা হয়নি অমুককে ধরা যাবে না বা তমুককে ধরা যাবে না। বরং আমরা বরাবরই বলেছি—আইনের দৃষ্টিতে অন্যায়কারীর বিচার হোক। সে দলের কেউ হলেও কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকার কেন এখনো অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে না?”

নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নতুন করে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন, সেই যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।”

বিএনপি সংলাপে আপসহীন—এমন প্রচারণা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “পত্রিকায় পড়ছি, বিএনপি সংস্কারের এই অংশটি মানছে না, সেটি মানছে না। অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, কিছু দল সব কিছু মেনে নিচ্ছে। তাহলে আলোচনার দরকার কী? সরকার সরাসরি বলে দিলেই হতো যে, কী কী মানতে হবে। আলোচনা ডাকা হয়েছে, অথচ সেই আলোচনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে কিছু ব্যক্তি এবং মিডিয়ার একটি অংশ।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি আলোচনায় এসেছে যৌক্তিক কারণে। সমঝোতার কথা বললেই সবকিছু মেনে নেওয়ার মানে হয় না।”




ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ: অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বিশেষ দল নয় — রেজাউল করিম

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর। শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের নেতারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে মগবাজারে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “আমরা কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নই; আমরা অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে।”

তিনি আরও বলেন, “যারা নিজেদের কর্মীদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ, তাদের দেশের জনগণ কখনো গ্রহণ করবে না। বরং আসন্ন নির্বাচনে তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।”

ড. রেজাউল দাবি করেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘ ১৫ বছর জনগণের ওপর জুলুম চালিয়ে ক্ষমতায় ছিল। তবে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তাদের লজ্জাজনক বিদায় হয়েছে। এখন যারা ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে, তারা যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেয়, তাহলে তারাও টিকতে পারবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, “২৮ অক্টোবর রাজপথে দিবালোকে মানুষ হত্যা করে যেভাবে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, তেমনই বর্বরতা আজও চলছে। তখন ছিল হেলমেট বাহিনী, এখন এসেছে পাথর বাহিনী। মিটফোর্ডে একজন ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে হত্যা করায় এই বর্বরতার প্রমাণ মিলেছে।”

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর উত্তর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, ইয়াছিন আরাফাত, হেদায়েত উল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি প্রমুখ।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। ভয় পেলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। আমরা চাই একটি নতুন গণবান্ধব প্রশাসন, যারা খুনি, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে।”

শেষে তিনি দলমত নির্বিশেষে সব মানুষকে “বিপ্লবীদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ” গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।




জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আরও এক নেতার সেচ্ছায় পদত্যাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) আহ্বায়ক কমিটির আরেক সদস্য পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে আহ্বায়ক সদস্য রাকিবুল হাসান রানা তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এর আগে একই কমিটির আরেক আহ্বায়ক সদস্য পারভেজ রানা প্রান্ত পদত্যাগ করেছিলেন।

নিজের পোস্টে রাকিবুল হাসান রানা লেখেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্র রাজনীতিতে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তা চোখে পড়েনি। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি চরমভাবে আশাহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।’

রানা জানান, ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাকালে তিনি ভাইদের কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছেন। তবে দায়িত্ব পালনে নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে ছাত্রদলের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের মতো স্বর্ণযুগ ফিরে আসুক, এটাই আমার প্রত্যাশা।’

সবশেষে তিনি বিদায় জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ হাফেজ।’




“ছাত্ররা ঘরে ফিরে যায়নি, জুলাই শেষ হয়নি”— হাসনাত আবদুল্লাহর হুশিয়ারি

ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও পাথর ছুড়ে হত্যা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন বিভিন্ন মহল।

এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ একটি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ছাত্ররা ঘরে ফিরে যায়নি। জুলাই শেষ হয়নি।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি চলমান ছাত্র আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনের ব্যস্ত সড়কে ভাঙরি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯)-কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

ঘটনার পর যুবদল সংশ্লিষ্ট দুই নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।




ব্যবসায়ী হত্যায় জড়িত দুই নেতাকে যুবদল থেকে আজীবন বহিষ্কার

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে ভাঙরি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগকে (৩৯) নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পাথর ছুড়ে হত্যার ঘটনায় দুই নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল।

শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন—যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকি। তারা এই হত্যাকাণ্ডে নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলার আসামি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলেও জানানো হয়।

যুবদলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। একইসঙ্গে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ঘটনায় কোনো শৈথিল্য না দেখিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে যুবদল।




“বিএনপিও কি লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়?” — প্রশ্ন শিবির নেতার

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম বিএনপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাদিক কায়েম লিখেছেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার মাধ্যমে মানুষ হত্যা করে এবং লাশের ওপর নৃত্য করে ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ। বিএনপিও কি এখন সেই একই পথে—‘লাশতন্ত্র’-এর ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে?”

তিনি বলেন, “গোটা জাতি আরেকটি ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করল। শুধুমাত্র চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে—এটি মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। এর মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসী চরম আতঙ্কে নিমজ্জিত।”

সাদিক কায়েম আরও বলেন, “রাজনীতির এই পথচলায় আমাদের জন্য পথ খুলে দিয়েছেন জুলাইয়ের সহস্রাধিক শহীদ। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আবু সাঈদ, ওয়াসীম, মুগ্ধ, শান্ত, আলী রায়হানদের আত্মা কি কেঁপে উঠবে না?”

মিটফোর্ডের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। এরই মধ্যে বিএনপির ভূমিকা ও যুবদল নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিবিরের শীর্ষ এই নেতা।




মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জ্ঞাপন করলেন মির্জা ফখরুল

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পাথর মেরে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই নৃশংস ঘটনাটিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের প্রতি চরম আঘাত হিসেবে অভিহিত করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই পৈশাচিক ঘটনা কেবল একটি জীবনহানিই নয়— এটি নাগরিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চরম ব্যর্থতার প্রতিফলন। আমাদের দলের নীতি, আদর্শ ও রাজনীতির সঙ্গে সন্ত্রাস এবং বর্বরতার কোনো সম্পর্ক নেই। অপরাধী যেই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের মাধ্যমে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পরেও দেশে এমন একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড জাতির বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও বিস্তার লাভ করবে, যা সমাজকে গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে।”

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কর্মকাণ্ড করার সাহস না পায়।”

মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে সোহাগ হত্যার ভিডিও। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোরও কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে।