নারায়ণগঞ্জে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন: মেঝেতে উপদেষ্টা, চেয়ারে শহীদ পরিবার—শ্রদ্ধার ব্যতিক্রমী নজির

নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’-এর উদ্বোধন। তবে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল—মঞ্চে শহীদদের মা-বাবা ও স্বজনেরা বসেছিলেন চেয়ারে, আর মেঝেতে বসেছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এই অনন্য উদ্যোগ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মাঝে দাগ কেটে যায়।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নগরীর হাজীগঞ্জ এলাকায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে নানা আয়োজনের পাশাপাশি ছিল বক্তব্যপর্ব। বক্তব্যে বিভিন্ন উপদেষ্টা ও বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিচার হবে এই সরকারের আমলেই: আসিফ নজরুল

স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পূর্ণ গতিতে চলছে। এই সরকারের শাসনামলেই সেই বিচার সম্পন্ন হবে—এ বিষয়ে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।”

শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের চোখের সামনে আপনাদের ভাইদের চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে, অঙ্গহানি করা হয়েছে। এই নির্মম, জঘন্য গণহত্যার বিচার হবেই।”

ফ্যাসিবাদবিরোধী জাদুঘর করার উদ্যোগ: আদিলুর রহমান খান

শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণভবনকে একটি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগেই এটির উদ্বোধন করা হবে। এটা স্বৈরাচারের ঠিকানা ছিল—এখন আমরা সেটিকে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে রূপান্তর করতে চাই।”

তিনি আরও জানান, শহীদদের কবরগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “সংগ্রামের ধারা আমরা শেষ করতে পারব না, সেটা আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি,”—বলেন তিনি।

“৫৬ জন শহীদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের”: রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের ছাত্র-জনতা এ দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। ৫৬ জন শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই অর্জন পেয়েছি, যার ২১ জনই ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সন্তান।”

তিনি বলেন, “এই আত্মত্যাগ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। জুলাই যেন কখনো ভুলে না যাই।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।




তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্লীল বক্তব্যে ফখরুলের তীব্র প্রতিবাদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। যারা তারেক রহমানের সমালোচনা করছে, তারা দেশের এবং দেশের জনগণের শত্রু বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা আজকে তারেক রহমান সাহেবের বিরুদ্ধে বলে তারা গণতন্ত্রের শত্রু। যারা দেশের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই দেশের মানুষের বিরুদ্ধাচরণ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে র‌্যালি করছি এবং জানিয়ে দিতে চাই—গণতন্ত্রের প্রশ্নে কোনো আপোষ নেই। আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি সেইসব তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের যারা তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেছে।”

তবে প্রতিপক্ষের প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আমরা তাদের মতো হবো না। আমাদের নেতাকে গালমন্দ করলে তার সম্মান নষ্ট হয় না, বরং ছোট হয় তারাই যারা এমন ভাষা ব্যবহার করে।”

মির্জা ফখরুল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “১৫ বছর ধরে আমরা নির্যাতনের শিকার হয়েছি, নিপীড়িত হয়েছি। কিন্তু আমাদের ঐক্য ভাঙেনি। সেই ঐক্য নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাবো। সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলকে আমি আহ্বান জানাচ্ছি—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা সবাই একত্রিত হই।”

এ সময় মিটফোর্ড এলাকায় সম্প্রতি প্রকাশ্যে যুবক লালচাঁদ সোহাগকে হত্যার ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে। দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

বিক্ষোভ মিছিলটি ফকিরেরপুল থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলের নাইটেঙ্গল মোড়, বিজয়নগর হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। এতে মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।




‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবেই’—নারায়ণগঞ্জে ড. আসিফ নজরুল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিচার দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং এ বিচার বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ এলাকায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন শেষে এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সরকারের শাসনামলেই জুলাই গণহত্যার বিচার হবে। এতে কোনো গাফিলতি থাকবে না।”

শহীদ পরিবারের উদ্দেশে ড. নজরুল বলেন, “আপনাদের অন্তরে যে আর্তনাদ—ভাইদের চোখ উপড়ে ফেলা, অঙ্গহানি, নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার কোথায়—আমি আপনাদের জানাতে চাই, এই হত্যার বিচার হবেই।”

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, “গত বছরের জুলাইয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মাত্র দুই সপ্তাহেই জনগণের আন্দোলনে ভেঙে পড়ে।”

আইজিপিসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, “নারায়ণগঞ্জের মামলাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে আমি খোঁজ নিয়েছি। এসপি সাহেব জানিয়েছেন, চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ৫ আগস্টের আগেই অনেক মামলার চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে। প্রয়োজনে দ্রুত বিচার আইনে এসব মামলার বিচার করা হবে।”

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “আমরা এক সময় পরিবারের মতো ঐক্যবদ্ধ ছিলাম—দুঃখ, ক্ষোভ, সাহস ও আত্মত্যাগে। সেই ঐক্য থেকেই আমরা একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের মতো ঐক্য থাকলে চাঁদাবাজ ও বিশৃঙ্খল শক্তিকে প্রতিহত করা সম্ভব। সরকার যেমন দায় নেবে, তেমনি জনগণকেও স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসন এতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”




এদেশে ভারত-পাকিস্তানপন্থি নয় বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি হতে হবে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে ভারত কিংবা পাকিস্তানপন্থি কোনো রাজনীতি চলবে না। বাংলাদেশপন্থাই হবে একমাত্র রাজনীতির পথ। তিনি বলেন, “এক সময় পাকিস্তানপন্থিদের পুনর্বাসন করা হয়েছিল, এখন আবার মুজিববাদ ও চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন চলছে। তবে বাংলাদেশে মুজিববাদ ও চাঁদাবাজদের রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না।”

সোমবার (১৪ জুলাই) বরগুনা সদর রোডে প্রেসক্লাব-সংলগ্ন এলাকায় ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরাই সেই তরুণ যারা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিলাম। বিগত ১৬ বছর ধরে দেশে এক ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল, যারা গুম, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সব অপকর্ম করেছে। সেই স্বৈরাচারী সরকার থেকে দেশকে মুক্ত করতে ছাত্র-তরুণরা রাজপথে নেমেছিল।”

তিনি অভিযোগ করেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজরা আবারও ক্ষমতা দখল করেছে। আমরা যে ব্যবস্থার পতন চেয়েছিলাম, সেই ব্যবস্থাকেই আবার টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।”

গণতন্ত্র ও সুশাসনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কার চাই, গণহত্যার বিচার চাই, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার আওতায় আনতে চাই। বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার ফিরে আসবে না।”

সোহাগ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বরগুনার সন্তান সোহাগকে ঢাকায় নির্মমভাবে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার পেছনে রয়েছে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা ও একটি দলের চাঁদাবাজদের প্রশ্রয়। দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে হবে।”

বরগুনার অবহেলিত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বরগুনাবাসী দুর্যোগ, নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে প্রতিনিয়ত টিকে থাকছে। কিন্তু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে বরগুনায় তেমন কিছুই হয়নি। লবণাক্ততা কৃষিকে ধ্বংস করছে, সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বঙ্গোপসাগর আমাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জায়গা। বরগুনাকে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উপকূল সুরক্ষা, নদী রক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে এনসিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

পথসভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনীম জারা, দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।




সংরক্ষিত নারী আসন দ্বিগুণ ও বিদ্যমান পদ্ধতিতে ভোট চায় বিএনপি: সালাহউদ্দিন

সংরক্ষিত নারী আসন দ্বিগুণ করে ১০০টি করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে দলটি সংবিধানে বিদ্যমান পদ্ধতিতেই এসব আসনে ভোটের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছি। তবে আমরা চাই এসব আসনে নির্বাচন হোক বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী বিদ্যমান পদ্ধতিতে।”

বিএনপি নেতা জানান, সরাসরি নারী আসনের জন্য নতুন করে ১০০টি আসন নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে রোটেশন পদ্ধতি ও আসনের সীমারেখা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা এখনও দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখতে পারিনি। আমাদের সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে নারীরা সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিতে দ্বিধা বোধ করেন। তাই ধাপে ধাপে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চাই।”

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে বিএনপি তাদের পূর্বঘোষিত ৩১ দফা প্রস্তাবের উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি, যাতে সমাজের মেধাবী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারেন।”

তবে ৬৪ জেলা ও ১২ সিটি করপোরেশন থেকে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবকে ‘জেলা পরিষদ বা প্রাদেশিক ব্যবস্থার মতো’ উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, “বাংলাদেশ একটি ইউনিটারি সরকার কাঠামো অনুসরণ করে। তাই এ ধরনের নির্বাচন সঠিক নয়।”

বৈঠকে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আংশিক ঐকমত্য থাকলেও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিন বাম দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ আনা হয়। তবে বিএনপি এ অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় বলে জানান সালাহউদ্দিন।




শেয়ারবাজার পুনর্গঠনে ‘দুষ্টচক্র’ ভাঙার আহ্বান আমীর খসরুর

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে সক্রিয় ও বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে ‘দুষ্টচক্র’ থেকে বের হয়ে ‘ভালোচক্রে’ প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত একটি কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, “আমাদের পুঁজিবাজার একটি দুষ্টচক্রে পরিণত হয়েছে। এটিকে সদাচার ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে একটি সুস্থ ধারায় আনতে হবে। তবেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান বাজার কাঠামো অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত ও সীমাবদ্ধ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে একটি পেশাদার ও স্বচ্ছ সংস্থায় রূপান্তর করার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ জনবল দিয়ে সংস্থাটি পরিচালনার ওপর জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, “ভালো মানের কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং দুর্বল ও অপ্রয়োজনীয় কোম্পানিগুলোকে বাজার থেকে সরিয়ে দিতে হবে। তবেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাবেন।”

বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

পুঁজিবাজারকে সরকারের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্যাপিটাল সোর্সিং’ মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করে আমীর খসরু বলেন, “শুধু বেসরকারি খাত নয়, সরকারও এই বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে উন্নয়ন ব্যয় পরিচালনা করতে পারে। তবে সঠিক ধারণা ও কাঠামো ছাড়া তা সম্ভব নয়।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান, ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান, ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের সভাপতি গোলাম সামদানী ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা।




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১২ জুলাই

রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা, টিয়ার গ্যাস শেল ও গুলি ছোড়ার প্রতিবাদ জানান তাঁরা। প্রায় এক ঘণ্টা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান শেষে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে কর্মসূচি শেষ হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার।

আবু বাকের মজুমদার জানান, শনিবার সারাদেশে অনলাইন ও অফলাইনে প্রতিনিধি বৈঠক হবে এবং সন্ধ্যা ৬টায় সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।

আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশ আগেই শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে মানব প্রাচীর গঠন করে। এদিন আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা না করলেও পুলিশের সামনে গিয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীরা জানান, বাধা যতই আসুক, সংসদে আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের দাবি ছিল, ‘শিক্ষার্থীরা হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন’। এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা রাজনীতি করছি না। চাকরি ছাড়া গতি নেই। চাকরি করেই জীবন চালাতে হবে। যারা কখনোই চাকরি করবেন না, তারা যখন হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানায়, সেটি আমরা সন্দেহের চোখে দেখি। আমরা কোনো নেতা খুশি করতে চাই না, আমরা একটি চাকরির নিশ্চয়তা চাই।”

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

কিছু স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল করেছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সংখ্যালঘু জাতিসত্তার ৫% কোটা পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্ম শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘ঢাকাস্থ জুম্ম শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের নীরব ভূমিকার অভিযোগ তুলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের পদত্যাগ এবং হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে কোটা আন্দোলনকারীদের মিছিলে বাধা দেওয়ার ভিডিও করার কারণে এক সাংবাদিককে দুই ঘণ্টা ধরে আটকে রেখে মারধর করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।

১২ জুলাই বিকেলে রাজশাহীর একাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে অবরোধ তুলে নিলে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

চট্টগ্রাম নগরীতে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে লংমার্চ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও চকবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে দু’আ করেন।

মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে ছাত্রলীগের বাধার অভিযোগ ওঠে। মানববন্ধনের প্রস্তুতির সময় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সিফাত কোরাইশী ও নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন ছিনিয়ে নেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন না করেই চলে যান।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল করেছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানায়।

জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “বিচার বিভাগের পর্যবেক্ষণগুলো কার্যকর করার জন্য নির্বাহী বিভাগ কাজ করছে।”

অপরদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক অনুষ্ঠানে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবীকে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল, তারা এ ষড়যন্ত্রে জড়িত নয়—এ কথা তিনি অস্বীকার করতে পারেন না।

ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, কোটা আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাঠের পুলিশের ও ছাত্রলীগের আচরণ এবং তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমাতে সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে।




চাঁদাবাজি এখন ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি: মামুনুল হক

চাঁদাবাজি সংস্কৃতিকে ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি বাজার, দোকান, পরিবহন ও নির্মাণ খাতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের চাঁদাবাজি এখন এক ভয়াবহ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ইমাম-খতিব ও আলেম সমাজও এ দস্যুবৃত্তির শিকার হচ্ছেন।

শনিবার (১২ জুলাই) দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে সোহাগ হত্যাকাণ্ড এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ব্যবসায়ী সোহাগকে শত শত মানুষের সামনে পাথর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, “এটি শুধুই ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং বিচারহীনতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার করুণ পরিণতি। এটি জাতির জন্য চরম লজ্জাজনক।”

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিম্নকক্ষে আংশিক ও উচ্চকক্ষে পূর্ণ প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের পরিচালনায় নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের জান-মাল রক্ষায় ব্যর্থ। প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত অংশের পৃষ্ঠপোষকতায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

নেতারা জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন গ্লোবাল এজেন্ডার বাহক হয়ে উঠেছেন। তার উপদেষ্টাদের অনেকেই ইসলামী শরিয়াহ, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা হেলালুদ্দীন আহমদ, মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা কুরবান আলী কাসেমীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




জিয়াউর রহমানের আদর্শ দল থেকে হারিয়ে গেছে: হেফাজতের কড়া সমালোচনা বিএনপিকে

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে, সংগঠনটি বিএনপিকে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

শনিবার হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, “বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর লাগাম টেনে না ধরলে চাঁদাবাজি ও খুনোখুনি রাজনীতি বন্ধ হবে না। জিয়াউর রহমানের যে আদর্শ ও নীতিবোধ, তা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে অনুপস্থিত।”

নেতারা আরো বলেন, “চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এখন ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারকেও পুলিশ বাহিনীতে মৌলিক সংস্কার আনতে হবে। ফ্যাসিবাদী ও দুর্নীতিবাজ সদস্যদের বরখাস্ত করে পুলিশের মধ্যে নতুন নিয়োগ দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় সরকার এড়াতে পারে না।”

তারা বলেন, “সরকার ও প্রশাসন যেখানে ব্যর্থ, সেখানে দেশপ্রেমিক জনগণ এবং ‘জুলাই বিপ্লবের’ ছাত্র-জনতা আবারও রুখে দাঁড়াবে। গত বছরের জুলাই মাসে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে দেশ। সেই বিপ্লব নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে এসেছে। সেই নতুন প্রজন্মকে অবজ্ঞা করা হলে পরিণাম ভালো হবে না।”

মঙ্গলবার রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগ (৩৯) নামের ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হত্যার আগে তাকে পিটিয়ে, ইট-পাথর ছুড়ে ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এক পর্যায়ে তাকে বিবস্ত্রও করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়।

ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাধিক নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল হত্যায় জড়িতদের বহিষ্কার করেছে।

হেফাজতের বিবৃতিতে বলা হয়, “যারা চাঁদাবাজি ও হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়, তারা জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতি অবিচার করছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে নতুন প্রজন্ম আবারও রাজপথে নামবে।”

বিবৃতিতে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষায় সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।




মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তের দাবি মির্জা ফখরুলের

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে গুলশানের হোটেল লেকশোরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে এক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

“অপরাধীদের আড়াল করলে জাতি ক্ষমা করবে না” — ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অতিদ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করুন এবং আইনের আওতায় আনুন। অন্যথায় জাতি ক্ষমা করবে না। তারা মনে রাখবে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সময় আপনি এসব সমস্যার জন্ম দিয়েছেন।”

“বিএনপি কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি”

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, “বিএনপি কখনো অন্যায়কে সমর্থন করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ের পক্ষে ছিল এবং থাকবে।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। কেউ যেন উত্তেজনায় বা প্রতিশোধে অন্যায় না করে।”

“গণতন্ত্র না থাকায় দেশে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে”

বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “নির্বাচন না থাকায় দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা, অপরাধ ও মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। দুবৃর্ত্তরা সুযোগ নিচ্ছে কারণ তাদের পেছনে জনগণের সমর্থন নেই।”

তিনি মনে করেন, একটি নির্বাচিত সরকারই পারে আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করতে পারব।”

তিনি আরও জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে’ শহীদ হওয়া ছাত্রদল নেতাকর্মীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হবে। শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে একটি পুস্তক প্রকাশের আহ্বানও জানান তিনি।

শহীদদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে শহীদ ও আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থারও দাবি জানান।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা।