চরমোনাইকে টার্গেট করে বিএনপির বক্তব্য দুঃখজনক: ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) অভিযোগ করেছেন, বিএনপির মঞ্চ থেকে চরমোনাইকে উদ্দেশ্য করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অশোভন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসা বিএনপির মতো একটি দলের জন্য মানানসই নয়।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “১৪ জুলাই আমাদের সিনিয়র নায়েবে আমির একটি সতর্কতামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু সেটিকে খণ্ডিতভাবে প্রচার করে আধ্যাত্মিক ধারার অনুসারীদের বিরুদ্ধে রাজপথে অশালীন ও নোংরা স্লোগান দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মঞ্চ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের বার্তা দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। গত ১৫ বছরের পতিত ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত ছায়া এখনো সমাজ ও রাষ্ট্রকে অনিরাপদ করে রেখেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে শালীনতা ও সহনশীলতা না থাকলে সেই ফ্যাসিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।”
চরমোনাই পীর আরও বলেন, “৫ আগস্টের ঘটনার পর সবাই রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা মেনে নিলেও বাস্তবে দলের চরিত্রে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক হানাহানি বেড়েছে। সম্প্রতি মিটফোর্ড হাসপাতালে একজন মানুষকে যেভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে, তা শুধু বর্বরতা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক বিবেকের চরম পরাজয়।”
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “যেসব অপরাধী বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আপনারা যদি জনগণের কাছ থেকে সহনশীল আচরণ আশা করেন, তবে দলীয় ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীদের আগে চিহ্নিত করে বের করতে হবে। দলের ভেতর থেকেই কিছু অপরাধীর বহিষ্কার প্রমাণ করে—তারা দলেরই অংশ ছিল।”
পীর সাহেব চরমোনাই ১৪ জুলাইয়ের ঘটনাকে দেশের রাজনীতির জন্য ‘সবচেয়ে কলঙ্কময় দিন’ বলে আখ্যায়িত করেন। তাঁর অভিযোগ, ওইদিন বিএনপির মঞ্চ থেকে ইসলামি ধারার অনুসারীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “গত ১০ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষের জীবন চরম অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদি এর পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি থেকে থাকে, তাহলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।”








