জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত রিকশা র্যালিতে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যখন রিকশাচালকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে স্যালুট করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই নারী উপদেষ্টা এবং শতাধিক নারী। রিকশাচালকদের এই অভ্যুত্থানে অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে এই অভিনব সম্মান প্রদর্শন করেন তারা।
সোমবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ প্লাজার দক্ষিণ পাশে মানিক মিয়া এভিনিউতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই রিকশা র্যালির সমাপনী অনুষ্ঠানে এ দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। র্যালিতে অংশ নেওয়া শতাধিক নারীও তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দাঁড়িয়ে রিকশাচালকদের স্যালুট জানান।
“জুলাই মানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো”: শারমীন এস মুরশিদ
উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “জুলাই মানে অত্যাচারের অবসান, জুলাই মানে মেয়েদের সম্মান আর মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো।” তিনি আরও বলেন, “ইতিহাস সবসময় নারীদের আড়াল করে রাখে। কিন্তু এবার নারীরাই হবে ইতিহাসের রচয়িতা।”
তিনি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। তোমরা ইতিহাস হয়ে থাকবে। রাষ্ট্র যদি তার দায়িত্ব পালন করত, তাহলে বারবার অভ্যুত্থান হতো না।”
“রিকশাচালকদের অবদান আমরা ভুলব না”: ফরিদা আখতার
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “রিকশাচালকদের অবদান আমরা কোনোদিন ভুলব না। তাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্থান পাবে। আমরা তাদের সম্মানে স্যালুট জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “যদি নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা যায়, তবে তা আমাদের ব্যর্থতা। যারা নারীদের ঘরে ফেরাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আবারও জুলাই ফিরে আসবে।”
নারী শহীদদের স্বীকৃতি ও বিচার দাবিতে আহ্বান
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১১ জন নারী শহীদের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, “সারা দেশের নারীদের আন্দোলনের অংশীদার করতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। নারীদের হ্যারাজমেন্টের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।”
শহীদ পরিবারগুলোর হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণ
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শহীদ নাঈমা সুলতানার মা। তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে টার্গেট করে স্নাইপার দিয়ে হত্যা করা হয়। আমি চাই না, আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক।”
শহীদ নাফিসার বাবা বলেন, “জুলাই-আগস্ট আমাদের জন্য কষ্টের মাস। নাফিসা ৫ আগস্ট শহীদ হয়েছিল। আমরা শহীদদের জন্য দোয়া চাই। এই দেশ যেন শান্তিপূর্ণ হয়—এটাই রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রার্থনা।”
অনুষ্ঠানটি ছিল রিকশাচালক, নারী আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক অনন্য সম্মেলন, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে।