১৬ জুলাই ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি পালন করবে এনসিপি: সারজিস

‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার (১৬ জুলাই) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) নিজের ফেসবুক পেজে সারজিস লেখেন, “১৬ জুলাই, মার্চ টু গোপালগঞ্জ!” একই পোস্টের একটি কমেন্টে তিনি জানান, “আমরা আসছি! জুলাই পদযাত্রায়, গোপালগঞ্জ জেলা শহরে, সকাল ১১টায়।”

এই কর্মসূচি জুলাই মাসজুড়ে চলমান এনসিপির দেশব্যাপী রাজনৈতিক প্রচারণার ধারাবাহিক অংশ। এর আগে বরগুনা, যশোর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পদযাত্রা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন সারজিসসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক সংস্কার, জনগণের অধিকার আদায় এবং দেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে গণজাগরণ সৃষ্টি করা।

এনসিপির নেতারা আশা করছেন, গোপালগঞ্জে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে এবং বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে। দলটি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছে।




“চীন সফর শেষে ঢাকায় জামায়াত নেতারা, বিমানবন্দরে চীনা রাষ্ট্রদূতের অভ্যর্থনা”

চীন সফর শেষে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ১১ জুলাই চীন সরকারের আমন্ত্রণে দেশটি সফরে যান।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে জামায়াত আমিরকে স্বাগত জানায় ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। চীনের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে দলটি জামায়াত নেতাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়।

বিমানবন্দরের বাইরে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তারা সফর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তখন প্রকাশ করেননি।

জামায়াতের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও এসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মো. সাহাবুদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

সফরের উদ্দেশ্য ও অর্জন বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জামায়াত শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দেবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।




“সোহরাওয়ার্দীতে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে রেকর্ড জনসমাগমের টার্গেট”

আগামী ১৯ জুলাই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা জাতীয় সমাবেশ। দলটির দাবি, এটি হতে যাচ্ছে তাদের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জনসমাগমের সমাবেশ, যেখানে ১০ লাখের বেশি নেতাকর্মী অংশ নেবেন। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সারাদেশ থেকে ১০ হাজার বাস রিজার্ভ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময়ব্যাপী বৈঠকে জামায়াত নেতারা সমাবেশ সফল করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন অ্যাডভোকেট জুবায়ের।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সাত দফা দাবির প্রেক্ষিতে ১৯ জুলাই যে সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে, সেটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফল করতে আমরা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। তারা আমাদের পরামর্শও দিয়েছেন।”

তিনি জানান, ঢাকা মহানগরে আগত গাড়ির চলাচল রুট, পার্কিং, মাঠে মাইক সেটআপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সমাবেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে জানিয়ে জুবায়ের বলেন, “আমরা ইতিহাসের সর্বোচ্চ জনসমাগম আশা করছি। সারাদেশ থেকে ১০ হাজার বাস আসবে, এর বাইরে ট্রেন ও লঞ্চেও নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসবেন।”

সম্ভাব্য নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো হুমকি নেই। তবে সতর্ক থাকছি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”

জামায়াতের পক্ষ থেকে সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সব সদস্যদের যোগাযোগ নম্বর ডিএমপিকে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দলটি আশা করছে, ঢাকায় যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সহ সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে এবং সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।




“জোর করে নয়, ছাত্রদলের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা আসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে: সভাপতি রাকিব”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের কোনো শিক্ষার্থীকে জোর করা হয় না। যারা অংশ নেন, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হন।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।

রাকিব বলেন, “গত ১৫ বছরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, দমন-পীড়ন, গেস্টরুম কালচার ও হল দখলের রাজনীতির বিপরীতে ছাত্রদল একটি নতুন ধারার, পরিবর্তনশীল ছাত্র রাজনীতির সূচনা করেছে। দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাত্রদলের মাধ্যমে ঘটেনি, তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “গেস্টরুম, শোডাউন ও দখলদার রাজনীতিকে ছাত্রদল বিদায় জানিয়েছে। বরং ছাত্রলীগের এই সংস্কৃতিগুলো বন্ধ করতে ছাত্রদল অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।”

সম্প্রতি মিটফোর্ড এলাকায় বিএনপির শীর্ষ নেতাকে ঘিরে ‘মব’ তৈরি ও কুৎসিত স্লোগানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাকিব বলেন, “মব তৈরি করে যদি দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে ছাত্রদল উপযুক্ত ভাষায় এর জবাব দেবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী ব্যানারধারীদের কাছ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।”

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির, ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দসহ ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্র মজলিস, ছাত্রফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাইম অ্যাকশন সোসাইটি, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।




“যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ ইস্যুতে জরুরি আলোচনার পরামর্শ বিএনপি নেতার”

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পণ্যে সম্পূরক শুল্ক কমাতে আলোচনাকে আরও জোরালো করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ ইস্যুতে গার্মেন্টস, ইন্ডাস্ট্রি, এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন বিষয় জড়িত রয়েছে। এসব নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ও সমন্বিতভাবে আলোচনায় অগ্রসর হতে হবে।”

তিনি জানান, বিভিন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া জরুরি। এই আলোচনার সফলতা দেশের অর্থনীতি, রপ্তানি ও লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার কয়েক দফা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং আরও এক দফা আলোচনা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে বলে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন।

বিএনপি নেতা আমীর খসরু বলেন, “আমাদের দেশের প্রায় আট বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে হয়, যার বড় অংশ গার্মেন্টস সেক্টর। এর সঙ্গে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। এটি শুধু ব্যবসার বিষয় নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এর ওপর।”

তিনি আরও বলেন, “এই সংকটের সমাধান এককভাবে সম্ভব নয়। সব পক্ষকে নিয়ে একটি সমন্বিত কৌশল নিতে হবে।”

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যেমন আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, এমসিসিআই সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান, বিজেএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, স্কয়ার ফার্মার এমডি তপন চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাজভীরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন।




শাহবাগ মোড়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ, রাজধানীতে তীব্র যানজট

সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সংগঠনটির কয়েক হাজার নেতা-কর্মী শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এসময় ধানমন্ডি, টিএসসি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও নিউমার্কেট এলাকায় যান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে। বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান।

মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতারা বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশকে অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ত ভূমিকা ও জনগণের নিরাপত্তার অভাব তুলে ধরে তারা বলেন, দেশের মানুষ খুন, গুম, চাঁদাবাজি ও গায়েবি মামলার শিকার হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে স্বেচ্ছাসেবক দল। সেখান থেকে বিকেল ৫টায় সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা কাকরাইল, শাহবাগ হয়ে টিএসসি অভিমুখে অগ্রসর হয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিলকারীরা শেষ পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন।




“সংলাপে সম্মত হলেও মৌলিক সংস্কারে বেঁকে বসছে বিএনপি: আখতার হোসেন”

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, চলমান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে মৌলিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হলেই বিএনপি ও কয়েকটি দল সেখানে বাধা সৃষ্টি করছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার ১৪তম দিনের বৈঠক শেষে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিএনপি একদিকে সংলাপে অংশ নিচ্ছে, অন্যদিকে মৌলিক সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোকে বাদ দেওয়ার জন্য পরিবেশ তৈরি করছে।

আখতার হোসেন জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮, ৫৬, ১৪২ এবং নতুনভাবে সংযোজনযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারা (৫৮(খ), ৫৮(গ), ৫৮(ঘ)) সংশোধনের জন্য গণভোটের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। সেইসঙ্গে উচ্চকক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতি চালুরও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এতে এক শতাংশ ভোট পেলেই কোনো দল উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে বলে জানান তিনি।

তবে বিএনপি এসব মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে বলে দাবি করেন আখতার। তিনি বলেন, “সংখ্যাতাত্ত্বিক আলোচনায় বিএনপি সব প্রস্তাব মানতে চায় না। তারা যেন বলছে, ব্যান্ডেজ মেনে নিই, কিন্তু হাড় জোড়া লাগানোর প্রয়োজন নেই।”

আখতার হোসেন আরও বলেন, এনসিপি মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না আসে, তবে রাস্তায় নেমেও আন্দোলন করা হবে।

মৌলিক সংস্কার বলতে এনসিপি কী বোঝায়— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ প্রক্রিয়া, উচ্চকক্ষের গঠন, এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহে নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করাই তাদের সংস্কার এজেন্ডার মূল বিষয়।

তিনি আরও জানান, এনসিপি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছে এবং পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সংশোধিত কাগজও দাখিল করা হবে।




শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট; বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নামে কোনো রাজনীতি থাকবে না : সালাহউদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নামে কোনো রাজনীতি থাকবে না। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালের শহীদদের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্যকে ভুলে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান চার বছরের মাথায় গণতন্ত্র বিলুপ্ত করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করেন। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাকে ‘ডাবল ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রত্যাবর্তন দেখতে চায় না জনগণ।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, যারা আন্দোলনকারীদের রক্তদানকে কলঙ্কিত করতে চায় এবং বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে, তারা ফ্যাসিবাদেরই পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে, তা ১৭ বছরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতার ফসল। তবে মাত্র ৩৬ দিনে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারকে সরানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি নিয়ে কাজ চলছে তবে অগ্রগতি ধীর। বিএনপি ইতিমধ্যেই খসড়া সনদ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে এবং সরকারের অনুরোধে রিফাইন্ড সংস্করণও প্রদান করেছে। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দিতে হবে।

আলোচনা সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের অপকর্মের বিচার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিষ্ক্রিয়। মিটফোর্ডে বিএনপির শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কুৎসিত স্লোগান দেওয়া এবং মব তৈরি করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্র মজলিস, ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।




বরগুনায় এনসিপির পথসভায় দুই জামাই এক মঞ্চে, উচ্ছ্বসিত জনতা

বরগুনায় ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় ভিন্নরকম উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয় ছাত্র-জনতা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মঞ্চে উঠলে উপস্থিত ছাত্র-জনতা তাকে উদ্দেশ করে স্লোগান দেন—“দুলাভাই দুলাভাই”। একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার আরেক জামাই, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিও।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বরগুনা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সদর রোডে আয়োজিত পথসভায় এই ঘটনা ঘটে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বার্তা

জুলাই আন্দোলনের পর সারজিস আলম বিয়ে করেন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল লুৎফর রহমানের মেয়ে রাইতা রহমানকে। অন্যদিকে, খান তালাত মাহমুদ রাফি বিয়ে করেন সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের স্কুলশিক্ষক মো. জাকির হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী মিতুকে। এ কারণে তাদেরকে একসঙ্গে দেখে বরগুনার ছাত্র-জনতা ব্যতিক্রমীভাবে ‘দুলাভাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

বরিশাল-বরগুনা সড়ক নিয়ে সমালোচনা

বক্তব্যের শুরুতেই সারজিস আলম বলেন, “বরিশাল থেকে বরগুনা আসার সড়কে মনে হয়েছে শতাধিক মরণফাঁদ আছে। বরগুনার মানুষকে এই ভোগান্তি থেকে মুক্ত করতে হবে।” তিনি বলেন, “আগামী বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করবে, তাদের এই মরণফাঁদ সরিয়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করতে হবে।”

উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তীব্র সমালোচনা

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কথিত উন্নয়ন নিয়েও সমালোচনা করে সারজিস বলেন, “হাসিনা বলেছিলেন দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। অথচ বরগুনার রাস্তাঘাট গর্ত আর পানিতে ডুবে আছে, হাসপাতালগুলো লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ডাক্তার নেই, কর্মচারীরা নবাব হয়ে উঠেছে। শুধু ডেঙ্গুতে এ বছর বরগুনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে।”

বরগুনার পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি

জুলাই অভ্যুত্থানকালীন সময়ের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, “বরগুনার পুলিশ ওসি তখন আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছেন। এসপি থেকে শুরু করে সবাইকে বলছি—আপনারা বরগুনার জনগণের পুলিশ হোন, কোনো দলের নয়। নইলে আগামী বাংলাদেশে আপনাদের জায়গা হবে না।”

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, যারা বরগুনার অবকাঠামো, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক অবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।




জুলাই আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিতে রিকশাচালকদের প্রতি শত নারীর সম্মান

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত রিকশা র‍্যালিতে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যখন রিকশাচালকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে স্যালুট করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই নারী উপদেষ্টা এবং শতাধিক নারী। রিকশাচালকদের এই অভ্যুত্থানে অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে এই অভিনব সম্মান প্রদর্শন করেন তারা।

সোমবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ প্লাজার দক্ষিণ পাশে মানিক মিয়া এভিনিউতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই রিকশা র‍্যালির সমাপনী অনুষ্ঠানে এ দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। র‍্যালিতে অংশ নেওয়া শতাধিক নারীও তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দাঁড়িয়ে রিকশাচালকদের স্যালুট জানান।

“জুলাই মানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো”: শারমীন এস মুরশিদ

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “জুলাই মানে অত্যাচারের অবসান, জুলাই মানে মেয়েদের সম্মান আর মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো।” তিনি আরও বলেন, “ইতিহাস সবসময় নারীদের আড়াল করে রাখে। কিন্তু এবার নারীরাই হবে ইতিহাসের রচয়িতা।”

তিনি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। তোমরা ইতিহাস হয়ে থাকবে। রাষ্ট্র যদি তার দায়িত্ব পালন করত, তাহলে বারবার অভ্যুত্থান হতো না।”

“রিকশাচালকদের অবদান আমরা ভুলব না”: ফরিদা আখতার

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “রিকশাচালকদের অবদান আমরা কোনোদিন ভুলব না। তাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্থান পাবে। আমরা তাদের সম্মানে স্যালুট জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “যদি নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা যায়, তবে তা আমাদের ব্যর্থতা। যারা নারীদের ঘরে ফেরাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আবারও জুলাই ফিরে আসবে।”

নারী শহীদদের স্বীকৃতি ও বিচার দাবিতে আহ্বান

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১১ জন নারী শহীদের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, “সারা দেশের নারীদের আন্দোলনের অংশীদার করতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। নারীদের হ্যারাজমেন্টের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।”

শহীদ পরিবারগুলোর হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণ

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শহীদ নাঈমা সুলতানার মা। তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে টার্গেট করে স্নাইপার দিয়ে হত্যা করা হয়। আমি চাই না, আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক।”

শহীদ নাফিসার বাবা বলেন, “জুলাই-আগস্ট আমাদের জন্য কষ্টের মাস। নাফিসা ৫ আগস্ট শহীদ হয়েছিল। আমরা শহীদদের জন্য দোয়া চাই। এই দেশ যেন শান্তিপূর্ণ হয়—এটাই রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রার্থনা।”

অনুষ্ঠানটি ছিল রিকশাচালক, নারী আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক অনন্য সম্মেলন, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে।