গোপালগঞ্জের ঘটনায় অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় জড়িত কেউই পার পাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “যারা অন্যায় করেছে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে, কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনা গোয়েন্দা সংস্থার নজরে ছিল কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, গোয়েন্দাদের কাছে কিছু তথ্য ছিল, তবে ঘটনার ব্যাপকতা এত বড় হবে, তা তারা ধারণা করতে পারেননি।

এনসিপির পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আপনারও মতামত থাকতে পারে। যার যেটা বলার আছে, সে সেটা বলবে।”

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “অপরাধীদের কাউকে ছাড়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




গোপালগঞ্জের মানুষকে মুজিববাদ থেকে মুক্ত করার ঘোষণা নাহিদ ইসলামের

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষকে মুজিববাদ থেকে মুক্ত করব।” বৃহস্পতিবার ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়ে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা-পরবর্তী এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “ফ্যাসিস্টরা গোপালগঞ্জকে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করেছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, গোপালগঞ্জের সাধারণ কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হন, তবে যারা সন্ত্রাসে জড়িত, তাদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, দেশের জনগণ গোপালগঞ্জ অভিমুখে পদযাত্রার জন্য প্রস্তুত ছিল। “আমরা অবশ্যই গোপালগঞ্জে যাব, এবং সেটা খুব শিগগিরই,” যোগ করেন তিনি।

আলোচনায় নাহিদ ইসলাম প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারপন্থী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আমরা শান্তিপূর্ণ পথ মেনে চললেও ফ্যাসিস্ট হামলা হলে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে লাঠি হাতে তুলব, যেমন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অস্ত্র হাতে নিতে প্রস্তুত ছিলাম।”

তিনি অভিযোগ করেন, “গতকাল দেশবাসী রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদীদের সন্ত্রাসী রূপ দেখেছে। আমরা এখনও শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ দিচ্ছি। তবে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আবারও গোপালগঞ্জে মার্চ করব। এবার ফিরে আসার জন্য নয়, বরং গোপালগঞ্জের জনগণকে মুক্ত করেই ফিরব।”

তিনি জানান, ৬৪ জেলায় পদযাত্রা সম্পন্ন করে আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ‘জুলাই সনদ’ ও ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।

পথসভা সঞ্চালনা করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।




“আমাদেরকে মেরে ফেলাই ওদের উদ্দেশ্য” — গোপালগঞ্জ হামলায় ক্ষোভ জানালেন আখতার হোসেন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি হামলাকারীদের বিচার দাবি করে বলেছেন, “আমাদেরকে মেরে ফেলাই ওদের উদ্দেশ্য।”

বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন লিখেছেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গাড়িতে হামলা চালায় সন্ত্রাসী লীগ বাহিনী। বাংলাদেশ বিরোধী লীগ এবং তাদের দোসরদের প্রতিহত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “ওদের বিচার করতে হবে।”

এর আগে বিকেলেও দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, “গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের জঙ্গিরা আমাদের ওপর হামলা করছে। গুলি ছুড়ছে, বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। সারা দেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে সড়ক অবরোধ করে হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়তে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে এনসিপি নেতাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

এই ঘটনায় ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপি বলছে, তারা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করছে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।




গোপালগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় এনসিপির মশাল মিছিল, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় মশাল মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে বাংলামোটর মোড় থেকে শুরু হয়ে কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারার সামনে গিয়ে শেষ হয় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রধান সমন্বয়কারী আকরাম হোসাইন। তিনি বলেন, “জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে গোপালগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশকে ঘিরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ বহুমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সারাদেশ থেকে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের গোপালগঞ্জে জড়ো করে তারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সমাবেশ শেষে গাড়িবহর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এনসিপির দুই কেন্দ্রীয় সংগঠক গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আকরাম হোসাইন বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের বিপ্লবীরা আবারও রাজপথে নামবে।”

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রধান সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, “আজকের হামলা মুজিবাবাদী চেতনার নগ্ন প্রকাশ। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ কীভাবে সশস্ত্র ক্যাডার দিয়ে এ হামলা চালালো, সেটিই বড় প্রশ্ন। অন্তর্বর্তী সরকার এ দায় এড়াতে পারে না।”

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এস এম শাহরিয়ার বলেন, “জুলাই গণহত্যার বিচার আজও শুরু হয়নি। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ইন্টেরিম সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তাও দিতে পারবে না।”

মশাল মিছিল শেষে আকরাম হোসাইন আগামীকাল (১৭ জুলাই) মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানার সামনে বিকেল ৪টায় প্রতিবাদী মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এনসিপি নেতারা বলেন, সন্ত্রাস ও হামলার বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।




গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারাদেশে জামায়াতের বিক্ষোভ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও মহানগরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (১৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা গোপালগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। গাড়িবহরে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং এমনকি পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও আক্রমণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এনসিপির বহু নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই সহিংসতায় যেভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শহরের বিভিন্ন স্থাপনা, তা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসের নজির।”

জামায়াতের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, দেশের জনগণকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের সব জেলা ও মহানগরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে, এবং সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এতে অংশগ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




সংঘর্ষের পর স্থবির গোপালগঞ্জ শহর, টহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

 জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ব্যাপক সংঘর্ষের পর শহরে নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা শহর।

রাত ৮টার পর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য। সাধারণ মানুষের চলাচল নেই বললেই চলে। তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল দিচ্ছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী।

সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শহর ও শহরতলীর বাসিন্দাদের মাঝে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেক পুরুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলেও জানা গেছে।

গোপালগঞ্জের এলাকার বাসিন্দা বলেন, “সারাদিন যা ঘটেছে, তাতে খুবই আতঙ্কে আছি। গোলাগুলি হয়েছে। কখন পুলিশ এসে আমাদের ধরে নিয়ে যায় কে জানে।”

এর আগে দুপুরে গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা শেষে মাদারীপুর ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ জেলায় ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করে প্রশাসন।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চারজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পুলিশ ও সাংবাদিকও রয়েছেন।

নিহতরা হলেন—উদয়ন রোডের দীপ্ত সাহা (২৫), কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮), টুঙ্গীপাড়ার সোহেল রানা (৩০) ও গোপালগঞ্জ সদরের ইমন (২৪)।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান “নিহতদের সংখ্যা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে চারজন নিহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। শহরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।”

বর্তমানে গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে আতঙ্ক, শূন্যতা ও অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




গোপালগঞ্জে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, গোপালগঞ্জ এখন ‘মুজিববাদী সন্ত্রাসীদের আস্তানায়’ পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এনসিপির সমাবেশে হামলা চালিয়েছে। এই হামলা ছিল জঙ্গি কায়দার এবং হত্যার উদ্দেশ্যেই সংঘটিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা পুলিশের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে গোপালগঞ্জে সমাবেশ করেছি। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। পরে তারা আমাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে বটে, তবে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে হতাহতের ঘটনা ঘটত না। আজ সাধারণ ছাত্র-জনতা, সাংবাদিকসহ অনেকেই এই হামলার শিকার হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই হামলার মধ্য দিয়ে দেশবাসীর কাছে মুজিববাদী সন্ত্রাসীদের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”

এনসিপির আহ্বায়ক জানান, গোপালগঞ্জের ঘটনার পর মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে পূর্বঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি চলবে এবং আগামীকাল (১৭ জুলাই) দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে এনসিপি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

এর আগে গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় খুলনায় পৌঁছান দলটির শীর্ষ নেতারা এবং সার্কিট হাউজে অবস্থান নেন।




ব্লকেড সরানোর আহ্বান নাহিদের, রাজপথে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের নির্দেশ

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সারাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিকেল থেকে ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তবে এই কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম।

বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার ফেসবুক পোস্টে নাহিদের আহ্বানটি তুলে ধরেন। সেখানে নাহিদ বলেন, ‘ব্লকেড সরিয়ে নিন। রাজপথের একপাশে অবস্থান করুন। লড়াই চলবে।’

এর আগে গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে ফেরার পথে দলটির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। হামলার ফলে গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

হামলা থেকে বাঁচতে এনসিপি নেতারা গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। এর আগের ঘটনার পরপরই দেশব্যাপী প্রতিবাদ জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন এনসিপি শীর্ষ নেতৃত্ব শান্তিপূর্ণ ও কৌশলগত অবস্থানের দিকেই গুরুত্ব দিতে দলের কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং রাজপথে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার আগ পর্যন্ত এনসিপির কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে রাজপথে অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।




গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের হামলায় রণক্ষেত্র, কারফিউ জারি

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে শহরের পৌরপার্ক এলাকায় এই সহিংসতার ফলে চারজন নিহত হয়েছেন এবং পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জ্বীবিতেশ বিশ্বাস জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়, যাদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশের সদস্য ও একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সকালে, যখন গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি বহরেও হামলার ঘটনা ঘটে। গোপালগঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন।

দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে শহরের পৌরপার্কে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মঞ্চে ভাঙচুর চালান এবং এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন। পরে পুলিশি সহায়তায় এনসিপির কর্মীরা নিরাপদে সরে যান। হামলার আধা ঘণ্টা পর পুলিশের নিরাপত্তায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ সম্পন্ন করেন। এতে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও আখতার হোসেন বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষ করে এনসিপির নেতারা মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে আবারও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশ পিছু হটে, আর এনসিপির নেতাকর্মীরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা মঞ্চসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়, ফলে শহরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকেলের দিকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারেও হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপালগঞ্জ জেলায় বুধবার রাত ৮টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

উল্লেখ্য, এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ শিরোনামে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।




চরমোনাইকে টার্গেট করে বিএনপির বক্তব্য দুঃখজনক: ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) অভিযোগ করেছেন, বিএনপির মঞ্চ থেকে চরমোনাইকে উদ্দেশ্য করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অশোভন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসা বিএনপির মতো একটি দলের জন্য মানানসই নয়।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “১৪ জুলাই আমাদের সিনিয়র নায়েবে আমির একটি সতর্কতামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু সেটিকে খণ্ডিতভাবে প্রচার করে আধ্যাত্মিক ধারার অনুসারীদের বিরুদ্ধে রাজপথে অশালীন ও নোংরা স্লোগান দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মঞ্চ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের বার্তা দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। গত ১৫ বছরের পতিত ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত ছায়া এখনো সমাজ ও রাষ্ট্রকে অনিরাপদ করে রেখেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে শালীনতা ও সহনশীলতা না থাকলে সেই ফ্যাসিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।”

চরমোনাই পীর আরও বলেন, “৫ আগস্টের ঘটনার পর সবাই রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা মেনে নিলেও বাস্তবে দলের চরিত্রে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক হানাহানি বেড়েছে। সম্প্রতি মিটফোর্ড হাসপাতালে একজন মানুষকে যেভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে, তা শুধু বর্বরতা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক বিবেকের চরম পরাজয়।”

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “যেসব অপরাধী বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আপনারা যদি জনগণের কাছ থেকে সহনশীল আচরণ আশা করেন, তবে দলীয় ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীদের আগে চিহ্নিত করে বের করতে হবে। দলের ভেতর থেকেই কিছু অপরাধীর বহিষ্কার প্রমাণ করে—তারা দলেরই অংশ ছিল।”

পীর সাহেব চরমোনাই ১৪ জুলাইয়ের ঘটনাকে দেশের রাজনীতির জন্য ‘সবচেয়ে কলঙ্কময় দিন’ বলে আখ্যায়িত করেন। তাঁর অভিযোগ, ওইদিন বিএনপির মঞ্চ থেকে ইসলামি ধারার অনুসারীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “গত ১০ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষের জীবন চরম অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদি এর পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি থেকে থাকে, তাহলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।”