গোপালগঞ্জে আবারও কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা আবার গোপালগঞ্জে যাব।” তিনি জানিয়েছেন, জীবিত থাকলে গোপালগঞ্জের প্রতিটি গ্রাম ও উপজেলায় কর্মসূচি পালন করবেন এবং সেখানকার ঘরে ঘরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পতাকা’ উড়ানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ লেখেন, “গোপালগঞ্জ নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। বাংলাদেশে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, গোপালগঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে, মুজিববাদী সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ যুগের পর যুগ ধরে গোপালগঞ্জের মানুষের জীবনকে বিপন্ন করেছে, মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বৈষম্য করেছে।

আক্রমণের অভিযোগ ও প্রশাসনের ভূমিকা
নাহিদ দাবি করেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়।” তিনি আরও বলেন, “গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের আসতে দেওয়া হয়নি, বিভিন্ন স্থানে বাস আটকে দেওয়া হয়। এরপরেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পথসভা শেষ করেছি।”

তিনি জানান, চারজন কর্মী নিহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন এবং কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তারা সমর্থন করেন না।

বিচারের দাবি ও হুঁশিয়ারি
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা জুলাই গণহত্যার বিচার চাই। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অনেককে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে বা পালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অবস্থান করছে।”

তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সারাদেশে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর দাবি জানান।

গোপালগঞ্জ পুনরুদ্ধারের প্রত্যয়
নাহিদ বলেন, “শহীদ বাবু মোল্লা ও রথীন বিশ্বাসের গোপালগঞ্জকে আমরা পুনরুদ্ধার করব। মকসুদপুর ও কোটালীপাড়ায় আমাদের শহীদদের কবর রয়েছে। সেই মাটি মুজিববাদীদের হতে দেব না।”

পোস্টের শেষাংশে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিবাদে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ফরিদপুরে পদযাত্রার ঘোষণা দেন।




এতো সংঘাতের পেছনে নির্বাচন পেছানোর গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে অভিযোগ রিজভীর

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভেতরে-ভেতরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কৃষক দলের আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, “ভোটকেন্দ্র আবারও ভোটারের পদধ্বনিতে মুখর হোক—এটাই বিএনপির লক্ষ্য। অথচ নির্বাচন পেছানোর গুঞ্জন এখন সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে। তাহলে নিশ্চয়ই ভেতরে-ভেতরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। জাতি এখন এই প্রশ্ন করছে।”

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক এবং যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, এর পরপরই সারা দেশে সংঘাত ও রক্তাক্ত পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। “আমার মনে হয়, কেউ কেউ সেই স্বস্তি চায় না।”

সমাবেশে রিজভী অভিযোগ করেন, “রাজধানীর মিটফোর্ডে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। জড়িতদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ এই ঘটনা ঘিরেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “দলের কোনো নেতাকর্মী অপরাধ করলে আমরা নিজেই পুলিশকে মামলা দিতে বলি। সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিই। অথচ শেখ হাসিনা সংসদে মাফিয়া গডফাদারদের পক্ষেই কথা বলেন।”

তারেক রহমানকে “নিপীড়িত-নির্যাতনের প্রতীক” উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, অথচ খুলনায় যুবককে গুলি করে পায়ের রগ কেটে ফেলা বা কক্সবাজারে বিএনপি কর্মী আব্দুর রহিমকে জামায়াত কর্তৃক হত্যার কোনো বিচার হচ্ছে না।”

সমাবেশে কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা সরকারের ওপর দোষ চাপিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রতিবাদ জানান।




জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি : থাকবে ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক, ১৫টি মেডিকেল বুথ

আগামী ১৯ জুলাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সমাবেশ সফল করতে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, “জাতীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে একটি প্রধান বাস্তবায়ন কমিটির অধীনে আটটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন এবং ভ্রাম্যমাণ মাইকের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগতদের যাতায়াত ও অবস্থানের সুবিধার্থে রাখা হয়েছে ১৫টি গাড়ি পার্কিং স্পট এবং ২০টি পয়েন্টে প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাকও নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাবেশস্থলে জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য থাকবে ১৫টি মেডিকেল বুথ, যেখানে প্রতিটিতে দুজন করে ডাক্তার, একাধিক বেড এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস থাকবে। সমাবেশের পুরো কার্যক্রম লাইভ সম্প্রচারের জন্য ড্রোন ক্যামেরা, এলইডি স্ক্রিন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহায়তা চেয়েছি। তারা ইতোমধ্যে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।”

তিনি শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।




গণতন্ত্র কিংবা এদেশের সব মহান অর্জন বিএনপির হাতেই হয়েছে : মির্জা ফখরুল

এদেশের যত মহান অর্জন, তার সবই বিএনপির হাত ধরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ঢাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজিত ‘জুলাই আন্দোলনের শহীদ স্মরণসভা’য় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা করেছিল আমাদের দলীয় প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান। তার হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল, সংবাদপত্র ফিরে পেয়েছিল স্বাধীনতা।”

তিনি বলেন, “আপনারা গর্ব করতে পারেন, এদেশে যা কিছু মহান তা বিএনপির সময়েই হয়েছে। বিএনপি মানেই গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও উন্নয়ন। আমরা উত্তেজিত হবো না, প্ররোচিত হবো না—তাদের ফাঁদে পা দেব না।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ছাত্রদলের ১৪২ জন শহীদ হলেও এখন পর্যন্ত তাদের একজনের নামও গেজেটেড হয়নি। অথচ বর্তমান সরকার শত শত মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, ৬০ লাখের বেশি মামলা দিয়েছে।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবেই। তবে আমাদের ধৈর্য ধরে এগোতে হবে।”

স্মরণসভায় বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, “গত ১৭ বছরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৭৬ জন নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন ১৪২ জন।”

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের গায়েবানা জানাজায় পুলিশ ও ছাত্রলীগের বাধা উপেক্ষা করে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। ওইদিন রংপুরের আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম শহীদ হন। আহতদের চিকিৎসায় ছাত্রদলের কর্মীরা রাতভর হাসপাতালে সহযোগিতা করেছেন।”

তিনি অভিযোগ করেন, “রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের কথা ছিল নির্দলীয় সরকারের চার উপদেষ্টার, কিন্তু তারা সময় দেননি। বরং এলাকার মানুষ জানিয়েছে, কেউই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি। এটা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার।”

স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ সিনিয়র নেতারা।




জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির বিশেষ কর্মসূচি

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে দেশব্যাপী দোয়া ও মৌন মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের আশু সুস্থতা কামনায় শুক্রবার (১৮ জুলাই) দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগরের মসজিদে-মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশে মৌন মিছিলও অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি জানান, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দোয়া মাহফিল ও মৌন মিছিলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানাবে, সেই সঙ্গে গণতন্ত্র ও ন্যায়ের সংগ্রামে আহতদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করবে।

এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




জুলাই যোদ্ধাদের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি: মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, “গণতন্ত্র ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে যারা লড়াই করেছেন, সেই জুলাই যোদ্ধাদের সম্মিলিত ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কেউ এককভাবে এই অর্জন এনে দিতে পারেনি।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইউএসটি) প্রফেসর ড. এম এইচ খান অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্দোলনে আহত ও অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমি আপনাদের স্যালুট জানাই। আপনাদের সাহসিকতার কারণেই আজকের এই দিন সম্ভব হয়েছে। গণতন্ত্র আমাদের কেউ উপহার দেয়নি, এটি আপনারা অর্জন করেছেন কণ্ঠস্বর ও আন্দোলনের মাধ্যমে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেও আন্দোলনের সময় ‘ক্ষুব্ধ নারী সমাজ’ প্ল্যাটফর্মের হয়ে রাজপথে ছিলাম। এই আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০১৮ সালের ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে, যা পরবর্তী সময়ে বড় রকমের ভূমিকা রেখেছে।”

দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা কোনো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে চাই না। নতুন প্রজন্মকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই হবে।”

তিনি জানান, “জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, তবে এই সময়ের মধ্যে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। এসব অর্জন রক্ষায় ছাত্র-জনতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান।

জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য দেন শিক্ষার্থীরা শাফি আহম্মেদ উল্লাহ, আরেফিন ফয়সাল আলভী, তৌহিদ হাসান রিমন এবং মোস্তাকিম বিল্লাহ শ্রেষ্ঠ।

পরে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্থিরচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।




“আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদের রাজনীতি দেখতে চায় না জনগণ”—ফরিদপুরে আখতার হোসেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদের রাজনীতি দেখতে চায় না।” তিনি আরও বলেন, “সুশীলতার মোড়কে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংক মোড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ পদযাত্রা উপলক্ষে এনসিপি সারাদেশের ৬৪টি জেলা সফর করছে।

ভারতের দালালি ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অভিযোগ

আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “ভারতের দোসররা এখনো চায় আওয়ামী লীগকে গোপনে ফিরিয়ে আনতে। তারা বলে আওয়ামী লীগ ছাড়া নাকি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়। অথচ সেই আওয়ামী লীগই ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাতের আঁধারে ভোট করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আর এই আওয়ামী লীগের কোনো স্থান নেই।”

গোপালগঞ্জে হামলার প্রসঙ্গ তুলে কঠোর প্রতিক্রিয়া

গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের ওপর জঙ্গিবাদের দীক্ষা নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু গোপালগঞ্জের মাটিতে মুজিববাদ মুর্দাবাদ স্লোগানকে তারা দমন করতে পারেনি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগ দেশে গুম, খুন ও নির্যাতনের রাজনীতি চালিয়েছে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি সত্যিকার অর্থে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষা করতে হয়, তবে দলীয়ভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগের সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।”

সুশীল সমাজকে হুঁশিয়ারি

সুশীল সমাজের কিছু অংশের ভূমিকাকে ইঙ্গিত করে আখতার হোসেন বলেন, “যারা সুশীলতার মোড়কে আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন, তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই—বাংলাদেশের মানুষ সেই ফ্যাসিবাদী মতাদর্শকে আর বরদাশত করবে না। এই দেশ সব দল ও মতের মানুষের জন্য।”

নেতাদের অংশগ্রহণ

পথসভায় আখতার হোসেন ছাড়াও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। স্লোগান পরিচালনায় ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

এই পদযাত্রা ও পথসভা ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।




আদর্শ ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু জুলাই সহযোদ্ধাদের সাথে আছি : শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, “ছাত্রশিবিরের আদর্শিক ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধাদের ওপর কোনো হুমকি এলে ছাত্রশিবির বসে থাকবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের মাঠে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকালের গোপালগঞ্জের ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ থেকে এখনো ফ্যাসিবাদ নির্মূল হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জাতিগতভাবে এখনো আদর্শ নির্ধারণে দ্বিধায় আছি। সংবিধানে গণতন্ত্র বললেও, সমাজতন্ত্রের কথাও বলি—যা একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

নবীনদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণা

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “পৃথিবীতে কোনো অর্জনই চূড়ান্ত নয়। প্রতিটি অর্জন আরও বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম আমরা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেই শুরু করেছি। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরাও যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা শেষ করতে পারে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের লক্ষ্যে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকেও এমন আয়োজনের আহ্বান জানাই।”

শিক্ষার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের সাহসিকতা অভূতপূর্ব। তবে সমাজ বদলাতে হলে শিক্ষার্থীদের রাজনীতি ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে।”

তিনি বলেন, “গঠন কঠিন, ভাঙা সহজ। সমাজ পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের আগে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।”

ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, “ছাত্ররাজনীতি মানেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি নয়। ছাত্রশিবির তার ব্যতিক্রম হিসেবে আদর্শের কথা বলছে।” তিনি গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “তাদের রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার নেই।”

শিবিরের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, “যেমন ১৯৭১ ছিল পাকিস্তানি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে, তেমনি জুলাই বিপ্লব ছিল ১৫ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। ২৪ সালের আন্দোলন বাদ দিয়ে বাংলাদেশ কল্পনা করা যায় না।”

শিক্ষার্থীদের অনুভূতি

অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের এক শিক্ষার্থী বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে শিবিরের ভালো কাজ দেখেছি। আজ তা চোখে দেখলাম। আশা করি, শিবির সামনে আরও ভালো আয়োজন করবে।”

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জয়নব হাসান বলেন, “আমি রাজনৈতিক নই, তবে সচেতন। এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য শিবিরকে ধন্যবাদ জানাই।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, জবি শিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




সালাহউদ্দিনের প্রশ্ন : “গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাচ্ছে কারা?”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন তুলেছেন—গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস কারা পাচ্ছে এবং কোথা থেকে পাচ্ছে? তিনি বলেন, “আমরা ডেমোক্রেসির জন্য আন্দোলন করেছিলাম, কিন্তু আজ সারাদেশে মবোক্রেসির রাজত্ব চলছে।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সরকারের নির্লিপ্ততা ও ব্যর্থতার অভিযোগ

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যারা গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে, তারা এই সাহস পাচ্ছে সরকারের নির্লিপ্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা থেকেই।” তিনি দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে নানা ইস্যু তৈরি করে বিএনপিকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সবসময় সহযোগিতামূলক আচরণ করেছি। কিন্তু এখন যেভাবে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিশ্রুত ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “লন্ডন বৈঠকের পর আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হলেও নির্বাচন কমিশনকে এখনও অফিসিয়ালি কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, “অতিসত্ত্বর সরকার নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত বার্তা দেবে এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেবে।”

নতুন রাজনৈতিক দল ও পরিকল্পিত ইস্যু তৈরির অভিযোগ

সালাহউদ্দিন বলেন, “নতুন একটি রাজনৈতিক দল আবেগ তাড়িত হয়ে অপরিকল্পিতভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করছে, যার ফলে ফ্যাসিবাদী শক্তি গণঅভ্যুত্থানের সৈনিকদের ওপর হামলা করছে।”

তিনি দাবি করেন, “এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে একটা পরিকল্পিত অবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বলা যায় সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এর মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল ও বিলম্বিত করার চেষ্টা চলছে।”

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মত

এনসিপির ‘নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়’ মন্তব্যের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, “শাপলা প্রতীক না পেলেই কি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়? দেশের আরও বহু মার্কা আছে। ধানের শীষ তো জাতীয় প্রতীক হিসেবে বহু বছর ধরে স্বীকৃত।”

গণতান্ত্রিক ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে যেন কোনো ফাটল না পড়ে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। না হলে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।”

তিনি শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এই দেশের মানুষ আর তার শাসন দেখতে চায় না।”
সমাবেশের শেষদিকে তিনি শপথ নিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য গড়ে উঠেছে। এই ঐক্যকে আমরা ইস্পাত কঠিন বন্ধনে বেঁধে রাখবো এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাব।”




জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়া চলমান; স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান রাখতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জনদৃষ্টিগোচর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশন প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত কমিশনের এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠকে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক এবং ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

বৈঠকে কমিশনের কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং জানানো হয়, জুলাই সনদের খসড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সদস্যরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কমিশনের সদস্যদের অব্যাহত অবদান ও নিষ্ঠার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, “এই প্রক্রিয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এতে প্রতিফলিত হবে। কাজেই পুরো কাজটি হতে হবে স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান, যাতে জনগণ বিশ্বাস রাখতে পারে। কমিশনের বৈঠকগুলো টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হওয়ায় দেশ-বিদেশের মানুষ তা প্রত্যক্ষ করছে এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।”

বৈঠকে অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে ৮টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে কমিশন। আরও সাতটি বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে চলমান জাতীয় ঐকমত্য প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ ধারার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।