গোপালগঞ্জে হামলা ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৪৭৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, বাকি ৪০০ জন অজ্ঞাতনামা।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে গোপালগঞ্জ সদর থানায় পুলিশ পরিদর্শক আহম্মদ আলী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপস) ড. রুহুল আমিন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মোট ৪৭৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার রাত থেকেই জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার পৌর পার্ক এলাকায় সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর আগেই সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরও হামলার শিকার হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেওয়া সহিংসতায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, তবে তাতে কাজ না হওয়ায় রাত ৮টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলাজুড়ে কারফিউ জারি করে সরকার। পরবর্তীতে ওই কারফিউ আরও বাড়ানো হয়।
এনসিপি নেতারা কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন এবং খুলনার দিকে রওনা হন। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








