সরকার এনসিপিকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে: নুরুল হক নুর

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রতি সরকার পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে নুর বলেন, “সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সকল রাজনৈতিক দল তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ধরনের পক্ষপাত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”

নুর আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “পতিত আওয়ামী লীগ যেকোনো ইস্যুতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে।”

এ সময় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানান গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, “বিচার সংস্কার ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দায়িত্ব সরকারের। তাই দ্রুত নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে, যাতে দেশের মানুষ স্বস্তি পায়।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে সাকি আরও বলেন, “সরকারকে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ জরুরি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “সরকারের কিছু আচরণে দেশের রাজনীতিতে অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছে। নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যার ফলে বাড়ছে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।” এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারেরই দায়িত্ব বেশি বলে মনে করেন তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান থাকা যাবে না: ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত

এক ব্যক্তি একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী, দলীয় প্রধান ও সংসদ নেতা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলে সাংবিধানিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় বলে অভিমত দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তাই একই ব্যক্তির হাতে এসব দায়িত্ব রাখা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফার ১৭তম দিনের সংলাপে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, “বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের পদ আলাদা রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে যারা ভিন্নমত পোষণ করেছে, তারা জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে পারবে।”

আলোচনায় জানানো হয়, একাধিক পদে থাকার কারণে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটে, যা গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী। বিএনপি ও সমমনা কয়েকটি দল ভিন্নমত পোষণ করে দাবি করেছে, একই ব্যক্তি একাধিক পদে থাকলেও সাংবিধানিকভাবে কোনো সমস্যা তৈরি হয় না।

জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, “এই মতানৈক্যের মধ্যেও আমরা একটি জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে চাই। অতীতেও আমরা জাতীয় সনদে ভিন্নমত অন্তর্ভুক্ত করেছি। এবারও একই পদ্ধতি অনুসরণ করব।”

সেশনের আলোচ্যসূচিতে আরও ছিল:

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিভিন্ন দলের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সমন্বিত খসড়া প্রস্তুত
  • নির্বাচন কমিশন, পিএসসি, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, দুদক এবং ন্যায়পাল নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান

আলোচনার শুরুতে কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



উদ্ধার ও চিকিৎসায় জনশক্তিকে মাঠে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান সোমবার (২১ জুলাই) বিকেলে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে যান উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন জামায়াত আমির এবং চিকিৎসকদের আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দেন।

এক শোকবার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের ওপর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির এবং অনেক শিক্ষার্থী শাহাদাতবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এখনো শতাধিক শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের জনশক্তি ও এলাকাবাসীকে উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ এবং আহতদের চিকিৎসায় সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি। নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং মহান রবের কাছে তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।




উত্তরা ট্র্যাজেডিতে তারেক রহমানের শোক, নেতাকর্মীদের সহায়তায় আহ্বান

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান লেখেন, “মাইলস্টোন কলেজে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় আমরা শোকাহত। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যেখানে একটি শিশু, কিশোর কিংবা তরুণ তার শিক্ষা, বিকাশ ও নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠে—সেই পরিবেশে এমন ভয়াবহতা কখনো কাম্য নয়। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই দুঃসময়ে আমাদের জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি বিএনপি নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর ১টার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভবন ও বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। বিধ্বস্ত ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক স্কুল শিক্ষার্থী অবস্থান করায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে বিজিবি, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীও অভিযানে যোগ দেয়। আহতদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত এবং আরও ১৬৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর দগ্ধ।




রিজভীর প্রশ্ন: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণ কীভাবে চলে?

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান পরিচালনার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জনবহুল অঞ্চলে বিমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সোমবার (২১ জুলাই) বিকেলে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, “এ এলাকাটা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে প্রশিক্ষণ বিমান দিয়ে উড্ডয়ন শিখবে—এটা রহস্যজনক। প্রশিক্ষণের জন্য যশোর, কক্সবাজারের মতো জায়গা রয়েছে, যেখানে সমুদ্র ও বিস্তীর্ণ খোলা এলাকা আছে। সেখানে এই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “নেভিগেশন বা টেকনিক্যাল বিষয়গুলো আমি না জানলেও, সাধারণভাবে যা বোঝা যায়, তা হলো—এত মানুষের ভিড়, চারপাশে এত ঘরবাড়ি থাকা সত্ত্বেও এখানে প্রশিক্ষণ বিমান চালানো মোটেই নিরাপদ নয়। প্রশাসন ও সরকারের এ বিষয়ে গুরুদায়িত্ব রয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা করলে ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হতে থাকবে।”

রিজভী আরও বলেন, “দুর্ঘটনা কখনো আগাম বলে আসে না। কিন্তু যদি আমরা যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে এগোই, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বিমানবন্দরের পাশে কী ধরনের লোকালয় গড়ে উঠবে, তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল। আমার মনে হয়, উত্তরার মতো এলাকায় এমন ঘনবসতিপূর্ণ অবস্থা পরিকল্পনার বাইরে সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীরা রক্তদান ও অন্যান্য সহযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিধ্বস্ত হয়। এতে ২০ জন নিহত এবং অন্তত ১৭১ জন আহত হয়েছেন।




পটুয়াখালীতে বিএনপি ও কৃষকদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

২০ জুলাই পটুয়াখালী জেলা বিএনপি ও কৃষকদলের যৌথ আয়োজনে এক বিশাল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু (কুট্টি) সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন, কৃষক দলের সভাপতি মনিরুজ্জামান টিটু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোস্তাক আহমেদ পিনু, মিজানুর রহমান মিজান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলন, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আল-আমিন হাওলাদারসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

বক্তব্যে প্রধান অতিথি কুট্টি সরকার বলেন, “যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, তাদের রক্তের সাথে বেইমানি করা চলবে না। তারা ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। আজকের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেই শহীদদের স্মরণে উৎসর্গ করা হয়েছে। এই গাছগুলো যতদিন থাকবে, শহীদদের নাম ততদিন মানুষের মনে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের কর্মসূচিতে কাউকে ভাড়া করে আনতে হয় না, সাধারণ মানুষ নিজের ইচ্ছায়, ভালোবাসা থেকে আসে। যারা ধানের শীষকে ভালোবাসে, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি আস্থাশীল, তাদের সবাইকে বিএনপির সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “আজকের এই কর্মসূচি শহীদদের স্মরণে করা হয়েছে। পটুয়াখালীতে ২৬ জন শহীদ হয়েছেন, এর মধ্যে ১৬ জন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। আমরা তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং সকলের কাছে দোয়া চাই।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার। তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের কৃষি ও পরিবেশ খাতকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান। তার সেই পথ অনুসরণ করেই বেগম খালেদা জিয়া জাতীয়ভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করেন।”

বক্তারা আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির অবদান যেমন গৌরবোজ্জ্বল, তেমনি এই ধরনের জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা ও শহীদদের স্মরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন জায়গায় শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। নেতাকর্মীরা এ সময় প্রতীকীভাবে শহীদদের নামে চারা রোপণ করেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চট্টগ্রামে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, মোতায়েন সোয়াট ও ডগ স্কোয়াড

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট এবং ডগ স্কোয়াড।

রোববার (২০ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেট সংলগ্ন বিপ্লব উদ্যানে সমাবেশস্থলে সোয়াট সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। এর আগে, এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তায় ‘মোটেল সৈকত’-এ তল্লাশি চালায় ডগ স্কোয়াড।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজারে এনসিপির পূর্ববর্তী কর্মসূচিতে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বিকেল সাড়ে ৫টায় এনসিপি নেতাকর্মীরা বহদ্দারহাটে জমায়েত হয়ে সেখান থেকে মিছিলসহ বিপ্লব উদ্যানে সমাবেশে যোগ দেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিপ্লব উদ্যান এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডে অবস্থিত ‘মোটেল সৈকত’-এ অবস্থানরত এনসিপির শীর্ষ নেতাদের ঘিরেও নেওয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা। নগর পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তিনটি ফ্লোরে তল্লাশি চালায়। সংশ্লিষ্ট ফ্লোরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মাহমুদা বেগম জানান, “সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। নেতাদের চলাচলের পথেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হোক। এজন্য পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।”




অতীতের শাসকেরা দিল্লি-লন্ডনে পালিয়েছে, বর্তমান প্রজন্ম জাগ্রত: হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, অতীতে বাংলাদেশের শাসকেরা দেশ লুটে দিল্লি ও লন্ডনে পালিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে, যাদের টাকা দিয়ে কেনা যায় না।

রোববার (২০ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত বলেন, “কারো সেকেন্ড হোম ছিল দিল্লি, কারো লন্ডন। তারা দেশ শাসনের নামে লুটপাট করেছে। আজকের এই তরুণ প্রজন্ম সেই ইতিহাস জানে। তারা আর বিক্রি হবে না। হাসিনা টাকায় এই প্রজন্মকে কিনতে পারেনি। এই প্রজন্মই বাংলাদেশ গড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “১৬ জুলাই ঢাকায় প্রতিরোধ হয়েছিল, তার আগের দিন চট্টগ্রামেই প্রতিরোধ হয়েছে। চট্টগ্রাম লড়াইয়ের শহর, প্রতিরোধের শহর। আমরা স্বৈরাচার হটাতে পেরেছি, কিন্তু এখন সফল রাষ্ট্র গঠনের লড়াই শুরু করতে হবে।”

চট্টগ্রামকে নিজের ‘দ্বিতীয় প্রাণের শহর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় এনসিপিকে সংগঠিত করতে হবে। গ্রুপিং বাদ দিতে হবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

দুপুরের পর থেকেই সমাবেশস্থলে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন।

এদিকে গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজারে এনসিপির কর্মসূচিতে সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের সমাবেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহমুদা বেগম জানান, “সমাবেশ ঘিরে পুলিশের স্পেশাল ইউনিট সোয়াটসহ অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে, যেন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।”




জুলাই শহিদ পরিবারগুলোই এখন আমাদের অগ্রাধিকার : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শহীদ পরিবারের সম্মান প্রতিষ্ঠাই এখন তার দলের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “আমরা সারা দেশে পদযাত্রা করছি এবং শহীদ পরিবারের সঙ্গে সরাসরি বসছি। দেখা যাচ্ছে, তাদের সবারই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। অনেক জায়গায় সরকারি উদ্যোগ পৌঁছায়নি বা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। প্রশাসনের কিছু জায়গায় এখনো স্বৈরাচারের দোসররা সক্রিয় রয়েছে।”

রবিবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকার হোটেল সৈকতে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমি যখন সরকারে ছিলাম, তখন শহীদ পরিবারের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করেছি। কিন্তু সেইসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে নানা জটিলতা রয়ে গেছে। এখনও অনেক জায়গায় অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার অভিযোগ রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা কোনো দলীয় পরিচয় নিয়ে আসিনি। আমরা এসেছি আপনাদের পাশে দাঁড়াতে। আপনাদের স্বজনরা আমাদের সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে ছিলেন। এ কারণেই দলমতের ঊর্ধ্বে আপনাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

শহীদ কল্যাণ সেল গঠন

নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপির পক্ষ থেকে ‘শহীদ কল্যাণ-আহত সেল’ গঠন করা হয়েছে। এই সেলের অধীনে সারাদেশে সফর করে শহীদ পরিবার ও আহতদের তথ্য সংগ্রহ এবং সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “যেখানে যাচ্ছি, আমরা নতুন করে সবার নাম ও নম্বর সংগ্রহ করছি, যাতে ভবিষ্যতে নিয়মিত খোঁজ রাখা যায়।”

৩ আগস্ট ঢাকায় বড় কর্মসূচি

শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি ও দাবি আদায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র বা জাতীয় সনদের বিষয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছি। সরকার বলছে, ৫ আগস্টের মধ্যে এটি ঘোষণা করবে। আমরা ৩ আগস্ট ঢাকায় এ বিষয়ে একটি বড় কর্মসূচি আয়োজন করছি, যাতে শহীদ পরিবারগুলোর দাবি কার্যকর হয়।”

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের এ কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধি দলটি রাঙামাটির উদ্দেশে যাত্রা করে।




শেখ হাসিনা মানবজাতির কলঙ্ক, তাকে বিচারের আওতায় আনতেই হবে : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনোদিন ক্ষমা করা যাবে না। তিনি বলেন, “হাসিনা মানবজাতির কলঙ্ক, মায়েদের কলঙ্ক। তার বিচার হবেই, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

রবিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর শেরে বাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর প্রাঙ্গণে ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সবুজ পল্লবে স্মৃতি অম্লান’ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল সম্প্রতি এক শহীদ মায়ের আহাজারির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “একজন মা তার সন্তান হারিয়েছেন নির্মমভাবে। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, ভ্যানে তুলে নিয়ে মরদেহসহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। একটি স্বাধীন দেশের পুলিশ-প্রশাসনের হাতে এ ধরনের পাশবিক ঘটনা ঘটেছে, যা জাতি হিসেবে আমাদের গভীরভাবে লজ্জিত করে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, তারা স্বাধীন দেশে এমন বর্বরতা প্রত্যাশা করিনি। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর টাকাও আসে জনগণের কর থেকে। অথচ সেই টাকায় পোষা বাহিনীই এখন জনগণের সন্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে।”

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে ফখরুল বলেন, “এ ধরনের নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতার জন্য হাসিনাকে কোনোদিন ক্ষমা করা যাবে না। আমাদের প্রথম কাজ হবে তাদের বিচার করা। দ্বিতীয় কাজ—শহীদ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।”

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের জন্য বিএনপি একটি ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। “আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব। যেন বিএনপির পক্ষ থেকে একটি পুনর্বাসন তহবিল গঠন করা যায়,” বলেন ফখরুল।

এ সময় তিনি জানান, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ইতোমধ্যেই জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।