‘মাইলস্টোন দুর্ঘটনাকে পুঁজি করে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ’: এনসিপি নেতা হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাকেও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেই মাইলস্টোনের শোককেই রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ফের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চাইছে আওয়ামী লীগ। দেশের স্বার্থে সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে এনসিপির পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত বলেন, “দেশের জনগণ আজ রাস্তায় মরছে, হাসপাতালে মরছে, দুর্ঘটনায় মরছে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা নেই। আমরা চাই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার নিশ্চিত করা হোক।”

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এমন ভঙ্গুর কেন? একজন ইংরেজি অনার্সধারী ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, এখন বাংলা অনার্সধারী। একজন দক্ষ চিকিৎসক কি এদেশে ছিল না, যাকে দিয়ে এই ব্যবস্থা পরিচালনা করা যেত?”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে জনগণের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা অগ্রাধিকার পাবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ হোসেন, সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদি ও অন্যান্য নেতারা।

এর আগে, দুপুর পৌনে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলগেট এলাকা থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু করে জেলা শহর প্রদক্ষিণ করেন এনসিপি নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খায়রুল হকের হঠকারী রায়ে অপকর্মের লাইসেন্স পেয়েছিল রাজনৈতিক চক্র: জামায়াত আমির

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, খায়রুল হকের দেওয়া হঠকারী রায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক মাফিয়াদের গুম, খুন ও লুণ্ঠনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির নিজ বাসা থেকে খায়রুল হককে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করার পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।

দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির লিখেন, “খায়রুল হক ফ্যাসিস্ট আমলে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দায়িত্বের মর্যাদা বোঝেননি, বরং দেশের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন চেয়ারে বসে জাতির বিরাট ক্ষতি করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তার হঠকারী রায়ের মধ্য দিয়েই গুম, খুন, লুণ্ঠনসহ সকল অপকর্মের লাইসেন্স তুলে দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক চক্রের হাতে।”

ডা. শফিকুর রহমান জানান, দেরিতে হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে, যা জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, “এখন জাতি চায় তার সুষ্ঠু বিচার হোক এবং তার কর্মের জন্য ইতিহাসসম্মত ন্যায্য শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা ন্যায়বিচার ছাড়া কিছু প্রত্যাশা করি না।”

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল-সংক্রান্ত আলোচিত রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে দোষারোপের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি পদক্ষেপ নিয়েছে।




খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ: মির্জা ফখরুল

বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দেরিতে হলেও সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে—এ উদ্যোগের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিচারপতি খায়রুল হক বাংলাদেশের একজন বড় শত্রু। তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দেশের বিরুদ্ধেই কাজ করেছেন। তিনি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, রাষ্ট্রের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের যে সংক্ষিপ্ত রায় তিনি দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ রায়ের আকাশ-পাতাল পার্থক্য ছিল। আমরা মনে করি, এই রায় রাষ্ট্রবিরোধী ছিল।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “যদিও দেরিতে, তবু সরকারের পক্ষ থেকে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেজন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, তার বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত ও বিচারকার্য সম্পন্ন হবে।”

বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত না জানানো হলেও বিএনপির বক্তব্যে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।




অসুস্থ খালেদা জিয়া, রাতেই এভারকেয়ারে নেওয়া হচ্ছে

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। বুধবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে তাকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বসুন্ধরার এ হাসপাতালে নেওয়ার কথা রয়েছে।

চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তার চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তত্ত্বাবধান করবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল।

তবে হাসপাতালমুখী হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এখনো জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির খান।

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য অবনতি হয়েছে। তাই সতর্কতামূলকভাবে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে রাতেই বাসায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। সময়-সময়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চলতি বছরেই লন্ডন থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসেন তিনি।




‘রাষ্ট্রপতির একক ক্ষমতা নয়, সমন্বিত নির্বাচন কমিশন গঠন’—এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির একক নিয়োগ ক্ষমতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির দাবি, নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া যেন একচ্ছত্রভাবে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে না হয়, বরং একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৮তম দিন শেষে এসব কথা বলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “একসময় ফ্যাসিবাদী প্রক্রিয়ায় আইন করে রাষ্ট্রপতির হাতে একক নিয়োগ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন গঠনের মতো একটি প্রক্রিয়া আর একক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চলবে না।”

আখতার হোসেন জানান, সংলাপে একটি পাঁচ সদস্যের সিলেকশন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি থাকবেন। এই কমিটি সর্বসম্মতভাবে নির্বাচন কমিশনারদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে এবং রাষ্ট্রপতি সেই সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকবেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনারদের জবাবদিহিতার জন্য কোনো স্পষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শূন্যতা ছিল। এ ঘাটতি পূরণে নতুন আইন প্রণয়নের ব্যাপারে আজকের বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। এছাড়া এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জোরালোভাবে তোলা হয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, “আইন থাকলে তা যেকোনো সরকার সহজেই পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকলে এমন একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সহজ হবে না।”

বিএনপির অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি চায় এই প্রক্রিয়াগুলো আইন দ্বারা চলুক, তবে এনসিপির মতে, কেবল আইনের ওপর নির্ভর করলে তা স্থায়ী হবে না।

সংলাপের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো মৌলিক সংস্কার থেকে পিছু না হটে, তবে জুলাইয়ের মধ্যেই জাতীয় সনদ প্রণয়ন সম্ভব। তবে সংস্কার পাশ কাটিয়ে জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করতে চাইলে এনসিপি এই প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করবে।”

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত জনপ্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সরকার নিয়ে আলোচনা হয়নি, অথচ এই তিনটি খাত ছাড়া টেকসই কোনো সংস্কার সম্ভব নয়। এনসিপি আজ প্রস্তাব দিয়েছে যাতে এই বিষয়গুলোও আলোচনা এজেন্ডায় যুক্ত হয়।




সংলাপ থেকে সিপিবি-বাসদ-জাসদের প্রতীকী ওয়াকআউট, অভিযোগ পুলিশের হামলা

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ থেকে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশের তিনটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল—সিপিবি, বাসদ ও বাংলাদেশ জাসদ। বুধবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার কিছু পর অনুষ্ঠিত সংলাপে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘হামলার’ প্রতিবাদে দল তিনটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।

ওয়াকআউটকারী দলগুলোর অভিযোগ, মাইলস্টোনের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলা হয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা ১০ মিনিটের প্রতীকী ওয়াকআউট করে সংলাপ থেকে বেরিয়ে যান।

সংলাপে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “অতীতে স্বৈরাচারী শাসকরা যেভাবে বিরোধী মত দমন করত, এখনো তেমন দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি। স্বৈরাচারীদের ষড়যন্ত্র আমরা জানি। অতীতে শেখ হাসিনাও এমন পরিস্থিতিতে ঐক্যের ডাক দিতেন—আজও একই চিত্র। এ অবস্থায় আলোচনায় থাকা সম্ভব নয়।”

তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে ওয়াকআউট করেন জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।

ওয়াকআউটের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “তিনটি দলের প্রতীকী প্রতিবাদকে আমরা রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে স্বাগত জানাই। তাদের বক্তব্য জাতির সামনে এসেছে। সরকার নিশ্চয়ই বিবেচনা করবে।”

উল্লেখ্য, বুধবারের সংলাপ সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, সূচনা বক্তব্য দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।




৫ আগস্ট পরবর্তী বিভেদের জন্য সরকারই দায়ী : এবি পার্টি

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক ঐক্য গঠনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির দাবি, ঐ সময়ের পরিবর্তনের সুযোগে যে রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সরকারই মূলত দায়ী।

বুধবার (২৩ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে এসব মন্তব্য করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, “আমরা সবাই বিপদের মধ্যে ছিলাম। জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার শুরু থেকেই বিভেদের পথে হেঁটেছে। যারা একসময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিল, আজ তারা বিভক্ত।”

সরকারের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মঞ্জু আরও বলেন, “যদি সংস্কার ঠিকমতো করতে না পারেন, যদি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে না পারেন, তাহলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিন। দুর্বল সরকার কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না—এটা এখন স্পষ্ট।”

মঞ্জু বলেন, “মাইলস্টোন স্কুলে উপদেষ্টাদের আটকে পড়া বা যমুনায় উপদেষ্টার ওপর বোতল নিক্ষেপ—এসব ঘটনা প্রমাণ করে সরকারের জনপ্রিয়তা ও উপদেষ্টাদের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পেয়েছে। জনগণের ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও ক্রেডিবিলিটি কমেছে। আগে যাদের উপস্থিতি সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল, আজ তাদের নামেই স্লোগান উঠছে।”

সরকারের তথ্যে স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “প্রেস উইং থেকে নয়, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা যেন নিজ দায়িত্বে ব্রিফ করেন—এমন অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

সম্প্রতি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সরকারের পৃথক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মঞ্জু বলেন, “এই চারটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। এসব বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়েও সংশয় তৈরি হচ্ছে।”

তিনি জানান, এবি পার্টি প্রধান উপদেষ্টাকে প্রস্তাব দিয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি সম্মিলিত সভা আয়োজন করা হোক, যাতে সবাই কথা বলার সুযোগ পায়।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের নেতারা সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। উপস্থিত ছিলেন—রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জেএসডির তানিয়া রব, ১২ দলীয় জোটের শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং গণফোরামের মিজানুর রহমান।

প্রসঙ্গত, এর আগের রাতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা।




নিবন্ধনহীন এনসিপিকে ‘বড় দল’ কেন বলছে সরকার, প্রশ্ন নুরের

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে পক্ষপাত ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও সদ্য গঠিত এনসিপিকে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে মূল্যায়নের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বুধবার (২৩ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সরকার যদি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত হয়ে জনগণের আস্থার প্রতীক হয়, তাহলে কোনো বিশেষ দলের পক্ষে হেলে যাওয়া তাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। এ ধরনের পক্ষপাত হলে আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়েও জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হবে।”

নুর আরও বলেন, “সরকার যে চারটি রাজনৈতিক দলকে বড় দল হিসেবে নির্বাচন করেছে, তার ভিত্তি কী? এর মধ্যে একটি দল—এনসিপি—নিবন্ধনহীন এবং সদ্য গঠিত। বিষয়টি নিয়ে আজকের বৈঠকে অংশ নেওয়া ১৩টি দলের নেতারাই প্রশ্ন তুলেছেন।”

বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর অভিযোগ তুলে নুর জানান, সরকার এনসিপির প্রতি স্পষ্ট পক্ষপাত দেখাচ্ছে। এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ আগামী নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি করছে বলে মত দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে নুর বলেন, “চট্টগ্রামে আইনজীবী চিন্ময় দাস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। একইভাবে গোপালগঞ্জে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটতে পারে, সেটাও আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম। তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থা তা বুঝতে ব্যর্থ হলো কেন? নাকি সমন্বয়ের অভাব আছে? সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পতিত স্বৈরাচারী শক্তি বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্যে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। তাই সরকারের দৃষ্টি সেই দিকেও আকর্ষণ করেছি।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন নুর। তিনি বলেন, “এক-দুটি দলের মতামতের ভিত্তিতে কমিশন যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাতে বৃহত্তর জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হচ্ছে। এটা কাম্য নয়।”

সরকারের জনপ্রিয়তা কমে আসছে বলেও দাবি করেন নুর। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা সরকারের কাছ থেকে যে পরিবর্তনের আশ্বাস পেয়েছিলাম, বাস্তবে তা পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না।”

স্থানীয় সরকারের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে জনপ্রতিনিধি না থাকায় মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, অন্তত পরীক্ষামূলকভাবে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছি, যাতে প্রশাসনের সক্ষমতা যাচাই করা যায়।”

ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১১ মাসে এনসিপি ছাড়া অন্য কোনো ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এ নিয়ে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।”

নুরের মতে, সংলাপে এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে, যাতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।




পিআর পদ্ধতি দেশের জন্য অযৌক্তিক: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে দেশের কিছু রাজনৈতিক দল পিআর (প্রোপোরশনাল রেপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির দাবি তুললেও এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। তার বক্তব্য, পিআর পদ্ধতি রাষ্ট্রে চরমপন্থা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।

সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, আইন মেনে চলা না হলে রাষ্ট্র অটোক্রেটিক ও ফ্যাসিবাদী রূপ ধারন করে। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো জনগণের সম্মিলিত শক্তি এবং নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু অংশ বন্দুকের ছুরির নীচে নিজেদের অবস্থান অটুট রাখতে চায় এবং আসন্ন নির্বাচন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে।

তারেক রহমান সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপকৌশল করছে, তারা যেন শহীদদের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা না করে।

তিনি শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করতে দীর্ঘদিন বিলম্বের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক বছর পার হলেও তালিকা এখনও প্রস্তুত হয়নি যা ভবিষ্যতের ইতিহাসে জাতীয় ব্যর্থতার ছাপ ফেলবে। কিছু মহল অভ্যুত্থান কুক্ষিগত করতে ব্যস্ত থাকায় এই বিলম্ব ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব বিএনপির

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংবিধানে সংশোধন ও পৃথক আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপে অংশগ্রহণ শেষে এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, “সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের উপ-ধারায় নতুন সংযোজনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের জন্য নির্দিষ্ট আচরণবিধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে আমরা বলে এসেছি, সংবিধানেই শুধু স্বাধীনতার উল্লেখ থাকলেই হবে না, কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই।”

তিনি জানান, সংলাপে গঠিত প্রস্তাবনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি সিলেকশন কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার (সভাপতি), বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, এই কমিটির অধীনে একটি অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে, যেখানে নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণ প্রার্থীর নাম জমা দিতে পারবে।

পরবর্তী ধাপে সার্চ কমিটি জমা পড়া জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে এবং তা পাঠাবে সিলেকশন কমিটির কাছে। কমিটি চাইলে সেই তালিকা থেকে অথবা অন্য প্রার্থীদের বিবেচনায় নিয়ে কমিশনারদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।

তিনি বলেন, “আগে প্রতিটি পদের জন্য দুটি করে নাম দেওয়ার যে প্রথা ছিল, এখন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিটি পদের জন্য একটি করে নাম যাবে। কমিশনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।”

বিএনপির দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব, যারা কার্যত স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। অতীতে কমিশন গঠন হলেও কার্যকর স্বাধীনতা তাদের মধ্যে দেখা যায়নি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, “নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছে, তাতে জাতি আজ ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।”

সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “এই প্রস্তাব সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি করবে এবং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামোর পথ সুগম করবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /