নির্বাচনের তারিখ আসছে চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই: মোস্তফা জামাল হায়দার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই ঘোষণা করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস—এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ১৪টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। এটি নিঃসন্দেহে দেশের জনগণের জন্য একটি আনন্দের সংবাদ।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান নৈরাজ্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর পথ হচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এই নির্বাচনই সমস্যার সমাধান করবে।”

জানা যায়, এর আগেও দুই দফায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। আর আজকের বৈঠকে আরও ১৪টি দল ও জোটের নেতারা অংশ নেন।

আল-আমিন

 




ঘুষ বেড়েছে পাঁচ গুণ, সুশাসন নেই: মির্জা ফখরুল

দেশে সুশাসনের অভাব ও ঘুষবাণিজ্যের প্রসঙ্গ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আগে যে ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো, এখন তাকে দিতে হচ্ছে পাঁচ লাখ টাকা। এ থেকেই বোঝা যায়, দেশে কোথাও কোনো সুশাসন নেই, নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ। পুলিশ বিভাগেও কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।”

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান রচিত “অর্থনীতি, শাসন ও ক্ষমতা: যাপিত জীবনের আলেখ্য” বইয়ের প্রকাশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বইয়ের লেখক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

গণতান্ত্রিক চর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “রাতারাতি সংস্কার সম্ভব নয়, তবে বসে থাকলে চলবে না। কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এখনই বিলম্ব না করে গণতান্ত্রিক পথে যেতে হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের প্রতিনিধিকে সংসদে পাঠিয়েই সংস্কার আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ (শুল্কনীতি) আমাদের জন্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদ তৈরি করতে পারে। তাই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে জনস্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অপরিহার্য।”

আল-আমিন



পিআর পদ্ধতিতে একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি জামায়াতের

কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন নয়, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। শুক্রবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার কর্মী সম্মেলনে এ কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. তাহের বলেন, “জামায়াত নির্বাচনের বিপক্ষে নয়, বরং এমন নির্বাচন চায় না যেখানে ইতিহাসের মতো ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালটবাক্স ছিনতাই হয়। বিগত ৫৪ বছরে যেসব সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে প্রহসনের মাধ্যমে শাসন করেছে।”

তিনি বলেন, “আমরা চাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কার হোক, এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতিতে। এতে ভোটের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব হবে।”

“বড় দল নয়, আদর্শই পরিচয়”

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “কোনো দল বড় দল কি না, তা মুখে বলা কোনো বিষয় নয়। রাজনীতির আসল পরিচয় আসে আদর্শ, নীতি ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে। যারা নিজেদের বড় দাবি করে, তারা বরং জামায়াতের মতো আদর্শিক রাজনীতিকে অনুসরণ করুক—তাহলেই দেশ-জাতির উপকার হবে।”

জামায়াতের সংস্কারের দাবি নিয়ে যারা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছে, তাদের উদ্দেশে ডা. তাহের বলেন, “সংস্কার ছাড়াই হাসিনা মার্কা নির্বাচন চাওয়ার মানে জাতির সঙ্গে প্রতারণা। যারা ভোট ডাকাতির চিন্তা করে না, তারা সংস্কারে আপত্তি করতে পারে না।”

নির্বাচন প্রতিহতের হুঁশিয়ারি

সম্মেলনের বিশেষ অতিথি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালে ছায়া নির্বাচন করে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। এবার জনগণ প্রস্তুত, কোনো পক্ষ যদি আবারও ভোট ডাকাতির নির্বাচন করতে চায়, তাহলে তা জনগণ প্রতিহত করবে।”

তিনি আরও বলেন, “হাসিনার পতনের পর এখন একটি নতুন দল মনে করছে, তারা বাংলাদেশের মালিক। কিন্তু বাংলাদেশ ১৮ কোটি মানুষের। কেউ যদি আবারও দেশকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে, তাদের পরিণতিও হাসিনার মতোই হবে।”

ক্ষমতার রাজনীতিতে নয়, আদর্শে বিশ্বাসী: হামিদুর রহমান আজাদ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “জামায়াত আদর্শভিত্তিক দল। আমাদের রাজনীতি ক্ষমতা নয়, ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। যারা ক্ষমতায় থেকেও লুটপাট করে, আর বিরোধী দলে থেকেও লুটপাটে লিপ্ত—তাদের সঙ্গে জামায়াতের পার্থক্য এখানেই।”

তিনি বলেন, “৫৪ বছরের বাংলাদেশ আজ দুর্নীতি, দুঃশাসন, গুম, খুন, বাকস্বাধীনতা হরণ আর গণতন্ত্র হত্যার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই বাংলাদেশকে রূপান্তর করতে জামায়াত গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে।”

দমন-পীড়নের মাঝেও থেমে নেই জামায়াত: বুলবুল

সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “গত ১৭ বছরে আমাদের দল ও নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়নের সব কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের অফিসগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, লাখো নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় নিপীড়িত হয়েছে, ১১ জন শীর্ষ নেতাকে বিচারিক হত্যার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “তবুও জামায়াত একদিনের জন্যও থেমে যায়নি। ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, হামলা, মামলা সত্ত্বেও আমাদের কর্মীরা এখনও সমাজকর্মীর ভূমিকায় নিয়োজিত। আমরা আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, যাবই।”




নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় ৫ আগস্ট সময়সীমা বেঁধে দিলেন জোনায়েদ সাকি

জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় ৫ আগস্টের আল্টিমেটাম দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তার মতে, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে এগিয়ে না নিলে দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ সুগম হবে না।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বিপ্লব উদ্যানে গণসংহতি আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এই বক্তব্য দেন তিনি।

সাকি বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ নেই—এই অজুহাত তুলে যারা নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছেন, তারা আসলে গণতন্ত্রকে স্থগিত করতে চাচ্ছেন। আমরা সেটা হতে দেব না।” তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ যদি ভোট দিয়ে আগের কাউকেই আনতে চায়, সেটাও তাদের অধিকার। জনগণের ওপর আস্থা না রেখে কেউ যদি সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, সেটাই হচ্ছে প্রকৃত দখলদারিত্ব।”

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “কোনো রাজনৈতিক শক্তি যদি আবারও ক্ষমতা দখলের পথে হাঁটে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমন্বয়কারী হাসান মারুফ রুমি এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম নির্বাহী সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন তালুকদার।
বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. আতিকুর রহমান এবং সংগঠনের জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. হারুন।




. “রাজপথে নেমেছি অধিকার ও ইনসাফের সংবিধানের জন্য” — নাহিদ ইসলাম

বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে সিলেটে রাজপথে নেমেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি সংবিধান চাই, যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার ও মর্যাদার সুরক্ষা থাকবে।’

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে সিলেট শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, আগামী ৩ আগস্ট ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই সনদ’ আদায়ের লক্ষ্যে তারা আবারও শহীদ মিনারে জমায়েত হবেন। তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমরা শহীদ মিনার থেকেই জনগণের দাবি আদায় করব।”

তিনি আরও বলেন, “সিলেট ইসলামের সম্প্রীতি, ইনসাফ ও সংস্কৃতির প্রতীক। এই অঞ্চলে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি লালিত হয় যুগ যুগ ধরে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে সিলেটের মানুষের সাহসিক ভূমিকা ছিল।”

প্রবাসী সিলেটিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, “আজ লন্ডনের বহু মসজিদ, স্কুল, রেস্টুরেন্ট ও রাস্তায় প্রবাসী সিলেটিদের ঘামে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে। আমরা তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই।”

উল্লেখ্য, এনসিপি’র ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন স্থান থেকে দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।




নিহত পাইলট তৌকিরের পরিবারের পাশে বিএনপি; জানালেন সমবেদনা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় তৌকিরের পারিবারিক বাসভবনে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন ফখরুল।

সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন তৌকিরের স্ত্রী আকশা আহম্মেদ নিঝুম, শ্বশুর ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা বিষয়ক টিমের প্রধান সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই সকালে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামসহ ৩০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।




যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ দেশকে সাম্রাজ্যবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে : সিপিবির অভিযোগ

বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির নেতারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী যুক্তরাষ্ট্র এখন শুল্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে চাচ্ছে, যা দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব মন্তব্য করেন সিপিবি নেতারা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম। বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজ্জাদ জহির এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক লুনা নূর।

সমাবেশে সিপিবি নেতারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ এখন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির খপ্পরে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে এ দেশ সাম্রাজ্যবাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তারা দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন দেশবিরোধী চুক্তি করেছে, যার কোনোটিরই গণভিত্তিক অনুমোদন নেই। এ ধরনের চুক্তিকে ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে তারা অবিলম্বে তা বাতিলের আহ্বান জানান।

বক্তারা রাখাইন অঞ্চলের জন্য করিডর দেওয়ার পরিকল্পনা ও বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশন চালুর প্রস্তাবেরও কড়া সমালোচনা করেন এবং এসব বন্ধের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাব থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করে সিপিবির নেতা-কর্মীরা। পল্টন মোড়ে এসে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সিপিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশের স্বার্থে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।




চার ইসলামী দলের সমন্বিত বৈঠক, ঐক্য প্রক্রিয়া জোরদারের সিদ্ধান্ত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের চার ইসলামী দলের শীর্ষ নেতারা এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ইসলামপন্থিদের মধ্যে চলমান ঐক্য প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও গতিশীল করার বিষয়ে নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছান। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান এবং মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট, নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতা ও গণতন্ত্রহীন পরিবেশ মোকাবিলায় ইসলামপন্থি শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য সময়ের দাবি।”

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যে ছিলেন—

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক,
  • মহাসচিব ড. আহমাদ আবদুল কাদের,
  • নেজামে ইসলাম পার্টির সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার,
  • খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আঁকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, এবং যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান

সভায় নেতারা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী শক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দেশের জনগণ ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত রাজনৈতিক কাঠামো চায়, আর এ লক্ষ্যে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য অপরিহার্য।




বিমান দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে রিজভীর সাক্ষাৎ

উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মাইলস্টোন স্কুলের দুই শিক্ষার্থী নাজিয়া ও নাফির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তুরাগ এলাকায় শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে যান বিএনপির প্রতিনিধি দল।

তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই সফরের আয়োজন করা হয়। সাক্ষাৎকালে নিহত শিশুদের বাবা আশরাফুল আলম আবেগঘন পরিবেশে বলেন, “আমার সন্তানদের কবরে যেন দুই বছর পর আর কারও দাফন না হয়—এই আকুতি আমি আপনাদের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে চাই।”

রিজভী আহমেদ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “সন্তান হারানোর শোক সবচেয়ে বেদনাদায়ক। এই বিষয়ে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও খুবই উদ্বিগ্ন এবং আপনাদের খবর রাখছেন। আপনার দাবির বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব, যেন আপনার সন্তানদের কবরের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।”

প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. শরীফুল ইসলাম, জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল আলম হিটো, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. আউয়াল এবং উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের ডা. মুনতাসিরসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনা দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।




আওয়ামী সন্ত্রাসীদের শাসনামলে সকল নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, চব্বিশে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আগের ১৫ বছরে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্তও করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েটের শহীদ শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবার। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন আবরারের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবং মামা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় জানিয়েছে, এ সময় আবরার ফাহাদের পরিবার ২০০৯ সালের পর থেকে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিহতদের তালিকা তৈরি ও প্রত্যেকটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বলেন, “দেশের স্বার্থে কথা বলার কারণে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে অসম পানি বণ্টনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। তার মা এখনো ছেলের শোকে কাঁদেন। আমরা চাই না আর কোনো মা সন্তানের মৃত্যু দেখতে পাক।”

তিনি কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণে সরকারি উদ্যোগ চেয়েছেন, যাতে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায়।

শিক্ষা খাতের দুরবস্থা তুলে ধরেন আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। ল্যাব, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।”
তিনি বুয়েটে র‍্যাগিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং অতীতের নির্যাতনের ঘটনাগুলোরও তদন্ত দাবি করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এর সুষ্ঠু বিচার অবশ্যই সম্পন্ন হবে। আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের দলীয় সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিষয়েও তদন্ত কাজ চলছে এবং সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।