কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন নয়, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। শুক্রবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার কর্মী সম্মেলনে এ কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. তাহের বলেন, “জামায়াত নির্বাচনের বিপক্ষে নয়, বরং এমন নির্বাচন চায় না যেখানে ইতিহাসের মতো ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালটবাক্স ছিনতাই হয়। বিগত ৫৪ বছরে যেসব সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে প্রহসনের মাধ্যমে শাসন করেছে।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কার হোক, এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতিতে। এতে ভোটের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব হবে।”
“বড় দল নয়, আদর্শই পরিচয়”
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “কোনো দল বড় দল কি না, তা মুখে বলা কোনো বিষয় নয়। রাজনীতির আসল পরিচয় আসে আদর্শ, নীতি ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে। যারা নিজেদের বড় দাবি করে, তারা বরং জামায়াতের মতো আদর্শিক রাজনীতিকে অনুসরণ করুক—তাহলেই দেশ-জাতির উপকার হবে।”
জামায়াতের সংস্কারের দাবি নিয়ে যারা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছে, তাদের উদ্দেশে ডা. তাহের বলেন, “সংস্কার ছাড়াই হাসিনা মার্কা নির্বাচন চাওয়ার মানে জাতির সঙ্গে প্রতারণা। যারা ভোট ডাকাতির চিন্তা করে না, তারা সংস্কারে আপত্তি করতে পারে না।”
নির্বাচন প্রতিহতের হুঁশিয়ারি
সম্মেলনের বিশেষ অতিথি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালে ছায়া নির্বাচন করে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। এবার জনগণ প্রস্তুত, কোনো পক্ষ যদি আবারও ভোট ডাকাতির নির্বাচন করতে চায়, তাহলে তা জনগণ প্রতিহত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “হাসিনার পতনের পর এখন একটি নতুন দল মনে করছে, তারা বাংলাদেশের মালিক। কিন্তু বাংলাদেশ ১৮ কোটি মানুষের। কেউ যদি আবারও দেশকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে, তাদের পরিণতিও হাসিনার মতোই হবে।”
ক্ষমতার রাজনীতিতে নয়, আদর্শে বিশ্বাসী: হামিদুর রহমান আজাদ
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “জামায়াত আদর্শভিত্তিক দল। আমাদের রাজনীতি ক্ষমতা নয়, ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। যারা ক্ষমতায় থেকেও লুটপাট করে, আর বিরোধী দলে থেকেও লুটপাটে লিপ্ত—তাদের সঙ্গে জামায়াতের পার্থক্য এখানেই।”
তিনি বলেন, “৫৪ বছরের বাংলাদেশ আজ দুর্নীতি, দুঃশাসন, গুম, খুন, বাকস্বাধীনতা হরণ আর গণতন্ত্র হত্যার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই বাংলাদেশকে রূপান্তর করতে জামায়াত গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে।”
দমন-পীড়নের মাঝেও থেমে নেই জামায়াত: বুলবুল
সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “গত ১৭ বছরে আমাদের দল ও নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়নের সব কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের অফিসগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, লাখো নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় নিপীড়িত হয়েছে, ১১ জন শীর্ষ নেতাকে বিচারিক হত্যার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “তবুও জামায়াত একদিনের জন্যও থেমে যায়নি। ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, হামলা, মামলা সত্ত্বেও আমাদের কর্মীরা এখনও সমাজকর্মীর ভূমিকায় নিয়োজিত। আমরা আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, যাবই।”