এক বছর পরেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো অনেক শহীদ পরিবারের সঙ্গে বসাতে পারেনি : সারজিস আলম

জুলাই বিপ্লবের এক বছর পার হলেও শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সরকার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় করতে পারেনি। এটিকে সরকারের “সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম

শনিবার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সারজিস বলেন, “অভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর হতে চলল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বা সরকারের কোনো পর্যায়ের প্রতিনিধি শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে একবারের জন্যও বসেননি। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।”

তিনি আরও জানান, চলতি জুলাই-আগস্ট মাসে শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের একটি পরিকল্পনা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে। তার পরিবর্তে ৫ আগস্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যা সারজিসের মতে, “দায়সারা কর্মসূচি মাত্র।”

এই প্রেক্ষাপটে সারজিস আলম শহীদ পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৫ আগস্টের ওই সরকারি কর্মসূচি বয়কট করুন। কারণ, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এক বছরে অন্তত একবারও এক হাজার শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসতে না পারে, তবে তা নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ।”

শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে সরকার বারবার সম্মান প্রদর্শনের কথা বললেও বাস্তবে শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে ন্যূনতম সংলাপ বা সম্পর্ক গড়ে না তোলায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারজিসের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, ভোট নিয়ে শঙ্কা এখনো রয়েছে : রিজভী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (২৭ জুলাই) নির্বাচন কমিশনে ২০২৪ সালের দলের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) জমা দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, “নির্বাচনের আগে মানুষ চায় একটা নিরপেক্ষ পরিবেশ, যেখানে তারা ভয়ের বোধ ছাড়াই ভোট দিতে পারবে। কিন্তু এখনো সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটি পক্ষপাতদুষ্ট, সরকারের অনুগত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছিল। সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। “তৎকালীন ইসি ছিল মেরুদণ্ডহীন, চাকরি লোভী ও দলান্ধ লোকদের নিয়ে গঠিত,” অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিকার অর্থে সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তাহলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব।”

দেশে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন বানচালের শঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা অতীতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে, তারা এখনো সক্রিয়। নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তারা। এই চক্রান্ত প্রতিহত করতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা আছে। সেই আস্থা যেন ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়, এটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা। “সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ভোটার যেন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় ভয় বা আশঙ্কা অনুভব না করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, সেটি নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।”

রিজভীর বক্তব্যে স্পষ্ট—আইনশৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিবেশ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।




ইসলামি সমাজ বাস্তবায়ন ও চাঁদাবাজি- প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ মামুনুল হকের

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, “রাজনীতিকে আমরা পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখি। চাঁদাবাজি, রাহাজানি ও অনৈতিকতা থেকে মুক্ত একটি আদর্শ ইসলামী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা জেলা ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২০২৫-২৬ সেশনের প্রথম কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা অধিবেশন। দলের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশন পরিচালনা করেন মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন।

অধিবেশনে মামুনুল হক আরও বলেন, “বর্তমানে খেলাফত মজলিস দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ইসলাম ও দেশের কল্যাণে আমরা অবিচলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে ২২৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছি, ইনশাআল্লাহ শিগগিরই বাকি আসনগুলোতেও ঘোষণা দেওয়া হবে।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখুন। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন।”

শূরা সদস্যদের উদ্দেশে মামুনুল বলেন, “খোলামনে মতামত দিন, সংগঠনের সম্ভাবনা ও দুর্বলতা সাহসের সঙ্গে তুলে ধরুন। আমাদের লক্ষ্য একটি গতিশীল ও আদর্শ ইসলামী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা।”

তিনি জানান, দেশব্যাপী সাংগঠনিক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫০টি জেলায় গণসমাবেশ, ৪০টির বেশি জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বায়তুল মাল বিভাগে স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয়তা বাড়ানো হয়েছে, যা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অধিবেশনে দলীয় সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন, এমএমপি পদ্ধতিতে ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন চালু, জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত প্রকাশ, সংস্কারে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন, এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের অনুমোদন বাতিলসহ ১৩টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

সাংগঠনিক রদবদল

সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদকের দায়িত্ব পরিবর্তন করে মাওলানা হাসান জুনাইদকে প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে নতুন সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে মাওলানা নূর মুহাম্মদ আজীজকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে দলে যুক্ত হয়েছেন—মুফতি নূর হোসাইন নূরানী, মাওলানা সালাউদ্দিন, মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, ক্বারী হোসাইন আহমদ এবং যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান।

অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, ড. মুন্সি মেহেরুল্লাহ, নায়েবে আমির মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী এবং মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।




২০২৪ সালে বিএনপির আয়-ব্যয় প্রকাশ, ফান্ডে আছে ১০ কোটিরও বেশি

২০২৪ পঞ্জিকা বছরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা আয় করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই বছরে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২৩ টাকা। ফলে দলের বর্তমান তহবিলে জমা রয়েছে ১০ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ১৯ টাকা।

রোববার (২৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৪ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া হয়।

রিজভী জানান, দলের আয়ের উৎস ছিল—সদস্যদের মাসিক চাঁদা, বই ও পুস্তক বিক্রি, ব্যাংক সুদের আয় এবং এককালীন অনুদান। ব্যয়ের খাতে ছিল—ব্যক্তিগত ও দুর্যোগকালীন সহযোগিতা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, লিফলেট ও পোস্টার ছাপানোসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ব্যয়।

ইসিকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, “এক সময় নির্বাচন কমিশন তার প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা হারিয়েছিল, নির্বাহী বিভাগের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। তখন কমিশন একটি প্রহসনের নির্বাচন করে বৈধতা দিয়েছিল, দিনের ভোট রাতে করেছিল।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মেরুদণ্ডহীন, চাকরিপ্রত্যাশী লোক দিয়ে গঠিত ছিল সে কমিশন। সেটি শেখ হাসিনার পদলেহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।”

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রত্যাশা জানিয়ে রিজভী বলেন, “আমরা আশা করি, কমিশন এবার দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। নির্বাচন নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে—বিএনপি সেই প্রত্যাশাই করে।”




জাতীয় সনদ নিয়ে সংলাপের শেষ ধাপে পৌঁছেছে ঐকমত্য কমিশন : আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, সোমবার (২৮ জুলাই) দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জাতীয় সনদের খসড়া পাঠানো হবে। রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে চলমান সংলাপের সমাপ্তি টানাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনের সূচনা বক্তব্যে আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো জাতীয় সনদে দলগুলোর স্বাক্ষর নিশ্চিত করা। কমিশন ইতোমধ্যে প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে। আগামীকাল সে খসড়া দলগুলোকে পাঠানো হবে। দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে সংশোধন করে চূড়ান্ত করা হবে।”

তিনি আরও জানান, আলোচনার আজকের সূচিতে রয়েছে—রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ এবং একটি স্বতন্ত্র পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাব।

আলী রীয়াজ বলেন, “খসড়া নিয়ে সংলাপে বিস্তারিত আলোচনা হবে না। তবে যদি কোনো মৌলিক আপত্তি উঠে আসে, সেক্ষেত্রে তা আলোচনায় আনা হতে পারে। দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক সংশোধন যুক্ত করে সনদের চূড়ান্ত রূপ তৈরি করা হবে, যেখানে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন থাকবে।”

তিনি জানান, সংলাপের আলোচনার জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। ৭টি বিষয়ের আলোচনা এখনো অসমাপ্ত এবং ৩টি বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়নি।

সংলাপের সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং ড. আইয়ুব মিয়া।

বর্তমান সংলাপে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোট ব্যতীত ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।




নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিবন্ধনের আহ্বান, আবেদন গ্রহণ ১০ আগস্ট পর্যন্ত

জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আগামী ১০ আগস্ট বিকেল ৫টার মধ্যে ইসির সিনিয়র সচিব বরাবর আবেদন করতে হবে।

ররিবার (২৭ জুলাই) ইসির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যোগ্য সংস্থাগুলো নিবন্ধিত হলে তারা ৫ বছরের জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে।


✅ আবেদনের নিয়ম ও যোগ্যতা:

📝 ফরম সংগ্রহ:

  • আবেদন ফরম (ইও-১) পাওয়া যাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা (কক্ষ-১০৫)
  • অথবা অনলাইনে ইসির ওয়েবসাইটে: www.ecs.gov.bd

🧾 যে কাগজপত্র জমা দিতে হবে:

  • সংস্থার গঠনতন্ত্র
  • বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ/ট্রাস্টি বোর্ডের তালিকা (নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত)
  • নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি (প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার দ্বারা)
  • অফিসের ঠিকানা, কার্যাবলীর তালিকা
  • শেষ দুই বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন
  • দেশি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে তাদের অনাপত্তিপত্র
  • সংস্থার নির্বাহী বা কোনো সদস্যের রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট না থাকার হলফনামা

🛑 কোন সংস্থা নিবন্ধনের যোগ্য নয়?

  • যদি সংস্থার নাম জাতীয়/আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে
  • সংস্থার কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন

📌 এছাড়াও, সংস্থার কার্যক্রমে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য থাকতে হবে এবং গঠনতন্ত্রে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার থাকতে হবে।


📣 ইসি সূত্রে জানা গেছে:
এবারের নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তাই আগ্রহী সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদক: মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘শেখ হাসিনার পতনের পেছনে বিএনপির ১৬ বছরের ত্যাগ ও সংগ্রাম’ : আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মূলনায়ক ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সবচেয়ে বড় ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ চট্টগ্রাম শাখা আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’–এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, “আজ শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, তার পেছনে দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম রয়েছে। এ সময়ে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা অনেকে ভুলে যেতে বসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন, অনেকের পরিবার ভেঙে গেছে, অনেকে বছরের পর বছর বাড়িঘরে ফিরতে পারেননি। এমনকি কারও স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। অথচ এই ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাগুলো আজকের আলোচনায় আসছে না।”

তিনি বলেন, “শহীদ ওয়াসিমের মতো আন্দোলনের প্রথম শহীদদের নাম পর্যন্ত আজ আর উচ্চারিত হচ্ছে না। অথচ তারাই এই গণঅভ্যুত্থানের পথ রচনা করেছেন।”

বিএনপি এককভাবে আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করে না উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, “আমরা চাই না এই আন্দোলন বিভক্ত হোক। এটা ছিল ১৮ কোটি মানুষের আন্দোলন। তাই একে জাতীয় অর্জন হিসেবেই তুলে ধরা উচিত।”

তবে ইতিহাসের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির ভূমিকা স্মরণীয় করে রাখতে হবে বলে জানান তিনি। “মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা যুদ্ধ করেছেন, তাদের নাম মুছে দিয়ে শেখ হাসিনা তার একক কৃতিত্ব দাবি করেছেন। যেন ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের মূল্য নেই। আমরা চাই না জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তেমনটা হোক,”— বলেন আমীর খসরু।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এটা রাজনৈতিক স্লোগান নয়। কোন খাতে কতজনকে দেশে ও বিদেশে চাকরি দেওয়া হবে, আমরা হিসাব করে পরিকল্পনা তৈরি করেছি। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ৩১ দফার ভিত্তিতে এখন দেশ গড়ার সময়। রাজনীতিতে সহনশীলতা ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই হবে না—রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক জাহিদুল করিম কচি। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—

  • চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
  • বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “কেউ কেউ বলছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন এক মাসেই শেষ হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসকে খণ্ডিত করে দেখা যায় না। যেমন ১৯৪৭ না হলে ১৯৫২ হতো না, ১৯৭১ না হলে ১৯৭৫-এর বিপ্লব হতো না। সেই ধারাবাহিকতায় এই অভ্যুত্থানও বহু বছরের প্রস্তুতির ফসল।”




চরমোনাই পীরের হুঁশিয়ারি: এই সুযোগ কাজে না লাগাতে পারলে স্বৈরাচার আবারো ফিরে আসবে

৫ আগস্টের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলেও সেটিকে যথাযথভাবে কাজে না লাগালে পুরনো অবস্থা ফিরে আসবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চরমোনাই পীর বলেন, “৫ আগস্ট খুনি-ফ্যাসিস্ট হাসিনা বুঝতেও পারেনি দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। এখন দেশ গঠনের একটি সুযোগ এসেছে। এই সুযোগকে কাজে না লাগাতে পারলে আবারও ‘যেই লাউ সেই কদু’ হবে। যারা দেশপ্রেমিক, ইসলামপ্রেমিক ও ন্যায়ের পক্ষে—তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলার জমিনকে চাঁদাবাজ ও খুনিমুক্ত ঘোষণা করতে হবে এবং বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আয়নাঘরের মতো নির্যাতন কেন্দ্রের ভয়ংকর ইতিহাস আমরা চাই না আর ফিরে আসুক। দেশের মানুষের কান্না আর শোনা যায় না, আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক, তা আমরা চাই না।”

সরকারি দুর্নীতির উদাহরণ টেনে চরমোনাই পীর বলেন, “সাবেক এক ভূমিমন্ত্রীর নামে বিদেশে ৬২০টি বাড়ি ও প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এটা কি তার বাপের টাকা? এটা জনগণের ঘামে রোজগার করা অর্থ।”

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পরের ৫৩ বছরে বারবার একই প্রতারণা হয়েছে। ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার’—এই তিনটি নীতির কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। বরং বাংলাদেশ বারবার চোরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে।”

ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মাঠ ফাঁকা থাকলে আগাছা জন্মায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে খুনি-চাঁদাবাজদের আর কোনো জায়গা না থাকে।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত একটি এমপি-ও সংসদে যায়নি। কারণ, দলটি কখনো খুনি বা দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন—

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল
  • জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
  • ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ
  • খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ (সভাপতি)
  • নগর সহ-সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন (সঞ্চালক)
  • জেলা সেক্রেটারি হাফেজ আসাদুল্লাহ আল গালিব
  • মহানগর সেক্রেটারি মুফতি ইমরান হোসাইন



দেশে দুর্নীতির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে : ক্ষোভ প্রকাশ মির্জা ফখরুলের

ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আগে ১ লাখ টাকা ঘুষ দিলেই হতো, এখন দিতে হচ্ছে ৫ লাখ টাকা।”

শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের বই ‘অর্থনীতি, শাসন ও ক্ষমতা : যাপিত জীবনের আলেখ্য’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “গতকাল একজন বড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন—আগে ঘুষ দিতেন এক লাখ টাকা, এখন দিতে হচ্ছে পাঁচ লাখ। বিষয়টি কীভাবে দেখবেন, জানি না। কিন্তু এটা দুঃখজনক সত্য।”

পুলিশ প্রশাসন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “পুলিশের মধ্যে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং এখন আরও সুযোগ নিচ্ছে তারা। মানুষ যখন সেবা নিতে যায়, তখন একবার বলে মন্ত্রণালয়ে যাও, আরেকবার কোর্টে যাও। তারা দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চাইছে। কারণ, তাদের মধ্যে আস্থা ও জবাবদিহিতা নেই।”

তিনি বলেন, “গত সরকারের সময়ে পুলিশ ছিল সব অন্যায়ের অংশীদার। তাই রাতারাতি ব্যবস্থার সংস্কার সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি গুণগত রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন।”

গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “কোনো কিছুকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব পথে চলতে দিতে হবে। এজন্য দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে হবে এবং জনগণের প্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়ে সেখান থেকেই কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচনই হচ্ছে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথ। নির্বাচনের মাধ্যমেই নতুন সংসদ গঠিত হবে এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে।”

এ সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতি (ট্যারিফ) সামনে দেশের অর্থনীতিকে বড় সংকটে ফেলতে পারে। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের স্বার্থে আমরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বইটির লেখক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শাপলা চত্বরের ঘটনার তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে হেফাজতের আলোচনা

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-তে এই বৈঠক হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনায় নিহত ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ, সেই ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ওই সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হেফাজতের নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রত্যাহারের অগ্রগতিও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে হেফাজতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন—

  • মাওলানা খুলিল আহমেদ কুরাইশী
  • মাওলানা সাজেদুর রহমান
  • মুফতি জসিম উদ্দিন
  • মাওলানা মাহফুজুল হক
  • মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী
  • মাওলানা মামুনুল হক
  • মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী
  • মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী
  • মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী
  • মুফতি বশির উল্লাহ
  • মুফতি কেফায়তুল্লাহ আজহারী

সরকারি পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

বৈঠকে সব পক্ষই শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জটিল বিষয়গুলোর সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।