‘সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও দখল হচ্ছে’ — সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা জানিয়েছেন, আন্দোলনের সময় ‘সমন্বয়ক’ টার্মটি কিছুটা প্রয়োজনীয় ছিল, তবে সেই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কার্যকারিতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, বিপদের সময় কারও সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে সমন্বয়ক টার্ম সহায়ক হতে পারত, কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।

রোববার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক লাইভে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

উমামা ফাতেমা বলেন, “সমন্বয়ক লিস্টের বেশির ভাগ মানুষকেই আমি ৫ আগস্ট পর্যন্ত রিচ করতে পারিনি। হয়তো অন্যরা পেরেছে, আমি পারিনি। তবে, তাদের তুলনায় একেবারে সাধারণ মানুষের সাহায্য অনেক বেশি পেয়েছি।”

তিনি আরও জানান, আন্দোলনের সময় সমন্বয়কদের একাধিক তালিকা তৈরি হয়েছিল। শুরুতে ৫২ জন, পরে ৬২ জন এবং শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫৮ জনে দাঁড়ায়। তবে তিনি দাবি করেন, এই সমন্বয়করা সঠিকভাবে কাজ করেননি। “মাঠে আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্তভাবে হচ্ছিল, সাধারণ মানুষ নিজে থেকেই সংযুক্ত হচ্ছিলেন, এমনকি বুঝতে পারছিলাম না, কোন দিক থেকে কোন মুভমেন্ট সংগঠিত হচ্ছে,” বলেন তিনি।

‘সমন্বয়ক পরিচয়ে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ’

উমামা ফাতেমা আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পরদিন থেকেই কিছু ব্যক্তি ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দখল কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, “গতকাল পর্যন্ত অনেকে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিতে রাজি ছিলেন না, আজ থেকে সবাই নিজেকে সমন্বয়ক দাবি করছে। কেউ কোথাও গিয়ে দখল করছে, কেউ আবার চাঁদাবাজিতে জড়াচ্ছে।”

তিনি এই আচরণকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তুলনা করে বলেন, “আমাদের কিছু হিস্টোরিক্যাল রিডিংস আছে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা বা খোঁয়ারি বইতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের রক্ষী বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দখল কার্যক্রম শুরু করে। এখন মনে হচ্ছে— সমন্বয়কদের মাধ্যমেও একই রকম একটি দখল-প্রক্রিয়া চলছে।”

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ছাত্র আন্দোলনগুলোর অন্যতম ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, যেখানে উমামা ফাতেমা ছিলেন অন্যতম সক্রিয় মুখপাত্র। পরে গত মাসে এক বিবৃতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।




ওয়াকআউটের পর আলোচনায় ফিরে নির্বাহী ক্ষমতা রক্ষার পক্ষে বিএনপি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ থেকে কিছু সময়ের জন্য ওয়াকআউট করার পর পুনরায় আলোচনায় যোগ দিয়েছে বিএনপি। আলোচনা শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দেশে যেন আর কখনও স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ না জন্মায়, সে লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে বিএনপি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। তবে নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব খর্ব করা হলে রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।”

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার সংলাপের ২০তম দিনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকেই প্রধানমন্ত্রী মেয়াদের সর্বোচ্চ সীমা ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা কমিশন গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, একটি স্বাধীন সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনায় এসেছে, যেখানে সরকারি দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা বলেছি, পরবর্তী সংসদ যদি এই বিষয়ে কোনো সংশোধনী আনে, তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটে যেতে হবে। এটি গ্রহণযোগ্য হওয়ায় আমরা মনে করি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে এটি বড় পদক্ষেপ।”

তবে এসব অগ্রগতির মাঝেও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “জবাবদিহিতা যেমন সংসদের কাছে, তেমনি জনগণের কাছেও রয়েছে। কিন্তু যদি নির্বাহী কর্তৃত্ব না থাকে, কেবল দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা দেওয়া হয়, তাহলে কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন, “সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা খর্ব হলে ভবিষ্যতে এটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শক্তিশালী নির্বাহী বিভাগ অপরিহার্য।”

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংলাপে তাদের অংশগ্রহণ গঠনমূলক উদ্দেশ্যে হলেও মৌলিক মতভেদ থাকলে সেটি প্রকাশ করাও গণতান্ত্রিক আচরণের অংশ। সালাহউদ্দিন বলেন, “সব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা কাউকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ঐকমত্যে বাধ্য করতে চাই না। বরং ঐকমত্য মানেই হচ্ছে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।”

সংলাপ শেষে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জানান, পরবর্তী পর্যায়েও বিএনপি অংশ নেবে এবং ইতিবাচক আলোচনায় প্রস্তুত থাকবে।




প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর: একমত বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো

এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে পারবেন—এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দল। একইসঙ্গে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবেও দলগুলো একমত হয়েছে।

রোববার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দল অংশ নিলেও আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলীয় জোটের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, “আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। তা হলো—এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। জাতীয় সনদে এ শর্তটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা পূর্বেই বলেছি, কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। তবে এ বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন নিয়োগের জন্য নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনায় নিতে হবে। না হলে আমাদের পূর্বের শর্ত বহাল থাকবে।”

স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবে সম্মতি

সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবেও সম্মতি প্রকাশ করে। কমিশনের লক্ষ্য হবে পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি।

কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, এ কমিশন নেতৃত্ব দেবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিভাগের বিচারপতি (যার বয়স ৭২ বছরের নিচে), সদস্য সচিব হবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি (যার বয়স ৬২ বছরের নিচে)।

কমিশনে থাকবেন:

  • সরকার ও বিরোধীদলের প্রতিনিধি (সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার)
  • একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী (১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন)
  • একজন মানবাধিকার কর্মী (১০ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন)
  • একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি

কমিশনের অন্তত দুইজন সদস্য নারী হবেন। সদস্য মনোনয়নের জন্য একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং একজন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক।

কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব পূর্ণকালীন দায়িত্বে থাকবেন, বাকিরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন। বৈঠকে অংশগ্রহণ ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যরা সম্মানী বা ভাতা নিতে পারবেন।

সবশেষে জানানো হয়, কমিশনের সদস্যদের দায়িত্ব, ক্ষমতা, অপসারণ ও জবাবদিহিতা একটি আলাদা আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। নীতিগত ও নির্বাহী সিদ্ধান্তগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে গৃহীত হবে।




দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সময়ের দাবি: মির্জা ফখরুল

দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার (২৭ জুলাই ২০২৫) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত “পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “জনগণের চাহিদা, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা এবং রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ।”

তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও যোগাযোগে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া ৩১ দফা প্রস্তাব বাস্তবধর্মী রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “বর্তমানে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিশন সময় পার করছি। জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে এবং সঠিক নেতৃত্ব ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই ঐক্যকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বহু আগেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। কারণ দক্ষিণাঞ্চলের বহু এলাকা এখন বাস চলাচলের জন্য উপযোগিতা হারিয়েছে, যা নাগরিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।

শেষে তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। একাত্তরের মতো ২০২৪ সালেও সেই ঐক্যের ফলেই বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সকল কমিটি স্থগিত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সারাদেশের সকল কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২৭ জুলাই) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব এই ঘোষণা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাত রশিদ জানান, “অর্গানোগ্রামের জরুরি মিটিংয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে আমরা জানাচ্ছি, আজ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত দেশের সব কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করা হলো।” তিনি আরও বলেন, “সংগঠনের পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা শিগগিরই আলোচনা করে জানানো হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব হাসান ইনাম, দপ্তর সম্পাদক শাহদাত হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আল-আমিন



এক বছর পরেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো অনেক শহীদ পরিবারের সঙ্গে বসাতে পারেনি : সারজিস আলম

জুলাই বিপ্লবের এক বছর পার হলেও শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সরকার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় করতে পারেনি। এটিকে সরকারের “সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম

শনিবার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সারজিস বলেন, “অভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর হতে চলল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বা সরকারের কোনো পর্যায়ের প্রতিনিধি শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে একবারের জন্যও বসেননি। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।”

তিনি আরও জানান, চলতি জুলাই-আগস্ট মাসে শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের একটি পরিকল্পনা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে। তার পরিবর্তে ৫ আগস্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যা সারজিসের মতে, “দায়সারা কর্মসূচি মাত্র।”

এই প্রেক্ষাপটে সারজিস আলম শহীদ পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৫ আগস্টের ওই সরকারি কর্মসূচি বয়কট করুন। কারণ, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এক বছরে অন্তত একবারও এক হাজার শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসতে না পারে, তবে তা নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ।”

শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে সরকার বারবার সম্মান প্রদর্শনের কথা বললেও বাস্তবে শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে ন্যূনতম সংলাপ বা সম্পর্ক গড়ে না তোলায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারজিসের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, ভোট নিয়ে শঙ্কা এখনো রয়েছে : রিজভী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (২৭ জুলাই) নির্বাচন কমিশনে ২০২৪ সালের দলের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) জমা দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, “নির্বাচনের আগে মানুষ চায় একটা নিরপেক্ষ পরিবেশ, যেখানে তারা ভয়ের বোধ ছাড়াই ভোট দিতে পারবে। কিন্তু এখনো সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটি পক্ষপাতদুষ্ট, সরকারের অনুগত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছিল। সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। “তৎকালীন ইসি ছিল মেরুদণ্ডহীন, চাকরি লোভী ও দলান্ধ লোকদের নিয়ে গঠিত,” অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিকার অর্থে সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তাহলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব।”

দেশে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন বানচালের শঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা অতীতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে, তারা এখনো সক্রিয়। নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তারা। এই চক্রান্ত প্রতিহত করতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা আছে। সেই আস্থা যেন ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়, এটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা। “সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ভোটার যেন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় ভয় বা আশঙ্কা অনুভব না করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, সেটি নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।”

রিজভীর বক্তব্যে স্পষ্ট—আইনশৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিবেশ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।




ইসলামি সমাজ বাস্তবায়ন ও চাঁদাবাজি- প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ মামুনুল হকের

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, “রাজনীতিকে আমরা পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখি। চাঁদাবাজি, রাহাজানি ও অনৈতিকতা থেকে মুক্ত একটি আদর্শ ইসলামী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা জেলা ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২০২৫-২৬ সেশনের প্রথম কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা অধিবেশন। দলের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশন পরিচালনা করেন মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন।

অধিবেশনে মামুনুল হক আরও বলেন, “বর্তমানে খেলাফত মজলিস দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ইসলাম ও দেশের কল্যাণে আমরা অবিচলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে ২২৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছি, ইনশাআল্লাহ শিগগিরই বাকি আসনগুলোতেও ঘোষণা দেওয়া হবে।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখুন। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন।”

শূরা সদস্যদের উদ্দেশে মামুনুল বলেন, “খোলামনে মতামত দিন, সংগঠনের সম্ভাবনা ও দুর্বলতা সাহসের সঙ্গে তুলে ধরুন। আমাদের লক্ষ্য একটি গতিশীল ও আদর্শ ইসলামী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা।”

তিনি জানান, দেশব্যাপী সাংগঠনিক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫০টি জেলায় গণসমাবেশ, ৪০টির বেশি জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বায়তুল মাল বিভাগে স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয়তা বাড়ানো হয়েছে, যা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অধিবেশনে দলীয় সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন, এমএমপি পদ্ধতিতে ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন চালু, জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত প্রকাশ, সংস্কারে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন, এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের অনুমোদন বাতিলসহ ১৩টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

সাংগঠনিক রদবদল

সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদকের দায়িত্ব পরিবর্তন করে মাওলানা হাসান জুনাইদকে প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে নতুন সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে মাওলানা নূর মুহাম্মদ আজীজকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে দলে যুক্ত হয়েছেন—মুফতি নূর হোসাইন নূরানী, মাওলানা সালাউদ্দিন, মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, ক্বারী হোসাইন আহমদ এবং যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান।

অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, ড. মুন্সি মেহেরুল্লাহ, নায়েবে আমির মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী এবং মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।




২০২৪ সালে বিএনপির আয়-ব্যয় প্রকাশ, ফান্ডে আছে ১০ কোটিরও বেশি

২০২৪ পঞ্জিকা বছরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা আয় করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই বছরে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২৩ টাকা। ফলে দলের বর্তমান তহবিলে জমা রয়েছে ১০ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ১৯ টাকা।

রোববার (২৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৪ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া হয়।

রিজভী জানান, দলের আয়ের উৎস ছিল—সদস্যদের মাসিক চাঁদা, বই ও পুস্তক বিক্রি, ব্যাংক সুদের আয় এবং এককালীন অনুদান। ব্যয়ের খাতে ছিল—ব্যক্তিগত ও দুর্যোগকালীন সহযোগিতা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, লিফলেট ও পোস্টার ছাপানোসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ব্যয়।

ইসিকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, “এক সময় নির্বাচন কমিশন তার প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা হারিয়েছিল, নির্বাহী বিভাগের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। তখন কমিশন একটি প্রহসনের নির্বাচন করে বৈধতা দিয়েছিল, দিনের ভোট রাতে করেছিল।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মেরুদণ্ডহীন, চাকরিপ্রত্যাশী লোক দিয়ে গঠিত ছিল সে কমিশন। সেটি শেখ হাসিনার পদলেহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।”

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রত্যাশা জানিয়ে রিজভী বলেন, “আমরা আশা করি, কমিশন এবার দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। নির্বাচন নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে—বিএনপি সেই প্রত্যাশাই করে।”




জাতীয় সনদ নিয়ে সংলাপের শেষ ধাপে পৌঁছেছে ঐকমত্য কমিশন : আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, সোমবার (২৮ জুলাই) দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জাতীয় সনদের খসড়া পাঠানো হবে। রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে চলমান সংলাপের সমাপ্তি টানাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনের সূচনা বক্তব্যে আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো জাতীয় সনদে দলগুলোর স্বাক্ষর নিশ্চিত করা। কমিশন ইতোমধ্যে প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে। আগামীকাল সে খসড়া দলগুলোকে পাঠানো হবে। দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে সংশোধন করে চূড়ান্ত করা হবে।”

তিনি আরও জানান, আলোচনার আজকের সূচিতে রয়েছে—রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ এবং একটি স্বতন্ত্র পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাব।

আলী রীয়াজ বলেন, “খসড়া নিয়ে সংলাপে বিস্তারিত আলোচনা হবে না। তবে যদি কোনো মৌলিক আপত্তি উঠে আসে, সেক্ষেত্রে তা আলোচনায় আনা হতে পারে। দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক সংশোধন যুক্ত করে সনদের চূড়ান্ত রূপ তৈরি করা হবে, যেখানে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন থাকবে।”

তিনি জানান, সংলাপের আলোচনার জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। ৭টি বিষয়ের আলোচনা এখনো অসমাপ্ত এবং ৩টি বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়নি।

সংলাপের সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং ড. আইয়ুব মিয়া।

বর্তমান সংলাপে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোট ব্যতীত ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।