ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে; সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদী পৌরসভা মোড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শেষে এক পথসভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “এই দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা আমাদের দলের কেউ নন, কিন্তু তারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধিত্ব করছেন। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তারা অন্তর্বর্তী সরকারে রয়েছেন। অথচ এখন তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।”

নাহিদ ইসলাম জানান, বিচার সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে গণসমাবেশ করবে এনসিপি। সেখান থেকেই ‘নতুন বাংলাদেশের’ ইস্তেহার ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটা বাতিলের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও বাধার মধ্যেও আমরা পিছিয়ে যাইনি। আমাদের দাবি এখনো অটুট রয়েছে। আমরা সংগঠিত হচ্ছি এবং জনগণের দাবি আদায় করে ছাড়বো।”

তিনি বলেন, “নরসিংদীতে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আজও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যে রাজপথে থাকতে হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মানুষ ৩ আগস্ট শহীদ মিনার ভরে দেবে।”

নরসিংদীর উন্নয়নে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, “এখানে ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ রয়েছে। আমরা তাদের বিতাড়িত করবো।”

পথসভার আগে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে নরসিংদী জেলখানা মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলমসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পদযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভা মোড়ে এসে শেষ হয়।

এর আগে দুপুরে নরসিংদী ক্লাবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা শহীদ পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

পথসভা ও পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়োরা তুষার ও ইয়াসমিন মিতু, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




আসন বাড়লো গাজীপুরে, কমলো বাগেরহাটে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৪২টি আসনে সীমিত পরিবর্তন এবং গাজীপুর ও বাগেরহাটে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাজীপুরে একটি নতুন আসন যোগ করা হয়েছে এবং বাগেরহাট থেকে একটি আসন কমিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৯টি আসনের সীমানায় সীমিত আকারে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, ২৫০টি আসনের ব্যাপারে কোনো আপত্তি না আসায় সেগুলোর সীমানা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নির্ধারিত খসড়া সীমানা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে। পরে শুনানি শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করবে ইসি।

কারিগরি কমিটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গাজীপুরের ভোটার সংখ্যা ও জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সেখানে একটি নতুন আসন সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অপরদিকে, বাগেরহাটের ভোটার সংখ্যা সর্বনিম্ন হওয়ায় একটি আসন কমানোর সুপারিশ করা হয়। এই দুই পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতীয় গড় ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০ অনুযায়ী ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

৩৯টি আসনের সীমিত সংশোধনের তালিকায় রয়েছে:
পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, শরীয়তপুর-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯, গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬, নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫, সিলেট-১ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩, কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১, নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “সংবিধানের ১১৯ ও ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষমতা ইসির। এ লক্ষ্যে ১৬ জুলাই ৯ সদস্যের একটি বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়, যাতে ভূগোলবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “কমিটি দেশের ৬৪ জেলার ৩০০টি আসনের সীমানা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট দিয়েছে। এ পর্যালোচনায় ভৌগোলিক অখণ্ডতা, প্রশাসনিক কাঠামো ও আদমশুমারির তথ্য গুরুত্ব পেয়েছে।”

তিনি জানান, ইসি খসড়া গেজেট আজই প্রকাশ করবে। পরবর্তী শুনানি ও আপত্তির নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে আসনভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা করবে কমিশন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক বছর পর মাঠে নেমেছে এনসিপি, ঘোষণা নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার

এক বছর বিরতির পর আবারও ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে রাজপথে ফিরেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে নরসিংদী পৌরসভার সামনে আয়োজিত “দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা” কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “গত এক বছরে আমাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমাদের সংস্কার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়নি, সংবিধান সংস্কার কিংবা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোকে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি ঘোষণাপত্রও প্রকাশ করতে পারিনি। তবুও আমরা পিছু হটিনি। দেশবাসীর অধিকার আদায়ের জন্য আবারও সংগঠিত হচ্ছি।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের দাবিতে মানুষ যখন রাজপথে নেমেছে, তখনও আমাদের রুখে দিতে নানা হামলা-চক্রান্ত করা হয়েছে। কিন্তু ৩ আগস্ট শহীদ মিনার থেকে আমরা নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার ঘোষণা করবো। আমাদের আন্দোলন থামানো যাবে না।”

তিনি ছাত্র উপদেষ্টা সংক্রান্ত ইস্যুতেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলেন, “ওরা আমাদের কেউ না, গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে যারা কাজ করছেন তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক সার্জিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমীন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নাহিদ ইসলাম সকলকে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগামীর সংসদে, আগামীর বাংলাদেশে এনসিপির জয় নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হৃদরোগে আক্রান্ত জামায়াত আমিরের হার্টে ব্লক, পরামর্শ বাইপাস সার্জারির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সাম্প্রতিক এক জাতীয় সমাবেশে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) তার এনজিওগ্রাম করা হয়। এনজিওগ্রামের রিপোর্টে ধরা পড়ে, তার হার্টের তিনটি প্রধান রক্তনালিতে গুরুতর ব্লক রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ব্লকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে বাইপাস সার্জারি। তবে বিকল্প হিসেবে ‘স্টেন্টিং’ বা রিং পরানোর বিষয়টিও চিন্তাভাবনার মধ্যে রয়েছে। এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

তবে পারিবারিক এবং রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত আমির নিজেই দেশেই চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী এবং বাইপাস সার্জারির বিষয়ে মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন। শারীরিক দুর্বলতা থাকলেও তিনি এখনো নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

গতকালও তিনি জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তব্য রাখেন।

চিকিৎসকদের মতে, ডা. শফিকুর রহমানের শরীর আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য বাইপাস সার্জারি করানোই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। এদিকে তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছেন।

তবে ইবনে সিনা ট্রাস্টের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে কি না—এ বিষয়টি তাদের জানা নেই।

ডা. শফিকুর রহমানের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে দলীয়ভাবে শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তত্ত্বাবধায়ক প্রস্তাবে একমত অধিকাংশ দল, মতবিরোধ শুধু প্রধান উপদেষ্টায়

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়নের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ২১তম দিনের সংলাপ শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তিন-চতুর্থাংশ দলের মধ্যে একমত হওয়া গেলেও প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়নের পদ্ধতি নিয়ে মতানৈক্য রয়ে গেছে।”

কমিশনের সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টাকে মনোনয়নের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দলের) এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি।

তবে যদি এই কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রধান বিচারপতির মনোনীত দুই বিচারপতিকে যুক্ত করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি র‍্যাংকড-চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।

এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুলেছে। দলটির দাবি, অচলাবস্থার ক্ষেত্রে বিষয়টি জাতীয় সংসদে পাঠানো উচিত। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি বিচারপতিদের অন্তর্ভুক্তি ও র‍্যাংকড ভোটিং প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ সমাধান হিসেবে দেখছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছে গেছি। আগামীকাল লিখিত প্রস্তাব সব দলের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আশা করছি অধিকাংশ দল তা গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা বুধবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে জাতীয় সনদের খসড়ার সংশোধিত কপি দিয়েও আলোচনার নিষ্পত্তি ঘটানো হবে।

আলী রীয়াজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য সনদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দাঁড় করানো সম্ভব হবে বলে আমরা এখনো আশাবাদী। সব দলই কোনো না কোনোভাবে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।”




জাতীয় ঐকমত্যে ফাটল: এনসিপি ও জামায়াতের পাল্টা প্রস্তাব

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত ‘জুলাই সনদের’ খসড়ার ভূমিকা ও উপসংহার অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে হস্তান্তর করা হয়েছে। খসড়ার এই অংশে অধিকাংশ দল বড় ধরনের আপত্তি না তুললেও, কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। তারা এসব আপত্তি লিখিতভাবে কমিশনে জমা দেবে বলে জানিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সংলাপের মধ্যাহ্নভোজ বিরতির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন, জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির প্রধান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, এবং ১১ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এনসিপি: ‘আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়’

এনসিপির জাভেদ রাসিন জানান, যেসব বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেই আগামী সংসদ নির্বাচন হতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি নিয়ে এনসিপি ‘র‍্যাংক চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধি যুক্ত করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করার প্রস্তাবেও তারা একমত। তবে দলীয় ফোরামে আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেওয়া হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জামায়াত: ‘খসড়া অসম্পূর্ণ ও কিছু অংশ বিপজ্জনক’

জামায়াত নেতা তাহের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হওয়া উচিত—এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি জানান, কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামোয় একমত না হলে র‍্যাংক চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি যুক্ত রয়েছে, যা অনেকাংশে গ্রহণযোগ্য। তবে তিনি মনে করেন, জুলাই সনদের খসড়া অসম্পূর্ণ এবং কিছু অংশ বিপজ্জনক।

জামায়াত আইনি কাঠামোর জন্য দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে—অধ্যাদেশের মাধ্যমে কাঠামো অনুমোদন ও গণভোটের মাধ্যমে বৈধতা অর্জন।

গণসংহতি আন্দোলন: আরও আলোচনার প্রয়োজন

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি বলেন, সনদের বিভিন্ন অংশে এখনো আলোচনার অবকাশ রয়েছে, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, উচ্চকক্ষ ও পিআর পদ্ধতি নিয়ে। দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল জানান, খসড়ার ভাষা ও কিছু শব্দ নিয়ে তাদের আপত্তি আছে, যা লিখিতভাবে জানানো হবে।

এবি পার্টি: ‘প্রস্তাব যুগান্তকারী হতে পারে’

এবি পার্টির প্রধান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিতর্কমুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন না হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। তিনি কমিশনের প্রস্তাবকে ত্রয়োদশ সংশোধনীর একধরনের প্রত্যাবর্তন হিসেবে অভিহিত করেন এবং র‍্যাংক চয়েস ভোটিং পদ্ধতিকে ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ বলেন।

বিএলডিপি: বাছাই প্রক্রিয়ায় সংশোধন চান

বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান বাছাইয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে প্রার্থীর নাম নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। কারণ অনেক নিবন্ধিত দল কার্যকর নয়। এছাড়া তিনি বাছাই কমিটিতে ৩ জন সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট

জুলাই সনদ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। সংশ্লিষ্ট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, কমিশন ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে সনদটিকে কার্যকর রূপ দেবে। দলগুলোর লিখিত মতামত আগামীকাল (৩০ জুলাই) জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।




ঢাকায় মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন চুক্তির তথ্য প্রকাশের দাবি হেফাজতের

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চুক্তির সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত আলোচনার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন : করণীয় নির্ধারণ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব শায়েখ সাজেদুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

বৈঠকে গৃহীত যৌথ প্রস্তাবনায় বলা হয়, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তির সব তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে খোলামেলা আলোচনার আয়োজন করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে বলেন, “জাতীয় স্বার্থ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখিয়েই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। এ ধরনের কার্যালয় স্থাপন নিয়ে আমাদের আরও গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন।”

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক সীমারেখা মাথায় রেখেই জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। না হলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।”

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, “মানবাধিকার নিশ্চিতে জাতিসংঘের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থানীয় বাস্তবতা ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত নয়।”

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মীর ইদরিস নদভী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মাওলানা রেজাউল করিম আবরার ও মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী।

বক্তারা জাতিসংঘের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিদেশি প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে সরকারের সুস্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।




সংস্কার প্রস্তাবনা দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নে একমত বিএনপি: সালাহউদ্দিন

সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনা পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের প্রথম দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপি একমত বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার ২১তম দিনের সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, জুলাই সনদ ২০২৫-এর খসড়াটি একটি প্রাথমিক রূপরেখা হিসেবে পাওয়া গেছে। যদিও খসড়ায় বিস্তারিত উপস্থাপন নেই, তবে পরবর্তীতে তা যুক্ত হবে। বিএনপি এর মূল কাঠামোর সঙ্গে একমত জানিয়ে কমিশনের অনুরোধে সংশোধনী ও পর্যবেক্ষণগুলো লিখিতভাবে জমা দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

খসড়ায় উল্লিখিত দুই বছরের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে বিএনপি একমত—এ কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আইন ও সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, তা এমনিতেই অনুমিত। এই উদ্দেশ্যেই তো এই প্রক্রিয়া।”

নির্বাচিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা চাই নিয়োগগুলো আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হোক। এতে করে আইনি ত্রুটি দেখা দিলে তা সহজে সংশোধন সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি সক্রিয় নির্বাহী বিভাগ প্রয়োজন। তবে সেটিকে অবশ্যই চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মধ্যে আনতে হবে। অতিরিক্ত কিছু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করলে তা পরিবর্তন কঠিন হয়ে পড়ে, তাই আমরা চাই আইনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হোক।”

নারী প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন জানান, বিএনপি ধাপে ধাপে নারী মনোনয়ন বাড়াতে চায়। প্রথম ধাপে ৩০০ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৫টি আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে, যা পরবর্তী নির্বাচনে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০টি আসনে উন্নীত করা হবে।

ন্যায়পাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেহেতু এখন পর্যন্ত ন্যায়পাল কোনোদিন বাস্তব কার্যক্রমে যুক্ত হয়নি, আমরা চাই প্রথমে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হোক। এরপর তার আইন যুগোপযোগী করে তার ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক।”

তিনি আরও বলেন, “ন্যায়পাল শুধু তদন্তের ক্ষমতা নয়, বরং তার প্রতিবেদনের বাস্তব প্রয়োগের জন্যও আইন থাকতে হবে। না হলে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা থাকবে না।”

৭০০-এর বেশি সংস্কার সুপারিশের মধ্যে বিএনপি প্রায় ৬৫০টির সঙ্গে একমত হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “সব প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে যেগুলো মৌলিক— বিশেষ করে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত—সেগুলো অগ্রাধিকার পাবে।”

এভাবে চলমান সংলাপে রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের অংশ হিসেবে বিএনপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




মানুষের প্রয়োজনে না এলে সংস্কার অর্থহীন: মির্জা ফখরুল

গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এই সময়ে মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার না দিলে সংস্কারের কোনো বাস্তব মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে অনুষ্ঠিত ‘গণতান্ত্রিক পদযাত্রায় শিশু’ শীর্ষক এক নাগরিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রয়াস শুরু করেছে, তা যদি জনগণের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন না আনে, বিশেষ করে শিশুদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে সংস্কার কোনো কাজে আসবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘সংস্কার মানে শুধুই আইন বদল নয়—সংস্কার মানে মানুষের জীবন বদলানো। যদি সেই জীবন না বদলায়, তাহলে সে সংস্কারের কোনো মূল্য নেই।’’

অনুষ্ঠানে গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্তানদের উপস্থিতি ও বক্তব্য মির্জা ফখরুলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। তিনি বলেন, ‘‘যখন একটি শিশু বলে—আমি আমার বাবাকে দেখতে চাই, বাবার হাত ধরে ঈদের নামাজে যেতে চাই, তখন আমি নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারি না। আমরা যারা বড় বড় পদে বসেছি, আমাদের উচিৎ এসব পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।’’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনগণ অনেক কিছু আশা করেছিল, বিশেষ করে গুমের শিকার শিশুদের পুনর্বাসনে একটি কার্যকর ‘স্পেশাল সেল’ গঠনের প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু তা এখনো হয়নি।

‘‘একটি গুম কমিশন গঠন করা হয়েছে, শুনেছি একটি প্রতিবেদনও নাকি দিয়েছে। কিন্তু এর বাইরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। এমনকি ওই শিশুদের জন্য সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক কোনো সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি,’’—বলেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘‘আমরা অনেকেই এখন বিভিন্ন পদে বসে গেছি, কেউ কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, কেউ বড় ব্যবসা করছেন। কিন্তু এই শিশুদের কথা ঠিকমতো সামনে আনিনি, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।’’

সভা শেষে তিনি ঘোষণা দেন, ভবিষ্যতে জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এই শিশুদের পুনর্বাসন একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। ‘‘আমাদের নেতা তারেক রহমান কথা দিয়েছেন—এই শিশুদের জীবন গঠনে আমরা সমর্থন দেবো, আমি আজ আবার সেই অঙ্গীকার করছি,’’—উল্লেখ করেন তিনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিয়োগে দলীয়করণ নয়, নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি এনসিপির

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রভাব কাটিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান সংলাপের ২০তম দিনে অংশ নিয়ে এ দাবি জানান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “গত ৫০ বছরে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নিজস্ব আনুগত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ দিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণে আক্রান্ত হয়েছে এবং জনবান্ধবতা হারিয়েছে।”

পিএসসি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আখতার হোসেন বলেন, “আমরা এমন একটি নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির প্রস্তাব দিয়েছি যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে সুশাসনের পথ প্রশস্ত করা সম্ভব।”

আখতার হোসেন আরও বলেন, “বর্তমানে সংবিধানের ১৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নিয়োগ দেন। আমরা চাই, সংবিধানেই নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এটি কোনো বড় পরিবর্তন নয়, বরং কার্যকর জবাবদিহিতার সূচনা হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় পিএসসির দুর্বলতা যেমন প্রশ্নফাঁস সামনে এসেছে, তেমনি প্রতিটি আমলেই ভাইভা বোর্ডে দলীয় বিবেচনা কাজ করেছে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে নিয়োগ হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়।”

দুদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে এটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান নিয়োগ দেন সরকারপ্রধান। এতে অনেক সময় এটি ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি আড়াল করে এবং বিরোধীদের টার্গেট করে। আমরা চাই, এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হোক, যেখানে প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগ হবে নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে।”

আখতার হোসেন বলেন, “আইন পরিবর্তন সহজ, কিন্তু সংবিধান নয়। তাই এসব নিয়োগ কাঠামো সংবিধানে যুক্ত করলে ভবিষ্যতে যেই ক্ষমতায় আসুক, সিস্টেম সহজে বদলাতে পারবে না।”

তিনি জানান, বিএনপি পিএসসি ও দুদকের নিয়োগ কাঠামো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। এনসিপি তাদেরকে নির্বাচন কমিশনের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও একই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানায়।

আখতার হোসেন বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণ নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এগোচ্ছে। তারা আর দলীয়করণে আক্রান্ত প্রশাসন দেখতে চায় না। আমরা চাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে জনগণের স্বার্থে কাজ করুক, কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার না হোক।”

সংলাপের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, “আমরা এমন রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে চাই যেখানে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহিতা এবং চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত হবে। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।”