ঢাকায় মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন চুক্তির তথ্য প্রকাশের দাবি হেফাজতের

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চুক্তির সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত আলোচনার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন : করণীয় নির্ধারণ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব শায়েখ সাজেদুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

বৈঠকে গৃহীত যৌথ প্রস্তাবনায় বলা হয়, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তির সব তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে খোলামেলা আলোচনার আয়োজন করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে বলেন, “জাতীয় স্বার্থ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখিয়েই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। এ ধরনের কার্যালয় স্থাপন নিয়ে আমাদের আরও গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন।”

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক সীমারেখা মাথায় রেখেই জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। না হলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।”

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, “মানবাধিকার নিশ্চিতে জাতিসংঘের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থানীয় বাস্তবতা ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত নয়।”

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মীর ইদরিস নদভী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মাওলানা রেজাউল করিম আবরার ও মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী।

বক্তারা জাতিসংঘের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিদেশি প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে সরকারের সুস্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।




সংস্কার প্রস্তাবনা দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নে একমত বিএনপি: সালাহউদ্দিন

সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনা পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের প্রথম দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপি একমত বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার ২১তম দিনের সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, জুলাই সনদ ২০২৫-এর খসড়াটি একটি প্রাথমিক রূপরেখা হিসেবে পাওয়া গেছে। যদিও খসড়ায় বিস্তারিত উপস্থাপন নেই, তবে পরবর্তীতে তা যুক্ত হবে। বিএনপি এর মূল কাঠামোর সঙ্গে একমত জানিয়ে কমিশনের অনুরোধে সংশোধনী ও পর্যবেক্ষণগুলো লিখিতভাবে জমা দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

খসড়ায় উল্লিখিত দুই বছরের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে বিএনপি একমত—এ কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আইন ও সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, তা এমনিতেই অনুমিত। এই উদ্দেশ্যেই তো এই প্রক্রিয়া।”

নির্বাচিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা চাই নিয়োগগুলো আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হোক। এতে করে আইনি ত্রুটি দেখা দিলে তা সহজে সংশোধন সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি সক্রিয় নির্বাহী বিভাগ প্রয়োজন। তবে সেটিকে অবশ্যই চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মধ্যে আনতে হবে। অতিরিক্ত কিছু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করলে তা পরিবর্তন কঠিন হয়ে পড়ে, তাই আমরা চাই আইনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হোক।”

নারী প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন জানান, বিএনপি ধাপে ধাপে নারী মনোনয়ন বাড়াতে চায়। প্রথম ধাপে ৩০০ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৫টি আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে, যা পরবর্তী নির্বাচনে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০টি আসনে উন্নীত করা হবে।

ন্যায়পাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেহেতু এখন পর্যন্ত ন্যায়পাল কোনোদিন বাস্তব কার্যক্রমে যুক্ত হয়নি, আমরা চাই প্রথমে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হোক। এরপর তার আইন যুগোপযোগী করে তার ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক।”

তিনি আরও বলেন, “ন্যায়পাল শুধু তদন্তের ক্ষমতা নয়, বরং তার প্রতিবেদনের বাস্তব প্রয়োগের জন্যও আইন থাকতে হবে। না হলে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা থাকবে না।”

৭০০-এর বেশি সংস্কার সুপারিশের মধ্যে বিএনপি প্রায় ৬৫০টির সঙ্গে একমত হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “সব প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে যেগুলো মৌলিক— বিশেষ করে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত—সেগুলো অগ্রাধিকার পাবে।”

এভাবে চলমান সংলাপে রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের অংশ হিসেবে বিএনপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




মানুষের প্রয়োজনে না এলে সংস্কার অর্থহীন: মির্জা ফখরুল

গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এই সময়ে মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার না দিলে সংস্কারের কোনো বাস্তব মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে অনুষ্ঠিত ‘গণতান্ত্রিক পদযাত্রায় শিশু’ শীর্ষক এক নাগরিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রয়াস শুরু করেছে, তা যদি জনগণের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন না আনে, বিশেষ করে শিশুদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে সংস্কার কোনো কাজে আসবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘সংস্কার মানে শুধুই আইন বদল নয়—সংস্কার মানে মানুষের জীবন বদলানো। যদি সেই জীবন না বদলায়, তাহলে সে সংস্কারের কোনো মূল্য নেই।’’

অনুষ্ঠানে গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্তানদের উপস্থিতি ও বক্তব্য মির্জা ফখরুলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। তিনি বলেন, ‘‘যখন একটি শিশু বলে—আমি আমার বাবাকে দেখতে চাই, বাবার হাত ধরে ঈদের নামাজে যেতে চাই, তখন আমি নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারি না। আমরা যারা বড় বড় পদে বসেছি, আমাদের উচিৎ এসব পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।’’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনগণ অনেক কিছু আশা করেছিল, বিশেষ করে গুমের শিকার শিশুদের পুনর্বাসনে একটি কার্যকর ‘স্পেশাল সেল’ গঠনের প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু তা এখনো হয়নি।

‘‘একটি গুম কমিশন গঠন করা হয়েছে, শুনেছি একটি প্রতিবেদনও নাকি দিয়েছে। কিন্তু এর বাইরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। এমনকি ওই শিশুদের জন্য সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক কোনো সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি,’’—বলেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘‘আমরা অনেকেই এখন বিভিন্ন পদে বসে গেছি, কেউ কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, কেউ বড় ব্যবসা করছেন। কিন্তু এই শিশুদের কথা ঠিকমতো সামনে আনিনি, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।’’

সভা শেষে তিনি ঘোষণা দেন, ভবিষ্যতে জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এই শিশুদের পুনর্বাসন একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। ‘‘আমাদের নেতা তারেক রহমান কথা দিয়েছেন—এই শিশুদের জীবন গঠনে আমরা সমর্থন দেবো, আমি আজ আবার সেই অঙ্গীকার করছি,’’—উল্লেখ করেন তিনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিয়োগে দলীয়করণ নয়, নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি এনসিপির

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রভাব কাটিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান সংলাপের ২০তম দিনে অংশ নিয়ে এ দাবি জানান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “গত ৫০ বছরে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নিজস্ব আনুগত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ দিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণে আক্রান্ত হয়েছে এবং জনবান্ধবতা হারিয়েছে।”

পিএসসি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আখতার হোসেন বলেন, “আমরা এমন একটি নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির প্রস্তাব দিয়েছি যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে সুশাসনের পথ প্রশস্ত করা সম্ভব।”

আখতার হোসেন আরও বলেন, “বর্তমানে সংবিধানের ১৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নিয়োগ দেন। আমরা চাই, সংবিধানেই নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এটি কোনো বড় পরিবর্তন নয়, বরং কার্যকর জবাবদিহিতার সূচনা হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় পিএসসির দুর্বলতা যেমন প্রশ্নফাঁস সামনে এসেছে, তেমনি প্রতিটি আমলেই ভাইভা বোর্ডে দলীয় বিবেচনা কাজ করেছে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে নিয়োগ হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়।”

দুদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে এটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান নিয়োগ দেন সরকারপ্রধান। এতে অনেক সময় এটি ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি আড়াল করে এবং বিরোধীদের টার্গেট করে। আমরা চাই, এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হোক, যেখানে প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগ হবে নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে।”

আখতার হোসেন বলেন, “আইন পরিবর্তন সহজ, কিন্তু সংবিধান নয়। তাই এসব নিয়োগ কাঠামো সংবিধানে যুক্ত করলে ভবিষ্যতে যেই ক্ষমতায় আসুক, সিস্টেম সহজে বদলাতে পারবে না।”

তিনি জানান, বিএনপি পিএসসি ও দুদকের নিয়োগ কাঠামো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। এনসিপি তাদেরকে নির্বাচন কমিশনের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও একই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানায়।

আখতার হোসেন বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণ নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এগোচ্ছে। তারা আর দলীয়করণে আক্রান্ত প্রশাসন দেখতে চায় না। আমরা চাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে জনগণের স্বার্থে কাজ করুক, কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার না হোক।”

সংলাপের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, “আমরা এমন রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে চাই যেখানে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহিতা এবং চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত হবে। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।”




জামায়াত আমির ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক। সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, সংস্কার উদ্যোগ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

সাক্ষাতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ। তবে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এখনো কাজের সুযোগ রয়েছে।” তিনি তৈরি পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান শুল্ক সমস্যা নিরসনে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে একটি সুষ্ঠু, গণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে আমরা সংস্কারমূলক রাজনৈতিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচন নিয়ে আমরা সরকারকে সহায়তা করছি এবং ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠায় প্রতিনিয়ত কমিশনের বৈঠকে অংশ নিচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি জানতে চেয়েছেন রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক। এ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “আমরাই প্রথম আগামী রমজানের আগেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছি। অধিকাংশ বড় রাজনৈতিক দলই পিআর পদ্ধতির প্রতি ইতিবাচক। এই পদ্ধতিই পারে কালো টাকা, পেশিশক্তি ও মনোনয়ন বাণিজ্য থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে।”

এ সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।




‘সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও দখল হচ্ছে’ — সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা জানিয়েছেন, আন্দোলনের সময় ‘সমন্বয়ক’ টার্মটি কিছুটা প্রয়োজনীয় ছিল, তবে সেই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কার্যকারিতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, বিপদের সময় কারও সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে সমন্বয়ক টার্ম সহায়ক হতে পারত, কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।

রোববার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক লাইভে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

উমামা ফাতেমা বলেন, “সমন্বয়ক লিস্টের বেশির ভাগ মানুষকেই আমি ৫ আগস্ট পর্যন্ত রিচ করতে পারিনি। হয়তো অন্যরা পেরেছে, আমি পারিনি। তবে, তাদের তুলনায় একেবারে সাধারণ মানুষের সাহায্য অনেক বেশি পেয়েছি।”

তিনি আরও জানান, আন্দোলনের সময় সমন্বয়কদের একাধিক তালিকা তৈরি হয়েছিল। শুরুতে ৫২ জন, পরে ৬২ জন এবং শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫৮ জনে দাঁড়ায়। তবে তিনি দাবি করেন, এই সমন্বয়করা সঠিকভাবে কাজ করেননি। “মাঠে আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্তভাবে হচ্ছিল, সাধারণ মানুষ নিজে থেকেই সংযুক্ত হচ্ছিলেন, এমনকি বুঝতে পারছিলাম না, কোন দিক থেকে কোন মুভমেন্ট সংগঠিত হচ্ছে,” বলেন তিনি।

‘সমন্বয়ক পরিচয়ে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ’

উমামা ফাতেমা আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পরদিন থেকেই কিছু ব্যক্তি ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দখল কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, “গতকাল পর্যন্ত অনেকে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিতে রাজি ছিলেন না, আজ থেকে সবাই নিজেকে সমন্বয়ক দাবি করছে। কেউ কোথাও গিয়ে দখল করছে, কেউ আবার চাঁদাবাজিতে জড়াচ্ছে।”

তিনি এই আচরণকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তুলনা করে বলেন, “আমাদের কিছু হিস্টোরিক্যাল রিডিংস আছে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা বা খোঁয়ারি বইতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের রক্ষী বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দখল কার্যক্রম শুরু করে। এখন মনে হচ্ছে— সমন্বয়কদের মাধ্যমেও একই রকম একটি দখল-প্রক্রিয়া চলছে।”

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ছাত্র আন্দোলনগুলোর অন্যতম ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, যেখানে উমামা ফাতেমা ছিলেন অন্যতম সক্রিয় মুখপাত্র। পরে গত মাসে এক বিবৃতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।




ওয়াকআউটের পর আলোচনায় ফিরে নির্বাহী ক্ষমতা রক্ষার পক্ষে বিএনপি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ থেকে কিছু সময়ের জন্য ওয়াকআউট করার পর পুনরায় আলোচনায় যোগ দিয়েছে বিএনপি। আলোচনা শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দেশে যেন আর কখনও স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ না জন্মায়, সে লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে বিএনপি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। তবে নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব খর্ব করা হলে রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।”

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার সংলাপের ২০তম দিনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকেই প্রধানমন্ত্রী মেয়াদের সর্বোচ্চ সীমা ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা কমিশন গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, একটি স্বাধীন সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনায় এসেছে, যেখানে সরকারি দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা বলেছি, পরবর্তী সংসদ যদি এই বিষয়ে কোনো সংশোধনী আনে, তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটে যেতে হবে। এটি গ্রহণযোগ্য হওয়ায় আমরা মনে করি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে এটি বড় পদক্ষেপ।”

তবে এসব অগ্রগতির মাঝেও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “জবাবদিহিতা যেমন সংসদের কাছে, তেমনি জনগণের কাছেও রয়েছে। কিন্তু যদি নির্বাহী কর্তৃত্ব না থাকে, কেবল দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা দেওয়া হয়, তাহলে কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন, “সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা খর্ব হলে ভবিষ্যতে এটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শক্তিশালী নির্বাহী বিভাগ অপরিহার্য।”

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংলাপে তাদের অংশগ্রহণ গঠনমূলক উদ্দেশ্যে হলেও মৌলিক মতভেদ থাকলে সেটি প্রকাশ করাও গণতান্ত্রিক আচরণের অংশ। সালাহউদ্দিন বলেন, “সব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা কাউকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ঐকমত্যে বাধ্য করতে চাই না। বরং ঐকমত্য মানেই হচ্ছে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।”

সংলাপ শেষে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জানান, পরবর্তী পর্যায়েও বিএনপি অংশ নেবে এবং ইতিবাচক আলোচনায় প্রস্তুত থাকবে।




প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর: একমত বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো

এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে পারবেন—এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দল। একইসঙ্গে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবেও দলগুলো একমত হয়েছে।

রোববার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দল অংশ নিলেও আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলীয় জোটের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, “আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। তা হলো—এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। জাতীয় সনদে এ শর্তটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা পূর্বেই বলেছি, কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। তবে এ বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন নিয়োগের জন্য নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনায় নিতে হবে। না হলে আমাদের পূর্বের শর্ত বহাল থাকবে।”

স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবে সম্মতি

সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবেও সম্মতি প্রকাশ করে। কমিশনের লক্ষ্য হবে পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি।

কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, এ কমিশন নেতৃত্ব দেবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিভাগের বিচারপতি (যার বয়স ৭২ বছরের নিচে), সদস্য সচিব হবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি (যার বয়স ৬২ বছরের নিচে)।

কমিশনে থাকবেন:

  • সরকার ও বিরোধীদলের প্রতিনিধি (সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার)
  • একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী (১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন)
  • একজন মানবাধিকার কর্মী (১০ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন)
  • একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি

কমিশনের অন্তত দুইজন সদস্য নারী হবেন। সদস্য মনোনয়নের জন্য একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং একজন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক।

কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব পূর্ণকালীন দায়িত্বে থাকবেন, বাকিরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন। বৈঠকে অংশগ্রহণ ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যরা সম্মানী বা ভাতা নিতে পারবেন।

সবশেষে জানানো হয়, কমিশনের সদস্যদের দায়িত্ব, ক্ষমতা, অপসারণ ও জবাবদিহিতা একটি আলাদা আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। নীতিগত ও নির্বাহী সিদ্ধান্তগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে গৃহীত হবে।




দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সময়ের দাবি: মির্জা ফখরুল

দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার (২৭ জুলাই ২০২৫) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত “পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “জনগণের চাহিদা, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা এবং রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ।”

তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও যোগাযোগে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া ৩১ দফা প্রস্তাব বাস্তবধর্মী রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “বর্তমানে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিশন সময় পার করছি। জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে এবং সঠিক নেতৃত্ব ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই ঐক্যকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বহু আগেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। কারণ দক্ষিণাঞ্চলের বহু এলাকা এখন বাস চলাচলের জন্য উপযোগিতা হারিয়েছে, যা নাগরিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।

শেষে তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। একাত্তরের মতো ২০২৪ সালেও সেই ঐক্যের ফলেই বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সকল কমিটি স্থগিত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সারাদেশের সকল কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২৭ জুলাই) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব এই ঘোষণা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাত রশিদ জানান, “অর্গানোগ্রামের জরুরি মিটিংয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে আমরা জানাচ্ছি, আজ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত দেশের সব কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করা হলো।” তিনি আরও বলেন, “সংগঠনের পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা শিগগিরই আলোচনা করে জানানো হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব হাসান ইনাম, দপ্তর সম্পাদক শাহদাত হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আল-আমিন