আসন বাড়লো গাজীপুরে, কমলো বাগেরহাটে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৪২টি আসনে সীমিত পরিবর্তন এবং গাজীপুর ও বাগেরহাটে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাজীপুরে একটি নতুন আসন যোগ করা হয়েছে এবং বাগেরহাট থেকে একটি আসন কমিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৯টি আসনের সীমানায় সীমিত আকারে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, ২৫০টি আসনের ব্যাপারে কোনো আপত্তি না আসায় সেগুলোর সীমানা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নির্ধারিত খসড়া সীমানা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে। পরে শুনানি শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করবে ইসি।
কারিগরি কমিটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গাজীপুরের ভোটার সংখ্যা ও জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সেখানে একটি নতুন আসন সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অপরদিকে, বাগেরহাটের ভোটার সংখ্যা সর্বনিম্ন হওয়ায় একটি আসন কমানোর সুপারিশ করা হয়। এই দুই পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতীয় গড় ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০ অনুযায়ী ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
৩৯টি আসনের সীমিত সংশোধনের তালিকায় রয়েছে:
পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, শরীয়তপুর-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯, গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬, নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫, সিলেট-১ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩, কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১, নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “সংবিধানের ১১৯ ও ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষমতা ইসির। এ লক্ষ্যে ১৬ জুলাই ৯ সদস্যের একটি বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়, যাতে ভূগোলবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “কমিটি দেশের ৬৪ জেলার ৩০০টি আসনের সীমানা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট দিয়েছে। এ পর্যালোচনায় ভৌগোলিক অখণ্ডতা, প্রশাসনিক কাঠামো ও আদমশুমারির তথ্য গুরুত্ব পেয়েছে।”
তিনি জানান, ইসি খসড়া গেজেট আজই প্রকাশ করবে। পরবর্তী শুনানি ও আপত্তির নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে আসনভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা করবে কমিশন।








