পূর্বাচল প্রকল্পে দুর্নীতি: শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে করা ছয়টি দুর্নীতি মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকার পৃথক দুটি বিশেষ জজ আদালত বৃহস্পতিবার এসব মামলায় অভিযোগ গঠন করেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন তিনটি মামলায় শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ২৩ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

অপরদিকে, বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম বাকি তিনটি মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানিয়েছেন, মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত যথাক্রমে ১১ ও ১৩ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে দুদক পৃথকভাবে ছয়টি মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার পূর্বাচল ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেন, যদিও তারা এই বরাদ্দ পাওয়ার জন্য যোগ্য ছিলেন না। এতে সরকারের ক্ষমতা অপব্যবহার হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার কন্যা ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রেহানার পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেকে।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সূচি:

  • বিশেষ জজ আদালত-৫: ১১ আগস্ট
  • বিশেষ জজ আদালত-৪: ১৩ আগস্ট

এদিকে, আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এই মামলাগুলো দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম।




শাহবাগে সমাবেশ স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানালেন সারজিস আলম

পূর্বঘোষিত সমাবেশ শহীদ মিনারের পরিবর্তে শাহবাগ মোড়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বুধবার (৩০ জুলাই) এক ফেসবুক পোস্টে এ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সারজিস আলম বলেন, “আমাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বঘোষিত সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করায় বিএনপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।”

তিনি আরও লেখেন, “আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশে জনগণের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটবে।”

এনসিপির পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া আসলো এমন সময়ে, যখন চলমান রাজনৈতিক পরিবেশে বিভিন্ন দল সমঝোতার মাধ্যমে সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা করছে। ছাত্রদলের ৩ আগস্টের সমাবেশ শহীদ মিনারের পরিবর্তে শাহবাগে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল।




জুলাই সনদের বাস্তবায়নের একমাত্র স্থান হবে জাতীয় সংসদ: সালাহউদ্দিন আহমদ

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের একমাত্র উপযুক্ত স্থান হবে জাতীয় সংসদ—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৩০ জুলাই)  রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এই সনদ জাতি, জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে একটি সামাজিক চুক্তি। আমি মনে করি, এটি বাস্তবায়নের একমাত্র জায়গা হচ্ছে জাতীয় সংসদ।”

তিনি জানান, ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ একটি প্রস্তাবনা, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে কমিশন গঠনের পটভূমি, সরকারের গঠন প্রক্রিয়া, ফ্যাসিবাদী আচরণের রূপ, এবং জনগণের প্রত্যাশা। এই খসড়ার ভিত্তিতে তৈরি করা ‘অঙ্গীকারনামা’ অনুযায়ী, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আইন, সংবিধান ও বিধি-বিধান সংশোধন করতেও প্রস্তুত বিএনপি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এই প্রতিশ্রুতিগুলো জাতীয় সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, এবং আমরা এতে একমত।”

তিনি আরও বলেন, “এতগুলো রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, সবকিছু সম্প্রচার হয়েছে, জাতি দেখেছে কে কী বলেছে। যখন এই সনদ প্রধান উপদেষ্টা, সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরসহ প্রকাশিত হবে, তখন কেউ কি তা অস্বীকার করতে পারবে? যে দল তা করবে, তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় থাকবে?”

জুলাই-আগস্টের ছাত্র অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “শহীদদের অঙ্গীকার ও জাতির প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো দল ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে পারবে বলে আমি মনে করি না।”

সংসদ ছাড়াও অনেক সংস্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অধ্যাদেশ আকারে বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও জানান তিনি। “শুধু সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো বাদ দিলে, অধিকাংশ সুপারিশ সংসদ ছাড়াই বাস্তবায়ন সম্ভব।”

সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি ক্ষমতা পাওয়ার পরই সব কিছু করা হতো, তাহলে অনেক আগেই বাস্তবায়ন শুরু হতো। জাতিকে ধোঁকা দেওয়ার কোনো মানসিকতা আমাদের নেই।”

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ছয়টি প্রধান কমিশনের মোট সুপারিশ ছিল ৮২৬টি, যার মধ্যে মাত্র ৫১টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এরপরও কেউ কেউ বলে বিএনপি সংস্কার মানছে না—এমন অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন।




নাগরিকদের কথা না শুনলে সরকার চলতে পারে না: সাভারে ভার্চুয়াল সভায় তারেক রহমান

“সরকার পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই নাগরিকদের কথা শুনতে হবে,” — বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ কোনো ব্যক্তির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে চায় না, তারা চায় রাষ্ট্র ও সরকারে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।

বুধবার বিকেলে সাভারের আশুলিয়ার দারুল ইহসান মাদরাসা মাঠে আয়োজিত ‘নারকীয় জুলাই’ শীর্ষক এক স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে।

তারেক রহমান বলেন, “গত দেড় দশকের আন্দোলন শুধু কিছু লোকের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে হয়নি। জনগণ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। সরকারে যারা থাকবেন, তাদের অবশ্যই জনগণের মুখাপেক্ষী হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়, যার মাধ্যমে নাগরিকেরা তাদের মত প্রকাশ করেন। এজন্যই বিএনপি সবসময় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানায়। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত জনগণ যেন নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ও রাজনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে জনগণ। জনগণকে দুর্বল রেখে সংস্কার, সরকার বা রাজনীতি কিছুই শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।”

গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “এই সাভার-আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। তাদের হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা কারবালার নির্মমতাকেও হার মানায়। বিশেষ করে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।”

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “ফ্যাসিবাদী অপশক্তি পুনর্বাসনের জন্য ওৎ পেতে আছে। সরকারের কোনো ভুল সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সংকটে ফেলতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।”

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “সরকারি চাকরির প্রত্যাশা না থাকলেও শ্রমজীবীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন, কারণ তারা বিশ্বাস করেছিলেন—যদি ফ্যাসিস্টরা ক্ষমতায় থাকে, তবে কারো অধিকারই ফিরবে না।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় প্রমুখ।




ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে; সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদী পৌরসভা মোড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শেষে এক পথসভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “এই দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা আমাদের দলের কেউ নন, কিন্তু তারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধিত্ব করছেন। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তারা অন্তর্বর্তী সরকারে রয়েছেন। অথচ এখন তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।”

নাহিদ ইসলাম জানান, বিচার সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে গণসমাবেশ করবে এনসিপি। সেখান থেকেই ‘নতুন বাংলাদেশের’ ইস্তেহার ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটা বাতিলের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও বাধার মধ্যেও আমরা পিছিয়ে যাইনি। আমাদের দাবি এখনো অটুট রয়েছে। আমরা সংগঠিত হচ্ছি এবং জনগণের দাবি আদায় করে ছাড়বো।”

তিনি বলেন, “নরসিংদীতে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আজও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্যে রাজপথে থাকতে হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মানুষ ৩ আগস্ট শহীদ মিনার ভরে দেবে।”

নরসিংদীর উন্নয়নে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, “এখানে ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ রয়েছে। আমরা তাদের বিতাড়িত করবো।”

পথসভার আগে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে নরসিংদী জেলখানা মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলমসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পদযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভা মোড়ে এসে শেষ হয়।

এর আগে দুপুরে নরসিংদী ক্লাবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা শহীদ পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

পথসভা ও পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়োরা তুষার ও ইয়াসমিন মিতু, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




আসন বাড়লো গাজীপুরে, কমলো বাগেরহাটে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৪২টি আসনে সীমিত পরিবর্তন এবং গাজীপুর ও বাগেরহাটে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাজীপুরে একটি নতুন আসন যোগ করা হয়েছে এবং বাগেরহাট থেকে একটি আসন কমিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৯টি আসনের সীমানায় সীমিত আকারে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, ২৫০টি আসনের ব্যাপারে কোনো আপত্তি না আসায় সেগুলোর সীমানা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নির্ধারিত খসড়া সীমানা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে। পরে শুনানি শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করবে ইসি।

কারিগরি কমিটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গাজীপুরের ভোটার সংখ্যা ও জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সেখানে একটি নতুন আসন সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অপরদিকে, বাগেরহাটের ভোটার সংখ্যা সর্বনিম্ন হওয়ায় একটি আসন কমানোর সুপারিশ করা হয়। এই দুই পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতীয় গড় ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০ অনুযায়ী ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

৩৯টি আসনের সীমিত সংশোধনের তালিকায় রয়েছে:
পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, শরীয়তপুর-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯, গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬, নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫, সিলেট-১ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩, কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১, নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “সংবিধানের ১১৯ ও ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষমতা ইসির। এ লক্ষ্যে ১৬ জুলাই ৯ সদস্যের একটি বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়, যাতে ভূগোলবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “কমিটি দেশের ৬৪ জেলার ৩০০টি আসনের সীমানা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট দিয়েছে। এ পর্যালোচনায় ভৌগোলিক অখণ্ডতা, প্রশাসনিক কাঠামো ও আদমশুমারির তথ্য গুরুত্ব পেয়েছে।”

তিনি জানান, ইসি খসড়া গেজেট আজই প্রকাশ করবে। পরবর্তী শুনানি ও আপত্তির নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে আসনভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা করবে কমিশন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক বছর পর মাঠে নেমেছে এনসিপি, ঘোষণা নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার

এক বছর বিরতির পর আবারও ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে রাজপথে ফিরেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে নরসিংদী পৌরসভার সামনে আয়োজিত “দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা” কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “গত এক বছরে আমাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমাদের সংস্কার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়নি, সংবিধান সংস্কার কিংবা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোকে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি ঘোষণাপত্রও প্রকাশ করতে পারিনি। তবুও আমরা পিছু হটিনি। দেশবাসীর অধিকার আদায়ের জন্য আবারও সংগঠিত হচ্ছি।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের দাবিতে মানুষ যখন রাজপথে নেমেছে, তখনও আমাদের রুখে দিতে নানা হামলা-চক্রান্ত করা হয়েছে। কিন্তু ৩ আগস্ট শহীদ মিনার থেকে আমরা নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার ঘোষণা করবো। আমাদের আন্দোলন থামানো যাবে না।”

তিনি ছাত্র উপদেষ্টা সংক্রান্ত ইস্যুতেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলেন, “ওরা আমাদের কেউ না, গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে যারা কাজ করছেন তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক সার্জিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমীন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নাহিদ ইসলাম সকলকে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগামীর সংসদে, আগামীর বাংলাদেশে এনসিপির জয় নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হৃদরোগে আক্রান্ত জামায়াত আমিরের হার্টে ব্লক, পরামর্শ বাইপাস সার্জারির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সাম্প্রতিক এক জাতীয় সমাবেশে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) তার এনজিওগ্রাম করা হয়। এনজিওগ্রামের রিপোর্টে ধরা পড়ে, তার হার্টের তিনটি প্রধান রক্তনালিতে গুরুতর ব্লক রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ব্লকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে বাইপাস সার্জারি। তবে বিকল্প হিসেবে ‘স্টেন্টিং’ বা রিং পরানোর বিষয়টিও চিন্তাভাবনার মধ্যে রয়েছে। এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

তবে পারিবারিক এবং রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত আমির নিজেই দেশেই চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী এবং বাইপাস সার্জারির বিষয়ে মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন। শারীরিক দুর্বলতা থাকলেও তিনি এখনো নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

গতকালও তিনি জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তব্য রাখেন।

চিকিৎসকদের মতে, ডা. শফিকুর রহমানের শরীর আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য বাইপাস সার্জারি করানোই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। এদিকে তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছেন।

তবে ইবনে সিনা ট্রাস্টের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে কি না—এ বিষয়টি তাদের জানা নেই।

ডা. শফিকুর রহমানের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে দলীয়ভাবে শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তত্ত্বাবধায়ক প্রস্তাবে একমত অধিকাংশ দল, মতবিরোধ শুধু প্রধান উপদেষ্টায়

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়নের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ২১তম দিনের সংলাপ শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তিন-চতুর্থাংশ দলের মধ্যে একমত হওয়া গেলেও প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়নের পদ্ধতি নিয়ে মতানৈক্য রয়ে গেছে।”

কমিশনের সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টাকে মনোনয়নের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দলের) এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি।

তবে যদি এই কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রধান বিচারপতির মনোনীত দুই বিচারপতিকে যুক্ত করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি র‍্যাংকড-চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।

এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুলেছে। দলটির দাবি, অচলাবস্থার ক্ষেত্রে বিষয়টি জাতীয় সংসদে পাঠানো উচিত। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি বিচারপতিদের অন্তর্ভুক্তি ও র‍্যাংকড ভোটিং প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ সমাধান হিসেবে দেখছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছে গেছি। আগামীকাল লিখিত প্রস্তাব সব দলের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আশা করছি অধিকাংশ দল তা গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা বুধবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে জাতীয় সনদের খসড়ার সংশোধিত কপি দিয়েও আলোচনার নিষ্পত্তি ঘটানো হবে।

আলী রীয়াজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য সনদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দাঁড় করানো সম্ভব হবে বলে আমরা এখনো আশাবাদী। সব দলই কোনো না কোনোভাবে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।”




জাতীয় ঐকমত্যে ফাটল: এনসিপি ও জামায়াতের পাল্টা প্রস্তাব

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত ‘জুলাই সনদের’ খসড়ার ভূমিকা ও উপসংহার অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে হস্তান্তর করা হয়েছে। খসড়ার এই অংশে অধিকাংশ দল বড় ধরনের আপত্তি না তুললেও, কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। তারা এসব আপত্তি লিখিতভাবে কমিশনে জমা দেবে বলে জানিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সংলাপের মধ্যাহ্নভোজ বিরতির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন, জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির প্রধান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, এবং ১১ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এনসিপি: ‘আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়’

এনসিপির জাভেদ রাসিন জানান, যেসব বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেই আগামী সংসদ নির্বাচন হতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি নিয়ে এনসিপি ‘র‍্যাংক চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধি যুক্ত করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করার প্রস্তাবেও তারা একমত। তবে দলীয় ফোরামে আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেওয়া হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জামায়াত: ‘খসড়া অসম্পূর্ণ ও কিছু অংশ বিপজ্জনক’

জামায়াত নেতা তাহের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হওয়া উচিত—এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি জানান, কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামোয় একমত না হলে র‍্যাংক চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি যুক্ত রয়েছে, যা অনেকাংশে গ্রহণযোগ্য। তবে তিনি মনে করেন, জুলাই সনদের খসড়া অসম্পূর্ণ এবং কিছু অংশ বিপজ্জনক।

জামায়াত আইনি কাঠামোর জন্য দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে—অধ্যাদেশের মাধ্যমে কাঠামো অনুমোদন ও গণভোটের মাধ্যমে বৈধতা অর্জন।

গণসংহতি আন্দোলন: আরও আলোচনার প্রয়োজন

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি বলেন, সনদের বিভিন্ন অংশে এখনো আলোচনার অবকাশ রয়েছে, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, উচ্চকক্ষ ও পিআর পদ্ধতি নিয়ে। দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল জানান, খসড়ার ভাষা ও কিছু শব্দ নিয়ে তাদের আপত্তি আছে, যা লিখিতভাবে জানানো হবে।

এবি পার্টি: ‘প্রস্তাব যুগান্তকারী হতে পারে’

এবি পার্টির প্রধান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিতর্কমুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন না হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। তিনি কমিশনের প্রস্তাবকে ত্রয়োদশ সংশোধনীর একধরনের প্রত্যাবর্তন হিসেবে অভিহিত করেন এবং র‍্যাংক চয়েস ভোটিং পদ্ধতিকে ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ বলেন।

বিএলডিপি: বাছাই প্রক্রিয়ায় সংশোধন চান

বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান বাছাইয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে প্রার্থীর নাম নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। কারণ অনেক নিবন্ধিত দল কার্যকর নয়। এছাড়া তিনি বাছাই কমিটিতে ৩ জন সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট

জুলাই সনদ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। সংশ্লিষ্ট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, কমিশন ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে সনদটিকে কার্যকর রূপ দেবে। দলগুলোর লিখিত মতামত আগামীকাল (৩০ জুলাই) জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।