বরগুনায় সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবি জোরালো

বরগুনা জেলায় আগের তিনটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে স্থানীয়দের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের খসড়া তফসিলে এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

স্বাধীনতার পর বরগুনা-১ (সদর ও বেতাগী), বরগুনা-২ (পাথরঘাটা ও বামনা), বরগুনা-৩ (আমতলী ও তালতলী) এই তিনটি সংসদীয় আসনে বিভক্ত ছিল উপকূলীয় এই জেলা। কিন্তু ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বরগুনার আসন সংখ্যা তিন থেকে কমিয়ে দুটি করা হয়—বরগুনা-১ (সদর, আমতলী, তালতলী) ও বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বেতাগী, বামনা)।

এতে করে প্রশাসনিক জটিলতা ও নির্বাচনী সময় পরিবহন সমস্যা বাড়ে। বিশেষ করে পায়রা (বুড়িশ্বর) ও বিষখালী নদীর বিভাজন বরগুনার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থাকে করেছে জটিল। ফলে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে আমতলী ও তালতলীর অন্তত চার লাখ মানুষ।

বর্তমানে বরগুনা-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৪ জন এবং বরগুনা-২ আসনে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৩০ জন। শুধুমাত্র আমতলী ও তালতলীতেই ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ জন, যা একটি পূর্ণ সংসদীয় আসনের জন্য যথেষ্ট।

এ অবস্থায় জেলার সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিকবার আবেদন করলেও খসড়া তফসিলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ নিয়ে জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আমিনুল ইসলাম লিটন বলেন, “২০০৮ সালে রাজনৈতিক সুবিধা দিতেই বরগুনা-৩ আসন বিলুপ্ত করা হয়। এবার নির্বাচন কমিশন সংশোধনের সুযোগ পেলেও সেটি গ্রহণ করেনি।”

আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “জনগণের কথা বিবেচনায় নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল তিনটি আসন ফিরিয়ে দেওয়া। কিন্তু তারা তা করেনি।”

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের বলেন, “উন্নয়নের জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তিনটি সংসদীয় আসন ছিল বরগুনার জন্য প্রয়োজনীয়।”

বিএনপি ও আইনজীবী নেতারাও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক কাঠামো ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক বিবেচনায় আসন পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত জরুরি ছিল।

বরগুনাবাসী এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তফসিলে তিনটি আসন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে” — নাহিদের পোস্টে সাদিক কায়েমের তীব্র প্রতিক্রিয়া

‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মো. আবু সাদিক (কায়েম)।

তিনি দাবি করেন, “জুলাই আন্দোলনে আমার ভূমিকাকে খাটো করার চেষ্টা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং তা ইতিহাস রচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

সাদিক কায়েম বলেন, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, কারফিউ এবং দমন-পীড়নের মধ্যেও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তার ও সহযোদ্ধাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, “আমি যতগুলো বক্তব্য রেখেছি, ৫ আগস্টের পর সেগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, আমি সব জায়গায়ই বলেছি—জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত নায়ক ছিলেন আমাদের শহীদ ও গাজীরা। তাদের আত্মত্যাগেই আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি।”

তিনি এ আন্দোলনকে ‘আপামর জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ফোরণ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, “এখানে মতভেদ ভুলে সবাই একটি অভিন্ন লক্ষ্য—ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে একত্র হয়েছিল।”

নাহিদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাদিক কায়েম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি কোনোদিন সমন্বয়কের পরিচয়ে কোথাও দখল বা আত্মসাৎ করেছি—এমন একটি ডকুমেন্টও কেউ দেখাতে পারবে না।”

তিনি জানান, মূল সারির সমন্বয়করা যখন ১৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন, তখন তিনি নয় দফা ফরমেশন, কর্মসূচি প্রণয়ন, মিডিয়া হাউজে যোগাযোগ, দ্বিতীয় সারির নেতাদের সেফ হাউজে রাখার ব্যবস্থা এবং দেশি-বিদেশি অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন।

সাদিক সতর্ক করে বলেন, এসব ঘটনাগুলো জাতির সামনে না এলে ইতিহাস বিকৃতি ঘটবে। “৫ আগস্টের পর দেখা গেছে, কেউ কেউ গুমের নাটক করেছে, কেউ আত্মগোপনে ছিল, আবার কেউ আন্দোলনকে পাশ কাটিয়ে ক্যাম্পাস খোলার পক্ষে ছিল—এরাই পরে বিপ্লবের মহানায়ক হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু একই সময়ে কিছু মানুষ নিজেদের দখলদার সমন্বয়ক হিসেবে তুলে ধরেছে।”

সরকার গঠনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ময়দানে বসেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কোনো সেনানিবাস বা দপ্তর থেকে নয়। আমরা সবাই মিলে এক দফা ঘোষণা দিয়েছিলাম। তখন সায়ের ভাই ও মাহফুজ আলমসহ সকলে ছিল।”

শেষে সাদিক কায়েম বলেন, “দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিভাজন তৈরি না করে ইতিহাসকে সম্মান করা উচিত। কেউ যদি জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে রাজনীতি বা ব্যবসা করতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন চলবে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, সাদিক কায়েম ৫ আগস্টের আগে কোনোভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘সমন্বয়ক’ ছিলেন না, বরং ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি ওই পরিচয় ব্যবহার করতে শুরু করেন।




জাতীয় ঐক্যের সনদ আইনের চেয়েও বড় জনগণের অভিপ্রায়: সালাহউদ্দিন

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অনির্বাচিত বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার চিন্তাকে গণতান্ত্রিক চেতনাবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা কেবলমাত্র জনগণের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতেই থাকা উচিত।”

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীতে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক সংলাপে অংশ নিয়ে চা-বিরতির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সনদে সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটি শুধুমাত্র একটি আইন নয়—বরং এটি হবে জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়। এ ধরনের সম্মিলিত প্রত্যাশা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যুক্ত করার জন্য বিএনপি অঙ্গীকার করেছে।

তিনি জানান, এই সনদ গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলনের পথ ধরে এসেছে এবং এটি সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধতা পাবে। উচ্চকক্ষ নিয়ে প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ আইন পর্যালোচনা ও সুপারিশ করতে পারবে, তবে সংবিধান সংশোধনের কোনো এখতিয়ার পাবে না।

সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বলেছি, উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত না হওয়ায় তাদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, কেউ কেউ পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতির মাধ্যমে উচ্চকক্ষে অনির্বাচিতদের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে, যা অগ্রহণযোগ্য। আমরা প্রস্তাব করেছি, আইন প্রণয়নে উচ্চ ও নিম্নকক্ষের একটি যৌথ প্রক্রিয়া (shared legislative process) গড়ে উঠুক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে নিম্নকক্ষের হাতে।”

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদে কিছু ব্যতিক্রম রেখে সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব আগেই দিয়েছিল বিএনপি। সেটি গৃহীত হয়েছে। ফলে এখন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দলীয় চাপে না থেকে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের বাইরেও কিছু দায়িত্ব যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। আলোচনা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সালাহউদ্দিন বলেন, “সংসদে একটি মধ্যবর্তী বিধান অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত কমিশন সিদ্ধান্ত দেবে।”

মৌলিক অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ের আলোকে ইন্টারনেটের অধিকারসহ কিছু আধুনিক অধিকার সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। তবে যেহেতু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত অধিকারের বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের, তাই নতুন কোনো অধিকার যুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”

এছাড়া তিনি জানান, বিএনপি পঞ্চম সংশোধনীতে গৃহীত রাষ্ট্রের মূলনীতির সঙ্গে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির মতো বাক্য যুক্ত করার প্রস্তাবে একমত। তবে কিছু দলের আপত্তি থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।

শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা মতবিরোধ করব, আলোচনা করব, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের সার্বভৌম এখতিয়ারের ভিত্তিতেই আমরা এই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করছি।”




এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সমাপ্তি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। বুধবার (৩০ জুলাই) রাতে সাভারের বাইপাইলে একটি পথসভা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

দলটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও মিডিয়া সেলের সদস্য খান মুহাম্মদ মুরসালীন জানান, “রোদ-বৃষ্টি-ঝড় ও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পদযাত্রার বহর সাভারের বাইপাইল হয়ে রাতে রাজধানীর এনসিপি প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছায়।” রাত সাড়ে ১১টায় শীর্ষ নেতাদের নিয়ে পদযাত্রার বহর কার্যালয়ে প্রবেশ করলে ঢাকা মহানগর কমিটির নেতারা ফুল দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান।

জুলাই মাসজুড়ে এনসিপি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পথসভা, গণসংযোগ ও রাজনৈতিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে। দলটি বলছে, এই পদযাত্রার উদ্দেশ্য ছিল জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, জাতীয় রাজনৈতিক সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই পদযাত্রা তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।




সাদিক কায়েম ৫ আগস্টের আগে সমন্বয়ক ছিলেন না: দাবি নাহিদ ইসলামের




গণতন্ত্রে দ্বন্দ্ব থাকলেও দরকার পারস্পরিক সম্মান: মির্জা ফখরুল

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব থাকলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তিক্ততা সৃষ্টি হয়, যা ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’ এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “রাজনীতিবিদদেরই সব কাজ করতে হয়। এ কারণে তারা অনেক সময় জনগণের সমালোচনার মুখোমুখি হন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সুস্থ বোঝাপড়া থাকলে তা দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।”

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে এখন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যারা সত্যিকারের পরিবর্তন চান, তারা বিপ্লবী দল ও সরকার গঠন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে মানুষের চিন্তা ও রাষ্ট্রের কাঠামোতেও পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কার ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

সরকারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “সরকারি দলের অনেকে বলেন আমরা সুযোগ পেলেই আক্রমণ করি। আমি বলি—আক্রমণ তখনই করা হয়, যখন সরকার ব্যর্থ হয়। আমরা ৭ আগস্ট তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের দাবি করেছিলাম। তখন অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু এখন সেই দাবির যৌক্তিকতা বোঝা যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে মতবিরোধ থাকবেই, কিন্তু বোঝাপড়া না থাকলে শুধু কাদা ছোড়াছুড়িই বাড়ে, যার পরিণতি ভালো হয় না।”

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।




পূর্বাচল প্রকল্পে দুর্নীতি: শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে করা ছয়টি দুর্নীতি মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকার পৃথক দুটি বিশেষ জজ আদালত বৃহস্পতিবার এসব মামলায় অভিযোগ গঠন করেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন তিনটি মামলায় শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ২৩ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

অপরদিকে, বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম বাকি তিনটি মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানিয়েছেন, মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত যথাক্রমে ১১ ও ১৩ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে দুদক পৃথকভাবে ছয়টি মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার পূর্বাচল ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেন, যদিও তারা এই বরাদ্দ পাওয়ার জন্য যোগ্য ছিলেন না। এতে সরকারের ক্ষমতা অপব্যবহার হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার কন্যা ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রেহানার পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেকে।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সূচি:

  • বিশেষ জজ আদালত-৫: ১১ আগস্ট
  • বিশেষ জজ আদালত-৪: ১৩ আগস্ট

এদিকে, আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এই মামলাগুলো দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম।




শাহবাগে সমাবেশ স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানালেন সারজিস আলম

পূর্বঘোষিত সমাবেশ শহীদ মিনারের পরিবর্তে শাহবাগ মোড়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বুধবার (৩০ জুলাই) এক ফেসবুক পোস্টে এ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সারজিস আলম বলেন, “আমাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বঘোষিত সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করায় বিএনপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।”

তিনি আরও লেখেন, “আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশে জনগণের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটবে।”

এনসিপির পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া আসলো এমন সময়ে, যখন চলমান রাজনৈতিক পরিবেশে বিভিন্ন দল সমঝোতার মাধ্যমে সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা করছে। ছাত্রদলের ৩ আগস্টের সমাবেশ শহীদ মিনারের পরিবর্তে শাহবাগে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল।




জুলাই সনদের বাস্তবায়নের একমাত্র স্থান হবে জাতীয় সংসদ: সালাহউদ্দিন আহমদ

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের একমাত্র উপযুক্ত স্থান হবে জাতীয় সংসদ—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৩০ জুলাই)  রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এই সনদ জাতি, জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে একটি সামাজিক চুক্তি। আমি মনে করি, এটি বাস্তবায়নের একমাত্র জায়গা হচ্ছে জাতীয় সংসদ।”

তিনি জানান, ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ একটি প্রস্তাবনা, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে কমিশন গঠনের পটভূমি, সরকারের গঠন প্রক্রিয়া, ফ্যাসিবাদী আচরণের রূপ, এবং জনগণের প্রত্যাশা। এই খসড়ার ভিত্তিতে তৈরি করা ‘অঙ্গীকারনামা’ অনুযায়ী, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আইন, সংবিধান ও বিধি-বিধান সংশোধন করতেও প্রস্তুত বিএনপি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এই প্রতিশ্রুতিগুলো জাতীয় সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, এবং আমরা এতে একমত।”

তিনি আরও বলেন, “এতগুলো রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, সবকিছু সম্প্রচার হয়েছে, জাতি দেখেছে কে কী বলেছে। যখন এই সনদ প্রধান উপদেষ্টা, সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরসহ প্রকাশিত হবে, তখন কেউ কি তা অস্বীকার করতে পারবে? যে দল তা করবে, তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় থাকবে?”

জুলাই-আগস্টের ছাত্র অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “শহীদদের অঙ্গীকার ও জাতির প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো দল ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে পারবে বলে আমি মনে করি না।”

সংসদ ছাড়াও অনেক সংস্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অধ্যাদেশ আকারে বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও জানান তিনি। “শুধু সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো বাদ দিলে, অধিকাংশ সুপারিশ সংসদ ছাড়াই বাস্তবায়ন সম্ভব।”

সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি ক্ষমতা পাওয়ার পরই সব কিছু করা হতো, তাহলে অনেক আগেই বাস্তবায়ন শুরু হতো। জাতিকে ধোঁকা দেওয়ার কোনো মানসিকতা আমাদের নেই।”

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ছয়টি প্রধান কমিশনের মোট সুপারিশ ছিল ৮২৬টি, যার মধ্যে মাত্র ৫১টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এরপরও কেউ কেউ বলে বিএনপি সংস্কার মানছে না—এমন অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন।




নাগরিকদের কথা না শুনলে সরকার চলতে পারে না: সাভারে ভার্চুয়াল সভায় তারেক রহমান

“সরকার পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই নাগরিকদের কথা শুনতে হবে,” — বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ কোনো ব্যক্তির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে চায় না, তারা চায় রাষ্ট্র ও সরকারে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।

বুধবার বিকেলে সাভারের আশুলিয়ার দারুল ইহসান মাদরাসা মাঠে আয়োজিত ‘নারকীয় জুলাই’ শীর্ষক এক স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে।

তারেক রহমান বলেন, “গত দেড় দশকের আন্দোলন শুধু কিছু লোকের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে হয়নি। জনগণ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। সরকারে যারা থাকবেন, তাদের অবশ্যই জনগণের মুখাপেক্ষী হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়, যার মাধ্যমে নাগরিকেরা তাদের মত প্রকাশ করেন। এজন্যই বিএনপি সবসময় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানায়। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত জনগণ যেন নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ও রাজনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে জনগণ। জনগণকে দুর্বল রেখে সংস্কার, সরকার বা রাজনীতি কিছুই শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।”

গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “এই সাভার-আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। তাদের হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা কারবালার নির্মমতাকেও হার মানায়। বিশেষ করে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।”

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “ফ্যাসিবাদী অপশক্তি পুনর্বাসনের জন্য ওৎ পেতে আছে। সরকারের কোনো ভুল সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সংকটে ফেলতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।”

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “সরকারি চাকরির প্রত্যাশা না থাকলেও শ্রমজীবীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন, কারণ তারা বিশ্বাস করেছিলেন—যদি ফ্যাসিস্টরা ক্ষমতায় থাকে, তবে কারো অধিকারই ফিরবে না।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় প্রমুখ।