পূর্বাচল প্রকল্পে দুর্নীতি: শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে করা ছয়টি দুর্নীতি মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকার পৃথক দুটি বিশেষ জজ আদালত বৃহস্পতিবার এসব মামলায় অভিযোগ গঠন করেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন তিনটি মামলায় শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ২৩ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
অপরদিকে, বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম বাকি তিনটি মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানিয়েছেন, মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত যথাক্রমে ১১ ও ১৩ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে দুদক পৃথকভাবে ছয়টি মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার পূর্বাচল ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেন, যদিও তারা এই বরাদ্দ পাওয়ার জন্য যোগ্য ছিলেন না। এতে সরকারের ক্ষমতা অপব্যবহার হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার কন্যা ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রেহানার পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেকে।
সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সূচি:
- বিশেষ জজ আদালত-৫: ১১ আগস্ট
- বিশেষ জজ আদালত-৪: ১৩ আগস্ট
এদিকে, আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
এই মামলাগুলো দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম।







